প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label আহসান হাবীব. Show all posts
Showing posts with label আহসান হাবীব. Show all posts

Monday, December 19, 2011

জোনাকীরা || আহসান হাবীব

তারা- একটি দু'টি তিনটি করে এলো
তখন- বৃষ্টি-ভেজা শীতের হাওয়া
বইছে এলোমেলো,
তারা- একটি দু'টি তিনটি করে এলো।

থই থই থই অন্ধকারে
ঝাউয়ের শাখা দোলে
সেই- অন্ধকারে শন শন শন
আওয়াজ শুধু তোলে।
ভয়েতে বুক চেপে
ঝাউয়ের শাখা , পাখির পাখা
উঠছে কেঁপে কেঁপে ।
তখন- একটি দু'টি তিনটি করে এসে
এক শো দু শো তিন শো করে
ঝাঁক বেঁধে যায় শেষে!

তারা- বললে ও ভাই, ঝাউয়ের শাখা,
বললে ও ভাই পাখি,
অন্ধকারে ভয় পেয়েছো নাকি ?
যখন- বললে, তখন পাতার ফাঁকে
কী যেন চমকালো।
অবাক অবাক চোখের চাওয়ায়
একটুখানি আলো।

যখন- ছড়িয়ে গেলো ডালপালাতে
সবাই দলে দলে
তখন- ঝাউয়ের শাখায়- পাখির পাখায়
হীরে-মানিক জ্বলে।
যখন- হীরে-মানিক জ্বলে
তখন- থমকে দাঁড়াঁয় শীতের হাওয়া
চমকে গিয়ে বলে-
খুশি খুশি মুখটি নিয়ে
তোমরা এলে কারা?
তোমরা কি ভাই নীল আকাশের তারা ?

আলোর পাখি নাম জোনাকি
জাগি রাতের বেলা,
নিজকে জ্বেলে এই আমাদের
ভালোবাসার খেলা।
তারা নইকো- নইকো তারা
নই আকাশের চাঁদ
ছোট বুকে আছে শুধুই
ভালোবাসার সাধ।

কৃতজ্ঞতা : প্রিয় বই

Sunday, December 18, 2011

প্রতিবেশী || আহসান হাবীব

— পাঁচ ইঞ্চি দেয়াল ভেদ করে দেখা যায়, এমন এক প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে একজন।
— কে সে? নিশ্চয়ই বড় বিজ্ঞানী?
— তা তো বটেই।
— তা জিনিসটা কি? মানে আবিষ্কারটা?
— কেন জানালা!
ছোটবেলায় এই জোকটা ছিল জালাল সাহেবের প্রিয় একটা জোক। আর বড় বেলায় এসে এই জোকই এখন যেন বিগ ট্র্যাজেডি হয়ে দাঁড়িয়েছে! বিষয়টা খুলেই বলা যাক...
জালাল সাহেব অবশেষে একটি ফ্ল্যাটের মালিক হলেন। জমিজমা বেচে, অফিসের গ্র্যাচুইটি, পেনশন, হাবি-জাবি সব মিলিয়ে সবেধন নীলমণি এই ফ্ল্যাট। আটশ’ স্কয়ার ফিটের ফারমের মুরগির খাঁচা বললেই ভালো হতো। কিন্তু যেহেতু মূল্য চল্লিশ লাখ সামথিং... নিয়েছে (বারো কিস্তিতে) কাজেই এটাকে ঠিক মুরগির খাঁচা বলা যাচ্ছে না। ফ্ল্যাটই বলতে হচ্ছে। ভার্সিটিতে পড়ুয়া মেয়ের একটা রুম হয়েছে, কলেজ গোয়িং ছেলের একটা রুম হয়েছে এতেই তিনি খুশি। তাদেরও একটা বেডরুম হয়েছে সঙ্গে এটাচড বাথ। স্ত্রীর ঐ একটাই শখ ছিল, এটাচড বাথ হবে। শেষ জীবনে এসে সে আশা পূর্ণ হলো, তাই বা মন্দ কি? ভালোই চলছিল তাদের। নতুন ফ্ল্যাটে নতুন জীবন। কিন্তু একটা সমস্যা আবিষ্কার করলেন তার স্ত্রী। সমস্যাই বটে, ভয়াবহ সমস্যা। তাদের বেডরুমের একমাত্র জানালাটি খুললেই পাশের ফ্ল্যাটে টয়লেটের একমাত্র জানালা ... দূরত্ব কত হবে, খুব বেশি হলেও দেড় ফিট... সেই যে বিজ্ঞাপনে বলে না দূরত্ব যতই হোক কাছে থাকুন... কিন্তু এই কাছে থাকা সত্যি কঠিন, জানালা খুললেই ... !!
— আমার মনে হয় কি জান? স্ত্রী নাক কুঁচকে বলে।
— কি?
— ওরা যেদিন তোমার মতো পচা বাজার করে আনে, সেদিনই বাজে গন্ধটা নাকে বেশি লাগে...
— কি, আমি পচা বাজার করি?
— এটা নিয়ে আমি তর্ক করতে চাই না। এখন বল এই সমস্যার সমাধান কি? জানালাই যদি খুলতে না পারি, তাহলে ফ্ল্যাট বাড়ির এত বড় জানালা দিয়ে হবেটা কি?
— জানালা আমরা খুলবই খুলব ...
— কিন্তু ঐ টয়লেটের গন্ধ...?
— ঐ যে তুমি বললে ওরা যেদিন পচা বাজার করে সেদিনই...
— হ্যাঁ সেদিনই গন্ধটা বেশি আসে। পচা জিনিস খেয়ে পেট নেমে যায় তখন...
— হ্যাঁ... ওরা যাতে পচা বাজার না করে সে ব্যবস্থাই করতে হবে...
— মানে??

জালাল সাহেব মানে’র ব্যাখ্যায় আর গেলেন না। তিনি নিচে নেমে গেলেন। এই সময়টায় পাশের বাসার ভদ্রলোক সিগারেট খেতে বাইরে বের হোন। তার সঙ্গে একটু আলাপ জমানো দরকার। সিগারেট যারা খায়, তাদের মধ্যে আলাপ জমতে বেশি সময় লাগে না। এ আলাপ সে আলাপ করে খুব দ্রুতই তিনি আসল প্রশ্নে চলে এলেন।
— আচ্ছা আপনার বাসায় বাজার কার হাতে?
— কেন নিজেই করি। হঠাত্ এ প্রশ্ন করলেন যে?
— না, আমার বাসার বাজারও আমি করি কিনা! ভাবছি দু’জন এক সাথে গেলে... গল্পে গল্পে বেশ ... হে হে
— তা মন্দ বলেননি। আচ্ছা আপনি পচা মাছ ভালো মাছ বুঝতে পারেন?
জালাল সাহেব হাতের তালুর মধ্যে যেন চাঁদ পেলেন। এই সুযোগ।
— আমি মনে হয় বুঝতে পারি না। ভদ্রলোক বলতে থাকেন। ‘এইতো গতকাল শোল মাছ কিনলাম। আবার সন্দেহ হলো টাকি মাছও হতে পারে, বাসায় এনে স্ত্রীকে বললাম ‘দেখ তো এটা কি মাছ, শোল না টাকি?’ স্ত্রী কি বলল জানেন?
— কি বললেন ভাবী?
— বলল পচা মাছ!
— হা হা হা।
— আপনি হাসছেন?
— আরে ভাই বাদ দেন... কাল থেকে আমরা দুই ভাই মিলে বাজার করব, নো পচা মাছ...

পরদিন সত্যি সত্যি জালাল সাহেব আর তার টয়লেট জানালা প্রতিবেশী তরফদার সাহেব চললেন এক সঙ্গে বাজারে। জালাল সাহেবের একটাই উদ্দেশ্য তরফদার সাহেবের বাজার করার দিকে নজর রাখতে হবে, যাতে কোনো পচা জিনিস তার বাজারের ব্যাগে না ঢোকে... এ্যাট এনি কস্ট!
— জালাল সাহেব এ মাছটা মনে হচ্ছে তাজা—
— না না খবরদার... ওটা পচা, অবশ্যই পচা।
— কি করে বুঝলেন?
— দেখছেন না, ওটার গায়ে একটা মাছিও বসছে না। ফরমালিন দেয়া, স্রেফ ফরমালিন...
শেষমেষ তারা দেন-দরবার করে একটা মাছ কিনলেন তরফদার সাহেবের জন্য। ভ্যান ভ্যান করছে মাছি। বাজারের সব মাছি যেন এই মাছটার পেছনে লেগেছে। সেটাই কেনা হলো।
— ভাই জালাল সাহেব আপনি শিওর এটা তাজা মাছ?
— অবশ্যই, দেখছেন না এর পিছনে কত মাছি? মানে ফরমালিন দেয়া নেই...

অবশেষে দুই ভাই, মানে দুই প্রতিবেশী বাজার করে ফিরলেন। ভেতরে ভেতরে জালাল সাহেব পুলকিত। যাক শেষ পর্যন্ত বুদ্ধি করে তাজা মাছ গছানো গেছে প্রতিবেশীকে। আজ অন্তত জানালা খুলে ঘুমানো যাবে। স্ত্রীকে কীভাবে সুখবরটা দেবেন, ভেবে পাচ্ছিলেন না।
তবে সত্যি সত্যি সেদিন জানালা খোলার পরও কোনো গন্ধ এলো না, এ পারে। স্বামী-স্ত্রী আরামে চোখ বুজলেন সার্থক জানালা... কিন্তু একি? হঠাত্ ভ্যান ভ্যান করতে করতে শত শত মাছি ঢুকতে শুরু করল তাদের জানালা দিয়ে। স্ত্রী হতভম্ব হয়ে উঠে বসলেন।
—ওগো এত মাছি কোত্থেকে এলো?
— মনে হয়...
— কি মনে হয়?
মনে হয় ... তরফদার সাহেবের তাজা মাছের মাছিগুলো... এত বড় জানালা পেয়ে...!
সূত্র : আমার দেশ

Friday, January 28, 2011

আমি কোন আগান্তক নই by আহসান হাবীব


    • Avmgv‡bi Zviv ¯^v¶x
      ¯^v¶x GB Rwg‡bi dzj, GB
      wbwkivBW euvkevMvb we¯—i †RvbvwK ¯^v¶x
      ¯^v¶x GB Rvi“j Avgiyj, ¯^v¶x
      c~‡e©i cyKzi, Zvi SvKov Wygy‡ii cv‡j w¯’i`„wó
      gvQivOv Avgv‡K †P‡b Avwg †Kv‡bv Af¨vMZ bB
      ‡Lv`vi Kmg Avwg wfb‡`kx cw_K bB
      Avwg †Kv‡bv AvMš‘K bB
      Avwg †Kv‡bv AvMš‘K bB, Avwg
      wQjvg GLv‡b, Avwg ¯^vwcœK wbq‡g
      GLv‡b _vwK Avi
      GLv‡b _vKvi bvg me©ÎB _vKv-
      mviv †`‡k|
      Avwg †Kv‡bv AvMš‘K bB| GB
      Li †iŠ`ª RjR evZvm †gN K¬vš— we‡K‡ji
      cvwLiv Avgv‡K †P‡b
      Zviv Rv‡b Avwg †Kv‡bv AbvZ¥xq bB|
      KvwZ©‡Ki av‡bi ¯^v¶x
      ¯^v¶x Zvi wP‡ivj cvZvi
      Ujgj wkwki, ¯^v¶x †R¨vrøvi Pv`‡i XvKv
      wbwk›`vi Qvqv
      AKvj eva©‡K¨ bZ K`g Avjx
      Zvi K¬vš— †Pv‡Li Avauvi
      Avwg wPwb, Avwg fvi wPi‡Pbv ¯^Rb GKRb| Avwg
      Rwgjvi gvÕi
      ïb¨ Lv Lv ivbœvNi ïK‡bv _vjv me wPwb
      ‡m Avgv‡K †P‡b
      nvZ iv‡Lv ˆeVvq jv½‡j, †`‡Lv
      Avgvi nv‡Zi ¯úk© †j‡M Av‡Q †Kgb Mfx‡i| †`‡Lv
      gvwU‡Z Avgvi MÜ, Avgvi kix‡i
      ‡j‡M Av‡Q GB mMwø» gvwUi myevm|
      Avgv‡K wek¦vm K‡iv, Avwg †Kv‡bv AvMš‘K bB|
      `yÕcv‡k av‡bi †¶Z
      mi“ c_
      mvg‡b ay ay b`xi wKbvi
      Avgvi Aw¯—‡Z¡ Muv_v| Avwg GB DavI b`xi
      gy» GK A‡eva evjK| 

  • Monday, December 20, 2010

    অসুখ by আহসান হাবীব

    আমি বড় অসুখী। আমার আজন্ম অসুখ। না না
    অসুখে আমার জন্ম।
    এই সব মোহন বাক্যের জাল ফেলে
    পৃথিবীর বালক-স্বভাব কিছু বয়স্ক চতুর জেলে
    মানব-সাগরে।
    সম্প্রতি উদ্দাম হাতে নৌকো বায়। আমরা বিমূঢ়।

    কয়েকটি যুবক এই অসুখ-অসুখ দর্শনের
    মিহি তারে গেঁথে নিয়ে কয়েকটি যুবতী
    হঠাৎ শৈশবে গেলো ফিরে
    এবং উন্মুক্ত মাঠে সভ্যতার কৃত্রিম ঢাকনায়
    দুঃসাহস-আগুন জ্বালিয়ে
    তারস্বরে কেবল চিৎকার করে :
    আমরা বড় অস্থির। কী চাই,
    আমাদের কী চাই, কী চাই!

    ওরা বলে : সন্ত্রাসতাড়িত আমরা সন্ত্রাসিত পৃথিবীতে তাই
    আমরা কেবল ছুটি। বলে আর ঊর্ধ্বশ্বাসে ছোটে।

    কোথায় ছুটেছে যদি জানতে চাও ওরা অনায়াসে
    জবাবে জানায়, নেই ঠিকানা,
    অথবা কোনো ঠিকানার বাসনাও নেই।
    নৈরাশ্যের হাওয়া থেকে ক্রোধের আগুন জ্বেলে নিয়ে
    ওরা বলে : পুড়ুক পুড়ুক
    দু’পাশের শ্যামশোভা, পুরনো ঘরের
    পুরনো সম্ভার সব পোড়াবো এবং
    শূন্যতাকে একমাত্র সত্য বলে রেখে যাবো দুয়ারে সবার।

    আর এই উন্মাদ উৎসবে যদি হঠাৎ কখনো
    ব্যথিত প্রবীণ কোনও পথচারী প্রশ্ন করে : শূন্যতার বোঝা
    কে বয় এমন করে, কোন অর্থে, কী লাভ, কী লাভ!
    ওরা বলে : অর্থ নেই। অর্থ নেই এ জীবনে এই শুধু সার
    জেনেছি। জেনেছি কোনো লাভ নেই অর্থের সন্ধানে।
    লাভ নেই লাভের আশায় কালক্ষেপে
    অথবা শূন্যের কড়ি গুণে গুণে লাভ নেই অলিক ছায়ায়।
    তার চেয়ে উদ্দাম জোয়ারে
    ভেসে যাবো। এবং যেহেতু
    ভেসে ভেসে ডুবে যাওয়া একমাত্র সত্য পৃথিবীতে
    সত্যের সজ্জিত বৃদ্ধ গাধাটাকে ডুবিয়ে আমরাও
    কিছুকাল মত্ত হাতে নৌকা বেয়ে
    জোয়ারের জলে ভেসে যাবো।
    এবং একদা ডুবে যাবো।

    নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

    Labels

    মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

     

    জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ