প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label জানা অজানা. Show all posts
Showing posts with label জানা অজানা. Show all posts

Friday, September 14, 2012

উদ্ভিদের জন্ম ও মৃত্যুর কথা | আচার্য্য জগদীশচন্দ্র বসু

মৃত্তিকার নীচে অনেক দিন বীজ লুকাইয়া থাকে। মাসের পর মাস এইরূপ কাটিয়া গেল। শীতের পর বসন্ত আসিল। তারপর বর্ষার আরম্ভে দুই-এক দিন বৃষ্টি হইল। এখন আর লুকাইয়া থাকিবার প্রয়োজন নাই। বাহির হইতে কে যেন শিশুকে ডাকিয়া বলিতেছে, আর ঘুমাইয়ো না, উপরে উঠিয়া আইস, সূর্যের আলো দেখিবে। আস্তে আস্তে বীজের ঢাকনাটি খসিয়া পড়িল, দুইটি কোমল পাতার মধ্য হইতে অঙ্কুর বাহির হইল। অঙ্কুরের এক অংশ মাটি ভেদ করয়া উপরে উঠিল। তোমরা কি অঙ্কুর উঠিতে দেখিয়াছ? মনে হয় শিশুটি যেন ছোটো মাথা তুলিয়া আশ্চর্যের সহিত নতুন দেশ দেখিতেছে।
গাছের অঙ্কুর বাহির হইলে যে অংশ মাটির ভিতর প্রবেশ করে তাহার নাম মূল। আর যে অংশ উপরের দিকে বাহিরে থাকে, তাহাকে বলে কাণ্ড। সকল গাছের ‘মূল’ আর ‘কাণ্ড’ এই দুই ভাগ দেখিবে। এই এক আশ্চর্য কথা, গাছকে যেরূপেই রাখ, মূল নীচের দিকে ও কাণ্ড উপরের দিকে যাইবে। একটি টবে গাছ ছিল। পরীক্ষা করিবার জন্য কয়েকদিন ধরিয়া টবটিকে উল্টা করিয়া ঝুলাইয়া রাখিলাম। গাছের মাথা নীচের দিকে ঝুলিয়া রহিল। আর শিকড় উপরের দিকে রহিল। দুই-এক দিন পরে দেখিতে পাইলাম যে, গাছ যেন টের পাইয়াছে। তাহার সব ডালগুলি বাঁকা হইয়া উপরের দিকে উঠিল ও মূলটি ঘুরিয়া নীচের দিকে নামিয়া গেল। তোমরা অনেকে শীতকালে অনেক বার মূলা কাটিয়া শয়তা করিয়া থাকিবে। দেখিয়াছ, প্রথমে শয়তার পাতাগুলি ও ফুলেল নীচের দিকে থাকে। কিছুদিন পরে দেখিতে পাওয়া যায়, পাতা ও ফুলগুলি উপর দিকে উঠিয়াছে।
আমরা যেইরূপ আহার করি, গাছও সেইরূপ আহার করে। আমাদের দাঁত আছে, আমরা কঠিন জিনিষ খাইতে পারি। ছোট ছোট শিশুদের দাঁত নাই, তাহারা কেবল দুধ খায়। গাছেও দাঁত নাই, সুতরাং তাহারা কেবল জলীয় দ্রব্য কিংবা বাতাস হইতে আহার গ্রহণ করিতে থাকে। চিনিতে জল ঢালিলে চিনি গলিয়া যায়। মাটিতে জল ঢালিলে মাটির ভিতরের অনেক জিনিষ গলিয়া যায়। গাছ সেই সব জিনিষ আহার করে। গাছের গোড়ায় জল না দিলে গাছের আহার বন্ধ হইয়া যায় ও গাছ মরিয়া যায়। অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়া অতি ক্ষুদ্র-পদার্থ দেখিতে পাওয়া যায়। গাছের ডাল কিংবা মূল এই যন্ত্র দিয়া পরীক্ষা করিলে দেখা যায় যে, গাছের শরীরে রস প্রবেশ করে। এছাড়া গাছের পাতা বাতাস হইতে আহার সংগ্রহ করে। পাতার মধ্যে অনেকগুলি ছোট ছোট ঠোঁট দেখা যায়। যখন আহার করিবার আবশ্যক হয় না তখন ঠোঁট বুজিয়া যায়। আমরা যখন শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করি তখন প্রশ্বাসের সঙ্গে এক প্রকার বিষাক্ত বায়ু বাহির হইয়া যায়। তাহাকে অঙ্গারক বায়ু বলে। ইহা যদি পৃথিবীতে জমিতে থাকে তবে সকল জীবজন্তু অল্পদিনের মধ্যে এই বিষাক্ত বায়ু গ্রহণ করিয়া মরিয়া যাইতে পারে। বিধাতার করুণার কথা ভাবিয়া দেখ। যাহা জীবজন্তুর পক্ষে বিষ, গাছ তাহাই আহার করিয়া করিয়া বাতাস পরিষ্কার করিয়া দেয়। গাছের পাতার উপর যখন সূর্যের আলোক পড়ে, তখন পাতাগুলি সূর্যের তেজের সাহায্যে অঙ্গারক বায়ু হইতে অঙ্গার বাহির করিয়া লয়।
এই অঙ্গার গাছের শরীরে প্রবেশ করিয়া গাছকে বাড়াইতে থাকে। গাছেরা আলো চায়, আলো না হইলে ইহারা বাঁচিতে পারে না। গাছের সর্বপ্রধান চেষ্টা, কি করিয়া একটু আলো পাইবে। যদি জানালার কাছে টবে গাছ রাখ, তবে দেখিবে সমস্ত ডালগুলি অন্ধকার দিক ছাড়িয়া আলোর দিকে যাইতেছে। বনে যাইয়া দেখিবে গাছগুলি তাড়াতাড়ি মাথা তুলিয়া কে আগে আলোক পাইতে পারে, তাহার চেষ্টা করিতেছে। লতাগুলি ছায়াতে পড়িয়া থাকিলে আলোর অভাবে মরিয়া যাইবে। এই জন্য তাহারা গাছ জড়াইয়া ধরিয়া উপরের দিকে উঠিতে থাকে। 
সূত্র: আমার দেশ

Thursday, August 2, 2012

মোটর গাড়ির আবিষ্কারকহেনরি ফোর্ড | সিরহানা হক

মোটর গাড়ি আবিষ্কারের ক্ষেত্রে অনেকের অবদান থাকলেও হেনরি ফোর্ডের অবদান ছিলো সবচেয়ে বেশি। এ কারণে হেনরি ফোর্ডকে মোটর গাড়ির আবিষ্কারক বলা হয়। তিনি ছিলেন উইলিয়াম ফোর্ড নামে এক চাষীর সন্তান। আমেরিকার অঙ্গরাজ্য মিচিগানের রেডিয়ার বোনে জন্মগ্রহণ করেন ফোর্ড। সেই দিনটি ছিলো ১৮৬৩ সালের ৩০ জুলাই।
১৮৬৮ সালে স্কুলে ভর্তি করে দেয়া হলেও দুষ্টুমি করার কারণে স্কুল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর তিনি বাড়িতে মা মেরি ফোর্ডের কাছে লেখাপড়া করেন। তবে ১৮৭৬ সালে মা মারা যাবার পর লেখাপড়া আর হয়নি।
ছেলেবেলা থেকেই যন্ত্রপাতির ওপর তীব্র আকর্ষণ ছিলো ফোর্ডের। তিনি ১৮৮৩ সালে একক প্রচেষ্টায় বাষ্পচালিত ট্রাক্টর বানিয়ে প্রথম তার উদ্ভাবনী শক্তির প্রমাণ দেন। ১৮৮৮ সালে ফোর্ড ক্লারা ব্রায়েন্টকে বিয়ে করেন। এ সময় তিনি জানতে পারেন বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা যান্ত্রিক গাড়ি বা মোটর চালিত গাড়ি আবিষ্কারের জন্য গবেষণা করে যাচ্ছেন। যন্ত্রের প্রতি ছেলেবেলা থেকেই আগ্রহী ছিলেন ফোর্ড। তিনি সিদ্ধান্ত নেন অবসর সময়ে মোটর গাড়ি উদ্ভাবনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
এ সময় ফোর্ড ডেট্রয়েটে বিখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস অ্যালভা এডিসনের এডিসন লাইটিং কোম্পানিতে কাজ করতেন। এখানে কাজ করতে হতো রাতের শিফটে—দিনে চালাতেন গাড়ি উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা। একটানা দু’বছর কাজ করার পর মোটামুটি মোটর গাড়ি উদ্ভাবনে সক্ষম হন ফোর্ড। তিনি এডিসনের কোম্পানির কাজ ছেড়ে দিয়ে পুরো সময় মোটর গাড়ি আবিষ্কারের পেছনে ব্যয় করেন। ১৮৯৩ সালের প্রথম দিকে মোটর গাড়ি তৈরির ব্যাপারে অনেক দূর এগিয়ে যান ফোর্ড। সে বছরের কোনো এক রাতে প্রথম মোটর গাড়ি নিয়ে পথে বের হন হেনরি ফোর্ড। পরে এই গাড়ির আরো উন্নতি ঘটান। ডেট্রয়েটের শহরতলিতে প্রতিষ্ঠা করেন প্রথম কারখানা। ছয়শ’ পঁয়ষট্টি একর জমির ওপর নির্মিত এ কারখানা থেকে হেনরি ফোর্ডের সময় প্রতি বছর মোটর গাড়ি ছাড়াও নির্মিত হতো দশ লাখ ট্রাক্টর। একশ’টি রেলপথ দিয়ে সেগুলো বিভিন্ন দেশে পাঠানো হতো।
ফোর্ড নিজে ছিলেন কৃষকের সন্তান। তাই গরিব কর্মচারীদের ওপর তার ছিলো অসীম মমতা। তার ফোর্ড মোটর কোম্পানির সব শ্রেণীর কর্মচারীর জন্য তিনি চালু করেন স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, কল্যাণ ফান্ড, বৃত্তি ও অন্যান্য সেবাধর্মী কর্মকাণ্ড। তার প্রতিষ্ঠিত ফোর্ড ফাউন্ডেশন আজো বিশ্বের উন্নতিতে অর্থ সাহায্য করে যাচ্ছে। মহাপ্রাণ হেনরি ফোর্ড মারা যান ১৯৪০ সালের ৭ এপ্রিল।

সূত্র: আমার দেশ

Thursday, July 26, 2012

বিমান আবিষ্কারক দুই ভাই | শওকত হোসেন লিটু


আকাশে উড়ে বেড়াবার সাধ প্রায় প্রতিটি মানুষেরই ছিলো। কেউ কেউ নানাভাবে আকাশে উড়তে চেষ্টা করেছেনও। তবে সফল হননি তারা। কারণ কী করে, কোন প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে বাতাসের ওপর ভেসে থাকা যায়, তা তখনো জানতেন না তারা।
একটি কার্যক্ষম উড়তে সক্ষম বিমান কে আবিষ্কার করেছিলেন? না, তিনি কোনো একক ব্যক্তি নন। তারা ছিলেন আপন দুই ভাই উইলবার রাইট আর অরভিল রাইট। উইলবার রাইট জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৬৭ সালে। তিনি মারা যান ১৯১২ সালে। অরভিল রাইটের জন্ম ১৮৭১ সালের ১৯ আগস্ট। তিনি মারা যান ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি। আমেরিকার ডেটনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তারা। তাদের বাবা মিলটন রাইট ছিলেন হার্সভিল কলেজের অধ্যাপক। পরে হন ধর্মযাজক। মায়ের নাম ছিলো সুসান রাইট।
১৮৮৯ সালের ৪ জুলাই মা সুসান মারা যাবার পর উইলবার ও অরভিল রোজগারের দিকে মনোযোগ দেন। তারা একটি পুরনো ছাপাখানা কিনে প্রকাশনা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু মাত্র এক বছর পর ছাপাখানা বন্ধ করে সাইকেল বিক্রি ও মেরামতের কাজে লেগে যান। ব্যবসা ভালোই জমে ওঠে। হাতে আসে সচ্ছলভাবে চলার মতো টাকা-পয়সা।
এ সময় একটি খবর পরে অরভিল জানতে পারেন যে, লিলিয়েনথাল নামে এক জার্মান বিজ্ঞানী পাখির মতো ডানা বানিয়ে আকাশে উড়তে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। কিছুদিন আগে পাহাড়ের চূড়া থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে মারা গেছেন তিনি।
এই খবরটি আমূল বদলে দেয় দু’ভাইকে। তারা সিদ্ধান্ত নেন লিলিয়েনথাল যা করতে পারেননি তারা তা করবেন। আকাশে উড়ে বেড়াবার মতো ইঞ্জিন আবিষ্কার করে বিশ্ববাসীকে চমকে দেবেন।
এ সিদ্ধান্ত নেয়ার পর দুই ভাই দ্রুত কাজে নেমে পড়েন। বাতাসের গতি ও প্রকৃতির ওপর ব্যাপক পড়াশোনা করেন। বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জিন সম্পর্কে হাতে-কলমে জ্ঞান অর্জন করেন। তারপর নানা ধরনের ইঞ্জিনবিহীন গ্লাইডার বানিয়ে উড়ে বেড়াবার ওপর প্রশিক্ষণ নেন। এভাবে বাতাসের প্রকৃতি ও আচরণ সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা অর্জনের পর ১৯০১ সালে ৯৮ পাউন্ড ওজনের গ্লাইডার নিয়ে প্রথম আকাশে ওড়েন উইলবার পরে অরভিল। দু’ভাই রাতের পর রাত জেগে পড়াশোনা চালিয়ে যান। বিভিন্ন ধরনের বিমানের মডেল এঁকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন।
১৯০৩ সালে রাইট ভাইদের সঙ্গে টার্চি টেলর নামে এক যন্ত্রবিদের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি দু’ভাইকে সহযোগিতা করার জন্য হাত বাড়িয়ে দেন। তার সহযোগিতায় উইলবার তৈরি করেন ১২ হর্স পাওয়ারের একটি ইঞ্জিন। আর বানানো হয় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের ডানাওয়ালা একটি বিমান। নাম দেয়া হয় ‘ফ্লাইয়ার-ওয়ান’। এটির ওজন গিয়ে দাঁড়ায় ৭৫০ পাউন্ডে। সেই ফ্লাইয়ার-ওয়ান নিয়ে ১৯০৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রথম আকাশে ওড়েন উইলবার রাইট। মাত্র তিন সেকেন্ড পর মাটিতে নেমে আসে বিমান। মাটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ওটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে সেদিন ফিরে যান তারা। তবে ১৭ ডিসেম্বর দু’ভাই আবার চলে আসেন কিটি হক নামের জায়গাটিতে। এবার প্রথম ওড়েন অরভিল। সাতাশ মাইল বেগে প্রবাহিত বাতাসের বিপরীতে ১২ সেকেন্ড উড়ে ১২০ ফুট পথ উড়তে সক্ষম হয় ফ্লাইয়ার ওয়ান। সেদিন দু’ভাই মোট তিনবার আকাশে ওড়েন। দ্বিতীয়বার পনেরো সেকেন্ড উড়তে সক্ষম হন অরভিল। তৃতীয়বার উইলবার উড়ে বেড়ান ৫৯ সেকেন্ড। এ সময়ের মধ্যে অতিক্রম করেন ৮৫২ ফুট আকাশ পথ। ১৯০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর মানুষের পক্ষে প্রথম সম্ভব হয়েছিলো যান্ত্রিক যানে চড়ে আকাশে ভ্রমণ। তাই এ দিনটিকে বিমান আবিষ্কারের দিন বলে মেনে নেয়া হয়েছে। এর পর ফ্লাইয়ার-টু নামে আরেকটি বিমানে ১৬ হর্স পাওয়ারের মেশিন ব্যবহার করে একশো পাঁচবার আকাশে ওড়েন। বিমান শিল্প যতো দ্রুত উন্নতি লাভ করে এমন সৌভাগ্য আর কোনো শিল্পের ভাগ্যে জোটেনি। ভবিষ্যতে বিমান শিল্প আরো উন্নতি লাভ করবে এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।
সূত্র : আমার দেশ

Sunday, June 10, 2012

দর্জি পাখি টুনটুনি | দীপক দেবনাথ

 
টুনটুনি পাখিদের দর্জি পাখি বলা হয়। তারা গাছের পাতা ঠোঙার মতো মুড়ে তার পাশে সুতা বা গাছের আঁশ দিয়ে সুন্দরভাবে সেলাই করে এবং সেই ঠোঙার মধ্যে পালক বা তুলা বিছিয়ে ডিম পাড়ে। দর্জির মতো পাতা সেলাই করে বলে তাদের দর্জি পাখি বলা হয়। কাপড় সেলাই করতে হলে আমাদের সুই সুতা ইত্যাদির দরকার হয়, কিন্তু টুনটুনিদের সেসব কিছু জোগাড় করতে হয় না। তাদের ঠোঁট সুইয়ের কাজ করে এবং গাছের ছালের আঁশ জোগাড় করে তারা সুতার কাজ চালায়। এই পাখিরা কেমন করে সেলাই করার বিদ্যা শিখল_ তা ভাবলে অবাক হতে হয়। টুনটুনি পাখিদের আমরা সবাই দেখেছি। আকারে এরা চড়ুই পাখির চেয়েও ছোট। তাদের পিঠের রং কিছুটা খয়েরি, কিন্তু মাথা সাধারণত ধূসর। পেটের তলার পালক সাদাটে। লেজ খুব লম্বা নয়, কিন্তু ডিম পাড়ার সময় পুরুষ পাখিদের লেজের মাঝের দুটি পালক হঠাৎ লম্বা হয়ে যায়। তাই সে সময় পুরুষ পাখিদের লেজ লম্বা দেখা যায়। টুনটুনিরা একসঙ্গে তিন-চারটা করে ডিম পাড়ে। ডিমগুলো দেখতে সাদা, সাদার উপর লালের ছিটেফোঁটাও আছে। বৈশাখ মাস থেকে শুরু করে ভাদ্র মাস পর্যন্ত টুঁই টুঁই শব্দ করে এই চঞ্চল পাখিটি ঝোঁপ-জঙ্গলে ক্রমাগত লাফালাফি করে। পাখিগুলো ছোট; কিন্তু তাদের গলার স্বর নিতান্ত ছোট নয়। যখন টুনটুনিরা গাছের ডালে লাফালাফি করে ডাকতে থাকে, তখন অনেক দূর থেকে শোনা যায় সেই আওয়াজ

Wednesday, May 9, 2012

ধনুক কাহিনী

সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। তবে সৃষ্টির আদিতে এমন শ্রেষ্ঠত্ব ছিল না মানুষের। ভয়ঙ্কর পৃথিবীতে বিশালাকারের সব হিংস্র প্রাণীর রাজত্ব ছিল একসময়। কিন্তু মেধা-মনন আর বুদ্ধির জোরে সেসব হিংস্র প্রাণীকে হারিয়ে মানুষ ঠিকই তার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে নেয়। প্রথমদিকে বিশাল সব প্রাণীর চেয়ে শারীরিক দিক থেকে দুর্বল মানুষ নিজেকে বাঁচাতে তুলে নেয় ভারী ভারী পাথরের টুকরো। সেই পাথরের টুকরো ছুঁড়ে তাকে বাঁচতে হয়েছে বিশালাকার প্রাণীদের হাত থেকে। তখনই অস্ত্রের ধারণা আসে মানুষের। একসময় বাঁচার তাগিদে মানুষ আবিষ্কার করে তীর-ধনুক। হয়তো কোনো বেঁকে যাওয়া গাছের ডালে নিজেদেরই শিকার করা প্রাণীর অস্ত্র দিয়ে তৈরি ছিল, আর ভেঙে যাওয়া বর্শার সামনের অংশটুকু দিয়ে কোনো একজনের আবিষ্কৃত তীর-ধনুক মানুষ ব্যবহার করতে শিখল। সেদিন থেকেই মানুষ সভ্যতার আরেক ধাপে এগিয়ে গেল।
ধনুবিদ্যা অর্থাৎ ধনুক দিয়ে তীর ছোঁড়া হলো মানুষের প্রাচীন কলাকৌশলের অন্যতম। প্রাগৈতিহাসিককাল থেকেই ধনুক ছিল যুদ্ধ ও শিকারের প্রধান অস্ত্র। যদিও ১৫ শতাব্দীতে যুদ্ধক্ষেত্রে ধনুকের ব্যবহার লুপ্ত হয়, তবুও শিকারের অস্ত্র হিসেবে এর ব্যবহার অক্ষুণ্ন থাকে। শুরুতে ধনুক তৈরি হতো সাধারণত কাঠ দিয়ে কিন্তু পরবর্তী সময়ে কাঠসহ অন্যান্য অনেক বস্তুর ব্যবহার শুরু হয়। এগুলোকে বলা হয় কম্পোজিট বা যৌগিক ধনুক। ১৯৫০-এর দশকের পর ক্রীড়াযন্ত্র হিসেবে ক্রসবো অর্থাৎ আড় ধনুকের ব্যবহার শুরু হয়। ঠিক তখন থেকেই ধনুকের ছিলারও (দড়ি) অনেক পরিবর্তন ঘটে। ধনুকের ছিলার উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে পশুর গায়ের লোম, শাকসবজির অাঁশ, শন, রেশম, লিনেন পাক দেওয়া তন্ত্র এবং পশুর চামড়া, বাঁশ বা বেতের ফালি। তখন থেকেই ধীরে ধীরে বিকাশের মাধ্যমে তীরের উদ্ভব হয়। আগে যে তীর ব্যবহার করা হতো তা সম্ভবত কোনো ধরনের নলখাগড়া বা ক্রেন দিয়ে তৈরি হতো। তীর দিয়ে বিদ্ধ করার জন্যও তীরের অগ্রভাগে ধাতু বা পাথরের ফলার ব্যবহার করা হতো। লৌহ ও ইস্পাত আবির্ভাবের পর তীরের বিভিন্ন রকম ডিজাইন বিকাশ লাভ করে। দীর্ঘ ধনুকের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংগঠিত আধুনিক ক্রীড়া হিসেবে ধনুবিদ্যা ক্রীড়ার সূত্রপাত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে লাটুকেটে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা হয় তখন থেকেই আন্তর্জাতিক ধনুবিদ্যা প্রতিযোগিতার সূত্রপাত ঘটে। প্রতিযোগিতা পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক আরচারি ফেডারেশন গঠিত হয়। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পুরুষদের জন্য দীর্ঘতম দূরত্ব হলো ৯০ মি. (৯৮.৪ গজ) এবং স্ত্রীলোকদের জন্য ৭০ মি. (৭৬.৫ গজ)। এ ক্রীড়ার প্রতি পৃথিবীব্যাপী আগ্রহ বেড়ে যাওয়ার ফলে ১৯৬৯ সালে ফিল্ম আরচারিকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং দীর্ঘতম তীর ছোঁড়ার দূরত্ব স্থির করা হয় ৬০ মি. (৬৫.৬ গজ) এবং চারটি লক্ষ্যস্থলের বৃহত্তমটির আকৃতি স্থির করা হয় ৬০ সে. মি.। বিংশ শতাব্দীর প্রথম-তৃতীয়াংশে ইউরোপে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে টার্গেট আরচারি একটি জনপ্রিয় ক্রীড়া হিসেবে প্রচলিত হয়। ১৯৩১ সাল থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীরা আসত ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সুইডেন, পোল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও চেকোস্লোভাকিয়া থেকে। ১৯০০, ১৯০৪, ১৯০৮, ১৯২০ সালে আরচারি অলিম্পিক প্রতিযোগিতার অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারপর আবার ১৯৭২ সালের অলিম্পিক ক্রীড়ায় আবার এটি প্রচলিত হয়। 

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

Monday, February 13, 2012

ভালবাসা দিবস ; কিছু কথা

পশ্চিমা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এখন বাংলাদেশেও ১৪ই ফেব্রুয়ারী "ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালবাসা দিবস" পালন করা হচ্ছে। তথাকথিত প্রেম পিয়াসী তরুণ তরুণীরা নানা ধরনের অশ্লীলতা বেহায়াপনা ও নোংরামির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকে।

ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালবাসা দিবসের ইতিহাস নিয়ে ইতিহাসবিদদের মাঝে নানা বিতর্ক রয়েছে। তবে যে দুটি মত বেশী গ্রহণযোগ্য তা হল-
১) সেন্ট ভ্যালেন্টাইন একজন রোমান পাদ্রীর নাম। এই পাদ্রী চিকিৎসকও ছিলেন। রোমের সম্রাট দ্বিতীয় কাডিয়াসের আদেশে ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। তিনি যখন জেলে বন্দি ছিলেন তখন ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা কাগজে ভালবাসার কথা লিখে জানালা দিয়ে ছুড়ে মারত। তিনি জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় একজন অন্ধ মেয়ের চিকিৎসা করে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। ফলে মেয়েটির সাথে তার যোগাযোগ ঘটে ও তার প্রতি ভালবাসা হয়। এই পাদ্রী তার মৃত্যুর পূর্বে মেয়েটিকে লেখা একটি চিঠিতে লিখে যান Form your valentine.
এই সেন্ট ভ্যালেন্টাইন এর নামানুসারে পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খৃষ্টাব্দে ১৪ই ফেব্রুয়ারীকে সেন্ট ভ্যালেইন্টানস ডে ঘোষণা করে।

২) ১৪১৫ সালে তাজিন কোর্টের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে ফরাসী বাহিনী পরাজিত হয় এবং ফরাসী প্রিন্স ও কবি শাল ইংরেজদের হাতে বন্দি হন। ইংরেজদের জেলে দীর্ঘ ২৫ বছর বন্দি ছিলেন প্রিন্স শাল। বন্দি থাকা অবস্থায় সেখানে তিনি দেখতে পেলেন প্রতি বছর ১৪ই ফেব্রুয়ারী কিছু তরুণ তরুণী একত্রিত হয়ে আনন্দ ফুর্তি করত এবং লটারীর মাধ্যমে পরবর্তী এক বছরের জন্য সঙ্গী নিবার্চন করত। বিষয়টি প্রিন্স শালের খুব পছন্দ হয়। তাই তিনি বন্দি থেতে মুক্ত হয়ে নিজ দেশে এসে ১৪ই ফেব্রুয়ারীকে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে পালন করার উদ্যোগ নেন। এই থেকে অনেক ফরাসীর মতে ভালবাসা দিবসের সূচনা হয়।
সূচনালগ্ন থেকেই এই দিবসটি ভালবাসার আসল চেতনা থেকে দূরে সরে গিয়ে নানা ধরনের অশ্লীলতা আর নোংরামির মাধ্যমে পালন হতে থাকে। এই দিন ভালবাসায় মনের ছোঁয়া পাওয়ার চেয়ে দেহের ছোঁয়া পেতেই মরিয়া হয়ে উঠে তরুণ তরুণীরা। ধীরে ধীরে এই দিবসটিতে বেহায়াপনা বাড়তেই থাকে। তাই ফ্রান্স সরকার ১৭৭৬ ইং সালে দিবসটির উদযাপন বন্ধ ঘোষণা করে। ১৭ শতকে ইংল্যান্ডে ও নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় দিবসটি। সময়ের পরিক্রমায় ধীরে ধীরে জার্মানী, ইটালী, হাঙ্গেরী, অষ্ট্রিয়া, থেকেও বিলুপ্ত হয়ে যায়। চালু থাকে আমেরিকা আর ব্রিটেনে আর ধীরে ধীরে প্রসার লাভ করতে থাকে মুসলিম দেশগুলোতে।
এই দিবসটি বাংলাদেশে পালিত হয় নব্বই এর দশকের শেষের দিকে। প্রথমে শহরগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলে ও এখন এর প্রসার ঘটেছে গ্রামে গঞ্জে পাড়া মহল্লায়। এই দিবসটিতে স্কুল, কলেজ, পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরীরা প্রেম বিনিময়ের নামে অবাধ মেলামেশা আর যেসব কর্মকান্ড করে তা কোন সভ্য মানুষ সমর্থন করতে পারে না। আর গুলশান, বারিধারায় কি সব আজে বাজে ঘটনা ঘটে তা ১৫ই ফেব্রুয়ারির পত্রিকা ও টিভি নিউজ দেখলেই বুঝা যায়। এই দিবসটি যদি এভাবে পালন হতে থাকে তবে অদুর ভবিষ্যতে আমাদের আগামী প্রজন্মের চরিত্র কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা ভেবে দেখার সময় হয়েছে। এখন থেকেই এর একটি ব্যবস্থা হওয়া প্রয়োজন।

পরিশেষে বলবো, ভালবাসা মানবতার জন্য একটি সর্বজননী শব্দ। এর জন্য বিশেষ কোন দিবসের প্রয়োজন হয় না। ভালবাসা শুধু তরুণ তরুণী, আর কিশোর কিশোরীদের অবাধ মেলামেশার নাম নয়। আমাদের ভালবাসা হোক মানবতার জন্য, স্রষ্টা আর স্রষ্টার সকল সৃষ্টির জন্য।

Monday, January 9, 2012

সচিত্র বাংলাদেশ পুলিশ র‍্যাংক || মরুভূমির জলদস্যু

বাংলাদেশ পুলিশ সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নাই, নতুন কিছু বললতেও আমি চাচ্ছি না। বাংলাদেশ পুলিশের চরিত্র বা তাদের পক্ষপাতিত্ব অথবা তাদের কর্মদক্ষতা আলোচনা এই পোস্টের উদ্দেশ নয়। তবে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের রেংকগুলি আমাদের জানা থাকা উচিত। আমি কিছু কিছু জানতাম, তবে মনে রাখতে পারি না। আপনারা অনেকই হয়তো জানেন, আবার মনেও রাখতে পারেন। তাই যারা পুলিশের রেংক গুলি জানেন না তাদের জন্য এই পোস্ট ছবি সহ।

বাংলাদেশ পুলিশের পতাকা

পুলিশের ইংরেজি বানান “POLICE” আমরা সকলেই জানি। আর এই POLICE এর ফুল ফর্ম হচ্ছে –
P—-Polite
O—-Obedient
L—-Loyal
I—-Intelligent
C—-Courageous
E—-Eager to help
তবে বাংলাদেশ পুলিশের ক্ষেত্রে আনেকেই উপরের এই ফুল ফর্মটি পছন্দ না করে নিচেরটিকেই বেশি মানানসই মনে করেন।
P—-Powerless
O—-Official Criminal
L—-Loafer
I—-Illegal
C—-Corrupt
E—-Effete
তা যাইহোক, এই সমস্ত আলোচনার কোনো দরকার আমাদের নেই। তবে এতটুকু বলতে পারি এখনো নিশ্চয়ই সৎ পুলিশ অফিসার আমাদের বাংলাদেশে রয়েছে। আগামীতে সমস্ত পুলিশ বাহিনীই হবে যোগ্য, সৎ আর সুদক্ষ এটাই সবাই কামনা করি।

বাংলাদেশ পুলিশের লোগো


বাংলাদেশ পুলিশ তাদের ইউনিফর্মে কাপড়ের এই লোগটি ব্যবহার করে।

নিচে দেখুন বাংলাদেশ পুলিশের রেংকের নাম ও তাদের প্রতীক।
০১। IGP বা IGP

Inspector General of Police (IGP)

০২। Add .IG বা Add .IGP

Additional Inspector General of Police (Add. IGP)

০৩। DIG

Deputy Inspector General (DIG)

০৪। ADIG

Additional Deputy Inspector General (Add. DIG)

০৫। SP

Superintendent of Police (SP)

০৬। ASP

Additional Superintendent of Police (ASP)

০৭। Senior ASP

Senior Assistant Superintendent of Police (Senior ASP)

০৮। ASP

Assistant Superintendent of Police (ASP)

০৯। Inspector

Inspector

১০। Sergeant

Sergeant

১১। SI

Sub-Inspector (SI)

১২। ASI

Assisitant of Inspector (ASI)

১৩। Head Constable

(Armed Branch)

১৪। Head Constable

(Unarmed Branch)

১৫। Naik

Naik

১৬। Constable

Constable

বাংলাদেশ পুলিশ
উইকি

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের ঝিঁঝি পোকার বাগানে নিমন্ত্রণ।

Sunday, January 1, 2012

মানব দেহের অসাধারণ কিছু তথ্য

১. একজন মানুষের রক্তের পরিমাণ তার মোট ওজনের ১৩ ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ ৬৫ কেজি ওজন মানুষের রক্তের পরিমাণ হল ৫ কেজি।
২. দেহে অক্সিজেন সরবরাহকারী লোহিত রক্ত কণিকার পরিমাণ ২৫০০ কোটি এবং এরা ৪ মাস বাঁচে।
৩. রোগ প্রতিরোধকারী শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা ২৫০ কোটি এবং এরা মাত্র ১২ ঘণ্টা বাঁচে।
৪. দেহের সব শিরাকে পাশাপাশি সাজালে দেড় একর জমির প্রয়োজন হবে।
৫. একজন মানুষের স্নায়ুতন্ত্র এত লম্বা যে তা দিয়ে পৃথিবীকে ৭ বার পেঁচানো যাবে।
৬. কোন অনুভূতি স্নায়ুতন্ত্রের মধ্য দিয়ে ঘণ্টায় ২০০ মাইল বেগে প্রবাহিত হয়।
৭. দেহে ও মনে অনুভূতি আসলে তা মস্তিষ্কে পৌঁছতে ০.১ সেকেন্ড সময় লাগে।
৮. একজন শিশুর জন্মের সময় হাড় থাকে ৩৫০ টি।
৯. একজন মানুষ সারা জীবনে ৪০ হাজার লিটার মূত্র ত্যাগ করে।
১০. একজন মানুষের শরীরে চামড়ার পরিমাণ হচ্ছে ২০ বর্গফুট।
১১. একজন মানুষের চামড়ার ওপর রয়েছে ১ কোটি লোমকূপ।
১২. মানুষের শরীরে যে পরিমাণ চর্বি আছে তা দিয়ে ৭ টি বড় জাতের কেক তৈরি সম্ভব।
১৩. মানুষের শরীরে ৬৫০ টি পেশী আছে। কোন কোন কাজে ২০০ টি পেশী সক্রিয় হয়। মুখমণ্ডলে ৩০ টির বেশী পেশী আছে। হাসতে গেলে ১৫ টির বেশী পেশী সক্রিয় হয়।
১৪. একস্থান থেকে শুরু করে সমগ্র শরীর ঘুরে ঐ স্থানে ফিরে আসতে একটি রক্ত কণিকা ১,০০,০০০ কিমি পথ অতিক্রম করে অর্থাৎ ২.৫ বার পৃথিবী অতিক্রম করতে পারে।
১৫. আমাদের মস্তিষ্ক প্রায় ১০,০০০ টি বিভিন্ন গন্ধ চিনতে ও মনে রাখতে পারে।
সূত্র : ফেসবুক

৭১ এর সেক্টর ও সেক্টর কমান্ডার | মরুভূমির জলদস্যু

মানচিত্রে ১১টি সেক্টর ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার। ১৯৭১ সালের ২৯ এপ্রিল অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীসভার বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তাতে বলা হয়ঃ সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কে সিদ্ধান্ত হল যে প্রধান সেনাপতি অফিসারদের একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন। সেনা কমান্ডকে সমন্বিত করে কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। বাংলাদেশ বাহিনীতে প্রশিক্ষণার্থীদের বাছাইপর্বে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পরবর্তীতে ১১ই জুলাই মুজিবনগরে কর্নেল আতাউল গনি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিয়োগ করা হয়। অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের সমগ্র ভূখণ্ডকে ১১টি যুদ্ধক্ষেত্র বা সেক্টরে ভাগ করা হয়। । প্রতিটি সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন একজন সেক্টর কমান্ডার। নিচে সেক্টর নং, সেক্টর আওতা, সেক্টর কমান্ডার ও আরো কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হলো। সর্বাধিনায়ক ও প্রধান সেনাপতি মুক্তিবাহিনী কর্নেল মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী উপ প্রধান সেনাপতি ও বিমানবাহিনী প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপ প্রধান সেনাপতি ও সেনাবাহিনী প্রধান (ছবি সংগ্রহ করতে পারিনি।) লে.কর্নেল আবদুর রব ১নং সেক্টর সেক্টর কমান্ডার : মেজর জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) (এপ্রিল- জুন) সেক্টর কমান্ডার : মেজর রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম) (জুন - ডিসেম্বর) এলাকা : চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার ফেনী মহকুমার অংশ বিশেষ (মুহুরী নদীর পূর্বপাড় পর্যন্ত)। এই সেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল পাঁচটি। সেক্টর ট্রুপস্ ছিল ২১০০ সৈন্য এবং গেরিলা ছিল ২০,০০০। ২নং সেক্টর সেক্টর কমান্ডার মেজর এ.টি.এম হায়দার (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর) সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ (বীর উত্তম) (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) এলাকা : কুমিল্লা জেলার অংশ, ঢাকা জেলা ও ফরিদপুর জেলার অংশ। এই সেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল ছয়টি। সেক্টর ট্রুপস্ ছিল ৪,০০০ সৈন্য এবং গেরিলা ছিল ৩০,০০০। ৩নং সেক্টর সেক্টর কমান্ডার মেজর কে.এম. শফিউল্লাহ (বীর উত্তম) (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর), সেক্টর কমান্ডার মেজর এ.এন.এম নুরুজ্জামান (বীর উত্তম) (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর) এলাকা : কুমিল্লা জেলার অংশ, ময়মনসিংহ জেলার অংশ, ঢাকা ও সিলেট জেলার অংশ। সাব-সেক্টর ছিল সাতটি। সেক্টর ট্রুপস্ ছিল ৬৬৯৩ সৈন্য এবং গেরিলা ছিল ২৫,০০০। ৪নং সেক্টর সেক্টর কমান্ডার মেজর জে: চিত্তরঞ্জন দত্ত (বীর উত্তম) এলাকা : সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল এবং খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন বাদে পূর্ব ও উত্তর দিকে সিলেট-ডাউকি সড়ক পর্যন্ত। এই সেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল ছয়টি। সেক্টর ট্রুপস্ ছিল ৯৭৫ সৈন্য এবং গেরিলা ছিল ৯,০০০। ৫নং সেক্টর সেক্টর কমান্ডার মেজর মীর শওকত আলী (বীর উত্তম) এলাকা : সিলেট-ডাউকি সড়ক থেকে সিলেট জেলার সমগ্র উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল ও ময়মনসিংহ জেলার অংশ। এই সেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল ছয়টি। সেক্টর ট্রুপস্ ছিল ১৯৩৬ সৈন্য এবং গেরিলা ছিল ৯,০০০। ৬নং সেক্টর উইং কান্ডার খাদেমুল বাশার এলাকা : সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা। এই সেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল পাঁচটি। সেক্টর ট্রুপস্ ছিল ২৩১০ সৈন্য এবং গেরিলা ছিল ১১,০০০। ৭নং সেক্টর সেক্টর কমান্ডার মেজর নাজমুল হক ( অগাস্ট পর্যন্ত ) সেক্টর কমান্ডার মেজর কাজী নুরুজ্জামান (বীর উত্তম) এলাকা : রংপুর জেলার অংশ, রাজশাহী জেলার অংশ, পাবনা জেলার অংশ ও দিনাজপুর জেলার অংশ, বগুড়া জেলা। এই সেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল নয়টি। সেক্টর ট্রুপস্ ছিল ২৩১০ সৈন্য এবং গেরিলা ছিল ১২,৫০০। ৮নং সেক্টর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল- আগস্ট), সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ মুঞ্জুর (বীর উত্তম) (আগস্ট-ডিসেম্বর) এলাকা : যশোর জেলা, ফরিদপুর জেলা, কুষ্টিয়া জেলা, খুলনা ও বরিশাল জেলার অংশ। এই সেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল সাতটি। সেক্টর ট্রুপস্ ছিল ৩৩১১ সৈন্য এবং গেরিলা ছিল ৮,০০০। ৯নং সেক্টর সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ জলিল মিঞা (এপ্রিল-ডিসেম্বর প্রথমার্ধ), সেক্টর কমান্ডার মেজর জয়নুল আবেদীন ( ডিসেম্বর এর অবশিষ্ট দিন) (ছবি সংগ্রহ করতে পারিনি।) এলাকা : দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক থেকে খুলনার দক্ষিনাঞ্চল এবং সমগ্র বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা। এই সেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল তিনটি। সেক্টর ট্রুপস্ ছিল ৩৩১১ সৈন্য এবং গেরিলা ছিল ৮,০০০। ১০নং সেক্টর কর্নেল মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী (সর্বাধিনায়ক ও প্রধান সেনাপতি মুক্তিবাহিনী) এলাকা : প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণে (নৌ সেক্টর) সমগ্র বাংলাদেশ। এই সেক্টরটি গঠিত হয়েছিল নৌ-কমান্ডোদের দিয়ে। বিভিন্ন নদী বন্দর ও শক্র পক্ষের নৌ-যানগুলোতে অভিযান চালানোর জন্য এঁদের বিভিন্ন সেক্টরে পাঠানো হতো। যে সেক্টর এলাকায় কমান্ডো অভিযান চালানো হতো, কমান্ডোরা সেই সেক্টর কমান্ডারের অধীনে কাজ করত। নৌ-অভিযান শেষে তারা আবার তাদের মূল সেক্টর- ১০ নম্বর সেক্টরের আওতায় চলে আসত। নৌ-কমান্ডোর সংখ্যা ছিল ৫১৫ জন। ১১নং সেক্টর সেক্টর কমান্ডার মেজর আবু তাহের (বীর উত্তম) (আগস্ট-নভেম্বর), সেক্টর কমান্ডার স্কেয়াড্রন লিডার হামিদুল্লাহ (নভেম্বর-ডিসেম্বর) এলাকা : কিশোরগঞ্জ মহকুমা বাদে সমগ্র ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা এবং নগরবাড়ি-আরিচা থকে ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত যমুনা নদী ও তীর অঞ্চল। এই সেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল সাতটি। সেক্টর ট্রুপস্ ছিল ২৩১০ সৈন্য এবং গেরিলা ছিল ২৫,০০০। টাংগাইল সেক্টর কাদের সিদ্দিকী। এলাকা : সমগ্র টাংগাইল জেলা ছাড়াও ময়মনসিংহ ও ঢাকা জেলার অংশ আকাশ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার এলাকা: বাংলাদেশের সমগ্র আকাশসীমা তথ্য সূত্র : সেক্টর কমান্ডারর্স ফোরাম গুণীজন উইকি গুগল এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের ঝিঁঝি পোকার বাগানে নিমন্ত্রণ।

Wednesday, October 19, 2011

উইপোকা || বিন্দু এনায়েত

ছোট্ট একটি পোকা। কত ছোট? এক ইঞ্চির মাত্র দশ ভাগের এক ভাগ তার আয়তন। কিন্তু এ পোকাটির অত্যাচারে সব সময় মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত থাকে। পোকাটার শরীর খুবই নরম। শরীরে কোনো শক্ত খোলস নেই, পশমও নেই। অথচ সে মানুষের আসবাবপত্র, কাপড় আর কাগজপত্র কেটেকুটে নিঃশেষ করে দেয়। সেটা কোন পোকা? খুবই পরিচিত পোকা, ওটার নাম উই (ঞবত্সরঃব)। মানে আমাদের পরিচিত উইপোকা।
সবারই জানা আছে মাটির ঢিবি, গাছের বাকলের আড়াল বা ঝাড়জঙ্গলের স্যাঁতসেঁতে জায়গায় উইপোকা বসবাস করে। মানুষের বাড়ির আসবাবপত্র, বাথরুম বা ইটের ফাঁকেও খুব আনন্দে ঘর-সংসার বাঁধে এরা; আর মজা করে মানুষের কাগজপত্র, জামা-কাপড়ের দফারফা করে ছাড়ে।
উইপোকার বসবাস কখনও এককভাবে হয় না। এরা দলে দলে একসঙ্গে বাস করে। আর সে সংখ্যাও হয় হাজারের ওপর। উইদের ঢিবিতে মাত্র একটি রানী উইপোকা থাকে। ওটা কিন্তু সাধারণ উইয়ের চেয়ে বড়ো হয়। রানী উইপোকার আয়তন হয় এক ইঞ্চি বা তার চেয়েও বড়ো। এদের পেট ভরা থাকে শুধু ডিম আর ডিম। প্রতিদিনই প্রায় ডিম পাড়ে রানী। সেই ডিমের সংখ্যা কত শুনবে? একটি রানী উইপোকা প্রতিদিন অন্তত ৬০ হাজার ডিম পাড়ে। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে মানুষ তাদের ভয় পাবে না কেন?
সূত্র : আমার দেশ

জানা !! আবার অজানাও হতে পারে ১১

বিচিত্র দুনিয়াতে রয়েছে বিচিত্র সব তথ্য আর জানা-অজানা নানান কথা। কিছু আমাদের জানা আর বাকি কিছু অন্যদের জানা। জানা-অজানা সেই সব তথ্যের ভিন্ন রকম উপস্থাপনার ছোট্ট এই প্রচেষ্টা.....

জানা !! আবার অজানাও হতে পারে ১১

লবণ

পৃথিবীর সব সাগরে যে পরিমাণ লবণ আছে তা দিয়ে পৃথিবীকে ৫০০ ফুট পুরু লবণের স্তূপ দিয়ে ঢেকে ফেলা যাবে।


কে-টু পাহাড়

সমুদ্র সমতল থেকে হিসেব করলে পৃথিবীর দ্বিতীয় সবোর্চ্চ শৃঙ্গ পাকিস্তান ও চীন সীমান্তের কে-টু পাহাড়। এর উচ্চতা ২৮ হাজার ২৫১ ফুট (৮ হাজার ৬১১ মিটার)।


বাঁশ

সবচেয়ে লম্বা ঘাসের নাম জানো? বাঁশ। এই ঘাস লম্বায় ১৩০ ফুটও হতে পারে।


নেপোলিয়ন

নেপোলিয়ন বিড়ালকে বেশি ভয় পেত।


চা বাগান

দেশে প্রথম চা বাগান করা হয় সিলেটের মালনীছড়িতে।


কনসার্ট ফর বাংলাদেশ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের শরণার্থীদের সহযোগিতার উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যে আয়োজিত কনসার্ট ফর বাংলাদেশ কনসার্ট ও অন্যান্য অনুষঙ্গ হতে প্রাপ্ত অর্থ সাহায্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৪৩,৪১৮.৫১ মার্কিন ডলার।



চুল

একজন মানুষের মাথার চুলে ধোয়া, ব্রাশ করা বা আঁচড়ানোর কারণে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ১৫০টি পড়ে যায়।


জানা!! আবার অজানাও হতে পারে ১ম পর্ব, ২য় পর্ব, ৩য় পর্ব , ৪র্থ পর্ব , ৫ম পর্ব , ৬ষ্ঠ পর্ব, ৭ম পর্ব, ৮ম পর্ব, ৯ম পর্ব, ১০ম পর্ব,


এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের ঝিঁঝি পোকার বাগানে নিমন্ত্রণ।

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ