প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label প্রেমের কবিতা. Show all posts
Showing posts with label প্রেমের কবিতা. Show all posts

Thursday, October 11, 2012

বিশ্বাসের টাইটানিক ডুবে গেছে গত মধ্যরাতে | জিয়া রহমান


আমার বিশ্বাসের টাইটানিক ডুবে গেছে গত মধ্যরাতে
তাই আজ ভালবাসা অর্থহীন,
তোমার প্রেমোদ্যানে আজ ভিসুবিয়াসের সসার
তাই আজ ভালবাসা সঙ্গহীন।

ভালবাসা যদি মানুষকে দ্বিজ করেই সাজায়
তবে সে' ভালবাসা অন্তত তোমার নয়
তোমাকে ভালবেসে জীবন্মৃত হওয়া যায়
দ্বিজ হতে চাওয়া কেবলই প্রগলভতা
ভালবাসা কতটা আত্মঘাতি হতে পারে
অনুভূতিতে জিঘাংসার স্রোত কিভাবে হয় প্রবাহিত
তুমি তার কিছুমাত্র বোঝ না
অথচ আমাকে বুঝিয়ে তার পূর্ণতা দিলে।
আমার স্পর্শের নিবিড়তা মুছে গেছে
তাই আজ ভালবাসা ছন্নছাড়া,
তোমার শরীরে আজ পঙ্কিলতার আভাস
তাই আজ ভালবাসা বাস্তূহারা।

তোমাকে অস্থিরতার সুপেয় জলাশয় ভেবে
আমি যে জল টেনে নিয়েছিলাম বুকে
তোমার প্রস্থানে অকস্মাত্ চোখে পড়ে-
ওটা জল নয়, সায়ানাইডের ভারী সিরাপ
আমার চোখ, মুখ, ঠোঁট ঠুকরে খায়
তোমার দুর্বিনীত অবহেলার দাঁতালো হাঙর
আমার রসনার উপর ধীরলয়ে হেঁটে চলে
পতঙ্গের মিছিল- আমি অসাড়।
আমার প্রতীক্ষার প্রহরগুলো নির্বাসনে গেছে
তাই আজ ভালবাসা বিষাক্ত-কবিতা,
তোমার চোখে আজ বদলে-যাওয়া কাজল
তাই আজ ভালবাসা বিশ্বস্ত ভণিতা।।

Sunday, September 23, 2012

অতঃপর আমি | জিয়া রহমান




তোমার সমৃদ্ধ পাঁজর হতে ছুড়ে দেয়া ভালবাসা
আমি তোমার দুরভিসন্ধি চক্রান্ত ভেবেছিলাম
আমার একঘেয়ে একপেশে জীবনের দিকে তাক করা
ভালবাসার সনির্বন্ধতায় কপট দৃষ্টি ফেলেছিলাম
তোমার ভালবাসা তাই অধরাই থেকে গেছে ।

আমি স্বস্তির চাদরে অনুভূতিকে ঘুম পাড়িয়েছি
তোমার ভালবাসাকে ছড়িয়ে দিয়েছি
প্রথমত: চিরশূণ্য বাতাসে
ভেবেছি, বাতাসে বাতাসে তোমার স্পর্শ নিয়ে ঘুরে বেড়াব
বোঝাবো তোমাকে, ভালবাসা ছোঁয়া যায় না
এরপর তোমার ভালবাসাকে ছুড়েছি-
সমুদ্রের দিকে, অরণ্যের দিকে, নক্ষত্রের দিকে ।
একদিন সবিস্ময়ে হতাশ ও অবসন্ন হলাম !
দেখি, সবাই তোমার ভালবাসার অতি-অনাথ ভিক্ষুক হয়ে আছে !!
তোমার সামান্য মুখরতাহীন অলস প্রহরে
মাঝপথে আটকে দেয় সমুদ্র তার বুকের ঢেউ
অরণ্য মেলে ধরে না সবুজ আর
নক্ষত্রেরা অজ্ঞাতে হারিয়ে যায় ক্লান্ত শরীরে ।

অত:পর আমি, ভালবাসার নির্জলা তাপস হয়ে যাই ।
ছুড়ে দেয়া ভালবাসা খুঁজে তছনছ করি
পৃথিবীর মত সহস্র কোটি ব্রহ্মাণ্ড,
আমি ভালবাসা ছুঁতে পারি না ।। 



Thursday, July 26, 2012

সোনালি আর ডালিয়া | আব্দুল মান্নান সৈয়দ

সোনালির সঙ্গে ডালিয়ার দেখা হয়ে গেল একদিন।
ডালিয়াকে জড়িয়ে ধরল সোনালি।
ডালিয়া বলল—আপনি কে?
সোনালি বলল—আমি সোনালি।
কত নাম শুনেছি তোমার।
তোমাকে তো দেখামাত্র চিনে ফেললাম।
ডালিয়া বলল—কার কাছে নাম শুনেছেন আপনি?
নাম বলল সোনালি।
ছায়া নামল ডালিয়ার দুধের মতো ফরসা মুখমণ্ডলে।
বলল শুধু—ও।
সোনালি বলে—মুখ কালো হয়ে গেল কেন তোমার?
উনি সারাক্ষণই তোমার কথা বলেন।
ম্লান মুখে ডালিয়া বলল—
সে-সব কথা ভুলে গেছি আমি।
আমার কথা বলে লাভ আছে আর?
সোনালির উত্তর—সে-কথা আমিও বলি।
কবিতা লিখে কী হবে?
জীবনে তো…
তারপরই সোনালি বলে—
ওনার আসল কে, চেনো না তুমি।
—কে?—
সোনালি হাসতে থাকে।
—তুমি আমি কেউ না। তার নাম কবিতা।
—কে মেয়েটা?
সোনালি বলে—চলো, কোথাও বসি।
কফি খেতে খেতে তোমাকে বলছি সব।

কেউ কথা রাখেনি | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি
ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিল
শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে
তারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো, কিন্তু সেই বোষ্টুমী
আর এলোনা
পঁচিশ বছর প্রতিক্ষায় আছি।

মামা বাড়ির মাঝি নাদের আলী বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুর
তোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবো
সেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভ্রমর
খেলা করে!
নাদের আলী, আমি আর কত বড় হবো? আমার মাথা এ ঘরের ছাদ
ফুঁড়ে আকাশ স্পর্শ করলে তারপর তুমি আমায়
তিন প্রহরের বিল দেখাবে?

একটাও রয়্যাল গুলি কিনতে পারিনি কখনো
লাঠি-লজেন্স দেখিয়ে দেখিয়ে চুষেছে লস্করবাড়ির ছেলেরা
ভিখারীর মতন চৌধুরীদের গেটে দাঁড়িয়ে দেখেছি
ভিতরে রাস-উৎসব
অবিরল রঙের ধারার মধ্যে সুবর্ণ কঙ্কণ পরা ফর্সা রমণীরা
কত রকম আমোদে হেসেছে
আমার দিকে তারা ফিরেও চায়নি!
বাবা আমার কাঁধ ছুঁয়ে বলেছিলেন, দেখিস, একদিন, আমরাও…
বাবা এখন অন্ধ, আমাদের দেখা হয়নি কিছুই
সেই রয়্যাল গুলি, সেই লাঠি-লজেন্স, সেই রাস-উৎসব
আমায় কেউ ফিরিয়ে দেবেনা!

বুকের মধ্যে সুগন্ধি রুমাল রেখে বরুণা বলেছিল,
যেদিন আমায় সত্যিকারের ভালবাসবে
সেদিন আমার বুকেও এ-রকম আতরের গন্ধ হবে!
ভালোবাসার জন্য আমি হাতের মুঠেয়ে প্রাণ নিয়েছি
দূরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছি লাল কাপড়
বিশ্বসংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছি ১০৮টা নীল পদ্ম
তবু কথা রাখেনি বরুণা, এখন তার বুকে শুধুই মাংসের গন্ধ
এখনো সে যে-কোনো নারী।
কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটল, কেউ কথা রাখে না!

Wednesday, January 18, 2012

তোমার চোখ এতো লাল কেন || নির্মলেন্দু গুণ

আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করুক,
শুধু ঘরের ভেতর থেকে দরজা খুলে দেবার জন্য।
বাইরে থেকে দরজা খুলতে খুলতে আমি এখন ক্লান্ত।

আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ আমাকে খেতে দিক। আমি হাতপাখা নিয়ে
কাউকে আমার পাশে বসে থাকতে বলছি না,
আমি জানি, এই ইলেকট্রিকের যুগ
নারীকে মুক্তি দিয়েছে স্বামী -সেবার দায় থেকে।
আমি চাই কেউ একজন জিজ্ঞেস করুক:
আমার জল লাগবে কি না, নুন লাগবে কি না,
পাটশাক ভাজার সংঙ্গে আরও একটা
তেলে ভাজা শুকনো মরিচ লাগবে কি না।
এঁটো বাসন, গেঞ্জি-রুমাল আমি নিজেই ধুতে পারি।

আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ একজন ভিতর থেকে আমার ঘরের দরজা
খুলে দিক। কেউ আমাকে কিছু খেতে বলুক।
কাম-বাসনার সঙ্গী না হোক, কেউ অন্তত আমাকে
জিজ্ঞেস করুক: 'তোমার চোখ এতো লাল কেন?'

Friday, November 18, 2011

হিম হিম মাঝ রাতে | জহির রহমান

জহির রহমান

ঘড়ির কাটা এখন মাঝ রাতে
সবাই ঘুমাচ্ছে লেপের উষ্ণতায়
আমার চোখে ঘুম নেই
হিম হিম মাঝ রাতে।
জোসনা মাখা সবুজ বন
জোনাকীর উড়াউড়ি আর-
দূরের আকাশে নিপ্তি
জ্বলে থাকা মিটি মিটি তারা।
এই হিম শীতেও আমি নির্বিকার
কোন উষ্ণতাতেই আমার রুচি নেই!
অদূরে দাঁড়িয়ে জারুল গাছ
আমার মতই জেগে
ডালে বাসা বাঁধা পাখিটিও জেগে ;
কুয়াশায় ভিজে জারুলের ডাল মাড়িয়ে
গড়িয়ে পড়ছে অশ্র" ফোটা
তবে কি ছেড়ে গেছো গাছটিকেও
যেভাবে ছেড়ে গেছো আমায়!
১১/১১/২০১১ইং

Tuesday, October 25, 2011

জীবনানন্দ দাশের 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ থেকে

১৫.
যদি আমি ঝ’রে যাই একদিন কার্তিকের নীল কুয়াশায়
যখন ঝরিছে ধান বাংলার খেতে-খেতে ম্লান চোখ বুজে
যখন চড়াই পাখি কাঁঠালিচাঁপার নীড়ে ঠোঁট আছে গুঁজে
যখন হলুদ পাতা মিশিতেছে উঠানের খয়েরি পাতায়
যখন পুকুরে হাঁস সোঁদাজলে শিশিরের গন্ধ শুধু পায়
শামুক গুগলিগুলো প’ড়ে আছে শ্যাওলার মলিন সবুজে
তখন আমারে যদি পাও নাকো লালশাক ছাওয়া মাঠে খুঁজে
ঠেস দিয়ে ব’সে আর থাকি নাকো যদি বুনো চালতার গায়

তাহলে জানিও তুমি আসিয়াছে অন্ধকারে মৃত্যুর আহ্বান
যার ডাক শুনে রাঙা রৌদ্রেরো চিল আর শালিখের ভিড়
একদিন ছেড়ে যাবে আম জাম বনে নীল বাংলার তীর
যার ডাক শুনে আজ খেতে-খেতে ঝরিতেছে খই আর মৌরীর ধান
কবে যে আসিবে মৃত্যু : বাসমতী চালে ভেজা শাদা হাতখান
রাখো বুকে, হে কিশোরী, গোরচনারূপে আমি করিবো যে স্নান—

১৬.
মনে হয় একদিন আকাশের শুকতারা দেখিবো না আর
দেখিবো না হেলেঞ্চার ঝোপ থেকে একঝাড় জোনাকি কখন
নিভে যায়—দেখিবো না আর আমি পরিচিত এই বাঁশবন
শুকনো বাঁশের পাতা-ছাওয়া মাটি হ’য়ে যাবে গভীর আঁধার
আমার চোখের কাছে—লক্ষ্মীপূর্ণিমার রাতে সে কবে আবার
পেঁচা ডাকে জ্যোত্স্নায়—হিজলের বাঁকা ডাল করে গুঞ্জরণ
সারারাত কিশোরীর লালপাড় চাঁদে ভাসে—হাতের কাঁকন
বেজে ওঠে : বুঝি না—গঙ্গাজল, নারকোলনাড়ুগুলো তার

জানি না সে কারে দেবে—জানি না সে চিনি আর শাদা তালশাঁস
হাতে ল’য়ে পলাশের দিকে চেয়ে দুয়ারে দাঁড়ায়ে রবে কি না...
আবার কাহার সাথে ভালোবাসা হবে তার—আমি তা জানি না
মৃত্যুরে কে মনে রাখে?... কীর্তিনাশা খুঁড়ে খুঁড়ে চলে বারোমাস
নতুন ডাঙার দিকে—পিছনের অবিরল মৃত চর বিনা
দিন তার কেটে যায়—শুকতারা নিভে গেলে কাঁদে কি আকাশ?

তোমাকে || জীবনানন্দ দাশ

একদিন মনে হ’তো জলের মতন তুমি।
সকালবেলার রোদে তোমার মুখের থেকে বিভা—
অথবা দুপুরবেলা—বিকেলের আসন্ন আলোয়—
চেয়ে আছে—চ’লে যায়—জলের প্রতিভা।

মনে হ’তো তীরের উপরে ব’সে থেকে।
আবিষ্ট পুকুর থেকে সিঙাড়ার ফল
কেউ কেউ তুলে নিয়ে চ’লে গেলে-নিচে
তোমার মুখের মতন অবিকল

নির্জন জলের রং তাকায়ে রয়েছে;
স্থানান্তরিত হ’য়ে দিবসের আলোর ভিতরে
নিজের মুখের ঠাণ্ডা জলরেখা নিয়ে
পুনরায় শ্যাম পরগাছা সৃষ্টি করে;

এক পৃথিবীর রক্ত নিপতিত হ’য়ে গেছে জেনে
এক পৃথিবীর আলো সবদিকে নিভে যায় ব’লে
রঙিন সাপকে তার বুকের ভিতরে টেনে নেয় :
অপরাহ্নে আকাশের রং ফিকে হ’লে।

তোমার বুকের ’পরে আমাদের পৃথিবীর অমোঘ সকাল;
তোমার বুকের ’পরে আমাদের বিকেলের রক্তিম বিন্যাস;
তোমার বুকের ’পরে আমাদের পৃথিবীর রাত :
নদীর সাপিনী, লতা, বিলীন বিশ্বাস।

সবিতা || জীবনানন্দ দাশ

সবিতা, মানুষজন্ম আমরা পেয়েছি
মনে হয় কোনো এক বসন্তের রাতে:
ভূমধ্যসাগর ঘিরে যেইসব জাতি,
তাহাদের সাথে
সিন্ধুর আঁধার পথে করেছি গুঞ্জন;
মনে পড়ে নিবিড় মেরুন আলো, মুক্তার শিকারী,
রেশম, মদের সার্থবাহ,
দুধের মতন শাদা নারী।

অনন্ত রৌদ্রের থেকে তারা
শাশ্বত রাত্রির দিকে তবে
সহসা বিকেলবেলা শেষ হ’য়ে গেলে
চ’লে যেতো কেমন নীরবে।
চারিদিকে ছায়া ঘুম সপ্তর্ষি নক্ষত্র;
মধ্যযুগের অবসান
স্থির ক’রে দিতে গিয়ে ইওরোপ গ্রিস
হতেছে উজ্জ্বল খ্রিস্টান।

তবুও অতীত থেকে উঠে এসে তুমি আমি ওরা—
সিন্ধুর রাত্রির জল জানে—
আধেক যেতাম নব পৃথিবীর দিকে;
কেমন অনন্যোপায় হাওয়ার আহ্বানে
আমরা অকূল হ’য়ে উঠে
মানুষকে মানুষের প্রয়াসকে শ্রদ্ধা করা হবে
জেনে তবু পৃথিবীর মৃত সভ্যতায়
যেতাম তো সাগরের স্নিগ্ধ কলরবে।

এখন অপর আলো পৃথিবীতে জ্বলে :
কী এক অপব্যয়ী অক্লান্ত আগুন!
তোমার নিবিড় কালো চুলের ভিতরে
কবেকার সমুদ্রের নুন;
তোমার মুখের রেখা আজো
মৃত কতো পৌত্তলিক খ্রিস্টান সিন্ধুর
অন্ধকার থেকে এসে নব সূর্যে জাগার মতন;
কতো কাছে—তবু কতো দূর।

বুনো হাঁস || জীবনানন্দ দাশ

পেঁচার ধূসর পাখা উড়ে যায় নক্ষত্রের পানে—
জলা মাঠ ছেড়ে দিয়ে চাঁদের আহ্বানে
বুনো হাঁস পাখা মেলে—সাঁই-সাঁই শব্দ শুনি তার;
এক-দুই-তিন-চার অজস্র-অপার—

রাত্রির কিনার দিয়ে তাহাদের ক্ষিপ্র ডানা ঝাড়া
এঞ্জিনের মতো শব্দে; ছুটিতেছে—ছুটিতেছে তা’রা।
তারপর প’ড়ে থাকে নক্ষত্রের বিশাল আকাশ,
হাঁসের গায়ের ঘ্রাণ—দু-একটা কল্পনার হাঁস;

মনে পড়ে কবেকার পাড়াগাঁর অরুণিমা সান্যালের মুখ;
উড়ুক-উড়ুক তা’রা পউষের জ্যোত্স্নায় নীরবে উড়ুক
কল্পনার হাঁস সব; পৃথিবীর সব ধ্বনি সব রং মুছে গেলে পর
উড়ুক উড়ুক তা’রা হৃদয়ের শব্দহীন জ্যোত্স্নার ভিতর।

Monday, October 3, 2011

প্রকৃতি ও পুরুষ || আল মাহমুদ

এখন কোথায় তুমি? নামে জল, হে স্পষ্টভাষিণী
হাওয়া তার কথা রাখে, শপথ ভাঙে না কোনো ঋতু;
ঝিঁঝির ঝঙ্কার বলে, বলো দেখি, আমি কি আসিনি?
কেয়ার কাটার ফাঁকে ফোটে ফুল : তুমি ভীতু, তুমি শুধু ভীতু।

স্মৃতির চিরুনিখানি পড়ে আছে পুরুষের দর্পণের পাশে
তাতে কোনো চিহ্ন লাগে? ছিন্ন কেশ, দেখো কার কেশ?
প্রজাপতি ভেঙে গিয়ে জলো, হিংস্র, দর্পিত বাতাসে
উড়ে আসে; আর তুমি, তুমি ভাঙো তোমারি আদেশ?

গন্ধ ও জলের দাগে ভরে আছো কী করে দেয়াল?
প্রশ্ন করে চেয়ে দেখি ভাঙা সেই আতরের শিশি।
এখনও টেবিলে আছে। গন্ধ তবে বর্ণময়? নাকি গাঢ় লাল?

তুমি কি বাঙালি নও, ভূগোল অচেনা এক দিশী?
প্রকৃতি আমাকে শোষে মেদমাংসে, আমি তো কাদিনি,
রক্ত হয় বারিধারা, মজ্জা ঘাস, লো মিথ্যাবাদিনী।

Friday, September 23, 2011

আমূল প্রেমের কবিতা || ফারুক আহমেদ

বললাম, তোমার জন্য আমি যে কথাটা রেখে দিয়েছি তা দৈর্ঘ্যে
পুরো একপক্ষকাল আর বয়সে মাচুপিচুর সমবয়সী নিদেনপক্ষে।
তুমি বললে- হুঁ।
বললাম, তোমার জন্য আমি যে সকাল রেখে দিয়েছি তা নিখাদ শুভ্র-
সাদামেঘের নকশা, তাতে গাঁথা আছে পাপিয়ার পিউ কাহাঁ ডাক।
তুমি বললে- হুঁ।
বললাম, তোমার জন্য আমি যে বিকালটা রেখে দিয়েছি তা একমুখী
সূর্যের পুরো আলো তোমার মুখে এসে নতজানু হয়ে পড়ে থাকবে।
তুমি বললে- হুঁ।
বললাম, তোমার জন্য আমি যে মুহূর্তটা কেটে রেখেছি- তা নাতিশীতোষ্ণ
বৃষ্টিশেষে এ শহরে জেগে ওঠা তুলতুলে সময় থেকে আহরিত তা।
তুমি বললে-হুঁ।

বললাম, তোমার জন্য আমি যে জীবনটা রেখে দিয়েছি তা দোলনচাঁপারÑ
শ্বেত, ঘ্রাণময় এবং এতো ক্ষীণায়ু যে তা বাষ্পরুদ্ধ আনন্দ-বেদনায় ঢাকা।
তুমি এবার আর হুঁ বললে না। আমি দেখলাম একটু একটু করে বেড়ে
উঠছে তোমার চাহনি। একটু একটু করে ছড়িয়ে পড়ছে আমার উত্তেজনা।
তারপর তুমি তোমার চোখের পাতা থেকে একটি পাপড়ি ছিঁড়ে আমার
হাতে গুঁজে বললেÑ নাও। আমি দেখলাম কাশবনের উপর দিয়ে উড়ে

Sunday, September 18, 2011

তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয় || কাজী নজরুল ইসলাম

তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়
সেকি মোর অপরাধ?
চাঁদেরে হেরিয়া কাঁদে চকোরিণী
বলে না তো কিছু চাঁদ।।
চেয়ে’ চেয়ে’ দেখি ফোটে যবে ফুল
ফুল বলে না তো সে আমার ভুল
মেঘ হেরি’ ঝুরে’ চাতকিনী
মেঘ করে না তো প্রতিবাদ।
তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়
সেকি মোর অপরাধ?।
জানে সূর্যেরে পাবে না
তবু অবুঝ সূর্যমুখী
চেয়ে’ চেয়ে’ দেখে তার দেবতারে
দেখিয়াই সে যে সুখী।।
হেরিতে তোমার রূপ-মনোহর
পেয়েছি এ আঁখি, ওগো সুন্দর।
মিটিতে দাও হে প্রিয়তম মোর
নয়নের সেই সাধ।।
তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়
সেকি মোর অপরাধ?

Monday, September 12, 2011

এবারই প্রথম তুমি || নির্মলেন্দু গুণ

ভুলে যাও তুমি পূর্বেও ছিলে
মনে করো এই বিশ্ব নিখিলে
এবারই প্রথম তুমি৷

এর আগে তুমি কোথাও ছিলে না
ছিলে না আকাশে, নদী জলে ঘাসে
ছিলে না পাথরে ঝর্ণার পাশে৷
এবারই প্রথম তুমি৷

এর আগে তুমি কিছুতে ছিলে না৷
ফুলেও ছিলে না, ফলেও ছিলে না
নাকে মুখে চোখে চুলেও ছিলে না৷
এবারই প্রথম তুমি৷

এর আগে তুমি এখানে ছিলে না
এর আগে তুমি সেখানে ছিলে না
এর আগে তুমি কোথাও ছিলে না৷
এবারই প্রথম তুমি৷

রাতের পুণ্য লগনে ছিলে না
নীল নবঘন গগনে ছিলে না৷
এবারই প্রথম তুমি৷

এর আগে তুমি তুমিও ছিলে না৷
এবারই প্রথম তুমি৷

Wednesday, September 7, 2011

লিখব বলে

কাগজ কলম টেনে নিলাম
লিখব বলে কবিতা
চোখের সামনে ভেসে ওঠল
প্রিয় তোমার ছবিতা।
চুলগুলো সব উস্কুখুস্ক
চোখগুলো টান টান
ভালোবাসা চাইতে গেলাম
ভাঙল পুতুল খান খান।

Thursday, September 1, 2011

যেদিন চলে গেলে ।। জহির রহমান

মৃদ্যু হেসে যেদিন তুমি
সরিয়ে নিলে হাত
সেদিন থেকে স্বপ্নবিহিন
শূ্ণ্য কাল রাত
সেদিন থেকে ছন্নছাড়া
বিষন্ন সব ভোর
শূণ্য নদী মলিন আকাশ
নিশ্চুপ নিঃশোর
সেদিন থেকে ছায়ার সাথে
বন্ধ হলো কথা
কেন তুমি দিয়ে গেলে
হিয়া পূর্ণ ব্যাথা
যেদিন থেকে চলে গেলে
হাঁটি হাঁটি পায়
চেনাজানা সুরগুলো আর
বাজেনা যে হায় ।।

২২/০২/২০১১

অশ্রুসিক্ত বারতা

সান্তনার কোন ভাষা আমার জানা নেই
কষ্টে প্রাণ কাতর হলে
আপনার মাঝেই ডুব দেই
শরীরে জমিয়ে উঠে ক্লান্তির এক সমুদ্র
বরফ ফোঁটার মত গলে পড়ে অশ্রু
হৃদয়ের কোকড়ানো কান্নার শব্দ
ভেসে যায় নাকো দূরে
কেহ জানেনাতো
কিসে খাচ্ছে আমায় তিলে তিলে
তোমার দেওয়া কষ্ট গুলো
বুকের পাজঁর ভেঙ্গে দিচ্ছে বারেবার
তোমার দেওয়া স্মৃতি গুলো
থমকে দাঁড়ায়, ভাবায় আবার।

২২ ফেব্রুয়ারী ২০১১ইং

Wednesday, August 10, 2011

আমি যখন হারিয়ে যাবো ।। জহির রহমান

আমি যখন হারিয়ে যাবো
আমায় তুই ভাবিস না
আমার স্মৃতি মনে করে
মন খারাপ করিস না।
আমায় তুই ভুল করে
বুকে জড়াই ধরিস না
পিছলা পথে চলতে গিয়ে
পড়ে হাত- পা ভাঙ্গিস না।
তোর সর্বাঙ্গে যে রুপ
দিয়েছেন বিধাতা
সব ছেড়ে দিয় তুই
তার দিকে ফিরে যা।
আমায় তুই অযথা
আর পিছু ডাকিস না
আমার পথ আগলে তুই
আর কভূ দাঁড়াস না।
একা ছিলাম, একাই আছি
একাকীত্ব ভালোবাসি
আসছি একা, যাবও একা
কত আজীব হল দেখা।
ঝরাজীর্ণ অতীত ভুলে
বর্তমানকে সঙ্গী করে
চলে যাবো দুরের পানে
অচেনা কোন স্মৃতির টানে।
ভাল থাকিস, সুখে থাকিস
এইতো আমার আশা
কখনো তুই ভুলিস না'ক
আমার ভালোবাসা।
১১ আগষ্ট, ২০১১

Monday, June 20, 2011

রজনী মধুর স্মরণে ।। মনিরা চৌধুরী

কামিনি ফুটিছে বুঝি
আজ নিশীথে,
হল যামিনী বিভোর
তাই চন্দ্রসাথে।

তব বিহনে
যার হিয়া দহনে,
সুর কিযে জাগে তারই
ক্রন্দন কুজনে।

কামিনীর কাননে
ব্যাকুল যামিনী যাপনে
কার কেবলই বিধুর হিয়া
ডাকেরে পিয়া পিয়া,
দখিনা মলয় মাঝে বাজে কি বাশরীয়া
তাই শুনি শুনিয়া?

জাগে কি বিহনে তার
তব হিয়া মননে,
বিরাগ বেদন সাথে অনুরাগ লহরী
রজনী মধুর স্মরণে ?


Tuesday, May 17, 2011

এক পশলা বৃষ্টিতে ।। জহির রহমান


এক পশলা বৃষ্টিতে
ভিজিয়ে দিলো শহর
ক্লান্তিময়তা যত
কাটিয়ে প্রহর।
গ্রীষ্মের খরতাপের
তপ্তময় দুপুরে
মেঘের আড়ালে সূর্য হারায়
বৃষ্টি নামে ঝুপুরে।
এক পশলা বৃষ্টি
হয়ে গেল হৃদয়ে
মনেরি আঙ্গিনায় আছো তুমি
নীরালায় গোপনে।
ধরা ছোঁয়ার বাইরে
রাখবো তোমায়
সাজানো বাগানে
এ মনের আঙ্গিনায়।

মে ১৬, ২০১১

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ