প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label অগ্নিঝরা মার্চের দিনলিপি. Show all posts
Showing posts with label অগ্নিঝরা মার্চের দিনলিপি. Show all posts

Tuesday, March 6, 2012

অগ্নিঝরা মার্চ-৭ : আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ

আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ— একাত্তরের এই দিনে এ দেশের মুক্তিকামী মানুষের প্রত্যাশাকে ধারণ করে রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো জনতার সামনে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান বজ্রকণ্ঠে উচ্চারণ করেন তার ঐতিহাসিক ঘোষণা—‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
একই সঙ্গে তিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া আহূত ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য চারটি দাবি উত্থাপন করেন। রেসকোর্স ময়দানে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষণাটি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। কিন্তু ওই সময় তার এই ভাষণই মুক্তিকামী মানুষকে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করে।
একাত্তরের ৭ মার্চ দুপুরের পর রেসকোর্স ময়দানে ছিল শুধু মানুষ আর মানুষ। লাঠি হাতে প্রতিবাদী মানুষ, শহরের মানুষ, গ্রামের মানুষ, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-গরিব, বৃদ্ধ-যুবা— সর্বস্তরের মানুষ। এর আগের ঘটনাপ্রবাহে সেদিনের জনসভাটি পরিণত হয় স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের মিলন মোহনায়।
এই দিনে শেখ মুজিব মাত্র ২০ মিনিটের ভাষণে পাকিস্তানি বাহিনীর সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকাতে যার যা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকার নির্দেশসহ এদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের প্রাণের দাবি উত্থাপন করেন। সেদিন প্রতিটি মিছিলেরই গন্তব্য ছিল রেসকোর্স ময়দান। পরাধীনতার দীর্ঘ প্রহর শেষে এমন একটি মাহেন্দ্রক্ষণের জন্যই যেন অধীর অপেক্ষায় ছিল পুরো জাতি।
এই ঐতিহাসিক ভাষণ ‘ঢাকা বেতার কেন্দ্র’ সম্প্রচার না করায় বাঙালি কর্মচারীরা এ দিন কাজ বন্ধ করে দেন। ফলে সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে টেলিভিশনে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ সম্প্রচার করা হলেও এ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা বেতার কেন্দ্রের কর্মচারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে। ফলে টেলিভিশনের অনুষ্ঠান সম্প্রচারও বন্ধ হয়ে যায়। গভীর রাতে ঢাকা বেতার কেন্দ্রের কর্মচারীদের সঙ্গে সামরিক কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ আলোচনার পর ৮ মার্চ (সোমবার) সকাল ৬টা হতে রেডিও সম্প্রচার শুরু এবং সাড়ে ৮টায় রেসকোর্সের বক্তৃতার পূর্ণ বিবরণী ঢাকাসহ দেশের সকল কেন্দ্র থেকে সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত হয়। অন্যদিকে ‘স্বাধীন বাংলার’ দাবিতে এদিন (৭ মার্চ ) ব্রিটেন প্রবাসী প্রায় ১০ হাজার বাঙালি লন্ডনস্থ পাকিস্তান হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষোভকারীরা শত শত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডসহ ‘ভুট্টোর বিচার চাই’ বলে সেম্লাগান দেয়।
দিনটি উপলক্ষে রাজধানীতে আজ আওয়ামী লীগের গণর্যালি অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল ৩টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানস্থ শিখা চিরন্তনের সামনে থেকে শুরু হয়ে এ গণর্যালিটি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হবে। বিরোধী দলের ১২ মার্চের ঢাকা চলো কর্মসূচির বিপরীতে শো-ডাউন করতে ক্ষমতাসীন দলের গুচ্ছ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ গণর্যালি অনুষ্ঠিত হবে। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ কর্মসূরি ডাক দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ কর্মসূচি উদ্বোধনের কথা রয়েছে। বিএনপির ঢাকা চলো কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে আজকের গণর্যালি ছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট আগামী ১১ মার্চ ঢাকায় মানববন্ধন ও ১৪ মার্চ জনসভা করবে। এছাড়া আগামী ৯ মার্চ জেলায় জেলায় ১৪ দলের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক বিবৃতিতে দলের পক্ষ থেকে গৃহীত এ কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য সংগঠনের সকল শাখাসহ আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী, সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান তার বাণীতে বলেন, “১৯৭১ সালের ৭ মার্চ স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তত্কালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উদ্দেশে বজ্রকন্ঠে যে ভাষণ প্রদান করেন তা বাঙালি জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে। এই ভাষণ ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ। এ ভাষণে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান আমলের ২৩ বছরের শোষণ ও বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরে ভবিষ্যত্ করণীয়, মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত আহ্বান জানান। ঐতিহাসিক সেই ভাষণ এদেশের জনগণকে বিপুল শক্তি ও সাহস যোগায় এবং মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে। এই ভাষণের ধারাবাহিকতায় ২৬শে মার্চ ১৯৭১ জাতির পিতা বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ মহান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। দীর্ঘ ন’মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি বহু কাঙ্ক্ষিত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে তাই ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্ব ও তাত্পর্য অপরিসীম। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ কেবল বাঙালি জাতিকে নয়, পৃথিবীর স্বাধীনতাকামী নিপীড়িত ও বঞ্চিত জনগণের আশার দিশারী হিসেবে পথ দেখাবে। বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণ আমাদের প্রেরণার চিরন্তন উত্স হয়ে থাকবে বলে আমার দৃঢ়বিশ্বাস”।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, “বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১ মার্চ থেকে সূচিত অসহযোগ আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ২৫ মার্চের কালোরাতে পাক হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়লে তিনি পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন”।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামাত অশুভ জোটের অসাংবিধানিক ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করার দৃঢ় প্রত্যয়ে প্রতিবারের ন্যায় এবারও সমগ্র জাতির সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ দিনটিকে স্মরণ ও পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সূত্র : আমার দেশ

Monday, March 5, 2012

অগ্নিঝরা মার্চ-৭ : ৭ মার্চের ভাষণের প্রতীক্ষা

৬ মার্চ মঙ্গলবার। একাত্তর সালের এদিনে সংগ্রামী বাংলা ছিল বিক্ষোভে উত্তাল জনসমুদ্র। অন্তহীন মিছিল-সমাবেশের দেশে পরিণত হয়েছিল সারা বাংলা। দিকে দিকে ছিল স্বাধিকারকামী জনতার দৃপ্ত পদচারণা। তাদের কণ্ঠে ছিল যেন সাগরের ক্ষুব্ধ গর্জন। এদিনেও দেশে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়। ৬ মার্চে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোর খবরেও বিক্ষুব্ধ জনতার ক্ষোভ আরও বাড়ে। বাংলাকে স্বাধীন করার সংকল্প তাদের মধ্যে দৃঢ় হয়ে ওঠে।
৬ মার্চ দুপুর ১টা ৫ মিনিটে রেডিও পাকিস্তানের জাতীয় অনুষ্ঠানে ইয়াহিয়া খান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। ভাষণে ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশন আহ্বানের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা হয়।
৬ মার্চ ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে সেনাবাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান ৭ কয়েদি আর আহত হন ৩০ জন। খুলনায় সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হন ১৮ জন আর আহত হন ৬৪ জন।
৬ মার্চে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোর খবরের মধ্যে স্বাধীনতার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহত হওয়ার খবরগুলোকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। এদিন (৬ মার্চ) দৈনিক ইত্তেফাক ৫ মার্চের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদের বিবৃতি ‘বাংলার বুকে এ গণহত্যা বন্ধ করো’ শিরোনামে প্রধান খবর হিসেবে ৬ কলামে প্রকাশ করে। এছাড়া ইত্তেফাক ‘টঙ্গীতে গুলিবর্ষণে ৪ জন নিহত, ২৫ জন আহত’, ‘শেখ মুজিব সকাশে আসগর খান’, ‘কল্পনার ফানুস-শেখ মুজিব, ‘শেখ মুজিবের ভাষণ রিলে করিতে হইবে-ঢাকা বেতার কেন্দ্রের প্রতি তোফায়েল আহমদ’ শিরোনামে ৫ মার্চের ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে। দৈনিক আজাদ এদিন ‘অন্যূন ৪ জন নিহত, ৩০ ব্যক্তি আহত : টঙ্গীতে গুলিবর্ষণ’ শিরোনামে প্রধান খবর হিসেবে ৮ কলামে প্রকাশ করে। আজাদে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত অন্য সংবাদগুলোর শিরোনাম ছিল—‘আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীনের বিবৃতি : বাংলার মানুষ স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে বাঁচিতে চায়’, ‘স্বাধিকার আন্দোলনের পঞ্চম দিবস : বাংলাদেশব্যাপী হরতাল’। আর সংবাদ এদিন ‘টঙ্গীতে শ্রমিকদের ওপর সেনাবাহিনীর গুলিতে ২ জন নিহত’ শিরোনামে প্রধান খবর হিসেবে ৮ কলামে প্রকাশ করে।
অন্যদিকে দিন যতই গড়াচ্ছিল, অসহযোগ আন্দোলনের গন্তব্যও তত স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপরও চাপ বাড়ছিল। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তিনি কী ভাষণ দেবেন তা শোনার জন্য সারাদেশ ও আন্তর্জাতিক মহল অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। ৭ মার্চের জনসভায় শেখ মুজিব কী ঘোষণা দেবেন তা ঠিক করতে তিনি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুসারে সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা করা হবে কিনা সেটাই ছিল প্রশ্ন।
সূত্র : আমার দেশ

Sunday, March 4, 2012

অগ্নিঝরা মার্চ-৫ : দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন, চট্টগ্রামে শহীদ হন ২২২ জন

৫ মার্চ। একাত্তরের এদিন ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনে ডাকা লাগাতার হরতাল ও বিক্ষোভে উত্তাল আরেকটি দিন। ১ মার্চ যে আন্দোলন শুরু হয়, গত চারদিনে তা ক্রমান্বয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাকিস্তানিদের শোষণ থেকে মুক্তি পেতে সব স্তরের মানুষ একাত্তরের ৫ মার্চ রাস্তায় নেমে আসেন। মার্চে আন্দোলন শুরুর পর থেকে প্রতিদিন পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ প্রাণ হারাতে থাকেন। কিন্তু কোনো মানুষ ভয়ে ঘরে ফিরে যাননি। বরং রাজপথে যত রক্ত ঝরেছে, আন্দোলন তত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্বাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনে গত ক’দিনে নিহতদের জন্য ৫ মার্চ সারাদেশের মসজিদ ও মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে আরও তীব্র হয়ে ওঠে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন পরিচালনা করার জন্য এদিন ঢাকায় একটি কন্ট্রোল রুম চালু হয়।
একাত্তরের এ দিনে হরতাল পালনকালে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে চট্টগ্রামে শহীদ হন ২২২ জন। টঙ্গীতে নিহত হন ৪ শ্রমিক, আহত হন আরও ১৮ জন। যশোরে মারা যান একজন। মুক্তির ঢেউ এদিন আছড়ে পড়েছিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেও। একদল স্বাধীনতাকামী মানুষ বেরিয়ে আসেন কারাগারের দেয়াল ভেঙে। দেয়াল ভাঙার সময় কারারক্ষীদের গুলিতে প্রাণ হারান ৭ জন; আহত হন আরও ৩০ জন। বেরিয়ে আসা ৩২৫ বন্দি চলে আসেন শহীদ মিনারে। যোগ দেন আন্দোলনরত জনতার সঙ্গে। টঙ্গীতে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে শ্রমিক নিহত হওয়ার প্রতিবাদে নিহত শ্রমিকদের লাশ নিয়ে রাজধানীতে মিছিল বের করা হয়। এদিন বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় চট্টগ্রামেও। চট্টগ্রামের মিছিলেও গুলি চালায় পাকিস্তানি সেনারা। এতে আহত হন তিনজন। টঙ্গী, চট্টগ্রাম ছাড়াও গুলিতে খুলনায় দুই, রাজশাহীতে একজন মৃত্যুবরণ করেন।
সংহতির ঘটনা ঘটে এদিন পশ্চিম পাকিস্তানেও। পাঞ্জাবিদের দ্বারা নিগৃহীত বেলুচিস্তানের ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ইয়াহিয়ার সিদ্ধান্তকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগণতান্ত্রিক বলে ঘোষণা করে। আন্দোলনে নিহতদের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয় পাকিস্তানের লাহোরে। সেখানের বিভিন্ন মসজিদে দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে সংহতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
অন্যদিকে ঢাকা শহর থেকে এদিন সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হয়। গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্বজনমত গঠনের লক্ষ্যে বিবৃতি দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ। আর নিউমার্কেটে মোজাফফর আহমদের সভাপতিত্বে ন্যাপ ওয়ালীর জনসভায় আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করা হয়। রাতে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আসগর খান আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তার ধানমন্ডির বাসভবনে দেখা করেন। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে যে ভাষণ দেবেন—তা সরাসরি সম্প্রচার করার জন্য ঢাকা বেতার কেন্দ্রের প্রতি আহ্বান জানান তোফায়েল আহমেদ।
সূত্র : আমার দেশ

Saturday, March 3, 2012

অগ্নিঝরা মার্চ-৩ : বদলে গেল রেডিও পাকিস্তানের নাম

আজ রক্তঝরা মার্চ মাসের ৪ তারিখ। একাত্তর সালের এ দিন ছিল গণবিক্ষোভে টালমাটাল আর অস্থির। একাত্তরে মার্চের দিন গড়াবার সঙ্গে স্বাধীনতার জন্য ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষার তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। অগ্নিঝরা মার্চের প্রতিটি দিনই নতুন ইতিহাসের জন্ম দেয়। সেই ইতিহাস প্রতিরোধের, প্রতিবাদের, অধিকার আদায়ে ইস্পাত দৃঢ়প্রত্যয়ের, প্রিয় মাতৃভূমিকে স্বাধীন দেশ হিসেবে পাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের প্রস্তুতির ইতিহাস।
একাত্তরের ৪ মার্চ স্বাধিকার আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে হরতাল পালিত হয় দেশব্যাপী। সারাবাংলায় সেদিন হরতাল ছিল অর্ধদিবস, ভোর ছয়টা থেকে বেলা দুটো পর্যন্ত। দেশজুড়ে চলছিল প্রতিবাদ, বিক্ষোভ। পশ্চিম পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিটি বাঙালি ছিলেন প্রতিবাদমুখর, সংগ্রামে-আন্দোলনে একাত্ম। একাত্তরের এ দিনে ঘটে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এদিন ‘রেডিও পাকিস্তান, ঢাকা’র নাম বদলে রাখা হয় ‘ঢাকা বেতার কেন্দ্র’। সেদিনের সেই ঘটনা চলমান আন্দোলনে যোগ করে নতুনমাত্রা। বীর বাঙালি ক্রমেই এগিয়ে যেতে থাকে দেশমাতৃকাকে ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের নিগড় থেকে মুক্ত করার চূড়ান্ত লড়াইয়ের দিকে।

Friday, March 2, 2012

অগ্নিঝরা মার্চ-৩: এদিন স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হয়

আজ স্বাধীনতার মাস মার্চের ৩ তারিখ। একাত্তর সালে এদিনটি ছিল রক্তঝরা। পাক সেনাদের গুলিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে একশ’ ব্যক্তির প্রাণহানি হয় এদিনে। ২ মার্চের গণহত্যার শোক ঘোষণা করা হয় এদিনে। গণহত্যার শোক দিবস আর অর্ধদিবস হরতালের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ৩ মার্চের দিনটি। একদিকে পাক সরকারের ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠকের আমন্ত্রণ, অন্যদিকে জনতার বিক্ষোভ, হরতাল, উত্তাল মিছিলে পাক সেনাদের
গুলির মধ্য দিয়ে কাটে এদিন। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী এদিনে নিন্দা ও ব্যঙ্গাত্মক টেলিগ্রাম পাঠান পাকিস্তানি শাসক ইয়াহিয়া খানের কাছে। এদিনে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন তত্কালীন ছাত্রনেতা শাজাহান সিরাজ।
একাত্তরের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের ঘোষণা দেয়ায় বড় ধরনের চক্রান্তের মুখোমুখি হয় পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ। মার্চের প্রথম দিন থেকেই খুব সতর্ক হয়ে ওঠে তারা। ২ মার্চ ওড়ানো হয় জাতীয় পতাকা। দেশজুড়ে উত্তাল বিক্ষোভ চলে।
এদিনে ঢাকার পল্টনের জনসভায় অহিংস আন্দোলনের ডাক দেন শেখ মুজিবুর রহমান। ছাত্রলীগ ও জাতীয় শ্রমিক লীগ আহূত এ সভায় স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন ছাত্রনেতা শাজাহান সিরাজ। এদিন সকাল থেকেই যথারীতি মিছিলের নগরী হয়ে ওঠে ঢাকা। শান্তিপূর্ণভাবে অর্ধদিবস হরতাল পালনের সঙ্গে সঙ্গে মিছিলে মিছিলে ঢেকে যায় পুরো নগরী। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে এদিন পার্লামেন্টারি গ্রুুপের ১২ জন নির্বাচিত নেতাকে ১০ মার্চ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান ইয়াহিয়া খান। শেখ মুজিবুর রহমান এ আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন। একই দিনে মওলানা ভাসানীর তীব্র নিন্দাসূচক ও ব্যঙ্গাত্মক টেলিগ্রাম পৌঁছে ইয়াহিয়ার কাছে।
নেতাদের বৈঠকের আমন্ত্রণের পাশাপাশি পাকিস্তানি বাহিনী জনগণের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রাখে এদিন। পাক সেনাদের গুলিতে এদিন ঢাকায় ২৫ আর চট্টগ্রামে ৭৫ জন নিহত হয়। দেশজুড়ে হতাহতের সংখ্যা ছিল দু’হাজারেরও বেশি। এ আক্রমণ স্বাধীনতার লক্ষ্যে আরও বড় ধরনের আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত করে তুলে ছিল গোটা জাতিকে। তারা ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ডাকের অপেক্ষা করতে থাকে।
সূত্র : আমার দেশ

Thursday, March 1, 2012

অগ্নিঝরা মার্চ-২ : একাত্তরের এই দিনে প্রথম ওড়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা

আজ ২ মার্চ। ১৯৭১ সালের এদিনে বিক্ষোভে উত্তাল ছিল ঢাকা। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কারফিউ ভঙ্গ করে দিন-রাত চলে আন্দোলন-বিক্ষোভ। বিক্ষোভে নির্বিচারে গুলি চালালে নিহত হন ২৩ জন দেশপ্রেমিক। এদিন প্রথম ওড়ানো হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা। ২ মার্চ সকাল থেকেই দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ ঢাকার রাজপথে অবস্থান নেয়। জনসমুদ্র হয়ে ওঠে রাজপথ। আর সব মিছিলের একটিই
লক্ষ্য—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের ডাকে এক বিশাল ছাত্রসমাবেশ ছিল সব আয়োজনের কেন্দ্র। সকাল ১০টার মধ্যে এ সমাবেশে উপস্থিত হয় হাজার হাজার মানুষ। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অনুষ্ঠান শুরু হয়। এখানেই বেলা ১১টায় প্রথম উত্তোলিত হয় গাঢ় সবুজ জমিনের মাঝখানে লাল বৃত্তে অঙ্কিত মানচিত্র ‘স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা’। ডাকসুর তত্কালীন সহ-সভাপতি আ স ম আবদুর রব সংগ্রামী ছাত্রসমাজের পক্ষে প্রথম বাংলাদেশের মানচিত্রসহ স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
আর এরই মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় ছুটে এসে একজন জানান, ফার্মগেট এলাকায় গোলাগুলির কথা। বিক্ষোভ মিছিল বের হয় ক্যাম্পাস থেকে। বিকালে জনসভা অনুষ্ঠিত হয় বায়তুল মোকাররম ও পল্টন ময়দানে।
১ মার্চ বেতার ভাষণে ৩ মার্চের গণপরিষদের অধিবেশন অপ্রত্যাশিতভাবেই স্থগিত ঘোষণা করেন পাকিস্তানের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। এতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ছাত্র-জনতা। ইয়াহিয়া খানের বক্তব্যের প্রতিবাদেই মূলত ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১১টায় জমায়েত হয়।
২ মার্চ সন্ধ্যার পর হঠাত্ করেই পুরো শহরে কারফিউ জারির ঘোষণা দেয়া হয়। রাত ৯টা থেকে পরদিন ৩ মার্চ সকাল ৭টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করে সামরিক জান্তা এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কারফিউ জারি থাকবে বলে জানানো হয়।
বেতারে কারফিউ জারির ঘোষণা হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে লোকজন নেমে আসে রাস্তায়। ব্যারিকেড তৈরি করে কারফিউ ভেঙে গভীররাত পর্যন্ত মিছিল বের করে। হাজার মানুষের স্লোগান চূর্ণ করে দেয় রাতের নিস্তব্ধতা। বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় পাকসেনারা এবং সে রাতেই হত্যা করা হয় ২৩ জনকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকসেনাদের এমন বর্বর আচরণকে গণহত্যার সঙ্গে তুলনা করেন এবং ৩ মার্চ ‘জাতীয় শোক দিবস’ পালনের আহ্বান জানান।
সুত্র : আমার দেশ

Wednesday, February 29, 2012

অগ্নিঝরা মার্চ -১ : শুরু হলো স্বাধীনতার মাস বিদ্রোহী মার্চ (১মার্চ)

‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না...।’ বছর ঘুরে আবার ফিরে এলো রক্তঝরা মার্চ, স্বাধীনতার মাস। গত শতাব্দীর ১৯৭১ সালের মার্চে শুরু হয় স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত লড়াই—সশস্ত্র সংগ্রাম। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর লাল-সবুজ পতাকার দেশ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। বিশ্ব মানচিত্রে নতুন একটি দেশের অভ্যুদয় ঘটে অগণিত প্রাণের বিনিময়ে।
এদেশের শোষিত, নিপীড়িত, অধিকারবঞ্চিত মানুষ স্বাধিকারের জন্য লড়াই করে আসছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। মহান ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল জাতিসত্তার স্বরূপ অন্বেষার এক একটি মাইলফলক। সত্তরের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও তত্কালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা ষড়যন্ত্র ও টালবাহানা করছিল।
আজ থেকে ৪১ বছর আগে মার্চ মাসের এই দিনে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে কোনো স্বাধীন দেশের অস্তিত্ব ছিল না। তত্কালীন পাকিস্তানের পূর্ব অংশ অর্থাত্ পূর্ব পাকিস্তানের সাড়ে সাত কোটি বাঙালির মনে লালিত একটি স্বপ্ন, একটিমাত্র আকাঙ্ক্ষাই জাগ্রত ছিল—তা হলো পরিপূর্ণ স্বাধীনতা। দীর্ঘকাল ধরে চলতে থাকা নিগ্রহ, শোষণ, বঞ্চনা ও নিপীড়নের নাগপাশ ছিঁড়ে সগর্বে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর দুর্মর আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রবল।
১৯৭১ সালের ১ মার্চ পাকিস্তানি স্বৈরাচারী সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের নির্ধারিত অধিবেশন বাতিল করেন। এ অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল ৩ মার্চ। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ গোটা পাকিস্তানেই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। শেখ মুজিবের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার হীন, কূট ষড়যন্ত্র হিসেবে অধিবেশন বাতিলের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ ক্রোধে, ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, অধিকারহীন মানুষ ফেটে পড়ে বিক্ষোভে। অফিস-আদালত থেকে সব মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে এই ষড়যন্ত্রের তীব্র প্রতিবাদ করেন। স্লোগান ওঠে—বীর বাঙালি অস্ত্র ধর/বাংলাদেশ স্বাধীন কর।
ঐতিহাসিক ১ মার্চ থেকেই পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে অঘোষিত অসহযোগ শুরু হয়ে যায়। প্রতিবাদ-প্রতিরোধে ও লড়াইয়ের ইস্পাতকঠিন প্রত্যয়ে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠতে থাকে দেশ। একাত্তরের আগুনঝরা মার্চে বীর বাঙালি সেই যে ঘর থেকে বেরিয়েছিল, বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত, দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত আর ঘরে ফেরেনি। মুক্তিযুদ্ধে অগণিত প্রাণ উত্সর্গ করতে হয়েছে, অগণিত মা-বোনকে হারাতে হয়েছে সম্ভ্রম। আহত ও পঙ্গু হতে হয়েছে এদেশের অগণিত মানুষকে। লাখো মানুষের অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।
সূত্র : আমার দেশ

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ