প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label বিজ্ঞান. Show all posts
Showing posts with label বিজ্ঞান. Show all posts

Friday, September 14, 2012

উদ্ভিদের জন্ম ও মৃত্যুর কথা | আচার্য্য জগদীশচন্দ্র বসু

মৃত্তিকার নীচে অনেক দিন বীজ লুকাইয়া থাকে। মাসের পর মাস এইরূপ কাটিয়া গেল। শীতের পর বসন্ত আসিল। তারপর বর্ষার আরম্ভে দুই-এক দিন বৃষ্টি হইল। এখন আর লুকাইয়া থাকিবার প্রয়োজন নাই। বাহির হইতে কে যেন শিশুকে ডাকিয়া বলিতেছে, আর ঘুমাইয়ো না, উপরে উঠিয়া আইস, সূর্যের আলো দেখিবে। আস্তে আস্তে বীজের ঢাকনাটি খসিয়া পড়িল, দুইটি কোমল পাতার মধ্য হইতে অঙ্কুর বাহির হইল। অঙ্কুরের এক অংশ মাটি ভেদ করয়া উপরে উঠিল। তোমরা কি অঙ্কুর উঠিতে দেখিয়াছ? মনে হয় শিশুটি যেন ছোটো মাথা তুলিয়া আশ্চর্যের সহিত নতুন দেশ দেখিতেছে।
গাছের অঙ্কুর বাহির হইলে যে অংশ মাটির ভিতর প্রবেশ করে তাহার নাম মূল। আর যে অংশ উপরের দিকে বাহিরে থাকে, তাহাকে বলে কাণ্ড। সকল গাছের ‘মূল’ আর ‘কাণ্ড’ এই দুই ভাগ দেখিবে। এই এক আশ্চর্য কথা, গাছকে যেরূপেই রাখ, মূল নীচের দিকে ও কাণ্ড উপরের দিকে যাইবে। একটি টবে গাছ ছিল। পরীক্ষা করিবার জন্য কয়েকদিন ধরিয়া টবটিকে উল্টা করিয়া ঝুলাইয়া রাখিলাম। গাছের মাথা নীচের দিকে ঝুলিয়া রহিল। আর শিকড় উপরের দিকে রহিল। দুই-এক দিন পরে দেখিতে পাইলাম যে, গাছ যেন টের পাইয়াছে। তাহার সব ডালগুলি বাঁকা হইয়া উপরের দিকে উঠিল ও মূলটি ঘুরিয়া নীচের দিকে নামিয়া গেল। তোমরা অনেকে শীতকালে অনেক বার মূলা কাটিয়া শয়তা করিয়া থাকিবে। দেখিয়াছ, প্রথমে শয়তার পাতাগুলি ও ফুলেল নীচের দিকে থাকে। কিছুদিন পরে দেখিতে পাওয়া যায়, পাতা ও ফুলগুলি উপর দিকে উঠিয়াছে।
আমরা যেইরূপ আহার করি, গাছও সেইরূপ আহার করে। আমাদের দাঁত আছে, আমরা কঠিন জিনিষ খাইতে পারি। ছোট ছোট শিশুদের দাঁত নাই, তাহারা কেবল দুধ খায়। গাছেও দাঁত নাই, সুতরাং তাহারা কেবল জলীয় দ্রব্য কিংবা বাতাস হইতে আহার গ্রহণ করিতে থাকে। চিনিতে জল ঢালিলে চিনি গলিয়া যায়। মাটিতে জল ঢালিলে মাটির ভিতরের অনেক জিনিষ গলিয়া যায়। গাছ সেই সব জিনিষ আহার করে। গাছের গোড়ায় জল না দিলে গাছের আহার বন্ধ হইয়া যায় ও গাছ মরিয়া যায়। অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়া অতি ক্ষুদ্র-পদার্থ দেখিতে পাওয়া যায়। গাছের ডাল কিংবা মূল এই যন্ত্র দিয়া পরীক্ষা করিলে দেখা যায় যে, গাছের শরীরে রস প্রবেশ করে। এছাড়া গাছের পাতা বাতাস হইতে আহার সংগ্রহ করে। পাতার মধ্যে অনেকগুলি ছোট ছোট ঠোঁট দেখা যায়। যখন আহার করিবার আবশ্যক হয় না তখন ঠোঁট বুজিয়া যায়। আমরা যখন শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করি তখন প্রশ্বাসের সঙ্গে এক প্রকার বিষাক্ত বায়ু বাহির হইয়া যায়। তাহাকে অঙ্গারক বায়ু বলে। ইহা যদি পৃথিবীতে জমিতে থাকে তবে সকল জীবজন্তু অল্পদিনের মধ্যে এই বিষাক্ত বায়ু গ্রহণ করিয়া মরিয়া যাইতে পারে। বিধাতার করুণার কথা ভাবিয়া দেখ। যাহা জীবজন্তুর পক্ষে বিষ, গাছ তাহাই আহার করিয়া করিয়া বাতাস পরিষ্কার করিয়া দেয়। গাছের পাতার উপর যখন সূর্যের আলোক পড়ে, তখন পাতাগুলি সূর্যের তেজের সাহায্যে অঙ্গারক বায়ু হইতে অঙ্গার বাহির করিয়া লয়।
এই অঙ্গার গাছের শরীরে প্রবেশ করিয়া গাছকে বাড়াইতে থাকে। গাছেরা আলো চায়, আলো না হইলে ইহারা বাঁচিতে পারে না। গাছের সর্বপ্রধান চেষ্টা, কি করিয়া একটু আলো পাইবে। যদি জানালার কাছে টবে গাছ রাখ, তবে দেখিবে সমস্ত ডালগুলি অন্ধকার দিক ছাড়িয়া আলোর দিকে যাইতেছে। বনে যাইয়া দেখিবে গাছগুলি তাড়াতাড়ি মাথা তুলিয়া কে আগে আলোক পাইতে পারে, তাহার চেষ্টা করিতেছে। লতাগুলি ছায়াতে পড়িয়া থাকিলে আলোর অভাবে মরিয়া যাইবে। এই জন্য তাহারা গাছ জড়াইয়া ধরিয়া উপরের দিকে উঠিতে থাকে। 
সূত্র: আমার দেশ

Thursday, July 26, 2012

বিমান আবিষ্কারক দুই ভাই | শওকত হোসেন লিটু


আকাশে উড়ে বেড়াবার সাধ প্রায় প্রতিটি মানুষেরই ছিলো। কেউ কেউ নানাভাবে আকাশে উড়তে চেষ্টা করেছেনও। তবে সফল হননি তারা। কারণ কী করে, কোন প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে বাতাসের ওপর ভেসে থাকা যায়, তা তখনো জানতেন না তারা।
একটি কার্যক্ষম উড়তে সক্ষম বিমান কে আবিষ্কার করেছিলেন? না, তিনি কোনো একক ব্যক্তি নন। তারা ছিলেন আপন দুই ভাই উইলবার রাইট আর অরভিল রাইট। উইলবার রাইট জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৬৭ সালে। তিনি মারা যান ১৯১২ সালে। অরভিল রাইটের জন্ম ১৮৭১ সালের ১৯ আগস্ট। তিনি মারা যান ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি। আমেরিকার ডেটনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তারা। তাদের বাবা মিলটন রাইট ছিলেন হার্সভিল কলেজের অধ্যাপক। পরে হন ধর্মযাজক। মায়ের নাম ছিলো সুসান রাইট।
১৮৮৯ সালের ৪ জুলাই মা সুসান মারা যাবার পর উইলবার ও অরভিল রোজগারের দিকে মনোযোগ দেন। তারা একটি পুরনো ছাপাখানা কিনে প্রকাশনা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু মাত্র এক বছর পর ছাপাখানা বন্ধ করে সাইকেল বিক্রি ও মেরামতের কাজে লেগে যান। ব্যবসা ভালোই জমে ওঠে। হাতে আসে সচ্ছলভাবে চলার মতো টাকা-পয়সা।
এ সময় একটি খবর পরে অরভিল জানতে পারেন যে, লিলিয়েনথাল নামে এক জার্মান বিজ্ঞানী পাখির মতো ডানা বানিয়ে আকাশে উড়তে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। কিছুদিন আগে পাহাড়ের চূড়া থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে মারা গেছেন তিনি।
এই খবরটি আমূল বদলে দেয় দু’ভাইকে। তারা সিদ্ধান্ত নেন লিলিয়েনথাল যা করতে পারেননি তারা তা করবেন। আকাশে উড়ে বেড়াবার মতো ইঞ্জিন আবিষ্কার করে বিশ্ববাসীকে চমকে দেবেন।
এ সিদ্ধান্ত নেয়ার পর দুই ভাই দ্রুত কাজে নেমে পড়েন। বাতাসের গতি ও প্রকৃতির ওপর ব্যাপক পড়াশোনা করেন। বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জিন সম্পর্কে হাতে-কলমে জ্ঞান অর্জন করেন। তারপর নানা ধরনের ইঞ্জিনবিহীন গ্লাইডার বানিয়ে উড়ে বেড়াবার ওপর প্রশিক্ষণ নেন। এভাবে বাতাসের প্রকৃতি ও আচরণ সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা অর্জনের পর ১৯০১ সালে ৯৮ পাউন্ড ওজনের গ্লাইডার নিয়ে প্রথম আকাশে ওড়েন উইলবার পরে অরভিল। দু’ভাই রাতের পর রাত জেগে পড়াশোনা চালিয়ে যান। বিভিন্ন ধরনের বিমানের মডেল এঁকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন।
১৯০৩ সালে রাইট ভাইদের সঙ্গে টার্চি টেলর নামে এক যন্ত্রবিদের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি দু’ভাইকে সহযোগিতা করার জন্য হাত বাড়িয়ে দেন। তার সহযোগিতায় উইলবার তৈরি করেন ১২ হর্স পাওয়ারের একটি ইঞ্জিন। আর বানানো হয় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের ডানাওয়ালা একটি বিমান। নাম দেয়া হয় ‘ফ্লাইয়ার-ওয়ান’। এটির ওজন গিয়ে দাঁড়ায় ৭৫০ পাউন্ডে। সেই ফ্লাইয়ার-ওয়ান নিয়ে ১৯০৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রথম আকাশে ওড়েন উইলবার রাইট। মাত্র তিন সেকেন্ড পর মাটিতে নেমে আসে বিমান। মাটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ওটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে সেদিন ফিরে যান তারা। তবে ১৭ ডিসেম্বর দু’ভাই আবার চলে আসেন কিটি হক নামের জায়গাটিতে। এবার প্রথম ওড়েন অরভিল। সাতাশ মাইল বেগে প্রবাহিত বাতাসের বিপরীতে ১২ সেকেন্ড উড়ে ১২০ ফুট পথ উড়তে সক্ষম হয় ফ্লাইয়ার ওয়ান। সেদিন দু’ভাই মোট তিনবার আকাশে ওড়েন। দ্বিতীয়বার পনেরো সেকেন্ড উড়তে সক্ষম হন অরভিল। তৃতীয়বার উইলবার উড়ে বেড়ান ৫৯ সেকেন্ড। এ সময়ের মধ্যে অতিক্রম করেন ৮৫২ ফুট আকাশ পথ। ১৯০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর মানুষের পক্ষে প্রথম সম্ভব হয়েছিলো যান্ত্রিক যানে চড়ে আকাশে ভ্রমণ। তাই এ দিনটিকে বিমান আবিষ্কারের দিন বলে মেনে নেয়া হয়েছে। এর পর ফ্লাইয়ার-টু নামে আরেকটি বিমানে ১৬ হর্স পাওয়ারের মেশিন ব্যবহার করে একশো পাঁচবার আকাশে ওড়েন। বিমান শিল্প যতো দ্রুত উন্নতি লাভ করে এমন সৌভাগ্য আর কোনো শিল্পের ভাগ্যে জোটেনি। ভবিষ্যতে বিমান শিল্প আরো উন্নতি লাভ করবে এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।
সূত্র : আমার দেশ

Wednesday, August 3, 2011

আপনি কি জানেন যে আপনি আংশিক সত্য জানতেন? ।। রাজীব

দুনিয়াজুড়ে এমন অসংখ্য আবিষ্কার রয়েছে যার আবিষ্কারক একজন নন। একই আবিষ্কারের পেছনে একই সময় একাধিক উদ্ভাবক গবেষণা করেছেন এবং দুই বা ততধিক ব্যক্তিই সফলতা লাভ করেছিলেন। কিন্তু নানা কারণে আমরা এখন শুধু একজন আবিষ্কারকের কথাই জানি, কারণ চূড়ান্ত পর্যায়ে সব ক্রেডিট তুলে দেয়া হয়েছে একজনের হাতেই। তবে সাধারণ জনগণ না জানলেও ইতিহাসের পাতায় ঠিকই বাকি উদ্ভাবকদের অবদানের কথা লেখা আছে। ইন্টারনেট ঘেঁটে এমন কিছু আবিষ্কার ও তার নেপথ্য কাহিনী রয়েছে এই প্রতিবেদনে।

ক্রিস্টোফার কলম্বাস কোনোভাবেই উত্তর আমেরিকা মহাদেশে পা রাখা প্রথম ব্যক্তি নন
কলম্বাস প্রথম ইউরোপিয়ান যিনি আমেরিকা আবিষ্কার করেছেন একথা প্রায় সবাই জানলেও এখানে কিছু ফাঁকি আছে। আধুনিক যুগে এসে কলম্বাস প্রথম আমেরিকা আবিষ্কার করলেও তিনি কোনোভাবেই উত্তর আমেরিকা মহাদেশে পা রাখা প্রথম ব্যক্তি নন। বর্তমানে গবেষক ও ইতিহাসবিদদের কাছে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, নরওয়ের বাসিন্দা লিফ এরিকসনের (৯৭০-১০২০ খ্রি.) নেতৃত্বে একদল ভাইকিং প্রথম আমেরিকা মহাদেশে পা রাখে এবং তা কলম্বাসের আমেরিকা যাওয়ার আরও প্রায় পাঁচশ’ বছর আগে। অভিযাত্রী দলটি স্ক্যান্ডিনেভিয়া থেকে রওনা হয়ে নিউফাউন্ডল্যান্ডে পৌঁছায়। বর্তমানে শক্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, ভাইকিংরা গ্রিনল্যান্ড ও কানাডার উপকূলে তাদের আবাস গড়ে তুলেছিল। এছাড়াও প্রাচীন ফোনিশিয়ান জাতিরা (খ্রিস্টপূর্ব ১৫৫০-খ্রিস্টপূর্ব ৩০০) প্রথম উত্তর আমেরিকায় পা রেখেছিলেন এমন বেশকিছু প্রমাণ পাওয়া যায় এবং এটি ঘটেছিল কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের আরও কমপক্ষে ১০০০ বছর আগে। যদিও কলম্বাস প্রথম আমেরিকা আবিষ্কার করেননি তবু কলম্বাসের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো আধুনিক যুগে এসে আমেরিকা মহাদেশকে পুনঃআবিষ্কার করা, তাছাড়া পৃথিবী সমতল নয় এই তত্ত্বকে প্রমাণিত করা।

আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল প্রথম টেলিফোন আবিষ্কারক নন
ভাগ্য কখনও কখনও খুব নির্দয় হয়, যেমন হয়েছে এলিশা গ্রের ক্ষেত্রে। মূলত বেল টেলিফোন যন্ত্রের প্রথম পেটেম্লট করেছিলেন কিন্তু প্রথম আবিষ্কারক তিনি নন। এই দাবি করতে পারেন অ্যান্তেনিও মিউচি। তিনি ১৮৫৭ সালে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক টেলিফোন আবিষ্কারের গবেষণায় সফলতা লাভ করেন। ১৮৬৫ সালে ইতালিয়ান আবিষ্কারক ইনোচেনযো মেনজাডি একটি স্পিকিং টেলিফোন আবিষ্কার করেন। হাঙ্গেরিয়ান আবিষ্কারক থিবেদার পুশকাস সুইচবোর্ড ও পার্টি লাইন আবিষ্কার করে টেলিফোনকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলেন। তবে এরা বেলের প্রধান প্রতিযোগী নন। বেলের প্রধান প্রতিযোগী হলেন আমেরিকান উদ্ভাবক এলিশা গ্রে। মজার ব্যাপার হলো তিনি এবং বেল একই দিন (১৮৭৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি) পেটেম্লট অফিসে যান টেলিফোন যন্ত্রের নিবন্ধন করার জন্য। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে গ্রে-র আইনজীবী বেলের চেয়ে কয়েকঘণ্টা পরে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বেলই টেলিফোন আবিষ্কারের কৃতিত্ব লাভ করেন।

চার্লস ডারউইন কখনোই বিবর্তনবাদ ধারণার প্রথম প্রবক্তা নন
ডারউইনকে বিবর্তনবাদের জনক বলা যায় এই কারণে যে তিনি বিবর্তনবাদের ধারণাকে আরও পরিমার্জিত করেন এবং এর আধুনিক তত্ত্ব তিনি প্রকাশ করেন। কিন্তু ডারউইন কখনোই বিবর্তনবাদ ধারণার প্রথম প্রবক্তা নন।
প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক অ্যানেক্সিমেন্ডার (খ্রিস্টপূর্ব ৬১০-খ্রিস্টপূর্ব ৫৪৫) প্রথম ঐশ্বরিক উপায় ছাড়াই জীবজন্তু বা উদ্ভিদের জন্মের কথা বলেন। তার দাবি ছিল বংশবিস্তারে শারীরিক ভূমিকাই সব, কোনো সুপারন্যাচারাল পাওয়ার নয়। যাই হোক আধুনিক বিবর্তনবাদ নিয়ে প্রথম যুক্তিসঙ্গত ধারণা দেন ফ্রেঞ্চ গণিতবিদ পিয়েরে লুইস মোপারচিও এবং চার্লস ডারউইনের দাদা ইরাসমাস ডারউইন। ফ্রেঞ্চ প্রকৃতিবিজ্ঞানী জেন ব্যাপটিস্ট লেমার্ক বিবর্তনবাদ নিয়ে জোরালো একটি ধারণা পেশ করেন। তিনি ধারণা দিয়েছিলেন, প্রজাতির মধ্যে থাকা এক ধরনের ন্যাচারাল ফোর্স যা অর্গানিজমের মূল চাবিকাঠি এবং এর মাঝে থাকা এনভায়রনমেন্টাল ফোর্স তাদের স্থানীয় পরিবেশের উপযোগী করে তোলে। তবে ডারউইনরে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন ইংরেজ প্রকৃতিবিজ্ঞানী আলফ্রেড ওয়ালেচ। যিনি ১৮৫৮ সালে প্রেস্টিজিস লিননেন সোসাইটিতে ন্যাচারাল সেকশনে বিবর্তনবাদের ওপর একটি তত্ত্ব প্রকাশ করেন, যা চার্লস ডারউইনের তত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে ডারউইনের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো তার বই ‘দি অরিজিন অব স্পেসিস’। মূলত এই বইয়ের ফলে বিবর্তনবাদ সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং বিবর্তনবাদের প্রথম প্রচারক ও জনক হিসেবে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। অন্যরা যেখানে কোনো ক্রেডিটই পাননি।

টমাস এডিসন প্রথম বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কারক নন, তিনি মূলত বাতিটির উন্নয়নে কাজ করেছেন
আরও একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য হলো টমাস এডিসন প্রথম বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কারক। ইলেকট্রিক্যাল বাল্ব আবিষ্কারের কৃতিত্ব এককভাবে কাউকে দেয়া যায় না। যদি দিতে হয় তবে হামফ্রে ডেভিকে দেয়া যায়। এর আবিষ্কার ও আধুনিকায়নে একাধিক উদ্ভাবকের হাত রয়েছে। মূলত এডিসন বাতিটি ডেভেলপে কাজ করেছেন। এডিসনের জন্মেরও আগে ১৮০২ সালে ইংরেজ কেমিস্ট হামফ্রে ডেভি একফালি শীর্ণ প্লাটিনামের পাতের মাঝে বিদুত্প্রবাহ চালান এবং এর ফলে ইলেকট্রিক বাল্ব আবিষ্কার করেন। যদিও এই বাল্ব ছিল খুবই ক্ষণস্থায়ী। এরপর থেকে গবেষণা চলতে থাকে উন্নত ও টেকসই ফিলামেন্ট আবিষ্কারের। এরই ধারাবাহিকতায় ইংরেজ উদ্ভাবক আলফ্রেড ডি মলিনস ১৮৪১ সালে একটি ভ্যাকুয়ামে প্লাটিনামের তার ব্যবহার করে তাতে বিদ্যুত্ প্রবাহ করে আরও দীর্ঘস্থায়ী একটি ইলেকট্রিক বাল্ব আবিষ্কার করেন। তিনিই প্রথম ইনক্যানডেসন্ট ল্যাম্পের পেটেম্লট করান। তবে তার আবিষ্কৃত এই বাল্বের প্রতিস্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এত বেশি ছিল যে তার এই আবিষ্কার জনপ্রিয়তা লাভ করেনি।
এরপর থেকে গবেষণা চলতে থাকে একই সঙ্গে সাশ্রয়ী এবং দীর্ঘস্থায়ী ফিলামেন্ট আবিষ্কারের। শেষপর্যন্ত ১৮৭৯ সালে এডিসন আবিষ্কার করেন কার্বনাইজড ব্যাম্বু ফিলামেন্ট। যা ১২০০ ঘণ্টার মতো জ্বলতে পারত এবং খরচের দিক থেকেও ছিল সাশ্রয়ী। প্রায় একই সময়ে ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী জোশেপ সোয়ানও একটি ইলেকট্রিক বাল্ব আবিষ্কার করেন। কিন্তু ব্যবসায়িক বুদ্ধিতে এডিসনের ধারেকাছেও যেতে পারেননি তিনি। এডিসন দ্রুত তার বাল্বের পেটেম্লট নেন এবং তা স্থাপন করতে থাকেন। যার ফলে সবাইকে ছাড়িয়ে এডিসনের বাল্বই ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। একথা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না যে ইলেকট্রিক বাল্বকে আধুনিকায়ন এবং সাশ্রয়ী করার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান টমাস এডিসন, কিন্তু একথাও দাবি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই যে এডিসনই প্রথম বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিষ্কার করেন। 
সূত্র : আমার দেশ

Friday, July 1, 2011

রাসায়নিক যুদ্ধ ।। প্রীতম সাহা সুদীপ

রাসায়নিক যুদ্ধে শত্রুকে হত্যার জন্য অথবা তার শারীরিক ক্ষতিসাধনের জন্য অথবা খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বিনষ্ট করার জন্য রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের যুদ্ধ যুগ যুগ ধরে প্রচলিত হয়ে আসছে। বস্তুত মানব সমাজের সমগ্র ইতিহাসজুড়ে এর যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, গ্রিসের যোদ্ধারা রাসায়নিক অগি্নবোমা আবিষ্কার করে এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে তা ব্যবহার করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে (১৯১৪-১৮) রাসায়নিক যুদ্ধের ব্যাপক প্রয়োগ দেখা যায়। ১৯১৫ সালের জানুয়ারি মাসে জার্মানরা পোল্যান্ডযুদ্ধে রুশদের বিরুদ্ধে ক্লোরিন গ্যাস ব্যবহার করে কিন্তু তাতে বিশেষ ফল পাওয়া যায়নি। কিন্তু ২২ এপ্রিল ফ্ল্যান্ডর্স-এর যুদ্ধে ফরাসি ও ব্রিটিশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে ঠিক একই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে তারা কৌশলগত বিজয় অর্জন করে_ যা তাদের পক্ষে আশাতীত ছিল। ক্লোরিন সৈন্যদের ফুসফুসের ওপর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তাদের শ্বাসরোধ করে দেওয়া হয়। ফলে তাদের পক্ষে নিঃশ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। এর ফলে এত অধিক সংখ্যক সৈন্য শক্তিহীন হয়ে পড়ে যে, জার্মানরা পরবর্তীকালে ক্ষতিকারক গ্যাস সম্পর্কে গবেষণার জন্য বেশি সময় ব্যয় করতে শুরু করে। ১৯১৭ সালে জার্মানরা মাস্টার্ড গ্যাস নামক মারাত্মক গ্যাসের ব্যবহার শুরু করে। এর শক্তি হলো_ এটি মানুষের চামড়ায় সরাসরি আঘাত করে ও চামড়ায় মিশে যায়। ফলে গ্যাস প্রতিরোধক মুখোশ কার্যকর হয় না এর ফলে চামড়ায় ফোসকা পড়ে এবং ফুসফুসে জ্বালা শুরু হয়। অন্যান্য গ্যাসের তুলনায় এ গ্যাস ব্যবহারে অনেক সৈন্যের মৃত্যু হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর নার্ভ গ্যাস আবিষ্কার করে জার্মানরা এক বিরাট সাফল্য অর্জন করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত গ্যাসের তুলনায় এটি অনেক বেশি বিষাক্ত কিন্তু কখনো এর প্রয়োগ হয়নি। বস্তুত নার্ভ গ্যাস মানুষের শরীরের নার্ভ কোষের স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে শরীরের মাংসপেশির প্রবল আলোড়ন, বমি এবং মৃত্যুও ঘটাতে পারে। এরকম অনেক গ্যাসের কোনো স্বাদ নেই, গন্ধ নেই এবং এগুলো বর্ণহীন। এরকম অনেক বিষাক্ত গ্যাস বিভিন্ন দেশে আবিষ্কার হয়েছে বলে জানা যায়। তার মধ্যে অন্যতম গ্যাস হলো ব্লাড গ্যাস যা রক্ত চলাচলের স্বাভাবিক ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করে এবং শরীরের টিস্যু বা কোষসমূহ দ্বারা অক্সিজেন ব্যবহারে ব্যাঘাত ঘটায়। টিআর গ্যাস জাতীয় অন্যান্য গ্যাসের প্রতিক্রিয়া সাময়িক। টিআর গ্যাসের ফলে প্রচণ্ড কান্না আসে, নাক-মুখ ও চোখ জ্বালা করে এবং প্রচণ্ড কাশি আসে। জনসমাবেশ ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের কাজে পুলিশ বাহিনী এ গ্যাস ব্যবহার করে। কখনো কখনো সেনাবাহিনীও এর প্রয়োগ করে। সুপ্ত ক্ষমতার বিচারে গ্যাসযুদ্ধ এত ক্ষতিকারক যে, এর ব্যবহার বন্ধ করার জন্য অনেক আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অতএব, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর নিয়মিত গ্যাসের অস্ত্র ব্যবহার হয়নি। গাছ-গাছড়া ধ্বংস করার জন্য কিছু কিছু রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়।

প্রীতম সাহা সুদীপ
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

Sunday, June 19, 2011

অণুজীববিজ্ঞানের অগ্রপথিক: প্রযুক্তিতে সফল যারা

রোজালিন এলসি ফন্সাঙ্কলিন একজন ইংরেজ অণুজীববিজ্ঞানী, ভৌত রসায়নবিদ ও ক্রিস্টালবিদ ছিলেন। ডিএনএ, ভাইরাস, কয়লা এবং গ্রাফাইটের গঠন-কাঠামো সংক্রান্ত গবেষণায় বিশেষ অবদান রেখেছেন নারী এই বিজ্ঞানী। খ্যাতিমান এই বিজ্ঞানীকে নিয়ে লিখেছেন মামুন আল করিম।
মহাবিশ্ব সৃষ্টির পর থেকেই নারী ও পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। সভ্যতা শুরুর প্রথম দিকে নারীদের হাতেই সূচনা হয় কৃষিকাজের। শুধু কৃষি নয়, নারীরা কাজ করেছেন বিজ্ঞান, চিকিৎসাপদ্ধতির মতো জটিল বিষয় নিয়েও। ইতিহাসের শুরু থেকে দেখা গেছে বিজ্ঞান, গণিতশাস্ত্র ও চিকিৎসাবিজ্ঞান সর্বত্রই নারীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। নারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন হাইপেশিয়া, লরা বেসি, সোফিয়া কোভালেভস্ক্যায়া, লিস মিটনারের, ক্যারলিন হার্সেল, মেরি অ্যানি ল্যাভিয়েসিয়ের এবং ডিএনএ গবেষক রোজালিন ফন্সাঙ্কলিনের মতো নারীরা বিশ্ব গড়ায় অনবদ্য অবদান রেখেছেন।
১৯২০ সালে রোজালিন এলসি ফন্সাঙ্কলিন লন্ডনের একটি সচ্ছল ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪৫ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। এরপর একজন গবেষণা সহকারী হিসেবে লন্ডনের কিংস কলেজে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর নিত্যনতুন গবেষণাসংক্রান্ত ধারণা প্রদানের মাধ্যমে নিজের কর্মদক্ষতার পরিচয় দিতে থাকেন। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫০ সালে তিনি ফন্সান্সের প্যারিসে একটি গবেষণাগারে কাজ করেন। এখানেই তিনি রঞ্জনরশ্মি বিচ্ছিন্নকরণ কৌশল শিখেছিলেন। খুুব সাধারণ কিছু সরঞ্জাম নিয়ে ফন্সাঙ্কলিন ডিএনএ’র একক তন্তুর উচ্চ বিশেষণীয় ফটোগ্রাফ নেয়ার জন্য একটি ব্যবস্খার প্রবর্তন করেন। ১৯৫৩ সালে ডিএনএ’র গঠন-কাঠামো আবিষ্কারের পেছনে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকার জন্যই তিনি সর্বাধিক পরিচিতি পান। রোজালিন ফন্সাঙ্কলিনের ডিএনএ’র গঠন সম্পর্কিত কাজ ওয়াটসন, ক্রিক ও উইলকিনস কর্তৃক উপস্খাপিত ডাবল হেলিক্স মডেলের পরীক্ষামূলক সমর্থন জুগিয়েছিল। ১৯৬২ সালে জেমস ওয়াটসন, ফন্সানসিস ক্রিক এবং মরিস উইলকিনসকে ডিএনএ’র ডাবল হেলিক্স গঠনের জন্য নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। তবে অবাক করার বিষয় রোজালিন ফন্সাঙ্কলিনকে এই অমূল্য কাজের জন্য কোনো কৃতিত্বই দেয়া হয়নি। ১৯৫৮ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে জরায়ুর ক্যান্সারজনিত কারণে মারা যান রোজালিন ফন্সাঙ্কলিন। সেই থেকে ডিএনএ’র গঠন কাঠামো আবিষ্কারের গল্পকে এখনো বলা হয় একটি প্রতিযোগিতামূলক ষড়যন্ত্র। 

রহস্যঘেরা মাকড়সার জাল ।। তৈমুর রেজা

সুপারম্যান, ব্যাটম্যানের মতোই হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় স্পাইডারম্যান। মাকড়সার জালের মতো দেখতে রঙিন পোশাকে স্পাইডারম্যান দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষদের কী অনায়াসেই না জব্দ করে। বন্দুক বা অন্য কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নয়। শত্রু দমনে মাকড়সা মানবের একমাত্র ভরসা মাকড়সার জাল। দুই হাতের কব্জি আর তালুর ঠিক মাঝখানের অংশটিতে পোশাকের তলায় স্পাইডারম্যানের লুকানো থাকে দুটি বিশেষ সুইচ বা বোতাম। এতে চাপ পড়লেই বেরিয়ে আসে মাইলের পর মাইলের দীর্ঘ মাকড়সার দুর্ভেদ্য জাল। আর এই জালে জড়িয়ে বদমায়েশের দল কেমন কুপোকাত হয় তা তো তোমরা মোটামুটি সবাই জান। শুধু মানুষই বা বলি কেন, স্পাইডারম্যানের এহেন অস্ত্রের জোরে বড় বড় পাথর, রেল আরও কতসব ভারী জিনিসপত্র উলটপালট খায়। স্পাইডারম্যানের সিনেমা যতই লোমহর্ষক হোক না কেন, সামান্য মাকড়সার জালের যে তেমনটা জোর নেই একথাই আমরা সাধারণত ভেবে থাকি। সিনেমার গরু গাছে ওঠে যে! কিন্তু এবার মনে হয় এসব ভাবনাচিন্তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি জানিয়েছেন, মাকড়সার জালের অদ্ভুত শক্তির কথা। বিস্তর গবেষণার পর তাদের বক্তব্য, দেখতে সামান্য মনে হলেও ঘরের আনাচে-কানাচে জমে থাকা মাকড়সার জাল (চলতি কথায় যাকে আমরা ঝুল বলি, দেয়ালে বেশি জমলে ঝাটা দিয়ে পরিষ্কার করে দেই আমরা) ইস্পাতের চেয়েও কঠিন। আবার তুলো বা নাইলনের চেয়েও পাতলা।

ফ্রুক গ্রদার হেডেলসবার্গ ইনস্টিটিউটের একজন সুপরিচিত বিজ্ঞানী।

মাকড়সার জাল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বহু পড়াশোনা করেছেন। সম্প্রতি তিনি এ সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মাকড়সার জাল বলতে সাধারণত আমরা যা দেখি তা মাকড়সার দেহ নিঃসৃত এক ধরনের রস। যার মধ্যে এক ধরনের বিশেষ আঠালো পদার্থ ছাড়াও কেলাসাকার জাতীয় জিনিস রয়েছে। এখন ফ্রুক গ্রদারের গবেষণায় জানা যাচ্ছে, এই দুই আলাদা আলাদাভাবে বিশেষ তাৎপর্য বহন না করলেও যখনই এরা নিজেদের মধ্যে মিশে যাবে সঙ্গে সঙ্গে এই যৌগ পদার্থটি আশ্চর্য রকমের কঠিন এবং সেই সঙ্গে শক্তিশালী হয়ে উঠবে। অথচ সমান তালে স্থিতিস্থাপকও হবে। মাকড়সার জাল বা তার দেহ নিঃসৃত এই বিশেষ ধরনের আঠালো পদার্থটির আণবিক গঠনের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এই বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, মাকড়সার জালের এই ইস্পাতকঠিন অথচ স্থিতিস্থাপকতা বহুদিন পর্যন্ত মানুষের অজানা ছিল। এ বিজ্ঞানীর দাবি, তার তীক্ষ্ন পর্যবেক্ষণের ফলেই অষ্ট পদবিশিষ্ট মাকড়সার জালের যাবতীয় রহস্য এবার আলোর সামনে চলে এল।

বিজ্ঞানী ফ্রিটস জের্নিক

পদার্থবিদ্যার ইতিহাসে যে ক'জন মানুষের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে, তিনি তাদের অন্যতম। নেদারল্যান্ডসের এই মহান পদার্থবিদের নাম ফ্রিটস জের্নিক। পদার্থবিজ্ঞানে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি ১৯৫৩ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি এমন এক অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন, যার মাধ্যমে কোষকে কোনো রাসায়নিক দ্রবণে সিক্ত না করেই এর ভেতরের উপাদান দেখা সম্ভব। তার এই অণুবীক্ষণ যন্ত্র চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যাপক সাফল্য বয়ে আনে বলে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানেরও এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। বাবা কার্ল ফ্রেডরিক অগাস্ট জের্নিক এবং মা এন্টজি ডাইপারিংক দু'জনেই ছিলেন গণিতের শিক্ষক। কিন্তু ফ্রিটস ভালোবাসতেন পদার্থবিদ্যা। স্কুলজীবনেই তিনি বিভিন্ন অভিনব জিনিস তৈরি করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতেন। তার বাবাও নানা জিনিসপত্র কিনে দিয়ে তাকে সাহায্য করতেন। এভাবে স্কুলজীবন থেকেই গবেষণার কাজ শুরু করেন তিনি। একসময় তিনি রঙিন ছবি তোলার ক্যামেরা নিয়েও গবেষণা শুরু করেন, কিন্তু বেশিদূর এগুতে পারেননি। পদার্থবিদ্যা বিষয়ে অতি উৎসাহের সঙ্গে তিনি বাবা-মার সঙ্গে আলোচনা করতেন এবং পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন জটিল সমীকরণের সমাধান বের করতেন। পদার্থবিদ্যার প্রতি ছেলের আগ্রহ দেখে তারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। ১৯০৫ সালে তিনি রসায়ন, পদার্থ এবং গণিত বিষয় নিয়ে আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ১৯১৩ সালে তিনি গ্রোনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিদ্যাবিষয়ক গবেষণাগারের সহকারী হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু শুধু চাকরি নিয়ে ব্যস্ত থাকলে কি চলে? তিনি এবং তার বন্ধু অর্নস্টেইন মিলে একটি জটিল সমীকরণ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তাদের এই গবেষণার তত্ত্বের নাম অর্নস্টেইন-জের্নিক সমীকরণ। পদার্থবিদ্যা নিয়ে এমন গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন তিনি। ফলে পদোন্নতি লাভ করে তাত্তি্বক পদার্থবিদ্যার পূর্ণ অধ্যাপক নির্বাচন করা হয়।

১৯৩০ সালে জের্নিক বর্ণালি সংক্রান্ত গবেষণা পরিচালনা করেন। তিনি আবিষ্কার করেন কথিত আবছায়া যে অপবর্তনের মাধ্যমে বর্ণালি সৃষ্টি করে, তা প্রত্যেক প্রাথমিক পথে ডানে অথবা বামে ঘটে এবং ৯০ ডিগ্রি কৌনিকে তাদের পর্যায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯৩৩ সালে জের্নিক তার আবিষ্কৃত অণুবীক্ষণ যন্ত্র প্রদর্শন করেন এবং এর কার্যকারিতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন। এছাড়া পদার্থবিদ্যার আরও অনেক বিষয় নিয়ে তিনি গবেষণা করেন সারা জীবন।

মহান এই বিজ্ঞানীর জন্ম ১৮৮৮ সালের ১৬ জুলাই নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে। উচ্চশিক্ষিত বাবা-মার কারণে তার সব ভাই-বোনই ছিলেন উচ্চশিক্ষিত এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তার এক ভাই ছিলেন পদার্থবিদ্যার শিক্ষক এবং বোন ছিলেন সাহিত্যিক। পদার্থবিদ্যায় অবদানের জন্য জের্নিক জীবনে অনেক সম্মানিত হয়েছেন। লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি তাকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করে। চিকিৎসাবিদ্যায় অবদানের জন্য আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৬৬ সালের ১০ মার্চ মহান এ বিজ্ঞানী মৃত্যুবরণ করেন। 

Tuesday, June 14, 2011

আজ পূর্ণ চন্দ্র গ্রহণ ।। সারোয়ার সোহেন

চন্দ্রগ্রহণ


আমরা জানি পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ, পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে। আবার চাঁদকে সাথে নিয়েই পৃথিবী ঘুরছে সূর্যের চার দিকে। সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী আর পৃথিবীকে কেন্দ্র করে চাঁদের এই ভ্রমণে এমন সময় আসে যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে পৃথিবী এসে যায়। এই সময় এরা একই লাইনে থাকে বলে সূর্যের আলো এসে পরে পৃথিপীর উপর। ফলে পৃথীবীর পিছনে অনেকটা জায়গাজুড়ে পৃথিবীর ছায়া পরে। সেই সময় চাঁদ যদি সেই পৃথিবীর-ছায়া ঢাকা অংশে ঢুকে তখন চাঁদে আর সূর্যের আলো পৌছতে পারেনা, তাই সেই সময় চাঁদকে পৃথিবী থেকে দেখা যায় না। এটিই চন্দ্রগ্রহণ।


হঠাত করে আজ চন্দ্রগ্রহণের কথা বলার কারণ হচ্ছে - আজ একটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হবে। সারা বাংলাদেশ থেকে এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে।

শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়া থেকে পুরপুরি, আর দক্ষিণ আমেরিকা, পশ্চিম আফ্রিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া থেকেও মোটামুটি দেখা যাবে।

আজ, অর্থাৎ ১৫ই জুন রাত ১১টা ২৪ মিনিট। এই সময় গ্রহণটি শুরু হবে উপচ্ছায়া পর্যায় থেকে। রাতের ২টা বেজে ১২ মিনিটে গ্রহণটি পূর্ণতা পাবে, আর গ্রহণটি শেষ হবে ভোর ৫ টায়।

ছবিতে দেখছেন আংশিক ও পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ কখন হবে তার নমুনা।


সাড়ে এগারটা থেকে গ্রহণ শুরু হয়ে ভোর পাঁটা পর্যন্ত চললেও পৃথিবীর ছায়ার কেন্দ্র চাঁদ থাকবে ১০০ মিটিন। আর এই ১০০ মিনিটই হচ্ছে মূল চন্দ্রগ্রহণ। এতো দীর্ঘ সময় ধরে পৃথিবীর ছায়া কেন্দ্রে চাঁদ খুব কমই থাকে। ফলে এটি একটি relatively rare চন্দ্রগ্রহণ। এই ধরনের চন্দ্রগ্রহণ শেষবার হয়েছিলো ২০০৭ সালের ২৮শে আগষ্ট, আর পরবর্তী এই ধরনের চন্দ্রগ্রহণ হবে ২০১৮ সালের ২৭শে জুলাই।

চন্দ্রগ্রহণের পূর্ণ গল্প লেখার ইচ্ছে আছে বলেই আজ আর তেমন কিছু লিখলাম না।


ছোট্ট একটা দুঃখ, আমার টেলিস্কোপের মাউন্টটি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ইচ্ছে থাকার পরেও আজ চন্দ্রগ্রহণ দেখার কোনো উদ্যোগ নিতে পারছি না। এখন এই পোস্টটি করে টেলিস্কোপটি নিয়ে পরবো, যদি জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকমে দাঁড় করাতে পারি।

সূত্রঃ
http://en.wikipedia.org/wiki/June_2011_lunar_eclipse
http://en.wikipedia.org/wiki/List_of_central_lunar_eclipses
http://www.mreclipse.com/Special/LEprimer.html

অজ্ঞানের মুহূর্তে মস্তিষ্কের ছবি


 মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ নিয়ে বিজ্ঞানীদের বিস্ময়ের অন্ত নেই। তাই মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণাও তাদের দীর্ঘদিনের। তবে এই প্রথমবারের মতো তারা মানব মস্তিষ্কের অজ্ঞান হতে শুরু হওয়ার ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছেন। আর সে ছবি দেখে নিজেরাই বিস্মিত। বিবিসি
আমস্টারডামের বিখ্যাত ইউরোপীয় অ্যানাস্থেসিওলজি কংগ্রেসে ম্যাঞ্চেস্টারের রয়্যাল ইনফার্মারির প্রফেসর ব্রায়ান পোলার্ড তার বক্তৃতায় জানিয়েছেন গবেষণার সেই বিরলতম অভিজ্ঞতার কথা।
পোলার্ড বলেন, অ্যানাস্থেসিয়া বা অজ্ঞান করার ওষুধ রোগীর শরীরে প্রবেশ করানোর পরপরই তারা মস্তিষ্কের স্ক্যান শুরু করে দিয়েছিলেন। দেখা যায়, মানুষটি অজ্ঞান হতে শুরু করা মাত্রই তার মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ নিউরন বা রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যেন কথা বলা শুরু করে দিল। ব্যাপারটা দেখে আমাদের সবারই চোয়াল ঝুলে গিয়েছিল। অর্থাত্ বিস্ময়ে হাঁ হয়ে যাওয়া।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রথম একজন মানুষকে ওষুধ প্রয়োগ করে অজ্ঞান করার সময় তার মস্তিষ্কের ছবি তুলে দারুণ সব ব্যাপার লক্ষ্য করা গেছে। একই সঙ্গে জানা গেছে অনেক নতুন তথ্য।
বর্তমানে মস্তিষ্কের স্ক্যান করা বা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের ছবি তোলার যে পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে, তাতে অনেক তথ্য জানা গেলেও মানুষ অজ্ঞান হওয়ার সময় সেই একই মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে বা আদৌ করে কিনা, সে বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য জানতেন না বিজ্ঞানীরা। এই প্রথম বোঝা গেল, মানুষ যখন অজ্ঞান হতে থাকে, মস্তিষ্ক কিন্তু তখনও সচল থাকে। তার বেশ কিছু অংশ প্রয়োজনীয় কাজ করে যায়। চেষ্টা করে যেতে থাকে শরীরবৃত্তীয় কিছু কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার।
নতুন এই জ্ঞান হার্ট অ্যাটাক বা সেরিব্র্যাল জাতীয় অসুখের চিকিত্সার ক্ষেত্রে বেশ কাজে দেবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও অনেক তথ্যই জানা যাবে। জানা দরকারও। কারণ, মানুষের শরীরের এই একটি জিনিসের বিষয়ে এখনও অনেক রহস্যের কুয়াশা রয়ে গেছে। 

পলিথিন মিশে যাবে মাটিতে!

এমন পলিথিন, যা মিশে যায় মাটির সঙ্গে। পরে এটি পরিবেশবান্ধব ও ধীরগতির সার হিসেবে ব্যবহূত হবে। আর এ পলিথিন তৈরিতে ব্যবহূত হয়েছে পরিচিত সব জিনিস। ক্ষতিকর পলিথিনের মাটিতে মিশ্রণীয় পরিবেশবান্ধব এমনই এক বিকল্প উদ্ভাবন করেছেন অধ্যাপক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান। মাটিতে মিশে যায় এমন পলিথিন তৈরির খবর শোনা যায়। তবে মাটিতে মিশ্রণীয় পলিথিন তৈরিতে ওয়াহিদুজ্জামানের পদ্ধতিটি নতুন।ভাতের মাড়, চালের গুঁড়া, আলু, অ্যারারুট প্রভৃতি শ্বেতসার-জাতীয় পদার্থের সঙ্গে পলিভিনাইল অ্যালকোহল (পিভিএ), জিগাগাছের আঠা, ইউরিয়া, চিনি, সয়াবিন তেল মিশিয়ে বিকল্প পলিথিন উদ্ভাবন করেছেন তিনি।
বিকল্প এই পলিথিন ছিল এস এম ওয়াহিদুজ্জামানের পিএইচডি গবেষণার বিষয়। গত ৯ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের এক বিশেষ সভায় রসায়ন বিভাগের গবেষক এস এম ওয়াহিদুজ্জামানকে তাঁর ‘প্রিপারেশন অ্যান্ড ক্যারেক্টারাইজেশন অব বায়োব্লেন্ড অব ন্যাচারালি অকারিং পলিমারস অ্যান্ড ওয়াটার সুলিউবল পলিমারস টেকনিক’ শিরোনামের অভিসন্দর্ভের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হয়। রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরীফ এনামুল কবিরের তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোবারক আহমদ খানের যুগ্ম তত্ত্বাবধানে তিনি এ গবেষণা সম্পন্ন করেন।
ওয়াহিদুজ্জামান জানালেন, রাসায়নিক পদার্থ ইথিলিনের পলিমার হচ্ছে পলিথিন। এই পলিথিন মাটি ও পানিতে মিশ্রণীয় না হওয়ায় পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। তা ছাড়া সম্প্রতি পশ্চিমা বিশ্ব ক্ষতিকর পলিথিনে মোড়কজাত দ্রব্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে। আমাদের দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে প্যাকেজিংয়ের কাজে ক্ষতিকর পলিথিন ব্যবহার করা হয়। সুবিধাজনক কোনো বিকল্প না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে এ পলিথিন ব্যবহার করছে। তাই সব দিক মিলিয়ে এই ক্ষতিকর পলিথিনের বিকল্প উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
ঠিক এমন সময়ই অধ্যাপক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান ভাতের মাড়, চালের গুঁড়া, আলু, অ্যারারুট প্রভৃতি শ্বেতসার-জাতীয় পদার্থের সঙ্গে পলিভিনাইল অ্যালকোহল (পিভিএ), জিগাগাছের আঠা, ইউরিয়া, চিনি, সয়াবিন তেল মিশিয়ে পলিথিনের মতোই এর বিকল্প উদ্ভাবন করেন। গামা রশ্মি বিকিরণের সাহায্যে উৎপন্ন পলিমারকে ক্রস লিংক বা আড়াআড়ি সংযোগ ঘটিয়ে এর গুণগত মান এবং উৎকর্ষ সাধন করা হয়েছে। বাজারে প্রচলিত পলিথিনের মতো এমন একটি পণ্য বানাতে ২০ শতাংশ চালের গুঁড়া, ১০ শতাংশ ইউরিয়া ও ৭০ শতাংশ পিভিএ ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের বিকল্প পলিথিন মাটির মধ্যে ৪২ দিনে ৩০ শতাংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং ধীরে ধীরে এটি পুরোপুরি ক্ষয় হয়ে যায়। এটি পানির মধ্যে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা পর ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে। তবে পিভিএর পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর স্থায়িত্ব ও টেকসইয়ের মানও বাড়ানো যায়। এটি সাশ্রয়ী এবং মাটিতে মিশ্রণীয় বলে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়।
ওয়াহিদুজ্জামান জানান, বাজারে প্রচলিত পলিথিন পরিবেশের জন্য হুমকি হওয়ায় এর বিকল্প উদ্ভাবনের চেষ্টা চালানোর পর তাঁরা সাফল্য অর্জন করেন। এটি বানাতে প্রাকৃতিক এবং শ্বেতসার বা স্টার্চ-জাতীয় পদার্থের সঙ্গে পলিভিনাইল অ্যালকোহল (পিভিএ) মিশিয়ে পলিথিনের বিকল্প পলিমার-জাতীয় পদার্থ উদ্ভাবন করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেই পলিমারকে এক্সটোডার যন্ত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পরিপূর্ণভাবে পলিথিনের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়। এ ছাড়া এর মধ্যে ইউরিয়া থাকায় মাটিতে ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে এটি ধীরগতির সার হিসেবেও ব্যবহূত হবে। প্রচলিত পলিথিনের চেয়ে এর দাম একটু বেশি হলেও বাণিজ্যিকভাবে এটি উৎপাদন করা হলে দাম প্রচলিত পলিথিনের সমপর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি জানান।
এস এম ওয়াহিদুজ্জামান বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আটটি পাঠ্যপুস্তকের রচয়িতা। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে তাঁর চারটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হন। ২০০৮ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ফেলোশিপ অর্জন করেন।

সূত্র : প্রথম আলো

Friday, March 18, 2011

গ্রহ রাজ বৃহস্পতি

বৃহস্পতি গ্রহ





রাতের আকাশে এখন চাঁদের পাশেই যে বড় আলোক বিন্দুটি উজ্জ্বল হয়ে দেখা দিচ্ছে সেদিকে টেলিস্কোপে চোখ রেখেই দেখা যাবে চারটি বিন্দু, একটি বড় আর তিনটি ছোট। বড় বিন্দুটিই হচ্ছে বৃহস্পতি গ্রহ আর ছোটো তিনটি বিন্দু হচ্ছে বৃহস্পতির তিনটি বৃহৎ উপগ্রহ।

আসুন সামান্য কিছু জানি বৃহস্পতি গ্রহ সম্পর্কে
গ্রহরাজ বৃহস্পতিকে প্রকৃত পক্ষেই গ্রহদের রাজা বলা চলে। বৃহস্পতি গ্রহকে ইংরেজীতে বলা হয় Jupiter (জুপিটার)। রোমানরা গ্রহটির নাম রেখেছিল পৌরাণিক চরিত্র জুপিচারের নামে। জুপিটার রোমান পুরাণের প্রধান দেবতা। জুপিটার অর্থ হচ্ছে "আকাশের পিতা"।

সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পঞ্চম এবং আকার আয়তনের দিক দিয়ে সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ হচ্চছ আমার বৃহস্পতি। বৃহস্পতি ব্যতিত সৌর জগতের বাকি সবগুলো গ্রহের ভরকে একত্র করলেও বৃহস্পতির ভর তা থেকে প্রায় আড়াই গুণ বেশি হবে। সূর্যের সব কটি গ্রহের ভর সমস্টির প্রায় শতকরা ৭০ ভাগ ভরই হচ্ছে বৃহস্পতির। বৃহস্পতিসহ আরও তিনটি গ্রহ শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুনকে একসাথে গ্যাস দানব গ্রহ বলা হয়। বৃহস্পতি গ্রহ এতোই বড় যে এর ভিতরে চাইলেই ১০০০টি পৃথিবী অনায়াশে পুরে রাখা যাবে।

বৃহস্পতি সূর্য থেকে ৭৭.৮৪ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আর পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৮০ কোটি কিলোমিটার। এর ভর পৃথিবীর ৩১৭.৮ গুণ আর ব্যাস ১১.২ গুণ। এর গড় ঘনত্ব পানির ১.৩ গুণ। নিজ অক্ষের চারপাশে এর ঘূর্ণনকাল ৯.৮ ঘণ্টা আর সূর্যের চারপাশে আবর্তন করতে এর সময় লাগে ১১.৮৬ বছর। অর্থাৎ পৃথিবীর হিসেবে মাত্র ৯.৮ঘন্টায় বৃহস্পতিতে এক দিন হয়, কিন্তু বৃহস্পতির একবছর হতে সময় রাগে পৃথিবীর হিসেবে মাত্র ১১.৮৬ বছর। এতো বেশী সময় লাগার একমাত্র কারণ হচ্ছে সূর্য থেকে এর দূরুত্বজনিত বিশাল বড় অরবিট বা কক্ষপথ। বিশাল বতুলাকার বা ডিম্বাকার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে এক সময় বৃহস্পতি পৃথিবীর অনেকটাই কাছে চলে আসে। এই বছর সেপ্টেম্বর মাসের ২১ তারিখে ৪৭ বছর পর পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসে বৃহস্পতি। এর আগে সর্বশেষ ১৯৬৩ সালে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি এসেছিল আর আবার ২০২২ সালের পর পুনরায় একে একই অবস্থানে পাওয়া যাবে।


বৃহস্পতি গ্রহের বায়ুমণ্ডল গ্যাসের মেঘে ছাওয়া। মেঘ ছাড়া বৃহস্পতির আর কিছুই বাইরে থেকে দেখা যায় না, কারণ এই মেঘ প্রায় ১০০ কি.মি পূরু। এই মেঘের তাপমাত্রা -১২০ডিগ্রী সে. এরও কম। পৃথিবী থেকে দেখলে বৃহস্পতির আপাত উজ্জ্বলতার মান পাওয়া যায় ২.৮। এটি পৃথিবীর আকাশে দৃশ্যমান তৃতীয় উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। কেবল চাঁদ এবং শুক্র গ্রহের উজ্জ্বলতা এর থেকে বেশি। অবশ্য কক্ষপথের কিছু বিন্দুতে মঙ্গল গ্রহের উজ্জ্বলতা বৃহস্পতির চেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

যদিও বৃহস্পতি গ্যাসিয় গ্রহ তবুও ধারনা করা হয় গলিত সিলিকেট ও ধাতুর দ্বারা বৃহস্পতির একটি কঠিন কেন্দ্রকণা গঠিতো হয়েছে। এই কেন্দ্রকণার আকার প্রায় পৃথিবীর আকারের সমান। এ ছাড়া বৃহস্পতি, সূর্যেরই মতো হাইড্রজেন ও হিলিয়ামে গঠিতো। বৃহস্পতির মেঘের উপরি ভাগের তাপমাত্রা -১২০ডিগ্রী সে. এরও কম হলে কিহবে, এর কেন্দ্রের তাপমাত্রা ৩০০০০ ডিগ্রী সে.। অর্থাৎ এই তাপমাত্রা সূর্যের পৃষ্টদেশের প্রায় ৫গুণ বেশী। তাই বলা যায় বৃহস্পতির অভ্যন্তরে নিজস্ব তেজের উৎস রয়েছে।

আগেই বলেছি বৃহস্পতি গ্রহের প্রাথমিক উপাদান হচ্ছে হাইড্রোজেন এবং সামান্য পরিমাণ হিলিয়াম। খুব দ্রুত ঘূর্ণনের কারণে এর আকৃতি হয়েছে কমলাকৃতির গোলকের মত। এই বিশাস গ্রহের বাইরের বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন অক্ষাংশে ঝড়-ঝঞ্ঝাপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করে। এ ধরণের পরিবেশের একটি অন্যতম ফলাফল হচ্ছে মহা লাল দাগ (great red spot)।

এটি মূলত একটি অতি শক্তিশালী ঝড় যা সপ্তদশ শতাব্দী থেকে একটানা বয়ে চলেছে বলে ধারণা করা হয়। গ্রহটিকে ঘিরে একটি দুর্বল বা ক্ষীন বলয় এবং শক্তিশালী চৌম্বোকক্ষেত্র রয়েছে।

উপগ্রহ
বৃহষ্পতির ৬৩টি নামকরণকৃত উপগ্রহ বা চাঁদ রয়েছে। এদের মধ্যে ৪৭টির ব্যাস ১০কিলোমিটারের চেয়েও কম এবং ১৯৭৫ সালের পর আবিষ্কৃত । বৃহষ্পতির সবচেয়ে বড় চারটি উপগ্রহ হল আয়ো, ইউরোপা, গ্যানিমেড এবং ক্যালিস্টো, এদেরকে গ্যালিলীয় উপগ্রহ বলা হয়। কারণ ১৬১০ সালে গ্যালিলিও প্রথম এই চারটি উপগ্রহ আবিষ্কার করেছিলেন।

সেদিন ছিলো ১৬১০ সালের জানুয়ারি মাসের ৭ তারিখ। বিজ্ঞানী গ্যালিলিও তার তৈরি দূরবীন দিয়ে চোখ রাখলেন রাতের আকাশের সবচে উজ্জ্বল বস্তু, বৃহস্পতি গ্রহের দিকে।

বৃহস্পতির দুপাশে একই সরলরেখায় কয়েকটি ছোট ছোট আলোক বিন্দু দেখতে পেলেন গ্যালিলিও। বৃহস্পতির বামে দুটি ছোট আলোক বিন্দু আর ডানে একটি। পরের রাতে গ্যালিলিও একরাশ বিস্ময় নিয়ে খেয়াল করলেন, তিনটি নক্ষত্রই চলে এসেছে বৃহস্পতির ডানে। দৃশ্যটা দেখে পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়ে গেলেন গ্যালিলিও। আরও বোকা বনে গেলেন গ্যালিলিও, এর পরের রাতে এবার দেখা গেল দুটো নক্ষত্র বৃহস্পতির বামে চলে গেছে এবং একটা নক্ষত্র উধাও। এর পরের দুই রাতে দেখা গেল, নক্ষত্র তিনটা বৃহস্পতির এপাশ থেকে ওপাশে নড়াচড়া করছে। শেষমেষ তিনি বুঝলেন, নক্ষত্রগুলো বৃহস্পতির চার পাশে ঘুরছে এবং এরা নক্ষত্র নয়, চাঁদ। বৃহস্পতির চাঁদ। জানুয়ারির ১৩ তারিখ গ্যালিলিও বৃহস্পতির চতুর্থ চাঁদটিকেও দেখতে পেলেন। এটি গ্যালিলিও যে ক’দিন ধরে বৃহস্পতি দেখছেন ততোদিন বৃহস্পতির আড়ালেই ছিলো।
এরাই গ্যালিলিও আবিস্কার করা চারটি উপগ্রহ বা বৃহস্পতির চাঁদ। । এই চার উপগ্রহ বা চাঁদকে একত্রে গ্যালিলিও সম্মানে বলা হয় গ্যালিলিওউপগ্রহ বা চাঁদ।

এখানে বলে রাখা ভালো যে, বৃহস্পতির সর্ববৃহৎ উপগ্রহ গ্যানিমেডের আকৃতি বুধ গ্রহের চেয়েও বড় আর সেই সাথে সৌরজগতে সবচেয়ে বড় উপগ্রহও বটে।

বৃহস্পতির উপগ্রহগুলি
1. Io
2. Europa
3. Ganymede
4. Callisto
5. Amalthea
6. Himalia
7. Elara
8. Pasiphae
9. Sinope
10. Lysithea
11. Carme
12. Ananke
13. Leda
14. Thebe
15. Adrastea
16. Metis
17. Callirrhoe
18. Themisto
19. Megaclite
20. Taygete
21. Chaldene
22. Harpalyke
23. Kalyke
24. Iocaste
25. Erinome
26. Isonoe
27. Praxidike
28. Autonoe
29. Thyone
30. Hermippe
31. Aitne
32. Eurydome
33. Euanthe
34. Euporie
35. Orthosie
36. Sponde
37. Kale
38. Pasithee
39. Hegemone
40. Mneme
41. Aoede
42. Thelxinoe
43. Arche
44. Kallichore
45. Helike
46. Carpo
47. Eukelade
48. Cyllene
49. Kore
50. Herse
সংখ্যাদ্বারা পরিচিত উপগ্রহগুলি-
1. S/2003 J2
2. S/2003 J3
3. S/2003 J4
4. S/2003 J5
5. S/2003 J9
6. S/2003 J10
7. S/2003 J12
8. S/2003 J15
9. S/2003 J16
10. S/2003 J18
11. S/2003 J19
12. S/2003 J23

বৃহস্পতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভিযান
পাইওনিয়ার-১০ : যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭২ সালের ৩ মার্চ বৃহস্পতির উদ্দেশ্যে পাইওনিয়ার-১০ উৎক্ষেপণ করে। এটি বৃহস্পতির উদ্দেশ্যে প্রথম মনুষ্যবিহীন মহাশূন্যযান। ১৯৭৩ সালের ৩ ডিসেম্বর পাইওনিয়ার-১০ বৃহস্পতির কক্ষে প্রবেশ করে প্রায় ১৩০.০০০ কিলোমিটার দূরত্বে বৃহস্পতিকে পরিক্রমণ করে। এটি বৃহস্পতির বিকিরণ বলয় নিরূপণ করে এবং হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের সন্ধান লাভ করে। এছাড়া এটি বৃহস্পতির চুম্বক ক্ষেত্র আবিষ্কার করে। এ চুম্বক ক্ষেত্র লম্বা লেজের মতো যেটি প্রায় ৮০০ কিলোমিটার লম্বা।

পাইওনিয়ার-১১ : ১৯৭৩ সালের ৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র মনুষ্যবিহীন মহাশূন্যযান পাইওনিয়ার-১১ বৃহস্পতির উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ করে। ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে এটি বৃহস্পতির কক্ষপথে পরিক্রমণ করে।

পাইওনিয়ার-১২ : ১৯৭৪ সালের মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র মনুষ্যবিহীন মহাশূন্যযান পাইওনিয়ার-১২ বৃহস্পতির উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ করে। এটি ১৯৭৫ সালের নভেম্বর বৃহস্পতি কক্ষপথে পৌঁছে।

পাইওনিয়ার সের্টান : ১৯৭৪ সালের ২ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র পাইওনিয়ার সের্টান নামে মনুষ্যবিহীন মহাশূন্যযান বৃহস্পতির উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ করে। এটি বৃহস্পতির প্রায় ৪২.০০০ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছতে সক্ষম হয়।

ভয়েজার-১ : ১৯৭৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র মনুষ্যবিহীন মহাশূন্যযান ভয়েজার-১ বৃহস্পতির উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ করে। এটি ১৯৭৯ সালের ৫ মার্চ বৃহস্পতির কক্ষ পরিক্রমণ করে। এ মহাশূন্যযান বৃহস্পতির চারদিকে বেষ্টনকৃত পাতলা বলয় আবিষ্কার করে।

ভয়েজার-২ : ১৯৭৭ সালের ২০ আগস্ট ভয়েজার-২ বৃহস্পতির উদ্দেশ্যে উৎক্ষিপ্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এ মনুষ্যবিহীন মহাশূন্যযানটি ১৯৭৯ সালের ১০ জুলাই বৃহস্পতির কক্ষপথ পরিক্রমণ করে। এটি বৃহস্পতির ৪টি বড় উপগ্রহের বিস্তারিত বিভিন্ন প্রকার ছবি প্রেরণ করে।



এক ঝলকে বৃহস্পতি গ্রহ



অপসূর দূরত্ব: ৮১৬,৬২০,০০০ কিমি বা ৫.৪৬ এ ইউ বা ৫০৭,০০০,০০০ মাইল।
অনুসূর দূরত্ব: ৭৪০,৫২০,০০০ কিমি বা ৪.৯৫ এ ইউ বা ৪৬০,২৮০,০০০ মাইল।
অর্ধ-মুখ্য অক্ষ: ৭৭৮,৩০০,০০০ কিমি বা ৫.২০৩৩৬৩০১ এ ইউ বা ৪৮৩,৬৮০,০০০ মাইল ।
কক্ষীয় পরিধি: ৩২.৬৭৫ এইউ
কক্ষীয় উৎকেন্দ্রিকতা: ০.০৪৮৩৯২৬৬
নাক্ষত্রিক পর্যায়: ৪,৩৩২.৫৮৯ দিন বা (১১.৮৬২ বছর)
যুতিকাল: ৩৯৮.৮৮ দিন গড়
কক্ষীয় দ্রুতি: ১৩.০৭ কিমি/সে সর্বোচ্চ
কক্ষীয় দ্রুতি: ১৩.৭২ কিমি/সে সর্বনিম্ন
কক্ষীয় দ্রুতি: ১২.৪৪ কিমি/সে
নতি: ১.৩০৫৩০° (৬.০৯° সূর্যের বিষুবের সাথে)
উদ্বিন্দুর দ্রাঘিমা: ১০০.৫৫৬১৫°
অনুসূর কোণ: ১৪.৭৫৩৮৫°
উপগ্রহসমূহ: ৬৩

ভৌত বৈশিষ্ট্যসমূহ
বিষুবীয় ব্যাসার্ধ্য: ৭১,৪৯২ কিমি (পৃথিবীর ১১.২০৯ গুণ)
মেরু ব্যাসার্ধ্য: ৬৬,৮৫৪ কিমি (পৃথিবীর ১০.৫১৭ গুণ)
কমলাকৃতি: ০.০৬৪৮৭
পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল: ৬.১৪×১০১০ কিমি২ (পৃথিবীর ১২০.৫ গুণ)
আয়তন: ১.৪৩১২৮×১০১৫ কিমি৩ (পৃথিবীর ১৩২১.৩ গুণ)
ভর: ১.৮৯৮৬×১০২৭ কেজি (পৃথিবীর ৩১৭.৮ গুণ)
গড় ঘনত্ব: ১.৩২৬ g/cm৩
বিষুবীয় পৃষ্ঠের অভিকর্ষ: ২৪.৭৯ মি/সে২ (২.৩৫৮ g)
মুক্তি বেগ: ৫৯.৫ কিমি/সে
নাক্ষত্রিক ঘূর্ণনকাল: ৯.৯২৫০ h[৩]
বিষুবীয় অঞ্চলে ঘূর্ণন বেগ: ১২.৬ কিমি/সে = ৪৫,৩০০ কিমি/ঘ
এক্সিয়াল টিল্ট: ৩.১৩°
উত্তর মেরুর বিষুবাংশ: ২৬৮.০৫° (১৭ ঘ ৫২ মিন ১২ সে)
বিষুবলম্ব: ৬৪.৪৯°
প্রতিফলন অনুপাত: ০.৫২
পৃষ্ঠের তাপমাত্রা: সর্বনিম্ন ১১০ K, গড় ১৫২ K কেলভিন
বিশেষণসমূহ: Jovian
বায়ুমণ্ডল পৃষ্ঠের চাপ: ২০–২০০ কিলোপ্যাসকেল[৪]

(মেঘের আস্তর) গাঠনিক উপাদান:
~৮৬% H2
~১৩% হিলিয়াম
০.১% মিথেন
০.১% পানি বাষ্প
০.০২% অ্যামোনিয়া
০.০০০২% ইথেন
০.০০০১% ফসফিন
০.০০০১০% হাইড্রোজেন সালফাইড

(বিভিন্ন বই পত্রিকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, ফলে তথ্যের কোনো গড়মিল থাকলে তা আমারই ভুল হিসেবে ধরে নিয়ে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো।)

গ্রন্থপূঞ্জিকাঃ
১। বিশ্ব ও সৌরজগৎ ---- মোহাম্মদ আবদুল জব্বার।
২। খগোল-পরিচয় ---- - মোহাম্মদ আবদুল জব্বার।

নেট সূত্রঃ
সূত্র ১ , সূত্র ২ , সূত্র ৩ , সূত্র ৪ , সূত্র ৫ , সূত্র ৬
সূত্র ৭ 


পূর্ব ঝিঁঝিঁ পোকায় প্রকাশিত 

বুধ গ্রহের আদি অন্ত

বুধ গ্রহ

বুধ গ্রহের ইংরেজী Mercury বা মার্কিউরী। বুধ হচ্ছে সূর্যের নিকটতম গ্রহ। সূর্যের খুব কাছে হওয়ার ফলে বুধ পৃষ্ঠ থেকে সূর্যের দিকে তাকালে সূর্যকে পৃথিবীতে যত বড় দেখায় তার চেয়ে আড়াইগুণ বড় দেখা যাবে। সেই সাথে সৌরজগতের সবচাইতে ক্ষুদ্রতম গ্রহ হচ্ছে এই বুধ গ্রহ। এই কারণে বুধের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও অনেক কম, পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ফলে পৃথিবীতে যদি আপনার ওজন ৭০ কেজি হয় তাহলে বুধে আপনার ওজন হবে প্রায় ২৩ কেজি। বুধগ্রহের কোনো উপগ্রহ নেই। গ্রহটির কোনও স্থিতিশীল বায়ুমণ্ডলও নেই। এটি সূর্যকে প্রতি ৮৮ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে অর্থাৎ পৃথিবীর হিসাবে মাত্র ৮৮দিনেই বুধের ১বছর পূর্ন হয়ে যায়, যেখানে পৃথিবীর লাগে ৩৬৫দিন। বুধ দীর্ঘ ১৭৬ দিনে একবার নিজ অক্ষে আবর্তন করে, অর্থাৎ পৃথিবীর ১৭৬দিনে বুধের ১দিন সম্পন্ন হয়, যখানে পৃথিবীর সময় লাগে মাত্র ২৪ ঘন্টা।। অন্যদিকে এর উজ্জ্বলতার আপাত মান ২.০ থেকে ৫.৫ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর আয়তন অন্যাতন্ত ক্ষুদ্র ও সূর্যের খুব নিকটে হওযায় পৃথিবী থেকে একে খালি চোখে অত্যান্ত কঠিন। সুর্যের সাথে এর বৃহত্তম কৌণিক দূরত্ব হচ্ছে মাত্র ২৮.৩ ডিগ্রী। তাই শুধু মাত্র সকাল ও সন্ধ্যায় একে দেখাতে পাওয়ার ক্ষিন সম্ভাবনা থাকে। বুধ গ্রহটি সম্বন্ধে তুলনামূলক অনেক কম তথ্য জানা গেছে। কারণ এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র দুটি অভিযান চালানো হয়েছে বুধের দিকে। এই দুটি অভিজানের একটি হচ্ছে- নভোযান “মেরিনার ১০”, যা ১৯৭৪-১৯৭৫ সালে অভিযান চালায়। আর আরেকটি হচ্ছে- “মেসেঞ্জার” যা ২০০৪ সালের আগস্টের ৩ তারিখে প্রেরিত হয়। অপর আরেকটি অভিজানের প্রস্তুতি চলছে, জাপান ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির সাথে যৌথভাবে একটি অভিযানের পরিকল্পনা করছে যা বেপিকলম্বো নামে পরিচিত। এটি ২০১৩ সালে প্রেরন করা হবে বুধের উদ্দেশ্যে। 
“মেরিনার ১০” কর্তৃক তোলা বুধের ছবি

বুধের নামকরণ
সেই আদিকাল থেকেই এই গ্রহের ভারতীয় নাম “বুধ” -ই ছিল। ভারতীয় পুরান অনুযায়ী বুধ হল চন্দ্রের ছেলের নাম। অন্যদিকে রোমানরা এই গ্রহের নামকরণ করেছিল তাদের ক্ষীপ্রগতি বিশিষ্ট বার্তাবাহক দেবতা মার্কিউরির নামানুসারে। পৌরাণিক কাহিনীতে মার্কারি হল জুপিটার ও মেইয়ার পুত্র। ভেরের আকাশে ও গোধূলি লগ্নের আকাশে বুধকে অতি দ্রুত গতিতে চলতে দেখা যায় বলেই সম্ভবত এই নামকরণ করা হয়েছে।  

বুধ গ্রহের পৃষ্ঠ দেশ
বুধের ভূ-ত্বকের পুরুত্ব ১০০ - ২০০ কিমি-এর মধ্যে। সৌরজগতের সমস্ত গ্রহের মধ্যে এর আকার সবচেয়ে ছোট; বিষুবীয় অঞ্চলে এর ব্যাস মাত্র ৪৮৭৯ কিমি। এখন পর্যন্ত প্রপ্ত সমস্ত তথ্য প্রমাণ আর চিত্রের মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হয় যে বুধ গ্রহের পৃষ্ঠদেশ অনেকাংশেই আমাদের চাঁদের মত। বুধ গ্রহের পৃষ্টদেশ চাঁদের মতোই সাগর এবং খাঁদের অস্তিত্য রয়েছে। ধারনা করা হয় বুধ বিলিয়ন বিলিয়ন বছর ধরে ভূতাত্ত্বিকভাবে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। তবে আদিতে এই গ্রহটিতেও আগ্নায়গিরী সক্রিয় ছিলো। ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন সেই আগ্নায়গিরীর লাফা স্রতের পথটিকে।

আরো ধারোনা করা হয় চাঁদের মতোই সৃষ্টির পরপরই বুধ গ্রহে বিপুল পরিমাণ ধূমকেতু এবং গ্রহাণু আঘাত হানে। আজ থেকে প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর পূর্বে সেই আঘাতের ঘনঘটার সমাপ্তি ঘটে ঠিকই কিন্তু আঘাতের এই সময়টিতে বুধের সমগ্র পৃষ্ঠদেশ আক্রান্ত হয় আর সেই ক্ষত চিহ্ন আজও রয়ে গেছে বুধের পৃষ্ঠ দেশে।

বড় কোনো ধুমকেতুর আঘাতে তৈরি হয়েছে বুধের এই ক্ষত, যেকান থেকে চারপাশে ছড়িয়েপরেছে বস্তুপিণ্ড। বুধ গ্রহে রয়েছে অনেক খাঁদ। এই খাঁদ গুলি কয়েক কিলোমিটার থেকে কয়েকশো কিলোমিটার পর্যন্ত প্রশস্ত হয়।

এখন পর্যন্ত জানা মতে সর্ববৃহৎ খাঁদটির ব্যাস প্রায় ১৩০০ কিমি।

বুধ গ্রহের বায়ুমণ্ডল
আগেই বলেছি বুধ গ্রহ খুবই ক্ষুদ্র। তাই বুধ গ্রহের পক্ষে কোন দীর্ঘ মেয়াদের বায়ুমণ্ডল গঠন ও তা ধরে রাখা সম্ভব নয়। গ্রহটি ক্ষুদ্র হওয়ার কারণে এর অভিকর্ষ বল খুবই কম। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় বুধেরও অতি সূক্ষ্ণ ও হালকা দুর্বল একটি বায়ুমণ্ডল রয়েছে যার প্রধান উপাদান হচ্ছে: হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, অক্সিজেন, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং পটাসিয়াম। দুর্বল বায়ুমণ্ডলের কারণে বুধের আকাশ প্রায় সবসময়ই কালো দেখা যাবে। আর তাই দিনের বেলাতেও বুধের আকাশের দিকে তাকালে অসংখ্য তারা দেখা যাবে। তাছাড়া এই বায়ুমণ্ডলটি সুস্থিত নয়। বায়ু মণ্ডলের পরমাণুগুলো নিরন্তরভাবে হারিয়ে যাচ্ছে এবং আবার বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্টি হয়ে শূন্যস্থান পূরণ করে নিচ্ছে। হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম পরমাণু সম্ভবত সৌর বায়ু থেকে উৎপন্ন হয়ে বুধের চুম্বক গোলকে আটকে যায়। কিন্তু পরে আবার এগুলো মহাশূন্যে হারিয়েও যায়। বুধের ভূ-ত্বকে বিদ্যমান পদার্থগুলোর তেজস্ক্রিয় ভাঙন হিলিয়ামের একটি উৎস। আবার এই ভাঙন থেকেই সোডিয়াম এবং পটাসিয়ামও সৃষ্টি হয়। বুধে সম্ভবত বাষ্পও রয়েছে। এর পৃষ্ঠের সাথে ধূমকেতুগুলোর সংঘর্ষের কারণে এই বাষ্পের সৃষ্টি হয়।
 
বুধ গ্রহের তাপমাত্রা
বুধগ্রহের তাপমাত্র আমাদের পৃথিবীর মতো স্থিতিশীল নয়। কারণ পৃথিবীর মতো বুধে কোনো বায়ু মণ্ডল নেই। বুধ গ্রহের পৃষ্ঠদেশের গড় তাপমাত্রা ৪৫২ কেলভিন বা ৩৫৩.৯ডিগ্রী ফারেনহাইট বা ১৭৮.৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রায় টিন ও সীসা পর্যন্ত গরে যেতে পারে। তবে এই মান স্থানভেদে ৯০ কেলভিন থেকে ৭০০ কেলভিনের পর্যন্ত উঠানামা করে থাকে। এই হিসাব থেকে বুঝা যায় বুধ পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৬১০ কেলভিন পর্যন্ত উঠানামা করে যেখানে পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৮০ কে পর্যন্ত উঠানামা করতে পারে। একেতো বুধের কোন বায়ুমণ্ডল নেই, তার উপর আবার পৃথিবীর তুলনায় বুধ পৃষ্ঠে সূর্য রশ্মির তীব্রতা ৬.৫ গুণ বেশী। তবে এই সমানুপাতিক সম্পর্কের মধ্যে একটি সৌর ধ্রুবক রয়েছে যার মান ৯.১৩ কিলোওয়াট/বর্গমি.। বুধের বায়ুমণ্ডরের অভাবে এই তাপমাত্রা রাতে মাইনাস ১৭০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত নেমে যায়। সবচেয়ে উত্তপ্ত স্থান হচ্ছে অর্ধসৌর বিন্দু এবং শীতলতম স্থান হল এর মেরুর নিকটে অবস্থিত খাদসমূহের নিম্ন বিন্দু।

মজার বিষয় হচ্ছে বুধ পৃষ্ঠের এত উচ্চ তাপমাত্রা থাকা স্বত্তেও বুধ গ্রহে বরফ থাকতে পারে। বুধের মেরুর নিকটে অবস্থিত কিছু গভীর খাঁদের সমতলে সূর্য রশ্মি কখনও সরাসরি পৌছায় না। এতে সেখানকার খাঁদগুলির তাপমাত্রা সবসময়ই পৃথিবীর গড় তাপমাত্রার চেয়ে কম থাকে। এর ফলে সেখানে বরফের সৃষ্টি হয়। পৃথিবী থেকে বিজ্ঞানীদের প্রেরিতো রাডার সংকেত বুধ গ্রহের মেরুর সন্নিকটে অবস্থিত বরফ খণ্ড থেকে প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। তবে এই সংতেক প্রতিফলনের কারণ বরফ ছাড়া অন্য কিছুও হতে পারে। কিন্তু জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে এটি বরফ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। ধারনা করা হয় বুধ গ্রহের মেরুর সন্নিকটে অবস্থিত খাঁদগুলিতে বরফের আবরণের পুরুত্ব মাত্র কয়েক মিটার। আশা করা হচ্ছে সেখানে ১০^১৪ থেকে ১০^১৫ কেজির মত বরফ রয়েছে। পৃথিবীর ও মঙ্গলের সাথে এই বরফের পরিমাণের তুলনা করলে দেখা যাবে- পৃথিবীর এন্টার্কটিকায় বরফের পরিমাণ ৪×১০^১৮ কেজি আর মঙ্গলের দক্ষিণ মেরুতে বরফের পরিমাণ প্রায় ১০^১৬ কেজি। বুধ গ্রহে বরফের উৎপত্তির কারণ এখনো অজানা, তবে দুইটি সম্ভাব্য কারণ ব্যথ্যা করা হয়।
১। গ্রহের অভ্যন্তরভাগ থেকে পানির চুয়িয়ে চুয়িয়ে বেরিয়ে আসা এবং ঠান্ডায় জমে বরফে পরিন্ত হওয়।
২। ধূমকেতুর সাথে সংঘর্ষের ফলে জমা হওয়া পানি ও অন্যান্য বস্তু থেকে বরফের উপাদান। 

সৌর জগতের গ্রহগুলির মধ্যে চারটি গ্রহ কঠিন বস্তু দ্বার গঠিত, এদেরকে পার্থিব গ্রহ বলা হয়।

পার্থিব গ্রহগুলির আকারের তুলনা, বাম দিক থেকে বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মোঙ্গল গ্রহ


বুধ চারটি পার্থিব গ্রহের একটি অর্থাৎ এরও পৃথিবীর মত কঠিন পৃষ্ঠদেশ রয়েছে। বুধের যেসমস্ত উপাদান দিয়ে গঠিত তার মধ্যে ৭০ ভাগ ধাতব আর বাকি ৩০ ভাগ সিলিকেট জাতীয়। বুধের ঘনত্ব সৌর জাগতিক বস্তসমূহের ঘনত্বের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, ৫.৪৩ গ্রাম/সেমি; পৃথিবী থেকে সামান্য কম। আমাদের সৌর জগতের অন্যান্য বৃহৎ গ্রহগুলোর যে কোনটির তুলনায় বুধে লৌহের পরিমাণ অনেক বেশী। বুধ যদিও ছোট একটি গ্রহ তথাপিও এর কেন্দ্রকণা পৃথিবী বা অন্য যে কোনো বড় গ্রহের তুলনার অনেক বড়। এই কেন্দ্রটি লৌহ কেন্দ্র । 

 
কক্ষপথ ও ঘূর্ণন
প্রধান গ্রহগুলোর মধ্যে বুধের কক্ষপথ সবচেয়ে উৎকেন্দ্রিক। সূর্য থেকে এর দূরত্ব ৪৬,০০০,০০০ থেকে ৭০,০০০,০০০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে। নিজের কক্ষপথে চারদিকে একবার ঘুরে আসতে এর সময় লাগে ৮৮ দিন। চিত্রটিতে বুধের কক্ষপথের উপর উৎকেন্দ্রিকতার প্রভাব দেখানো হয়েছে।




অনুসূরের অগ্রগমন
আমরা জানি বুধের আবর্তন কাল ৮৮ দিন। কিন্তু পৃথিবী থেকে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেখা যায়, এর কক্ষপথের ধীর পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিবর্তনটির ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে বুধের অনুসূর বিন্দুর পরিবর্তনের মাধ্যমে। এই ঘটনাটি বুধের অনুসূরের অগ্রগমন নামে চিহ্নিত। এর পরিমাণ প্রতি ১০০ বছরে ১ডিগ্রী৩৩'২০''। এই অগ্রগমনের একটি কারণ হচ্ছে ভূ-কক্ষের বিষুবন বিন্দুর অগ্রগমন। এই কারণটিই মুখ্য। এছাড়া শতকরা ৭ থেকে ১০ ভাগ অগ্রগমনের কারণ হচ্ছে অন্যান্য গ্রহের আকর্ষণ। প্রতি একশ বছরে বুধের অনুসূর বিন্দু ৪৩ পরিমাণ অগ্রসর হয়। নিউটনীয় বলবিজ্ঞানের সাহায্যে এর কোন ব্যাখ্যা প্রদান সম্ভব হয় নি। অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী মনে করতেন বুধ ও সূর্যের মাঝখানে অন্য কোন গ্রহ আছে। পরবর্তীতে আলবার্ট আইনস্টাইন তার আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বে বলেন, সূর্যের অবস্থিতির জন্য স্থান-কাল মহাশূন্যে একটি বক্রতার সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ নিউটনীয় নীতি এই বক্রতারই ফল। সূর্যের চারদিকে উক্ত বক্রপথে যেতে বুধের কক্ষের পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে এর অনুসূর বিন্দুর অগ্রগমন ঘটে। এই তত্ত্ব অনুসারে অগ্রগমনের পরিমাণ প্রতি ১০০ বছরে ৪৩.০৩ যা মূল পরিমাণের সাথে সুন্দরভাবে মিলে যায়। তাই বুধের অনুসূরের অগ্রগমন বর্তমানে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বের একটি প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হয়েছে।




বুধ গ্রহ পর্যবেক্ষণ
বুধ গ্রহের আপাত মান ২.০ (লুব্ধক-এর চেয়ে বেশী) থেকে ৫.৫ এর মধ্যে থাকে। সূর্যের অতি নিকঠে অবস্থিত বলে একে পর্যবেক্ষণ করা বেশ দুঃসাধ্য। কারণ সূর্যের অত্যুজ্জ্বল আলোর কারণে অনেকটা সময় বুধকে দেখাই যায় না। ভোর বা সন্ধ্যার ক্ষীণ আলোতেই কেবল বুধকে দেখা যায়। হাবল মহাশূন্য দূরবীন বুধ গ্রহকে কখনই পর্যবেক্ষন করতে পারে না। নিরাপত্তার কারণেই হাবল দূরবীনকে সূর্যের দিকে ফোকাস করা হয়না। পৃথিবী থেকে যেমন চাঁদের কলা দেখা যায়, তেমনি বুধেরও কলা রয়েছে।

কিন্তু নবীন এবং পূর্ণ থাকা অবস্থায় বুধকে দেখা যায় না। কারণ এ সময় এই গ্রহটি সূর্যের সাথেই উদিত হয় এবং অস্ত যায়। পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের তুলনায় দক্ষিণ গোলার্ধে বুধ গ্রহকে ভালভাবে দেখা যায়। দক্ষিণ গোলার্ধের যে দেশগুলো থেকে বুধ গ্রহকে স্পষ্ট দেখা যায়ৱএর মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা এবং নিউজিল্যান্ডের মত দেশগুলো। অবশ্য একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় অন্যান্য কয়েকটি গ্রহ এবং উজ্জ্বল তারার মত বুধ গ্রহকেও স্পষ্ট দেখা যায়।

বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি সর্বপ্রথম পৃথিবী থেকে দূরবীনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, সপ্তদশ শতাব্দীতে। তিনি শুক্র গ্রহের কলা পর্যবেক্ষণ করতে সমর্থ হয়েছিলেন; কিন্তু তার দূরবীনটি বুধের কলা দেখার মত শক্তিশালী ছিল না।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের জগতে একটি অতি বিরল ঘটনা হচ্ছে পৃথিবীর সাপেক্ষে একটি গ্রহ অন্য একটি গ্রহের সামনে এসে পড়ে এবং এর ফলে একটি গ্রহ অদৃশ্য হয়ে যায়। এই ঘটনাটিকে অদৃশ্যকরণ বলে। কিন্তু বুধ এবং শুক্র গ্রহ কয়েক শতাব্দী পরপরই একে অপরকে অদৃশ্য করে দেয়। শুক্র কর্তৃক বুধ গ্রহের পরবর্তী অদৃশ্যকরণের ঘটনা ঘটবে ২১৩৩ সালে।


বুধের উদ্দেশ্যে প্রেরিত সন্ধানী যান সমূহঃ
বুধের উদ্দেশ্যে পৃথিবী থেকে প্রেরিত একটি মহাকাশযানকে সূর্যের মহাকর্ষীয় বিভব উৎসের দিকে অবশ্যই ৯১ মিলিয়ন কিলোমিটার পথ ভ্রমণ করতে হবে। বুধের নিকট দিয়ে অতিক্রমকারী একটি Hohmann transfer orbit-এর ভিতর প্রবেশ করতে হলে সন্ধানী যানটিকে একটি নির্দিষ্ট গতিবেগ অর্জন করতে হবে।

পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বেরোবার সময় এর বেগ থাকে পৃথিবীর কক্ষীয় বেগের সমান অর্থাৎ প্রায় ৩০ কিমি/সে। বুধের পাশের Hohmann transfer orbit-এ প্রবেশ করতে যে বেগ প্রয়োজন তা অর্জনের জন্য এক্ষেত্রে বেগের প্রচুর পরিবর্তন করতে হয়, যতটা অন্য কোন গ্রহে অভিযানের ক্ষেত্রে করতে হয়না। এজন্যই বুধ অভিযান অন্যান্য অভিযানের তুলনায় বেশি কষ্টকর। প্রকৃতপক্ষে পুরো সৌর জগৎ অতিক্রম করতে একটি মহাকাশযানকে যে পরিমাণ শক্তি সরবরাহ করতে হয় তার চেয়ে বুধে অবতরণ করাতে হলে বেশি শক্তি দিতে হয়। বুধ গ্রহের উদ্দেশ্যে এখন পর্যন্ত দুটি মহাশূন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, আর তৃতীয় একটি অভিযানর প্রস্ততি চলছে। অভিজান গুলি হচ্ছে-



মেরিনার ১০

বুধ গ্রহ অভিযানে প্রেরিত প্রথম মাজাগতিক সন্ধানী যানের নাম “মেরিনার ১০”। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ১৯৭৩ সালের ৮ই নভেম্বর এই যান প্রেরণ করে। এটি ১৯৭৪ সালের ১৯শে মার্চ বুধের৭৫০ কিমি দূরত্বে গিয়ে পৌছায়। পরে ২১শে সেপ্টম্বর ১৯৭৪ এবং ১৬ই মার্চ ১৯৭৫ সালে বুধে সবচেয়ে কাছে পৌছায়। এজন্য “মেরিনার ১০” শুক্র গ্রহের অভিকর্ষকে কাজে লাগিয়েছে। মূলত শুক্রের অভিকর্ষকে কাজে লাগিয়ে “মেরিনার ১০” তার কক্ষীয় বেগকে নিয়ন্ত্রণ করে বুধের দিকে অগ্রসর হতে পেরেছে।

মহাকর্ষীয় স্লিংশট নামক এই প্রভাব “মেরিনার ১০”ই প্রথমবারের মত ব্যবহার করেছে। “মেরিনার ১০” প্রথমবারের মত বুধের অতি কাছ থেকে প্রচুর ছবি পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত মেরিনার ১০এর কক্ষীয় পর্যায় ঠিক বুধের ৩ নাক্ষত্রিক দিনের সমান ছিল। এর কারণে “মেরিনার ১০” যখনই বুধের কাছাকাছি হতে পেরেছে তখন সবসময়ই বুধের একটিমাত্র পৃষ্ঠ মহাকাশযানটির সামনে আসতে পেরেছে। ফলস্বরুপ বুধের সমগ্র পৃষ্ঠের মাত্র ৪৫% মানচিত্রের মাধ্যমে চিত্রিত করা সম্ভব হয়েছে।

সন্ধানী যানটি তিন তিনবার বুধের খুব সন্নিকটে যেতে পেরেছিল। এর মধ্যে নিকটতম ছিল বুধ পৃষ্ঠের ৩২৭ কিমি দূর পর্যন্ত। প্রথমবার কাছে যাওয়ার মাধ্যমে “মেরিনার ১০” বুধে একটি অভাবনীয় চৌম্বক ক্ষেত্রের অস্তিত্ব আবিষ্কার করে। দ্বিতীয়বার যখন মেরিনার ১০ বুধ এর খুব সন্নিকটে যায় তখন বুধ পৃষ্ঠের প্রচুর ছবি তোলা সম্ভব হয়। কিন্তু তৃতীয়বার নিকটবর্তী হওয়াটা ছিল আরও কার্যকরী। কারণ তখন গ্রহটির চৌম্বক ধর্ম সম্বন্ধে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত জানা সম্ভব হয়। উপাত্তগুলো থেকে বোঝা যায়, গ্রহটির চৌম্বক ক্ষেত্র অনেকটা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের মত যা গ্রহের চারপাশের সৌর বায়ুকে পথচ্যুত করতে পারে। শেষবারের মত বুধের সন্নিকটে যাওয়ার পর “মেরিনার ১০”-এর জ্বালানী প্রায় ফুরিয়ে যায়। এর ফলে পৃথিবী থেকে এই অভিযানের নিয়ন্ত্রণ রক্ষা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে। অবশেষে পৃথিবীর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অভিযানের কার্যকলাপ বন্ধ করে দেয়। মূলত পৃথিবী থেকে সংকেত দেয়া হয়েছিল যেন, “মেরিনার ১০” নিজেই নিজের কার্যকলাপ বন্ধ করে দেয়। ধারণা করা হয় “মেরিনার ১০” এখনও সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে এবং প্রতি কয়েকমাসে একবার করে বুধ গ্রহের সন্নিকটে যাচ্ছে।




মেসেঞ্জার
[img]http://cdn.wn.com/pd/20/15/0c209e3aaa8c783d5df1d987c602_grande.jpg" alt="" />
বুধের উদ্দেশ্যে নাসা কর্তৃক প্রেরিত দ্বিতীয় অভিযান ছিল মেসেঞ্জার। “MESSENGER” শব্দটি এসেছে - MErcury Surface, Space ENvironment, GEochemistry, and Ranging থেকে। এটি ২০০৪ সালের আগস্টের ৩ তারিখে প্রেরিত হয়। এই সন্ধানী যানটি বেশ কয়েকবার বুধের সন্নিকটে যেতে সমর্থ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি বুধের চারদিকে নিজস্ব একটি কক্ষপথ তৈরীতে সমর্থ হয়। ২০০৫ সালের আগস্ট মাসে এটি পৃথিবীর কাছ দিয়ে উড়ে যায় এবং ২০০৭ সালের অক্টোবর ও জুন মাসে শুক্র গ্রহের কাছ দিয়ে উড়ে যায়। এই যানটি বুধের নিকট দিয়ে তিন তিনবার উড়ে যাবে বলে শিডিউল করা হয়েছে। এই উড়ে যাওয়ার সময়গুলো হবে জানুয়ারি ২০০৮, অক্টোবর ২০০৮ এবং সেপ্টেম্বর ২০০৯। এর পর তা ২০১১ সালের মার্চ মাসে বুধ গ্রহের চারপাশে কক্ষপথে প্রবেশ করবে।

মেসেঞ্জারের ভ্রমণ পথ
মেসেঞ্জারকে পাঠানো হয়েছে মূলত বুধের ছয়টি মৌলিক বিষয়ে অনুসন্ধান করার জন্য। এগুলো হচ্ছে:
১। বুধের উচ্চ ঘনত্ব,
২। এর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস,
৩। এর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রকৃতি,
৪। এর কেন্দ্রের গঠন,
৫। এর মেরু অঞ্চলসমূহে আসলেই বরফ রয়েছে কিনা,
৬। এবং এর পাতলা বায়ুমণ্ডল কোথা থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।

মেসেঞ্জার যখন বুধ গ্রহের চারপাশে দ্বিতীয়বারের মত প্রদক্ষিণ করে সে সময় অনেক কাছ থেকে বুধ গ্রহের ১২০০ এরও বেশী ছবি তোলা হয়৷ এসব ছবি থেকে বিজ্ঞানীরা বুধ গ্রহ সম্পর্কে আরো অজানা তথ্য জানতে পারছেন৷ তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বুধ গ্রহের ৬৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ গর্ত।




বেপিকলম্বো

জাপান ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির সাথে যৌথভাবে একটি অভিযানের পরিকল্পনা করছে যা বেপিকলম্বো নামে পরিচিত। এই অভিযানে দুই সন্ধানী যান ব্যবহৃত হবে যারা বুধের কক্ষপথ পরিভ্রমণ করবে। দুটি সন্ধানী যানের একটি বুধের মানচিত্র প্রণয়নের কাজ করবে এবং অপরটি এর ম্যাগনেটোস্ফিয়ার নিয়ে গবেষণায় ব্যবহৃত হবে। একটি ল্যান্ডার সহ মূল পরিকল্পনাটি করা হয়ে গেছে। ২০১৩ সালে রাশিয়ার সয়ুজ রকেটসমূহ এই সন্ধানী যানটি বহনের কাজ করবে। মেসেঞ্জারের সাথেই বেপিকলম্বো বেশ কয়েকবার বুধের অতি সন্নিকটে যাবে। একইভাবে এটি চাঁদ এবং শুক্র গ্রহের নিকট দিয়ে উড়ে গিয়ে বুধের কক্ষপথে প্রবেশ করার পূর্ব বেশ কয়েকবার এর নিকটবর্তী হবে। আনুমানিক ২০১৯ সালের দিকে এটি বুধের কক্ষপথে প্রবেশ করবে এবং প্রায় এক বছর ধরে একে অধ্যয়ন করবে। এই অভিযানটির নামকরণ করা হয়েছে বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী গিউসেপ (বেপি) কলম্বোর (Giuseppe Colombo) নামানুসারে। তিনিই প্রথম সূর্যের সাথে বুধের কক্ষীয় রেজোন্যান্স নির্ণয় করেছিলেন।

আজকের মতো এখানেই শেষ করছি বুধ গ্রহের ইতিহাস, আগামীতে অন্য কোনো গ্রহে আবার দেখা হবে আশা করি।

গ্রন্থপুঞ্জিঃ
খগোল পরিচয় - মোহাম্মদ আবদুল জব্বার।
বিশ্ব ও সৌরজগৎ - মোহাম্মদ আবদুল জব্বার।
মহাকাশ বার্তা পত্রিকার কয়েকটি ইসু।

ওয়েব সাইট লিংক সমূহঃ
নাসা, উইকি-১, daviddarling, geology, উইকি-২, উইকি-৩, মেরিনার-১০, মেসেঞ্জার, বেপিকলম্বো।

(সকল প্রকারের অনিচ্ছাকৃত ভুল ও অপারদর্শিতা হেতু অস্বচ্ছতার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। গুণীজন নিজ গুণেই আমার ভুলগুলি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এ আশাই রইলো। ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন সকলে।) 


Monday, December 13, 2010

বিজ্ঞান ও কোরআন by হ্নীলার বাঁধন

" আমি কি জমিনকে দোলনা আর পাহাড়কে পেরেকসমূহ করে সৃষ্টি করিনি ? " সূরা আল নাবা, আয়াত-৭।

১৪৩০ বছর পূর্বে কোরআন কারীম ঘোষনা করেছে যে পাহাড়কে জমিনের জন্য পেরেকের মত করে সৃষ্টি করা হয়েছে অর্থাৎ পাহাড়ের শীকড় রয়েছে। বিজ্ঞান বিংশ শতাব্দির আগ পর্যন্ত এ বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল যে পাহাড়ের কোন শীকড় আছে। বিংশ শতাব্দিতে এসে আধুনিক টেকনোলোজী ব্যবহার করে বিজ্ঞান আবিস্কার করতে পেরেছে যে, পাহাড়ের কমপক্ষে দুই তুতীয়াংশ নীচে থাকে আর বাকীটুকু জমিনের উপরে থাকে; অর্থাৎ ১৪৩০ বছর পূর্বে পবিত্র কোরআন যা বলেছে বিংশ শতাব্দিতে এসে বিজ্ঞান সে তথ্য আবিস্কার করতে পেরেছে।

উপর্যুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ বিষয়টি অকাট্যভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো যে আল কুরআন আল কারীম কোন মানুষের রচনা নয়। এটা অবশ্যই অবশ্যই মহান স্রষ্টা আল্লাহ তা"লার ঐশি বানী। জিবরীল আল আমীন ওহী রূপে যা মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর উপর আল্লাহ তা"লার নির্দেশে প্রয়োজন অনুযায়ী অবতীর্ণ করেছেন।

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ