প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label রণক ইকরাম. Show all posts
Showing posts with label রণক ইকরাম. Show all posts

Wednesday, May 9, 2012

রবীন্দ্রনাথ : বারে বারেই নতুন | রণক ইকরাম

আমাদের মনের ভেতর প্রায়ই ঝড় ওঠে। তখন আমরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে নিজের ভেতরের মানুষটাকে খুঁজে বেড়াই। আবিষ্কার করার চেষ্টা করি আয়নার পেছনের ভাবনাগুলোকে। আবার তেমনি চারপাশের হুটহাট ব্যস্ততার মধ্যেও অনায়াসে সবাই মন গলাই-মন বাড়াই। আসলে গতানুগতিকতা ও বৃত্তের বাইরের সঙ্গে নিজেকে টেনে নিতেই এই বোধ। যেমন একটি বোধ, চিন্তার নাম রবীন্দ্রনাথ। ঘটনা বহুদিন আগের। সৃষ্টিতে প্রতি মুহূর্তে প্রতিক্ষণ আছেন কাছাকাছি পাশাপাশি। এরপরও বৈশাখ এলেই তাকে নিয়ে বেশি মাতামাতি শুরু হয়। এ তো কেবল ভালোবাসা আর ভেতরের মানুষটার হঠাৎ জাগরণের জন্যই! রবীন্দ্রনাথ চলে গেছেন আজ থেকে প্রায় দেড়শ বছর আগে। অথচ আজও তিনি তরুণ, আজও তিনি নতুন। যতবার ফিরে তাকানো যায়, ততবারই নতুন মনে হয়। এই তো রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথ ছাড়া কোনো কবি জাতির যাপনচিত্র কিংবা বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে এমন অমোঘ হয়ে জুড়ে থাকেননি কখনো। পৃথিবীর সাহিত্য ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথই প্রথম টেনেছেন বৈশ্বিক মেলবন্ধন। তিনিই পেরেছেন বাঙালির প্রতিদিনের প্রেম, অপ্রেম, যন্ত্রণা, বিরহের সঙ্গে এমন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকতে। পেরেছেন সেই জড়িয়ে থাকা বোধের স্ফুলিঙ্গ-প্রেম-অপ্রেম বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে। শীত-গ্রীষ্ম রোদ-বৃষ্টির মতোই বাঙালির প্রতিদিনের জীবনযাপনে বারবার অনিবার্যভাবে চলে এসেছেন রবীন্দ্রনাথ। কখনো কারও ইচ্ছায় আবার কখনো বা নেহায়েতই অনিচ্ছায়। গল্প-কবিতা-নাটক-গান-দর্শন রবীন্দ্রবলয়ের বাইরে নয় কোনো কিছুই। আর তাই ইচ্ছা-অনিচ্ছায় মননের মাধ্যাকর্ষণে বারবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন রবীন্দ্রনাথ। জনগোষ্ঠীর যাপনে এমন জড়িয়ে পড়া কবি কোথায় মিলবে?

জীবনযাপনে প্রাসঙ্গিক রবীন্দ্রনাথ নিজেই একটা জাতি-একটা বোধ আর জীবন। আর তাই রবীন্দ্রনাথকে না জানলে জানা হয় না কিছুই। অজ্ঞাত থেকে যায় জীবনের অনেক ভাবনা অনেক রঙ-রস। মজার ব্যাপার হলো, দুরদর্শী কবি বেঁচে থাকতেই এমন কথা বলে গেছেন। অমোঘ ভবিষ্যদ্বাণীর কবিগুরুর সেই বিখ্যাত লাইন_ 'আজি হতে শতবর্ষ পরে, কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহল ভরে'। ভাবা যায়, কাব্য জীবন আর ভাবনার সঙ্গে কবি কতটা সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছিলেন? কতটা সম্পৃক্ত থাকলে একজন কবি তার চলে যাওয়ার শত বছর পরের ঘটনাক্রম কিংবা চিন্তার এমন সুস্পষ্ট প্রকাশ ঘটাতে পারেন? কিন্তু রবীন্দ্রনাথ পেরেছেন। দেখিয়েছেন তার প্রিয় পাঠকের প্রতি কোমল 'স্পর্ধা' দেখানোর দুঃসাহস। আর এ কারণেই তিনি চিরঞ্জীব, বিশ্বকবি।

২৫ বৈশাখ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। আর কবির জন্মদিনে বাঙালি ফুল, মালা, গান আর অনুষ্ঠানের হিড়িক পড়ে যায়। এ তো রবীন্দ্রভক্তদের দৌড়ঝাঁপ আর প্রেম-প্রণয়। কিন্তু এর বাইরেও আছেন রবীন্দ্রনাথ। ভিন্নভাবে তাকালেই দেখা যাবে অন্যদের মতো লাখ লাখ সাধারণ মানুষও প্রতি বছর দিনটিকে মনে রাখে। কেউ কেউ হয়তো নিজের বা তার স্ত্রীর জন্মদিন ভুলে গিয়ে থাকলেও কবির জন্মদিন ভুলেন না। ভুলেন না কবিকে অসীম শ্রদ্ধায় ভাসিয়ে দিতে। এ কিন্তু কোনো অনুষ্ঠান-রীতি বা হিড়িকের কথা নয়, এ শুধুই ভালোবাসার গল্প। হয়তো বহু বছরের অভ্যাসের সংস্কার। অথবা মনের ভেতরের মানুষটার কোনো একটা দায়বদ্ধতা? নাকি কোথাও ঠিক কোনো একটি জায়গায় তার বোধ ও বোধোদয়ের তলদেশে অন্তর্লীন হয়ে আছেন রবীন্দ্রনাথ?

আসলে রবীন্দ্র সংস্কৃতির একটি গোপন চোরা স্রোত দিনের কোনো এক সময় তাকে নিজের কাছে নিজেকে নিবেদন করার সংস্কৃতি শেখায়। সে শুধু সেই মানুষটিই জানে অত্যন্ত অমোঘভাবে, আসলে বাঙালি কোনো অবচেতনেই রবীন্দ্রনাথকে ভুলতে চান না। অথবা চাইলেও পারেন না। রবীন্দ্রনাথ তার যাবতীয় নিয়ে আজও দেড়শ বছর পর এমন অমোঘ, এমন অনিবার্য, এমন প্রাসঙ্গিক_ যা বলে শেষ করা যাবে না। তাই বারে বারে প্রতিদিনের যাপনের যাবতীয় গ্লানি, আলো, অন্ধকার, সুখ, অসুখ নিয়ে তাকে মনে হয় তিনিই সেই অনির্বাণ শিখা, যে আসলে মৃত্যুর থেকেও বড়। আর তিনি পুরনো হওয়ার নন। তিনি সব সময়ই নতুন আজ-কাল-পরশু কিংবা হাজার বছর পরও ওই নতুনই!

Friday, July 1, 2011

ইউনেস্কো ঘোষিত ইরানের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট চোখ ধাঁধানো নাকশ-ই-জাহান ।। রণক ইকরাম



এক সময় পৃথিবীতে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল মুসলমানদের। আর এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন আর ঐতিহ্যে জড়িয়ে আছে মুসলিম সভ্যতা। আর তখনকার মুসলিম সভ্যতা আনুষঙ্গিক সবকিছুর সঙ্গে সঙ্গে স্থাপত্য আর শিল্পকলায়ও ছিল অনন্য। তবে অন্য প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর তুলনায় মুসলিম স্থাপত্যের নিদর্শনগুলো বরাবরই আলাদা ও ভিন্ন মাত্রার। বিশেষত ভৌগলিক অবস্থান ও জাতিগত পার্থক্যের কারণে একেক জায়গার স্থাপত্যে একেক মাত্রা ছিল। তেমনি নানা জায়গার নির্মাণশৈলীর ভিন্নতাও ছিল অনেক। তবে ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় ভঙ্গির পরশে নির্মিত এসব স্থাপত্য দেখলে সহজেই অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর স্থাপত্যশিল্প থেকে আলাদা করে চেনা যায়। এমনি এক নান্দনিক স্থাপত্যের নাম 'নাকশ-ই-জাহান'। মনজুড়ানো এই স্থাপত্যের অবস্থান ইরানের ইস্পাহান শহরে। আগে এটি 'শাহ স্কোয়ার' নামে সবার কাছে পরিচিত ছিল। এখন অবশ্য অনেকেই একে 'ইমাম স্কোয়ার' নামেও চলে।

চারকোণাকৃতি বিশাল চত্বরে নির্মিত এই স্থাপনা বিশ্ব ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। আর এই গুরুত্ব এবং 'নাকশ-ই-জাহান'-এর ঐতিহাসিক মূল্য বিচার করে ইউনেস্কো এটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকাভুক্ত করেছে। তবে 'নাকশ-ই জাহান' কোনো একক ভবন বা স্থাপত্যকর্ম নয়। বরং এটি হচ্ছে একটি চারকোণাকৃতি ক্ষেত্র। আর সেই ক্ষেত্রের ভেতর রয়েছে দুটি মসজিদ, দুটি ধর্মীয় পাঠশালা এবং চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি বিশাল প্রাসাদ। ১৬০২ থেকে ১৬১৯ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝিতে নির্মিত হয়েছিল এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি। নাকশ-ই-জাহানের নকশা তৈরি করেছিলেন তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের বিখ্যাত স্থপতি মোহাম্মদ রেজা ইস্পাহানি। আর মসজিদটির নামকরণ করা হয় ইস্পাহানে আমন্ত্রিত একজন লেবাননি ইসলাম প্রচারকের নামে। কারণ শেখ লুৎফুল্লাহ নামক ওই ব্যক্তির ওপর তাৎকালীন পারস্যের বাদশাহ শাহ আব্বাস বিশেষভাবেই মনোযোগী ছিলেন। মসজিদটির ভেতরে দাঁড়িয়ে গম্বুজের কেন্দ্রে তাকালে বাইরে ঠিকরে পড়া আলো দেখে মনে হবে যেন এক ময়ূর ছড়িয়ে আছে তার বাহারি পেখম।

নাকশ-ই জাহানের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত শাহ মসজিদ। এ মসজিদটি নির্মিত হয় ১৬১১ খ্রিস্টাব্দে। মূল মসজিদের উচ্চতা ২৭ মিটার এবং মিনারের উচ্চতা ৪২ মিটার। এর দরজা-জানালাগুলো কাঠনির্মিত হলেও সোনা-রুপার মতো মূল্যবান ধাতব পদার্থে ঢাকা। মসজিদের কিবলার দিকে আছে আরও দুটি বড় বড় নান্দনিক মিনার।

নাকশ-ই জাহানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হচ্ছে আলী গাফু প্রাসাদ। এটি ছিল মূলত রাজকীয় বাসভবন এবং বিনোদন কেন্দ্র। আলী অর্থ প্রশংসিত এবং গাফু অর্থ প্রবেশ।

পারস্যের তাৎকালীন বাদশাহ শাহ আব্বাস এই প্রাসাদেই সর্বপ্রথম নওরোজ উদযাপন করেন। ৪৮ মিটার উচ্চতার আলী গাফু প্রাসাদটি পাঁচতলাবিশিষ্ট একটি ভবন। সাধারণত যে কোনো বাড়ি বা প্রাসাদের অভ্যর্থনা কক্ষ নিচের তলায় হলেও এর অভ্যর্থনা কক্ষটি একবারে পাঁচ তলায়। সবচেয়ে বড় কক্ষটি দামি পেয়ালা, ফুলের টব এবং মূল্যবান আসবাবে সজ্জিত। প্রাসাদের সামনের অংশে আছে গ্যালারি, যেখানে বসে শাসকরা পোলো খেলা এবং ঘোড়দৌড় উপভোগ করতেন। অপূর্ব সুন্দর এ প্রাসাদটি নির্মাণ করা হয় ছয়টি ধাপে, যার জন্য সময় লেগেছিল দীর্ঘ প্রায় সাত বছর। নাকশ-ই জাহান চত্বরের মাঝখানে এখন রয়েছে একটি সুন্দর বাগান। এছাড়া প্রাসাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বর্তমানে বিশেষে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ