প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label শিল্পকর্ম. Show all posts
Showing posts with label শিল্পকর্ম. Show all posts

Saturday, October 15, 2011

নখ যখন ক্যানভাস || সিরাজুল ইসলাম

প্রতিটি মানুষই সুন্দরের পূজারি। সুন্দরকে পছন্দ করেন সৃষ্টিকর্তা নিজেও। তাই তো এত সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন এ ধরণী। গাছপালা, পাহাড়, নদী, সাগর, ফুল, ফল, পাখি, ঝর্ণা, উপত্যকা_ সবই অপার সৌন্দর্যে ভরপুর। এগুলো সবসময়ই আমাদের কাছে টানে। এসবের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আমরাও ছুটে যাই। যার দরুন কক্সবাজার, রাঙামাটি, কুয়াকাটা ও সুন্দরবনে সৌন্দর্যপিপাসুদের ভিড় লেগেই থাকে। অনেকে সীমানা পাড়ি দিতে যান দার্জিলিং ও হিমালয়ে। থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, লন্ডন, কানাডায়ও কম মানুষ যান না। তাই বলে মানুষ কিন্তু শুধু সৌন্দর্য উপভোগ করে না, নিজেকেও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে চায়। আর এ কারণেই আবিষ্কার করা হয়েছে বাহারি রঙ ও নকশার পোশাক, গহনা। আছে নানা ধরনের প্রসাধনী। চুলের স্টাইলও করা হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। তারপরও মানুষের সৌন্দর্যের তৃষ্ণা মিটছে না। এরই প্রমাণ মেলে নখ প্রদর্শনীতে। সম্প্রতি লন্ডনে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। 'নেইল এক্সিবিশন' নামের এ প্রদর্শনীতে নানা রঙ ও নকশার নখ স্থান পায়। পূর্ব লন্ডনের এক দল চিত্রশিল্পী এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। এটি সম্ভবত বিশ্বের প্রথম নখ প্রদর্শনী। লন্ডনে 'নখ নকশা' এখন শিল্পে রূপ নিয়েছে। লাখ লাখ পাউন্ডের ব্যবসাও বটে। লন্ডনের শীর্ষ নখ প্রকৌশলী থেকে সদ্য স্নাতক হওয়া শিল্পীরাও এতে যোগ দিয়েছেন। এ শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তারা। একে প্রতিষ্ঠিত শিল্প হিসেবে দাঁড় করানোই তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
এ প্রদর্শনী জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল। এখানে নানা ধরনের নকশা করা নখ কেনার সুযোগ ছিল। নিজের নখে বাহারি নকশা করিয়েও নেন অনেকে। তরুণীদের আনাগোনাই বেশি ছিল। ডিগ্রি আর্ট ডটকম নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। গ্যালারিটিও নানা নকশায় সাজানো হয়। ইনস্টলেশন, ফটোগ্রাফি, ফিল্ম ও প্রিন্ট মাধ্যমের নানা চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয় নখে। স্যাম বিডলি নামক এক শিল্পীর তুলির আঁচড়ে ফুটে ওঠে গোলাপের দৃশ্য। এ ছাড়া লতাপাতা, গাছপালা ও প্রাণীর চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়।
ডিগ্রি আর্ট ডটকমের পরিচালক ইসোবেল বিয়েনচেম্প বলেন, হাতব্যাগ ও হেয়ার স্টাইলের মতো নখের নকশাও একটি শিল্প। একে তারা দৃষ্টিনন্দন ফ্যাশন হিসেবেই দেখছেন। বেশ সাড়াও মিলছে। মেধা বিকাশ ও ভিন্নধারার শিল্পকর্ম সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই তারা এ মাধ্যমটি বেছে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, নখ শিল্পীরা এখনও সমাজে তেমনভাবে স্থান করে নিতে পারেননি। অনেকের মতে, এটা কোনো শিল্প নয়। বলা চলে, এ শিল্পীরা অনেকটা অবহেলিত। এ কারণেই এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে নখ শিল্পের প্রচার ও প্রসার ঘটবে। তারা একটা জায়গা করে নিতে পারবেন। তিনি বলেন, আমরা কাজের মানের দিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছি। যতটুকু সম্ভব ভালো শিল্পীদের এ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ প্রকল্পে রয়েছেন ম্যারিয়ান নিউম্যান, সোফি রবসন, স্যাম বিডলি, মাইক পোকক, জেনি লংওয়ার্থ, স্যু মার্স, ক্রিস্টি মিয়েকিন প্রমুখ। তারা সবাই স্নাতক ডিগ্রিধারী। তবে কিছুসংখ্যক ছাত্রও রয়েছে প্রকল্পে ।
সূত্র : সমকাল

ফলশিল্প || সিরাজুল ইসলাম

সম্প্রতি জার্মানির পূর্বাঞ্চলের লিপজিগ এলাকায় ফল ও সবজি দিয়ে তৈরি ভাস্কর্যের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপে এ ধরনের প্রদর্শনী এটাই প্রথম। শিল্পবোদ্ধারা বলছেন, এ প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ভাস্কর্যগুলো সবশেষ আধুনিক শিল্প। অনেক বিখ্যাত শিল্পীর মাথায়ও এ ধারণা ছিল না। তবে কয়েক শিল্পীর মাথায় বিষয়টি আসে। এ প্রদর্শনীতে ২৬ শিল্পীর ১১ ধরনের ভাস্কর্য স্থান পায়। এসব তৈরিতে পেঁপে, শসা, তরমুজ, মুলা, বাঁধাকপি, গাজর ও মিষ্টি কুমড়া ব্যবহার করা হয়। সিটি ট্রেড ফেয়ারের অংশ হিসেবে ব্যবসায়ীরা এর আয়োজন করেন। শ্রেষ্ঠ প্রতিযোগীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। নেফেদজেভ হলুদ ঈগল পাখি তৈরি করেন। গাজর ও মিষ্টি কুমড়া দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। আরও ৯ দেশের শিল্পীরা একই ধরনের পাখির ভাস্কর্য তৈরি করেন। ফলে কঠোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হয় নেফেদজেভকে। মিষ্টি কুমড়া দিয়ে ভিকিং হেড গড়েন কাজাখস্তানের চেফ রাদেক ভাচ। তরমুজের ওপর এশিয়ার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলেন জার্মানির উইনিফ্রাইড কারাস।
শসা দিয়ে এক জোড়া ব্যাঙ তৈরি করা হয়। এগুলোর চোখ তৈরিতে ব্যবহার করা হয় গাজর। বেগুন দিয়ে তৈরি করা হয় পেঙ্গুইন। এর চশমা তৈরিতেও গাজর ব্যবহার করা হয়। এ প্রদর্শনীতে আসা এক চীনা শিল্পী বলেন, ভাস্কর্যগুলো খুবই সুন্দর। তিনি এতে বিমোহিত। ফল ও সবজি থেকে দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য তৈরি করা যায়_ এগুলো না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।
সুত্র : সমকাল

কাঠির নগর || সিরাজুল ইসলাম

নিজের শহর_ কে না মনের মতো করে সাজাতে চায়? আর শিল্পী হলে তো কথাই নেই। মাথার মধ্যে সব সময় ঘুরঘুর করে একটা স্বপ্নের শহর। এমনই একজন শিল্পী স্কট ওয়েভার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের সান ফ্রান্সিসকো শহরের বাসিন্দা। এ শহরের একটি কাল্পনিক মডেল তৈরি করেছেন তিনি। এটি মূলত একটি ভাস্কর্য। এতে ব্যবহার করা হয়েছে এক লাখ ৩ হাজার ৯৮৭টি কাঠের শলাকা। এটি তৈরি করতে সময় লেগেছে ৩ হাজার ঘণ্টা। শিল্প বোদ্ধারা বলছেন, এটি অবিশ্বাস্য শিল্পকর্ম। এর নাম দেওয়া হয়েছে রোলিং থ্রো দ্য বে। এটির উপর থেকে মার্বেল ফেললে তা আস্তে আস্তে গড়িয়ে নিচে পড়বে। এর অর্থ হলো একটি বিশেষ জায়গা থেকে ভ্রমণ শুরু করলে রাস্তাই আপনাকে শেষ গন্তব্যে নিয়ে যাবে। এ ভাস্কর্যটি থেকে পর্যটকরা সহজেই এ শহর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতে পারবেন। এটির উচ্চতা ৯ ফুট। বিভিন্ন ভাস্কর্যের বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে এটি তৈরি করা হয়। এ শহরের কালজয়ী ঘরবাড়ি, জাহাজ ঘাট, সোনালি ফটক সেতু এবং পাহাড়ে টেরাকোটা বাড়ির ভাস্কর্যও তৈরি করেছেন তিনি। এ ভাস্কর্যে কাল্পনিক শহরের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের কথাও বলেছেন ওয়েভার। যে বাড়িতে তার পরিবার থাকত, শৈশব কিভাবে কেটেছে, তার বিয়ের তারিখ ও অতিথিশালার বর্ণনাও রয়েছে এ ভাস্কর্যে। এটির ওপর দিয়ে বেশ ধকলও গেছে। এটিকে একটি ভূমিকম্প সইতে হয়েছে। ৪টি বাড়িতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তার পরও টিকে আছে এ নান্দনিক ভাস্কর্যটি। এ সম্পর্কে শিল্পী ওয়েভার বলেন, তিনি কাঠের শলাকা দিয়ে পৃথিবীর সব চেয়ে বড় ভাস্কর্য তৈরির স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু কি তৈরি করবেন তা ভেবে পাচ্ছিলেন না। অবশেষে তিনি সান ফ্রান্সিসকো শহরের কাল্পনিক মডেল তৈরি করেন।
সূত্র : সমকাল

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ