প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label মধু. Show all posts
Showing posts with label মধু. Show all posts

Wednesday, September 7, 2011

ফুলকপি

ফুলকপি ব্রাসিকেসি পরিবারভুক্ত ব্রাসিকা অলেরাসিয়া (en:Brassica oleracea) প্রজাতির সবজিগুলোর একটি। এটি একটি বার্ষিক ফসল যা বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। সাধারণতঃ ফুলকপির ফুল অর্থাৎ সাদা অংশটুকুই খাওয়া হয় আর সাদা অংশের চারপাশে ঘিরে থাকা ডাঁট এবং পুরু, সবুজ পাতা দিয়ে স্যুপ রান্না করা হয় অথবা ফেলে দেওয়া হয়। ফুলকপি খু...বই পুষ্টিকর একটি সবজি; এটি রান্না বা কাঁচা যে কোন প্রকারে খাওয়া যায়, আবার এটি দিয়ে আচারও তৈরি করা যায়।

পাতা দিয়ে ঘিরে থাকা সাদা অংশটুকু দেখতে ফুলের মতো বলেই ফুলকপির এমন নামকরণ। এর বৈজ্ঞানিক নাম ব্রাসিকা অলিরাসিয়া (en:Brassica oleracea), যার মধ্যে বাঁধাকপি, ব্রকলি ইত্যাদিও পড়ে, অবশ্য এরা ভিন্ন চাষ গোত্রভুক্ত।
শীতে আসে নতুনসব পরিবর্তন, পোশাকে-আশাকে সব ক্ষেত্রে। তেমনি সবজির ক্ষেত্রেও। শীতে নতুন নতুন সবজির চাষ হয়। আর এ সবজি বেশ মজাদার। শীত মৌসুমে বাজারে গেলে শীতের সবজি হিসেবে দেখতে পাবেন অনেক কিছু। তেমনি অতি পরিচিত এবং আমিষপ্রিয় একটি সবজি কপি। কপির মধ্যে ফুলকপি ও বাঁধাকপি খুবই জনপ্রিয়। মজার ব্যাপার হলো, কপি কিন্তু শাক নয়। তবুও পালং, লেটুস সবজির সে শ্রেণী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। কপি শীতকালীন উৎকৃষ্ট সবজি এবং সরিষা পরিবারের ব্রাসিকা প্রজাতির সবজি বলা হয়। কপির মধ্যে ফুলকপি ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় আদিস্থান এবং বাঁধাকপি খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে ইউরোপে উৎপত্তি হয়েছে এবং গ্রিস, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স প্রভৃতি দেশে এর প্রধান প্রধান জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। বাংলাদেশে ফুলকপি ও বাঁধাকপি বেশি পরিচিত এবং চাষ হচ্ছে অধিক পরিমাণে। আমাদের দেশে মূলত কপি শীত মৌসুমে পাওয়া যায়। কারণ এই শীতল ও আর্দ্র জলবায়ুতে কপি চাষ হয়। কপির মধ্যে ফুলকপি দ্বিবর্ষজীবী গাছ হিসেবে গণ্য করা হলেও এর অনেক বর্ষজীবী জাতও রয়েছে। দ্বিবর্ষজীবী জাতসমূহ শীতপ্রধান অঞ্চলে জন্মে। আমাদের দেশে ইদানীং ফুলকপির শঙ্কর জাত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া বিভিন্ন জাতের মধ্যে রয়েছে কার্তিকা, অগ্রহায়ণী, পোষাণী, মেইন ক্রপ, ট্রপিক্যাল গ্রো-৫৫, হোয়াইট ব্যারন, আর্লিপাটনা, স্নোবল ওয়াই, সুপ্রিমাক্স, মাঘী বেনারসী, মাউন্টেন, এলাগন, রাক্ষসী, পুশা দীপনী প্রভৃতি। অন্যদিকে অসংখ্য জাতের বাঁধাকপি এদেশে চাষ হচ্ছে। তাইওয়ানের ইয়োসিন গোত্রীয় বাঁধাকপি থেকে বাংলাদেশে প্রভাতী নামের একটি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য জাতের মধ্যে রয়েছে জার্সিওয়েক ফিল্ড, চার্লসটন, কোপেনহেগেন, গ্লোরি, গ্লোল্ডেন ক্রস, স্টোনহেড, ডেনিস বলহেড, ব্রান্স উইক, ড্রামহেড, ভালগা, আলফা, হায়ভেটার প্রভৃতি। কপি অত্যন্ত সুস্বাদু ও উপাদেয় সবজি এবং যথেষ্ট পুষ্টিগুণও রয়েছে। ফুলকপিতে আমিষ, শর্করা, পটাশ ও ভিটামিন-বি যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যমান। ভাজি ও তরকারি হিসেবে ফুলকপি খাওয়া হয় এবং মুখরোচক সিঙ্গারা, পুরি, ফুল্লরি তৈরি হয়। অন্যদিকে বাঁধাকপিতে ভিটামিন-'ও' এবং 'সি' পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, খনিজ লবণ বিদ্যমান থাকে। ভাজি হিসেবে বাঁধাকপি প্রধান খাদ্য। তবে ইদানীং তরকারি ও সালাদ হিসেবে খাওয়া। অনেকেই কপি কাঁচা খেয়ে থাকেন। আমাদের দেশে কাঁচা কপি খাওয়া অল্প হলেও বিদেশে কিন্তু কাঁচা কপি খাওয়া হয় অনেক। কপির পুষ্টিগুণে ফুলকপির ক্ষেত্রে আধা কাপ রান্না করা ফুলকপির (৬০ গ্রাম ওজন) পুষ্টিগুণ যথাক্রমে প্রোটিন ১.৫ গ্রাম, ০.১ গ্রাম ফ্যাট, ৩ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১৫ ক্যালরি এনার্জি, খনিজ পদার্থ ২৩ মিলিগ্রাম, ০.৫ মিলিগ্রাম আয়রন, ১১ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ১৫২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম এবং ৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়।
ফুলকপি চাষ
বাংলাদেশে ১৯৯৬-৯৭ সালে মোট ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষাবাদ হয় এবং উৎপাদন হয় প্রায় ৭৬ হাজার টন। আমাদের দেশে চাষকৃত ফুলকপি অধিকাংশই সংকর জাতের এবং বিদেশ থেকে আমদানিকৃত যা স্থানীয় আবহাওয়ায় বীজ উৎপাদন করে না। ঠাণ্ডা ও আর্দ্রতা জলবায়ুতে ফুলকপির ভাল ফলন পাওয়া যায়। সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা আছে এমন ধরনের সব মাটিতে ফুলকপির চাষ ভাল হয়। আমাদের দেশে মাঘী, অগ্রহায়ণী, পৌষালী, বারি ফুলকপি-১, ২ ইত্যাদি বিভিন্ন জাতের ফুলকপি পাওয়া যায়। ফুলকপি বপনের উপযুক্ত সময় হল আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর। প্রতি শতকে বীজের পরিমাণ দুই গ্রাম। বীজতলার জন্য ৩ ×১ মিটার মাপের ১৫ সে.মি. উঁচু বেড তৈরি করলে ভাল হয়। বীজতলার উপরের স্তরে ১:১ অনুপাতে পচা গোবর/আবর্জনা সার এবং দো-আঁশ মাটির মিশ্রণ ছড়িয়ে দিতে হবে। এরপর তিন-চার সপ্তাহ পলিথিন দিয়ে মাটি ঢেকে রেখে শোধনের পর পাঁচ সে. মি. দূরে দূরে লাইনে ছিটিয়ে ১০ গ্রাম বীজ বুনতে হবে। অতিবৃষ্টি ও রোদের ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য উপরে পলিথিন বা চাটাইয়ের আচ্ছাদন দিতে হবে। ১০ দিন পর দ্বিতীয় বীজতলায় পাঁচ সে.মি. পর পর সারি করে দুই সে.মি. দূরে দূরে শেষ বিকেলে স্থানানস্তর করতে হবে। দ্বিতীয় বীজতলায় চারা স্থানানস্তরের পাঁচ দিন পর বীজতলার চারায় প্রতি ১০ লিটার পানির সাথে ৩০ গ্রাম সোহাগা মিশিয়ে স্প্রে করা অত্যাবশ্যক।

সার ব্যবহার: পচা গোবর জমি তৈরির সময় ৫০ কেজি দিতে হবে। প্রতি শতকে ইউরিয়া শেষ চাষের সময় ২৫০ গ্রাম, তার ২০ দিন পর ৫০০ গ্রাম এবং ৩৫ দিন পর ২৫০ গ্রাম। টিএসপি শেষ চাষের সময় ৭০০ গ্রাম দিতে হবে। এমপি শেষ চাষের সময় ২০০ গ্রাম, ২০ দিনপর ৩০০ গ্রাম এবং ৩৫ দিন পর ২০০ গ্রাম। জিপসাম জমি তৈরির সময় ৪০০ গ্রাম দিতে হবে। জিংক সালফেট শেষ চাষের পর ৪০ গ্রাম এবং সোহাগা শেষ চাষের সময় ৪০ গ্রাম।

২৫ থেকে ৩০ দিন বয়সের চারা সারি থেকে সারি ৫০ সে.মি. (২০ ইঞ্চি) এবং চারা থেকে চারা ৪০ সে.মি. (১৬ ইঞ্চি) দূরত্ব বজায় রেখে রোপণ করতে হবে। প্রথম ও দ্বিতীয়বার সার উপরি প্রয়োগের পর পরই সারির দু'পাশের মাটি আলগা করে গাছের গোড়ায় তুলে দিতে হবে। এতে সেচ ও নিষ্কাশন উভয় কাজে সুবিধা হবে। চারা রোপণের ৪৫ দিন পর কপি সংগ্রহ করতে হয়। শতকে ৬০-৮০ কেজি আর একরে ৬ থেকে ৮ টন ফুলকপি জন্মে।

আবশ্যকীয় কার্যাবলী:
১. পানি নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত উঁচু জমিতে চাষ করতে হবে।
২. আগাছা দমন করতে হবে।
৩. সেচ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৪. রোগ-বালাই দমনে উপযুক্ত ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. অবশ্যই সোহাগা ব্যবহার করতে হবে। ৬. সঠিক বয়সের সুস্থ ও সবল চারা স্থানান-র, পরিমিত সার, সেচ ও অন্যান্য অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা সঠিক সময় ও নিয়ম অবশ্যই সম্পাদন করতে হবে।
কেঁচো সার দিলে ফুলকপি ভালো হয়

ফুলকপি প্রজাতির বিচারে দুই রকম। ইউরোপিয়ান এবং এশিয়ান টাইপ। প্রথম টাইপে কম তাপমাত্রায় ফুল হয়। দ্বিতীয় টাইপে বেশি তাপমাত্রায় ফুল তৈরি হয়। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে ফুল পেতে হলে এশীয় টাইপ এবং পরবর্তী সময়ের জন্য ইউরোপিয়ান টাইপ রোপণ করতে হবে।

বীজ বপন ও চারা তৈরি : ঝুরঝুরে মাটি তৈরি করে প্রতি এক বর্গমিটার জায়গায় এক ঝুড়ি পচা গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে। কেঁচো সার প্রয়োগ করলে চারার বৃদ্ধি ভালো হয়। রাসায়নিক সার বীজতলায় প্রয়োগ না করলেও চলবে।

মাটির ভেতরে থাকা ছত্রাক বিনাশ করতে ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা দরকার। সে ক্ষেত্রে জমি বীজতলা তৈরির ১৫ দিন আগে থেকে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, যাতে ভেতরের তাপমাত্রা বের হতে না পারে। সেপ্টেম্বর মাসে বীজতলা মাটি থেকে ১৫ সেন্টিমিটার উঁচুতে তৈরি করতে হবে। বিঘাপ্রতি ৪০ থেকে ৭০ গ্রাম বীজ দরকার।
বীজ লাইন করে রোপণ করলে চারা সুস্থ ও সবল হয়। একটি চারা থেকে অন্যটির দূরত্ব হওয়া দরকার পাঁচ থেকে সাত সেন্টিমিটার। বীজ ফেলার পাঁচ থেকে সাত সপ্তাহ পর চারা মূল জমিতে রোপণের উপযুক্ত হয়ে যায়। গোড়া পচা রোগ থেকে চারাকে রক্ষা করতে ডায়াথেন এস-৪৫-এর ০.২ শতাংশ দ্রবণ দিয়ে মাটি ভিজিয়ে নিতে হবে।
মূল জমিতে বিঘাপ্রতি দুই টন গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে। জমি তৈরির সময়ে ১৫ কেজি ইউরিয়া, ৬০ কেজি ফসফেট ও ১০ কেজি পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে। রোপণের আগে গোড়া অনুখাদ্যের দ্রবণে ভিজিয়ে নিলে বৃদ্ধি ভালো হয়।

জমি তৈরি করার সময় ১৫ কেজি ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে। অবশিষ্ট ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করতে হবে। সার জমিতে ছড়িয়ে না দিয়ে গাছের গোড়ার চারপাশে দিতে হবে।
অনুখাদ্যের অভাব মেটাতে চারা অবস্থায় গাছে ০.৩ শতাংশ বোরন স্প্রে করা যেতে পারে অথবা দেড় থেকে দুই কেজি বোরন মূল জমিতে স্প্রে করা যেতে পারে।

পরিচর্যা : মাটি বেশি শুকনো হয়ে গেলে হালকা সেচ দিতে হবে। ঘাসের উপদ্রব হলে চারা রোপণের আগে তা তুলে ফেলতে হবে। ফুলকপির নানা রকমের শারীরবৃত্তীয় উপসর্গ দেখা দিতে পারে, এর মধ্যে পাতা লম্বা হয়ে যাওয়া, ছোট ফুল, ফুল না আসা, ভ্যাদভেদে রোগ অন্যতম। বাদামি রোগ হয় বোরনের অভাবে।
মলিবডেনামের অভাবে পাতা সরু ও লম্বা হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে বোরন দেওয়ার পদ্ধতি আগেই বলা হয়েছে।
ফুলকপিতে বেশ কয়েকটি ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ দেখা যায়। এর মধ্যে ধসা রোগ, ক্লাব রট, ডাউনি মিলডিউ, পাতা পচা রোগ উল্লেখযোগ্য।

ধসা রোগ ঠেকাতে ডায়াযেন এম-৪৫-এর ০.২ শতাংশ দ্রবণে মাটি ভিজিয়ে নিতে হবে। পাতা পচা রোগ ঠেকাতে ব্যাকটেরিয়ানাশক দিয়ে বীজ শোধন করে নিতে হয়। এক ধরনের মাছির শুককীট রয়েছে যারা শিকড় খেয়ে ফেলে। এতে গাছ শুকিয়ে যায়। এ ধরনের সমস্যা হলে ম্যালাথিয়ন ০.০২ শতাংশ দ্রবণ স্প্রে করতে হবে।




ফসল : চারা রোপণের ৭০ থেকে ৮০ দিন পর ফসল সংগ্রহ করা যায়। ঠিকঠাকমতো চাষ করতে পারলে বিঘাপ্রতি দুই থেকে তিন টন ফুল পাওয়া যায়। শংকর প্রজাতির ক্ষেত্রে বিঘাপ্রতি সাত থেকে আট টন ফুল পাওয়া সম্ভব।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্শাদোলনের অন্যতম বীর যোদ্দা তিতুমীর

তিতুমীর (১৭৮২-১৮৩১)চব্বিশ পরগনা জেলার হায়দরপুর গ্রামে ১৭৮২ সালে মীর নিসার আলি ওরফে তিতুমীরের জন্ম। ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে বা ১১৭৬ বঙ্গাব্দে বাংলায় এক ভয়াবহ দুর্ভিড়্গ হয়, তা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে খ্যাত। সে দুর্ভিড়্গে এ দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনসংখ...্যা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। সে সময়ে দেশে ছিল চরম অরাজক অবস্থা। সে সঙ্গে চলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজস্ব আদায়ের অত্যাচার ও জবরদস্তি।

দেশের সাধারণ মানুষের নির্যাতিত অবস্থা তিতুমীরের সহ্য হয়নি। তিনি মুষ্টিযুদ্ধ, অসি চালনা, লাঠিখেলা, তীরছোড়া শিক্ষা করেন। উদ্দেশ্য অত্যাচারী জমিদার ও চোর-ডাকাতের হাত থেকে স্থানীয় জনসাধারণকে রক্ষা করা।

১৮২১ সালে তিতুমীর হজ উপলক্ষে মক্কা শরিফে যান। সেখানে ওয়াহারী আদর্শের প্রবক্তা সৈয়দ আহমদের সঙ্গে তার দেখা হয় এবং তিনি তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। মক্কা শরিফ থেকে ফিরে তিতুমীর নারিকেলবাড়িয়ার কাছাকাছি হায়দরপুরে বসবাস শুরম্ন করে ধর্ম সংস্কারক হিসেবে তার কাজ আরম্ভ করেন। তার গুরম্নর ওয়াহাবী আন্দোলনের মতাদর্শ প্রচার শুরম্ন করার স্বল্পকালের মধ্যেই তিনি তিন চারশ শিষ্য সংগ্রহ করেন। ক্রমেই তার বিচড়্গণতা এবং পারদর্শিতা সবার দৃষ্টি কাড়ে। শুধু ধর্মসংস্কারই নয়, হিন্দু জমিদারদের অত্যাচার থেকে নিম্নবিত্ত মুসলমান জনসাধারণকে মুক্তি দেয়ার লড়্গ্যেও তিনি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। স্বীয় ধর্মের অত্যাচারিত মানুষ তার নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হতে থাকে। তার এই অসাধারণ সাফল্যে হিন্দু জমিদাররা ভয় পেয়ে যায়। তিতুমীরের কার্যকলাপে রম্নষ্ট হয়ে ওঠেন পুড়ার জমিদার ও নীলকররা।

এর আগে তিতুমীর চাঁদপুর-হৃদয়পুরের এক সভায় বক্তৃতা করেন। বক্তৃতার বিষয় ছিল ইসলামে পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন, রাসূলুলস্নাহর নির্দেশ অনুযায়ী জীবনযাপন, হিন্দু-মুসলিম কৃষক সম্প্রদায়ের একতাবদ্ধ হওয়া, নীলকরদের অত্যাচার দমন এবং দেশ থেকে ইংরেজ বিতাড়ন। ফলে বিভিন্ন জমিদার-নীলকর সবাই মিলে তিতুমীরকে শায়েস্তা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

শুরু হয় ওয়াহাবীদের ওপর জমিদারের অত্যাচার, এমনকি তাদের দাড়ির ওপর খাজনা আদায় শুরম্ন হয়। ফলে তিতুমীর জমিদারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এই সময় ফকির মিসকিন শাহ তার শিষ্যদের নিয়ে তিতুর সঙ্গে যোগ দেন।

স্থানীয় জমিদারদের সঙ্গে কয়েকটি সংঘর্ষে তিতুমীর জয়লাভ করেন। তার দলে অনেকে এসে যোগ দেয়। তিতুর নির্দেশে হিন্দু-মুসলমান প্রজারা জমিদারের খাজনা বন্ধ করে দেয়।

জমিদার ও নীলকরদের আবেদনে সাড়া দিয়ে ১৮৩০ সালে ম্যাজিস্ট্রেট আলেকজান্ডারকে পাঠানো হয় তিতুমীরকে দমন করার জন্য কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট ও তার সিপাহি- বাহিনী তিতুমীরের সঙ্গে যুদ্ধে পরাস্তô হয়। তিতুমীর এরপর কয়েকটি নীলকুঠিও লুণ্ঠন করেন।

ইতিমধ্যে তিতুমীর নিজেকে স্বাধীন বাদশাহ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং সম্ভাব্য আক্রমণের মোকাবেলায় নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে একটি সুদৃঢ় বাঁশের কেলস্না তৈরি করেন। তিতুমীরের বাহিনী বাঘারেয়ার নীলকুঠির প্রাঙ্গণের এক যুদ্ধে নদীয়ার কালেক্টর এবং নদীয়া ও গোবরডাঙ্গার জমিদারের সম্মিলিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হয়।

অবশেষে বাঁশের কেলস্না আক্রমণের জন্য ইংরেজ সরকারের পাঠানো পদাতিক ঘোড়সওয়ার ও গোলন্দাজ বাহিনীর সঙ্গে তিতুমীরের তীর-বল্লমসজ্জিত বাহিনীর যুদ্ধ হয় ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর। এই অসম যুদ্ধে তিতুমীরসহ বহুসংখ্যক যোদ্ধা শহীদ হন। কামানের গোলায় বাঁশের কেলস্না উড়িয়ে দেয়া হয়।

এই বিদ্রোহ জমিদার, মহাজন, নীলকর ও ইংরেজ শাসকের বিরম্নদ্ধে পরিচালিত হলেও যুগের প্রভাবে ধর্মীয় ধ্বনিও তাতে প্রাধান্য পেয়েছিল এবং তার ফলে তা হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়কে মিলিত করতে পারেনি। তা সত্ত্বেও দেশীয় সামন্ত শক্তি এবং বিদেশি শাসকশক্তির বিরম্নদ্ধে সম্প্রসারিত এই বিদ্রোহ ভবিষ্যতে সংগ্রামের ভিত তৈরি করেছিল।

চিনি গাছ

চিনি গাছ
চিনি গাছ স্টেভিয়া (Stevia) গাছটির সহজ বাংলা নাম। স্টেভিয়া একটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদের নাম যেটা ন্যাচারাল সুইটেনার হিসাবে পরিচিত। নামটি এসেছে স্প্যানিশ উদ্ভিদবিদ “পেদ্রো জাইমি এস্টেভ” এর নাম থেকে, যিনি প্রথম এই স্টেভিয়া উদ্ভিদটি নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। এই গাছের পাতায় আছে এক ধরণের মিষ্টি গ্লাইকোসাইডস যেটা খাবার চিনি ‘সুক্রোস’ থেকে ৩০ থেকে ...৪৫ গুণ বেশি মিষ্টি এবং ক্যালরির পরিমাণ শুন্য। অর্থাৎ যেখানে আমরা ১গ্রাম সুক্রোস থেকে পেয়ে থাকি ৪ ক্যালরি, সেখানে স্টেভিয়া থেকে প্রাপ্ত ক্যালরি হবে শুন্য। এটাতে ক্যালরি শুন্য তার কারণ হল এটি সুক্রোসের মত
স্টোমাকে ডাইজেস্ট হতে পারে না। এদের গ্লাইকোসাইডটির নাম স্টেভিওসাইডস এবং রিবাউডিওসাইড, এটি অন্যান্য কৃত্রিম সুইটেনার যেমন সাইক্ল্যামেট, স্যকারিন থেকে আলাদা যেগুলো কিনা
সম্ভাব্য ক্যান্সার সৃষ্টিকারক। এখন এই স্টেভিয়া বিভিন্ন স্বল্প ক্যালরি ফুড আইটেম এ ব্যাবহৃত হোয়ে আসছে। বিভিন্ন গ্রোসারি স্টোরে ও এটি পাওয়া যায় স্টেভিয়া/পিওরভিয়া বা অন্য কোন নামে।

স্টেভিয়া সাধারণতঃ ট্রপিকাল এবং সাবট্রপিকাল অঞ্চলের, এটি সূর্যমুখি পরিবার ভুক্ত, স্টেভিয়া জেনাসের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। এটি সাধারণতঃ উত্তর আমেরিকা থেকে দক্ষিন আমেরিকায় জন্মায়। এই হল স্টেভিয়া প্লান্ট এর পরিচিতি অতি সংক্ষিপ্ত আকারে।

গ্লাডিওলাস


গ্লাডিওলাস ফুল ইদানিংকালে
আমাদের দেশে অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এর ইংরেজি নাম Sword lily ও বৈজ্ঞনিক নাম Gladiolus sp. গ্লাডিওলাস ফুল কমবেশি সারাবছরই আমাদের দেশে উৎপাদন করা হয়। গ্লাডিওলাস ফুল বিভিন্ন রঙ- এর হয়ে থাকে। যেমন-সাদা, হলুদ, গোলাপী, লাল, ফিকে লাল, বেগুনী ইত্যাদি। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ ...করে ঢাকা, যশোর, সাতক্ষীরা, কুমিল্লা প্রভৃতি অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে এই ফুলের চাষ করা হচ্ছে। যে কোনো উৎসবে এই ফুলের উপস্থিতি দেখা যায়। টিনা, পুনম, ফ্রেন্ডশিপ, হোয়াইট ফ্রেন্ডশিপসহ বিভিন্ন প্রজাতির গ্গ্ন্যাডিওলাস ফুল রয়েছে। এই ফুল চাষ করে আপনিও আয়ের পথ সুগম করতে পারেন। জমি নির্বাচন ও বপন পদ্ধতি : এই ফুল চাষের জন্য প্রায় সব ধরনের মাটিই উপযুক্ত। তবে বেলে ও কাদামাটিতে চাষ না করাটাই ভালো। বেশি জৈব পদার্থযুক্ত মাটিই গ্লাডিওলাস ফুল চাষের জন্য ভালো। যে জমিতে এই ফুল চাষ করা হবে তাতে যেন পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে এ বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। এই ফুলের চারা সাধারণত কন্দ থেকে তৈরি হয়। কন্দ লাগানোর আগে জমি ভালো করে তৈরি করে নিতে হবে। কন্দের আকৃতির ওপর সাধারণত নির্ভর করে ফুলের আকার ও আকৃতি। বিঘাপ্রতি ২ থেকে ৩ টন গোবর সার, ৫০ কেজি সুপার ফসফেট ও ১৫ কেজি ইউরিয়া সার মিশিয়ে জমি তৈরি করে নিতে হবে। জমি তৈরি হয়ে গেলেই কন্দ রোপণ করা যায়।
সেচ ও আগাছা দমন : কন্দ রোপণের পর সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে সেটা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়। আগাছা ভালোমতো পরিষ্কার করাটা জরুরি।
ফুল সংগ্রহ : এগাছ থেকে ফুল ৭০-৯০ দিনের মধ্যেই সংগ্রহ করা যায়। দুপুরে গাছ থেকে ফুল তোলা যাবে না। ফুল সংগ্রহ করতে হবে সকাল বা বিকেলে।
ফুল বাজারজাতকরণ : ফুলের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে শাহবাগ। এছাড়া দেশের সব জেলাতেই রয়েছে অসংখ্য ফুলের দোকান। আর এসব দোকানে বর্ণিল গ্গ্ন্যাডিওলাস ফুলের চাহিদা প্রচুর। এসব দোকানে ফুল সরবরাহ করে আয় করতে পারেন।

বংশবিস্তার
১. বীজ, গুঁড়ি কন্দ ও গুঁড়ি কন্দের গায়ে জন্মানো ছোট ছোট কন্দ থেকে গ্লাডিওলাসের বংশবিস্তার করা যায়।
২. বীজ থেকে তৈরি চারাতে ফুল আসতে অনেক সময় লাগে এবং জাতিগত বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে না। তাই বীজ দিয়ে সাধারণত বংশবিস্তার করা হয় না।
৩. ফুল দেয়া শেষ হলে গাছ শুকিয়ে যায়। এ সময় মাটি খুঁড়ে গ্লাডিওলাসের কন্দ তুলে নিয়ে এর গায়ে জন্মানো ছোট কন্দগুলো আলাদা করে নিতে হবে।
৪. এর কন্দগুলোর গায়ে লেগে থাকা মাটি পরিষ্কার করে নিয়ে কন্দগুলো ছায়াযুক্ত জায়গায় রেখে শুকিয়ে নিতে হবে।
৫. শুকানোর পর কন্দগুলো কিছুটা অন্ধকার শুকানো জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে।
৬. এগুলো সুপ্ত অবস্থা অতিক্রম করে গজানো শুরু করলে নতুন ফুল গাছের জন্য মাটিতে রোপণ করতে হবে.
A field of gladioli

Sunday, September 4, 2011

ব্যাক পেইনের সমস্যায়

ব্যাক পেইনের সমস্যায় আজকাল বেশিরভাগ মানুষই কষ্ট পান। শোয়া-বসা সবকিছুই তখন অসহ্য লাগে। চলুন এ যন্ত্রণা থেকে কী করে মুক্তি পাবেন তার কিছু উপায় জেনে নিই। চিকিত্সকদের মতে, রাতে শোয়ার সময় একভাবে শুয়ে থাকবেন না। মাঝে মাঝে ডান দিকে মুখ করে ঘুমান। তো কখনও বাঁ দিকে মুখ করে শুতে পারেন। বিছানাতে গদি রাখবেন না। শুধু মাদুরের ওপর শুয়ে থাকুন। বিছানায় শুয়ে কখনও টিভি দেখবেন না। খবরের কাগজ পড়বেন না। যদি শুয়ে শুয়ে টিভি দেখার চেষ্টা করেন তাহলে আপনার ব্যথাটা বেড়ে যাবে। কখনও একভাবে বসে থাকবেন না। একভাবে বসে থাকার ফলে আপনার মাংসপেশির ওপর চাপ পড়বে। তাই মাঝে মাঝে নিজের বসার অবস্থাটা পরিবর্তন করুন। চিকিত্সকরা বলেন, যদি আপনি একনাগাড়ে কোথাও বসে থাকেন, যেমন—সিনেমা হলে মুভি দেখতে গেছেন, তখন একনাগাড়ে বসে থাকতে হয়। তখন পায়ের ওপর পা দিয়ে বসুন। এতে আপনার মাংসপেশির ওপর চাপ পড়বে না। বাড়িতে যে কোনো কাজের জিনিস হাতের কাছে রাখুন। সেগুলো নিতে গিয়ে আপনাকে যেন ঝুঁকতে না হয়। ওয়ালেট রাখার বিষয়ে সতর্ক হয়ে যান। পুরুষরা বিশেষ করে পেছনের পকেটে কখনও ওয়ালেট রাখবেন না। ভারি জিনিস কখনও তুলবেন না। মহিলাদের ক্ষেত্রে সন্তান হওয়ার পর ওজন যাতে না বেড়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।

Monday, March 7, 2011

Paradise Tree



প্রচলিত অন্যান্য নাম Bead Tree, China Ball Tree, Paradise Tree, Persian Lilac, White Cedar, Japanese Bead Tree, Texas Umbrella Tree, Pride-of-Indiaইত্যাদি।


বাংলাদেশের উত্তর জনপদে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। উপহিমালয়ের প্রজাতি, আছে মিয়ানমার, চীন ও ইরানে, জন্মে ইউরোপ আমেরিকায়ও। ১৮৩০ সালের দিকে অর্নামেন্টাল ট্রি হিসাবে আমেরিকার ক্যারোলিনা ও জর...্জিয়ায় পৌঁছায়। মূলত নিমের সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের যে আত্মিক যোগ আছে ঘোড়ানিমের সঙ্গে ঠিক সেভাবে নয়। কারণ আমাদের দেশে নিমটাই সহজলভ্য, ঘোড়ানিম মাত্র দুই দশক আগে থেকে লাগানো শুরু হয়েছে। এখানে সাধারণত সুদর্শন পুষ্প বৃ হিসাবেই চাষ। ফুলের সৌন্দর্য নজরকাড়া এবং অনেকটা উপেতিও বটে। ফুল ঝরেপড়ার পর ফলের নান্দনিকতাও আমাদের মোহিত করে।

 
৮ থেকে ১২ মিটার উঁচু পত্রমোচী গাছ, মাথা ছড়ানো। কা-ে লম্বা ফাটা ফাটা দাগ। যৌপত্র, ২-৩ পল, ৩০ থেকে ৪০ সেমি লম্বা, পত্রিকা ৬ সেমি লম্বা। বসন্তে নিষ্পত্র ডালে ১০-২০ সেমি লম্বা ডাঁটায় ছোট ছোট নীলচে বেগুনি বা বেগুনি রঙের সুগন্ধি ফুল ফোটে, পাপড়ি ৫-৬টি, মাঝখানে পুংকেশরের একটি গাঢ়-বেগুনি নল। ফল ডিম্বাকার, ১.৫ সেমি লম্বা, বীজ ৪-৫টি। বংশবৃদ্ধি বীজের মাধ্যমে। ঔষধি গুণসম্পন্ন। এ গাছ থেকে তৈরি নিমতেল তিকর পোকামাকড় দমনে অত্যন্ত কার্যকর। ফল ইন্ডিয়ান গ্রে হর্নবিল পাখির প্রিয় খাবার। কাঠ দারুমূল্যযুক্ত। 
 

Tuesday, February 22, 2011

স্টেভিয়া

চিনি গাছ স্টেভিয়া (Stevia) গাছটির সহজ বাংলা নাম। স্টেভিয়া একটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদের নাম যেটা ন্যাচারাল সুইটেনার হিসাবে পরিচিত। নামটি এসেছে স্প্যানিশ উদ্ভিদবিদ “পেদ্রো জাইমি এস্টেভ” এর নাম থেকে, যিনি প্রথম এই স্টেভিয়া উদ্ভিদটি নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। এই গাছের পাতায় আছে এক ধরণের মিষ্টি গ্লাইকোসাইডস যেটা খাবার চিনি ‘সুক্রোস’ থেকে ৩০ থেকে ...৪৫ গুণ বেশি মিষ্টি এবং ক্যালরির পরিমাণ শুন্য। অর্থাৎ যেখানে আমরা ১গ্রাম সুক্রোস থেকে পেয়ে থাকি ৪ ক্যালরি, সেখানে স্টেভিয়া থেকে প্রাপ্ত ক্যালরি হবে শুন্য। এটাতে ক্যালরি শুন্য তার কারণ হল এটি সুক্রোসের মত
স্টোমাকে ডাইজেস্ট হতে পারে না। এদের গ্লাইকোসাইডটির নাম স্টেভিওসাইডস এবং রিবাউডিওসাইড, এটি অন্যান্য কৃত্রিম সুইটেনার যেমন সাইক্ল্যামেট, স্যকারিন থেকে আলাদা যেগুলো কিনা
সম্ভাব্য ক্যান্সার সৃষ্টিকারক। এখন এই স্টেভিয়া বিভিন্ন স্বল্প ক্যালরি ফুড আইটেম এ ব্যাবহৃত হোয়ে আসছে। বিভিন্ন গ্রোসারি স্টোরে ও এটি পাওয়া যায় স্টেভিয়া/পিওরভিয়া বা অন্য কোন নামে।
স্টেভিয়া সাধারণতঃ ট্রপিকাল এবং সাবট্রপিকাল অঞ্চলের, এটি সূর্যমুখি পরিবার ভুক্ত, স্টেভিয়া জেনাসের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। এটি সাধারণতঃ উত্তর আমেরিকা থেকে দক্ষিন আমেরিকায় জন্মায়। এই হল স্টেভিয়া প্লান্ট এর পরিচিতি অতি সংক্ষিপ্ত আকারে।

গ্লাডিওলাস

গ্লাডিওলাস ফুল ইদানিংকালে
আমাদের দেশে অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এর ইংরেজি নাম Sword lily ও
বৈজ্ঞনিক নাম Gladiolus sp. গ্লাডিওলাস ফুল কমবেশি সারাবছরই আমাদের দেশে
উৎপাদন করা হয়। গ্লাডিওলাস ফুল বিভিন্ন রঙ- এর হয়ে থাকে। যেমন-সাদা, হলুদ,
গোলাপী, লাল, ফিকে লাল, বেগুনী ইত্যাদি। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ
...করে ঢাকা, যশোর, সাতক্ষীরা, কুমিল্লা প্রভৃতি অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে এই
ফুলের চাষ করা হচ্ছে। যে কোনো উৎসবে এই ফুলের উপস্থিতি দেখা যায়। টিনা, পুনম, ফ্রেন্ডশিপ,
হোয়াইট ফ্রেন্ডশিপসহ বিভিন্ন প্রজাতির গ্গ্ন্যাডিওলাস ফুল রয়েছে। এই ফুল
চাষ করে আপনিও আয়ের পথ সুগম করতে পারেন।
জমি নির্বাচন ও বপন পদ্ধতি : এই ফুল চাষের জন্য প্রায় সব ধরনের মাটিই
উপযুক্ত। তবে বেলে ও কাদামাটিতে চাষ না করাটাই ভালো। বেশি জৈব পদার্থযুক্ত
মাটিই গ্লাডিওলাস ফুল চাষের জন্য ভালো। যে জমিতে এই ফুল চাষ করা হবে তাতে
যেন পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে এ বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। এই
ফুলের চারা সাধারণত কন্দ থেকে তৈরি হয়। কন্দ লাগানোর আগে জমি ভালো করে
তৈরি করে নিতে হবে। কন্দের আকৃতির ওপর সাধারণত নির্ভর করে ফুলের আকার ও
আকৃতি। বিঘাপ্রতি ২ থেকে ৩ টন গোবর সার, ৫০ কেজি সুপার ফসফেট ও ১৫ কেজি
ইউরিয়া সার মিশিয়ে জমি তৈরি করে নিতে হবে। জমি তৈরি হয়ে গেলেই কন্দ রোপণ
করা যায়। সেচ ও আগাছা দমন : কন্দ রোপণের পর সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে সেটা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়। আগাছা ভালোমতো পরিষ্কার করাটা জরুরি।

ফুল সংগ্রহ : এগাছ থেকে ফুল ৭০-৯০ দিনের মধ্যেই সংগ্রহ করা যায়। দুপুরে গাছ
থেকে ফুল তোলা যাবে না। ফুল সংগ্রহ করতে হবে সকাল বা বিকেলে।

ফুল বাজারজাতকরণ : ফুলের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে শাহবাগ। এছাড়া দেশের সব
জেলাতেই রয়েছে অসংখ্য ফুলের দোকান। আর এসব দোকানে বর্ণিল গ্গ্ন্যাডিওলাস
ফুলের চাহিদা প্রচুর। এসব দোকানে ফুল সরবরাহ করে আয় করতে পারেন।

বংশবিস্তার

১. বীজ, গুঁড়ি কন্দ ও গুঁড়ি কন্দের গায়ে জন্মানো ছোট ছোট কন্দ থেকে গ্লাডিওলাসের বংশবিস্তার করা যায়।
২. বীজ থেকে তৈরি চারাতে ফুল আসতে অনেক সময় লাগে এবং জাতিগত বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে না। তাই বীজ দিয়ে সাধারণত বংশবিস্তার করা হয় না।
৩. ফুল
দেয়া শেষ হলে গাছ শুকিয়ে যায়। এ সময় মাটি খুঁড়ে গ্লাডিওলাসের কন্দ তুলে
নিয়ে এর গায়ে জন্মানো ছোট কন্দগুলো আলাদা করে নিতে হবে।
৪. এর কন্দগুলোর গায়ে লেগে থাকা মাটি পরিষ্কার করে নিয়ে কন্দগুলো ছায়াযুক্ত জায়গায় রেখে শুকিয়ে নিতে হবে।
৫. শুকানোর পর কন্দগুলো কিছুটা অন্ধকার শুকানো জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে।
৬. এগুলো সুপ্ত অবস্থা অতিক্রম করে গজানো শুরু করলে নতুন ফুল গাছের জন্য মাটিতে রোপণ করতে হবে.

Monday, January 24, 2011

আমাদের অতি পরিচিত টক-জাতীয় খাদ্যের মধ্যে তেঁতুল অন্যতম। একটা সময় ছিল তেঁতুল কেবলমাত্র মেয়েদের খাবার হিসেবে গণ্য হতো। কিন্তু আজ দেখা যায়, তেঁতুলে ঔষধি গুণ থাকার কারণে এটি সব বয়সে সবার জন্যই প্রয়োজন হতে পারে।
তেঁতুলের বোটানিক্যাল নাম Tomarindus Indeca linn. এর আয়ুর্বেদিক নাম যমদূতিকা। সমুদ্র তীরবর্তী লবণাক্ত অঞ্চলের অধিবাসীদের রক্তের চাপ বেশি থাকতে দেখা যায়। সেই চাপ কমানোর জন্য এসব অঞ্চলে তেঁতুলের ব্যবহার হয় সব সময়। এটি তাদের আহারের অন্যতম উপাদান। কোনো কোনো জায়গায় একে ইসলিও বলা হয়ে থাকে।
Tarmaric acid-র জন্য এর স্বাদ টকযুক্ত হয়। তেঁতুলগাছের পাতা, ছাল, ফলের শাঁস (কাঁচা ও পাকা), পাকা ফলের খোসা, বীজের খোসা—সবকিছুই ব্যবহার হয়ে থাকে। এটি পরিপাকবর্ধন ও রুচিকারক। তেঁতুলের কচিপাতার মধ্যে রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে এমাইনো এসিড। গ্রামাঞ্চলে দরিদ্র শ্রেণীর মধ্যে তেঁতুলের পাতা বেটে মরিচ ও সামান্য লবণ দিয়ে বড়া তৈরি করে পান্তাভাতের সঙ্গে খেতে দেখা যায়। যদিও অভ্যাসবশতই তারা এভাবে খেয়ে থাকে। তবুও বলা যায়, তারা তাদের অজ্ঞাতে ভালোভাবেই এমাইনো এসিড আহরণ করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। পাতার রসের শরবত সর্দি-কাশি, পাইলস ও প্রস্রাবের জ্বালাপোড়ায় বেশ কাজ দেয়।

তেঁতুল চর্বি কমানোয় বেশ বড় ভূমিকা রাখে। তবে তা দেহের কোষে নয়, রক্তে। এতে কোলস্টেরল ও ট্রাইগ্রাইসেরাইডের মাত্রা এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

দেখা যায়, পুরোনো তেঁতুলের কার্যকারিতা বেশি। যদি পেট ফাঁপার সমস্যা থাকে এবং বদহজম হয়, তাহলে পুরোনো তেঁতুল এক কাপ পানিতে ভিজিয়ে সামান্য লবণ, চিনি বা গুড় দিয়ে খেলে অসুবিধা দূর হয়। আবার হাত-পা জ্বালা করলেও এই শরবতে উপকার পাওয়া যায়।


প্রয়োজনে টমেটোর সসের পরিবর্তে তেঁতুলের সস বা আচার খাওয়া যেতে পারে। যদি তেঁতুলের সঙ্গে রসুনবাটা মেশানো যায়, তাহলে রক্তের চর্বি কমানোর কাজে ভালো ফল দেয়। তেঁতুল এমনই এক ভেষজ, যার সব অংশই কাজে লাগে।

এর রাসায়নিক উপাদানগুলো হলো Tartaric acid, Polisucharide, oxalic acid, amino acid এবং পটাশিয়াম।


পটাশিয়াম ও অক্সালিক এসিডের আধিক্যের জন্য কিডনি রোগীদের তেঁতুল খাওয়া নিষেধ। জন্ডিসের ক্ষেত্রেও তেঁতুল নিষিদ্ধের তালিকায় রয়েছে।

Tuesday, December 14, 2010

ভালবাসার দোকানী মন পথে দিন কাটায় by মধু

ভালবাসার দোকানী মন পথে দিন কাটায়
ভাল বাসা কে যে নিবি আয়রে ছুটে আয়
ভালবাসার দোকানী মন পথে দিন কাটায়।।

কত না সময় দিন রজনী যায়
কালের হাওয়ায় আকাল বাঁজে
সুখ নাহি যে পাই
ভালবাসার দোকানী মন পথে দিন কাটায়

বেচা কেনা নয়
ভাবে পথিক হৃদয়
মন দোকানী ঝাঁপ ফেলিয়া
অন্তরে লুকায়
এমন দিনে আসিয়া কি ভালবাসা যায়?

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ