প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label ভিন্ন খবর. Show all posts
Showing posts with label ভিন্ন খবর. Show all posts

Friday, September 30, 2011

১১ বছরে পায়ে হেঁটে বিশ্ব ভ্রমণ

১১ বছর হেঁটে বিশ্ব প্রদক্ষিণ করে দেশে ফিরেছেন কানাডার মন্ট্রিলের জঁ বেলিভো। বয়স তখন ৪৫। বেশ অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, মনে হচ্ছিল, আর বেঁচে থেকে কী লাভ? সবে বিয়ে বিচ্ছেদ হয়েছে। দুই সন্তান থাকে মায়ের কাছে। নিজের ছোট একটা ব্যবসা ছিল, তাও লাটে উঠেছে। তাই পিছুটান নেই।
২০০০ সালের ১৮ আগস্ট নিজের ৪৫তম জন্মদিনেই তিনি হাঁটতে বেরিয়ে পড়লেন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ থেকে পায়ে হেঁটে গোটাবিশ্ব প্রদক্ষিণ করে আবার নিজের শহর মন্ট্রিলে ফেরার গোঁ ধরে বেরিয়ে পড়লেন তিনি। সঙ্গে ৩ চাকার একটা ট্রলি সুটকেস। তার মধ্যে স্লিপিং ব্যাগ, কিছু জামা-কাপড়, প্রাথমিক চিকিত্সার কিছু সরঞ্জাম, সঙ্গে মাত্র ৪ হাজার কানাডীয় ডলার। কোথায় রাত কাটাবেন, কখন কী খাবেন, কিছুই জানা নেই। শুধু হেঁটে চলেছেন। রওনা হওয়ার পর প্রায় ১১ বছর কেটে গেছে। সত্যি বিশ্ব প্রদক্ষিণ করে তিনি মন্ট্রিলের কাছাকাছি এসে পড়েছেন। এবার সামান্য যে পথ বাকি রয়েছে, তা অতিক্রম করে ১৬ অক্টোবর তার আবার নিজের শহরে পৌঁছনোর কথা। ৬৪টি দেশ ঘুরে প্রায় ৭৫ হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করে তিনি সম্ভবত দীর্ঘতম পদযাত্রার রেকর্ড গড়তে চলেছেন।
এতদিন পর কার কাছে ফিরবেন বেলিভো? তার জন্য অপেক্ষা করছেন দীর্ঘদিনের বান্ধবী লুস আর্শাম্বো। তিনি ও তার দুই সন্তানও বেলিভোকে বাধা দেননি। ঘরে থেকেই তিনি বেলিভোর এ অভিযানে মদত দিয়ে চলেছেন। তৈরি করেছেন বিশেষ ওয়েবসাইট, যার ঠিকানা ‘ওয়াক ডট অর্গ’। তবে ‘ওয়াক’ শব্দে একটার বদলে তিনটে ডব্লিউ রয়েছে। অসাধারণ এ পদযাত্রাকে কাজে লাগিয়ে শান্তি ও অহিংসার বাণী প্রচার করার জন্য বেলিভোকে উত্সাহ দিয়েছেন তিনি। জাতিসংঘের শিশু কল্যাণ সংস্থা ইউনেস্কোর এক ঘোষণাই হয়ে উঠল এ পদযাত্রার মূলমন্ত্র। অবসাদগ্রস্ত এক মানুষের অভিযান যে এত অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে, বেলিভো তা ভাবতে পারেননি।
এ ১১ বছর কীভাবে কাটালেন বেলিভো? কীভাবে তিনি অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারলেন? আশ্চর্যের বিষয়, যাত্রাপথে তেমন কোনো অপ্রিয় ঘটনা ঘটেনি। শুধু আলজেরিয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, ইথিওপিয়ায় অকারণে তাকে একরাত হাজতবাস করতে হয়েছিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই মাতাল তার ওপর চড়াও হয়েছিল। তিনি মেক্সিকোয় ৯ দিনের জন্য এক নারীর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন, সুদানে থাকতে পাগড়ি পরে লম্বা দাড়ি রেখেছিলেন। আফ্রিকায় পোকামাকড়, দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুর ও চীনে সাপ খেয়েছেন। ইথিওপিয়ায় থাকতে বেলিভোর একবার মনে হয়েছিল, মাঝপথে পদযাত্রা ছেড়ে দেশে ফিরে যাবেন। কিন্তু বান্ধবীর উত্সাহে তিনি হাল ছাড়েননি। সূত্র : ডিডব্লিউ

Tuesday, July 26, 2011

অসম্পূর্ণ ঘুমে স্মৃতিক্ষয়!

অসম্পূর্ণ কিংবা আমরা যাকে বলি কাঁচা ঘুম, তা যদি ভেঙে যায় তাহলে সেটি স্মৃতিশক্তির জন্য বিপর্যয় বয়ে আনে। কারণ, স্মৃতিশক্তি গঠনের জন্য নিবিড় ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইঁদুরের ওপর দ্য প্রসেডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সের পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা মনে করছেন, এখন হয়তো আলঝেইমার্সসহ স্মৃতিশক্তির সমস্যাগুলো ব্যাখ্যা করা সহজ হবে। বিবিসি
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন, বিচ্ছিন্ন বা ভেঙে যাওয়া ঘুম প্রাণীর স্মৃতিশক্তি গঠনে বাধা সৃষ্টি করে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা বলেছেন, হঠাত্ করে ঘুম ভেঙে গেলে একটি প্রাণী তার অনেক পরিচিত বস্তু চিনতে পারে না।
ব্রিটিশ স্লিপ সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান ঘুম বিশেষজ্ঞ নেইল স্ট্যানলি বলেছেন, গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সারা দিনের ঘটনাবলি মূল্যায়ন করে এবং কোন বিষয়টি স্মৃতিতে সংরক্ষিত রাখবে তা ঠিক করে।
গবেষকরা যে কৌশল প্রয়োগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন সেটি হচ্ছে অপটোজেনেটিকস। মস্তিষ্কের যে অংশ ঘুমানো এবং জেগে ওঠার বিষয়টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, গবেষকরা সে ধরনের কোষকেই লক্ষ্যবস্তু করে গবেষণা চালান। তারা ঘুমন্ত ইঁদুরের মস্তিষ্কে সরাসরি আলোক তরঙ্গ পাঠান। পরে তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, নিবিড় ঘুম ভেঙে যাওয়ায় তাদের মস্তিষ্কে প্রভাব পড়েছে।
গবেষণাপত্রে প্রধান গবেষক ড. লুইস ডি লেসা বলেন, নিবিড় ঘুম না হলে তা স্মৃতিশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যা আলঝেইমার্স এবং বার্ধক্যজনিত অন্যান্য সমস্যার সঙ্গে জড়িত। ভেঙে যাওয়া ঘুম মানুষকে মদে আসক্ত করে তুলতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, যে বিষয়গুলো গবেষণায় উঠে এসেছে, তার প্রত্যক্ষ অনেক প্রমাণ হাতে নেই।
ব্রিটিশ লাং ফাউন্ডেশনের যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক মিরান্ডা ওয়াটসন বলেছেন, স্লিপ ডিজঅর্ডার বা ঘুমে বিঘ্ন ঘটা যে মারাত্মক ক্ষতিকর তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটা আগে থেকেই জানা। অনেক কারণেই নিবিড় ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগ। এ রোগ যাদের রয়েছে ঘুমের সময় তাদের শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। তাই একটানা ঘুম তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। এ কারণে স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে। 

সূত্র : আমার দেশ

Monday, July 4, 2011

পিঁপড়াও শত্রু চিনতে পারে

পিঁপড়াও তার সবচেয়ে খারাপ শত্রুকে চিনতে পারে এবং ওই শত্রু মোকাবিলায় কি করতে হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। টেমনোথোরাক্স লংইস্পিনোসাস প্রজাতির পিঁপড়ার ওপর গবেষণা চালিয়ে সম্প্রতি এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পিঁপড়াদের বসতিতে প্রায়ই অন্য প্রজাতির পিঁপড়া অভিযান চালায় এবং তাদের কীট চুরি করে নিয়ে যায়। তাই ওই পিঁপড়ারা যখন চোর পিঁপড়া দেখতে পায় তখন তাকে কামড়িয়ে এবং হুল ফুটিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। তবে তারা যাদেরকে বড় ধরনের শত্রু বলে মনে করে না, তাদের পেছনে শক্তি ব্যয় থেকেও বিরত থাকে। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ইথোলজি সাময়িকীতে।
গবেষণা দলের নেতৃত্ব দেন জার্মানির মিনজ-এ জোহানেস গুটেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনন স্কার্ফ এবং সুসান ফিিজক। তারা মূলত দেখাতে চেয়েছেন যে, জটিল সামাজিক আচরণধারী এই পিঁপড়ারা কিভাবে অন্য প্রজাতির শত্রু পিঁপড়াদের মোকাবিলা করে। আর এ কাজটি করতে গিয়ে তারা পিঁপড়া কলোনি নিয়ে যান তাদের ল্যাবরেটরিতে।
টেমনোথোরাক্স লংইস্পিনোসাস পিঁপড়ারা বাস করে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্ব এলাকার বনাঞ্চলে। ড. স্কার্ফ বলেন, তারা পিঁপড়া কলোনিতে ৪টি ভিন্ন প্রজাতির পিঁপড়া ঢুকিয়ে দেন। তখন দেখা যায়, লংইস্পিনোসাস পিঁপড়ারা কেবল স্লেভমেকার পিঁপড়াকেই শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তার ওপর আঘাত হানে। স্লেভমেকাররা অন্য পিঁপড়া কলোনিতে অনুপ্রবেশ করে এবং তাদের ‘শিশু’ চুরি করে, কখনও কখনও রানী ও শ্রমিকদের হত্যা করে। লংইস্পিনোসাসরা বিষয়টি জানে। তাই ওই প্রজাতির পিঁপড়া দেখলেই কামড়ে এবং হুল ফুটিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। কিন্তু অন্য প্রজাতির বেলায় তারা হত্যার চেষ্টা না করে কেবল কলোনি বা বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়। এদের জন্য শক্তি ব্যয় করে না।
বিবিসি
আমার দেশে'র সৌজন্যে

Friday, June 24, 2011

ইঁদুরের সাতকাহন

প্রাণিজগৎ নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণার যেমন অন্ত নেই, তেমনি মানুষের ও কৌতূহলের শেষ নেই। এসব প্রাণীর খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরা, প্রজনন; এমনকি নানা ভয়ঙ্কর রোগ নিরাময়ের উপায় খুঁজতেও বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত দ্বারস্থ হচ্ছেন বিভিন্ন জাতির প্রাণীর কাছে। বহুদিন আগ থেকেই নেকড মোল র‌্যাট নামে এক ধরনের ইঁদুর নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ইঁদুর নাকি ক্যান্সারের উপশমকারী! আকারেও ভীষণ ছোট। স্তন্যপায়ী এ প্রাণীটি বেশ অদ্ভুত ধরনের। লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে এ ইঁদুর নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। চামড়া কুঁচকানো, লোমের লেশমাত্র নেই। তবে যেটি নজর কাড়ে তা হলো, মুখ থেকে বের হয়ে আসা বাঁকানো অদ্ভুত দাঁতগুলো। মাটির গভীরে থাকতে এরা ভালোবাসে। লম্বা বাঁকা দাঁতের সাহায্যে অনায়াসেই খুঁড়তে পারে গর্ত। এ ইঁদুরগুলো সাধারণত দলবদ্ধভাবে গর্তে বাস করে। কোনো কোনো গর্তে সংখ্যায় তা আশি থেকে একশ' আবার তিনশ'রও বেশি মিলে দল গঠন করে নেয়। কলোনিতে প্রজননে সক্ষম এমন একটি নারী ইঁদুর থাকে এবং সেই হয় রানী। সঙ্গী নির্বাচনে রানীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সাধারণত দু'তিনটি ইঁদুর রানীকে সঙ্গ দেয়। এসব ইঁদুরের আচরণ বেশ সামাজিক; মৌমাছি, পিঁপড়ে, উইপোকা কিংবা ভীমরুলের মতো। ত্রিশ বছর গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, ক্যান্সার দূরীকরণে এ প্রাণীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এদের মধ্যে অক্সিটোসিন ও ভ্যাসোপ্রেমিন এ দুটি হরমোন আছে। আচরণের ক্ষেত্রে এ হরমোনই প্রভাব বিস্তার করে। ইঁদুরের হরমোন নিয়ে গবেষণার পর মানুষের ওপরও এ হরমোনের প্রভাব নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষা চালান। তাতে দেখা যায়, এই প্রাণীটির হরমোনের সঙ্গে মানুষের হরমোনের যথেষ্ট মিল আছে। তবে এ নিয়ে আরও বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন আছে বলেও গবেষকরা জানান। এসব বৈচিত্রময় প্রাণী নিয়ে যত গবেষণা হচ্ছে, ততই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের নানা অচেনা দিক উন্মোচিত হচ্ছে। সৃষ্টি করছে বিস্ময়। 

আঙ্গুলের ভাষা...

ভালোভাবে চলাচলের জন্য মানুষের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই অত্যন্ত জরুরি। তবে বাহ্যিক নানা কাজ সুষ্ঠুভাবে সমাধান করতে হাত ও পা বেশি প্রয়োজন। হাতের আঙ্গুল দিয়েই সব কাজ সম্পন্ন করা যায়। শারীরিক নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঙ্গেই আঙ্গুলের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। আঙ্গুলের আছে নিজস্ব ভাষা। যেমন আমাদের দেশে কাউকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখানোর অর্থই হচ্ছে তাকে অপমান বা ব্যঙ্গ করা। কিন্তু আমেরিকায় বৃদ্ধাঙ্গুল দেখানোর মানে হচ্ছে ওকে অর্থাৎ সব ঠিক আছে। তবে লাতিন আমেরিকায় বৃদ্ধাঙ্গুল আর তর্জনীর অগ্রভাগ মিলিয়ে বৃত্ত এঁকে দেখানো মানে কাউকে অপমান করা! কিন্তু ফ্রান্সে এর অর্থ হচ্ছে জিরো বা মূল্যহীন, কাজের নয় ইত্যাদি। যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও অনেক দেশের লোক দুই আঙ্গুলের সাহায্যে 'ভি' চিহ্ন দিয়ে প্রকাশ করেন শান্তি বা বিজয়। আর হাতের তালুটি যদি ভেতরের দিকে থাকে, তাহলে ব্রিটিশরা অপমানবোধ করে! আফ্রিকার কিছু দেশে কনিষ্ঠা আর তর্জনী উঠিয়ে মাঝখানের দুটি আঙ্গুল ভাঁজ করে নামিয়ে রাখলেই ভাবে বিপদ বুঝি দোরগোড়ায়। অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যের লোকেরা বিদ্রুপ বোঝানোর জন্য মাঝের আঙ্গুল উঁচিয়ে ধরে। পকেটে হাত দিয়ে কথা বললে কেউ কিছু মনে করে সত্য, তবে জাপানে এটি চূড়ান্ত অভদ্রতা। হাতের থাবার দিকটি সামনে বাড়িয়ে দিলেই পশ্চিম আফ্রিকাবাসী অপমানিত হন। তবে গ্রিসে এর অর্থ হচ্ছে বিবাদের শুরু। আমেরিকানরা ভাবে কাজের বিরতি। কপালে বৃদ্ধাঙ্গুল ছুঁইয়ে বসে থাকাও সমস্যা। এমনটি করলে হল্যান্ডবাসী ধরেই নেয় লোকটি পাগল। আর আমেরিকানরা ভাবে লোকটি কী স্মার্ট! আমেরিকানরা সাধারণত তর্জনী সামান্য উঁচিয়ে বৃদ্ধাঙ্গুল একটু বাড়িয়ে ওয়েটারদের ডাকে। কিন্তু জাপানিরা এ ধরনের ইশারায় ওয়েটারদের ডাকা একেবারেই পছন্দ করে না। আবার জার্মানিরা এ ধরনের ইশারা করলে ওয়েটাররা আরও দুটি ড্রিঙ্কস নিয়ে এসে হাজির হয়। মালয়েশিয়ানরা বাতাসে একটু আঁকিঝুঁকি কেটে ওয়েটারদের ডাকে। তবে ওই দেশে তর্জনী বাঁকানো মানেই উগ্রতা। ভাবুন একবার, একই অঙ্গের কত রূপ। 

শত্রু-মিত্র চিনতে পারে কবুতর

শত্রু-মিত্র চেনার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে নগরবাসী মুক্ত কবুতরের। তারা খুব দ্রুত শনাক্ত করতে পারে কে তার বন্ধু আর কেইবা তাকে হত্যায় তত্পর হয়ে উঠতে পারে। অর্থাত্ গৃহপালিত নয় নগরবাসী এমন কবুতররা কে খাবার দেবে আর কে দেবে না, সেটা ধরে ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক এক ফরাসি গবেষণায় এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
গবেষকরা বলছেন, এই তথ্য থেকে এটাই বোঝা যায় যে, নগরবাসী মুক্ত কবুতরদের খাদ্যের সন্ধানে বেশি সময় ব্যয় করতে হয় না। তাই তারা খাদ্য গ্রহণে বেশি সময় ব্যয় করতে পারে। এ গবেষণা থেকেই প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক প্রমাণ পাওয়া যায় যে, নগর এলাকায় সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে কবুতররা তাদের ওই বিশেষ সামর্থ্য কাজে লাগায়। গবেষকদের প্রাপ্ত তথ্য অ্যানিমেল কগনিশন জার্নালে প্রকাশিত হবে।
ফরাসি গবেষকরা বলেন, নগরবাসী মুক্ত কবুতররা মানুষের নানা কার্যক্রমের মধ্যেই বাস করে। তারা প্রায়ই মানুষের দেয়া খাদ্য খেতেই অভ্যস্ত। এদের দেহের রঙ এবং প্যাটার্নে ভিন্নতা রয়েছে। সারা ইউরোপে ছড়িয়ে আছে এই কবুতররা। এমনকি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়ও এদের যত্রতত্র দেখা যায়। এর অন্যতম কারণ হলো, ওই শহরগুলোতে কবুতর শিকারের ঘটনা খুবই কম এবং খাদ্যের প্রাপ্যতা ও প্রজনন এলাকার অভাব নেই।
ওই কবুতররা শত্রু এড়িয়ে মিত্র মানুষের কাছ থেকে খাদ্যপ্রাপ্তির বিষয়টি ঠিক কীভাবে নিশ্চিত করে, তা নিয়ে আরও গবেষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গবেষকরা। তাদের ধারণা, নগরবাসী মুক্ত কবুতররা প্রতিদিনের খাদ্যানুসন্ধানের কাজে সম্ভবত তাদের মেমোরি এবং পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা কাজে লাগায়। কোথায় নিয়মিত খাদ্য পাওয়া যাবে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি একটি ব্যাপার। এতে করে খাদ্য খোঁজার কাজে সময় ব্যয় কম হয় এবং খাদ্য গ্রহণে অধিক সময় পাওয়া যায়।
গবেষক দল বলছে, কবুতরের এই আচরণ নিশ্চিত হতে একটি পার্কে দুটি গবেষণা তারা পরিচালনা করেছে। একজন ছিল খাদ্যদাতা, অন্যজন বৈরী। উভয় পরীক্ষায় দেখা গেছে, মুক্ত কবুতররা খুব দ্রুত তাদের শত্রু ও মিত্রকে চিহ্নিত করতে পেরেছে। তারা শত্রুর কাছ থেকে দূরে থেকেছে এবং মিত্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে। 

সূত্র : আমার দেশ

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ