টুনটুনি পাখিদের দর্জি পাখি বলা হয়। তারা গাছের পাতা ঠোঙার মতো মুড়ে তার পাশে সুতা বা গাছের আঁশ দিয়ে সুন্দরভাবে সেলাই করে এবং সেই ঠোঙার মধ্যে পালক বা তুলা বিছিয়ে ডিম পাড়ে। দর্জির মতো পাতা সেলাই করে বলে তাদের দর্জি পাখি বলা হয়। কাপড় সেলাই করতে হলে আমাদের সুই সুতা ইত্যাদির দরকার হয়, কিন্তু টুনটুনিদের সেসব কিছু জোগাড় করতে হয় না। তাদের ঠোঁট সুইয়ের কাজ করে এবং গাছের ছালের আঁশ জোগাড় করে তারা সুতার কাজ চালায়। এই পাখিরা কেমন করে সেলাই করার বিদ্যা শিখল_ তা ভাবলে অবাক হতে হয়। টুনটুনি পাখিদের আমরা সবাই দেখেছি। আকারে এরা চড়ুই পাখির চেয়েও ছোট। তাদের পিঠের রং কিছুটা খয়েরি, কিন্তু মাথা সাধারণত ধূসর। পেটের তলার পালক সাদাটে। লেজ খুব লম্বা নয়, কিন্তু ডিম পাড়ার সময় পুরুষ পাখিদের লেজের মাঝের দুটি পালক হঠাৎ লম্বা হয়ে যায়। তাই সে সময় পুরুষ পাখিদের লেজ লম্বা দেখা যায়। টুনটুনিরা একসঙ্গে তিন-চারটা করে ডিম পাড়ে। ডিমগুলো দেখতে সাদা, সাদার উপর লালের ছিটেফোঁটাও আছে। বৈশাখ মাস থেকে শুরু করে ভাদ্র মাস পর্যন্ত টুঁই টুঁই শব্দ করে এই চঞ্চল পাখিটি ঝোঁপ-জঙ্গলে ক্রমাগত লাফালাফি করে। পাখিগুলো ছোট; কিন্তু তাদের গলার স্বর নিতান্ত ছোট নয়। যখন টুনটুনিরা গাছের ডালে লাফালাফি করে ডাকতে থাকে, তখন অনেক দূর থেকে শোনা যায় সেই আওয়াজ
Showing posts with label পাখি. Show all posts
Showing posts with label পাখি. Show all posts
Sunday, June 10, 2012
দর্জি পাখি টুনটুনি | দীপক দেবনাথ
টুনটুনি | আতোয়ার রহমান
Friday, June 1, 2012
পাখির মত | আল মাহমুদ
আম্মা বলেন, পড় রে সোনা
আব্বা বলেন, মন দে ;
পাঠে আমার মন বসে না
কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।
আমার কেবল ইচ্ছে জাগে
নদীর কাছে থাকতে
বকুলডালে লুকিয়ে থেকে
পাখির মতো ডাকতে।
সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে
কর্ণফুলীর কূলটায়
দুধভরা ঐ চাঁদের বাটি
ফেরেস্তারা উল্টায়।
তখন কেবল ভাবতে থাকি
কেমন করে উড়বো
কেমন করে শহর ছেড়ে
সবুজ গাঁয়ে ঘুরবো।
তোমরা যখন শিখছো পড়া
মানুষ হওয়ার জন্য,
আমি না হয় পাখিই হব
পাখির মত বন্য।
আব্বা বলেন, মন দে ;
পাঠে আমার মন বসে না
কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।
আমার কেবল ইচ্ছে জাগে
নদীর কাছে থাকতে
বকুলডালে লুকিয়ে থেকে
পাখির মতো ডাকতে।
সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে
কর্ণফুলীর কূলটায়
দুধভরা ঐ চাঁদের বাটি
ফেরেস্তারা উল্টায়।
তখন কেবল ভাবতে থাকি
কেমন করে উড়বো
কেমন করে শহর ছেড়ে
সবুজ গাঁয়ে ঘুরবো।
তোমরা যখন শিখছো পড়া
মানুষ হওয়ার জন্য,
আমি না হয় পাখিই হব
পাখির মত বন্য।
প্রকাশ কৃতজ্ঞতা : যাযাবর-নামা/ফারজানা মাহবুবা
Labels:
আল মাহমুদ,
কবিতা,
ছোটদের কবিতা,
পাখি,
প্রিয় কবিতা
Wednesday, October 19, 2011
বাবুই পাখি || জাওয়াদ তাজুয়ার মাহবুব
Friday, September 16, 2011
বাসা বাঁধার আনন্দে নাচে, গান গায় নরম গদিও দেয় মুনিয়া পাখি || সৈয়দ সোহরাব
প্রেম-ভালবাসার কাছে সবই তুচ্ছ। এ দিয়ে জয় করা যায় না এমন কিছু নেই। যাঁকে ভালবাসি, তাঁর সানি্নধ্যে আসার জন্য, তাঁকে খুশি করার জন্য কী না করে অন্যজন। বিশ্বে এমনও নজির আছে ভালবাসার জন্য ছেড়ে দিয়েছে সিংহাসন। সেই ভালবাসার টান বা প্রিয়জনের সানি্নধ্য পাওয়ার আনন্দ পাখিদের মধ্যেও দেখা যায়। আর এ ৰেত্রে মুনিয়া পাখি মনে হয় একটু বেশিই আবেগপ্রবণ হয়। স্ত্রী_পুরম্নষ উভয়েই এ সময় বাসা বাঁধার আনন্দে থাকে টইটুম্বর। খুশিতে ওদের গান বেড়ে যায়। পুরম্নষ পাখিই গান বেশি গায়। নাচার চেষ্টাও করে। বাসা বানানোর আনন্দে পুরম্নষ পাখির রূপ যেন খোলে। আর অন্য সময় স্ত্রী-পুরম্নষ আলাদা করাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। স্ত্রী মুনিয়াকে আকৃষ্ট করতেই এমনটি করে পুরম্নষ পাখি এবং বাসা বাঁধে বেশ চমৎকারভাবে। স্ত্রী মুনিয়ার আরাম-আয়েশের জন্য তৈরি করে নরম বাসা, ভিতরে নরম গদিও দেয়। আর এ গদির জন্য ব্যবহার করে তুলা, কাশফুল ও বাঁশের ছোট ছোট পাতা। পরস্পরকে শুধু আকৃষ্টই নয়, ডিম ও বাচ্চার জন্য বাসাকে বেশ সুরৰিতভাবে নির্মাণ করে। যেন শিকারী পাখিরা সহজে ডিম ও বাচ্চা চুরি করতে পারে না। শিকারী পাখিদের কথা ভেবে এরা দুর্গম স্থানে বাসা বাঁধে। যেমন_ খেজুর বা তাল পাতার ঘন পাতাওয়ালা মাথার ওপরে, নাটঝোপ ও হরগোজার কাঁটাঝোপ, কেয়াঝোপ, বাবলা গাছ, দেবদারম্ন ও শেওড়া গাছে। কেউ কেউ আবার রাসত্মার লাইট পোস্টের কাভারের ভিতরেও তৈরি করে বাসা। অর্থাৎ দুর্গম স্থানই তাদের পছন্দ। আর বাসা তৈরিতে উপকরণ হিসেবে ঘাস, ছন, খড়, কাশফুল, ঘাসফুল, দুর্বাঘাস, ধানের পাতা, আখের পাতা, বাঁশপাতা ইত্যাদি ব্যবহার করে তারা। উপকরণ নরম হলেও বাসা হয় খাসা ও সুরৰিত। নিরাপত্তার জন্য একেবারে গোল নয়, অনেকটা নারকেলের মতন ডিজাইন করে বাসার। কখনও কখনও লম্বাটে ধরনের গোল বাসাও বানায়। আর এর জায়গা নির্বাচনে সময় নেয় ৫ থেকে ৭ দিন। কোন তাড়াহুড়া করে না বাসা বাঁধতে। এমনভাবে করে যে বাসায় ঢোকার পথ খুঁেজ পাওয়া দুষ্কর। কারও কারও বাসার মুখ কিছুটা নলের মতো বাইরে বেরিয়ে থাকে। তৈরির পর পুরো বাসার আকার দাঁড়ায় মোটামুটি একটা ছোটখাটো ফুটবলের মতো। বাসা বাঁধার খুশিতে কাশফুল, ঘাসফুল, ধান, ছন, খড় বা ঘাসের লম্বা সরম্ন ফালি নিয়ে সাপের মতো উড়ে আসে গনত্মেব্যে। তখন তাদের দেখে মনে হয় উড়নত্ম সাপ। এমন মনে হওয়ার কারণ, ঠোঁট ও পা দিয়ে ধরা কাশফুল বা ঘাস নিয়ে দুলতে দুলতে উড়ে যায়। সে দৃশ্য দেখায় বেশ চমৎকার। বাসায় ডিম হলে বা ডিম ফুটে বাচ্চা বেরম্নলেও পুরম্নষ পাখি খুশিতে টইটুম্বর হয়। এ সময় ওদের চেহারাই যায় পাল্টে। সুন্দর যেন ধরে না।
এই মুনিয়ারই পাঁচ ধরনের পাখি দেখা যায় আমাদের দেশে। যেমন_ লাল মুনিয়া, তিলা মুনিয়া, কালোমাথা মুনিয়া, সাদাগলা মুনিয়া ও সাদা পিঠ মুনিয়া। এছাড়া শীতকালে আমাদের দেশে বেড়াতে আসে সবুজ মুনিয়া। তবে তিলা মুনিয়াই দেশে সবচেয়ে বেশি আছে। সারাদেশেই আছে। ঢাকা শহর ও সাভার জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানেও আছে। একটু খোঁজাখুঁজি করলে বাসাও খুঁজে পাবে শিশু-কিশোররা। পুরনো বিমানবন্দর এলাকার আশপাশে ঘোমটা দেবদারম্ন গাছে এর বাসা খুঁজে পাওয়া যাবে। তিলা মুনিয়া লম্বায় প্রায় ১২ সেন্টিমিটার হয়। বুক-পেটের পাশজুড়ে বুজানো ডানার তলায় কালচে_ বাদামি রঙের চিত্র-বিচিত্র ও চমৎকার কারম্নকাজ থাকে। যেন কোন চিত্রশিল্পী দ্বিতীয়ার চাঁদের মতন নকশা এঁকেছে। ভারি সুন্দর লাগে দেখতে। লেজের উপরিভাগে কালো ও হলুদের সোজা চওড়া টান থাকে। যেন কেউ সরম্ন, কাল ও লালচে হলুদ ফিতা সেঁটে দিয়েছে একের পর এক। লেজের উপরিভাগের গোড়াটা হলুদ ও তলা সাদাটে থাকে এবং চিবুক, গলা, ঘাড় ও মাথার রঙ হয় গাঢ় কালচে_বাদামি। বুক ও পেট অতি হালকা হলুদাভ, তার ওপর যেন থাকে সাদা ছিট লাগানো। লেজের আগা হয় চোখা। কম বয়সী বাচ্চার রঙ হয় হালকা বাদামি। চোখের মণি হয় হালকা লাল, তাতেও থাকে বাদামির আভা। এদের কণ্ঠস্বর হচ্ছে 'কিরিটি চিরিটি, চিট্টি_কিট্টি_কিটরি... চিক্ চিক্'। ডিম হয় প্রায় ছ'টি। ৮টিও পাড়ে। আবার ৪টিও দেখা যায়। কোন মুনিয়াই মাটিতে নেমে হাঁটতে পারে না। লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। তবে খাবার খায় মাটিতে নেমে। ধান, ঘাসের বীজ, বাদামের দানা, এমনকি মানুষের ফেলে যাওয়া পাউরম্নটি, বিস্কুটের কণাও খায়। উপমহাদেশে আবহাওয়া ভেদে এদের রঙের কিছুটা তারতম্য হয়ে থাকে। এক গাছে বা পাশাপাশি গাছে একাধিক বাসা দেখা যায়। শরীরে ছিট থাকে সবার। এদের বৈজ্ঞানিক নাম খ. চঁহপঃঁষধঃধ।
মুনিয়া! নামটি যেমন সুন্দর, এ পাখিটি দেখতেও তেমনি সুন্দর। চড়ুইয়ের চেয়ে সামান্য ছোট এই মুনিয়ারা অত্যনত্ম শানত্ম স্বভাবের পাখি। বিশ্বের যে সব দেশে মুনিয়া আছে, তাদের সবার সঙ্গে বাংলাদেশের মুনিয়াদের রয়েছে অভিন্ন কিছু মিল। যেমন_ সবার স্বভাব, ওড়ার ভঙ্গি, বাসার গড়ন ও ধরন এবং ডিম বাচ্চার সংখ্যা মোটামুটি একই রকম। ডিম ফুটে বাচ্চা হওয়ার সময়সীমাও বলতে গেলে এক। সবার ঠোঁট ত্রিকোণাকৃতির ঠোঁটের গড়ন ও ধরনও একই রকম। সবাই অল্পতে ভয় পায়। যেমন, মুনিয়ার ঝাঁকের ওপর দিয়ে যদি শূন্যে বন্দুকের গুলি ছোড়া হয়, তাহলে ঝাঁক থেকে দু'চারটি পাখি ভয়ে মাটিতে পড়ে যায় অজ্ঞান হয়ে। ডিম হয় সাধারণত হাতির দাঁতের মতন বা মুক্তোর মতন সাদা। ডিম গোল নয় টিকটিকির ডিমের মতই গড়ন, আকারে কিছুটা বড়। তবে ডিমের খোসা বেশ পাতলা, অল্পতেই ভেঙ্গে যায়। সব ধরনের মুনিয়ার কণ্ঠস্বর ফ্যাসফেসে, মনে হয় ডাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তবে কণ্ঠ ওদের ভাল। সুকণ্ঠী হিসেবে পরিচিত। মিষ্টি গলায় গায় গান। কিন্তু বাচ্চাদের যখন খাওয়াতে শুরম্ন করে, তখন স্ত্রী-পুরম্নষ দু'জনেরই চেহারা মলিন হতে থাকে। বাচ্চাদের জন্য খাবার যোগাড় কী করা চাট্টিখানি কথা? যদি বাচ্চার সংখ্যা হয় ৬/৭টি। খেতেও পারে বটে বাচ্চারা। মা-বাবাকে তাই প্রতিদিন গড়ে কমপৰে ৭০ বার করে বাসায় আসতে হয় খাবার মুখে নিয়ে। বাচ্চা ছোট থাকাবস্থায় মা-বাবার চিনত্মা তেমন থাকে না, কিন্তু ৭/৮ দিন হলেই তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে বাচ্চাদের পেট ভরাতে। এ সময় রাতেও বাচ্চারা মা-বাবার কাছে খাবার চেয়ে কাঁদে। মায়েরা তখন রাত কাটায় বাসার আশপাশে। কেননা বাসায় থাকলে বাচ্চারা মায়ের কাছে বায়না জুড়ে দেয় খাবার জন্য। ঠোঁট দিয়ে মায়ের ঠোঁট_ মাথায় ঠোকর মারে, কাঁদে। মা ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে যায় এতে।
সূত্রঃ জনকন্ঠ
এই মুনিয়ারই পাঁচ ধরনের পাখি দেখা যায় আমাদের দেশে। যেমন_ লাল মুনিয়া, তিলা মুনিয়া, কালোমাথা মুনিয়া, সাদাগলা মুনিয়া ও সাদা পিঠ মুনিয়া। এছাড়া শীতকালে আমাদের দেশে বেড়াতে আসে সবুজ মুনিয়া। তবে তিলা মুনিয়াই দেশে সবচেয়ে বেশি আছে। সারাদেশেই আছে। ঢাকা শহর ও সাভার জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানেও আছে। একটু খোঁজাখুঁজি করলে বাসাও খুঁজে পাবে শিশু-কিশোররা। পুরনো বিমানবন্দর এলাকার আশপাশে ঘোমটা দেবদারম্ন গাছে এর বাসা খুঁজে পাওয়া যাবে। তিলা মুনিয়া লম্বায় প্রায় ১২ সেন্টিমিটার হয়। বুক-পেটের পাশজুড়ে বুজানো ডানার তলায় কালচে_ বাদামি রঙের চিত্র-বিচিত্র ও চমৎকার কারম্নকাজ থাকে। যেন কোন চিত্রশিল্পী দ্বিতীয়ার চাঁদের মতন নকশা এঁকেছে। ভারি সুন্দর লাগে দেখতে। লেজের উপরিভাগে কালো ও হলুদের সোজা চওড়া টান থাকে। যেন কেউ সরম্ন, কাল ও লালচে হলুদ ফিতা সেঁটে দিয়েছে একের পর এক। লেজের উপরিভাগের গোড়াটা হলুদ ও তলা সাদাটে থাকে এবং চিবুক, গলা, ঘাড় ও মাথার রঙ হয় গাঢ় কালচে_বাদামি। বুক ও পেট অতি হালকা হলুদাভ, তার ওপর যেন থাকে সাদা ছিট লাগানো। লেজের আগা হয় চোখা। কম বয়সী বাচ্চার রঙ হয় হালকা বাদামি। চোখের মণি হয় হালকা লাল, তাতেও থাকে বাদামির আভা। এদের কণ্ঠস্বর হচ্ছে 'কিরিটি চিরিটি, চিট্টি_কিট্টি_কিটরি... চিক্ চিক্'। ডিম হয় প্রায় ছ'টি। ৮টিও পাড়ে। আবার ৪টিও দেখা যায়। কোন মুনিয়াই মাটিতে নেমে হাঁটতে পারে না। লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। তবে খাবার খায় মাটিতে নেমে। ধান, ঘাসের বীজ, বাদামের দানা, এমনকি মানুষের ফেলে যাওয়া পাউরম্নটি, বিস্কুটের কণাও খায়। উপমহাদেশে আবহাওয়া ভেদে এদের রঙের কিছুটা তারতম্য হয়ে থাকে। এক গাছে বা পাশাপাশি গাছে একাধিক বাসা দেখা যায়। শরীরে ছিট থাকে সবার। এদের বৈজ্ঞানিক নাম খ. চঁহপঃঁষধঃধ।
মুনিয়া! নামটি যেমন সুন্দর, এ পাখিটি দেখতেও তেমনি সুন্দর। চড়ুইয়ের চেয়ে সামান্য ছোট এই মুনিয়ারা অত্যনত্ম শানত্ম স্বভাবের পাখি। বিশ্বের যে সব দেশে মুনিয়া আছে, তাদের সবার সঙ্গে বাংলাদেশের মুনিয়াদের রয়েছে অভিন্ন কিছু মিল। যেমন_ সবার স্বভাব, ওড়ার ভঙ্গি, বাসার গড়ন ও ধরন এবং ডিম বাচ্চার সংখ্যা মোটামুটি একই রকম। ডিম ফুটে বাচ্চা হওয়ার সময়সীমাও বলতে গেলে এক। সবার ঠোঁট ত্রিকোণাকৃতির ঠোঁটের গড়ন ও ধরনও একই রকম। সবাই অল্পতে ভয় পায়। যেমন, মুনিয়ার ঝাঁকের ওপর দিয়ে যদি শূন্যে বন্দুকের গুলি ছোড়া হয়, তাহলে ঝাঁক থেকে দু'চারটি পাখি ভয়ে মাটিতে পড়ে যায় অজ্ঞান হয়ে। ডিম হয় সাধারণত হাতির দাঁতের মতন বা মুক্তোর মতন সাদা। ডিম গোল নয় টিকটিকির ডিমের মতই গড়ন, আকারে কিছুটা বড়। তবে ডিমের খোসা বেশ পাতলা, অল্পতেই ভেঙ্গে যায়। সব ধরনের মুনিয়ার কণ্ঠস্বর ফ্যাসফেসে, মনে হয় ডাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তবে কণ্ঠ ওদের ভাল। সুকণ্ঠী হিসেবে পরিচিত। মিষ্টি গলায় গায় গান। কিন্তু বাচ্চাদের যখন খাওয়াতে শুরম্ন করে, তখন স্ত্রী-পুরম্নষ দু'জনেরই চেহারা মলিন হতে থাকে। বাচ্চাদের জন্য খাবার যোগাড় কী করা চাট্টিখানি কথা? যদি বাচ্চার সংখ্যা হয় ৬/৭টি। খেতেও পারে বটে বাচ্চারা। মা-বাবাকে তাই প্রতিদিন গড়ে কমপৰে ৭০ বার করে বাসায় আসতে হয় খাবার মুখে নিয়ে। বাচ্চা ছোট থাকাবস্থায় মা-বাবার চিনত্মা তেমন থাকে না, কিন্তু ৭/৮ দিন হলেই তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে বাচ্চাদের পেট ভরাতে। এ সময় রাতেও বাচ্চারা মা-বাবার কাছে খাবার চেয়ে কাঁদে। মায়েরা তখন রাত কাটায় বাসার আশপাশে। কেননা বাসায় থাকলে বাচ্চারা মায়ের কাছে বায়না জুড়ে দেয় খাবার জন্য। ঠোঁট দিয়ে মায়ের ঠোঁট_ মাথায় ঠোকর মারে, কাঁদে। মা ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে যায় এতে।
সূত্রঃ জনকন্ঠ
Tuesday, September 13, 2011
পৃথিবির সবচেয়ে ছোট পাখি
আমাদের চারপাশে আছে হাজারও পাখি। যেমন তাদের নাম তেমনই আকার আবার তেমনই গায়ের রঙ। বুলবুলি, ময়না, টিয়া, দোয়েল, শালিক, বক, মাছরাঙা, চড়-ই আরও কত পাখি। এগুলো সবই আমাদের দেশীয় পাখি। আমাদের খুবই চেনাজানা। এরকম নাম জানা-অজানা অনেক পাখি রয়েছে পৃথিবী জুড়ে। আকারে কোনওটা ছোট আবার কোনওটা বড়। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাখি হলÑ উটপাখি। আর সবচেয়ে ছোট পাখিটি হচ্ছে হামিং বার্ড। ছোট পাখি হামিং বার্ডের দৈর্ঘ্য মাত্র ৫ মিটার। আর ওজন মাত্র ১.৮ গ্রাম। এরা বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। এদের গড় আয়ু ৩ থেকে ৫ বছর হয়। মজার বিষয় হচ্ছে, পুরুষ হামিং বার্ড আকারে মেয়ে হামিং বার্ড থেকে ছোট। শুধু আকারেই নয় আরও পার্থক্য আছে মেয়ে এবং পুরুষ হামিং বার্ডের মধ্যে। পুরুষ পাখির লোম সবুজ রঙের হয়। এদের পাখার উপরের দিকটা নীল বর্ণের আর শরীরের নিচের দিকটা বেশির ভাগ সময় ধূসর সাদা হয়ে থাকে। আর মেয়ে হামিং বার্ডের মাথার ওপরের দিকটা নীলচে সবুজ রঙের হয়। সরু লেজে থাকে সাদা রঙের ফোটা ফোটা দাগ।
হামিং বার্ড ছোট হলেও কিস্তু এদের শরীরে অনেক শক্তি। হেলিকপার যত উঁচুতে উড়ে হামিং বার্ডও ঐ উচ্চতায় উঠতে পারে। তবে উঁচুতে উড়তে পারলেও এরা অনান্য পাখির মতো হাঁটতে পারে না। দেহের আকার ছোট এবং সেই সঙ্গে তাদের ডানাগুলো বেশ বড় বলে হামিং বার্ড বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হল এরা প্রজাতিভেদে সেকেন্ডে ১২ থেকে ৯০ বার নিজেদের পাখা নাড়াতে পারে। এ কারণেই চোখের পলকে অনেকটা দূরে চলে যেতে পারে হামিং বার্ড। সাধারণত এদের ওড়ার গতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। অন্য পাখিরা শুধু সামনের দিকে উড়তে পারে কিন্তু হামিং বার্ড কেবল সামনেই নয়, পেছন দিকেও উড়তে পারে। বাসা বানানোর কাজ মেয়ে হামিং বার্ডকেই করতে হয়। বাসা তৈরিতে এরা মাকড়সার জাল, গাছের বাকল এবং বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক ব্যবহার করে। বাসার আকার দেখতে হয় ঠিক কাপের মতো। একটি মেয়ে হামিং বার্ড এক সঙ্গে দুইটি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো এতই ছোট যে দেখলে শস্যদানা মনে হয়। মা পাখিটি ডিমগুলো তার ছোট্ট বাসায় রাখে। বাসা বানানোর ব্যাপারে পুরুষ পাখির তেমন কোনও মাথাব্যাথা নেই। হামিং বার্ডে প্রধান খাবার ফুলের মধু। ছোট ছানারা মায়ের দেওয়া খাবার খায় আর বড়রা নিজেরাই ফুলের মধু সংগ্রহ করে খায় । সারাদিন ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়। হামিং বার্ড দিনে প্রায় ১৫০০ ফুলের মধু সংগ্রহ করে থাকে।
লাল রঙের ফুল হামিং বার্ডের বেশি পছন্দ। তাই বেশির ভাগ সময় এরা লাল রঙের ফুল থেকেই মধু সংগ্রহ করে থাকে। মধু খাবার সঙ্গে সঙ্গে এরা গাছেরও কিছু উপকার করে দেয়। কারণ হামিং বার্ড যখন ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায় তখন এদের পায়ের এবং পাখার সঙ্গে ফুলের রেণু জড়িয়ে যায়। এতে গাছের পরাগায়ণ ভালো হয়। গাছের পরাগায়ণ কাজ সাধারণত করে থাকে মৌমাছি। মৌমাছির মতো এরাও পরাগায়ণে সাহায্য করার করণে অনেকেই হামিং বার্ডকে বড়ো মৌমাছি বলে থাকে।
হামিং বার্ড ছোট হলেও কিস্তু এদের শরীরে অনেক শক্তি। হেলিকপার যত উঁচুতে উড়ে হামিং বার্ডও ঐ উচ্চতায় উঠতে পারে। তবে উঁচুতে উড়তে পারলেও এরা অনান্য পাখির মতো হাঁটতে পারে না। দেহের আকার ছোট এবং সেই সঙ্গে তাদের ডানাগুলো বেশ বড় বলে হামিং বার্ড বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হল এরা প্রজাতিভেদে সেকেন্ডে ১২ থেকে ৯০ বার নিজেদের পাখা নাড়াতে পারে। এ কারণেই চোখের পলকে অনেকটা দূরে চলে যেতে পারে হামিং বার্ড। সাধারণত এদের ওড়ার গতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। অন্য পাখিরা শুধু সামনের দিকে উড়তে পারে কিন্তু হামিং বার্ড কেবল সামনেই নয়, পেছন দিকেও উড়তে পারে। বাসা বানানোর কাজ মেয়ে হামিং বার্ডকেই করতে হয়। বাসা তৈরিতে এরা মাকড়সার জাল, গাছের বাকল এবং বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক ব্যবহার করে। বাসার আকার দেখতে হয় ঠিক কাপের মতো। একটি মেয়ে হামিং বার্ড এক সঙ্গে দুইটি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো এতই ছোট যে দেখলে শস্যদানা মনে হয়। মা পাখিটি ডিমগুলো তার ছোট্ট বাসায় রাখে। বাসা বানানোর ব্যাপারে পুরুষ পাখির তেমন কোনও মাথাব্যাথা নেই। হামিং বার্ডে প্রধান খাবার ফুলের মধু। ছোট ছানারা মায়ের দেওয়া খাবার খায় আর বড়রা নিজেরাই ফুলের মধু সংগ্রহ করে খায় । সারাদিন ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়। হামিং বার্ড দিনে প্রায় ১৫০০ ফুলের মধু সংগ্রহ করে থাকে।
লাল রঙের ফুল হামিং বার্ডের বেশি পছন্দ। তাই বেশির ভাগ সময় এরা লাল রঙের ফুল থেকেই মধু সংগ্রহ করে থাকে। মধু খাবার সঙ্গে সঙ্গে এরা গাছেরও কিছু উপকার করে দেয়। কারণ হামিং বার্ড যখন ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায় তখন এদের পায়ের এবং পাখার সঙ্গে ফুলের রেণু জড়িয়ে যায়। এতে গাছের পরাগায়ণ ভালো হয়। গাছের পরাগায়ণ কাজ সাধারণত করে থাকে মৌমাছি। মৌমাছির মতো এরাও পরাগায়ণে সাহায্য করার করণে অনেকেই হামিং বার্ডকে বড়ো মৌমাছি বলে থাকে।
Friday, July 1, 2011
বাবুই পাখির দেখা মেলা ভার!
'বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়েঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই। আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে, তুমি শুধু কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে'। কবির সেই কবিতাটি এখন কেবল বইয়ের পাতায়ই। বাবুই পাখি দেখা এখন দুষ্কর।
বিভিন্ন ধরনের খড়কুটায় গড়া সেই বাসা তো দূরের কথা, বাস্তবে বাবুই পাখির দেখা মেলা ভার। প্রকৃতি দিন দিন বদলে বা আবহাওয়ার প্রতিকূলে হোক কিংবা শিকারিদের অব্যাহত কাল থাবায় হোক, আজ তাদের অস্তিত্ব হারিয়ে যেতে বসেছে। পল্লী এলাকার এককালে প্রকৃতির চিরচেনা সেই বাবুই পাখি এখন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
শিল্পের নিপুণ কারিগর বাবুই পাখি বিভিন্ন ধরনের খড়কুটার সমন্বয়ে গড়ে তুলেছে সেই কুঁড়েঘর। সেই বাবুই পাখির নিজের শিল্পনৈপুণ্যে গড়ে তোলা এসব বাসা যে কাউকেই বিমোহিত করবে। কারণ রোদ-বৃষ্টি ঝড়েও নষ্ট হয় না তার নিখুঁত বুননে গড়ে তোলা এই কুঁড়েঘর। ধান আর গম বাবুই পাখির প্রধান খাদ্য।
পুরুষ বাবুই পাখির মাথার পেছনে রয়েছে চকচকে হলুদ রংয়ের পালক। আর পিঠে রয়েছে হলুদের টানা টানা দাগ। স্ত্রী বাবুইদের ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। বুকের রং সাদা হলেও পিঠের পালকে হলুদ রং থাকে না। এই সুন্দর বাবুই পাখি প্রকৃতি থেকে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। অভয়ারণ্য না থাকায় তাদের একদিন হয়তো আর দেখাই যাবে না। কবিরাও কোনো কবিতা হয়তো লিখবে না। অথচ প্রকৃতিকে বাঁচাতে এদের প্রয়োজন।
বিভিন্ন ধরনের খড়কুটায় গড়া সেই বাসা তো দূরের কথা, বাস্তবে বাবুই পাখির দেখা মেলা ভার। প্রকৃতি দিন দিন বদলে বা আবহাওয়ার প্রতিকূলে হোক কিংবা শিকারিদের অব্যাহত কাল থাবায় হোক, আজ তাদের অস্তিত্ব হারিয়ে যেতে বসেছে। পল্লী এলাকার এককালে প্রকৃতির চিরচেনা সেই বাবুই পাখি এখন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
শিল্পের নিপুণ কারিগর বাবুই পাখি বিভিন্ন ধরনের খড়কুটার সমন্বয়ে গড়ে তুলেছে সেই কুঁড়েঘর। সেই বাবুই পাখির নিজের শিল্পনৈপুণ্যে গড়ে তোলা এসব বাসা যে কাউকেই বিমোহিত করবে। কারণ রোদ-বৃষ্টি ঝড়েও নষ্ট হয় না তার নিখুঁত বুননে গড়ে তোলা এই কুঁড়েঘর। ধান আর গম বাবুই পাখির প্রধান খাদ্য।
পুরুষ বাবুই পাখির মাথার পেছনে রয়েছে চকচকে হলুদ রংয়ের পালক। আর পিঠে রয়েছে হলুদের টানা টানা দাগ। স্ত্রী বাবুইদের ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। বুকের রং সাদা হলেও পিঠের পালকে হলুদ রং থাকে না। এই সুন্দর বাবুই পাখি প্রকৃতি থেকে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। অভয়ারণ্য না থাকায় তাদের একদিন হয়তো আর দেখাই যাবে না। কবিরাও কোনো কবিতা হয়তো লিখবে না। অথচ প্রকৃতিকে বাঁচাতে এদের প্রয়োজন।
ফিচারটি তৈরি করেছেন : রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
Thursday, February 3, 2011
পাখিদের ছোটো বড়ো by সুমনা হক
পাখির মতো হতে চায় না কে! আমাদের যদি ডানা থাকতো? আমরাও যদি উড়তে পারতাম! সবাই এরকমটাই ভাবে। আর এরকম ভাবে বলেই না আজকে আমরা এরোপ্লেন আবিষ্কার করেছি। যদিও নিজেরা উড়তে পারি না তবুও তো দুধের স্বাদ ঘোলে মেটে। শুধু কি ওড়ার জন্য, সময় বাঁচাতে যে এরোপ্লেনে চড়ার কোনো বিকল্প নেই। তবে যদি পাখির কথা বলি চট করে আমাদের মাথায় চলে আসে হাজারো পাখির নাম। বিশেষ করে ময়না, টিয়া, দোয়েলের নাম তো সবার আগেই আসে। এগুলোই যে মানুষ বেশি চেনে, তাই তো এদের নামই আগে বলবে।এছাড়াও পৃথিবীতে রয়েছে হাজার হাজার পাখি। তবে সবাইকে নিয়ে কথা বলতে গেলে তো রাতই ফুরিয়ে যাবে। তাই আজকে আমরা শুধু সবচেয়ে ছোটো আর সবচেয়ে বড়ো পাখির কথা শুনবো। চলো তবে শুরু করা যাক।
পৃথিবীর সবচেয়ে ছোটো পাখিটি হচ্ছে হামিং বার্ড। এর ওজন মাত্র ১.৮ গ্রাম আর দৈর্ঘ্য ৫ মিটার। তবে মজার বিষয় হচ্ছে পুরুষ হামিং বার্ড গুলো কিন্তু আকারে মেয়ে হামিং বার্ড থেকে ছোটো হয়ে থাকে। শুধু আকারে নয় আরো পার্থক্য আছে মেয়ে এবং পুরুষ হামিং বার্ডের মধ্যে।
পুরুষ পাখি গুলোর লোম সবুজ রঙের হয়। এদের পাখা গুলো উপরের দিকটা নীল বর্ণের আর শরীরের নিচের দিকটা বেশিরভাগ সময় ধূসর সাদা হয়ে থাকে। অপরদিকে মেয়ে পাখিদের মাথার ওপরের দিকটা নীলচে সবুজ রঙ এর হয়, সরু লেজটিতে থাকে সাদা রঙের ফোটা ফোটা দাগ। হামিং বার্ড যে শুধু তার রঙের জন্য বিখ্যাত তা কিন্তু ভেবো না। ছোটো হলে কি হবে এদের শরীরে কিন্তু অনেক শক্তি আছে। হেলিকপ্টার যত উঁচুতে উড়ে হামিং বার্ডও ঐ উচ্চতায় উঠতে পারে। আর সবচেয়ে অবাক করার মত বিষয় হলো এরা প্রজাতিভেদে সেকেন্ডে ১২ থেকে ৯০ বার নিজেদের পাখা নাড়াতে পারে। এ কারণেই চোখের পলকে অনেকটা দূরে চলে যেতে পারে হামিং বার্ড। সাধারণত এদের ওড়ার গতি ঘন্টায় ৫০ কিলোমিটার। মজার ব্যাপার হলো এরা কেবল সামনে নয়, পেছন দিকেও উড়তে পারে।
আমাদের মতো এদেরও কিন্তু রঙের পছন্দ অপছন্দ আছে। এরা লাল রঙের ফুল বেশি পছন্দ করে। তাই বেশির ভাগ সময় হামিং বার্ড লাল রঙের ফুল থেকেই মধু সংগ্রহ করে থাকে। মধু খাবার সঙ্গে সঙ্গে এরা গাছেরও কিছু উপকার করে দেয়। কারণ হামিং বার্ড যখন ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায় তখন এদের পায়ের এবং পাখার সঙ্গে ফুলের রেণু জড়িয়ে যায়। এতে গাছের পরাগায়ণ ভালো হয়। এই কাজগুলো সাধারণত করে থাকে মৌমাছি। মৌমাছির সঙ্গে এদের স্বভাবের মিলের কারণে অনেকেই হামিং বার্ডকে বড়ো মৌমাছি বলে থাকে। হামিং বার্ড দিনে প্রায় ১৫০০ ফুলের মধু সংগ্রহ করে থাকে।
বাসা বানানোর ব্যাপারে পুরুষ পাখিগুলোর কোনো মাথাব্যাথা নেই। এই কাজ মেয়ে পাখিগুলোকেই করতে হয়। বাসা তৈরি করার জন্য এরা মাকড়সার জাল, গাছের বাকল এবং বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক ব্যবহার করে। বাসার আকার দেখতে হয় ঠিক কাপের মতো। একটি মেয়ে হামিং বার্ড এক সঙ্গে দুইটি ডিম পাড়ে। এদের ডিমগুলো এতই ছোটো যে দেখলে শস্য দানা মনে হয়। মা পাখিটি ডিমগুলো তার ছোট্ট বাসায় রাখে।
পৃথিবীর সবচেয়ে ছোটো এই পাখিটি বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। এদের গড় আয়ু ৩ থেকে ৫ বছর হয়।
পৃথিবীর সবচেয়ে ছোটো এই পাখিটি বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। এদের গড় আয়ু ৩ থেকে ৫ বছর হয়।
বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো পাখিটি হচ্ছে উট পাখি। যদিও এরা সবচেয়ে বড়ো পাখি কিন্তু এদের ওড়ার ক্ষমতা নেই। তবে দারুণ জোরে ছুটতে পারে এরা। উট পাখিরা ঘন্টায় ৭০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। তবেই বোঝো এদের ছোটার ক্ষমতা! এদেরকে সাধারণত আফ্রিকাতে পাওয়া যায়।
উট পাখিদের এত জোরে ছুটতে পারার ক্ষমতার জন্য এদের দৌড় প্রতিযোগিতা হয়। এই প্রতিযোগিতা নিয়ে মানুষেরা আবার অনেক আনন্দ করে থাকে। দেখতে অনেক বড়োসড়ো হলেও উট পাখিরা কিন্তু মোটেও হিংম্বর নয়। এদের প্রধান খাদ্য হলো বিভিন্ন শস্যদানা। কোনো কোনো সময় অবশ্য এরা পোকামাকড়ও খেয়ে থাকে। এদের তো দাত নেই। সেজন্য খাবার খাওয়ার সময় উট পাখিরা কিছু পাথর খেয়ে নেয়। এই পাথর এদের পাকস্থলীতে খাদ্যদানা হজম করতে পেষার কাজটি করে। একটি পূর্ণাঙ্গ উট পাখি এদের পাকস্থলীতে ১ কেজি পাথর খেয়ে ঘুরে বেড়াতে পারে। ভাবো তো একবার, খুবই অদ্ভূত তাই না?
উট পাখি দেখতে তোমাকে কিন্তু আফ্রিকাতে যেতে হবে না। তুমি ইচ্ছে করলেই ঢাকার চিড়িয়াখানাতে গিয়ে দেখে আসতে পারো। আর যারা দেখে ফেলেছো তাদের তো নতুন করে দেখতে যেতে বাধা নেই, তাই না?
বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/সুমনা/এসএ/এইচবি/নভেম্বর ০৪/১০
আমাদের শীতের অতিথি by নাবিল
তোমাদের তো এখন স্কুল ছুটি, পরীক্ষা শেষ। সবাই নিশ্চয়ই মহানন্দে মামার বাড়ি বেড়াতে বেড়িয়েছো! তুমি যেমন শীতের ছুটিতে গ্রামে গেছো বেড়াতে, তেমনি কিছু পাখিও কিন্তু শীতকালে আমাদের দেশে বেড়াতে আসে। ভাবছো, ওমা! ওদেরও কি স্কুল আছে? আর পরীক্ষা শেষ করে শীতের ছুটি পেয়েই ওরাও ঘুরতে বেড়িয়ে গেছে? মোটেও তা নয়। ওদের কোনো স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ই নেই। তাই নিয়ম করে পড়া তৈরি করার কষ্টও যেমন নেই, তেমনি ছুটিতে মামা বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার মজাও ওদের নেই। ওরা আমাদের দেশে আসলে বেড়াতে আসে না, আসে নিজেদের জীবন বাঁচাতে। জীবন বাঁচাতে ওরা সারাজীবন পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে বেড়ায়। তোমাদের কেউ হয়তো এরই মধ্যে ফস করে বলে বসলে, নিশ্চয়ই এ কোনো দুষ্টু রাক্ষসের কাজ। পাখি খেতে খুব পছন্দ করে বলে খালি পাখিদের তাড়িয়ে বেড়ায়। আর পাখিরাও ওর হাত বাঁচার জন্যে পালিয়ে পালিয়ে বেড়ায়! তা অবশ্য মন্দ বলোনি, শুনেই কেমন যেন রূপকথার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। সে রূপকথা না হয় আমরা আরেকদিন শুনবো। আজকে আমরা আমাদের সে সব অতিথি পাখির কথাই শুনি, কেমন? আমাদের অতিথি বলে কথা!
অতিথি পাখি বলতে বলতে আমরা কিন্তু ওদের আসল নামটাই ভুলে গেছি! ওদের নাম আসলে পরিযায়ী পাখি। সারাজীবন পর্যটকদের মত পৃথিবীটা ঘুরে ঘুরে কাটিয়ে দেয় কিনা, তাই ওদের এমনতর নাম। তবে পর্যটকদের মতো মনের সুখে কিন্তু তারা পৃথিবীকে জানার জন্যে ঘুরতে বের হয় না। এমনও না যে দূরে ওদের অনেক আত্মীয়-স্বজন আছে, বছরে একবার তাদের সঙ্গে দেখা করে যায়। তবু প্রতি বছর ওরা পৃথিবীর এক জায়গা থেকে উড়ে উড়ে চলে যায় আরেক জায়গায়। এর প্রধান কারণ হলো শীত।
শীতকাল আসলেই তো মায়েরা বাসার কোথা না কোথা থেকে একগাদা লেপ-কম্বল আর সোয়েটার বের করেন। তারপর তুমি সারাদিন গায়ে একটা সোয়েটার পরে মজা করে ঘুরে বেড়াও, আর রাত হলেই লেপের নিচে শুয়ে কী আরামেই না ঘুমিয়ে পড়ো। বাইরের দেশে, যেখানে শীতকাল এলে ঠাণ্ডায় একেবারে তুষার পড়তে শুরু করে, সেখানে সবাই আরো বেশি করে গরম কাপড় পড়ে। ইয়া মোটা মোটা সোয়েটার পরে, হাতে পরে গ্লাভস, আর পায়ে মোটা মোটা চামড়ার মোজা। কিন্তু সেখানেও তো পাখি থাকে। ওরা তো আর ইয়া মোটা মোটা সোয়েটার পরতে পারে না, ওদের কচি কচি পাখায় গ্লাভসও পরতে পারে না, ওদের টুকটুকে পায়ে পরতে পারে না চামড়ার ভারি মোজা। আমাদের দেশের পাখিরা না হয় শীতকালে মানিয়ে নিতে পারে, ওখানকার পাখিরা তো ঐ শীতে জমেই মরে যাবে! ঐ মরে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচার জন্যেই শীতকালে দলবেঁধে সব উড়ে আসতে থাকে আমাদের দেশের মতো মোটামুটি গরম দেশে। ঐ বরফ জমানো শীতকে অবশ্য তোমরা রাক্ষসও বলতে পারো। তখন আমরা ওদের নিয়ে একটা রূপকথাও বানাতে পারবো!
তোমাদের অনেকের মনেই হয়তো একটা প্রশ্ন উঁকিঝুঁকি মারতে শুরু করেছে, পাখিরা যেমন শীতের জ্বালায় অস্থির হয়ে আরেক জায়গায় পালিয়ে যায়, পশুরা তো সেরকম যায় না। কখনো তো শুনিনি, রাশিয়া থেকে একটা বাঘ শীতে অতিষ্ঠ হয়ে ভারতে চলে এসেছে! আসলে পশুরা শীতকালে মানিয়ে নেওয়া শিখে গেছে। বেশিরভাগ পশুই শীতকালে কোনো গুহা বা অন্য কোনো মোটামুটি লুকোনো আর গরম জায়গা বেছে নিয়ে সেখানে দেয় এক ঘুম। এক ঘুমে একেবারে পুরো শীতকালই পার করে দেয়। আর তারপর যখন শীতকাল শেষ হয়ে যায়, বরফ গলতে শুরু করে, তখন আবার জেগে ওঠে।
ওদের নিজেদের বাসা ছেড়ে এভাবে ঘুরতে বের হওয়ার আরেকটি কারণ আছে, সেটাও অবশ্য শীতের কারণেই হয়; সেটা হলো খাদ্যের অভাব। শীতকালে যখন সব কিছু বরফে ঢেকে যায়, তখন ওরা আর খাবার কোত্থেকে পাবে বলো? পশুরা তো ওদের বাসায় নয়তো শরীরের ভেতর পুরো শীতকালের জন্য খাবার সঞ্চয় করে রাখে। কিন্তু পাখিরা তো তা করতে পারে না। ওদের শরীরে যেমন খাবার সঞ্চয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই, সেরকম বাসাও বানাতে পারে না ভালো করে, যেখানে খাবার জমা করে রাখা যাবে পুরো শীতকালের জন্য। ওরা অনেকটা দিনে আনে দিনে খায় ধরনের প্রাণী। সারাদিন উড়ে বেড়ায় আর দিনের খাবার দিনে জোগাড় করে খেয়ে বাসায় গিয়ে মনের সুখে ঘুমিয়ে পরে। আর তাই শীতকালে খাবারের অভাবে ওরা বের হয়ে আসে বাসা থেকে, উড়ে যায় এমন জায়গায়, যেখানে বরফ পরে ওদের খাবারের উৎস বন্ধ হয়ে যায়নি।
পাখিরা কিন্তু ওদের বাসা থেকে বের হয়ে যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই উড়তে শুরু করে না। পুরো পৃথিবীতে যতো পরিযায়ী পাখি আছে, তারা নির্দিষ্ট কিছু পথে যাওয়া-আসা করে। আমরা যেমন রাস্তা ব্যবহার করি, সেরকমই আরকি! তার মধ্যে একটি উত্তরে রাশিয়া থেকে শুরু করে দক্ষিণে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। পরিযায়ী পাখিদের এই পথটির নাম সেন্ট্রাল এশিয়ান ফ্লাইওয়ে। বুঝতেই পারছো, আমাদের দেশও এই পথের মাঝেই পড়েছে। আমাদের দেশে যেসব অতিথি পাখিরা আসে, ওরা এই পথে চলাচল করলেও সবাই অবশ্য এতোটা পথ পাড়ি দেয় না। মূলত ওরা আসে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে। তবে দূর থেকেও যে কেউ কেউ আসে না, এমন নয়। এমনকি সেই সুদূর ঠাণ্ডার রাজ্য সাইবেরিয়া থেকেও কিছু কিছু পাখি চলে আসে আমাদের বাংলাদেশে।
ভাবছো উল্টো পাল্টা কথা বলছি? অবশ্য ভাবতেই পারো। কারণ তোমরা প্রতিদিনই তো ছাদে ওঠো, বিকালে মাঠে গিয়ে নয়তো বাড়ির সামনের রাস্তায় কতোই না খেলা করো, কিন্তু কই, নতুন কোনো পাখির তো দেখা পাও না! সেই আগের মতোই একগাদা কাক, কয়েকটা দোয়েল, চড়ুই, শালিক আর ফিঙেই তো দেখা যায় শুধু। আসলে ওরা তো আর আমাদের দেশে এসে যেখানে সেখানে থাকা শুরু করে না। কারণ, সব জায়গায় তো ওদের থাকার পরিবেশই নেই। তাছাড়া খাবার জোগাড় করারও একটা ব্যাপার আছে। যেখানে ওদের খাবার সহজে পাওয়া সম্ভব, সেখানেই ওরা গিয়ে শীতকালীন বাসা বানায়।
সাধারণত, ওদের থাকার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা হলো জলাভূমি। সে হাওড়ও হতে পারে, বিলও হতে পারে, আবার হতে পারে ম্যানগ্রোভ বন। আমাদের দেশে এসে ওরা মূলত কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় বাসা বাঁধে। বিভিন্ন বিল-হাওড়-বাওড়ে, যেমন টাঙ্গুয়ার হাওড়ে, হাকালুকি হাওড়ে, চলন বিলে, তারপর মেঘনা নদীর মোহনায়, সুন্দরবনে, হাতিয়া আর নিঝুম দ্বীপের ম্যানগ্রোভ বনে ওরা বাসা বাঁধে। এখন অবশ্য ওরা আরো কয়েকটা জায়গায় নিয়মিত শীতকালে এসে পাখিরা থাকতে শুরু করেছে। এরমধ্যে আছে ঢাকার কাছেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক, তারপর রাজশাহীর পুঠিয়ার কয়েকটি গ্রামের মতো আরো কিছু জায়গা। কিন্তু আমরা যেভাবে নিজেদের প্রয়োজনে একের পর এক জলাভূমি ভরাট করছি, আর বনজঙ্গল ধ্বংস করছি, তাতে অন্যান্য প্রাণীরা যেমন দিনদিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, তেমনি এই অতিথি পাখি আসাও কিন্তু কমে গেছে। বরিশালে দূর্গা সাগর দিঘি নামে এক বিশাল দিঘি আছে, তাতে আগে শীতকালে অনেক অতিথি পাখি আসতো। কয়েক বছর ধরে সেখানে নাকি অতিথি পাখির কোনো নাম-নিশানাই নেই!
পাখিরা তো এইভাবে শীতের হাত থেকে পালাচ্ছে সেই আদ্যিকাল থেকেই। কিন্তু মানুষ কবে এই অদ্ভূত ঘটনাটা টের পেলো বলো তো? তুমি নিশ্চয়ই ভাবছো, সে আর কবে, এই হবে দুই-তিনশ’ বছর আগে। আসলে কবে মানুষ এগুলো খেয়াল করেছে বললে তুমি একেবারে চমকে উঠবে। সে প্রায় ৩ হাজার বছর আগে! তারপর প্রাচীনকালের অন্ধ মহাকবি হোমার, মহান দার্শনিক অ্যারিস্টটল, তোমাদের অনেকেরই চোখের বিষ ‘ইতিহাস’ বিষয়টির স্রষ্টা হেরোডেটাস, সবার লেখাতেই পরিযায়ী পাখির উল্লেখ পাওয়া গেছে। এমনকি খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলেও পরিযায়ী পাখিদের বিষয়ে উল্লেখ আছে। প্রাচীনকালের পাখি যে আসলেই শীতের হাত থেকে বাঁচতে ঘুরে বেড়াতো তার হাতে-নাতে প্রমাণ হয়ে যায় একটি ঘটনায়।
ঘটনাটি ঘটে জার্মানিতে। ফসিল কি তা তো তোমরা জানোই। কোনো প্রাণীর মৃতদেহ লক্ষ লক্ষ বছর মাটির নিচে নির্দিষ্ট তাপ-চাপে থাকতে থাকতে যখন একেবারে কঠিন শিলা বা পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়, কিন্তু তার চেহারা-সুরত থেকে যায় প্রায় অবিকৃত, তখন সেটাকে বলা হয় ফসিল। তো জার্মানির এক গ্রামে পাওয়া গেলো একটা সারস পাখির ফসিল। সাদা রঙের সারস পাখিটার গায়ে কি বিঁধে ছিলো জানো? একটা তীর। ভাবছো, একটা তীরই তো? কিন্তু প্রশ্ন হলো, এমন তীর তো জার্মানরা কখনোই ব্যবহার করতো না! তাহলে এই তীর আসলো কোত্থেকে? এই নিয়ে সবার মাঝে বিশাল হই-চই পড়ে গেলো, আসলেই তো! কোত্থেকে আসলো এই তীর? অনেক খোঁজাখুঁজি করে বের করা হলো, এই তীর জার্মানদের তো নয়-ই, এমনকি জার্মানীর আশে পাশের কোনো দেশেরও নয়! এই তীর বানানো হতো আফ্রিকাতে। সাদা রঙের সারসটি নিশ্চয়ই শীতকালে শীতের হাত থেকে বাঁচতে চলে গিয়েছিলো আফ্রিকায়, আর সেখানে কোনো এক নির্দয় আফ্রিকান সারসটিকে শিকার করার জন্য তীর মেরেছিল। কিন্তু সারসটি তীরসহই ফিরে এসেছিল তার নিজের দেশে, তারপর মারা গিয়েছিল তার নিজের পরিচিত আঙিনায়।
তবে বিজ্ঞানীরা এইসব ঘটনা দিয়েই পাখিদের এই ঘুরে বেড়ানোর ঘটনাকে ব্যাখ্যা করেননি। তারা পাখিদের এই পরিভ্রমণ নিয়ে অনেক গবেষণা করেছেন, এখনো করছেন। আর সেই গবেষণার জন্য তারা অনেক কৌশলই অবলম্বন করেছেন। একবার তারা পরিযায়ী পাখিদের পায়ে রিং পরিয়ে পরীক্ষা করলেন। আরেকবার তারা রাডার ব্যবহার করে ওদের পর্যবেক্ষণ করলেন। এমনকি ওদের পরিভ্রমণের রহস্য উদ্ঘাটন করতে স্যাটেলাইটও ব্যবহার করা হয়েছে। ভাবছো, কতোগুলো পাখি একটু ঘোরাঘুরি করছে, তাতেও বিজ্ঞানীদের যতো খুঁতখুঁতানি! কিন্তু একবার চিন্তা করে দেখো, ওদের কাছে কোনো রাডার নেই, কম্পাস নেই, এমনকি একটা ম্যাপও নেই, অথচ অচেনা জায়গার উপর দিয়ে, জলাশয়ের উপর দিয়ে, সাগরের উপর দিয়ে ওরা ঠিকই পথ চিনে শীতকাল শেষে ফিরে যাচ্ছে ওদের নিজেদের দেশে। সেটা কিভাবে সম্ভব? তারা অবশ্য, এতোটুকু নিশ্চিত হতে পেরেছেন, পাখিরা দিনের বেলা দিক ঠিক করতে ব্যবহার করে সূর্য, আর রাতে চাঁদ-তারা। তবেই চিন্তা করো, এই পাখিগুলো কতো বুদ্ধিমান!
বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/নাবীল/এসএ/সাগর/এইচআর/জানুয়ারি ০৬/১১
রঙ বেরঙের অতিথি পাখি
প্রতি বছর শীতকাল এলেই আমাদের আশপাশের জলাশয়, বিল, হাওড়, পুকুর ভরে যায় নানা রঙ বেরঙের নাম না জানা পাখিতে। এসব পাখিকে অতিথিপরায়ন বাঙালী আদর করে নাম দিয়েছে অতিথি পাখি। তুমি হয়তো ভাবতে পারো, যাযাবর এই পাখিরা আমাদের দেশে শীতের ছুটি কাটাতে আসে। কারণ তোমারও তো ঠিক ওই সময়ে স্কুলে ছুটি থাকে। কিন্তু আসলে ছুটি বা অবসর কাটাতে নয় এই পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে আমাদের দেশে হাজির হয় নিজেদের জীবন বাঁচাতে। সে কথা বলছি দাড়াও। তার আগে বলি ওরা কোথা থেকে আসে সেই কথাটা।
আমরা যাকে অতিথি পাখি বলে চিনি, সেই পাখিকে ইংরেজিতে বলে মাইগ্রেটরি বার্ড (Migratory bird)। শুদ্ধ বাংলায় যার মানে দাঁড়ায় পরিযায়ী পাখি। অর্থাৎ যেসব পাখি বছরের নিদিষ্ট একটা সময় নিজের দেশ বা নিজের এলাকা ছেড়ে বিশেষ প্রয়োজনে অন্য কোন দেশে বা এলাকায় চলে যায় এবং কিছুদিন পর আবার নিজের এলাকায় ফিরে আসে তাদেরকেই সাধারত পরিযায়ি পাখি বলে।
পৃথিবীতে প্রায় ৫ লাখ প্রজাতির পাখি আছে। এসব পাখিদের মধ্যে অনেক প্রজাতিই বছরের একটি নিদিষ্ট সময় অন্য দেশে চলে যায়। শুধু ইউরোপ আর এশিয়ায় আছে প্রায় ৬০০ প্রজাতির পরিযায়ি পাখি। এসব পাখির মধ্যে প্রায় ১৫০ প্রজাতির পাখি আমাদের দেশে প্রতি বছর বেড়াতে আসে। এদেরকেই আমরা বলি অতিথি পাখি।
পাখিদের একটা সুবিধা কি জানো? কোন দেশে যেতে ওদের কোন পাসপোর্ট বা ভিসা লাগে না। আবার যাতায়াত খরচ বা কোন রকম চেকিংয়ের ঝামেলাও ওদের পোহাতে হয় না। তাই প্রতিবছর এসব অতিথি পাখিরা বিশ্বের অনেক দেশ থেকেই ঝাঁকে ঝাঁকে এ দেশে চলে আসে। কী মজা ওদের তাই না!
কিছু কিছু পাখি তাই প্রতিবছর ২২ হাজার মাইল পথ অনায়াসে পাড়ি দিয়ে চলে যায় দূরদেশে। উত্তর মেরু অঞ্চলের এক জাতীয় সামুদ্রিক শঙ্খচিল প্রতিবছর এই দূরুত্ব অতিক্রম করে দক্ষিণ দিকে চলে আসে।
বাংলাদেশের অতিথি পাখিরা অতোটা পথ পাড়ি না দিলেও তারাও অনেক দুর থেকেই আসে। বরফ শুভ্র হিমালয় এবং হিমালয়ের ওপাশ থেকেই বেশীর ভাগ অতিথি পাখির আগমন ঘটে। এসব পাখিরা হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত তিব্বতের লাদাখ থেকে সেন্ট্রাল এশিয়ান ইন্ডিয়ান ফ্লাইওয়ে দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এছাড়া ইউরোপ, দুরপ্রাচ্য (যেমন সাইবেরিয়া) থেকেও এসব পাখি নভেম্বরের দিকে আমাদের দেশে আসে। আর কয়েকমাস বাংলাদেশী বা বাঙালিদের সঙ্গে কাটিয়ে মার্চ-এপ্রিলের দিকে আবার ফিরে যায় নিজের দেশে।
এসব পাখিদের মধ্যে বাংলাদেশের অতি পরিচিতি অতিথি পাখি নর্দান পিনটেইল। এছাড়া স্বচ্ছ পানির বালি হাঁস, খয়রা চকাচকি, কার্লিউ, বুনো হাঁস (widgeon), ছোট সারস পাখি (egret), বড় সারস পাখি, হেরন (heron), নিশাচর হেরন, ডুবুরি পাখি (great crested grebe), কাদাখোঁচা (snipe), গায়ক রেন পাখি (wrens), রাজসরালি, টিকিহাঁস, পাতিকুট, খরচা চকাচকি, মরচে রঙভুতিহাঁস, কালামাথা, গাঙচিল, সরালি, কালোকুট, গ্যাডওয়াল, পিনটেইল, নরদাম সুবেলার, কমন পোচার্ড, বিলুপ্ত প্রায় প্যালাস ফিস ঈগল (বুলুয়া) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
এছাড়াও নানা রং আর কন্ঠ বৈচিত্রের পাখিদের মধ্যে রয়েছে ধুসর ও গোলাপী রাজহাঁস, বালি হাঁস, লেঞ্জা, চিতি, সরালি, পাতিহাঁস, বুটিহাঁস, বৈকাল, নীলশীর পিয়াং, চীনা, পান্তামুখি, রাঙ্গামুড়ি, কালোহাঁস, রাজহাঁস, পেড়িভুতি, চখাচখি, গিরিয়া, খঞ্জনা, পাতারি, জলপিপি, পানি মুরগি, নর্থ গিরিয়া, পাতিবাটান, কমনচিল, কটনচিল প্রভৃতি।
পৃথিবীতে প্রায় ৫ লাখ প্রজাতির পাখি আছে। এসব পাখিদের মধ্যে অনেক প্রজাতিই বছরের একটি নিদিষ্ট সময় অন্য দেশে চলে যায়। শুধু ইউরোপ আর এশিয়ায় আছে প্রায় ৬০০ প্রজাতির পরিযায়ি পাখি। এসব পাখির মধ্যে প্রায় ১৫০ প্রজাতির পাখি আমাদের দেশে প্রতি বছর বেড়াতে আসে। এদেরকেই আমরা বলি অতিথি পাখি।
পাখিদের একটা সুবিধা কি জানো? কোন দেশে যেতে ওদের কোন পাসপোর্ট বা ভিসা লাগে না। আবার যাতায়াত খরচ বা কোন রকম চেকিংয়ের ঝামেলাও ওদের পোহাতে হয় না। তাই প্রতিবছর এসব অতিথি পাখিরা বিশ্বের অনেক দেশ থেকেই ঝাঁকে ঝাঁকে এ দেশে চলে আসে। কী মজা ওদের তাই না!
কিছু কিছু পাখি তাই প্রতিবছর ২২ হাজার মাইল পথ অনায়াসে পাড়ি দিয়ে চলে যায় দূরদেশে। উত্তর মেরু অঞ্চলের এক জাতীয় সামুদ্রিক শঙ্খচিল প্রতিবছর এই দূরুত্ব অতিক্রম করে দক্ষিণ দিকে চলে আসে।
বাংলাদেশের অতিথি পাখিরা অতোটা পথ পাড়ি না দিলেও তারাও অনেক দুর থেকেই আসে। বরফ শুভ্র হিমালয় এবং হিমালয়ের ওপাশ থেকেই বেশীর ভাগ অতিথি পাখির আগমন ঘটে। এসব পাখিরা হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত তিব্বতের লাদাখ থেকে সেন্ট্রাল এশিয়ান ইন্ডিয়ান ফ্লাইওয়ে দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এছাড়া ইউরোপ, দুরপ্রাচ্য (যেমন সাইবেরিয়া) থেকেও এসব পাখি নভেম্বরের দিকে আমাদের দেশে আসে। আর কয়েকমাস বাংলাদেশী বা বাঙালিদের সঙ্গে কাটিয়ে মার্চ-এপ্রিলের দিকে আবার ফিরে যায় নিজের দেশে।
এছাড়াও নানা রং আর কন্ঠ বৈচিত্রের পাখিদের মধ্যে রয়েছে ধুসর ও গোলাপী রাজহাঁস, বালি হাঁস, লেঞ্জা, চিতি, সরালি, পাতিহাঁস, বুটিহাঁস, বৈকাল, নীলশীর পিয়াং, চীনা, পান্তামুখি, রাঙ্গামুড়ি, কালোহাঁস, রাজহাঁস, পেড়িভুতি, চখাচখি, গিরিয়া, খঞ্জনা, পাতারি, জলপিপি, পানি মুরগি, নর্থ গিরিয়া, পাতিবাটান, কমনচিল, কটনচিল প্রভৃতি।
অতিথি পাখি কেন আসে
আগেই বলেছি অতিথি পাখি ছুটি কাটাতে নয় বরং বেশ কিছু প্রাকৃতিক কারণে আমাদের দেশে বা অন্যান্য দেশে যেতে বাধ্য হয়। কেন বাধ্য হয়, এই প্রশ্ন নিশ্চয়ই করবে তুমি।তাছাড়া এ সময়টাতে শীতপ্রধান এলাকায় খাবারেও দেখা যায় প্রচন্ড অভাব। কারণ শীতপ্রধান এলাকায় এ সময় তাপমাত্রা থাকে অধিকাংশ সময় শুন্যেরও বেশ নিচে। আর তুষারপাত বা তুষারঝড় তো লেগেই আছে। তাই কোন গাছপালা জন্মাতে বা বাঁচতে পারে না। আর গাছপালা না থাকলে প্রাণীরা বাঁচবে কেমন করে!
তাই শীত এলেই উত্তর মেরু, সাইবেরিয়া, ইউরোপ, এশিয়ার কিছু অঞ্চল, হিমালয়ের আশপাশের কিছু অঞ্চলের পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে চলে আসে কম ঠান্ডা অঞ্চলের দিকে।
বসন্তের সময় মানে মার্চ-এপ্রিলের দিকে শীতপ্রধান অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করে, কিছু কিছু গাছপালা জন্মাতে শুরু করে। ঘুম ভাঙতে শুরু করে পুরো শীতকালে ঘুমিয়ে থাকা অনেক প্রাণীদের। ঠিক এরকম এক সময়ে অতিথি পাখিরা নিজ বাড়িতে ফিরে যায় দলবলসহ। কিন্তু মজার ব্যাপার কী জানো, হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়েও এসব পাখিদের নিজের বাড়ি চিনতে একটুও ভুল হয় না। সেটা আবার আরেক রহস্য মানুষের কাছে।
অতিথি পাখিরা কিভাবে পথ চিনে নেয়
অতিথি বা পরিযায়ী পাখিদের কাছে কম্পাস, মানচিত্র বা সেক্সট্যান্ট যন্ত্র কোনটাই নেই। কিন্তু তারপরও তারা বসন্তের সময় ঠিক ঠিক নিজের বাসা চিনে ফিরে আসে। অথচ মানুষের পক্ষে এইসব যন্ত্র ছাড়া সমুদ্রে বা স্থলে হাজার মাইল চলাচল করা খুব কষ্টসাধ্য। তারপরও দেখো, এতসব যন্ত্র সঙ্গে নিয়েও কলম্বাস ভারত উপমহাদেশ মনে করে চলে গিয়েছিলেন কয়েক হাজার মাইল দুরের আমেরিকা মহাদেশে। সেটা অবশ্য আরেক ঐতিহাসিক ভুল।তবে মানুষ কিন্তু তারপরও বসে না থেকে নানান গবেষণা করে এই রহস্য সমাধানের চেষ্টা করেছেন। গবেষকরা বলছেন, সমুদ্রের নাবিক যেমন কম্পাস ব্যবহার করে পথ চলে এই পাখিদের দেহে সেরকম কিছু একটা জন্মগতভাবেই আছে। যা তাদের পথ চলার সময় দিক চিনতে সাহায্য করে। তাছাড়া তারা সুর্য ও তারার অবস্থানের উপরই নির্ভর করে। পরিস্কার মেঘমুক্ত রাতে যখন আকাশে নক্ষত্র দেখা যায় তখন পরিযায়ী পাখিরা নির্বিঘ্নে পথ চলতে পারে বলে প্রমান পাওয়া গেছে।
কিন্তু আকাশ মেঘলা থাকলে নক্ষত্র ঢাকা পড়ে। এসময় এসব পাখিরা আকাশ থেকে নিচে কোন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। কিন্তু সমুদ্রের উপর দিয়ে উড়ে চলা পাখিরা এক্ষেত্রে দিকভ্রান্ত হয়। তাই এসময় অনেক দুরের কোন লাইটহাউজের শক্তিশালী আলোর দিকে তারা পথ ভুল করে চলে আসে দলে দলে। মেঘলা কুয়াশাচ্ছন রাতে লাইটহাউজের গ্লাসে আঘাত পেয়ে হাজার হাজার পাখি মারা পড়ে। তাই অতিথি পাখিদের এই অপমৃত্যু রোধে কিছু কিছু পাখি প্রেমী সংগঠন লাইটহাউজে নিরাপদ আলো ব্যবহার করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ইতিহাসের পাতা থেকে
অতিথি পাখিদের ব্যাপারে আজকের মানুষরাই অনেক কিছুই জেনে গেছে। বিশেষ প্রক্রিয়ায় অতিথি পাখিদের ধরে তাদের পায়ে এক ধরণের রিং পড়িয়ে জানার চেষ্টা চলছে অতিথি পাখিদের গতিপথ সম্পর্কে। কিন্তু শুধু আধুনিক মানুষই নয় এদের সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখত অতীতের মানুষরাও। সে ব্যাপারে তথ্য প্রমানসহ সাক্ষ্য দেয় ইতিহাস।অ্যারিস্টোটলের এক লেখায় উল্লেখ করেছেন, সারস পাখি স্কাইথিয়ার বৃক্ষহীন প্রান্তর থেকে নীল নদের জলাভুমিকে ভ্রমণ করত। তিনি আবাবিল (swallow) ও অন্যান্য কিছু পাখি সম্পর্কে লিখেছেন, এসব পাখি হাইবারনেশন বা শীতনিদ্রায় যায়। কিন্তু তার এই ধারণাটি ভুল ছিল। এবং এই ভুল ধারণাই দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের মানুষ বিশ্বাস করত। এই ভুল ধারণা ভাঙ্গতে ইলিয়ট কোয়েস (Elliott Coues) অনেক চেষ্টা করেন। অবশেষে এ বিষয়ে ১৮২টি প্রবন্ধ রচনা করে তিনি ১৮৭৮ সালে ইউরোপিয়ানদের এই ভুল ধারণা ভাঙতে সক্ষম হন। একটা ভুল ধারণা ভাঙতে প্রবন্ধের সংখ্যাটা কমই। তোমরা কী বল!
এদিকে জার্মানির এক গ্রামে এক তীর বিদ্ধ সাদা সারসের ফসিল পাওয়া গিয়েছিল। অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল তীরটা আফ্রিকা এলাকার। এতেও প্রমাণিত হয় অনেক আগে থেকেই পাখিরা দুরদেশে ভ্রমন করে।
বিশ্ব অতিথি পাখি দিবস
পরিযায়ি পাখিরা শুধু বাংলাদেশে নয় সারাবিশ্বেই প্রতি বছর ভ্রমন করছে। প্রতি বছরই তার শীতপ্রধান অঞ্চলের তীব্র শীত থেকে বাঁচতে উড়ে যাচ্ছে হাজার হাজার মাইল২০০৬ থেকে এই দিবসটি পালিত হচ্ছে। সে বছর ৯ এপ্রিল কেনিয়ার লাইকিপিয়াতে এই দিবসটি জাঁকজমকের সঙ্গে পালন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে ৪৬টিরও বেশি দেশ অংশ নিয়েছিল। ২০০৭ সালের ১২ থেকে ১৩ মে এই দিবসটি পালন করা হয়।
যে যেভাবেই এই পাখিদের নিয়ে দিবস পালন করুক না কেন সবারই উদ্দেশ্যে প্রায় একই। আর তা হচ্ছে, অতিথি পাখিদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করা।
আমাদের বন্ধু অতিথি পাখি
অতিথি পাখি আমাদের বন্ধু। কিন্তু কেন তা কি জান? অতিথি পাখি আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নানাভাবে রক্ষা করে। ভাবছ সেটা কিভাবে? যে কোন পরিবেশে উদ্ভিদ বা প্রাণী একটা নিদিষ্ট সংখ্যার চেয়ে বেশি হলেই সে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। অর্থাৎ সেই পরিবেশে কোন প্রাণী বা উদ্ভিদ টিকে থাকতে পারে না। যেমন ধর, কোন একটাঅনেক দুরদেশ থেকে এসে অতিথি পাখি খাদ্য হিসেবে অনেক পোকামাকড় ও ছোট ছোট জলজ উদ্ভিদ খায়। জলাশয় বা পুকুরে জলজ উদ্ভিদ এমনিতে বেশ দরকারী। এসব জলজ উদ্ভিদ পানিতে অতি প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে। কিন্তু জলজ উদ্ভিদের পরিমাণ যদি বেশি হয়ে যায় তাহলে তা পানির পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাড়ায়। কারণ তখন জলজ উদ্ভিদ শ্বসনের সময় পানি থেকে অক্সিজেন নেয়। ফলে পানিতে বসবাসকারী মাছ বা অন্যান্য প্রাণী অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়। আর তারা পোকামাকড় খাওয়ার কারণে প্রাকৃতিকভাবেই পোকামাকড়ের সংখ্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রনে চলে আসে। আবার অতিথি পাখির মল জলাশয়ের মাছেদের প্রিয় খাবার। এই খাবার খেয়ে অনেক মাছ বেঁচে থাকে।
আর প্রাকৃতিক দৃশ্যের কথা নতুন করে আর কী বলব। অতিথি পাখি যখন ঝাঁক বেধে তাদের বিচিত্র স্বরে ডাকতে ডাকতে উড়ে চলে সেটা অবশ্যই পৃথিবীর সুন্দরতম দৃশ্যের একটি। এই দৃশ্য দেখার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভীড় জমাচ্ছে। এসব জায়গার মধ্যে ঢাকার মিরপুরের চিড়িয়াখানা ও জাতীয় উদ্যান, মিরপুর সিরামিক লেক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জলাশয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, পুটিয়ার পচামাড়িয়া, মৌলভীবাজারের এশিয়ার সর্ব বৃহৎ হাওর হাকালুকি হাওর, সুনামগঞ্জ জেলার টাঙ্গুয়ার হাওর, দিনাজপুরের রামসাগর, বরিশালের দুর্গাসাগর ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপকুলীয় ও জলাভুমি জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উদ্যোগে গত ৩০ ডিসেম্বর হাকালুকি হাওরে জলচর পাখির একটি শুমারি করা হয়। এই শুমারির নেতৃত্ব দেন পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম-আল-হক। জরিপে ৪১ প্রজাতির প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৫১টি স্থানীয় ও অতিথি পাখি দেখা গেছে। যা গতবছরের তুলায় আড়াইগুন বেশি। এসব পাখি দেখার জন্য, প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ভীড় জমাচ্ছে সেখানে।
বিপদও আছে!
এবছর অতিথি পাখি বাংলাদেশের কয়েকটি অঞ্চলের জন্য একটু সমস্যা তৈরি করেছে। দক্ষিণাঞ্চলের সিডর আক্রান্ত কয়েকটি জেলার কৃষকরা অভিযোগ করেছে, অতিথি পাখি তাদের বীজতলার লাগানো ধান খেয়ে ফেলছে। এতে সে এলাকায় আবার নতুন করে খাদ্য সংকটের আশংকা/ আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
তাছাড়া অনেক গবেষকের ধারণা, সারাবিশ্বে বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়ার পেছনে অতিথি পাখিরা অনেকাংশেই দায়ী।
এসব ঘটনা বাদ দিলে অতিথি পাখি আসলে আমাদের বন্ধু।
আমাদের অতিথি
পরিযায়ি পাখিরা আমাদের অতিথি। হাজার হাজার মাইল দুরের দেশ থেকে একটু আশ্রয়ের জন্য চলে আসে আমাদের দেশে। কিন্তু কিছু নিষ্ঠুর লোক এসব পাখিকে শিকারএসব সৌখিন শিকারীদের ঠেকাতে সরকারী পর্যায়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ইতোমধ্যে হাকালুকি হাওরের ৫টি বিল দহবিল, হাল্লা-জল্লা, হারামডিঙা, নাগোয়া-লবিরই ও চাতলা বিলকে অতিথি পাখির অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে চাতলা ও দহবিলে হিজল, করচ, বরুন, মাটনা, আড়াং, মুর্তাসহ জলাভূমির উপযোগী বিভিন্ন উদ্ভিদের ডাল পোতা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে বাকি ৩টি বিলে পাকা খুঁটি বসিয়ে তার ওপর জারুল কাঠের তৈরি অতিথি পাখির কৃত্রিম বাসস্থান নির্মাণ করা হয়েছে। তাতে আশা করা যায়, এসব অতিথি পাখি শিকারিদের কিছুটা ঠেকানো যাবে।
ছবি : কামরুজ্জামান
সূত্র : বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/আবুল বাসার/এমাইআর/২১ জানুয়ারি
Subscribe to:
Posts (Atom)



