প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label ফিচার. Show all posts
Showing posts with label ফিচার. Show all posts

Wednesday, October 19, 2011

উইপোকা || বিন্দু এনায়েত

ছোট্ট একটি পোকা। কত ছোট? এক ইঞ্চির মাত্র দশ ভাগের এক ভাগ তার আয়তন। কিন্তু এ পোকাটির অত্যাচারে সব সময় মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত থাকে। পোকাটার শরীর খুবই নরম। শরীরে কোনো শক্ত খোলস নেই, পশমও নেই। অথচ সে মানুষের আসবাবপত্র, কাপড় আর কাগজপত্র কেটেকুটে নিঃশেষ করে দেয়। সেটা কোন পোকা? খুবই পরিচিত পোকা, ওটার নাম উই (ঞবত্সরঃব)। মানে আমাদের পরিচিত উইপোকা।
সবারই জানা আছে মাটির ঢিবি, গাছের বাকলের আড়াল বা ঝাড়জঙ্গলের স্যাঁতসেঁতে জায়গায় উইপোকা বসবাস করে। মানুষের বাড়ির আসবাবপত্র, বাথরুম বা ইটের ফাঁকেও খুব আনন্দে ঘর-সংসার বাঁধে এরা; আর মজা করে মানুষের কাগজপত্র, জামা-কাপড়ের দফারফা করে ছাড়ে।
উইপোকার বসবাস কখনও এককভাবে হয় না। এরা দলে দলে একসঙ্গে বাস করে। আর সে সংখ্যাও হয় হাজারের ওপর। উইদের ঢিবিতে মাত্র একটি রানী উইপোকা থাকে। ওটা কিন্তু সাধারণ উইয়ের চেয়ে বড়ো হয়। রানী উইপোকার আয়তন হয় এক ইঞ্চি বা তার চেয়েও বড়ো। এদের পেট ভরা থাকে শুধু ডিম আর ডিম। প্রতিদিনই প্রায় ডিম পাড়ে রানী। সেই ডিমের সংখ্যা কত শুনবে? একটি রানী উইপোকা প্রতিদিন অন্তত ৬০ হাজার ডিম পাড়ে। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে মানুষ তাদের ভয় পাবে না কেন?
সূত্র : আমার দেশ

জানা !! আবার অজানাও হতে পারে ১১

বিচিত্র দুনিয়াতে রয়েছে বিচিত্র সব তথ্য আর জানা-অজানা নানান কথা। কিছু আমাদের জানা আর বাকি কিছু অন্যদের জানা। জানা-অজানা সেই সব তথ্যের ভিন্ন রকম উপস্থাপনার ছোট্ট এই প্রচেষ্টা.....

জানা !! আবার অজানাও হতে পারে ১১

লবণ

পৃথিবীর সব সাগরে যে পরিমাণ লবণ আছে তা দিয়ে পৃথিবীকে ৫০০ ফুট পুরু লবণের স্তূপ দিয়ে ঢেকে ফেলা যাবে।


কে-টু পাহাড়

সমুদ্র সমতল থেকে হিসেব করলে পৃথিবীর দ্বিতীয় সবোর্চ্চ শৃঙ্গ পাকিস্তান ও চীন সীমান্তের কে-টু পাহাড়। এর উচ্চতা ২৮ হাজার ২৫১ ফুট (৮ হাজার ৬১১ মিটার)।


বাঁশ

সবচেয়ে লম্বা ঘাসের নাম জানো? বাঁশ। এই ঘাস লম্বায় ১৩০ ফুটও হতে পারে।


নেপোলিয়ন

নেপোলিয়ন বিড়ালকে বেশি ভয় পেত।


চা বাগান

দেশে প্রথম চা বাগান করা হয় সিলেটের মালনীছড়িতে।


কনসার্ট ফর বাংলাদেশ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের শরণার্থীদের সহযোগিতার উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যে আয়োজিত কনসার্ট ফর বাংলাদেশ কনসার্ট ও অন্যান্য অনুষঙ্গ হতে প্রাপ্ত অর্থ সাহায্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৪৩,৪১৮.৫১ মার্কিন ডলার।



চুল

একজন মানুষের মাথার চুলে ধোয়া, ব্রাশ করা বা আঁচড়ানোর কারণে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ১৫০টি পড়ে যায়।


জানা!! আবার অজানাও হতে পারে ১ম পর্ব, ২য় পর্ব, ৩য় পর্ব , ৪র্থ পর্ব , ৫ম পর্ব , ৬ষ্ঠ পর্ব, ৭ম পর্ব, ৮ম পর্ব, ৯ম পর্ব, ১০ম পর্ব,


এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের ঝিঁঝি পোকার বাগানে নিমন্ত্রণ।

Saturday, October 15, 2011

নখ যখন ক্যানভাস || সিরাজুল ইসলাম

প্রতিটি মানুষই সুন্দরের পূজারি। সুন্দরকে পছন্দ করেন সৃষ্টিকর্তা নিজেও। তাই তো এত সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন এ ধরণী। গাছপালা, পাহাড়, নদী, সাগর, ফুল, ফল, পাখি, ঝর্ণা, উপত্যকা_ সবই অপার সৌন্দর্যে ভরপুর। এগুলো সবসময়ই আমাদের কাছে টানে। এসবের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আমরাও ছুটে যাই। যার দরুন কক্সবাজার, রাঙামাটি, কুয়াকাটা ও সুন্দরবনে সৌন্দর্যপিপাসুদের ভিড় লেগেই থাকে। অনেকে সীমানা পাড়ি দিতে যান দার্জিলিং ও হিমালয়ে। থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, লন্ডন, কানাডায়ও কম মানুষ যান না। তাই বলে মানুষ কিন্তু শুধু সৌন্দর্য উপভোগ করে না, নিজেকেও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে চায়। আর এ কারণেই আবিষ্কার করা হয়েছে বাহারি রঙ ও নকশার পোশাক, গহনা। আছে নানা ধরনের প্রসাধনী। চুলের স্টাইলও করা হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। তারপরও মানুষের সৌন্দর্যের তৃষ্ণা মিটছে না। এরই প্রমাণ মেলে নখ প্রদর্শনীতে। সম্প্রতি লন্ডনে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। 'নেইল এক্সিবিশন' নামের এ প্রদর্শনীতে নানা রঙ ও নকশার নখ স্থান পায়। পূর্ব লন্ডনের এক দল চিত্রশিল্পী এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। এটি সম্ভবত বিশ্বের প্রথম নখ প্রদর্শনী। লন্ডনে 'নখ নকশা' এখন শিল্পে রূপ নিয়েছে। লাখ লাখ পাউন্ডের ব্যবসাও বটে। লন্ডনের শীর্ষ নখ প্রকৌশলী থেকে সদ্য স্নাতক হওয়া শিল্পীরাও এতে যোগ দিয়েছেন। এ শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তারা। একে প্রতিষ্ঠিত শিল্প হিসেবে দাঁড় করানোই তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
এ প্রদর্শনী জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল। এখানে নানা ধরনের নকশা করা নখ কেনার সুযোগ ছিল। নিজের নখে বাহারি নকশা করিয়েও নেন অনেকে। তরুণীদের আনাগোনাই বেশি ছিল। ডিগ্রি আর্ট ডটকম নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। গ্যালারিটিও নানা নকশায় সাজানো হয়। ইনস্টলেশন, ফটোগ্রাফি, ফিল্ম ও প্রিন্ট মাধ্যমের নানা চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয় নখে। স্যাম বিডলি নামক এক শিল্পীর তুলির আঁচড়ে ফুটে ওঠে গোলাপের দৃশ্য। এ ছাড়া লতাপাতা, গাছপালা ও প্রাণীর চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়।
ডিগ্রি আর্ট ডটকমের পরিচালক ইসোবেল বিয়েনচেম্প বলেন, হাতব্যাগ ও হেয়ার স্টাইলের মতো নখের নকশাও একটি শিল্প। একে তারা দৃষ্টিনন্দন ফ্যাশন হিসেবেই দেখছেন। বেশ সাড়াও মিলছে। মেধা বিকাশ ও ভিন্নধারার শিল্পকর্ম সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই তারা এ মাধ্যমটি বেছে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, নখ শিল্পীরা এখনও সমাজে তেমনভাবে স্থান করে নিতে পারেননি। অনেকের মতে, এটা কোনো শিল্প নয়। বলা চলে, এ শিল্পীরা অনেকটা অবহেলিত। এ কারণেই এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে নখ শিল্পের প্রচার ও প্রসার ঘটবে। তারা একটা জায়গা করে নিতে পারবেন। তিনি বলেন, আমরা কাজের মানের দিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছি। যতটুকু সম্ভব ভালো শিল্পীদের এ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ প্রকল্পে রয়েছেন ম্যারিয়ান নিউম্যান, সোফি রবসন, স্যাম বিডলি, মাইক পোকক, জেনি লংওয়ার্থ, স্যু মার্স, ক্রিস্টি মিয়েকিন প্রমুখ। তারা সবাই স্নাতক ডিগ্রিধারী। তবে কিছুসংখ্যক ছাত্রও রয়েছে প্রকল্পে ।
সূত্র : সমকাল

কাঠির নগর || সিরাজুল ইসলাম

নিজের শহর_ কে না মনের মতো করে সাজাতে চায়? আর শিল্পী হলে তো কথাই নেই। মাথার মধ্যে সব সময় ঘুরঘুর করে একটা স্বপ্নের শহর। এমনই একজন শিল্পী স্কট ওয়েভার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের সান ফ্রান্সিসকো শহরের বাসিন্দা। এ শহরের একটি কাল্পনিক মডেল তৈরি করেছেন তিনি। এটি মূলত একটি ভাস্কর্য। এতে ব্যবহার করা হয়েছে এক লাখ ৩ হাজার ৯৮৭টি কাঠের শলাকা। এটি তৈরি করতে সময় লেগেছে ৩ হাজার ঘণ্টা। শিল্প বোদ্ধারা বলছেন, এটি অবিশ্বাস্য শিল্পকর্ম। এর নাম দেওয়া হয়েছে রোলিং থ্রো দ্য বে। এটির উপর থেকে মার্বেল ফেললে তা আস্তে আস্তে গড়িয়ে নিচে পড়বে। এর অর্থ হলো একটি বিশেষ জায়গা থেকে ভ্রমণ শুরু করলে রাস্তাই আপনাকে শেষ গন্তব্যে নিয়ে যাবে। এ ভাস্কর্যটি থেকে পর্যটকরা সহজেই এ শহর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতে পারবেন। এটির উচ্চতা ৯ ফুট। বিভিন্ন ভাস্কর্যের বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে এটি তৈরি করা হয়। এ শহরের কালজয়ী ঘরবাড়ি, জাহাজ ঘাট, সোনালি ফটক সেতু এবং পাহাড়ে টেরাকোটা বাড়ির ভাস্কর্যও তৈরি করেছেন তিনি। এ ভাস্কর্যে কাল্পনিক শহরের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের কথাও বলেছেন ওয়েভার। যে বাড়িতে তার পরিবার থাকত, শৈশব কিভাবে কেটেছে, তার বিয়ের তারিখ ও অতিথিশালার বর্ণনাও রয়েছে এ ভাস্কর্যে। এটির ওপর দিয়ে বেশ ধকলও গেছে। এটিকে একটি ভূমিকম্প সইতে হয়েছে। ৪টি বাড়িতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তার পরও টিকে আছে এ নান্দনিক ভাস্কর্যটি। এ সম্পর্কে শিল্পী ওয়েভার বলেন, তিনি কাঠের শলাকা দিয়ে পৃথিবীর সব চেয়ে বড় ভাস্কর্য তৈরির স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু কি তৈরি করবেন তা ভেবে পাচ্ছিলেন না। অবশেষে তিনি সান ফ্রান্সিসকো শহরের কাল্পনিক মডেল তৈরি করেন।
সূত্র : সমকাল

ছবিটি দেখুন ভাল করে

কতটা করুণ হতে পারে মানুষের দৃষ্টি তা ছবিটাতে চোখ রেখেই বুঝতে পারছেন। ছবির মুখটার জন্য একটা দরদও জেগে উঠছে আপনার মানবিক হ্রদয়ে। চোখটা বন্ধ করে আবার চোখ রাখুন ছবিটায়। আরেকটু বড় করুন চোখ। এবার বলুনতো, কতটা প্রাণী দিয়ে গড়া হয়েছে এই সুদর্শন মুখটি? আর কত রকমের প্রাণীকে বসানো হয়েছে ছবিটায়

পাথরের জাদুঘর || সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ

নৌকা দুটির বয়স হাজার বছরের উপরে বলে অনুমান করা হয়।
সংগৃহীত নৌকা দুটির সঙ্গে জাতীয় জাদুঘরে রক্ষিত ৫০টি নৌকার কোনো মিল নেই। কেবল ছাতক-সুনামগঞ্জে প্রচলিত জৈন্তাপুরী নৌকার সঙ্গে এর কিছু সামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়

রকস মিউজিয়াম। পাহাড় বা পর্বত নয়_ পাথর এবং তার সূত্র ধরে আমাদের সভ্যতার আদিতে পেঁৗছতে হলে আপনাকে আসতে হবে এ জাদুঘরে। পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের বিশালায়তন উঠানে গড়ে তোলা হয়েছে এ মিউজিয়াম। সারি করে রাখা হয়েছে নানা আকার, প্রকৃতি ও রঙের অনেক পাথর। যার নামকরণ করা হয়েছে 'রকস মিউজিয়াম'। সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ও পরিকল্পনায় এ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. নাজমুল হক মিউজিয়ামটি গড়ে তুলেছেন। নিজের চেষ্টা আর অর্থে তিনি ১৯৯৭ সালের ১ মার্চ এ মিউজিয়ামটি গড়ে তোলেন। পরে জাতীয় জাদুঘরের পরিচালক শামসুজ্জামান খান ও আমেরিকার ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হেনরি গাসি এ মিউজিয়ামের 'ফোকলোর ও জাতিতত্ত্ব' বিভাগ উদ্বোধন করেন। যার মেধা, মনন ও একাগ্রতায় এটি গড়ে উঠেছে তিনি শিক্ষাবিদ ড. নাজমুল হক। সাহিত্যের লোক হয়েও প্রত্নতাত্তি্বক এবং ভূ ও খনিজ পদার্থের গবেষক হতে যার আগ্রহ একটুও বাধা হয়ে ওঠেনি। এখন উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে এ জাদুঘর।
যেভাবে শুরু
পঞ্চগড় শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে লাঠুয়াপাড়া গ্রামে মহিলা কলেজের কর্মচারী তবিবর রহমানের জমিতে পড়ে থাকা দুটি বিশালায়তনের বেলে ও গ্রানাইট পাথর সংগ্রহের মাধ্যমে নাজমুল হক শুরু করেন এ জাদুঘরের কাজ। মাত্র দুই বছরের মধ্যে তিনি গড়ে তোলেন দুর্লভ সংগ্রহের একটি জাদুঘর। অধ্যক্ষ হিসেবে কলেজ পরিচালনার দায়িত্ব পালনের ফাঁকে ফাঁকে তিনি কোনো সহকর্মীর মোটরসাইকেলে চড়ে চলে যেতেন প্রত্যন্ত অঞ্চলে। যার নিয়ন্ত্রণে পাথর থাকে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কখনও পাথরের বিনিময়ে কাঠ দিয়ে, কখনও পাথরের পাশে দাতার নাম লেখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, কখনও স্বল্পমূল্য প্রদান করে তুলে নিয়ে আসেন পাথর। পরে তা গরু-মহিষের গাড়ি অথবা রিকশা-ভ্যানে করে নিয়ে আসতেন কলেজ ক্যাম্পাসে। সহকর্মীরা প্রথমে পাগলামি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন; কিন্তু যেদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের কয়েকজন প্রবীণ শিক্ষক এটি দেখতে এসে প্রশংসা করলেন, সেদিনই শুরু হয়েছে মিউজিয়ামের সুদিন। সহকর্মীরাও বাড়িয়েছেন সহযোগিতার হাত। বিশেষত, আমিরুল ইসলাম, তৌহিদুল বারী, নূর ইসলামসহ চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা।
মিউজিয়ামে যা আছে
প্রস্তর সংগ্রহে সমৃদ্ধ এ ধরনের জাদুঘর বাংলাদেশে প্রথম তো বটেই, এমনকি উপমহাদেশে দ্বিতীয়টি আছে বলে আমাদের জানা নেই। এই জাদুঘরে সংগৃহীত শিলা বা পাথরের মধ্যে শুধু কোটি বছরের ভূতাত্তি্বক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বিশালায়তন প্রস্তর খণ্ডই নয় বরং হাজার হাজার বছর পুরনো ঐতিহাসিক নৃতাত্তি্বক ও প্রত্নতাত্তি্বক প্রস্তর সংগ্রহও রয়েছে বিপুল পরিমাণে। এছাড়া রয়েছে এ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েক হাজার বছর বয়সী বিভিন্ন নিদর্শন ও জাতিতাত্তি্বক উপকরণ। মিউজিয়ামটি দুই ভাগে বিভক্ত। কলেজ ক্যাম্পাসের বহিরাঙ্গন এবং কলেজের একটি কক্ষে মিউজিয়ামটি গড়ে তোলা হয়েছে। দুটি অংশে থরে থরে সাজানো রয়েছে নানা আকৃতির বেলেপাথর, কাদাপাথর, গ্রানাইট, ব্যাসল্ট, সিস্ট, কার্বন, কোয়ার্জাইট, সিলিকন, প্যাট্রিফাইডসহ বিচিত্র নামের পাথর। এগুলোর কোনোটির ওজন এক টন থেকে দুই টন পর্যন্ত। প্রতিটি পাথরের আলাদা আলাদা বিশেষত্ব আছে। যেমন_ ক্লে রকস বা কাদা থেকে রূপান্তরিত পাথরের যে নিদর্শন সংগৃহীত হয়েছে। তার বয়স কম করে হলেও ২০ লাখ বছর। বৃক্ষ জমাট বেঁধে রূপান্তরিত পাথরের [প্যাট্রিফাইড] বয়স ২৫ লাখ বছরের কম নয়। ক্লে রকস দুই টন ওজনের আর প্যাট্রিফাইড পাথর অন্তত ১০ মণ ওজন সম্পন্ন। গ্রানাইট পাথরের বড় বড় চাঁই বা ছোট পাহাড় সাধারণত ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় কোনো কোনো পাহাড়ে, সুইজারল্যান্ড এবং কানাডায় দেখা যায়। কিন্তু পঞ্চগড়ের মতো একটি সমতলীয় স্থানে এ ধরনের বিশাল পাথর বেশ বিস্মকরও। বিভিন্ন আকারের বেলে ও কোয়ার্জাইট পাথর মিউজিয়ামের একটি বড় সংগ্রহ। কোয়ার্জাইট হচ্ছে পৃথিবী সৃষ্টির আদিকালের শিলা। এর বয়স কোটি কোটি বছর। এ ধরনের পাথরও সংগৃহীত আছে এ মিউজিয়ামে। আরও আছে কোয়ার্জাইট পাথরের স্মৃতিস্তম্ভ যা মেজোলিথিক যুগের [৩৫০০-৪৫০০] আদিবাসীদের তৈরি। এ ছাড়াও এখানে আছে প্রত্নতাত্তি্বক মূল্যসম্পন্ন অনেকগুলো প্রস্তর। অনেকগুলোতে খোদাই করা আছে নকশা, বর্ণ, লিপি, তীর, ধনুক, চোখ ও জ্যামিতিক নকশা। লিপিগুলো দুর্বোধ্য। কোনোটি চাইনিজ, কোনোটি ব্রাক্ষ্মী, খরোষ্ঠি অথবা অশোক লিপি। সংগ্রহের মধ্যে আছে চার থেকে পাঁচ হাজার বছরের পুরনো নব্যপ্রস্তর যুগের ডলোরাইট পাথরের হস্তকুঠার। রয়েছে ব্যাসল্ট, সিস্ট ও লাইম স্টোন।
পাথরে জিন আছে
মানুষ কত সৃষ্টিশীল হতে পারে, কতভাবে আমাদের চারপাশকে আলোকিত করতে পারে, আক্ষরিক অর্থেই মৃত্তিকা ভেদ করে আহরণ করতে পারে অফুরন্ত সম্পদ_ তার খবর আমরা ক'জনইবা রাখি। এ রকমই একজন সৃষ্টিশীল মানুষ ড. নাজমুল হক। পাথর সংগ্রহ করতে গিয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে পঞ্চগড় জেলার ইতিহাস লেখক ড. নাজমুল হক জানান, কোনো পাথর আনতে গেলে গ্রামের লোকজন জানায়, ওতে জিন আছে। কোনো কোনো পাথরে তখনও পূজা দেওয়া হচ্ছে। কোনো পাথর ৩০-৪০ জন লোকও নাড়াতে পারেনি। কোনো পাথরে রাতের বেলা আলোক রশ্মি দেখা গেছে। পাথর আনার পর রাতেরবেলা স্বপ্ন দেখিয়েছে মালিককে। কেউ হয়েছে অসুস্থ। এক টন, দুই টন ওজনের পাথর গাড়িতে তোলার পর বারবার গড়িয়ে পড়েছে। ভেঙে গেছে গাড়ি, ভ্যান। এতকিছুর পরও দমেননি তিনি। দুই টন ওজনের 'ক্লে রকস'টি দশ ফুট মাটি খুঁড়ে কপিকল দিয়ে টেনে তোলা হয়েছে। ওই পাথরটি ছিল শোয়া অবস্থায়। তার ওপর ছিল আর একটি পাথর, এক টন ওজনের। তিনি জানান, কয়েকটি পাথর কোনো ক্রমেই দিতে চাইছিল না মালিকরা। দু'তিন বার বুঝিয়েও রাজি করা যায়নি। কাজে লাগেনি অধ্যক্ষ পরিচয়। অবশেষে পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় সেগুলো সংগ্রহ সম্ভব হয়। মিউজিয়ামের নিদর্শনগুলো সমাজবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান, প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস, ভূগোলের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া বাংলাদেশের খনিজসম্পদ অথবা ভূতত্ত্ব সম্পৃক্ত যে কোনো গবেষণার জন্য অনন্য। নৃতত্ত্ব ও প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক যে কোনো বড় ধরনের গবেষণার উপকরণ রয়েছে এখানে। এ বিষয়ে ভারতের পুনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষকও এখানে গবেষণা করে গেছেন।
প্রাচীন দুই নৌকা
এ জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ দুটি সুদীর্ঘ নৌকা। নির্মাণ কৌশল ও বয়স এগুলোকে করেছে আকর্ষণীয়। পুরো গাছ খোদাই করে, কোনো জোড়া ছাড়াই তৈরি এ নৌকাগুলো। পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীর নিচ থেকে কাঠ সংগ্রহকারী একদল শ্রমিক নদীর তলদেশ খনন করে ৩৩ ফুট দৈর্ঘ্য, ২ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থ, ১ ফুট ৯ ইঞ্চি গভীর এবং ৬ ফুট ৩ ইঞ্চির এই নৌকাটির সন্ধান পায়। অতিপ্রাচীন নৌকাটি যার দুই প্রান্ত মোটামুটি তীক্ষষ্ট এবং মূল অংশটি সামান্য গোলাকৃতি। অপর ২৫ ফুট দৈর্ঘ্য নৌকাটি পঞ্চগড় সদর থানার অমরখানা গ্রামে চাওয়াই নদীর ৮ ফুট মাটির নিচে পাওয়া যায়। ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী অনুমান করে দেখা যায়, প্রাপ্ত নৌকা দুটি ডিঙি জাতীয় এবং এর ব্যবহারকারীরা ছিল আদিবাসী কোনো জনগোষ্ঠী। সম্ভবত এরা উত্তরের পাহাড়ি এলাকা থেকে এসেছিলেন। নৌকা দুটির বয়স হাজার বছরের উপরে বলে অনুমান করা হয়।
নাজমুল হক জানান, সংগৃহীত নৌকা দুটির সঙ্গে জাতীয় জাদুঘরে রক্ষিত ৫০টি নৌকার কোনো মিল নেই। কেবল ছাতক-সুনামগঞ্জে প্রচলিত জৈন্তাপুরী নৌকার সঙ্গে এর কিছু সামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়। এসব নৌকা প্রাচীনকালে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের আদিবাসীরা ব্যবহার করত। আফ্রিকার টোগো এবং মাইল দেশের আদিবাসীদের মধ্যে এ গাছের লম্বা অংশ অথবা গুঁড়ি কেটে নৌকায় রূপান্তরিত করে চলাচলের রীতি এখনও প্রচলিত রয়েছে। জাম্বিয়া এবং জায়ারে প্রবাহিত কঙ্গো নদীতে চলাচলকারী আদিবাসীদের নৌকাগুলো পঞ্চগড়ে প্রাপ্ত নৌকার অনুরূপ। এ নৌকা দুটি আফ্রিকায় দুগোট নামে পরিচিত।
অবশেষে স্বতন্ত্র ভবন
দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রত্নতত্ত্ব নির্দশন সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে যাচ্ছিল। প্রচুর লেখালেখিও হয়েছে। অবশেষে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যোগাযোগ উপদেষ্টা গোলাম কাদের ও স্থানীয় সরকারবিষয়ক উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইকবাল পঞ্চগড় সফরে আসেন। মিউজিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা ড. নাজমুল হকসহ কলেজের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা কামনা করলে দুই উপদেষ্টা মিউজিয়ামের দ্বিতল ভবন নির্মাণের জন্য ২০ লাখ করে ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। চলতি বছরের আগস্ট মাসে ঠিকাদার কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ভবন হস্তান্তর করেন। এ মাসের শেষে বা নভেম্বরের শুরুতে নতুন ভবনে উঠছে মিউজিয়াম। 
সূত্র : সমকাল

Thursday, October 13, 2011

জোড়াতালি দেয়া প্রাণী প্লাটিপাস || আবুল হোসেন খান

প্লাটিপাস নামে মজার একটি প্রাণী আছে। প্রাণীটিকে মজার বলছি এ কারণে যে, চেহারা-সুরত দেখে যে কারও কাছে মনে হবে এ প্রাণীটির শরীরে নিজের কিছুই নেই। সবকিছুই সে কোনো না কোনো প্রাণীর কাছ থেকে ধার নিয়ে নিজেকে সাজিয়ে তুলেছে।
কেন প্লাটিপাস নামের প্রাণীটিকে এমন অপবাদ দেয়া হলো এবার সে কথা বলা যাক। এ লেখাটির সঙ্গে ছবি তো ছাপা হয়েছে। আমি বলে যাচ্ছি প্লাটিপাস কার কাছ থেকে কী ধার করেছে। তোমরা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে নাও।
প্লাটিপাসের ঠোঁট আর মাথা হাঁসের মতো। ঠোঁট হাঁসের সঙ্গে শত ভাগ মিলে যায় বলে প্লাটিপাসকে বাংলায় হংসচঞ্চু বলা হয়, মানে হাঁসের ঠোঁট। এই তো গেল ঠোঁটের কথা। এবার বলা যাক লেজের কথা। ওদের লেজ হুবহু বিভারের মতো। আর শরীর? শরীরটা যেন ধার করেছে ভোঁদরের কাছ থেকে। শরীরের রং বানরের মতো লালচে খয়েরি। আর সারা শরীরে পশম রয়েছে বিড়ালের মতো। পা দুটো বড়ো আকৃতির ইঁদুরের মতো হলেও তাতে ধারাল নখ রয়েছে। এই নখগুলো পাখিদের নখের মতো। অবাক হয়ে যাওয়ার মতো ব্যাপার না?
জোড়াতালি দেয়া এ প্রাণীটির বৈজ্ঞানিক নাম হলো অরনিথোরিনকাস অ্যানাটিনাস।
সূত্র : আমার দেশ

Friday, September 30, 2011

১১ বছরে পায়ে হেঁটে বিশ্ব ভ্রমণ

১১ বছর হেঁটে বিশ্ব প্রদক্ষিণ করে দেশে ফিরেছেন কানাডার মন্ট্রিলের জঁ বেলিভো। বয়স তখন ৪৫। বেশ অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, মনে হচ্ছিল, আর বেঁচে থেকে কী লাভ? সবে বিয়ে বিচ্ছেদ হয়েছে। দুই সন্তান থাকে মায়ের কাছে। নিজের ছোট একটা ব্যবসা ছিল, তাও লাটে উঠেছে। তাই পিছুটান নেই।
২০০০ সালের ১৮ আগস্ট নিজের ৪৫তম জন্মদিনেই তিনি হাঁটতে বেরিয়ে পড়লেন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ থেকে পায়ে হেঁটে গোটাবিশ্ব প্রদক্ষিণ করে আবার নিজের শহর মন্ট্রিলে ফেরার গোঁ ধরে বেরিয়ে পড়লেন তিনি। সঙ্গে ৩ চাকার একটা ট্রলি সুটকেস। তার মধ্যে স্লিপিং ব্যাগ, কিছু জামা-কাপড়, প্রাথমিক চিকিত্সার কিছু সরঞ্জাম, সঙ্গে মাত্র ৪ হাজার কানাডীয় ডলার। কোথায় রাত কাটাবেন, কখন কী খাবেন, কিছুই জানা নেই। শুধু হেঁটে চলেছেন। রওনা হওয়ার পর প্রায় ১১ বছর কেটে গেছে। সত্যি বিশ্ব প্রদক্ষিণ করে তিনি মন্ট্রিলের কাছাকাছি এসে পড়েছেন। এবার সামান্য যে পথ বাকি রয়েছে, তা অতিক্রম করে ১৬ অক্টোবর তার আবার নিজের শহরে পৌঁছনোর কথা। ৬৪টি দেশ ঘুরে প্রায় ৭৫ হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করে তিনি সম্ভবত দীর্ঘতম পদযাত্রার রেকর্ড গড়তে চলেছেন।
এতদিন পর কার কাছে ফিরবেন বেলিভো? তার জন্য অপেক্ষা করছেন দীর্ঘদিনের বান্ধবী লুস আর্শাম্বো। তিনি ও তার দুই সন্তানও বেলিভোকে বাধা দেননি। ঘরে থেকেই তিনি বেলিভোর এ অভিযানে মদত দিয়ে চলেছেন। তৈরি করেছেন বিশেষ ওয়েবসাইট, যার ঠিকানা ‘ওয়াক ডট অর্গ’। তবে ‘ওয়াক’ শব্দে একটার বদলে তিনটে ডব্লিউ রয়েছে। অসাধারণ এ পদযাত্রাকে কাজে লাগিয়ে শান্তি ও অহিংসার বাণী প্রচার করার জন্য বেলিভোকে উত্সাহ দিয়েছেন তিনি। জাতিসংঘের শিশু কল্যাণ সংস্থা ইউনেস্কোর এক ঘোষণাই হয়ে উঠল এ পদযাত্রার মূলমন্ত্র। অবসাদগ্রস্ত এক মানুষের অভিযান যে এত অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে, বেলিভো তা ভাবতে পারেননি।
এ ১১ বছর কীভাবে কাটালেন বেলিভো? কীভাবে তিনি অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারলেন? আশ্চর্যের বিষয়, যাত্রাপথে তেমন কোনো অপ্রিয় ঘটনা ঘটেনি। শুধু আলজেরিয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, ইথিওপিয়ায় অকারণে তাকে একরাত হাজতবাস করতে হয়েছিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই মাতাল তার ওপর চড়াও হয়েছিল। তিনি মেক্সিকোয় ৯ দিনের জন্য এক নারীর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন, সুদানে থাকতে পাগড়ি পরে লম্বা দাড়ি রেখেছিলেন। আফ্রিকায় পোকামাকড়, দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুর ও চীনে সাপ খেয়েছেন। ইথিওপিয়ায় থাকতে বেলিভোর একবার মনে হয়েছিল, মাঝপথে পদযাত্রা ছেড়ে দেশে ফিরে যাবেন। কিন্তু বান্ধবীর উত্সাহে তিনি হাল ছাড়েননি। সূত্র : ডিডব্লিউ

Tuesday, September 13, 2011

পৃথিবির সবচেয়ে ছোট পাখি

আমাদের চারপাশে আছে হাজারও পাখি। যেমন তাদের নাম তেমনই আকার আবার তেমনই গায়ের রঙ। বুলবুলি, ময়না, টিয়া, দোয়েল, শালিক, বক, মাছরাঙা, চড়-ই আরও কত পাখি। এগুলো সবই আমাদের দেশীয় পাখি। আমাদের খুবই চেনাজানা। এরকম নাম জানা-অজানা অনেক পাখি রয়েছে পৃথিবী জুড়ে। আকারে কোনওটা ছোট আবার কোনওটা বড়। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাখি হলÑ উটপাখি। আর সবচেয়ে ছোট পাখিটি হচ্ছে হামিং বার্ড। ছোট পাখি হামিং বার্ডের দৈর্ঘ্য মাত্র ৫ মিটার। আর ওজন মাত্র ১.৮ গ্রাম। এরা বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। এদের গড় আয়ু ৩ থেকে ৫ বছর হয়। মজার বিষয় হচ্ছে, পুরুষ হামিং বার্ড আকারে মেয়ে হামিং বার্ড থেকে ছোট। শুধু আকারেই নয় আরও পার্থক্য আছে মেয়ে এবং পুরুষ হামিং বার্ডের মধ্যে। পুরুষ পাখির লোম সবুজ রঙের হয়। এদের পাখার উপরের দিকটা নীল বর্ণের আর শরীরের নিচের দিকটা বেশির ভাগ সময় ধূসর সাদা হয়ে থাকে। আর মেয়ে হামিং বার্ডের মাথার ওপরের দিকটা নীলচে সবুজ রঙের হয়। সরু লেজে থাকে সাদা রঙের ফোটা ফোটা দাগ।
হামিং বার্ড ছোট হলেও কিস্তু এদের শরীরে অনেক শক্তি। হেলিকপার যত উঁচুতে উড়ে হামিং বার্ডও ঐ উচ্চতায় উঠতে পারে। তবে উঁচুতে উড়তে পারলেও এরা অনান্য পাখির মতো হাঁটতে পারে না। দেহের আকার ছোট এবং সেই সঙ্গে তাদের ডানাগুলো বেশ বড় বলে হামিং বার্ড বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হল এরা প্রজাতিভেদে সেকেন্ডে ১২ থেকে ৯০ বার নিজেদের পাখা নাড়াতে পারে। এ কারণেই চোখের পলকে অনেকটা দূরে চলে যেতে পারে হামিং বার্ড। সাধারণত এদের ওড়ার গতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। অন্য পাখিরা শুধু সামনের দিকে উড়তে পারে কিন্তু হামিং বার্ড কেবল সামনেই নয়, পেছন দিকেও উড়তে পারে। বাসা বানানোর কাজ মেয়ে হামিং বার্ডকেই করতে হয়। বাসা তৈরিতে এরা মাকড়সার জাল, গাছের বাকল এবং বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক ব্যবহার করে। বাসার আকার দেখতে হয় ঠিক কাপের মতো। একটি মেয়ে হামিং বার্ড এক সঙ্গে দুইটি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো এতই ছোট যে দেখলে শস্যদানা মনে হয়। মা পাখিটি ডিমগুলো তার ছোট্ট বাসায় রাখে। বাসা বানানোর ব্যাপারে পুরুষ পাখির তেমন কোনও মাথাব্যাথা নেই। হামিং বার্ডে প্রধান খাবার ফুলের মধু। ছোট ছানারা মায়ের দেওয়া খাবার খায় আর বড়রা নিজেরাই ফুলের মধু সংগ্রহ করে খায় । সারাদিন ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়। হামিং বার্ড দিনে প্রায় ১৫০০ ফুলের মধু সংগ্রহ করে থাকে।
লাল রঙের ফুল হামিং বার্ডের বেশি পছন্দ। তাই বেশির ভাগ সময় এরা লাল রঙের ফুল থেকেই মধু সংগ্রহ করে থাকে। মধু খাবার সঙ্গে সঙ্গে এরা গাছেরও কিছু উপকার করে দেয়। কারণ হামিং বার্ড যখন ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায় তখন এদের পায়ের এবং পাখার সঙ্গে ফুলের রেণু জড়িয়ে যায়। এতে গাছের পরাগায়ণ ভালো হয়। গাছের পরাগায়ণ কাজ সাধারণত করে থাকে মৌমাছি। মৌমাছির মতো এরাও পরাগায়ণে সাহায্য করার করণে অনেকেই হামিং বার্ডকে বড়ো মৌমাছি বলে থাকে।

Friday, July 15, 2011

হাতের লেখা মানুষ চেনায় !! শামছুল হক রাসেল

স্ত্রিয়াশচরিত্রম দেবা না জানন্তি'_বাক্যটি একটি সংস্কৃত প্রবাদ। বাংলায় যার অর্থ নারী অর্থাৎ মহিলাদের মন দেবতাদের পক্ষেও বোঝা অসম্ভব। বস্তুত এমন প্রবাদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মহিলাদের জড়িয়ে ফেলায় স্বাভাবিকভাবেই পুরুষ জাতির ওপর মহিলারা অনেকটাই ক্ষুণ্ন। কিন্তু একটু ভাবলেই বোঝা যাবে, মন বোঝার ক্ষেত্রে একমাত্র মহিলারাই নিজেদের অন্ধকারে রাখেন, তা মোটেই ঠিক নয়। কম যান না পুরুষরাও। আসলে পুরুষ বা মহিলা যেই হোক না কেন, আসলে মানুষের মনের গভীরতা মাপতে বসলে এর পরিধি মাপা সম্ভব নয় বললেই চলে। মানবমস্তিষ্ক সবচেয়ে জটিল। ফলে তার ভাবনাচিন্তা প্রকাশের ভঙ্গিও পশু-পাখিদের মতো নিতান্ত সাদামাঠা বা সহজ সরল নয়। আর বিশেষ এই গুণপ্রাপ্ত হওয়ার জন্যই মানবজাতি আজ সমগ্র বিশ্ব শাসন করছে। যাই হোক, সে প্রসঙ্গ ভিন্ন। মানুষের মনে কী আছে আর কী নেই, তা অন্যের পক্ষে তো বটেই, অনেক সময় নিজের মনের খবরও অজানাই থেকে যায় সেই মানুষটির কাছে। অর্থাৎ অনেক চেষ্টা করেও নিজেদেরকে পুরোপুরি চিনতে পারা যায় না। নিজেদের শক্তি বা দুর্বলতা সম্বন্ধে আমরা অন্ধকারে থাকি। অপরাধীকে জেরা করার সময় পুলিশ তাকে হাজারও প্রশ্ন করে। প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়ে অবশেষে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে অপরাধী ব্যক্তিটি। তার মুখ থেকেই বেরিয়ে আসে সব সত্যি কথা। কথায় বলে, মানুষের মুখই হলো তার মনের আয়না। অর্থাৎ একটি মানুষ ভালো না খারাপ, বোকা না চালক, সে কেমন মনের মানুষ ইত্যাদি বিষয় সেই মানুষটির মুখ দেখলেই বোঝা যায়। কথাটা একেবারে ভুল নয়। তবে মানুষের মুখ দেখে সেই মানুষটি সম্পর্কে সবকিছু গড় গড় করে বলে দেওয়া যায়, এটাও ঠিক নয়। তাহলে একটি মানুষকে প্রকৃতভাবে চেনার উপায় কি? উপায় আছে, একজন মানুষকে শতকরা নব্বই ভাগেরও বেশি চেনা সম্ভব মানুষটির হাতের লেখা দেখে। যারা লিখতে পারেন না তাদের কথা এখানে ধরা হচ্ছে না। যারা হাতের লেখা, নকশা, ছবি প্রভৃতি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেন তাদের বলা হয় গ্রাফোলজিস্ট। সম্প্রতি গ্রাফোলজিস্টরা জানিয়েছেন, একজন মানুষকে না দেখেও তার চরিত্র বা মনের নানা দিক, এমনকি সেই মানুষটি সাম্প্রতিক- অতীতে কী কী করেছেন তা প্রায় নির্ভুলভাবে বলা সম্ভব। শুধু হাতের লেখা দেখে যে কোনো মানুষের নানা তথ্য জানা যেতে পারে। গ্রাফোলজিস্টদের বক্তব্য, একজন মানুষের হাতের লেখা থেকে জানা যায় না এমন কোনো বিষয় নেই বললেই চলে। হাতের লেখাই চিনিয়ে দেবে মানুষটি সৎ না অসৎ, তিনি রাশভারী লোক নাকি আমুদে প্রকৃতির, রক্ষণশীল নাকি উদার প্রকৃতির, স্মার্ট নাকি বোকা ধরনের। এমনকি তার জীবনযাপনের অন্যান্য দিক সম্পর্কেও সবকিছু জানা সম্ভব শুধু হাতের লেখা থেকে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, হাতের লেখা বিশ্লেষণ করে যা উঠে আসে তা নির্ভুল। হাতের লেখা কোনো মিথ্যা বলে না। যা বলবে তাই-ই সত্যি। হাতের লেখায় নিজের মনের ছবিটা স্পষ্ট ধরা দেয়। বোঝা যায় নিজের শক্তি বা দুর্বল দিকগুলো। ত্রুটিগুলো শুধরে নিলেই আমরা হয়ে উঠতে পারি একজন সফল ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ। আর এভাবেই গ্রাফোলজি হয়ে উঠে আমাদের সাফল্যের চাবিকাঠি।

Wednesday, July 6, 2011

হাঙরের ১০০ প্রজাতি

হাঙরদের ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতি আছে। তিনশ' মিলিয়ন বছর আগে হাঙরদের ৩৫০ প্রকার প্রজাতি ছিল। বর্তমানে তা কমে ১০০ প্রকার প্রজাতিতে দাঁড়িয়েছে। হাঙরদের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার ধূসর হাঙর, অস্ট্রেলিয়ার সাদা হাঙর, জাপানের ডোচিজেম প্রজাতির হাঙর, বাস্কিং প্রজাতির হাঙর প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও নানা প্রজাতির হাঙর আছে যেমন ডিভিপেসার, হ্যামারহেড, ডেভিল, সোয়েল, লেমনি ও নীল ইত্যাদি। এর মধ্যে কোনো কোনো প্রজাতির হাঙর আছে লম্বায় ৪০ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। আবার কিছু আছে লম্বায় মাত্র ১ ফুট। বিভিন্ন প্রজাতির হাঙরের স্বভাব-চরিত্রও ভিন্ন। এর মধ্যে কিছু কিছু ভয়ঙ্কর। এরা মানুষ খেয়ে ফেলে। আবার কিছু কিছু আছে এরা ভয়ঙ্কর নয়, এরা শুধু সমুদ্রের প্লাঙ্কটন, শম্বুক জাতীয় প্রাণী ও সামুদ্রিক মাছ খেয়ে জীবনধারণ করে। ধূসর প্রজাতির হাঙরদের দৈর্ঘ্য গড়ে ৩৫-৪০ ফুট। এদের একসঙ্গে ৬-১২টা বাচ্চা হয়। বাচ্চাগুলো প্রায় ২ ফুট লম্বা হয়। সাধারণত বছরে একবার বাচ্চা হয়। ভয়ঙ্কর প্রজাতির ও সাদা প্রজাতির হাঙরদের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফুট হয়ে থাকে। সমুদ্রে যত ধরনের হাঙর দেখা যায় তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর নীল প্রজাতির হাঙর। এদের শরীরের উপরের অংশ নীল আর নিচের অংশ সাদা রংয়ের। হাঙররা ৫০ ফুট জলের নিচে বাস করে।

বিশ্বজুড়ে হাঙর শিকার যেভাবে চলছে তাতে সমুদ্রের আর পাঁচটা বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর মতো হাঙরও একদিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে পৃথিবী থেকে। বিজ্ঞানীদের তাই অভিমত। হাঙরদের অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখতে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়ন করে হাঙর শিকার বন্ধ করা উচিত। 
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

Monday, July 4, 2011

পিঁপড়াও শত্রু চিনতে পারে

পিঁপড়াও তার সবচেয়ে খারাপ শত্রুকে চিনতে পারে এবং ওই শত্রু মোকাবিলায় কি করতে হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। টেমনোথোরাক্স লংইস্পিনোসাস প্রজাতির পিঁপড়ার ওপর গবেষণা চালিয়ে সম্প্রতি এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পিঁপড়াদের বসতিতে প্রায়ই অন্য প্রজাতির পিঁপড়া অভিযান চালায় এবং তাদের কীট চুরি করে নিয়ে যায়। তাই ওই পিঁপড়ারা যখন চোর পিঁপড়া দেখতে পায় তখন তাকে কামড়িয়ে এবং হুল ফুটিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। তবে তারা যাদেরকে বড় ধরনের শত্রু বলে মনে করে না, তাদের পেছনে শক্তি ব্যয় থেকেও বিরত থাকে। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ইথোলজি সাময়িকীতে।
গবেষণা দলের নেতৃত্ব দেন জার্মানির মিনজ-এ জোহানেস গুটেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনন স্কার্ফ এবং সুসান ফিিজক। তারা মূলত দেখাতে চেয়েছেন যে, জটিল সামাজিক আচরণধারী এই পিঁপড়ারা কিভাবে অন্য প্রজাতির শত্রু পিঁপড়াদের মোকাবিলা করে। আর এ কাজটি করতে গিয়ে তারা পিঁপড়া কলোনি নিয়ে যান তাদের ল্যাবরেটরিতে।
টেমনোথোরাক্স লংইস্পিনোসাস পিঁপড়ারা বাস করে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্ব এলাকার বনাঞ্চলে। ড. স্কার্ফ বলেন, তারা পিঁপড়া কলোনিতে ৪টি ভিন্ন প্রজাতির পিঁপড়া ঢুকিয়ে দেন। তখন দেখা যায়, লংইস্পিনোসাস পিঁপড়ারা কেবল স্লেভমেকার পিঁপড়াকেই শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তার ওপর আঘাত হানে। স্লেভমেকাররা অন্য পিঁপড়া কলোনিতে অনুপ্রবেশ করে এবং তাদের ‘শিশু’ চুরি করে, কখনও কখনও রানী ও শ্রমিকদের হত্যা করে। লংইস্পিনোসাসরা বিষয়টি জানে। তাই ওই প্রজাতির পিঁপড়া দেখলেই কামড়ে এবং হুল ফুটিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। কিন্তু অন্য প্রজাতির বেলায় তারা হত্যার চেষ্টা না করে কেবল কলোনি বা বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়। এদের জন্য শক্তি ব্যয় করে না।
বিবিসি
আমার দেশে'র সৌজন্যে

Friday, July 1, 2011

বাবুই পাখির দেখা মেলা ভার!

'বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়েঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই। আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে, তুমি শুধু কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে'। কবির সেই কবিতাটি এখন কেবল বইয়ের পাতায়ই। বাবুই পাখি দেখা এখন দুষ্কর।

বিভিন্ন ধরনের খড়কুটায় গড়া সেই বাসা তো দূরের কথা, বাস্তবে বাবুই পাখির দেখা মেলা ভার। প্রকৃতি দিন দিন বদলে বা আবহাওয়ার প্রতিকূলে হোক কিংবা শিকারিদের অব্যাহত কাল থাবায় হোক, আজ তাদের অস্তিত্ব হারিয়ে যেতে বসেছে। পল্লী এলাকার এককালে প্রকৃতির চিরচেনা সেই বাবুই পাখি এখন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

শিল্পের নিপুণ কারিগর বাবুই পাখি বিভিন্ন ধরনের খড়কুটার সমন্বয়ে গড়ে তুলেছে সেই কুঁড়েঘর। সেই বাবুই পাখির নিজের শিল্পনৈপুণ্যে গড়ে তোলা এসব বাসা যে কাউকেই বিমোহিত করবে। কারণ রোদ-বৃষ্টি ঝড়েও নষ্ট হয় না তার নিখুঁত বুননে গড়ে তোলা এই কুঁড়েঘর। ধান আর গম বাবুই পাখির প্রধান খাদ্য।

পুরুষ বাবুই পাখির মাথার পেছনে রয়েছে চকচকে হলুদ রংয়ের পালক। আর পিঠে রয়েছে হলুদের টানা টানা দাগ। স্ত্রী বাবুইদের ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। বুকের রং সাদা হলেও পিঠের পালকে হলুদ রং থাকে না। এই সুন্দর বাবুই পাখি প্রকৃতি থেকে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। অভয়ারণ্য না থাকায় তাদের একদিন হয়তো আর দেখাই যাবে না। কবিরাও কোনো কবিতা হয়তো লিখবে না। অথচ প্রকৃতিকে বাঁচাতে এদের প্রয়োজন।

ফিচারটি তৈরি করেছেন : রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

হাত কথা বলে!

আমাদের শরীরের বাইরে এবং ভেতরে যত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আছে, সেগুলো সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে আবার কোনো কোনো অঙ্গ শুধু আমরা জেগে থাকলে কাজ করে। যেমন আমাদের শরীরের অন্যতম প্রধান অঙ্গ হাত। সারাদিন আমরা যত কাজ করি, এর বেশির ভাগই করতে হয় হাত দিয়ে। কিন্তু হাত কাজ করে কিভাবে? মস্তিষ্কের নির্দেশেই হাত সব কাজ করে। আমাদের মস্তিষ্ক যখন যেভাবে হাতে সংকেত পাঠায়, হাত ঠিক সেভাবেই কাজ করে। তবে এমন কিছু সময় আসে, যখন হাত দুটি তাদের ইচ্ছামতো কাজ করে। প্রসঙ্গত বলা যায়, ১৯৯৯ সালে ডেভিন সাওয়া যে কমেডি ছবি বানিয়েছিলেন, তাতে দেখা যায় টিনের দুটি হাত আপনা আপনিই কাজ করছে। এমন অবস্থাকে বলা হয় এলিয়ান হ্যান্ড। নিউরোলজিক্যাল কিছু ভুল নির্দেশে এমন হয়। এমন অবস্থায় আমাদের কাছে মনে হতে পারে, হাত দুটি বোধহয় শরীরের কোনো অংশ নয়। এমনটি হলে যে কোনো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে আমাদের দুটি হাত। কর্মব্যস্ততা কিংবা অত্যধিক মানসিক চাপের কারণে আমাদের হাত দুটি মস্তিষ্কের সংকেত অমান্য করতে পারে অথবা মস্তিষ্কই ভুল সংকেত পাঠাতে পারে। মস্তিষ্ক এবং হৃৎপিণ্ড... পশ্চিম দুনিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় সোমবার ২০ শতাংশের বেশি লোক মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা যায়। কারণ হিসেবে দেখা গেছে, রবিবারের ছুটিতে অনেক মানুষই প্রচুর অ্যালকোহল পান করে। এরপর সোমবার যখন কাজে বের হয়, তখন হৃৎযন্ত্র মস্তিষ্কের চাপ সহ্য করতে পারে না। আর তখনই বেধে যায় গোলমাল। বাদ দিলেও চলে... আমাদের শরীরের ভেতরে এমন কিছু অঙ্গ আছে যেগুলো বাদ দিলেও চলে এবং আমরা শক্ত-সামর্থ্য মানুষ হিসেবেই বেঁচে থাকতে পারি। যেমন প্লিহা, একটি কিডনি, একটি ফুসফুস, পাকস্থলির কিছু অংশ, কলিজার প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ, খাদ্যনালীর নিম্নাংশ এবং অন্যান্য অঙ্গ বা তার অংশবিশেষ। শিশুদের হাড় বেশি... আমরা জানি, মানব শরীরে হাড় থাকে ২০৬টি। কিন্তু একটি শিশু জন্মের সময় তার হাড় থাকে ৩০০টি। ধীরে ধীরে হাড়ের কর্মদক্ষতা বাড়তে থাকে আর কমতে থাকে সংখ্যা। শেষ পর্যন্ত তা এসে দাঁড়ায় ২০৬টিতে। ঘুম, ঘুম এবং ঘুম...খাওয়া এবং ঘুম ছাড়া মানুষের বাঁচা সম্ভব নয়, এমনটিই আমরা সবাই জানি; কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলেন, খাওয়া ছাড়াও বাঁচা সম্ভব, কিন্তু ঘুম ছাড়া নয়। একজন মানুষ খাদ্যগ্রহণ ছাড়াই দেড় থেকে দুমাস বাঁচতে পারে। এ সময় মানবদেহ বিশেষ কৌশলের মাধ্যমে বেঁচে থাকে। কিন্তু একজন সুস্থ মানুষের পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানসিক বিপর্যয় দেখা দেয়। বলা হয়ে থাকে, একটানা চারদিন না ঘুমালে একজন মানুষ মরেও যেতে পারে। মানব শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাপেও আছে রহস্য। আর তা এঁকে দেখিয়েছেন বিশ্ববিখ্যাত শিল্পী লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

রাসায়নিক যুদ্ধ ।। প্রীতম সাহা সুদীপ

রাসায়নিক যুদ্ধে শত্রুকে হত্যার জন্য অথবা তার শারীরিক ক্ষতিসাধনের জন্য অথবা খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বিনষ্ট করার জন্য রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের যুদ্ধ যুগ যুগ ধরে প্রচলিত হয়ে আসছে। বস্তুত মানব সমাজের সমগ্র ইতিহাসজুড়ে এর যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, গ্রিসের যোদ্ধারা রাসায়নিক অগি্নবোমা আবিষ্কার করে এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে তা ব্যবহার করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে (১৯১৪-১৮) রাসায়নিক যুদ্ধের ব্যাপক প্রয়োগ দেখা যায়। ১৯১৫ সালের জানুয়ারি মাসে জার্মানরা পোল্যান্ডযুদ্ধে রুশদের বিরুদ্ধে ক্লোরিন গ্যাস ব্যবহার করে কিন্তু তাতে বিশেষ ফল পাওয়া যায়নি। কিন্তু ২২ এপ্রিল ফ্ল্যান্ডর্স-এর যুদ্ধে ফরাসি ও ব্রিটিশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে ঠিক একই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে তারা কৌশলগত বিজয় অর্জন করে_ যা তাদের পক্ষে আশাতীত ছিল। ক্লোরিন সৈন্যদের ফুসফুসের ওপর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তাদের শ্বাসরোধ করে দেওয়া হয়। ফলে তাদের পক্ষে নিঃশ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। এর ফলে এত অধিক সংখ্যক সৈন্য শক্তিহীন হয়ে পড়ে যে, জার্মানরা পরবর্তীকালে ক্ষতিকারক গ্যাস সম্পর্কে গবেষণার জন্য বেশি সময় ব্যয় করতে শুরু করে। ১৯১৭ সালে জার্মানরা মাস্টার্ড গ্যাস নামক মারাত্মক গ্যাসের ব্যবহার শুরু করে। এর শক্তি হলো_ এটি মানুষের চামড়ায় সরাসরি আঘাত করে ও চামড়ায় মিশে যায়। ফলে গ্যাস প্রতিরোধক মুখোশ কার্যকর হয় না এর ফলে চামড়ায় ফোসকা পড়ে এবং ফুসফুসে জ্বালা শুরু হয়। অন্যান্য গ্যাসের তুলনায় এ গ্যাস ব্যবহারে অনেক সৈন্যের মৃত্যু হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর নার্ভ গ্যাস আবিষ্কার করে জার্মানরা এক বিরাট সাফল্য অর্জন করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত গ্যাসের তুলনায় এটি অনেক বেশি বিষাক্ত কিন্তু কখনো এর প্রয়োগ হয়নি। বস্তুত নার্ভ গ্যাস মানুষের শরীরের নার্ভ কোষের স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে শরীরের মাংসপেশির প্রবল আলোড়ন, বমি এবং মৃত্যুও ঘটাতে পারে। এরকম অনেক গ্যাসের কোনো স্বাদ নেই, গন্ধ নেই এবং এগুলো বর্ণহীন। এরকম অনেক বিষাক্ত গ্যাস বিভিন্ন দেশে আবিষ্কার হয়েছে বলে জানা যায়। তার মধ্যে অন্যতম গ্যাস হলো ব্লাড গ্যাস যা রক্ত চলাচলের স্বাভাবিক ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করে এবং শরীরের টিস্যু বা কোষসমূহ দ্বারা অক্সিজেন ব্যবহারে ব্যাঘাত ঘটায়। টিআর গ্যাস জাতীয় অন্যান্য গ্যাসের প্রতিক্রিয়া সাময়িক। টিআর গ্যাসের ফলে প্রচণ্ড কান্না আসে, নাক-মুখ ও চোখ জ্বালা করে এবং প্রচণ্ড কাশি আসে। জনসমাবেশ ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের কাজে পুলিশ বাহিনী এ গ্যাস ব্যবহার করে। কখনো কখনো সেনাবাহিনীও এর প্রয়োগ করে। সুপ্ত ক্ষমতার বিচারে গ্যাসযুদ্ধ এত ক্ষতিকারক যে, এর ব্যবহার বন্ধ করার জন্য অনেক আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অতএব, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর নিয়মিত গ্যাসের অস্ত্র ব্যবহার হয়নি। গাছ-গাছড়া ধ্বংস করার জন্য কিছু কিছু রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়।

প্রীতম সাহা সুদীপ
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ইউনেস্কো ঘোষিত ইরানের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট চোখ ধাঁধানো নাকশ-ই-জাহান ।। রণক ইকরাম



এক সময় পৃথিবীতে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল মুসলমানদের। আর এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন আর ঐতিহ্যে জড়িয়ে আছে মুসলিম সভ্যতা। আর তখনকার মুসলিম সভ্যতা আনুষঙ্গিক সবকিছুর সঙ্গে সঙ্গে স্থাপত্য আর শিল্পকলায়ও ছিল অনন্য। তবে অন্য প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর তুলনায় মুসলিম স্থাপত্যের নিদর্শনগুলো বরাবরই আলাদা ও ভিন্ন মাত্রার। বিশেষত ভৌগলিক অবস্থান ও জাতিগত পার্থক্যের কারণে একেক জায়গার স্থাপত্যে একেক মাত্রা ছিল। তেমনি নানা জায়গার নির্মাণশৈলীর ভিন্নতাও ছিল অনেক। তবে ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় ভঙ্গির পরশে নির্মিত এসব স্থাপত্য দেখলে সহজেই অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর স্থাপত্যশিল্প থেকে আলাদা করে চেনা যায়। এমনি এক নান্দনিক স্থাপত্যের নাম 'নাকশ-ই-জাহান'। মনজুড়ানো এই স্থাপত্যের অবস্থান ইরানের ইস্পাহান শহরে। আগে এটি 'শাহ স্কোয়ার' নামে সবার কাছে পরিচিত ছিল। এখন অবশ্য অনেকেই একে 'ইমাম স্কোয়ার' নামেও চলে।

চারকোণাকৃতি বিশাল চত্বরে নির্মিত এই স্থাপনা বিশ্ব ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। আর এই গুরুত্ব এবং 'নাকশ-ই-জাহান'-এর ঐতিহাসিক মূল্য বিচার করে ইউনেস্কো এটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকাভুক্ত করেছে। তবে 'নাকশ-ই জাহান' কোনো একক ভবন বা স্থাপত্যকর্ম নয়। বরং এটি হচ্ছে একটি চারকোণাকৃতি ক্ষেত্র। আর সেই ক্ষেত্রের ভেতর রয়েছে দুটি মসজিদ, দুটি ধর্মীয় পাঠশালা এবং চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি বিশাল প্রাসাদ। ১৬০২ থেকে ১৬১৯ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝিতে নির্মিত হয়েছিল এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি। নাকশ-ই-জাহানের নকশা তৈরি করেছিলেন তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের বিখ্যাত স্থপতি মোহাম্মদ রেজা ইস্পাহানি। আর মসজিদটির নামকরণ করা হয় ইস্পাহানে আমন্ত্রিত একজন লেবাননি ইসলাম প্রচারকের নামে। কারণ শেখ লুৎফুল্লাহ নামক ওই ব্যক্তির ওপর তাৎকালীন পারস্যের বাদশাহ শাহ আব্বাস বিশেষভাবেই মনোযোগী ছিলেন। মসজিদটির ভেতরে দাঁড়িয়ে গম্বুজের কেন্দ্রে তাকালে বাইরে ঠিকরে পড়া আলো দেখে মনে হবে যেন এক ময়ূর ছড়িয়ে আছে তার বাহারি পেখম।

নাকশ-ই জাহানের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত শাহ মসজিদ। এ মসজিদটি নির্মিত হয় ১৬১১ খ্রিস্টাব্দে। মূল মসজিদের উচ্চতা ২৭ মিটার এবং মিনারের উচ্চতা ৪২ মিটার। এর দরজা-জানালাগুলো কাঠনির্মিত হলেও সোনা-রুপার মতো মূল্যবান ধাতব পদার্থে ঢাকা। মসজিদের কিবলার দিকে আছে আরও দুটি বড় বড় নান্দনিক মিনার।

নাকশ-ই জাহানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হচ্ছে আলী গাফু প্রাসাদ। এটি ছিল মূলত রাজকীয় বাসভবন এবং বিনোদন কেন্দ্র। আলী অর্থ প্রশংসিত এবং গাফু অর্থ প্রবেশ।

পারস্যের তাৎকালীন বাদশাহ শাহ আব্বাস এই প্রাসাদেই সর্বপ্রথম নওরোজ উদযাপন করেন। ৪৮ মিটার উচ্চতার আলী গাফু প্রাসাদটি পাঁচতলাবিশিষ্ট একটি ভবন। সাধারণত যে কোনো বাড়ি বা প্রাসাদের অভ্যর্থনা কক্ষ নিচের তলায় হলেও এর অভ্যর্থনা কক্ষটি একবারে পাঁচ তলায়। সবচেয়ে বড় কক্ষটি দামি পেয়ালা, ফুলের টব এবং মূল্যবান আসবাবে সজ্জিত। প্রাসাদের সামনের অংশে আছে গ্যালারি, যেখানে বসে শাসকরা পোলো খেলা এবং ঘোড়দৌড় উপভোগ করতেন। অপূর্ব সুন্দর এ প্রাসাদটি নির্মাণ করা হয় ছয়টি ধাপে, যার জন্য সময় লেগেছিল দীর্ঘ প্রায় সাত বছর। নাকশ-ই জাহান চত্বরের মাঝখানে এখন রয়েছে একটি সুন্দর বাগান। এছাড়া প্রাসাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বর্তমানে বিশেষে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ইন্টারনেট এলো যেভাবে


১৯৬৯ সালের গ্রীষ্মকাল। বিশ্ববাসী তখনো জানে না ইতিহাসের দিনপঞ্জিতে কি বৈপ্লবিক পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। নীরবে-নিভৃতে কাজ করে চলেছেন গুটিকয়েক কম্পিউটার বিজ্ঞানী। লক্ষ্য একটাই_ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মব্যস্ত বিজ্ঞানীদের মধ্যে পারস্পরিক ভাববিনিময়ের পথ সুগম করার জন্য একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা। এই নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই ভিত্তি রচিত হলো শতাব্দীর বিস্ময় ইন্টারনেটের যোগাযোগ। প্রযুক্তিতে সৃষ্টি হলো নতুন দিগন্ত। তখন কোনো মানসম্মত অপারেটিং সিস্টেম ছিল না। কম্পিউটারগুলো পরস্পরের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করতে পারত না। এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ডাটা সরবরাহের সবচেয়ে সুবিধাজনক পথ ছিল একটি থেকে ম্যাগনেটিক টেপ বা পাঞ্চ কার্ড নিয়ে অন্যটির মধ্যে ঢোকানো। এই প্রতিকূলতা কম্পিউটার বিশারদদের চিন্তিত করে তুলল। এর মধ্যে ছিলেন জে সি আর লিকলিডার ও রবার্ট টেইলর। অন্য সহকর্মীদের মতো তারাও ভাবতে বসলেন কিভাবে কম্পিউটারগুলোর মধ্যে নেটওয়ার্ক সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এগুলো আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়। আরপা নামে একটি প্রতিষ্ঠান এ প্রজেক্টে অর্থের জোগান দেয়। টেইলর ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আরপা ডিরেক্টরের অফিসে টাকার জন্য ধরনা দিতে যাওয়ার দিনটিকে আজো স্পষ্টভাবে স্মরণ করতে পারেন। ডিরেক্টরের সঙ্গে তার কথা হয় ১৫/২০ মিনিট। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি এই আইডিয়া লুফে নেন, কালবিলম্ব না করে ব্যবস্থা করে দেন এক মিলিয়ন ডলারের। বিজ্ঞানীরা কাজটা গ্রহণ করেছিলেন তীব্র অনুরাগের সঙ্গে। খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনার জন্ম দিতে যাচ্ছেন এই অনুভূতি তাদের আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। ১৯৬৮ সালে লিকলিডার ও টেইলর একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে জানালেন, কম্পিউটার তথ্য আদান-প্রদানের একটি চমৎকার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তারা একটি নেটওয়ার্ক তৈরির কাজে আত্মনিয়োগ করলেন, যা সৃষ্টি করবে বৈজ্ঞানিকদের নতুন একটি সংঘ, যারা ভৌগোলিক দিক দিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রযুক্তিগতভাবে একই সুতায় গাঁথা। প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল চারটি সাইটের মধ্যে সংযোগ স্থাপন; ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান্তা বারবারা বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও ইউটাই বিশ্ববিদ্যালয়। গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ট ভিন্ট সার্ফ, স্টিভ ক্রকার, জন পস্টেলসহ আরও অনেকের ওপর দায়িত্ব পড়েছিল প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার নির্মাণের। তাদের কাজ ছিল নেটওয়ার্ক সাইটগুলোর মধ্যে ডাটা সঞ্চালন করা_ প্রয়োজনীয় তথ্য যাতে নিশ্চিতভাবে সঠিক গন্তব্যে পেঁৗছতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখা। ২১ নভেম্বর এলো সেই শুভক্ষণটি। দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রমের পর অবশেষে গবেষকরা প্রস্তুত হলেন প্রথম আনুষ্ঠানিক ডেমনেস্ট্রেশনের জন্য। একটি কম্পিউটারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হলো শত শত মাইল দূরে অবস্থিত স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডগ এঞ্জেলসবার্টস ল্যাবে রাখা আরেকটি কম্পিউটারের। দুঃখের বিষয়, ওই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দী করে রাখার জন্য সেদিন সেখানে কোনো আলোকচিত্রী ছিলেন না।


সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

কেমন হবে ২০৫০ সালের বিমান

প্রযুক্তির ক্রমাগত অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা। এই অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতের বিমানের অবস্থা কেমন হবে সেটা প্রকাশ করল বিমান নির্মাতা কোম্পানি এয়ারবাস। গত ১৩ জুন লন্ডনে এই বিমানের বিষয়ে জানায় এয়ারবাস। আপাতত তাদের এই ভবিষ্যতের সীমা ২০৫০ সাল অব্দি।
এয়ারবাস ওই সময়ের বিমানের যে চেহারাটা তুলে ধরছে সেটা হলো ওইসময়ে বিমানের ভেতরে থাকবে ভার্চুয়াল গলফ খেলার ব্যবস্থা, নিঃশ্বাসের সঙ্গে ভিটামিনসমৃদ্ধ বাতাস টেনে নেবেন যাত্রীরা। এই বিমানে প্রচলিত কেবিনের পরিবর্তে থাকবে বিশেষ প্যাসেঞ্জার জোন। এর মধ্যে একটি জোন হলো ইন্টারেকটিভ জোন। এই জোনে ভার্চুয়াল প্রজেকশনের মাধ্যমে যাত্রীরা নিজেদের ইচ্ছেমত সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম বেছে নিতে পারবেন। এর মধ্যে হলোগ্রাফিক গেমিং থেকে ভার্চুয়াল পোশাক বদলানোর ঘর পর্যন্ত সবই থাকবে।
বিমান ভ্রমণের সময় মোটামুটি গোটা বিশ্বটাই যাত্রীদের সঙ্গে থাকবে। বিমানের ভেতরের দেয়ালের রং আলোর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যাবে। এই বিমানের হলোগ্রাফিক পর্দা ও অন্যান্য বিনোদন চলার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উত্পাদন করা হবে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা থেকে। বিমানে বসেই বাড়িতে থাকা সন্তানদের ঘুমপাড়ানি গল্প শোনাতে পারবেন তাদের বাবা-মা। এয়ারবাস জানায়, এই বিমানের দেয়াল হবে বুদ্ধিমান। এটা দরকার মতো বিমানের ভেতরকার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে। এছাড়া এটা যে কোনো সময় পুরোপুরি স্বচ্ছ হয়ে যেতে পারবে। তখন যাত্রীরা বিমানের বাইরে তাদের চারপাশটা পুরোপুরি দেখতে পারবেন। তবে এয়ারবাস এই বিমানের জন্য যেসব প্রযুক্তির কথা বলছে, তার অনেক বর্তমানে থাকলেও বিমানের স্বচ্ছ দেয়াল কীভাবে তৈরি করা হবে সেটা তারা ব্যাখ্যা করেনি।
এয়ারবাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট চার্লস চ্যাম্পিয়ন বলেন, আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৫০ সালের যাত্রীরা অনেক বেশি আরামদায়ক ভ্রমণ প্রত্যাশা করবেন। তবে তারা সব বিলাসিতার পাশাপাশি পরিবেশের বিষয়েও সচেতন থাকতে চাইবেন। বিভিন্ন প্যাসেঞ্জার জোনে ভাগ করার ফলে এ বিমান ভ্রমণের সময় যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর পাশাপাশি নতুন আবিষ্কারের রোমাঞ্চকর অনুভূতিও টের পাবেন। 



সূত্র : আমার দেশ

Friday, June 24, 2011

ইঁদুরের সাতকাহন

প্রাণিজগৎ নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণার যেমন অন্ত নেই, তেমনি মানুষের ও কৌতূহলের শেষ নেই। এসব প্রাণীর খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরা, প্রজনন; এমনকি নানা ভয়ঙ্কর রোগ নিরাময়ের উপায় খুঁজতেও বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত দ্বারস্থ হচ্ছেন বিভিন্ন জাতির প্রাণীর কাছে। বহুদিন আগ থেকেই নেকড মোল র‌্যাট নামে এক ধরনের ইঁদুর নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ইঁদুর নাকি ক্যান্সারের উপশমকারী! আকারেও ভীষণ ছোট। স্তন্যপায়ী এ প্রাণীটি বেশ অদ্ভুত ধরনের। লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে এ ইঁদুর নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। চামড়া কুঁচকানো, লোমের লেশমাত্র নেই। তবে যেটি নজর কাড়ে তা হলো, মুখ থেকে বের হয়ে আসা বাঁকানো অদ্ভুত দাঁতগুলো। মাটির গভীরে থাকতে এরা ভালোবাসে। লম্বা বাঁকা দাঁতের সাহায্যে অনায়াসেই খুঁড়তে পারে গর্ত। এ ইঁদুরগুলো সাধারণত দলবদ্ধভাবে গর্তে বাস করে। কোনো কোনো গর্তে সংখ্যায় তা আশি থেকে একশ' আবার তিনশ'রও বেশি মিলে দল গঠন করে নেয়। কলোনিতে প্রজননে সক্ষম এমন একটি নারী ইঁদুর থাকে এবং সেই হয় রানী। সঙ্গী নির্বাচনে রানীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সাধারণত দু'তিনটি ইঁদুর রানীকে সঙ্গ দেয়। এসব ইঁদুরের আচরণ বেশ সামাজিক; মৌমাছি, পিঁপড়ে, উইপোকা কিংবা ভীমরুলের মতো। ত্রিশ বছর গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, ক্যান্সার দূরীকরণে এ প্রাণীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এদের মধ্যে অক্সিটোসিন ও ভ্যাসোপ্রেমিন এ দুটি হরমোন আছে। আচরণের ক্ষেত্রে এ হরমোনই প্রভাব বিস্তার করে। ইঁদুরের হরমোন নিয়ে গবেষণার পর মানুষের ওপরও এ হরমোনের প্রভাব নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষা চালান। তাতে দেখা যায়, এই প্রাণীটির হরমোনের সঙ্গে মানুষের হরমোনের যথেষ্ট মিল আছে। তবে এ নিয়ে আরও বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন আছে বলেও গবেষকরা জানান। এসব বৈচিত্রময় প্রাণী নিয়ে যত গবেষণা হচ্ছে, ততই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের নানা অচেনা দিক উন্মোচিত হচ্ছে। সৃষ্টি করছে বিস্ময়। 

শত্রু-মিত্র চিনতে পারে কবুতর

শত্রু-মিত্র চেনার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে নগরবাসী মুক্ত কবুতরের। তারা খুব দ্রুত শনাক্ত করতে পারে কে তার বন্ধু আর কেইবা তাকে হত্যায় তত্পর হয়ে উঠতে পারে। অর্থাত্ গৃহপালিত নয় নগরবাসী এমন কবুতররা কে খাবার দেবে আর কে দেবে না, সেটা ধরে ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক এক ফরাসি গবেষণায় এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
গবেষকরা বলছেন, এই তথ্য থেকে এটাই বোঝা যায় যে, নগরবাসী মুক্ত কবুতরদের খাদ্যের সন্ধানে বেশি সময় ব্যয় করতে হয় না। তাই তারা খাদ্য গ্রহণে বেশি সময় ব্যয় করতে পারে। এ গবেষণা থেকেই প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক প্রমাণ পাওয়া যায় যে, নগর এলাকায় সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে কবুতররা তাদের ওই বিশেষ সামর্থ্য কাজে লাগায়। গবেষকদের প্রাপ্ত তথ্য অ্যানিমেল কগনিশন জার্নালে প্রকাশিত হবে।
ফরাসি গবেষকরা বলেন, নগরবাসী মুক্ত কবুতররা মানুষের নানা কার্যক্রমের মধ্যেই বাস করে। তারা প্রায়ই মানুষের দেয়া খাদ্য খেতেই অভ্যস্ত। এদের দেহের রঙ এবং প্যাটার্নে ভিন্নতা রয়েছে। সারা ইউরোপে ছড়িয়ে আছে এই কবুতররা। এমনকি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়ও এদের যত্রতত্র দেখা যায়। এর অন্যতম কারণ হলো, ওই শহরগুলোতে কবুতর শিকারের ঘটনা খুবই কম এবং খাদ্যের প্রাপ্যতা ও প্রজনন এলাকার অভাব নেই।
ওই কবুতররা শত্রু এড়িয়ে মিত্র মানুষের কাছ থেকে খাদ্যপ্রাপ্তির বিষয়টি ঠিক কীভাবে নিশ্চিত করে, তা নিয়ে আরও গবেষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গবেষকরা। তাদের ধারণা, নগরবাসী মুক্ত কবুতররা প্রতিদিনের খাদ্যানুসন্ধানের কাজে সম্ভবত তাদের মেমোরি এবং পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা কাজে লাগায়। কোথায় নিয়মিত খাদ্য পাওয়া যাবে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি একটি ব্যাপার। এতে করে খাদ্য খোঁজার কাজে সময় ব্যয় কম হয় এবং খাদ্য গ্রহণে অধিক সময় পাওয়া যায়।
গবেষক দল বলছে, কবুতরের এই আচরণ নিশ্চিত হতে একটি পার্কে দুটি গবেষণা তারা পরিচালনা করেছে। একজন ছিল খাদ্যদাতা, অন্যজন বৈরী। উভয় পরীক্ষায় দেখা গেছে, মুক্ত কবুতররা খুব দ্রুত তাদের শত্রু ও মিত্রকে চিহ্নিত করতে পেরেছে। তারা শত্রুর কাছ থেকে দূরে থেকেছে এবং মিত্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে। 

সূত্র : আমার দেশ

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ