প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Friday, October 26, 2012

জোস্ন্যা | কামাল উদ্দিন রায়হান


রবির কিরন অস্তমিত হয়
পূব আকাশে মিটমিটি থালার মত,
ছড়িয়ে যায় রূপালি আলোয়
মিষ্টি আলোর একি মায়া,
দিনের আলোয় যেন মিথ্যা ছায়া।

তনুখানি কোমল বাতাসে দক্ষিণা হাওয়া
জুড়িয়ে দিয়ে যায় দেহ মন,
ঝিরিঝিরি মায়াময় একি কোমল ছোঁয়া
 বইছে দক্ষিণা পবন।
দুপুর রজনী বয়ে যায়,
তবু চোখে নিদ নাহি হায়,
মায়াময় একি আলোয় ,
 মোহ করেছে এ কোন আভায়,
ভালবাসার অপার জুটি লিখে গান লিখে নানান কবিতা,
রাখে সবাই চাদের মত সুন্দর নিজের ছবিটা।
দু একটা মেঘের পুঞ্জী ঢেকে দেয় চাঁদ,
গোমড়া রুপে ধারন করে পরিবেশ
আলোর মায়ায় ছেলেখেলায় একি কোন ফাঁদ।

এমন করে কি মানুষ আড়াল হলে হয় ভিন্ন রুপ?
আড়ালে কি মানুষের এই রূপ থেকে যায়?
যেভাবে চাঁদ বাহিরে তার সর্বস্ব ঢেলে দেয়
কিন্তু ঢাকা পড়ে যখন অশ্মরিরীরুপ করে ধারন ,
মানুষের এই উপরকার চর্মের আড়ালে করে বারণ।
মায়া কি এভাবে ছড়ায় চন্দ্রের মত আলো?
আহা! মানুষ তার রুপ কত! বিপদে তার পরিচয় ,
চন্দ্রের মত দেখায় বাহির থেকে কত ভাল।।


Thursday, October 11, 2012

বিশ্বাসের টাইটানিক ডুবে গেছে গত মধ্যরাতে | জিয়া রহমান


আমার বিশ্বাসের টাইটানিক ডুবে গেছে গত মধ্যরাতে
তাই আজ ভালবাসা অর্থহীন,
তোমার প্রেমোদ্যানে আজ ভিসুবিয়াসের সসার
তাই আজ ভালবাসা সঙ্গহীন।

ভালবাসা যদি মানুষকে দ্বিজ করেই সাজায়
তবে সে' ভালবাসা অন্তত তোমার নয়
তোমাকে ভালবেসে জীবন্মৃত হওয়া যায়
দ্বিজ হতে চাওয়া কেবলই প্রগলভতা
ভালবাসা কতটা আত্মঘাতি হতে পারে
অনুভূতিতে জিঘাংসার স্রোত কিভাবে হয় প্রবাহিত
তুমি তার কিছুমাত্র বোঝ না
অথচ আমাকে বুঝিয়ে তার পূর্ণতা দিলে।
আমার স্পর্শের নিবিড়তা মুছে গেছে
তাই আজ ভালবাসা ছন্নছাড়া,
তোমার শরীরে আজ পঙ্কিলতার আভাস
তাই আজ ভালবাসা বাস্তূহারা।

তোমাকে অস্থিরতার সুপেয় জলাশয় ভেবে
আমি যে জল টেনে নিয়েছিলাম বুকে
তোমার প্রস্থানে অকস্মাত্ চোখে পড়ে-
ওটা জল নয়, সায়ানাইডের ভারী সিরাপ
আমার চোখ, মুখ, ঠোঁট ঠুকরে খায়
তোমার দুর্বিনীত অবহেলার দাঁতালো হাঙর
আমার রসনার উপর ধীরলয়ে হেঁটে চলে
পতঙ্গের মিছিল- আমি অসাড়।
আমার প্রতীক্ষার প্রহরগুলো নির্বাসনে গেছে
তাই আজ ভালবাসা বিষাক্ত-কবিতা,
তোমার চোখে আজ বদলে-যাওয়া কাজল
তাই আজ ভালবাসা বিশ্বস্ত ভণিতা।।

Sunday, September 23, 2012

অতঃপর আমি | জিয়া রহমান




তোমার সমৃদ্ধ পাঁজর হতে ছুড়ে দেয়া ভালবাসা
আমি তোমার দুরভিসন্ধি চক্রান্ত ভেবেছিলাম
আমার একঘেয়ে একপেশে জীবনের দিকে তাক করা
ভালবাসার সনির্বন্ধতায় কপট দৃষ্টি ফেলেছিলাম
তোমার ভালবাসা তাই অধরাই থেকে গেছে ।

আমি স্বস্তির চাদরে অনুভূতিকে ঘুম পাড়িয়েছি
তোমার ভালবাসাকে ছড়িয়ে দিয়েছি
প্রথমত: চিরশূণ্য বাতাসে
ভেবেছি, বাতাসে বাতাসে তোমার স্পর্শ নিয়ে ঘুরে বেড়াব
বোঝাবো তোমাকে, ভালবাসা ছোঁয়া যায় না
এরপর তোমার ভালবাসাকে ছুড়েছি-
সমুদ্রের দিকে, অরণ্যের দিকে, নক্ষত্রের দিকে ।
একদিন সবিস্ময়ে হতাশ ও অবসন্ন হলাম !
দেখি, সবাই তোমার ভালবাসার অতি-অনাথ ভিক্ষুক হয়ে আছে !!
তোমার সামান্য মুখরতাহীন অলস প্রহরে
মাঝপথে আটকে দেয় সমুদ্র তার বুকের ঢেউ
অরণ্য মেলে ধরে না সবুজ আর
নক্ষত্রেরা অজ্ঞাতে হারিয়ে যায় ক্লান্ত শরীরে ।

অত:পর আমি, ভালবাসার নির্জলা তাপস হয়ে যাই ।
ছুড়ে দেয়া ভালবাসা খুঁজে তছনছ করি
পৃথিবীর মত সহস্র কোটি ব্রহ্মাণ্ড,
আমি ভালবাসা ছুঁতে পারি না ।। 



আকাশে আজ মেঘ চেপেছে | জিয়া রহমান



আকাশে আজ মেঘ চেপেছে
আশ্বিণীঝড়ের পূর্বাবাসে,
তাই বলে কি বাতাস লাগে
পথের ধারের দূর্বাঘাসে ?

মেঘের 'পরে মেঘ করেছে
সংসারের ঐ প্রবল বায়ে,
মেঘ কাটাতে ঝড় ঠেকাতে
কাটছে সময় প্রবল ঘা'য়ে ।। 






অন্তহীনের পথচলা | মিতা জাহান


পথে নেই কেউ !
চলেছে পথিকহীন পথে
দূর কোনো অজানায়
যাবে সে কোথা
অন্তহীন পথে.......
আসবে শুভ দিন
মিটাবে সে আশা
মনে মনে ভাবা
সবই যেন কল্পনার
চিত্রপটে আকা !
ভেবে ভেবে চিন্তা রেখা
পরে ছিল তার কপালে
এই বুঝি তার শেষ হলো আজ
অন্তহীনের পথচলা !



Sunday, September 16, 2012

বালিকা বেলা | সাবরিনা সিরাজী তিতির

বালিকা বেলা বড্ড টানে
নিয়ে চায় গভীর থেকে গভীরে
সে এক রঙিন দিনে হাসির মেলা

রেশমি চুড়ি রিনঝিন ,নূপুরের রুমঝুম
মাথায় গোলাপি ফিতে , কোঁচড় ভরা কৈশোর
কান পাতি সেই দূরে
গুনগুন করে ওঠে খেলার মাঠ ,মন খারাপের জানালা ,

অভিমানে ভিজে যাওয়া রুমাল মুখ গোঁজে
দস্যি কিশোরের বুক পকেটে
গোপন নালিশের রোদে উষ্ণ চিরকুট
আহা ! কি ভালোলাগায় ডুবে যাওয়া প্রহর

আমি আর আমার মিষ্টি বালিকা বেলা !

১২.০৯.১২

ভালবাসায় কিছু ভুল | জিয়া রহমান

দিনের যে অশিষ্ট আলোয়
তোমাকে দেখেছি কয়েকবার,
তাকে আজ ঘৃণা করতে শিখেছি।
আমার সময়েরা আজ অন্ধকার অধ্যুষিত,
তার রঙ সবুজ!
অন্ধকার সত্যের মতই সত্যি
দুবিনীত অথচ বঞ্চনা করে না।
ঐ যে নীল শার্টের মাঝের বোতামটা
এদিন যা বিসর্জিত ছিল তোমার খোঁপায়
লাগানো হয়নি আজও,
অনিচ্ছাকৃত নয়, হয়ত ভুল করেই।

সবিশেষ আরো অনেক ভুল,
প্রত্যহ অনেক ভুল হয়ে যায়!

ভালবাসায়
      কিছু ভুল থাকতে হয়,
      নইলে শুদ্ধ হয় না ভালবাসা।
ভালবাসায়
      কিছু ভুল করতে হয়,
      আত্মঘাতের সর্বনাশা ।।

বেশ তো আছি | মিতা জাহান



নির্জন একাকী বসে আছি নিরিবিলি,
কিছু চাওয়া কিছু পাওয়া
সবই যেন অতৃপ্ত বাসনা,
হেটে চলি একাকী
পথে নাহি মোর সঙ্গী
যেতে যেতে খানিকটা
উকি মারে কেউকেটা,
ভাবি বসে আনমনে
কেউ যদি হেসে বলে
কি রে কেমন আছিস ?
আমি বলি বেশ তো আছি !!


Friday, September 14, 2012

রংধনু | হোসেন মাহমুদ

বৃষ্টি ধোয়া শেষ বিকেলে
নানা রকম রং মিশেলে
দূর আকাশে উঠল হেসে
রংধনুটা অবশেষে।

ঐ যে দেখ ঐ দেখা যায়
আঙুল তুলে দিব্যি দেখায়
আকাশপটে রংবাহারি
রংধনুটা মিষ্টি ভারি।

মন ভরানো সাতটি রং
আদর কাড়া মোহন ঢং
মেঘ না থাকা আকাশটায়
রংধনুটা রং ছড়ায়।

ছেলে বুড়ো সবাই মিলে
চোখ জুড়ানো রং মিছিলে
মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রয়
রংধনুটার রঙের জয়।

এইতো নদী | ফারুক হাসান

এই তো নদী গাঁয়ের পথে
এঁকে বেঁকে যায়
মাল্লা মাঝি মধুর সুরে
ভাটিয়ালি গায়।

কী অপরূপ রূপের মায়ায়
দেখতে ছুটে এসো
এমন দৃশ্য দেখবে যদি
রূপকে ভালোবেসো।

রূপের নদী আলোর ধারে
ঢেউ এসে রোজ ঝাপটা মারে
গাঁয়ের বধূ ঝলকে চলে
কী বলিতে চায়—
সেই হারিয়ে যায়।

এই তো নদী নিরবধি
কোন যে অচিনপুরে
সুদূর কালের সাক্ষী হয়ে
ছুটছে কেবল দূরে।

সূত্র : আমার দেশ

রংধনু | ফাতিহা জামান অদ্রিকা

রংধনুর সাতটি রং
দেখো ভাই দেখো
সাত রঙের মিল দেখে
মিলে থাকা শেখো।

রঙে রঙে কত মেলা
নীল আকাশে ভাসছে।
তাই দেখে মন আমার
আজ খুশিতে নাচছে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ
প্রথম শ্রেণী, রোল-২৭

Sunday, September 9, 2012

ভালবাসার লাল মোরগ | এ কে আজাদ

আমার পাখি ডাকা আর ফুল ফোটা সোনালী ভোর শুধু তোমাকে দিলাম।
পাপড়ি প্লবে ভরা আর কোকিল ডাকা বসন্ত তোমাকে দিলাম।
কৃষকের বীজবোনা আষাঢ়ে বীজতলা তাও তোমাকে দিলাম। এমন কি
হেমন্তের শিশির স্নাত সোনালী ফসলের মাঠ তাও তোমাকে দিলাম।
অথচ বিনিময়ে তুমি কি দিলে বল বুকভরা বিধ্বংসী কালবোশেখি ছাড়া?
তবুও তোমার প্রতিদান বুকের ভেতরের ক্ষতচিহ্ন ছুঁয়ে
প্রতিদিন কেঁদে ওঠে বিরহী চাতক মন। সারা রাত্রি জেগে প্রতি প্রহরে
প্রহরে তোমার নাম জপতে থাকে সখিনার লাল মোরগের মতন।

সুদর্শনা ফুল | মাহমুদুল হাসান নিজামী

সবুজ রঙের মাঝে প্রাণের সজীবতা
লাল নীলের মাঝে স্বপ্নের ঠিকানা
বৃষ্টির মাঝে সৃষ্টির রস উচ্ছল ঝরনা
বুকের ক্যানভাসে কি আছে কে জানে তা
ভাবনার তুলিতে শিহরণ করে নবীন বরণ
আলোচিত আলপনায় প্রকৃতির কাছে হয়েছি শরণ
ঝরা বেলী পু কারো খোঁপায়
ক্ষণিকের তরে সুরভী ছড়ায়
কিন্তু সে কি জানে সুদর্শনা পুশ্রী হারাবে একদিন
কোন এক প্রহরে সে থাকিবে না রঙীন।

নবজাতকের প্রতি | সাইফ আলি

জন্মের পর যে শিশু কেঁদে ওঠে চিরচেনা সুরে
কোমল আশ্রয়ে থেকে জীবনের প্রথম প্রভাতে,
কি দেবে সভ্যতা তুমি উপহার আজ তার হাতে
একবার ভেবে দেখ কি তুমি এনেছো ঘুরে ঘুরে।

জীবনের শুরুতেই যেই শিশু আধো আধো বোলে
জানতে চায় মানুষ আর পৃথিবীর ইতিহাস;
তার জন্য হিরোশিমা নাগাসাকির তপ্ত বাতাস
নিয়ে আসবে হয়তো। যে শিশু আজ তোমার কোলে

ছাঁয়া খুঁজে ফেরে তাকে ছায়ার বদলে অন্ধকার
তুলে দিয়ে বলো-নাও, আর কত ছায়া চাও তুমি?
আলো চাইলে আলট্রা ভায়োলেট রশ্মিতে তোমার
দেখিয়ে দিও পৃথিবী। তাকে বলো, আজ তার ভূমি
রাসায়নিক ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আছে; আর
একজোড়া পারমাণবিক বোমা দিও উপহার...

একটি কবিতা লিখব বলে | রাজু ইসলাম

একটি কবিতা লিখব বলে প্রবল ইচ্ছায় ডুবে থাকি ভাবি-
এবার পূর্ণিমা এলেই লিখে ফেলব কবিতাখানি,
যে কবিতাখানি আকাশ বাতাস মুখরিত করে-
ধ্বনি তুলবে হিংস্রতা, প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে-
ভাসিয়ে নিয়ে যাবে অত্যাচারী নিপীড়নের হাত,
যে কবিতা ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে হবে খড়গ কৃপাণ,
এমন একটি ভোর আনবে কবিতাটি-
যে ভোরের প্রত্যাশায় এতদিন উন্মুখ ছিল সমস্ত দুনিয়া।

কিন্তু সে পূর্ণিমা আর আসে না;
আসে প্রবল ঝড়ের কালোরাত,
আর আমি পড়ে থাকি কেবল ঘুমে,
জীবনের বাকি পূর্ণিমাগুলোও কেটে যায় কোন না কোনভাবে
আর আমি পৌঁছে যাই চিরনিদ্রার উঠোনে।
কিছুতেই লেখা হয় না আর কবিতাখানি।

Sunday, September 2, 2012

নেশাখোর | তৈয়ব খান

ধরণীর বুকে বিস্ময়কর মানুষের রূপ লয়ে
এসেছি আমি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ; মহাগৌরব হয়ে।
কী সে স্বপ্ন-সম্ভাবনা কী সে আশার আলো
দেখেছেন প্রভু আমার ভেতর তিনিই জানেন ভালো।
মানব জমিনে কোন প্রয়োজনে এসেছি জানি না তা
শুধু জানি এই, আর কেউ নেই তিনি ছাড়া বিধাতা।
আমি আল্লাহর প্রতিনিধি-
শ্রেষ্ঠত্বের এ ঋণ আমি কেমন করে শুধি?
জানি তা হবে না শোধা-
আমার ভেতরের এ আকূলতা জানেন কেবল খোদা।
উপভোগের যতো উপকরণ তাঁর দেয়া উপহার
তাপ-আলো-বায়ু-জল-অন্ন ভোগ করে বেশুমার-
আজ প্রাণ ভরি’ শুকরিয়া করি আর ঝরে আঁখি লোর।
শূন্য হাতে একা ফিরে যাবো ! আমি তাই নেশাখোর।।

কোটি শুকরিয়া জানাই তোমায় হে মালিকুল মুলক
সৃষ্টি জগৎ দেখে গো তোমার এ বুকে জাগে যে পুলক!
বর্ণালী রঙ মাখা সবখানে!
কখনো প্রকাশে কখনো গোপনে-
আপনা প্রকাশ হয়েছো তুমি স্রষ্টা হে সু-চতুর।
আমি দেখে হাসি নেশার পিয়াসী  অনন্ত নেশাখোর।

সব কি গো জানি কোনখানে আমি দেহ হৃদে কার বাস
আপনারে চষি আর জিজ্ঞাসি ; এ কার মাঝে কারাবাস?
সহসা সহসা কে যে ভেতরে-, প্রশ্ন করে আর গুতো মারে
তারে থামাতে সে আর আমাতে বাঁধে সংঘাত জোর।
আর পারি না আপনা ভোলাতে, আমি তাই নেশাখোর।।

হৃদয়ে বসানো দর্পণে দেখি আলো ছায়া মাখামাখি
যতন করে কে যে ভেতরে কারে যেন রাখে ঢাকি’
ঢাকনা সরায়ে আৎকে উঠি আপন আর্শিতে আলো হয়ে ফুটি
আধেক আলো আধেক আঁধার তাড়া করে খুব জোর।
আমাকে আমি ছাড়াতে পারি না, আমি তাই নেশাখোর।।

মহাসাগরের মহাজলরাশি মহানাদে মহাব্যাপে-
মহা আক্রোশে আছড়ে পড়ে নিজের ‘পরেই ক্ষেপে
কী যেন ছিলো, কী যেন নেই! পেয়ে হারানোর সে ব্যথাতেই
হাহাকার করে, আর খোঁজে ফেরে হৃদয়ের মণি চোর।
আমি তার সাথে দাঁড়িয়ে তফাতে সতীর্থ নেশাখোর।।

গহীন সাগর কী আছে ধরায়? প্রশান্ত.....! দূর ছাই
মনের সাগরে মহাগভীরতা, তার চেয়ে বড়ো নাই
হৃদি সমুদ্র চষে ফিরি তাই, মুক্তা মাণিক যদি কিছু পাই
এ কোন গহনে লীন হয়ে থাকি নিজ থেকে বহুদূর...।
আপনারে খুঁজি আপনার মাঝে, আমি এক নেশাখোর।।

বিশ্ব নিখিলে সৃষ্টি জুড়ে একী ভারি বিস্ময়!
সোনালী পাতার নির্বাক তেজ করেছে সকল জয়।
জেগে থেকে শুধু পেয়েছি ব্যথা, তাই আড়াল করে খাই ঘুমের পাতা,
সব ভুলে আছি তারে পেয়ে আজ, কাটেনি সে ঘুম ঘোর।
আয় ভাই কাছে, কে ঘুমাবি বল? ডাকে এক নেশাখোর।।

আমি দেখেছি দুনিয়ার মানুষে মানুষে বিস্তর ব্যবধান,
কেউ কারো নয়, নিজেই নিজের গাহে স্বার্থের গান।
বহু ব্যাভিচারী প্রাসাদে নগরে, লোভের মোহে কাড়াকাড়ি করে,
সুর ফেলে দিয়ে মত্ত্ব হয়েছে মানুষের দেহে অসুর।
দেখে শুনে সব ক্ষেপে গেছি আর হয়েছি গো নেশাখোর।।

আমি দেখেছি এখানে মানুষের বনে একা হয়ে বহুকিছু
অমানুষ যারা তাদের দম্ভে মানুষের মাথা নিচু
ফেরারী হয়ে বিপ্লবী ফেরে ডাকাতেরা নিরাপদ
শান্তিবাণী মুখে ফেরি করে অন্তরে কু-বদ।
অধার্মিক সব একতাবদ্ধ, ধার্মিকেরা ছাড়া
ধর্ম এখানে বর্মে মোড়া, বাইবেল-আমপাড়া।
কোরআন ভগবতে আসে নাই পথে মৌলবী-ঠাকুরে
পারে নি ফেরাতে লোভ পাপ হতে নির্দোষ আমিরে।
ধর্মযুদ্ধে দুনিয়াটা আজও বেদনায় ভারাতুর
পৃথিবীর সে ব্যথা সয়েছি; ছুঁয়েছি, আমি সেই নেশাখোর।।

আমি দেখেছি অনেক মানবদেহ শুয়ে আছে ফুটপাতে,
কাঁদে মানবতা চটে মুড়ি দিয়ে দেহ লয়ে দুনিয়াতে।
যৌতুক মাখা বিয়ে শাদি দিনে কাঁদে বাবা-মা মেয়ের কারণে,
সত্যিকারের নিষেধ-বারণে কবে হবে নিশিভোর?
বড়ো ব্যথা পাই সইতে পারি না, আমি তাই নেশাখোর।।

সবলেরা দেখি ডামাডোল করে দুর্বল ঘাড়ে চেপে,
দুর্জন আজ ঐক্যবদ্ধ, সুজনেরা ভয়ে কাঁপে।
শতধা হয়েছে যারা নাগরিক, পিশাচ হাসে লোভী রাজনীতিক,
মানুষ মানুষে ব্যবধান রচে, আজ মানবতা বহুদূর।
দেখি একতাবিহীন ঐক্যে ফাটল, আমি তাই নেশাখোর।।

মদে ডুবে আছে সমগ্র জাতি দেয় কষে গাঁজা দম,
অন্যায় পথে অর্থ উড়ায় অবিরাম-হর্দম।
বেশ্যা পাড়ায় যায় পুরুষে বেশ করে সিনা টান
পতিতা নারী গন্ধ বিলায়, করে’ নারীত্ব কোরবান।
মানবতা, তুমি একী খেলা খেলো!
অবিরাম কাঁদিয়ে কেন কাঁদো বলো?
মানুষ মানুষের খুনি হয়ে ফেরে অনন্ত লোভাতুর!
শত ধিক দিই, এই বেশ আছি হর্দম নেশাখোর।।

আমি শুনেছি অনেক বেকার মানুষের করুণ দীর্ঘশ্বাস,
কেউ বুঝেনি ওদের বেদনা, করেছে গো উপহাস।
হাতে ঝুড়ি, কাঁধে কোদাল-শাবল,
অনাহারী ওরা ঘুরেছে কেবল!
পারি নাই হাতে ভাত তুলে দিতে কব্জিতে নাই জোর।
অসহায় আমি নিরালা কেঁদেছি, আর তাই নেশাখোর।।

আমি দেখেছি অনেক রাজপথপাশে কোরান পঠনকারী,
সম্মুখে শিশুর লাশ ঢাকা আছে, ভিক্ষা মাগিছে তার-ই।
কাফনের টাকা জুটিয়ে এভাবে,
সন্তান তার কবরে যাবে!
দেশের নেতা চাপাবাজি করে,‘অভাব করবো দূর..’।
আমি আঁখিল নিযাসে শরাব বানাই, তাই পিয়ে নেশাখোর।।

আমি দেখেছি এখানে ঠগ ধোকাবাজি দুর্নীতি পলে পলে,
এখানে ভদ্রবেশে মুখোশধারী আর শয়তান কথা বলে।
দিনে সাধু সেজে রাতে লুট করে,
তাই নাগরিক না খেয়ে মরে।
করের বোঝা কাঁধে চেপে কেউ কেঁদে করে রাত ভোর।
সইতে পারি না এই জ্বালাতন, আমি তাই নেশাখোর।।

সুনীল গগণে ডানা মেলে দিয়ে পাখিদের উড়াউড়ি,
শ্বেতশাড়ি মেঘ-পরী মেয়ে করে উল্লাসে জড়াজড়ি।
ধুলির ধরায় তুচ্ছ আমি, চির মুক্তি স্বাধীনতাকামী,
দু’চোখ মেলে দেখেছি চেয়ে স্বাধীন স্বর্গদোর।
 যে স্বাধীন আশা জাগিয়েছে নেশা, তাই আমি নেশাখোর।।

আমি দেখেছি কখনো আসমানে ঘন এলোকেশী মেঘপরী,
মুচকি হাসি বিদ্যুতে তার, ডাকে ইঙ্গিতে মনোহরী।
ছুঁয়ে দিতে বলে আবেশে আবেশী, বিদ্যুৎ নারী মেঘ-কালোকেশী,
স্বর্ণাদেহী সে উর্বসী, পায়ে বজ্রের ঘুঙুর।
নেচে গেয়ে যায়, শরাব বিলায়, তাই পিয়ে নেশাখোর।।

আমি চাতুরি সয়েছি প্রেমের বাজারে প্রেমের সওদা চেয়ে,
খুব ভাল প্রেম দেবে বলে ওরা ঘুরিয়েছে পায়ে পায়ে।
কান্ত হয়েছি পিপাসা পেয়েছে....
ওরা শূন্য পেয়ালা হাজির করেছে।
পানির খোঁজে পথহারা আমি দুই চোখে লাগা ঘোর।
সে ঘোর কাটাতে পথ হাঁটি আর নেশাচূর নেশাখোর।।

ভরা মধুতে মৌ-রাণী ওরা, হুরী নাকি বলে এরে!
রাত দুপুরে এ কী জ্বালাতন! ঘরের ভেতর কে রে?
আমার ঘরে সিঁদ কেটে ঢুকে
সংকোচে মরে, লাজ নাকে মুখে।
অযথাই আসা রূপ পাল্টিয়ে, নবরূপা, সেজে চোর।
ঠকাও কারে! এসে বারে বারে! আমি সবদর্শী নেশাখোর।।

পিরামিড চূড়ার পরশে আমি শিহরিত হয়ে ফের
কী আছে ভেতরে! মরা মমি দেখে আৎকে উঠেছি ঢের
পিছল পথে ধীর গতি খুব
ফেনার সাগরে দিয়ে গেছি ডুব
প্রাণ মেলেনি সাগরের তলে জাগেনিকো অঙ্কুর
পীড়ন কেবলই সে ব্যথা ভোলা আমি তাই নেশাখোর।।

আমি দেখেছি এখানে কামনা কাতর উভয়-ই নর-নারী
কাম যাতনায় ভেঙেছে এখানে সংসার ঘর-বাড়ি
কী ব্যাভিচার! কোনটা আচার! না বুঝে কেঁদেছি শুধু
ঝাঁপসা নয়নে পার হয়ে গেছি সাগর মরু ধু ধু
আমারও অনেক পিপাসা ছিল কোথায় জলের ক্রোড়?
সুপেয় জলের অভাবে আমি হয়েছি গো নেশাখোর।।

তীব্র খরায় উড়ে গেছে কী গো সু-মধুর নদীজল
এতটুকু জল চাইতে গেলেই তারই এত কোলাহল
বেশ, তবে বেশÑ, দারুণ তিয়াসে ফিরে যাবে পথচারী
মরুদ্যানের প্রয়োজন নেই, নেই কোন আহাজারি
ধরণী কুমারীÑ, জেনে রেখো শুধু পিপাসাও সু-মধুর।
তাই আছে বলে চির যাযাবর হয়েছি গো নেশাখোর।।

হাজার লোকের ভীড়ে আমি খুঁজি সেই প্রিয় মুখ
হঠাৎ দেখায় আৎকে উঠি ভরে যায় সারা বুক
.....রচনা করি কবিতা যে তার
দেখা দিয়ে সে পালায় আবার
কাছে এসে নীবিড় জড়িয়ে বুকে করে না এ ব্যথা দূর
ফের তারে খুঁজে একাকী নিতি আমি এক নেশাখোর।।

আমি লিখে যাই নেশার কলমে নেশা মাখা কাগজে
চির নেশা নিয়ে সারা দেহ-মনে, নেশাভরা মগজে
আমার লেখায় নেশা ভরা থাকে
চির সত্য যে, তারে শুধু ডাকে
মহা আঁধারে যে জ্বেলে যায় বর্ণীল কোহিনুর।
যে আলো তৃষা জাগিয়েছে নেশা আমি তাই নেশাখোর।।

যে জন নিল না কোনদিন তুলে নেশার পেয়ালা হাতে
সে কী বুঝবে নেশার জ্বালা! ভরপুর মৌতাতে!
এ যে মুছে দেয় হৃদয়ের যতো রক্তক্ষরণ ব্যথা
আঁকুপাকু করা বুকের ভেতরে ফুটায় মুখে কথা।
মৌতাত কী শুধুই আনন্দ! আর কিছু নয় ভাই?
চির নেশাখোর তার সে কথা মুখ বুজে লিখে যাই।
না-ই বা জুটুক ফুলের মালা না-ই বা জুটুক ঘর
তবু লিখে যাবো আমি নেশাখোর আজীবন যাযাবর।
আমার বেদনায় নেশা, আনন্দে নেশা, নেশা করে কাটে দিন
নেশাতুর চোখে আজও চেয়ে দেখি রয়ে গেছি অমলিন।
আমার চলার সবটুকু পথ কাঁটাঘেরা বন্ধুর।
আমি সয়েছি পথের দারুণ বেদনা আমি তাই নেশাখোর।।

আমার স্নায়ুর প্রতি তারে আজ ভরপুর নেশা ভাই
নেশামাখা মনে মানব জমিনে পদচ্ছাপ রেখে যাই।
দেখি চোখ মেলে অনিলে সলিলে উৎসব উৎসব
মহা উচ্ছ্বাসে সবখানে হাসে জীবনের কলরব।
এখানের ঘাসে শিশির নারীরা মুক্তা হয়েছে আজ
অরুণালোকের ছোঁয়া পেয়ে ওরা সেজেছে অরূপ সাজ
ভোরের পাখিরা প্রভাতীয়া গানে কলরবে মেতে আছে
প্রেম মালা নিয়ে ঘুরছে মলয় মেঘ ললনার পাছে।
সবখানে আজ বিস্ময়কর মধুমাখা বাজে সুর
সে সুধা সুরে নেশা যায় বেড়ে করে তোলে নেশাখোর।।

বোম ভোলানাথ হয়ে ফিরি আমি পৃথিবীর পথে পথে
চির মুসাফির হৃদয় আমার চলি অসীমের সাথে
হতবাক হই বিস্ময়ে মরি আহ! এ কী সুন্দর!
এতো রূপ-রস পৃথিবীর মাঝে জীবনের পাতা ঘর
ধন্য হে প্রভূ, সৃষ্টি তোমার রঙে রঙে কথা কয়
শব্দ গন্ধ সবই অপরূপ! সুরে সুরে হাওয়া বয়!
নোনা সাগরের ঝর্ণা ধারায় নদীভরা মিঠে জল
চারিদিকে এ কী জয়ধ্বনী তোলা জীবনের কোলাহল
যতো দেখি আরো তৃষা জাগে মনে বিন্দুর সিন্ধুর
আরো ‘ভুত্তানা’ পেতে চায় মন, আমি তাই নেশাখোর।।
কলমের শেষ আঁচড় ঃ ৩০ অক্টোবর ২০০৫, পাঠানটোলা, ধামরাই, ঢাকা।

Thursday, August 2, 2012

ঝড়োবৃষ্টি | আবু সাইদ কামাল

একদিন আগেও ধূলির রাজ্যে ছিল বসবাস,
পথে নামলেই ধূলি লেগে হতো সর্বনাশ।
জামা-কাপড় ময়লা হতো, শ্বাসে টানতাম ধূলি
ওসব অত্যাচার কি বলো খুব সহজে ভুলি!
রাতেই যখন ঝড়ো-ঝাপটায় তুমুল বৃষ্টি নামে
সাথে সাথে চরাচরে ধূলির তাণ্ডব থামে।
সকাল বেলায় পথে নেমে স্বস্তিতে শ্বাস টানি,
ফসলি মাঠ সতেজ হলো পেয়ে বৃষ্টির পানি।

নিসরাত আক্তার সালমা | রমজান


রমজান এলো বছর ঘুরে
রোজা রাখ মুসলমান
রোজার মাসে রোজা রেখে
পোক্ত কর নিজ ইমান।
আদায় করো শুকরিয়া
নামাজ রোজা রেখে,
সাহরি খাও ইফতার করো
সঠিক সময় দেখে।
শান্তি সুখের দিনের আশায়
করো সবাই মোনাজাত
পরকালের কথা ভেবে
চাও সবাই মাগফিরাত।

Thursday, July 26, 2012

সোনালি আর ডালিয়া | আব্দুল মান্নান সৈয়দ

সোনালির সঙ্গে ডালিয়ার দেখা হয়ে গেল একদিন।
ডালিয়াকে জড়িয়ে ধরল সোনালি।
ডালিয়া বলল—আপনি কে?
সোনালি বলল—আমি সোনালি।
কত নাম শুনেছি তোমার।
তোমাকে তো দেখামাত্র চিনে ফেললাম।
ডালিয়া বলল—কার কাছে নাম শুনেছেন আপনি?
নাম বলল সোনালি।
ছায়া নামল ডালিয়ার দুধের মতো ফরসা মুখমণ্ডলে।
বলল শুধু—ও।
সোনালি বলে—মুখ কালো হয়ে গেল কেন তোমার?
উনি সারাক্ষণই তোমার কথা বলেন।
ম্লান মুখে ডালিয়া বলল—
সে-সব কথা ভুলে গেছি আমি।
আমার কথা বলে লাভ আছে আর?
সোনালির উত্তর—সে-কথা আমিও বলি।
কবিতা লিখে কী হবে?
জীবনে তো…
তারপরই সোনালি বলে—
ওনার আসল কে, চেনো না তুমি।
—কে?—
সোনালি হাসতে থাকে।
—তুমি আমি কেউ না। তার নাম কবিতা।
—কে মেয়েটা?
সোনালি বলে—চলো, কোথাও বসি।
কফি খেতে খেতে তোমাকে বলছি সব।

কেউ কথা রাখেনি | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি
ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিল
শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে
তারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো, কিন্তু সেই বোষ্টুমী
আর এলোনা
পঁচিশ বছর প্রতিক্ষায় আছি।

মামা বাড়ির মাঝি নাদের আলী বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুর
তোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবো
সেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভ্রমর
খেলা করে!
নাদের আলী, আমি আর কত বড় হবো? আমার মাথা এ ঘরের ছাদ
ফুঁড়ে আকাশ স্পর্শ করলে তারপর তুমি আমায়
তিন প্রহরের বিল দেখাবে?

একটাও রয়্যাল গুলি কিনতে পারিনি কখনো
লাঠি-লজেন্স দেখিয়ে দেখিয়ে চুষেছে লস্করবাড়ির ছেলেরা
ভিখারীর মতন চৌধুরীদের গেটে দাঁড়িয়ে দেখেছি
ভিতরে রাস-উৎসব
অবিরল রঙের ধারার মধ্যে সুবর্ণ কঙ্কণ পরা ফর্সা রমণীরা
কত রকম আমোদে হেসেছে
আমার দিকে তারা ফিরেও চায়নি!
বাবা আমার কাঁধ ছুঁয়ে বলেছিলেন, দেখিস, একদিন, আমরাও…
বাবা এখন অন্ধ, আমাদের দেখা হয়নি কিছুই
সেই রয়্যাল গুলি, সেই লাঠি-লজেন্স, সেই রাস-উৎসব
আমায় কেউ ফিরিয়ে দেবেনা!

বুকের মধ্যে সুগন্ধি রুমাল রেখে বরুণা বলেছিল,
যেদিন আমায় সত্যিকারের ভালবাসবে
সেদিন আমার বুকেও এ-রকম আতরের গন্ধ হবে!
ভালোবাসার জন্য আমি হাতের মুঠেয়ে প্রাণ নিয়েছি
দূরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছি লাল কাপড়
বিশ্বসংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছি ১০৮টা নীল পদ্ম
তবু কথা রাখেনি বরুণা, এখন তার বুকে শুধুই মাংসের গন্ধ
এখনো সে যে-কোনো নারী।
কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটল, কেউ কথা রাখে না!

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ