প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label স্বাস্থ্য কথা. Show all posts
Showing posts with label স্বাস্থ্য কথা. Show all posts

Monday, October 3, 2011

ওজন কমানোর সঠিক ফর্মুলা || তামান্না শারমিন

ওজন কমিয়ে ছিপছিপে হওয়ার জন্য আমাদের চেষ্টার অভাব নেই । স্ট্রিট ডায়েট, এক্সারসাইজের শাসন কোনো কিছুই মানতে অসুবিধা নেই। তবু ঠিক যতটা চাইছেন ততটা রোগা হতে পারছেন না। তাই এবার জেনে নিন ওজন কমানোর সঠিক পদ্ধতি। লিখেছেন তামান্না শারমিন
যেসব কারণে ওজন বৃদ্ধি পায়
দেহের চাহিদার অতিরিক্ত খাওয়া বিশেষ করে ফ্যাট, ক্যালসিয়াম ও ক্যালরিযুক্ত খাবার বেশি হলে ওজন বৃদ্ধি পায়। মদ্যপান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অতিরিক্ত ঘুম, স্টেরয়েড এবং অন্যান্য নানা ধরনের ওষুধ গ্রহণের ফলেও ওজন বাড়তে পারে। অতিরিক্ত আরাম-আয়েশ ও শারীরিক পরিশ্রম কম হলে দেহে চর্বি জমে এবং ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে থাকে।
ওজন হ্রাস করার কয়টি সহজ পদ্ধতি
যেহেতু ওজন বৃদ্ধি মেদ বা ভুঁড়ি প্রভৃতি সমস্যা সৃষ্টি করে সেহেতু আগে থেকেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। প্রথমেই ওজন বাড়ার কারণগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন এবং ধীরে ধীরে তা প্রতিরোধ করুন। সাধারণত খাদ্যাভ্যাস, অপ্রতুল কায়িক পরিশ্রম কিংবা অসুখই এর প্রধান কারণ।
অতিরিক্ত ওজন কমানোর সহজ উপায় হলো সঠিক ও পরিমিত খাদ্য গ্রহণ এবং প্রচুর কায়িক পরিশ্রম, ব্যায়াম করা। যারা কায়িক শ্রম বেশি করেন তাদের ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। নিয়মিত হাঁটা খুব ভালো ব্যায়াম। প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে হাঁটতে পারেন, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা, ত্রিকোণ আসন প্রভৃতি ওজন কমানোর জন্য খুবই উপকারী।
চর্বি জাতীয় খাবার যেমন মাখন, তেল, গরু বা খাসির মাংস, বাটার প্রভৃতি থেকে দূরে থাকতে হবে। শরীরের জন্য এগুলো প্রয়োজন রয়েছে কিন্তু নির্দিষ্ট পরিমাণে, যার কম-বেশি হলে সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য অনেক সময় দেখা যায়, ওজন কমাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেকে। এজন্য প্রয়োজন খাদ্য গ্রহণ পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া। প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি ও ফলমূল খাবেন এবং বেশি বেশি পানি পান করবেন। একবারে বেশি খাবেন না, একটু পর পর অল্প অল্প করে খাবেন। ক্ষুধা লাগলে শশা বা ফল খেয়ে নেবেন। কারণ শশা ও টকফল ওজন হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
আজকাল অপারেশনের সাহায্যে ভুঁড়ি বা মেদ কমানো হচ্ছে। লাইপোসাকশন বা অ্যাবডোমিনো ফ্লিস্টর সাহায্যে মেদ কমানো হচ্ছে। কিন্তু এটার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে অনেক।
ওজন হ্রাসকারী খাদ্যে ক্যালসিয়াম ও লোহার অভাব ঘটতে পারে। এ ক্ষেত্রে ডিম, কলিজা লোহার চাহিদা পূরণ করবে। চেষ্টা করবেন লবণ বর্জিত খাদ্যগ্রহণ করতে।
এ ক্ষেত্রে খাবার মেপে মেপে খাওয়ার প্রয়োজন নেই, মোটামুটি একটা হিসাব করলেই চলবে। শরবত, কোকাকোলা, ফান্টা ইত্যাদি মৃদু পানীয় সব রকম মিষ্টি, তেলে ভাঁজা খাবার, চর্বিযুক্ত মাংস, তৈলাক্ত মাছ, বাদাম, শুকনাফল, ঘি, মাখন, সর ইত্যাদি পরিহার করা প্রয়োজন। শর্করা ও চর্বি জাতীয় খাদ্য ক্যালরির প্রধান উত্স। অধিক চর্বিযুক্ত কম ক্যালরির খাদ্যে স্থূল ব্যক্তির ওজন খুব দ্রুত কমে। ওজন কমাতে পরিশ্রম ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সকাল :দুধ ছাড়া চা বা কফি, দুটো আটার রুটি, একবাটি সবজি সিদ্ধ, ১ বাটি কাঁচা শশা। শশা ওজন কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।
দুপুর :৫০-৭০ গ্রাম চালের ভাত। মাছ বা মুরগির ঝোল ১ বাটি। এক বাটি সবজি ও শাক, শশার সালাদ, এক বাটি ডাল এবং ২৫০ গ্রাম টক দই।
বিকাল :দুধ ছাড়া চা বা কফি, মুড়ি বা বিস্কুট ২টা।
রাত :আটার রুটি তিনটা, একবাটি সবুজ তরকারি, একবাটি ডাল, টকদই দিয়ে এক বাটি সালাদ এবং মাখন তোলা দুধ।
দৈনিক এক গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করলে দেহে প্রোটিনের অভাব থাকে না। ৬০ কিলোগ্রাম ওজন বিশিষ্ট ব্যক্তির খাদ্য ৬০ গ্রাম প্রোটিন হলেই ভালো হয়। প্রতি মাসে একদিন ওজন মাপতে হবে, লক্ষ রাখতে হবে, ওজন বাড়ার হার কম না বেশি। ওজনবৃদ্ধি অসুখের লক্ষণ। মেদ বা ভুঁড়ি এদের অতিরিক্ত ওজন কোনোটাই স্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়। বরং নানা অসুখের কারণ হয়ে দেখা দেয়, একথা সবসময় মনে রাখবেন এবং স্বাস্থ্য-সচেতন হবেন।

Tuesday, September 20, 2011

শিশুর মানসিক বিকাশ

রোহানদের বাসায় অতিথি এসেছে, ওর খালঅ-খালু। ড্রইংরুমে বসে ওর মা-বাবা আর অতিথিরা গল্প করছেন। ছয় বছর বয়সী রোহান ওর সমবয়সী খালাতো ভাই রাফির সঙ্গে খেলছে। হঠাৎই রোহানের ঘর থেকে কান্না আর চিৎকার। ওর মা-বাবা, খালা-খালু সবাই ওর ঘরে গিয়ে হতবাক। রোহান রীতিমতো রাফির চুল ধরে টানছে আর বাজে ভাষায় গালাগালি করে ওর সঙ্গে কথা বলছে। এই দৃশ্য রোহানের মা-বাবার জন্য নতুন নয়। তবে অনেক বকাঝকা করে বাঘ মামা আর ডাইনিবুড়ির ভয় দেখিয়ে বদলাতে পারেননি ছেলের এই অভ্যাস। এরকম পরিস্থিতিতে হয়তো আপনিও পড়েছেন আপনার সন্তানকে নিয়ে। ঐ মুহূর্তের জন্য না হয় ধমক দিয়ে বা চড় দিয়ে থামিয়ে দিলেন ছোট বাচ্চাটিকে। কিন্তু এর কারণ জানার চেষ্টা করেছেন কি কখনও?
এ বিষয়ে কথা হয় সাইকোলজিস্ট শুভাশীষ বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'যেহেতু শিশুরা তার আশপাশের সবকিছুই খুব দ্রুত রপ্ত করে নেয় এবং তাদের মধ্যে ভুল-সঠিক বোঝার সামর্থ্য থাকে না, তাই তাদের যে কোনো ভুলের জন্য পিতা-মাতার উচিত তাদের মধ্যে কোনো প্রকার ভীতির সৃষ্টি না করে আন্তরিকভাবে বোঝানো। নতুবা ভুল শাসন তাদের মানসিক বিকাশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।' তিনি আরও বলেন, 'আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, বর্তমানে অধিকাংশ পিতা-মাতাই এ বিষয়ে যথাযথভাবে সচেতন নয়, যা আমাদের সন্তানদের জন্য শুধু দুর্ভোগই বয়ে আনছে।'
শিশুরা তার আশপাশ থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। সাধারণত বাসায় বাবা-মায়ের ঝগড়া, বাড়ির পার্শ্ববর্তী পরিবেশ অথবা শিশুর স্কুলের পরিবেশও তাদের ভুল শিক্ষার জন্য দায়ী। সর্বপরি বাবা-মায়ের সচেতনতার অভাব শিশুদের ভুল শিক্ষার দিকে ঠেলে দেয়। বর্তমানে আকাশ সংস্কৃতির মাত্রাতিরিক্ত প্রসার এবং সেখানে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের অনুপস্থিতিও শিশুদের নৈতিকতার শিক্ষা থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে বলে সাইকোলজিস্ট শঙ্কা প্রকাশ করেন।
সাইকোলজিস্ট শুভাশীষ বিশ্বাস বলেন, 'শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য বাবা-মাকে বাসায় অবশ্যই সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের ভুল-ত্রুটির জন্য কড়া শাসনে না রেখে সময় নিয়ে স্বাভাবিক ব্যবহার বজায় রেখে তাদের ভুল-ত্রুটিগুলো বুঝিয়ে দিতে হবে। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কড়া শাসনে শিশুদের মনে বড়দের প্রতি মান্যতা ও শ্রদ্ধা লোপ পায়।' এ ছাড়া শিশুরা কাদের সঙ্গে মেশে, স্কুলে কাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে, টিভিতে কী দেখছে সে বিষয়ে খেয়াল রাখাও পিতা-মাতারই দায়িত্ব। তবে 'শিশুকে কোনো কিছু করতে বারণ করে নয়, বরং বিশ্বস্ত বল্পুব্দর মতো পাশে থেকে তাদের ভুল-ত্রুটিগুলো চিনে নিতে সহায়তা করাই বাবা-মার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা হওয়া উচিত।
আপনার সন্তানটির মানসিক বিকাশে যথার্থ পদক্ষেপ নেওয়া, বেড়ে ওঠায় সবসময় তাদের পাশে থাকা এবং বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো পাশে থেকে তাদের নৈতিকতার
দীক্ষায় গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। কারণ কিছুটা সময়, সচেতনতা, একটু আদর আর ভালোবাসাই পারে শিশুর মানসিক বিকাশের পথ মসৃণ করতে।

লেখা :কমরুল চৌধুরী
ছবি : আরমান হোসেন বাপ্পি
সূত্র : সমকাল

Monday, September 19, 2011

 অনেক পানি কেন পান করবেন

আমরা জানি, পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া আমরা একদিনও চলতে পারি না। প্রতিদিন প্রায় সব ধরনের কাজে আমাদের পানি লাগবেই। সারাদিন আমরা যত ধরনের খাবার খাই, তার মধ্যে একমাত্র পানিই হচ্ছে ক্যালরি, ফ্যাট, শর্করা ও চিনিমুক্ত। তাই যত খুশি পানি পান করুন, কোনো সমস্যা নেই। আমাদের শরীরের ৬০-৭০ ভাগ ওজনই হচ্ছে পানি। তার মানে শরীরের প্রধান উপাদান হচ্ছে পানি। কিন্তু আমরা প্রতিদিন বিভিন্নভাবে (যেমন—ইউরিন, ঘাম, শ্বাস-প্রশ্বাস ইত্যাদি) শরীর থেকে পানি হারাই। তাছাড়া শরীরকে সচল রাখতেও পানি দরকার। তাই আমাদের শরীরে দৈনিক পানির চাহিদা অনেক। শারীরিক ফিটনেস অর্জন করতে হলে খাদ্য তালিকায় প্রচুর পানি থাকতেই হবে। প্রতিদিন আমাদের প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে, না হলে অনেক রকম সমস্যা যেমন—পানিশূন্যতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, কিডনির সমস্যা, শরীরের টক্সিন জমা ইত্যাদি হতে পারে।
পানি পান করার প্রয়োজনীয়তা
— পানি মেটাবলিজম বাড়ায়, পেট ভরায়/ক্ষুধা কমায়; তাই ওজন কমাতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
— বরফশীতল পানি পান করলে, শরীর তা হজম করার জন্য গরম হয়, ফলে কিছু ক্যালরি খরচ হয়।
— পিপাসার্ত অবস্থায় পানি খেলে তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে। ফলে শারীরিক ক্লান্তি দূর হয় ও শক্তি ফিরে আসে। কারণ পানি রক্তে ও কোষে অক্সিজেন এবং অনান্য পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। এছাড়া সারা শরীরের রক্ত সরবরাহ ও সঞ্চালন বাড়ে পানি পান করার ফলে।
— পানির অভাবে মাসলের দুর্বলতা, অস্বস্তি বোধ হওয়া, মাথা ঘুরানো ও অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।
— পানি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। পানির অভাবে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে হিট স্ট্রোক হতে পারে।
— পানির অভাবে সারা শরীরের ও সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমন্বয় ঠিকমত হয় না।
— পানি ইউরিন, নড়বিষ সড়াবসবহঃ ও ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে দূষিত/বর্জ্য পদার্থ ও ফ্যাট বের করতে সাহায্য করে।
— পানি হজম শক্তি বাড়ায়, হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখে। কারণ আমাদের শরীরে ঠিকভাবে খাবার হজম করার জন্য প্রচুর পানি দরকার হয়। তাই প্রচুর আঁশ জাতীয় খাবারের পাশাপাশি, প্রচুর পানিও পান করতে হবে
— পানি কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। পানি ঠিকমত পান না করলে শরীর সব পানি শুষে নেয়, ফলে কোলন শুষ্ক হয়ে যায়, তাই শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ ঠিকমত বের হতে চায় না বা নড়বিষ সড়াবসবহঃ ঠিকমত হয় না।
— পানি কিডনির পাথর হওয়া থেকে বাঁচায়। কারণ, পানি ইউরিনের লবণ ও মিনারেল ভেঙে দেয়, ফলে কিডনিতে পাথর হয় না।
— ব্রেইনের ৮৫ ভাগ হচ্ছে পানি। তাই পানির অভাবে আমরা মানসিক/শারীরিক চাপে ভুগি। একটু পরপর পানি পান করলে এই মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকা যায় এবং শারীরিক শক্তি বাড়ে।
— ব্যায়াম করার সময় একটু পরপর পানি পান করতে হবে। পানি শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখে, মাসলের ক্র্যাম্প থেকে রক্ষা করে, শরীরের শক্তি ঠিক রাখে। তাই অনেক সময় ধরে সঠিকভাবে ব্যায়াম করা যায়। শুধু কার্ডিও ব্যায়াম নয়, ওয়েট ট্রেনিং করার সময়ও একটু পরপর পানি খেতে হবে । তাহলে মাসলে পানিশূন্যতা হবে না ও ব্যায়াম ভালো কাজ করবে।
পানি হচ্ছে প্রাকৃতিক ক্রিম, যা ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়। পানিশূন্যতা আমাদের ত্বকে বলিরেখা ফেলে। তাই প্রচুর পানি পান করলে বলিরেখা থেকে মুক্ত থাকা যায়। কারণ পানি কোষের পানি বাড়ায়, ফলে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়বে ও বয়স কম মনে হয়। তাছাড়া পানি শরীর থেকে সব দূষিত পদার্থ বের করে দেয়, রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, তাই ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়। তাই হেলদি, উজ্জ্বল, মোলায়েম/কোমল ত্বক পেতে প্রচুর পানি পান করতে হবে।
— ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এক সপ্তাহ প্রচুর পানি পান করুন এবং এক সপ্তাহ পর লক্ষ্য করুন উজ্জ্বল ত্বক।
— পানি রোগমুক্ত রেখে ও ত্বক সজীব রেখে তারুণ্য ধরে রাখে।
— প্রচুর পানি পান করলে কিছু ক্যান্সার, যেমন—কোলন, ব্লাডার ও ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
— জয়েন্টের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। কারণ জয়েন্টের মেইন লুব্রিকেন্ট হচ্ছে পানি।
জয়েন্ট (Arthritis) ও ব্যাক পেইনের রোগীরা তাই প্রচুর পানি পান করলে উপকার পান।
— পানি মাথাব্যথা দূর করে ও প্রতিরোধ করে।
— পানি হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। কারণ পানি হার্ট ও ব্রেইনের জয়েন্টের ব্যথা প্রতিরোধ করে।
— পানি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
— মস্তিষ্কের/ব্রেইনের ক্ষমতা বাড়ায়, স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধ করে।
— গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমায়, হজমের সমস্যা ও জ্বালাপোড়া কমায়।
— রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, তাই উচ্চ রক্তচাপ কমায়।
প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করবেন?
প্রতিদিন কত গ্লাস পানি পান করবেন তা নির্ভর করে আপনার স্বাস্থ্য, ওজন, কোথায় বাস করেন—গরম না ঠাণ্ডা আবহাওয়ায়, আপনি কত কর্মঠ ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম কেমন করেন ইত্যাদির ওপর। তাছাড়া আপনি আর অন্য কী পানীয় যেমন—চা, লাচ্ছি, জুস, ডাবের পানি ইত্যাদি খান, তার ওপরও নির্ভর করবে দৈনিক কত গ্লাস পানি পান করবেন।
সাধারণত পুষ্টিবিদেরা বলেন, দৈনিক অন্তত ৮ গ্লাস পানীয় পান করতে। তার মানে, সব ধরনের পানীয় ও পানিসহ দৈনিক অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে।
ঞযব ওহংঃরঃঁঃব ড়ভ গবফরপরহব-এর মতে পুরুষদের জন্য দৈনিক অন্তত ৩ লিটার বা ১২ গ্লাস এবং মহিলাদের জন্য অন্তত ২ লিটার বা ৮ গ্লাস পানি পান করা দরকার।
ঞযব ওহংঃরঃঁঃব ড়ভ গবফরপরহব’ং ঋড়ড়ফ ধহফ ঘঁঃত্রঃরড়হ ইড়ধত্ফ ১৯৯৪ সালে আরেকটি তথ্য প্রকাশ করেছে যে, মহিলাদের জন্য ৯১ আউন্স এবং পুরুষদের জন্য ১২৫ আউন্স পানি পান করতে হবে।
আরেকটি নিয়ম হচ্ছে—আপনার ওজন যত পাউন্ড, ঠিক তার অর্ধেক আউন্স পানি খেতে হবে। যেমন—আপনার ওজন যদি হয় ১৬০ পাউন্ড, তবে আপনাকে ৮০ আউন্স পানি পান করতে হবে। এই পানি সব রকম পানীয়ের হিসাব। তবে ৮০ আউন্সের ৮০ ভাগ বা ৬৪ আউন্স, শুধু পানি খেলে ভালো। মনে রাখবেন, ৮ আউন্স = এক গ্লাস পানি।
তবে আপনি যদি সুস্থ-সবল হন, তবে পানি খাওয়ার হিসাব নিয়ে খুব বেশি চিন্তার কারণ নেই। পিপাসা পেলে, স্বাভাবিকভাবে পানি পান করলেই চলবে। কিন্তু আপনি যদি খেলোয়াড় হন, ব্যায়াম করেন বা অনেক ঘামেন, তাহলে আরও বেশি পানি পান করতে হবে।
অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় শরীর থেকে অনেক পানি বের হয়, তাই অনেক বেশি পানি পান করতে হবে। অসুস্থ হলে যেমন : জ্বর, ডায়রিয়া, বমি হওয়ার পর অনেক বেশি পানি পান করতে হবে।
কীভাবে বুঝবেন যে আপনি সঠিক পরিমাণে পানি পান করছেন?
আপনি যদি সব সময় তৃষ্ণার্ত বোধ না করেন।
আপনার যদি দৈনিক ১.৫ লিটার ইউরিন হয়।
যদি ইউরিনের রং সাদা বা হালকা হলুদ হয়।
ইউরিনের রং হলুদ হলে আপনি সঠিক পরিমাণে পানি পান করছেন না। আপনার নড়বিষ সড়াবসবহঃ যদি ঠিকমত হয় এবং আপনার যদি কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়।
পানি পান করার প্রয়োজনীয়তা কত তা অনুধাবন করে, আপনার সঙ্গে তাই সব সময় বিশুদ্ধ খাবার পানি রাখুন ও বেশি বেশি পানি পান করুন। গরমের দিনে অনেক বেশি পানি পান করে শরীর ঠিক রাখুন। হেলদি লাইফ স্টাইল মেনে চলার খুব সহজ একটি উপায় হচ্ছে প্রতিদিন অনেক বেশি পানি পান করা। তাহলে আপনাকে সুস্থ, সুন্দর ও সবল দেখাবে।
সূত্র: আমার দেশ

ওষুধ যখন বিপদের কারণ || ডা. দিদারুল আহসান

রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আমরা ওষুধ খাই; কিন্তু সেই ওষুধই আবার কখনও কখনও রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষ করে চর্মরোগে। বেশ কিছু চর্মরোগ আছে যার নেপথ্যে মূল ভূমিকায় রয়েছে কোনো না কোনো ওষুধ। অসংখ্য রোগ রয়েছে যা ওষুধের কারণে হয়, যার মধ্যে একটি হচ্ছে ফলিয়েটিভ ইরাইথ্রোডার্মা। এই রোগের অন্তত ১১ শতাংশের কারণ হচ্ছে কোনো না কোনো ওষুধ। যে ওষুধগুলোর ব্যবহার থেকে এ রোগ হতে দেখা যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সালফার, যা কিন্তু অহরহই ব্যবহার করা হচ্ছে। আরও আছে অ্যালুপুরিনল, ফেনিটমেন, ফেনোবারবিটাল, আইসোনায়েড, আয়োডিন ইত্যাদি। এ রোগের ক্ষেত্রে শরীরজুড়ে আঁশ হতে দেখা যায়, যা ঘষা দিলে ঝরে পড়তে থাকে। শুরুতে লাল লাল দাগ দিয়ে ত্বকে শুরু হলেও ক্রমান্বয়ে তার বিস্তার ঘটতে থাকে ও পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু দিনের মধ্যেই ত্বকে আঁশ আকারে উঠে আসতে থাকে। পরবর্তী সময়ে রোগীর অবস্থা খারাপ হয় এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন দেখা দেয়। সঠিক চিকিত্সা না হলে তার জীবনে শঙ্কা তৈরি হয়। এমন আরেকটি রোগ হচ্ছে ড্রাগ ইরাপশন। নাম থেকেই বোঝা যায় ড্রাগ বা ওষুধের কারণেই এ রোগটি হয়। এক্ষেত্রে ত্বকের গায়ে র্যাশ বা চাকা ওঠে, যা দেখলেই মনে হয় যেন হাম উঠেছে কিংবা অ্যালার্জি উঠেছে।

ওষুধের কারণে যা হতে পারে
ওষুধের কারণে সাধারণভাবে দুই ধরনের র্যাশ হয় যেমন—আর্টিকেরিয়া, যাতে চাকা হয় এবং চুলকানি থাকে। আর এক ধরনের র্যাশ হলো : রবিফিলিফর্ম। শেষেরটা বেশি পাওয়া যায় এবং শরীরজুড়ে লাল লাল দাগ অথবা ছোট ছোট দানা বা গোটার আকারে লালচে রঙের হতে দেখা যায়। যেহেতু ওষুধের কারণেই এই রোগটি হয় তাই এ ধরনের র্যাশ দেখা দেয়া মাত্র ওষুধ বন্ধ করে দিতে হবে। সাধারণত যেসব ওষুধের কারণে এ রোগ হয় তা হলো অ্যামোক্সাসিলিন, কোট্রামাইসোল, অ্যামপিসিলিন, পেনিসিলিন, সেফালোসেপারিন, ইরাইথ্রোমাইসিন, সিমেটাডিন ইত্যাদি।
ফিঙ ড্রাগ ইরাপশন নামের আরেকটি রোগে ওষুধ খেলে বারবারই এরকম উপসর্গ নিয়ে রোগটি দেখা দেয়। যতবার ওষুধটি খাবেন ততবারই ত্বকে এ রোগটি একইভাবে দেখা যাবে। দেখতে গোলাকার ডিম্বাকৃতির লালচে চুলকানিযুক্ত, উঁচু অথবা ফোসকাযুক্ত যে কোনোভাবে দৃশ্যমান হতে পারে, যা সেরে যাওয়ার পর স্থানটি কালো রঙের হয়ে থাকে অনেক দিন পর্যন্ত। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ওষুধ যার কারণে রোগটি হয় যেমন— টেপ্রাসাইক্লিন, সালফোনামাইড, বারবিচুরেট, স্যালিসাইলেটস ইত্যাদি।
স্টেভাসন জনসনস সিনড্রম নামের আরেকটি রোগও ওষুধের কারণেই হয়। রোগটি অত্যন্ত জটিল এবং এর থেকে জীবননাশও ঘটতে পারে। প্রথমে ফোসকা আকারে দেখা দেয় যা ঠোঁট, জিহ্বা, মুখের ভেতরে ঘা হয়ে দেখা দেয়। চোখে আক্রমণ ঘটলে অন্ধত্ব বরণ করতে হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মুখ, হাত ও পায়ের তালুতে ফোসকা নিয়ে উঠতে দেখা যায়। ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে। এছাড়া গিরায় ব্যথা, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, যকৃত্ বড় হওয়া এবং রক্তের মধ্যেও ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ হয় যা চামড়ার ওপর দিয়ে লাল লাল ছোট অথবা বড় দাগ নিয়ে দেখা দেয়, যেটা কখনও কখনও খুবই মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, যদি ঠিক সময় ওষুধ খাওয়া শুরু করা না হয়। রোগটির জন্য দায়ী কয়েকটি ওষুধ হলো বারবিচুরেট, কুইনিডিন, ফিনাইলবুটাজোন ইত্যাদি।
একটি কথা মনে রাখতে হবে, ওষুধ কিন্তু এক ধরনের বিষ। সাধারণত তা জীবাণুর জন্য বিষ হিসেবে কাজ করে। তবে কখনও কখনও শরীরেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে। তাই ওষুধ থেকে দূরে নয়, ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

লেখক : চর্ম, অ্যালার্জি ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
আল-রাজী হাসপাতাল
ফার্মগেট, ঢাকা।

স্বাস্থ্য রক্ষায় পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতা প্রাচীনকাল থেকেই বেশ জনপ্রিয় ওষুধ হিসেবে পরিচিত। বহু রোগের আরোগ্যে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পুদিনা পাতা এক ধরনের সুগন্ধি গাছ। এই গাছের পাতা তরি-তরকারির সঙ্গে সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশেই পুদিনার গাছ জন্মে। এর পাতা সুগন্ধি হিসেবে রান্নায় ব্যবহার করা হয়। অন্যান্য স্থানীয় নাম—গরহঃ, হধহধ। এর বৈজ্ঞানিক নাম গবহঃযধ ংঢ়রপধঃধ। এটি খধসরধপবধব পরিবারের অন্তর্গত।
পেটের পীড়ায় : এটি ইরেটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (আইবিএস) এবং দীর্ঘস্থায়ী বদহজমের বিরুদ্ধে খুবই কার্যকর। এছাড়াও পুদিনা কোলনের পেশি সঙ্কোচন নিয়ন্ত্রণ করে।
অ্যাজমা : পুদিনায় রোজমেরিক এসিড নামের এক ধরনের উপাদান থাকে। এটি প্রাকপ্রদাহী পদার্থ তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে অ্যাজমা হয় না। এছাড়াও এ ঔষধি প্রোস্টসাইক্লিন তৈরিতে বাধা দেয়। তাতে শাসনালী পরিষ্কার থাকে।
এন্টিক্যান্সার : পুদিনায় আছে মনোটারপিন নামক উপাদান। যা স্তন, লিভার এবং প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। নিয়মিত খেলে ফুসফুস, কোলন এবং ত্বকের ক্যান্সার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

পুদিনার ভেষজগুণ
পুদিনা খুবই উপকারী একটি উদ্ভিদ। আমাদের শরীরের নানা রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। মুখের স্বাদ বাড়াতেও এটি খুব কার্যকর। আরও যেসব ক্ষেত্রে পুদিনার পাতা ব্যবহার করা যায়, তা হলো :
১. পুদিনার তাজা পাতা পিষে মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর যদি তা ধুয়ে ফেলা যায়, তাহলে মুখের তৈলাক্ত ভাব দূর হয়ে যায়। ব্রণ ওঠাও বন্ধ হয়।
২. পুদিনার পাতা পিষে রস করে তার ভেতর দু’তিন ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে তা পান করলে ক্লান্তিভাবও দূর হয়।
৩. কোনো কারণে কোনো ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার নাকের কাছে কিছু তাজা পুদিনা পাতা ধরুন। দেখবেন, লোকটি জ্ঞান ফিরে পেয়েছে।
৪. পুদিনার পাতা ভালো করে পিষে তার রস ভালো করে মাথায় ব্যবহার করুন। যাদের চুলে উকুন আছে তারা খুব উপকার পাবেন।
৫. শরীরের ব্যথা দূর করতে পুদিনা পাতার চা খুব কাজে দেয়।
৬. মাথা ও পেট ব্যথা নিরাময়েও পুদিনার পাতা খুব উপকারী।
৭. যাদের মাঝে মধ্যে হেঁচকি ওঠে, তারা পুদিনা পাতার সঙ্গে গোল মরিচ পিষে তা ছেঁকে নিয়ে রসটুকু পান করুন। দেখবেন হেঁচকি বন্ধ হয়ে গেছে।
সূত্র : আমার দেশ

Tuesday, June 28, 2011

শক্ত হাড়ে সুস্থ হার্ট


পৃথিবীতে প্রতি ছয় সেকেন্ডে একজন হৃদরোগে মারা যাচ্ছেন। এসব আক্রান্ত ব্যক্তি কেউ হতে পারেন আপনার মা-বাবা, ভাই-বোন, নিকটাত্মীয় কেউ। এমনকি আপনি নিজেও। হৃদরোগ যেমন ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যা, একইসঙ্গে অনেক মানুষ হারাচ্ছে তাদের কর্মক্ষমতা, হচ্ছে প্রচুর অর্থব্যয়। সুতরাং হৃদরোগ একটি জাতীয় ও বিশ্বজনীন সমস্যা।
হার্ভার্ড মেডিকেল কলেজের গবেষকরা দেখেছেন, হৃিপণ্ড সুস্থ করার জন্য আপনার হাড় মজবুত করুন। গবেষকরা দেখান, শক্তিশালী হাড় যাদের আছে তাদের চেয়ে দুর্বল হাড়বিশিষ্টদের ২৭ ভাগের বেশি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই গবেষকরা হাড় শক্তিশালী করতে ব্যায়াম ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণের উপদেশ দিয়েছেন। প্রচলিত একটি ধারণা আছে, স্ট্রোক একটি হৃিপণ্ডের রোগ। বাস্তবে এটি মোটেই সত্য নয়। স্ট্রোক সম্পূর্ণই মস্তিষ্কের রক্তনালীর জটিলতাজনিত রোগ।
স্ট্রোককে চিকিত্সাবিজ্ঞানের ভাষায় সেরিব্রভাসকুলার অ্যাকসিডেন্ট বলা হয়। সেরিব্রাল অর্থ মস্তিষ্ক আর ভাসকুলার অর্থ রক্তনালী। মস্তিষ্কের রক্তবাহী নালীর দুর্ঘটনাকেই স্ট্রোক বলা যায়। এ দুর্ঘটনায় রক্তনালী বন্ধও হতে পারে আবার ফেটেও যেতে পারে। আমাদের দেশে ৬০ বছরের বেশি বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে স্ট্রোক মৃত্যুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রোকের হার বেড়ে যায়। কখনও কখনও তরুণরাও এর শিকার হয়। অনিয়মিত উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সেবন স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় কারণ। এছাড়া ধূমপান, অতিরিক্ত টেনশন, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোকের পারিবারিক ইতিহাস, রক্তে বেশিমাত্রায় চর্বি, অতিরিক্ত মাত্রায় কোমল পানীয় গ্রহণ এর আশঙ্কা বাড়ায়।
তবে গবেষকরা বলছেন, ব্যায়াম এবং ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাদ্য হৃদরোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বেশি করে ব্যায়াম করুন এবং ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান। তাহলেই আপনার হাড় শক্ত হবে এবং হৃিপণ্ড সুস্থ থাকবে। ইন্টারনেট
সৌজন্য : আমার দেশ

বর্ষার ফল পেয়ারা

বর্ষাকালের ফলগুলোর মধ্যে পেয়ারা হলো পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। পেয়ারার বৈজ্ঞানিক নাম সিডিয়াম গুয়াজাভা। কম চর্বি ও ক্যালোরিযুক্ত এই ফল সব বয়সের জন্য প্রয়োজনীয়। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'এ' ও 'সি'। 'এ' ও 'সি' ত্বক ও চুলে পুষ্টি জোগায় এবং দেহের বৃদ্ধিতে অবদান রাখে। ভিটামিন 'এ' চোখের পুষ্টি-ঘাটতি দূর করে, দেহের রোগজীবাণু ধ্বংস করে, মুখের ঘা প্রতিহত করে। পেয়ারার ভেতরের অংশের চেয়ে বাইরের ত্বকে রয়েছে অপেক্ষাকৃত বেশি ভিটামিন 'সি'। অর্থাৎ খোসাসহ পেয়ারা বেশি উপকারী।

পেয়ারার ভিটামিন 'সি' শরীরকে মৌসুমি রোগ-জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করে; দেহের যে কোনো কাটাছেঁড়া, ঘা, চর্মরোগ দ্রুত দূর করে; দাঁতের মাড়ি মজবুত করে। পেয়ারায় রয়েছে ফ্ল্যাভিনয়েড নামের (বিটাক্যারোটিন, লুটেইন, লাইকোপেন, ক্রিপ্টোজ্যানথিন) উপাদান, যা রক্ত পরিষ্কার করে এবং ফুসফুস, প্রোস্টেট, স্তন, পাকস্থলি ও মুখের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে প্রমাণ করেছেন, যে ব্যক্তি যত বেশি পরিমাণ ভিটামিন 'সি' খাবে, তা তার দেহে ক্ষতিকর সংক্রামক রোগগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে তত বেশি। আর পেয়ারা এমনই একটি ফল, যা এই যুদ্ধে সাহায্য করবে। ফলটি ত্বক কুঁচকে যাওয়া ও অকাল বার্ধক্য রোধ করে, তারুণ্য বজায় রাখে দীর্ঘদিন। পেয়ারার খোসায় রয়েছে ফাইবার বা আঁশজাতীয় উপাদান। ফাইবার খাবার হজমে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পেয়ারায় ভিটামিন 'বি'-এর মধ্যে রয়েছে প্যানটোথেনিক এসিড, নিয়াসিন, পাইরিডকসিন 'বি'। ভিটামিন 'বি'র অভাবে বেরিবেরি রোগ ও বদহজম হয়। পেয়ারায় 'ই' ও 'কে' নামে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ভিটামিন। 'ই' সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব ও আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। যকৃৎ ও গলব্লাডারের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। আর ভিটামিন 'কে' রক্তশূন্যতা, ত্বকে কালচে দাগ পড়া, নাক-মাড়ি থেকে রক্তপাত দূর করে। ভিটামিন 'কে'র অভাবে হাড় ও হৃৎপিণ্ডে দুর্বলতা দেখা দেয়। পেয়ারায় আরও রয়েছে প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। এগুলোর মধ্যে ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাংগানিজ উল্লেখযোগ্য। এই পদার্থগুলো দেহের লবণ ও অম্ল-ক্ষারের পরিমাণ সঠিক রাখতে সাহায্য করে। আর কপার রক্তের লোহিত বা লাল রক্তকণিকার উৎপাদন বৃদ্ধি করে। পুষ্টিতে সমৃদ্ধ এই ফলটিকে সবার গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পূর্ণবয়স্ক সবাই প্রতিদিন অন্তত একটি হলেও পেয়ারা খান।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

Friday, June 24, 2011

চোখে সূর্যের আলোর ক্ষতিকর প্রভাব

আমরা প্রতিদিন একটি রৌদ্রোজ্জ্বল সকালের প্রত্যাশায় থাকি। সুন্দর সকাল, সুন্দর দিনের সূচনা এমন কথাও প্রচলিত। দিনের আলোর প্রয়োজনীয়তার কথা লিখে শেষ করা যাবে না। সূর্যের আলো চোখে দেখি কিন্তু যা দেখতে পাই না তা হলো_ আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি, যা ক্ষতিকর। সূর্যের আলোতে বর্তমান আল্ট্র্রাভায়োলেট রশ্মি তরঙ্গ মান অনুযায়ী তিন ধরনের। এর মধ্যে ইউভি-বি (২৯০-৩২০ ন্যানোমি) ও ইউভি-এ (৩২০-৩৯০ ন্যানোমি) পৃথিবীতে সূর্যের আলোর সঙ্গে পেঁৗছায় এবং এর প্রভাব আমাদের ওপর পড়ে। আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি শুধু সরাসরি সূর্যের আলোতেই থাকে না, পুকুর-নদী-সমুদ্রের পানি, বালু, কংক্রিটের দেয়াল, জানালার কাচ ইত্যাদি থেকে প্রতিনিয়ত প্রতিফলিত আলোর মাঝেই আছে আমাদের পরিবেশের সঙ্গে। যত বেশি নগরায়ন এবং গাছপালা কাটা হবে ততই আমরা আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির ক্ষতির শিকার হবো। আমাদের চোখে আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রভাব ও ক্ষতির ধরন অনেক আগেই ভালোভাবে নির্ণীত হয়েছে। আনুমানিক ২০ লাখ যন্ত্রাংশে তৈরি আমাদের চোখের ভিন্ন ভিন্ন কোষকলা ভিন্ন তরঙ্গ মানের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি শোষণ করে এবং তাদের প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন।

আমাদের চোখের কর্নিয়া ইউভি-বি'র থেকে ইউভি-সি (২০০-২৯০ ন্যানেমি)'র প্রতি বেশি সংবেদনশীল, যা ওয়েল্ডিংয়ের আলোর ঝলকানিতে আছে। সূর্যের আলোতে বর্তমান থাকলেও উচ্চাকাশ ভেদ করে পৃথিবীতে পৌঁছায় না। ইউভি-সি (২০০-২৯০ ন্যানোমি) আমরাই তৈরি করি। যার প্রভাবে চোখে কাঁটা কাঁটা ফোটা, পানি পড়া, তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় ৩০ মিনিট থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে। যারা প্রতিনিয়ত এবং বেশি সময় ধরে এর সংস্পর্শে থাকেন তাদের কর্নিয়ার কোষ ধ্বংস হতে দেখা গেছে। অথচ রাস্তা-ফুটপাতের পাশে অহরহই আমরা ওয়েল্ডিংয়ের আলোর ঝলকানি দেখতে পাই। ইউভি রশ্মির তরঙ্গ মান ২৯০ ন্যানোমির বেশি হলে কর্নিয়া কোষের শোষণ নাটকীয়ভাবে কমে যায়। ইউভি-এর বেশিরভাগ এবং ইউভি-বি'র কিছু অংশ চোখের কর্নিয়া ও এক্যুয়াস ভেদ করে চোখের লেন্সে সম্পূর্ণভাবে শোষিত হয়, যা চোখের লেন্স কোষের প্রোটিনের পরিবর্তন করে এবং চোখে ছানি দেখা দেয়। তাই আমাদের দেশে ছানি রোগীর সংখ্যা বেশি। বিশেষ করে যারা মাঠে কাজ করে। বড় তরঙ্গ মানের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি চোখের লেন্স ভেদ করে রেটিনার বিভিন্ন কোষকলাকে নষ্ট করে, বিশেষ করে ম্যাকুলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বর্তমান বিশ্বে সভ্য মানুষের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রভাব থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত থাকা সম্ভব নয়। প্রতিনিয়ত বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত ফ্লুরেসেন্ট বাতি, টিভি-কম্পিউটার মনিটর থেকে নির্গত খুব সীমিত পরিমাণের বড় তরঙ্গ মানের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির কিউমিলেটিভ প্রভাব অস্বীকারের কোনো উপায় নেই। এসব যন্ত্র কম ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

বর্তমান বাজারে হাই ইনডেক্স, ফটোক্রোমিক ও পরিকার্বনেট লেন্স প্রায় ৯৯% আল্টাভায়োলেট রশ্মি প্রতিরোধে সক্ষম এবং আমাদের একমাত্র ভরসা। ভবিষ্যৎ বংশধরদের নির্মল সুস্থ জীবনের জন্য নগরায়ন না করে সবুজায়ন করার প্রতিজ্ঞা করি, যা হবে তাদের আসল ও নিরাপদ সম্পদ।

লেখক : চক্ষুবিশেষজ্ঞ,

কসমেটিক ও অক্যুলার সার্জন। ফোন : ০১৭১১৮১৪৫৬৫

Monday, June 20, 2011

বুকে ব্যথার অন্তর্নিহিত কারণ

বুকে ব্যথা এক ধরনের জটিল সমস্যা। এ সমস্যা এত জটিল যার ফলে কোনো ব্যক্তিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও যাওয়া লাগতে পারে। বিভিন্ন কারণে বুকে ব্যথা হয়ে থাকে। প্রথমে দেখতে হবে বুকে ব্যথা আঘাতজনিত কারণে না আঘাতবিহীন কারণে। যদি আঘাতবিহীন কারণে বুকে ব্যথা হয় তাহলে প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে হৃদরোগজনিত কারণে না অন্য কোনো কারণে বুকে ব্যথা হয়েছে। এ কারণ নির্ধারণের জন্য রোগীর কাছ থেকে রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে এবং এরপর শারীরিক ও ল্যাব পরীক্ষা করে সঠিক রোগ নির্ণয় করলে বেশিরভাগ বুকের ব্যথা ভালো করা সম্ভব।

বুক ব্যথার কারণ : হৃদরোগজনিত, িফুসফুসজনিত কারণ, িমাংসপেশিজনিত , িখাদ্যনালীজনিত কারণ, িমানসিক ও অন্যান্য কারণ।

বুকে ব্যথার প্রকৃতি : চাপ চাপ ব্যথা, মনে হয় বুকের মাঝখানে পাথর বসিয়ে রেখেছে এমন, দম বন্ধ হয়ে আসে এমন বা অনুভূতিহীন যেমন হৃদরোগজনিত কারণ। তীব্র ব্যথা, ছুরি দিয়ে আঘাত করলে যেমন মনে হয়, পোড়ানো ব্যথা, শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ব্যথা_ ফুসফুসজনিত কারণ যেমন নিমোনিয়া, পালমোনারি অ্যামবলিজম, হৃদযন্ত্রের প্রদাহ।

হঠাৎ তীব্র পীড়াদায়ক ব্যথা বুকের সামনে থেকে পেছনে চলে যায় অড়ৎঃরপ উবংবপঃরড়হ (ধমনি ছেঁড়াজনিত কারণ) বুকে ব্যথা পরিশ্রম করলে, দুশ্চিন্তা করলে, ঠাণ্ডা আবহাওয়ার সংস্পর্শে আসলে, দুঃস্বপ্ন দেখলে বাড়ে। কিন্তু বিশ্রাম নিলে জিহ্বার নিচে নাইট্রেটজাতীয় ওষুধ দিলে কমে তাহলে হৃদরোগ হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। খাবার পর, শোবার সময়, গরম খাবার, মদ পান করলে এবং খালি পেটে যদি ব্যথা বাড়ে, অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ খেলে কমে যায়, তাহলে খাদ্যনালীজনিত কারণ।

বুকে ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে হৃদরোগ, পালমোনারি অ্যামবলিজম নিমোনিয়া নিউমোথোরাক্স হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। পরিশ্রম করার কিছুক্ষণ পর থেকে ব্যথা শুরু হয়, বিশ্রাম নিলেও ব্যথা থাকে, ব্যথা নিরাময় জাতীয় ওষুধ (যেমন উরপষড়ভবহ) জাতীয় ওষুধ থেকে ব্যথা কমে তাহলে মাংসপেশিজনিত কারণ বলে সন্দেহ করা হয়।

জরুরি বিভাগে বুকের ব্যথাজনিত কারণে যেসব রোগী আসে তার শতকরা ১০ ভাগের বেশি আসে মানসিক বা দুশ্চিন্তাজনিত কারণে।
অনেক সময় পেটে ব্যথার সঙ্গে বুকে ব্যথা থাকতে পারে। যেমন পিত্তথলিতে পাথর অথবা চধহপৎবধঃরঃরং কারণে হয়। যে কারণেই বুকে ব্যথা হোক না কেন রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা যেমন বুকের এক্সরে, ইসিজি জাতীয় পরীক্ষা করে দ্রুত রোগ নির্ণয় করতে হবে এবং সঠিক চিকিৎসা করালে বেশির ভাগ রোগী ভালো হয়ে যায় এবং অনেক সময় দ্রুত হৃদরোগ নির্ণয় করা যায় এবং সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোনো রোগের কারণ না পাওয়া যায় সেই ক্ষেত্রে রোগীকে সঠিক উপদেশ দিয়েও বুকের ব্যথা ভালো করা সম্ভব।

লেখক : পরিচালক
জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল
মহাখালী, ঢাকা। ফোন : ০১৭১১-১৭১৬৩৪ 

এক্সারসাইজের সঠিক সময়

আপনার এক্সারসাইজের সঠিক সময় কোনটি, তা নির্বাচন করুন আপনার রোজকার রুটিনের কথা মাথায় রেখে। ভোরবেলা বা দুপুর, কিংবা সন্ধ্যায় কোন সময় এক্সারসাইজ করবেন তার ওপর নির্ভর করবে কোন ধরনের এক্সারসাইজ আপনার পক্ষে উপযুক্ত। এক্সারসাইজ টাইম এবং টাইপের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রেখেই তৈরি করুন আপনার সম্পূর্ণ ফিটনেস প্ল্যানিং।

সারাদিনে কোনো এক্সারসাইজ না করার চেয়ে দিনের যে কোনো সময় হালকা এক্সারসাইজ করা শরীরের পক্ষে ভালো।

এক্সারসাইজের সঠিক সময়ের সঙ্গে খাওয়ার সময়ের সঠিক ভারসাম্য না থাকলে এক্সারসাইজের সুফল পাওয়া যাবে না।

এক্সারসাইজ করার পরই শরীরের টেম্পারেচার এবং হরমোনাল ফ্লো বেড়ে যায়। এর ফলে শরীরের উষ্ণতা বাড়ে এবং শান্তভাব চলে যায়। সে জন্য ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে কখনোই এক্সারসাইজ করা উচিত নয়।

এক্সারসাইজ করার সময় শরীরে যথেষ্ট পজিটিভ এনার্জি রাখতে হবে এবং যথেষ্ট মনঃসংযোগ করতে হবে। সে জন্য ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠেই এক্সারসাইজ করবেন না।

প্রতিদিন ২ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় ভারী এক্সারসাইজের প্ল্যান থাকলে এক্সারসাইজ করার জন্য অবশ্যই দিনেরবেলার কোনো সময় বেছে নিন।

ডা. শাওন, মিটফোর্ড হাসপাতাল, ঢাকা 

শিশুর খাদ্য সম্পর্কীয় কুসংস্কার ।। সামিয়া পপি

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত্। শিশুরা দেশের সম্পদ এবং ভবিষ্যত্ নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাদের পুষ্টি সম্পর্কে অনেক মা-ই অজ্ঞ ও উদাসীন। শিশুদের পুষ্টি চাহিদার কথা বিবেচনা না করে নানা রকম কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় খাবার থেকে তাদের বঞ্চিত করে। ফলে এসব শিশু অপুষ্টিতে ভোগে এবং নানারকম রোগে আক্রান্ত হয়। এমনকি ক্রমাগত মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়। যেসব শিশু কোনো রকমে বেঁচে থাকে তারা দুর্বল, অপুষ্ট এবং অপরিণত দেহের অধিকারী হয়ে থাকে। এসব শিশু থেকে পরিবার ও দেশ কিছুই আশা করতে পারে না।
শিশুর বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আমিষের। আর ডালকে বলা হয় গরিবের আমিষ। আমাদের মধ্যে অনেকেই শিশুকে ডাল খেতে দেন না এই ভয়ে যে, এতে তার পেট খারাপ হবে। তাছাড়া অনেকে মনে করেন গুড়, চিনি, মিষ্টি আলু খেলে শিশুর কৃমি হবে, তাই এসব তাদের খেতে দেয়া হয় না। প্রায়ই একই কারণে শিশুকে মাছও খেতে দেয়া হয় না। আসলে এসব খাদ্য খেলে কৃমি হয় না, যদি কোনোভাবে কৃমির ডিম পেটের ভেতর ঢুকে যায় তাহলেই কৃমি হয়। আবার অনেক মায়ের ধারণা, কলা খেলে শিশুর ঠাণ্ডা এবং সর্দি ভাব বাড়ে, পেটে কৃমি হয় । ডিম খাওয়ালে শিশুর পেট খারাপ হয়। অথচ পরিবারে একটা ডিম থাকলে সেটা শুধু শিশুকেই খাওয়াতে হবে এ কারণে যে ডিম শিশুর বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার।
অনেক পরিবার গুড়কে চিনির চেয়ে নিকৃষ্ট মনে করে। অথচ গুড় চিনির থেকে গুণে উত্কৃষ্ট এবং দামেও সস্তা। মুরগির ডিমকে হাঁসের ডিমের চেয়ে উত্কৃষ্ট মনে করা হয়, অথচ গুণের দিক থেকে হাঁস ও মুরগির ডিম একই ধরনের বরং হাঁসের ডিম সাইজে বড় এবং এতে আমিষের পরিমাণও সামান্য বেশি। অনেকে ঘি তেলের তুলনায় ভালো এবং উত্কৃষ্ট মনে করে থাকেন। কিন্তু ঘি খুব দামি এবং বেশি খেলে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অথচ তেল দামেও সস্তা এবং বেশি খেলে কোনো ক্ষতি হয় না। এক্ষেত্রে আমরা আর্থিক কারণে প্রয়োজনীয় পরিমাণ মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি খাবার খাওয়ার সামর্থ্য রাখি না। তার ওপর নানা রকম ভুল ধারণা এবং কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে যেটুকু জোগাড় করতে পারি তাও যদি পরিহার করি তাহলে সুস্থ থাকার জন্য পুষ্টি উপাদান পাব কোথা থেকে। অতএব, আমাদের এসব কুসংস্কার পরিত্যাগ করতে হবে, এমন অনেক খাবার আছে যেগুলো দামে সস্তা হলেও দামি খাবারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। শাক-সবজি দামে সস্তা হলেও পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। তাই শিশু যখন ভাত খেতে শুরু করে তখন থেকে শাক দেয়া যেতে পারে। আমাদের খাবারের পুষ্টি সম্পর্কে জানতে হবে, তবেই আমরা সঠিক সময়ে সঠিক খাবার দিতে পারব এবং শিশুর সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে পারব। 


Friday, June 17, 2011

গরমে বাঁচতে তরমুজ

ফলের জগতে বৃহৎ আকৃতির ফল তরমুজ। মানবজীবনে এর লাভজনক ভূমিকা রয়েছে প্রচুর। অসহ্য গরমে ঘেমে স্নান হয়ে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পর এক ফালি রসাল তরমুজ হলে মন্দ হয় না। আর সেটা যদি ফ্রিজ থেকে বের করা ঠাণ্ডা তরমুজ হয় তাহলে তো কথাই নেই। অবশ্য বাড়িতে যাওয়ার অপেক্ষা না করে অনেকে তো রাস্তায় দাঁড়িয়েই তরমুজ খেয়ে নেন। তরমুজের ওজনের প্রায় শতকরা ৯৩ ভাগই পানি। পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় তরমুজ জলশূন্যতা দূর করে, অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে যে জরুরি খনিজ লবণ বের হয়ে যায়, তা পূরণ করে দেয়। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পটাসিয়াম। পটাসিয়াম উচ্চ রক্তচাপ হতে বাধা দেয়। অন্যদিকে দেহে অম্ল ও ক্ষারের সাম্যবস্থা বজায় থাকে, অতিরিক্ত গরমে শরীরে জ্বালা পোড়ানির সমস্যা দূর করে। ত্বকের প্রতিটি বিন্দুতে জল পেঁৗছে দেয় বলে তরমুজ নিয়মিত খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে, চুলও সুন্দর হয়। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'এ' থাকে এই ফলে। ভিটামিন 'এ' চোখের জন্য যথেষ্ট উপকারী। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েরা নিয়মিত তরমুজ খেলে সন্তানদের রাতকানা, চোখ ওঠা ইত্যাদি রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গরম থেকে ঠাণ্ডা লেগে যাওয়া রোগ যেমন হাঁচি, কাশি, টনসিল দূর করতেও তরমুজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তরমুজের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হৃৎপিণ্ডের রোগগুলো দূর করতে সাহায্য করে, হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিকে করে শক্তিশালী। এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে যা দাঁত, হাড়, চুল গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এতে রয়েছে আয়রন, ফোলেট যা রক্তের হিমোগ্লোবিনকে করে ভীষণ শক্তিশালী। অল্প পরিমাণে চিনি থাকার জন্য ডায়াবেটিস রোগীরাও তরমুজ খেতে পারেন। 

দীপক দেবনাথ, কলকাতা
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

মন ভালো রাখতে

মন ঠিক থাকলে শরীরও ঠিক থাকে। সুস্থ থাকতে হলে মনকে চাপমুক্ত রাখা খুব জরুরি। কী করে মনকে একেবারে চাপমুক্ত রাখবেন_ চলুন তা জেনে নিই।

মনের ভার কম করার জন্য নিজের ইচ্ছার মাত্রাকে বোঝার চেষ্টা করুন। একেবারে নিভৃতে নিজের সঙ্গে একটি দিন কাটিয়ে মনকে বোঝার চেষ্টা করুন।

মানসিক শান্তি লাভ করার জন্য ধ্যান বা মেডিটেশন করুন।

মনের পরিস্থিতিটা বদলানোর জন্য নিজেকে নিয়মের মধ্যে বেঁধে ফেলুন।

রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। রাতে ঘুম ভালো হলে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। মনে ফুর্তি বজায় থাকবে।

মন কখনো নিজের গণ্ডি পেরিয়ে বাইরে যায় না। তার গণ্ডিটা মস্তিষ্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই যে কোনো কিছু বুদ্ধি দিয়ে চিন্তা করুন। তাতেই মানসিক শান্তি পাবেন।

এমন কোনো কিছু যা চিন্তা করলে যদি আপনি মন থেকে কষ্ট পান তাহলে সেই চিন্তাকে মনের সীমানায় আসতে দেবেন না। সব সময় এমন কিছু ভাবার চেষ্টা

করুন যা আপনাকে মানসিকভাবে আনন্দ দেবে।

ডা. শাওন

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

গাব

সাধারণত অন্যান্য ফলের মতো গাব বাগান দেখতে পাওয়া যায় না। দেশি গাব গ্রামাঞ্চলে বনে-জঙ্গলে আপনাআপনি জন্মে। যথেষ্ট ওষুধগুণ সমৃদ্ধ এ ফল। শুকনো গাব ফলের গুঁড়া ১ গ্রাম পরিমাণ সামান্য মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে বাচ্চাদের হিক্কারোগ বন্ধ হয়ে যায়। ঠোঁটের দুই পাশে এবং মুখের ভেতরে ঘা হলে গাব ফলের রস সামান্য পানির সঙ্গে মিশিয়ে কয়েকদিন কুলুকুচা করলে মুখের ঘা সেরে যাবে।

অনেক সময় দেখা যায় ফোঁড়া সেরে গেলেও দাগ থেকে যায়। এ ফলের রস কয়েকদিন লাগালে দাগ ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাবে। 



সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

আমলকী

ফল ও পাতা দু'টিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা হয়। আমলকিতে প্রচুর ভিটামিন 'সি' থাকায় একে ভিটামিন 'সি'র রাজা বলা হয়। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, আমলকিতে পেয়ারা ও কাগজি লেবুর চেয়ে ৩ গুণ ও ১০ গুণ বেশি ভিটামিন 'সি' রয়েছে। আমলকিতে কমলার চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন 'সি' রয়েছে। একজন বয়স্ক লোকের প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন 'সি' দরকার। দিনে দুটো আমলকী খেলে এ পরিমাণ ভিটামিন 'সি' পাওয়া যায়। অতিরিক্ত ভিটামিন 'সি' খেলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না। খাবার খেতে ভালো না লাগলে অরুচি হলে আমলকি খেলে মুখে রুচি বাড়ে। স্কার্ভি বা দন্তরোগ সারাতে টাটকা আমলকী ফলের জুড়ি নেই। এছাড়া পেটের পীড়া, সর্দি, কাশি ও রক্তহীনতার জন্যও খুবই উপকারী। লিভার ও জন্ডিস রোগে উপকারী বলে ছোট্ট এ আমলকী ফলটি বিবেচিত। আমলকি, হরিতকী ও বহেড়াকে একত্রে ত্রিফলা বলা হয়। এ তিনটি শুকনো ফল একত্রে রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালবেলা ছেঁকে খালি পেটে শরবত হিসেবে খেলে পেটের অসুখ ভালো হয়। কাঁচা বা শুকনো আমলকি বেটে একটু মাখন মিশিয়ে মাথায় লাগালে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম আসে। কাঁচা আমলকী বেটে রস প্রতিদিন চুলে লাগিয়ে দুতিন ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এভাবে একমাস মাখলে চুলের গোড়া শক্ত, চুল উঠা এবং তাড়াতাড়ি চুল পাকা বন্ধ হবে। 
 

ব্রেইনের জন্য ১০টি খারাপ অভ্যাস

প্রতিনিয়ত অভ্যাসবশত আমরা কিছু কাজ করে থাকি যা আমাদের ব্রেইনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই ব্রেইনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সতর্ক হওয়ার জন্য জেনে নেয়া যাক সেই অভ্যাসগুলো।
১. সকালে নাশতা না করা : আমরা অনেকেই ব্যস্ততার কারণে সকালের নাশতা না করেই বাসা থেকে বের হয়ে যাই। কিন্তু এই অভ্যাসটা খুব খারাপ। কারণ সকালে নাশতা না করলে নিম্ন রক্ত শর্করার কারণে আমাদের ব্রেইনে পর্যাপ্ত শর্করা তথা পুষ্টি পায় না। এতে করে ধীরে ধীরে ব্রেইন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ব্যস্ততা সত্ত্বেও সকালের নাশতা করতে ভুলে যাবেন না।

২. অতিরিক্ত ডায়েট গ্রহণ : অনেক সময় আমরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডায়েট গ্রহণ করি। ধারণা করা হয়, মাঝে মাঝে এরকম অতিরিক্ত ডায়েটে কী আর হবে! কিন্তু ধারণাটা ভুল। কারণ অতিরিক্ত ডায়েট গ্রহণের অভ্যাস আমাদের ব্রেইনের রক্তনালীর ইলাস্টিসিটি নষ্ট করে দেয়, ফলে অনেক ধরনের মানসিক সমস্যার উৎপত্তি হয়। তাই সর্বদা সচেতন হোন এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডায়েট গ্রহণে বিরত থাকুন।
৩. ধূমপান : ধূমপান নানা রোগের অন্যতম কারণ। ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব বলে শেষ করে যাবে না। তাই যারা ধূমপান করেন তাদের জন্য সতর্কবার্তা ধূমপানে কেবল ফুসফুস ক্যান্সার নয় বরং এতে করে ব্রেইন সঙ্কুচিত হয়ে যায় ফলে আলঝেইমার নামক স্মৃতিবিলোপকারী রোগের উদ্ভব হয়।
৪. অতিরিক্ত মিষ্টি গ্রহণ : অনেকের ধারণা মিষ্টি বেশি খেলে ব্রেইন ভালো হয়। কিন্তু আসলে অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে সেটা আমিষ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের পরিপাক ও শোষণে বাধা সৃষ্টি করে যা ব্রেইনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং ব্রেইনের বিকাশ সাধনের অন্তরায়।
৫. বায়ু দূষণ : বায়ু দূষণের জন্য আমাদের ব্রেইনের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। কারণ বায়ু দূষণের ফলে অক্সিজেন সমৃদ্ধ বাতাস আমাদের  ব্রেইনে যেতে পারে না। ফলে ব্রেইন ধীরে ধীরে পুষ্টির অভাবজনিত কারণে স্বাভাবিক কার্যকরী ক্ষমতা হারাতে থাকে। তাই বায়ু দূষণযুক্ত পরিবেশ থেকে দূরে থাকুন এবং বায়ু দূষণ রোধে নিজে ও অন্যকে সচেতন করুন।
৬. নিদ্রাহীনতা : ঘুম আমাদের ব্রেইনের বিশ্রামের জন্য জরুরি। তাই পর্যাপ্ত ঘুম ব্রেইন কোষের স্বাভাবিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যারা দীর্ঘদিন যাবত নিদ্রাহীনতায় ভুগছেন কিংবা কাজের ব্যস্ততার জন্য ঘুমানোর সময় পাচ্ছেন না তাদের জন্য বলছি, নিদ্রাহীনতা আমাদের ব্রেইনের কোষের মৃত্যুর জন্য দায়ী। সুতরাং পর্যাপ্ত ঘুমকে কেবল সময় নষ্ট হিসেবে নয় বরং ব্রেইনের বিশ্রামের জন্য দরকারি হিসেবে নিন।
৭. ঘুমানোর সময় মাথা আবৃত করা : ঘুমাতে যাওয়ার আগে মাথা খোলা রেখে ঘুমানো ব্রেইনের জন্য উপকারী। কারণ মাথা আবৃত করে ঘুমালে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ঘনীভূত হয় এবং অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। এতে ব্রেইনের ক্ষতিসাধন হয়।
৮. অসুস্থতার সময় অতিরিক্ত কাজ : যখন আমরা অসুস্থ হই তখন আমাদের উচিত কোনো পরিশ্রমী কাজ অথবা পড়াশোনা থেকে বিরত থেকে আমাদের ব্রেইনকে বিশ্রাম দেয়া। তা না হলে অসুস্থতার সময় অতিরিক্ত চাপ আমাদের ব্রেইনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে ব্রেইনের দীর্ঘমেয়াদি মারাত্মক ক্ষতিসাধন হয়।
৯. চিন্তা না করা : বেশি বেশি চিন্তা করুন, ব্রেইন কোষের উদ্দীপনার জন্য চিন্তা-ভাবনা করা অত্যন্ত জরুরি। যত বেশি সৃষ্টিশীল চিন্তায় মনোযোগ দিতে পারবেন, তত বেশি আপনার ব্রেইন কোষ উদ্দীপিত হবে। আপনি আরও বেশি দক্ষ ও মনোযোগী হতে পারবেন যে কোনো কাজে। আর চিন্তাহীন ব্রেইন ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হয়ে ব্রেইনের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
১০. কথা না বলা : অনেকেই চুপচাপ থাকতে পছন্দ করেন। কিন্তু অতিরিক্ত চুপচাপ ব্রেইনের জন্য ক্ষতিকর। কারণ আপনি যত বেশি বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন সেটা আপনার ব্রেইনের স্বাভাবিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাই চুপচাপ নয় বরং কার্যক্ষেত্রে বেশি বেশি আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্রেইনকে সতেজ রাখুন।
সূত্র : আমার দেশ

বাত সম্পর্কিত ১০টি তথ্য

আর্থাইটিস বা বাতরোগ বলতে কোনো একটি নির্দিষ্ট রোগকে বোঝানো হয় না। প্রকৃতপক্ষে ১০০টিরও বেশি ধরনের আর্থাইটিস আছে, তাই সঠিক চিকিৎসার জন্য রোগটি সঠিকভাবে নির্ণয় করা প্রয়োজন। সঠিকভাবে নির্ণয় না করা গেলে বাত রোগের জন্য চড়া মূল্য দিতে হয়।
প্রত্যেকটি বাতরোগীর জন্য একই চিকিৎসা বা একই ওষুধের ব্যবহার করা হয় না। ব্যথা নিরূপণ ও বাত নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসা পদ্ধতি বিভিন্ন রকমের।

বাত শুধু বয়স্কদের হয়ে থাকে এরকম ভুল ধারণা আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, যা একেবারেই সত্য নয়।

বাতরোগ বিশেষজ্ঞ বা রিউমাটলজিস্ট এসব রোগ বিষয়ে স্পেশালিস্ট। তাই সঠিক রোগ নির্ণয় ও প্রকৃত চিকিৎসার জন্য রিউমাটলজিস্টের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

বিভিন্ন ধরনের বাতরোগের চিকিৎসা যেহেতু ভিন্ন ভিন্ন, তাই যত দ্রুত সম্ভব রোগটি নির্ণয় করে চিকিৎসা করা উচিত। তাহলে অঙ্গবিকৃতি ও অক্ষমতা রোধ করা সম্ভব।
বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে কোনটি রোগীর জন্য নিরাপদ তা দ্রুত সম্ভব ঠিক করতে হবে। অনথ্যায় মানসিকভাবেও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগতে হয়।
নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন ঠিক রাখা, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান ত্যাগ প্রভৃতি বাতরোগ প্রতিরোধ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
বাতের কারণে শারীরিক অক্ষমতার পাশাপাশি অবিরাম ব্যথা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতে পারে।

ব্যথা নিবারণের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করা 

 কোনোভাবেই ঠিক নয়।

দীর্ঘস্থায়ী বাত দৈনন্দিন জীবনের কর্মকাণ্ডে বিরূপ প্রভাব ফেলার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিসাধন করে। তাই যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিতে হবে।


মো. আরিফুর রহমান ফাহিম

সিনিয়র লেকচারার, ফার্মেসি বিভাগ
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি 


সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

দাঁতের যত্নে টুথব্রাশ ও টুথপেস্ট

দাঁতকে সুস্থ রাখতে, দাঁতের যত্নে টুথব্রাশ ও টুথপেস্টের গুরুত্ব অপরিসীম। অনেকেই দাঁত পরিষ্কার করার জন্য সঠিক টুথব্রাশ ব্যবহার করে না কিংবা টুথপেস্টের পরিবর্তে কয়লা-ছাই প্রভৃতি ব্যবহার করে, যা দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করার জন্য সঠিক টুথব্রাশ ব্যবহার করা উচিত। টুথব্রাশ কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে টুথব্রাশের ব্রিসল (যে অংশ দিয়ে আমরা দাঁত পরিষ্কার করি) যেন খুব বেশি শক্ত বা খুব বেশি নরম না হয়। টুথ ব্রাশের ব্রিসল এবড়ো-খেবড়ো হয়ে গেলে সেই ব্রাশ আর ব্যবহার না করাই ভালো। আর ব্রিসল যদি ঠিকও থাকে তারপরও প্রতি তিন থেকে চার মাস অন্তর টুথব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত। সকালে নাশতার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে টুথব্রাশ ও মানসম্মত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা উচিত। আপনার টুথপেস্ট যদি মানসম্মত হয়, এতে যদি প্রয়োজনীয় সব উপাদান থাকে তবে টুথপেস্ট বারবার পরিবর্তন না করলেও চলে। অনেকেই একই রং, গন্ধ বা এক কোম্পানির পেস্ট ব্যবহার করে এক ঘেয়েমিতে ভুগে থাকেন। সেক্ষেত্রে আপনি চাইলে অন্য বর্ণ, গন্ধের গুণগত মানসম্পন্ন পেস্ট ব্যবহার করে পরিবর্তন আনতে পারেন। কিছু টুথপেস্ট আছে যা দাঁতের কিছু রোগেন ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা একটানা দীর্ঘদিন না ব্যবহার করাই ভালো।

ডাঃ মোঃ খোরশেদ আলম

ডেন্টাল স্পেশালিস্ট,

ফোন : ০১৭৩২১৯৫০১১ 


সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ব্যায়াম কেন করবেন ।। ডা. এ আর এম সাইফুদ্দীন একরাম

নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করলে নানারকম দীর্ঘমেয়াদি রোগব্যাধি থেকে মুক্ত থাকা যায়, ওজন কমানো যায়, ভালো ঘুম হয় কিংবা মানসিক প্রশান্তি আসে। যে কোনো বয়সী মানুষের জন্য; পুরুষ-নারী নির্বিশেষে সবার জন্য ব্যয়াম প্রযোজ্য। ব্যায়ামের আরও নানাবিধ উপকার রয়েছে। সে সম্পর্কে আজকের আলোচনা-

ব্যায়াম মনকে চাঙ্গা করে
শরীরচর্চা করলে মস্তিষ্ক থেকে নানারকম রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এসব রাসায়নিক উপাদান চিত্ত প্রফুল্ল করে এবং শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির পাশাপাশি চেহারায় লাবণ্য ও ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়। ফলে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা বোধ অনেক বেড়ে যায়। নিয়মিত শরীরচর্চাকারীকে বিষণ্নতা কিংবা হতাশা খুব সহজে গ্রাস করতে পারে না।

ক্রনিক রোগ প্রতিরোধ করে
বর্তমানে দৈনন্দিন জীবনে হাঁটাহাঁটির প্রয়োজন হয় না বললেই চলে, আর আমাদের খাদ্যাভ্যাসও বদলে গেছে। ফলে দিন দিন ক্রনিক রোগব্যাধি যেমন_ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অরুচি, ক্যান্সার ইত্যাদির প্রকোপ বহুগুণে বেড়েছে। প্রতিদিন হাঁটলে, দৌড়ালে কিংবা শরীরচর্চা করলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না; কোলেস্টেরলের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে। নিয়মিত শারীরিক কসরৎ রক্তে 'ভালো' কোলেস্টেরলের (High density lipoprotein -HDL) পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় আর 'মন্দ' কোলেস্টেরলের (Low density lipoprotein-LDL) মাত্রা কমিয়ে দেয়। এর ফলে রক্তনালীতে চর্বির পুরু আস্তর জমতে পারে না, ফলে হৃদরোগ হওয়ার ভয় কমে যায়।

শরীরের ওজন কমে
যাদের ওজন বাড়তি, তাদের ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। বাড়তি ওজন মানেই হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিংবা ক্যান্সারের ঝুঁকি। শারীরিক পরিশ্রম করলে ক্যালরি খরচ হয়। যত বেশি ক্যালরি খরচ করা যাবে, শরীরের ওজন তত নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এর জন্য যে প্রতিদিন প্রচুর সময় দিতে হবে তা কিন্তু নয়। লিফট দিয়ে না উঠে আমরা সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারি, টিভি দেখার পরিবর্তে আধঘণ্টা হাঁটতে পারি, অফিস যাওয়ার সময় হেঁটে যেতে কিংবা হেঁটে বাসায় ফিরতে পারি, এভাবে আমরা যতই শারীরিক পরিশ্রম করব ততই আমাদের ক্যালরি খরচ বাড়বে এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

কর্মস্পৃহা বাড়ায়
ব্যায়াম এবং শরীরচর্চার ফলে আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে অতিরিক্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ হয়। আমাদের হৃদযন্ত্র এবং রক্তনালী সচল থাকে। এর ফলে পুরো শরীরে একটি প্রাণস্পন্দন ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। এটি আমাদের কর্মস্পৃহা বাড়ায়, কাজ-কর্মে ও লেখাপড়ায় মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

সুনিদ্রা আনে
যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য ব্যায়াম অত্যন্ত উপকারী। ব্যায়াম অনিদ্রা দূর করে, অতি নিদ্রা হ্রাস করে। নিয়মিত যিনি শরীরচর্চা করেন তার ঘুম আসার কোনো সমস্যা হয় না এবং গভীর ঘুম হয়। অবশ্য একেবারে ঘুমানোর আগে ব্যায়াম করা উচিত নয়। কারণ ব্যায়ামের পরে মানসিক চাঙ্গা ভাবের কারণে ঘুম আসা বিলম্বিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রত্যুষে ব্যায়াম করা উপকারী।

নিয়মিত ব্যায়াম একটি মজাদার অভিজ্ঞতা

অবসর সময় কিভাবে কাটানো যায়, এ নিয়ে যাদের সমস্যা, ব্যায়াম তাদের জন্য অতি উৎকৃষ্ট সমাধান। হাতে করার কিছু না থাকলে আধঘণ্টা দৌড়ানো কিংবা হাঁটার চেয়ে মজাদার কোনো কাজ হতে পারে না। যারা নাচতে জানেন, তারা আধঘণ্টা নাচের অনুশীলন করতে পারেন। সাঁতার কাটা, বাইসাইকেল চালানো কিংবা মাঠে গিয়ে ফুটবল খেলা, যাই হোক না কেন শরীরচর্চা মানেই নির্ভেজাল আনন্দ আর শরীরের জন্য নানাবিধ উপকার ষোল আনা।

অতএব আধুনিক যান্ত্রিক জীবনে শরীরের যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক রাখতে, রোগ-ব্যাধির তাড়না থেকে দূরে থাকতে, মনকে উদ্দীপিত ও চাঙ্গা করতে ব্যায়াম এবং শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই। যে কোনো বয়সের নারী-পুরুষের সুস্থতার জন্য ব্যায়াম বা শরীর চর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জীবনকে ত্বরান্বিত করতে পারে সুস্থতার দিকে।

লেখক : অধ্যাপক ও

বিভাগীয় প্রধান, মেডিসিন বিভাগ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী।

Tuesday, June 14, 2011

গরমে সুস্থ থাকুন ।। গোলাম সরোয়ার

প্রতিনিয়তই বাড়ছে গড় তাপমাত্রা। গরমকাল এলেই অসহনীয় গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। বেড়ে যায় রোগব্যাধি। তাই গরমে নিজেকে সুস্থ রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলুন।
গরমে আমাদের শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বের হয়ে যায়, যা কিছুটা দৃশ্যমান এবং কিছুটা অদৃশ্য। তাই প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খান। তবে বাইরের রোদ থেকে এসেই ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি পান করবেন না। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন। তারপর পান করুন। লেবুর শরবত, ডাবের পানি ইত্যাদি পান করুন। ঘাম বেশি হলে প্রয়োজনে খাওয়ার স্যালাইন খেতে পারেন। তাতে শরীরে পানির পাশাপাশি লবণের ঘাটতিটাও পূরণ হবে।
নিয়মিত গোসল করুন। প্রয়োজনে দিনে একাধিকবার গোসল করতে পারেন। এতে শরীর ও মন চাঙা হবে।
বাইরে বেরোনোর আগে সুতির হালকা রঙের পোশাক পরাই ভালো। এতে কাপড়ের মধ্য দিয়ে বাতাস চলাচলের কারণে এবং হালকা রঙ কম তাপ শোষণ করায় কিছুটা আরাম পেতে পারেন। নিয়মিত অন্তর্বাস পরিষ্কার করবেন। এতে চর্মরোগ কম হবে।
রোদে বেরোনোর সময় ছাতা ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে ভালো কোনো সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করতে পারেন। এতে চামড়া রোদেপোড়া থেকে রক্ষা পেতে পারে।
যারা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে কাজ করেন, তারা কক্ষ থেকে বের হয়ে সরাসরি বাইরে বা রোদে যাবেন না; বরং কিছুক্ষণ সাধারণ তাপমাত্রার কক্ষে বসুন। তারপর বাইরে বের হোন। বাইরে থেকে আসার সময়ও একই প্রক্রিয়ায় চলুন। গরমে রাস্তার ধারের শরবত কিংবা ফলের রস খাওয়ার আগে দেখে নিন, তাতে যে পানি ব্যবহার করা হয়েছে, তা বিশুদ্ধ কিনা। না হলে ডায়রিয়া, জন্ডিস, টাইফয়েড ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এসব পানীয় পারতপক্ষে এড়িয়ে চলাই ভালো।

সূত্র : আমার দেশ

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ