প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label ভ্রমণ. Show all posts
Showing posts with label ভ্রমণ. Show all posts

Friday, February 3, 2012

সেন্টমার্টিনের পথে...

বার-বার পিছিয়ে যাচ্ছিলো ভ্রমণের তারিখ। সেন্টমার্টিন বেড়াতে যাওয়ার আয়োজন ঠিক করে বান্দরবান এমনকি ভারতের সিমলা-মানালীও বেড়িয়ে এসে পরেছে গ্রুপের কেউ কেউ, কিন্তু সেন্টমার্টিন আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি। শেষ পর্যন্ত এই জানুয়ারির ২৬ তারিখ রাতের শ্যামলী পরিবহনের ঢাকা-টেকনাফের টিকেট কাটা হওয়ার পরেই নিশ্চিত হওয়া গেলো এবার যাচ্ছি সেন্টমার্টিন। ১৪ জনের বিশাল বাহিনী। দস্যু পরিবারের ২ জন, দস্যু-বন্ধু ইস্রাফীলরা ২ জন, দস্যু-বন্ধু সাইফুলরা ২ জন, সাইফুলের শ্বশুর পরিবারের ৪ জন, মামার পরিবারের ৩ জন। (ছবিতে মরুভূমির জলদস্যু অনুপস্থিত) রাত সাড়ে নটার গাড়ি, ঢাকার জ্যামের কথা মাথায় রেখে একটু তাড়াতাড়িই বেড়িয়ে পরেছিলাম সায়দাবাদের শ্যামলী বাস-কাউন্টারের উদ্দেশ্যে। (ঢাকার জ্যাম) সময় মতই ছাড়ে গাড়ি, রাতের যাত্রাবিরতী করে কুমিল্লার ১৪গ্রামের নুরজাহান হোটেলে। সকলে ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা আর চা পান শেষে আবার শুরু হয় যাত্রা। (বাসে দস্যু পরিবারের দুজন) এরপর আরো একবার যাত্রাবিরতী হয় চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামের পরে টেকনাফের পথে অবশ্য এক যায়গায় বিডিআর ভাইয়েরা বাস থামিয়ে বাসের সকল যাত্রীর ব্যাগ চেক করেছেন। আমাদের মামার ব্যাগ থেকে এক ক্যান বিয়ার পাওয়া গিয়েছিল, বিডিআর ভাইয়েরা কিছু না বলে শুধু ক্যানটাই রেখে দিয়েছেন। সকাল ৯টার দিকে পৌঁছে যাই টেকনাফের কুতুবদিয়ার যেটিতে। (গ্রুপের ব্যাগ-ব্যাগেজ) আমাদের জাহাজ কুতুবদিয়া ছাড়বে সকাল সাড়ে নটায়, হাতে অনেকটা সময় আছে তাই সকলে ফ্রেম হয়ে নিয়ে পাশের টং রেস্টুরেন্টে সকালের নাস্তা সেরে নেয়। (শীত আর জ্বরে কাবু কন্যকে কোলে মরুভূমির জলদস্যু) জাহাজে আমাদের টিকেট ছিলো উপরের ওপেন ডেকের। ব্যাগ-ব্যাগেজ নিয়ে সবাই চড়ে বসি কুতুবদিয়ায়, সময় মতই ছেড়ে দেয় জাহাজ, পৌছবে আড়াই ঘণ্টা পরে সেন্টমার্টিনে। এই আড়াই ঘণ্টার যাত্রায় দেখা দৃশ্যাবলী এবার আপনারও দেখুন আমার ক্যামেরার চোখে। (এমনই একটি জাহাজ কুতুবদিয়া) (কুতুবদিয়ার যেটি) (শুরু হল নাফ নদীতে ছুটে চলা) (দস্যু পরিবারের দুজন) (নাফ নদীর পূর্বপার) (সাইফুল ও মরুভূমির জলদস্যু) (নাফ নদী থেকে দেখা টেকনাফের পাহাড় সারি) (বাঁশ ব্যবসায়ীরা এভাবেই নদী পথে বাঁশ নিয়ে যায়) (দস্যু পরিবারের দুজন) (একা গাংচিল) (দস্যু কন্যা) (নৌকো ও গাংচিল) (জাল পেতে এভাবেই খালি নৌকো ফেলে রেখে চলে যায় জেলেরা) (জাহাজের শেষ কোনায় এই দুজন চুপচাপ বসে ছিলেন, ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারলাম না। সরি বলছি ওনাদের কাছে, কারণ ছবি তোলার অনুমতি নেয়া হয়নি।) (দস্যু কন্যা) (কি বিচিত্র লীলা, সাগর আর নদীর পানির ভিন্ন দুই রং) (সাগরের নীল-জলে সাদা ফেনার খেলা) (সাগর আর নাফ নদীর মোহনায় জেলে নৌকা) (বয়া) (দূরে টেকনাফের শেষ সীমানার সাদা তটরেখা) আগামি পর্বে থাকবে সেন্টমার্টিনে তোলা কিছু ছবি আর ভ্রমণ কথা, ততো দিন সকলে ভালো থাকবেন। যাত্রাতথ্য : ঢাকা থেকে টেকনাফ শ্যামলী বাস ভাড়া জনপ্রতি ৮০০/= টাকা। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন কুতুবদিয়ার জাহাজ ভাড়া ওপেন ডেক জনপ্রতি ৭০০/= টাকা। (আপ-ডাউন) এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের ঝিঁঝি পোকার বাগানে নিমন্ত্রণ।

Saturday, October 15, 2011

পাথরের জাদুঘর || সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ

নৌকা দুটির বয়স হাজার বছরের উপরে বলে অনুমান করা হয়।
সংগৃহীত নৌকা দুটির সঙ্গে জাতীয় জাদুঘরে রক্ষিত ৫০টি নৌকার কোনো মিল নেই। কেবল ছাতক-সুনামগঞ্জে প্রচলিত জৈন্তাপুরী নৌকার সঙ্গে এর কিছু সামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়

রকস মিউজিয়াম। পাহাড় বা পর্বত নয়_ পাথর এবং তার সূত্র ধরে আমাদের সভ্যতার আদিতে পেঁৗছতে হলে আপনাকে আসতে হবে এ জাদুঘরে। পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের বিশালায়তন উঠানে গড়ে তোলা হয়েছে এ মিউজিয়াম। সারি করে রাখা হয়েছে নানা আকার, প্রকৃতি ও রঙের অনেক পাথর। যার নামকরণ করা হয়েছে 'রকস মিউজিয়াম'। সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ও পরিকল্পনায় এ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. নাজমুল হক মিউজিয়ামটি গড়ে তুলেছেন। নিজের চেষ্টা আর অর্থে তিনি ১৯৯৭ সালের ১ মার্চ এ মিউজিয়ামটি গড়ে তোলেন। পরে জাতীয় জাদুঘরের পরিচালক শামসুজ্জামান খান ও আমেরিকার ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হেনরি গাসি এ মিউজিয়ামের 'ফোকলোর ও জাতিতত্ত্ব' বিভাগ উদ্বোধন করেন। যার মেধা, মনন ও একাগ্রতায় এটি গড়ে উঠেছে তিনি শিক্ষাবিদ ড. নাজমুল হক। সাহিত্যের লোক হয়েও প্রত্নতাত্তি্বক এবং ভূ ও খনিজ পদার্থের গবেষক হতে যার আগ্রহ একটুও বাধা হয়ে ওঠেনি। এখন উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে এ জাদুঘর।
যেভাবে শুরু
পঞ্চগড় শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে লাঠুয়াপাড়া গ্রামে মহিলা কলেজের কর্মচারী তবিবর রহমানের জমিতে পড়ে থাকা দুটি বিশালায়তনের বেলে ও গ্রানাইট পাথর সংগ্রহের মাধ্যমে নাজমুল হক শুরু করেন এ জাদুঘরের কাজ। মাত্র দুই বছরের মধ্যে তিনি গড়ে তোলেন দুর্লভ সংগ্রহের একটি জাদুঘর। অধ্যক্ষ হিসেবে কলেজ পরিচালনার দায়িত্ব পালনের ফাঁকে ফাঁকে তিনি কোনো সহকর্মীর মোটরসাইকেলে চড়ে চলে যেতেন প্রত্যন্ত অঞ্চলে। যার নিয়ন্ত্রণে পাথর থাকে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কখনও পাথরের বিনিময়ে কাঠ দিয়ে, কখনও পাথরের পাশে দাতার নাম লেখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, কখনও স্বল্পমূল্য প্রদান করে তুলে নিয়ে আসেন পাথর। পরে তা গরু-মহিষের গাড়ি অথবা রিকশা-ভ্যানে করে নিয়ে আসতেন কলেজ ক্যাম্পাসে। সহকর্মীরা প্রথমে পাগলামি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন; কিন্তু যেদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের কয়েকজন প্রবীণ শিক্ষক এটি দেখতে এসে প্রশংসা করলেন, সেদিনই শুরু হয়েছে মিউজিয়ামের সুদিন। সহকর্মীরাও বাড়িয়েছেন সহযোগিতার হাত। বিশেষত, আমিরুল ইসলাম, তৌহিদুল বারী, নূর ইসলামসহ চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা।
মিউজিয়ামে যা আছে
প্রস্তর সংগ্রহে সমৃদ্ধ এ ধরনের জাদুঘর বাংলাদেশে প্রথম তো বটেই, এমনকি উপমহাদেশে দ্বিতীয়টি আছে বলে আমাদের জানা নেই। এই জাদুঘরে সংগৃহীত শিলা বা পাথরের মধ্যে শুধু কোটি বছরের ভূতাত্তি্বক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বিশালায়তন প্রস্তর খণ্ডই নয় বরং হাজার হাজার বছর পুরনো ঐতিহাসিক নৃতাত্তি্বক ও প্রত্নতাত্তি্বক প্রস্তর সংগ্রহও রয়েছে বিপুল পরিমাণে। এছাড়া রয়েছে এ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েক হাজার বছর বয়সী বিভিন্ন নিদর্শন ও জাতিতাত্তি্বক উপকরণ। মিউজিয়ামটি দুই ভাগে বিভক্ত। কলেজ ক্যাম্পাসের বহিরাঙ্গন এবং কলেজের একটি কক্ষে মিউজিয়ামটি গড়ে তোলা হয়েছে। দুটি অংশে থরে থরে সাজানো রয়েছে নানা আকৃতির বেলেপাথর, কাদাপাথর, গ্রানাইট, ব্যাসল্ট, সিস্ট, কার্বন, কোয়ার্জাইট, সিলিকন, প্যাট্রিফাইডসহ বিচিত্র নামের পাথর। এগুলোর কোনোটির ওজন এক টন থেকে দুই টন পর্যন্ত। প্রতিটি পাথরের আলাদা আলাদা বিশেষত্ব আছে। যেমন_ ক্লে রকস বা কাদা থেকে রূপান্তরিত পাথরের যে নিদর্শন সংগৃহীত হয়েছে। তার বয়স কম করে হলেও ২০ লাখ বছর। বৃক্ষ জমাট বেঁধে রূপান্তরিত পাথরের [প্যাট্রিফাইড] বয়স ২৫ লাখ বছরের কম নয়। ক্লে রকস দুই টন ওজনের আর প্যাট্রিফাইড পাথর অন্তত ১০ মণ ওজন সম্পন্ন। গ্রানাইট পাথরের বড় বড় চাঁই বা ছোট পাহাড় সাধারণত ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় কোনো কোনো পাহাড়ে, সুইজারল্যান্ড এবং কানাডায় দেখা যায়। কিন্তু পঞ্চগড়ের মতো একটি সমতলীয় স্থানে এ ধরনের বিশাল পাথর বেশ বিস্মকরও। বিভিন্ন আকারের বেলে ও কোয়ার্জাইট পাথর মিউজিয়ামের একটি বড় সংগ্রহ। কোয়ার্জাইট হচ্ছে পৃথিবী সৃষ্টির আদিকালের শিলা। এর বয়স কোটি কোটি বছর। এ ধরনের পাথরও সংগৃহীত আছে এ মিউজিয়ামে। আরও আছে কোয়ার্জাইট পাথরের স্মৃতিস্তম্ভ যা মেজোলিথিক যুগের [৩৫০০-৪৫০০] আদিবাসীদের তৈরি। এ ছাড়াও এখানে আছে প্রত্নতাত্তি্বক মূল্যসম্পন্ন অনেকগুলো প্রস্তর। অনেকগুলোতে খোদাই করা আছে নকশা, বর্ণ, লিপি, তীর, ধনুক, চোখ ও জ্যামিতিক নকশা। লিপিগুলো দুর্বোধ্য। কোনোটি চাইনিজ, কোনোটি ব্রাক্ষ্মী, খরোষ্ঠি অথবা অশোক লিপি। সংগ্রহের মধ্যে আছে চার থেকে পাঁচ হাজার বছরের পুরনো নব্যপ্রস্তর যুগের ডলোরাইট পাথরের হস্তকুঠার। রয়েছে ব্যাসল্ট, সিস্ট ও লাইম স্টোন।
পাথরে জিন আছে
মানুষ কত সৃষ্টিশীল হতে পারে, কতভাবে আমাদের চারপাশকে আলোকিত করতে পারে, আক্ষরিক অর্থেই মৃত্তিকা ভেদ করে আহরণ করতে পারে অফুরন্ত সম্পদ_ তার খবর আমরা ক'জনইবা রাখি। এ রকমই একজন সৃষ্টিশীল মানুষ ড. নাজমুল হক। পাথর সংগ্রহ করতে গিয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে পঞ্চগড় জেলার ইতিহাস লেখক ড. নাজমুল হক জানান, কোনো পাথর আনতে গেলে গ্রামের লোকজন জানায়, ওতে জিন আছে। কোনো কোনো পাথরে তখনও পূজা দেওয়া হচ্ছে। কোনো পাথর ৩০-৪০ জন লোকও নাড়াতে পারেনি। কোনো পাথরে রাতের বেলা আলোক রশ্মি দেখা গেছে। পাথর আনার পর রাতেরবেলা স্বপ্ন দেখিয়েছে মালিককে। কেউ হয়েছে অসুস্থ। এক টন, দুই টন ওজনের পাথর গাড়িতে তোলার পর বারবার গড়িয়ে পড়েছে। ভেঙে গেছে গাড়ি, ভ্যান। এতকিছুর পরও দমেননি তিনি। দুই টন ওজনের 'ক্লে রকস'টি দশ ফুট মাটি খুঁড়ে কপিকল দিয়ে টেনে তোলা হয়েছে। ওই পাথরটি ছিল শোয়া অবস্থায়। তার ওপর ছিল আর একটি পাথর, এক টন ওজনের। তিনি জানান, কয়েকটি পাথর কোনো ক্রমেই দিতে চাইছিল না মালিকরা। দু'তিন বার বুঝিয়েও রাজি করা যায়নি। কাজে লাগেনি অধ্যক্ষ পরিচয়। অবশেষে পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় সেগুলো সংগ্রহ সম্ভব হয়। মিউজিয়ামের নিদর্শনগুলো সমাজবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান, প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস, ভূগোলের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া বাংলাদেশের খনিজসম্পদ অথবা ভূতত্ত্ব সম্পৃক্ত যে কোনো গবেষণার জন্য অনন্য। নৃতত্ত্ব ও প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক যে কোনো বড় ধরনের গবেষণার উপকরণ রয়েছে এখানে। এ বিষয়ে ভারতের পুনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষকও এখানে গবেষণা করে গেছেন।
প্রাচীন দুই নৌকা
এ জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ দুটি সুদীর্ঘ নৌকা। নির্মাণ কৌশল ও বয়স এগুলোকে করেছে আকর্ষণীয়। পুরো গাছ খোদাই করে, কোনো জোড়া ছাড়াই তৈরি এ নৌকাগুলো। পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীর নিচ থেকে কাঠ সংগ্রহকারী একদল শ্রমিক নদীর তলদেশ খনন করে ৩৩ ফুট দৈর্ঘ্য, ২ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থ, ১ ফুট ৯ ইঞ্চি গভীর এবং ৬ ফুট ৩ ইঞ্চির এই নৌকাটির সন্ধান পায়। অতিপ্রাচীন নৌকাটি যার দুই প্রান্ত মোটামুটি তীক্ষষ্ট এবং মূল অংশটি সামান্য গোলাকৃতি। অপর ২৫ ফুট দৈর্ঘ্য নৌকাটি পঞ্চগড় সদর থানার অমরখানা গ্রামে চাওয়াই নদীর ৮ ফুট মাটির নিচে পাওয়া যায়। ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী অনুমান করে দেখা যায়, প্রাপ্ত নৌকা দুটি ডিঙি জাতীয় এবং এর ব্যবহারকারীরা ছিল আদিবাসী কোনো জনগোষ্ঠী। সম্ভবত এরা উত্তরের পাহাড়ি এলাকা থেকে এসেছিলেন। নৌকা দুটির বয়স হাজার বছরের উপরে বলে অনুমান করা হয়।
নাজমুল হক জানান, সংগৃহীত নৌকা দুটির সঙ্গে জাতীয় জাদুঘরে রক্ষিত ৫০টি নৌকার কোনো মিল নেই। কেবল ছাতক-সুনামগঞ্জে প্রচলিত জৈন্তাপুরী নৌকার সঙ্গে এর কিছু সামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়। এসব নৌকা প্রাচীনকালে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের আদিবাসীরা ব্যবহার করত। আফ্রিকার টোগো এবং মাইল দেশের আদিবাসীদের মধ্যে এ গাছের লম্বা অংশ অথবা গুঁড়ি কেটে নৌকায় রূপান্তরিত করে চলাচলের রীতি এখনও প্রচলিত রয়েছে। জাম্বিয়া এবং জায়ারে প্রবাহিত কঙ্গো নদীতে চলাচলকারী আদিবাসীদের নৌকাগুলো পঞ্চগড়ে প্রাপ্ত নৌকার অনুরূপ। এ নৌকা দুটি আফ্রিকায় দুগোট নামে পরিচিত।
অবশেষে স্বতন্ত্র ভবন
দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রত্নতত্ত্ব নির্দশন সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে যাচ্ছিল। প্রচুর লেখালেখিও হয়েছে। অবশেষে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যোগাযোগ উপদেষ্টা গোলাম কাদের ও স্থানীয় সরকারবিষয়ক উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইকবাল পঞ্চগড় সফরে আসেন। মিউজিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা ড. নাজমুল হকসহ কলেজের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা কামনা করলে দুই উপদেষ্টা মিউজিয়ামের দ্বিতল ভবন নির্মাণের জন্য ২০ লাখ করে ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। চলতি বছরের আগস্ট মাসে ঠিকাদার কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ভবন হস্তান্তর করেন। এ মাসের শেষে বা নভেম্বরের শুরুতে নতুন ভবনে উঠছে মিউজিয়াম। 
সূত্র : সমকাল

Monday, October 3, 2011

এই সময়ে চাঁদপুর || মুস্তাফিজ মামুন

ইলিশের মৌসুম। পদ্মা-মেঘনার বুকে জেলেরা এখন ব্যস্ত ইলিশ ধরতে। ঢাকা থেকে সকালে গিয়ে চাঁদপুরে মেঘনার মোহনায় ইলিশ ধরা দেখে রাতের মধ্যেই ফিরে আসা যায়। সময় বেশি থাকলে সারাদিন ঘুরে চাঁদপুর শহরের কোনো হোটেলে রাত কাটিয়ে সকালের লঞ্চেও ফিরে আসতে পারেন। 
ঢাকার সদরঘাট থেকে সকালের দিকে বেশ কয়েকটি লঞ্চ চাঁদপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সেগুলোর যেকোনো একটিতে চড়তে পারেন। সকালবেলার বুড়িগঙ্গাকে দেখতে দেখতে চলতে থাকবেন সামনে।  শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরীকে পেছনে ফেলে লঞ্চ এক সময়ে এসে পড়বে মেঘনায়। আগের নদী দুটি থেকে মেঘনার চিত্র এখন একটু ভিন্ন। বিশাল মেঘনার বুকে এখন শত শত জেলে নৌকা। ঢেউয়ে দুলতে দুলতে সবাই ব্যস্ত ইলিশ ধরতে। কেউ জাল টানছেন, কেউবা ধরে আছেন হাল। রুপালি ইলিশকে জালে আটকাতে পেরে কারও মুখে আবার আনন্দের হাসি। কোনো নৌকার দিকে একটু সময় নিয়ে তাকিয়ে থাকলে চোখে দেখতে পাবেন জীবন্ত ইলিশের ছটফটানি।
লঞ্চে সদরঘাট থেকে চাঁদপুর আসতে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগবে। আর মেঘনা নদীতে যেতে সময় লাগবে ঘণ্টা দুয়েকের মতো। লঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে এ দু’ঘণ্টা সময়ের পুরোটাই দেখা যাবে ইলিশ ধরার দৃশ্য। কখনো রোদ আবার কখনো বৃষ্টি। এরই মধ্যে জেলেরা তাদের ছোট নৌকা নিয়ে খরস্রোতা মেঘনায় ব্যস্ত ইলিশ ধরতে। ইলিশ ধরা দেখতে দেখতে মেঘনা নদীতে পিছু ফেলে একসময় লঞ্চ এসে ঢুকবে ডাকাতিয়া নদীতে। সামনেই চাঁদপুর স্টেশন। 
চাঁদপুরে নেমে প্রথমে যেতে পারেন এ অঞ্চলের ইলিশের মোকাম বড় স্টেশনে। চাঁদপুরে যত ইলিশ ধরা পড়ে তা দেশে এবং দেশের বাইরে পাঠানো হয় এখান থেকেই। ইলিশের বাজার ঘুরে ইচ্ছে হলে পছন্দের ইলিশ কিনেও নিতে পারেন। দামও এখানে তুলনামূলক অনেক কম। ঢাকায় নিয়ে আসার জন্য বরফ দিয়ে ইলিশ প্যাকেট করারও ব্যবস্থা আছে এ বাজারে। ইলিশের বাজার শেষ করে ঘুরে দেখতে পারেন চাঁদপুর শহর। এ শহরটি বেশ পুরোনো। ঘণ্টা হিসেবে রিকশা ভাড়া করে ঘুরতে পারেন চাঁদপুর শহরের অলিগলিতে। শহরের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মেঘনা নদী। শেষ বিকেলে শহরের পশ্চিম প্রান্তের শহর রক্ষা বাঁধে চলে আসতে পারেন। সেখানে দাঁড়িয়ে দেখতে পারেন মেঘনায় সন্ধ্যা নামার মনোরম দৃশ্য। দিনে দিনে ফিরতে চাইলে বিকেলের কোনো লঞ্চে উঠতে হবে ঢাকার উদ্দেশে। আর হাতে সময় থাকলে রাতটা কোনো এক হোটেলে কাটিয়ে সকালের লঞ্চে ফিরতে পারেন। 
কীভাবে যাবেন
ঢাকার সদরঘাট থেকে এম ভি সোনার তরী (০১৭১৬৫০১০৭৭) সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ছাড়ে চাঁদপুরের উদ্দেশে। সকাল ৮টায় ছাড়ে এমভি মেঘনা রাণী, সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে এম ভি বোগদাদীয়া, বেলা ১১টায় ছাড়ে ময়ূর-১, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ছাড়ে ময়ূর-২, দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ছাড়ে এম ভি ঈগল,  বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে আল বোরাক, রাত ১১টা ৩০ মিনিটে এম ভি বোগদাদীয়া এবং রাত ১২টা ৩০ মিনিটে এমভি তুতুল। আর চাঁদপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়ে সকাল ৮টায় ঈগল, বেলা ১১টা ৫ মিনিটে তুতুল, বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে রফরফ, বিকেল ২টায় মেঘনা রাণী, রাত ১১টা ১০ মিনিটে বোগদাদীয়া, রাত ১২টা ১৫ মিনিটে এমভি ময়ূর ২। এসব লঞ্চে ঢাকা-চাঁদপুর অথবা চাঁদপুর-ঢাকার ভাড়া জনপ্রতি প্রথম শ্রেণীর একক কেবিন ৩০০-৩৫০ টাকা, দ্বৈত কেবিন ৫০০-৬০০ টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণীর ভাড়া ১৩০-১৫০ টাকা।  
কোথায় থাকবেন
শহরে থাকার জন্য বেশ কিছু হোটেল আছে। ভালো দু’ একটি হোটেল হলো—হোটেল প্রিন্স (০৮৪১-৬৩৫৬২, এসি কক্ষ এসি ৫০০-৬০০ টাকা, সাধারণ কক্ষ ২০০-৩০০ টাকা )। হোটেল তাজমহল (০৮৪১-৬৩২৫৪, এসি কক্ষ ৫০০- ৬০০ টাকা, সাধারণ কক্ষ ১৫০-৩০০ টাকা )। হোটেল রজনীগন্ধা (০৮৪১-৬৫৩৯৮, এসি কক্ষ ৫০০-৬০০ টাকা, সাধারণ কক্ষ ১৫০-৩০০ টাকা)।

বর্ষায় মৌলভীবাজার || মুস্তাফিজ মামুন

সিলেট বিভাগের জেলা মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় রয়েছে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় দুটি জলপ্রপাত। এ ছাড়াও বেশ কিছু বেড়ানোর জায়গা আছে জেলা শহরের আশপাশে। এসব নিয়েই কড়চার এবারের বেড়ানো।  
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় রয়েছে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। প্রায় ২৭০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া এ জলপ্রপাত সারা বছরই বহমান থাকে। তবে বর্ষায় পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। মাধবকুণ্ড ইকো পার্কের প্রধান ফটক ফেলে প্রায় আধা কিলোমিটার পথ হাঁটার পরে জলপ্রপাতে এসেই সড়কটি শেষ হয়েছে। জলপ্রপাতের কাছেই আছে একটি খাসিয়া পুঞ্জি। খাসিয়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছোট্ট এ গ্রামটি ছবির মতো সুন্দর।   
পরীকুণ্ড জলপ্রপাত
মাধবকুণ্ড ঝরনার কিছুটা আগে শিব মন্দিরের বিপরীত দিক থেকে পাথুরে ঝিরি পথটি শেষ হয়েছে পরীকুণ্ড জলপ্রপাতে। এ ঝরনাটির সৌন্দর্য মাধবকুণ্ডের চেয়েও অনেক বেশি। তবে এটি কেবল বর্ষাকালেই প্রাণ ফিরে পায়। 
হাকালুকি হাওর
দেশের অন্যতম হাওর হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে অবস্থিত। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পশ্চিম প্রান্তে পড়েছে হাকালুকির একটি অংশ। হাকালুকি হাওরের নামকরণ নিয়ে অনেক কাহিনি প্রচলিত আছে। জানা যায়, বহু বছর আগে ত্রিপুরার মহারাজ ওমর মানিক্যের সৈন্যদের ভয়ে বড়লেখার কুকি দলপতি হাঙ্গর সিং জলমগ্ন এ জায়গায় লুকিয়ে থাকে। এ কারণে এ এলাকার নাম হয় হাঙ্গর লুকি বা হাকালুকি। এ রকম আরও একটি কাহিনি হলো এক সময় বড়লেখার পশ্চিমাংশে হেংকেল নামে এক আদিবাসী গোষ্ঠীর বসবাস ছিল। তাদের সে এলাকার নাম ছিল হেংকেলুকি। পরবর্তীতে হেংকেলুকি থেকেই হাকালুকির উদ্ভব হয়।
প্রায় ১৮১ বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে অবস্থিত এ হাওরের প্রায় ৭০ ভাগই মৌলভীবাজার জেলাতে। বর্ষায় এ হাওর প্লাবিত হয়ে বিশাল রূপ ধারণ করে। তখন এর গভীরতা থাকে ৬-২০ ফুট। শুষ্ক মৌসুমে হাওরের বেশিরভাগই শুকিয়ে যায়। শুধু হাওরের প্রায় ২৩৮টি বিলে সারা বছরই কম বেশি পানি থাকে।     
বর্ষিজোড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল
মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে রয়েছে বর্ষিজোড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এর আরেক নাম লাউডগা রিজার্ভ ফরেস্ট। প্রায় আটশো একরেরও বেশি জায়গার উপরে বর্ষিজোড়া পাহাড়ের উপরে এ বন যার প্রধান বৃক্ষ শাল। 
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে রেল ও সড়ক পথে মৌলভীবাজার যাওয়া যায়। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়দাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ (০১৭১১৯২২৪১৭), শ্যামলী পরিবহন (০১৭১১৯৯৬৯৬৫), সিলেট এক্সপ্রেস (০১৭১৩৮০৭০৬৯), টি আর ট্রাভেলস (০১৭১২৫১৬৩৭৮) ইত্যাদি বাস যায় মৌলভী বাজার। ভাড়া নন এসি বাসে ২৫০ টাকা।  টি আর ট্রাভেলসের এসি বাসে ভাড়া ৩৫০ টাকা। ট্রেনে মৌলভীবাজার যেতে হলে নামতে হবে কুলাউড়া স্টেশনে। ঢাকার কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস, দুপুর ২টায় প্রতিদিন ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০টায় ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। ভাড়া এসি বার্থ ৫৮১ টাকা, এসি সিট ৩৯৭ টাকা, প্রথম শ্রেণী বার্থ ৩৪৫ টাকা, প্রথম শ্রেণী সিট ২৩৫ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণী ৩৮০ টাকা, শোভন চেয়ার ১৫০ টাকা, শোভন ১৩০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে যায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টায় উদয়ন এক্সপ্রেস। ভাড়া প্রথম শ্রেণী বার্থ ৪১৫ টাকা, প্রথম শ্রেণী সিট ২৮৫ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণী ৪৭২ টাকা, শোভন চেয়ার ১৮৫ টাকা, শোভন ১৭০ টাকা।
কোথায় থাকবেন
মৌলভীবাজারে থাকার জন্য কয়েকটি সাধারণ মানের হোটেল আছে। শ্রীমঙ্গল রোডে হোটেল সোনারগাঁও (০৮৬১-৬৪৬০৭), শহরের কুসুমবাগে হোটেল শেরাটন প্লাজা (০৮৬১-৫২০২০), সাইফুর রহমান রোডে হোটেল হেলাল (০৮৬১-৫২৫৩৫)। এসব হোটেলে প্রতিদিনের রুম ভাড়া ১৫০-৫০০ টাকায় থাকার ব্যবস্থা আছে।
এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে ‘দেখুন বাংলাদেশ’
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০১১। মেলাটি চলবে আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত। এ মেলার স্টলে পাওয়া যাবে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণের গাইড ‘দেখুন বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোর বর্ণনা, যাতায়াত তথ্য, হোটেল-রিসোর্টের তথ্যসহ বেড়ানোর সবধরনের তথ্য মিলবে বইটিতে। পেপার ব্যাক বাঁধাই প্রায় ৭৫০ পৃষ্ঠার অফসেটে ছাপা বইটিতে বাংলাদেশের সব জায়গার ২৫০ পৃষ্ঠাজুড়ে রয়েছে রঙিন আলোকচিত্র। এ ছাড়া প্রতিটি জেলার রঙিন মানচিত্রও স্থান পেয়েছে বইটিতে। অবসর প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটির দাম ৭৫০ টাকা। মেলার এম ৩৫ নম্বর স্টলে পাওয়া যাবে বইটি। 
সূত্র : ইত্তেফাক

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ