Showing posts with label শরৎ. Show all posts
Showing posts with label শরৎ. Show all posts
Tuesday, June 12, 2012
Thursday, October 13, 2011
শরৎ ঋতু তুমি এলে || আ.শ.ম. বাবর আলী
শরত্ ঋতু তুমি এলে
চোখ বুজে তা বলতে পারি,
আনন্দেতে একা একা
গাঁয়ের বুকে চলতে পারি।
শরত্ ঋতু তুমি এলে
গন্ধ শুকে বুঝতে পারি,
সকালবেলা ঘাসের বুকে
সুখের পরশ খুঁজতে পারি।
শরত্ ঋতু তুমি এলে
নিজেই আমি জানতে পারি,
প্রজাপতি মৌমাছিদের
শিউলিমেলায় আনতে পারি।
শরত্ ঋতু তুমি এলে
ছবি আঁকা শিখতে পারি,
তোমায় নিয়ে মজার মজার
অনেক ছড়া লিখতে পারি।
সূত্র : আমার দেশ
চোখ বুজে তা বলতে পারি,
আনন্দেতে একা একা
গাঁয়ের বুকে চলতে পারি।
শরত্ ঋতু তুমি এলে
গন্ধ শুকে বুঝতে পারি,
সকালবেলা ঘাসের বুকে
সুখের পরশ খুঁজতে পারি।
শরত্ ঋতু তুমি এলে
নিজেই আমি জানতে পারি,
প্রজাপতি মৌমাছিদের
শিউলিমেলায় আনতে পারি।
শরত্ ঋতু তুমি এলে
ছবি আঁকা শিখতে পারি,
তোমায় নিয়ে মজার মজার
অনেক ছড়া লিখতে পারি।
সূত্র : আমার দেশ
Labels:
আ.শ.ম. বাবর আলী,
কবিতা,
প্রকৃতি বিষয়ক,
শরতের কবিতা,
শরৎ
Monday, October 3, 2011
মেঘপাপড়ির মতো আগুনের জেল্লা || মারুফ রায়হান
বাঙলার প্রকৃতির মতো একান্ত শরৎ আছে এ-আমারও
ব্যক্তিগত শরৎ- স্বরের; স্বর্গঘ্রাণময়, আর আশ্বিন-আসীন
শারদীয় আমার প্রান্তর ব্যেপে কাশবন, না আকাশবন!
মৃত্তিকা-উত্থিত শ্বেত শব্দ-অনুভূতিছোঁয়া হাওয়ার দুলুনি তার
বাগানের বা গানের নৃত্যছন্দ এনে দিল মুহূর্তে মুমূর্ষুকে!
আমার আকাশে ভেসে ভেসে আসে
মেঘপাপড়ির মতো সৃজনের খ- খ- আগুনের জেল্লা
মাশাআল্লা তখন বায়ু শিহরিত, নিঃশব্দ বাদ্যের বিত্ত ও বৈভবে
আর কী আশ্চর্য, শিউলিরা শুধু ফোটে- না ঝরার প্রতিজ্ঞায়
শেফালি আমাকে কাটে ফালি ফালি
আমার শরৎ-রথে চড়ে দেবী নয়, আসেন মানবী-বহুপ্রেম-বাহু
হৈমন্তী মন্ত্রণা তার ঠোঁটে-আমি মূক থাকি আমার অধরে
জেনেছি যে, শরতের শেষরাতে হবো আমি
নিজেই হেমন্ত!
ব্যক্তিগত শরৎ- স্বরের; স্বর্গঘ্রাণময়, আর আশ্বিন-আসীন
শারদীয় আমার প্রান্তর ব্যেপে কাশবন, না আকাশবন!
মৃত্তিকা-উত্থিত শ্বেত শব্দ-অনুভূতিছোঁয়া হাওয়ার দুলুনি তার
বাগানের বা গানের নৃত্যছন্দ এনে দিল মুহূর্তে মুমূর্ষুকে!
আমার আকাশে ভেসে ভেসে আসে
মেঘপাপড়ির মতো সৃজনের খ- খ- আগুনের জেল্লা
মাশাআল্লা তখন বায়ু শিহরিত, নিঃশব্দ বাদ্যের বিত্ত ও বৈভবে
আর কী আশ্চর্য, শিউলিরা শুধু ফোটে- না ঝরার প্রতিজ্ঞায়
শেফালি আমাকে কাটে ফালি ফালি
আমার শরৎ-রথে চড়ে দেবী নয়, আসেন মানবী-বহুপ্রেম-বাহু
হৈমন্তী মন্ত্রণা তার ঠোঁটে-আমি মূক থাকি আমার অধরে
জেনেছি যে, শরতের শেষরাতে হবো আমি
নিজেই হেমন্ত!
Friday, September 23, 2011
শরতের বারতায় || জাহাঙ্গীর আলম জাহান
সাদা সাদা কাশফুল
নদীটার দু’পাড়ে
দূর থেকে মনে হয়
যেন কাঁচা রুপা রে।
বাতাসের দোলনায়
দোলে কাশবন যে,
তাই দেখে এই বুকে
জাগে শিহরণ যে।
আকাশের নীল জুড়ে
ভাসে সাদা মেঘ রে,
শরতের বায়ু বয়
নিয়ে গতিবেগ রে।
প্রকৃতির রূপ নিয়ে
দুধরঙ গাঢ়তায়
ফোটে কত কাশফুল
শরতের বারতায়।
চিরচেনা শরৎ || আইউব সৈয়দ
ক.
জীবন গড়ার মাঠে,
পা বাড়িয়ে যাই হারিয়ে
স্বপ্ন দোলে থই থই,
হাসি-খুশির পাঠে,
নতুন করে জোছনা ঝরে
কাশের ফুলে হই চই।
ছন্দ-সুরের বাটে,
প্রাণের ডাকে সাজতে থাকে
শরৎ গানে বারবার,
চিরচেনার ঘাটে,
নেই তো যতি চলার গতি
প্রথা ভেঙেই পার।
খ.
শরৎ দুপুর ছন্দে জড়াই
অথই উদাস রঙ যে ছড়ায়
নীল নীলিমার খুশির বড়াই
রাঙেÑ
মেঘের সীমায় রোদ হেসেছে
নতুন সাজের সুর এসেছে
সৃষ্টি সুখের ছই ভেসেছে
গাঙে।
জীবন গড়ার মাঠে,
পা বাড়িয়ে যাই হারিয়ে
স্বপ্ন দোলে থই থই,
হাসি-খুশির পাঠে,
নতুন করে জোছনা ঝরে
কাশের ফুলে হই চই।
ছন্দ-সুরের বাটে,
প্রাণের ডাকে সাজতে থাকে
শরৎ গানে বারবার,
চিরচেনার ঘাটে,
নেই তো যতি চলার গতি
প্রথা ভেঙেই পার।
খ.
শরৎ দুপুর ছন্দে জড়াই
অথই উদাস রঙ যে ছড়ায়
নীল নীলিমার খুশির বড়াই
রাঙেÑ
মেঘের সীমায় রোদ হেসেছে
নতুন সাজের সুর এসেছে
সৃষ্টি সুখের ছই ভেসেছে
গাঙে।
Tuesday, September 20, 2011
শুভ্র শরৎ || সুরবি প্রত্যয়ী
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত_ এই ছয় ঋতুর এক অপরূপ সমন্বয় আমাদের এই মাতৃভূমি। কখনও রোদ, কখনও বৃষ্টি, কখনও বা আবার শিয়াল মামার বিয়ে দিতে রোদ-বৃষ্টি একসঙ্গেই! প্রকৃতির এই অদ্ভুত খেলার একটি অংশ শরৎকাল। বাংলা ভাদ্র-আশ্বিন মাস এবং ইংরেজি ক্যালেন্ডারে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত থাকে শরৎকাল। শরতের শুভ্রতা এই সময়টি জুড়েই আচ্ছন্ন করে রাখে আমাদের মনকে।
সকালবেলা ঘুম ভেঙেই জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে মারিয়ার চোখে পড়ল মেঘে ঢাকা আকাশ। আকাশ এত সুন্দর হয়! সাদা শুভ্র মেঘগুলোর ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে হালকা নীল রঙের আকাশ। মনে হচ্ছে মেঘেরই রাজত্ব, আকাশটা কেবল একটি অংশ মাত্র! মারিয়া মুগ্ধ হয়ে দেখছিল আর ভাবছিল, এমন সুন্দরভাবে যদি দিনটা শুরু তবে সারাদিনটা ভালোই যাবে হয়তো! অন্যান্য দিনে ওর ঘুম ভাঙার পরও বিছানা ছাড়তে মিনিট বিশেক সময় লেগে যায়। তবে আজকে যেন দিনটাই অন্যরকম। মনে হচ্ছে, তাড়াতাড়ি না উঠলে সময় নষ্ট হবে। আর এত সুন্দর একটি দিন ঘুমিয়ে নষ্ট করার কোনো মানেই হয় না!
ক্লাস শেষে বল্পুব্দদের সঙ্গে ক্যাম্পাসের সিঁড়িতে বসল আড্ডায় মারিয়া, নিপুণ, সোনিয়া, মুন আর আহাদ। উদ্দেশ্য ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করা। ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, লাইব্রেরি_ সব মিলিয়ে ওরা হাঁপিয়ে উঠেছে। একটা 'ব্রেক' না নিলেই নয়। গতবার গরমের ছুটিতে ওরা সবাই মিলে গিয়েছিল নীলগিরিতে। দারুণ মজা হয়েছিল সেবার। তবে মাথার ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের টেনশন। তাই এবার আর দূরে কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। সিদ্ধান্ত হলো, পুরো একটা দিন ওরা সময় দেবে শুধু ঘোরার জন্য। ওইদিন সব ক্লাস, পড়ালেখা বাদ। আর সেটা অবশ্যই ঢাকার ভেতরে হতে হবে। কারণ দিনে দিনে ফিরতেও তো হবে।
কিন্তু সেই জায়গাটা কোথায় হতে পারে? বুদ্ধিটা মারিয়াই দিল। ও সেই ছোটবেলা থেকে ঢাকায় বড় হয়েছে। গ্রামে তেমন যাওয়া হয় না বললেই চলে। কখনও কাশবন দেখেনি সে। সকালবেলা শরতের ওই শুভ্র আকাশটা দেখে শুভ্রতার আরেক প্রতীক কাশবন দেখার ইচ্ছাও হচ্ছিল ওর, বল্পুব্দদেরও তাই বলল। সবারই পছন্দ হলো এই আইডিয়া। তবে এই যান্ত্রিক শহরে এমন পরিবেশ কোথায় পাবে ওরা! সেই তো গ্রামের দিকেই যেতে হবে তাহলে। ভুলটা ভাঙাল আহাদ। ঢাকায় এবং এর কাছাকাছি বেশ কিছু জায়গা আছে যেখানে আছে কাশবন। আর কয়েক দিন খোঁজখবর নিয়ে ওরা জানতে পারল এমন কিছু জায়গার নাম। যেমন ঢাকার মিরপুরে মাজার রোড পেরিয়ে বেড়িবাঁধ দিয়ে আশুলিয়া যাওয়ার রাস্তার দু'ধারে চোখে পড়বে কাশবন। শুধুই যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তা নয়। এই সৌন্দর্য ঘিরেই এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় বেশ কিছু কফি শপ, ভ্রাম্যমাণ রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান ও বিনোদন পার্ক। ভ্রমণ উপভোগ্য করে তোলার জন্য পানির ওপর বাঁশের মাচার মতো করে সেখানে বানানো হয়েছে টিনের ছাউনির ছোট ছোট ঘর। যাতায়াতের জন্য বাঁশের সাঁকো। আর বসার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে পানির ওপর সারি সারি সুদৃশ্য খুপরি ঘর। এখানে বসে অনায়াসেই দিনটি কাটিয়ে দেওয়া যায়। এ ছাড়াও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, সাভার আর ডেমরার ওদিকেও রয়েছে কিছু কাশবন।
অনেক হিসাব-নিকাশ করে মারিয়ারা সিদ্ধান্ত নিল, মিরপুর হয়ে আশুলিয়ায় যাবে নিপুণের গাড়িতেই। ওরা পাঁচজন আর গাড়ির চালক। অবশ্য মিরপুর থেকে অনেক বাসও যায় ওদিকে। ওই বাসগুলোতে অনায়াসেই পেঁৗছে যেতে পারেন এমন সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে। অথবা মিরপুর বেড়িবাঁধ থেকে রিকশা অথবা সিএনজিচালিত যানে সহজেই চলে যেতে পারেন।
কাশবনে গিয়ে ওরা মুগ্ধ। প্রকৃতির এই অপার রূপ এত কাছে থেকে কখনও দেখেনি ওরা। ওপরে নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর নিচে সাদা কাশফুল। পাঁচজন যেন ফিরে গেল তাদের ছেলেবেলার দুষ্টুমিতে। কেউ বনজুড়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে, আবার কেউ ছবি তুলতে ব্যস্ত। আহাদ তো কবিতা লিখতেই বসে গেল প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখে!
ধীরে ধীরে সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো, আর সঙ্গে সঙ্গে রোদের কী তেজ! এতক্ষণে ওদের উৎসাহে ভাটা পড়ল কিছুটা। এই গরম কি আর সহ্য হয়? তবে এই রোদের মাঝেই ওদের অবাক করে দিয়ে দেখতে দেখতে পুরো কাশবনটা ছেয়ে গেল মেঘের আঁধারে। নীল আকাশের ওই গাঢ় কালো মেঘমালা দেখলে যে কেউই ভয় পেয়ে যাবে। তবে ওই কালো মেঘই ওদের জন্য নিয়ে এলো বৃষ্টির বারতা। ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো। ওরা একেকজন ভিজে কাকভেজা হয়ে গেল। তবে ক্ষণিকেরই ছিল যেন এই বৃষ্টি। থেমে গেল তাড়াতাড়ি। কিন্তু বৃষ্টির ফলে চারপাশের প্রকৃতি আরেক রূপ ধারণ করল। বৃষ্টির পানি ধুয়ে দিয়ে গেল চারপাশ! চারদিকে শুধু সবুজের সমারোহ। গাছের পাতা, পায়ের নিচে ঘাসগুলো যেন একেবারে নতুন! আর কাশফুলগুলোর শুভ্রতা যেন বেড়ে গেছে আরও কয়েক গুণ। তবে এই শেষ নয়। প্রকৃতি যেন আজ মেলে ধরেছে তার অসীম রূপ ওদের দেখাবে বলেই। দূর আকাশে মেঘ সরে গিয়ে ওদের চোখে পড়ল সাত রঙের খেলা_ রংধনু! সেই স্কুলজীবন থেকে পড়ে আসা 'বেনীআসহকলা' আজ প্রথম প্রত্যক্ষ করল ওরা। প্রকৃতির এই অদ্ভুত রূপ না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। তবে সুন্দর সময় যেন বেশিক্ষণ থাকার নয়। দেখতে দেখতেই ওদের ফেরার সময় হয়ে গেল। ফেরার পথেই সন্ধ্যা হয়ে এলো। আর আকাশে উঁকি দিল চাঁদটি। এত আলো হয় চাঁদের? ওদের মনে হচ্ছিল এ মুহূর্তে পুরো শহরের বিদ্যুৎ চলে গেলে বেশ হতো। চাঁদের আলোটা উপভোগ করা যেত প্রাণভরে! কাছেই কোথাও নিশ্চয়ই রয়েছে শিউলি গাছ। জোছনার সৌন্দর্যের সঙ্গে যোগ দিল শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাস। এর মাঝেই ওদের কেউ গেয়ে উঠল রবীন্দ্রসঙ্গীত। পুরো পরিবেশটাই যেন কেমন ঘোর লাগানো। এই নেশা থেকে বের হতে ইচ্ছে হচ্ছিল না ওদের।
প্রকৃতির এই রূপ শরতের পুরোটা জুড়েই থাকে। রোদ-বৃষ্টি, মেঘ, জোছনা, শিউলি_ এসব যেন আমাদের জন্য শরতের এক শর্তহীন উপহার! ইট-কাঠের এই খাঁচায়, ব্যস্ততার মাঝে যতই পড়ে থাকি না কেন, আমাদের মন কিন্তু এখনও শৈশবের সেই সারল্য খুঁজে বেড়ায় প্রতিটি মুহূর্তে। কখনও উড়ে যেতে চায় নীল আকাশে, আবার কখনও ছুটে বেড়াতে চায় শিশুর মতো। কিন্তু আজকাল শিশুরাও কি পাচ্ছে শৈশবের সেই স্বাদ, যেটি পেয়েছিলেন আপনি? তাদের কাঁধেও তো বোঝা কম নয়_ পড়ালেখার, প্রতিযোগিতার। শরতের এই প্রাকৃতিক রূপ দেখার অধিকার তো রয়েছে তাদেরও। তারা কি দেখেছে গ্রামের ঘরে ঘরে শরতের নবান্ন উৎসব? এই যান্ত্রিক নগরের ব্যস্ততা থেকে নিজেকে ছুটি দিয়ে ঘুরে আসুন না ঢাকার কাছাকাছি কাশবনের যে কোনো একটিতে। সঙ্গী করে নিন প্রিয় মানুষটিকে, প্রকৃতির এই অপার রূপে হারিয়ে যান কিছু সময়!
সকালবেলা ঘুম ভেঙেই জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে মারিয়ার চোখে পড়ল মেঘে ঢাকা আকাশ। আকাশ এত সুন্দর হয়! সাদা শুভ্র মেঘগুলোর ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে হালকা নীল রঙের আকাশ। মনে হচ্ছে মেঘেরই রাজত্ব, আকাশটা কেবল একটি অংশ মাত্র! মারিয়া মুগ্ধ হয়ে দেখছিল আর ভাবছিল, এমন সুন্দরভাবে যদি দিনটা শুরু তবে সারাদিনটা ভালোই যাবে হয়তো! অন্যান্য দিনে ওর ঘুম ভাঙার পরও বিছানা ছাড়তে মিনিট বিশেক সময় লেগে যায়। তবে আজকে যেন দিনটাই অন্যরকম। মনে হচ্ছে, তাড়াতাড়ি না উঠলে সময় নষ্ট হবে। আর এত সুন্দর একটি দিন ঘুমিয়ে নষ্ট করার কোনো মানেই হয় না!
ক্লাস শেষে বল্পুব্দদের সঙ্গে ক্যাম্পাসের সিঁড়িতে বসল আড্ডায় মারিয়া, নিপুণ, সোনিয়া, মুন আর আহাদ। উদ্দেশ্য ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করা। ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, লাইব্রেরি_ সব মিলিয়ে ওরা হাঁপিয়ে উঠেছে। একটা 'ব্রেক' না নিলেই নয়। গতবার গরমের ছুটিতে ওরা সবাই মিলে গিয়েছিল নীলগিরিতে। দারুণ মজা হয়েছিল সেবার। তবে মাথার ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের টেনশন। তাই এবার আর দূরে কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। সিদ্ধান্ত হলো, পুরো একটা দিন ওরা সময় দেবে শুধু ঘোরার জন্য। ওইদিন সব ক্লাস, পড়ালেখা বাদ। আর সেটা অবশ্যই ঢাকার ভেতরে হতে হবে। কারণ দিনে দিনে ফিরতেও তো হবে।
কিন্তু সেই জায়গাটা কোথায় হতে পারে? বুদ্ধিটা মারিয়াই দিল। ও সেই ছোটবেলা থেকে ঢাকায় বড় হয়েছে। গ্রামে তেমন যাওয়া হয় না বললেই চলে। কখনও কাশবন দেখেনি সে। সকালবেলা শরতের ওই শুভ্র আকাশটা দেখে শুভ্রতার আরেক প্রতীক কাশবন দেখার ইচ্ছাও হচ্ছিল ওর, বল্পুব্দদেরও তাই বলল। সবারই পছন্দ হলো এই আইডিয়া। তবে এই যান্ত্রিক শহরে এমন পরিবেশ কোথায় পাবে ওরা! সেই তো গ্রামের দিকেই যেতে হবে তাহলে। ভুলটা ভাঙাল আহাদ। ঢাকায় এবং এর কাছাকাছি বেশ কিছু জায়গা আছে যেখানে আছে কাশবন। আর কয়েক দিন খোঁজখবর নিয়ে ওরা জানতে পারল এমন কিছু জায়গার নাম। যেমন ঢাকার মিরপুরে মাজার রোড পেরিয়ে বেড়িবাঁধ দিয়ে আশুলিয়া যাওয়ার রাস্তার দু'ধারে চোখে পড়বে কাশবন। শুধুই যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তা নয়। এই সৌন্দর্য ঘিরেই এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় বেশ কিছু কফি শপ, ভ্রাম্যমাণ রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান ও বিনোদন পার্ক। ভ্রমণ উপভোগ্য করে তোলার জন্য পানির ওপর বাঁশের মাচার মতো করে সেখানে বানানো হয়েছে টিনের ছাউনির ছোট ছোট ঘর। যাতায়াতের জন্য বাঁশের সাঁকো। আর বসার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে পানির ওপর সারি সারি সুদৃশ্য খুপরি ঘর। এখানে বসে অনায়াসেই দিনটি কাটিয়ে দেওয়া যায়। এ ছাড়াও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, সাভার আর ডেমরার ওদিকেও রয়েছে কিছু কাশবন।
অনেক হিসাব-নিকাশ করে মারিয়ারা সিদ্ধান্ত নিল, মিরপুর হয়ে আশুলিয়ায় যাবে নিপুণের গাড়িতেই। ওরা পাঁচজন আর গাড়ির চালক। অবশ্য মিরপুর থেকে অনেক বাসও যায় ওদিকে। ওই বাসগুলোতে অনায়াসেই পেঁৗছে যেতে পারেন এমন সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে। অথবা মিরপুর বেড়িবাঁধ থেকে রিকশা অথবা সিএনজিচালিত যানে সহজেই চলে যেতে পারেন।
কাশবনে গিয়ে ওরা মুগ্ধ। প্রকৃতির এই অপার রূপ এত কাছে থেকে কখনও দেখেনি ওরা। ওপরে নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর নিচে সাদা কাশফুল। পাঁচজন যেন ফিরে গেল তাদের ছেলেবেলার দুষ্টুমিতে। কেউ বনজুড়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে, আবার কেউ ছবি তুলতে ব্যস্ত। আহাদ তো কবিতা লিখতেই বসে গেল প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখে!
ধীরে ধীরে সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো, আর সঙ্গে সঙ্গে রোদের কী তেজ! এতক্ষণে ওদের উৎসাহে ভাটা পড়ল কিছুটা। এই গরম কি আর সহ্য হয়? তবে এই রোদের মাঝেই ওদের অবাক করে দিয়ে দেখতে দেখতে পুরো কাশবনটা ছেয়ে গেল মেঘের আঁধারে। নীল আকাশের ওই গাঢ় কালো মেঘমালা দেখলে যে কেউই ভয় পেয়ে যাবে। তবে ওই কালো মেঘই ওদের জন্য নিয়ে এলো বৃষ্টির বারতা। ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো। ওরা একেকজন ভিজে কাকভেজা হয়ে গেল। তবে ক্ষণিকেরই ছিল যেন এই বৃষ্টি। থেমে গেল তাড়াতাড়ি। কিন্তু বৃষ্টির ফলে চারপাশের প্রকৃতি আরেক রূপ ধারণ করল। বৃষ্টির পানি ধুয়ে দিয়ে গেল চারপাশ! চারদিকে শুধু সবুজের সমারোহ। গাছের পাতা, পায়ের নিচে ঘাসগুলো যেন একেবারে নতুন! আর কাশফুলগুলোর শুভ্রতা যেন বেড়ে গেছে আরও কয়েক গুণ। তবে এই শেষ নয়। প্রকৃতি যেন আজ মেলে ধরেছে তার অসীম রূপ ওদের দেখাবে বলেই। দূর আকাশে মেঘ সরে গিয়ে ওদের চোখে পড়ল সাত রঙের খেলা_ রংধনু! সেই স্কুলজীবন থেকে পড়ে আসা 'বেনীআসহকলা' আজ প্রথম প্রত্যক্ষ করল ওরা। প্রকৃতির এই অদ্ভুত রূপ না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। তবে সুন্দর সময় যেন বেশিক্ষণ থাকার নয়। দেখতে দেখতেই ওদের ফেরার সময় হয়ে গেল। ফেরার পথেই সন্ধ্যা হয়ে এলো। আর আকাশে উঁকি দিল চাঁদটি। এত আলো হয় চাঁদের? ওদের মনে হচ্ছিল এ মুহূর্তে পুরো শহরের বিদ্যুৎ চলে গেলে বেশ হতো। চাঁদের আলোটা উপভোগ করা যেত প্রাণভরে! কাছেই কোথাও নিশ্চয়ই রয়েছে শিউলি গাছ। জোছনার সৌন্দর্যের সঙ্গে যোগ দিল শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাস। এর মাঝেই ওদের কেউ গেয়ে উঠল রবীন্দ্রসঙ্গীত। পুরো পরিবেশটাই যেন কেমন ঘোর লাগানো। এই নেশা থেকে বের হতে ইচ্ছে হচ্ছিল না ওদের।
প্রকৃতির এই রূপ শরতের পুরোটা জুড়েই থাকে। রোদ-বৃষ্টি, মেঘ, জোছনা, শিউলি_ এসব যেন আমাদের জন্য শরতের এক শর্তহীন উপহার! ইট-কাঠের এই খাঁচায়, ব্যস্ততার মাঝে যতই পড়ে থাকি না কেন, আমাদের মন কিন্তু এখনও শৈশবের সেই সারল্য খুঁজে বেড়ায় প্রতিটি মুহূর্তে। কখনও উড়ে যেতে চায় নীল আকাশে, আবার কখনও ছুটে বেড়াতে চায় শিশুর মতো। কিন্তু আজকাল শিশুরাও কি পাচ্ছে শৈশবের সেই স্বাদ, যেটি পেয়েছিলেন আপনি? তাদের কাঁধেও তো বোঝা কম নয়_ পড়ালেখার, প্রতিযোগিতার। শরতের এই প্রাকৃতিক রূপ দেখার অধিকার তো রয়েছে তাদেরও। তারা কি দেখেছে গ্রামের ঘরে ঘরে শরতের নবান্ন উৎসব? এই যান্ত্রিক নগরের ব্যস্ততা থেকে নিজেকে ছুটি দিয়ে ঘুরে আসুন না ঢাকার কাছাকাছি কাশবনের যে কোনো একটিতে। সঙ্গী করে নিন প্রিয় মানুষটিকে, প্রকৃতির এই অপার রূপে হারিয়ে যান কিছু সময়!
ছবি তুলেছেন: ফয়সাল মাসুম
সূত্র: সমকাল
Saturday, September 17, 2011
শরৎ মাল্টিনেশন || আবদুল হাই শিকদার
শরৎ আমার জুলফি থেকে
ছলকে পড়া এসএমএসের একটি আদর,
কূল ছাপানো মাল্টিনেশন
নদীর জীবন ছিপির বোতল তবুও ভাদর—
মেঘ বাতাসের বুদ্ধিসুদ্ধি
লোডশেডিং আর ট্রাফিক জ্যামে চ্যাপ্টা চিড়া,
অনলাইনে হালকা কোটিং
তবুও শরৎ পরিবহন মাথার কিরা।
ফারাক্কা বাঁধ টিপাইমুখ
কাঁটাতারের হাড়জ্বালানো মাতব্বরি,
শরৎ সোনার প্রতিবাদের
দুইটি বেণী নীলের নিচে সফেদ পরী
বর্ষাতি আর তীব্র লেপের
মধ্যিখানে কুসুম কুসুম দুধকুমারে,
পত্তি বছর শরত্ আসে
কেপটাউনের হাওয়াই হীরা বেসুমারে।
ছলকে পড়া এসএমএসের একটি আদর,
কূল ছাপানো মাল্টিনেশন
নদীর জীবন ছিপির বোতল তবুও ভাদর—
মেঘ বাতাসের বুদ্ধিসুদ্ধি
লোডশেডিং আর ট্রাফিক জ্যামে চ্যাপ্টা চিড়া,
অনলাইনে হালকা কোটিং
তবুও শরৎ পরিবহন মাথার কিরা।
ফারাক্কা বাঁধ টিপাইমুখ
কাঁটাতারের হাড়জ্বালানো মাতব্বরি,
শরৎ সোনার প্রতিবাদের
দুইটি বেণী নীলের নিচে সফেদ পরী
বর্ষাতি আর তীব্র লেপের
মধ্যিখানে কুসুম কুসুম দুধকুমারে,
পত্তি বছর শরত্ আসে
কেপটাউনের হাওয়াই হীরা বেসুমারে।
আশ্বিনের জল যায় দক্ষিণে || শাহাবুদ্দীন নাগরী
শান্ত জলের ওপর খেলা করে শাদা মেঘ, ওড়ে চিল
বাতাসের প্রেমে খায় হাবুডুবু, কাচচোখ নটীর নূপুর
খুলে পড়ে পা থেকে, দরোজায় এঁটে দেয় খিল,
সজীব স্বপ্নগুলো খুলে রাখে বুক থেকে মলিন দুপুর।
টেরাকোটা ভেঙে যায়, যেন ভাঙে স্মৃতির তামাটে শরীর,
প্রেমের হিস্যা নিয়ে ভাগাভাগি, খুনোখুনি, পুলিশের তাড়া,
কবিতার বই থেকে চুরি হয় ভালোবাসা, ডানাকাটা পরীর
মতো শব্দগুচ্ছ উড়ে যায়, নিরুত্তাপ সময়ের বেসামাল তাড়া।
কাস্তে ঝিকিয়ে ওঠে আমনের ক্ষেতে, নবান্নের ঘ্রাণে ওড়ে শোক,
ফিরে যাই শৈশবে স্বপ্নভুক পাখিদের মতো, শব্দহীন হামাগুড়ি
দিয়ে আসে আকাল-আকাল তবু, কর্মহীন পাথরের চোখ
তাকায় হাঁড়ির দিকে, জমে আছে মরা চাল কাঁকরের নুড়ি।
এবারও ডুবসাঁতার দিয়ে বেরুবে না সাপ, শরতের ভেজা হাত
ছুঁয়ে যাবে নদ-নদী, কাশফুল, মৃতপ্রায় মানুষের হাট,
আসন্ন প্রলয়ে ওরা যদি জাগে! যদি ভাঙে অন্ধকার রাত!
ইতিহাসের পৃষ্ঠাগুলো শুরু থেকে পুনর্বার করে যাও পাঠ।
আশ্বিনের জল যায় দক্ষিণে, জেগে ওঠে কার্তিকের ফাঁদ,
বিপন্ন বালকের হাতে ঘষা মার্বেলের মতো গড়িয়ে পড়ে চাঁদ।
সূত্র : আমার দেশ
বাতাসের প্রেমে খায় হাবুডুবু, কাচচোখ নটীর নূপুর
খুলে পড়ে পা থেকে, দরোজায় এঁটে দেয় খিল,
সজীব স্বপ্নগুলো খুলে রাখে বুক থেকে মলিন দুপুর।
টেরাকোটা ভেঙে যায়, যেন ভাঙে স্মৃতির তামাটে শরীর,
প্রেমের হিস্যা নিয়ে ভাগাভাগি, খুনোখুনি, পুলিশের তাড়া,
কবিতার বই থেকে চুরি হয় ভালোবাসা, ডানাকাটা পরীর
মতো শব্দগুচ্ছ উড়ে যায়, নিরুত্তাপ সময়ের বেসামাল তাড়া।
কাস্তে ঝিকিয়ে ওঠে আমনের ক্ষেতে, নবান্নের ঘ্রাণে ওড়ে শোক,
ফিরে যাই শৈশবে স্বপ্নভুক পাখিদের মতো, শব্দহীন হামাগুড়ি
দিয়ে আসে আকাল-আকাল তবু, কর্মহীন পাথরের চোখ
তাকায় হাঁড়ির দিকে, জমে আছে মরা চাল কাঁকরের নুড়ি।
এবারও ডুবসাঁতার দিয়ে বেরুবে না সাপ, শরতের ভেজা হাত
ছুঁয়ে যাবে নদ-নদী, কাশফুল, মৃতপ্রায় মানুষের হাট,
আসন্ন প্রলয়ে ওরা যদি জাগে! যদি ভাঙে অন্ধকার রাত!
ইতিহাসের পৃষ্ঠাগুলো শুরু থেকে পুনর্বার করে যাও পাঠ।
আশ্বিনের জল যায় দক্ষিণে, জেগে ওঠে কার্তিকের ফাঁদ,
বিপন্ন বালকের হাতে ঘষা মার্বেলের মতো গড়িয়ে পড়ে চাঁদ।
সূত্র : আমার দেশ
না মানুষ না প্রকৃতি || জাকির আবু জাফর
শরত্-শুভ্রতার স্নিগ্ধতম মুহূর্তগুলো মোহগ্রস্ত করে
আমার সমস্তটুকু
আমার নয়ন ভরা অশ্রুর ফুলগুলো
ঝরে শিশিরের শরীরময়
কোষমুক্ত হলে আমার সঙ্গী হয়ে সারাটি সকাল
শরতের হাত ধরে বসে থাকি—
কখন ঝরাবে পৃথিবী অভিভূত শিউলিপ্রভাত
কখন প্রজ্বলিত হবে একটি শরত্সন্ধ্যার মুখ
এমন একটি শরত্সন্ধ্যায় কে যেন আমাকে বলেছিল—
দেখো শরত্ ফুটেছে তোমার চোখের দীঘিতে
হৃদয় নদীর পারে দুলছে অজস্র আনন্দ-কাশফুল
এবং অন্তরতলে জেগেছে বেদনার নীলরঙ আকাশ
তার কথায় আমি ভাসলাম চোখের দীঘিতে
দেখলাম দীঘির শরীর জুড়ে শরত্জলের কম্পন
তলদেশে কেঁপে যাচ্ছে শিমুলমেঘের তরী
হৃদয়-নদীর বাঁকে উড়াল কাশফুল ঢেউয়ের বিশ্রদ্ধ দোলানি
অতঃপর অন্তরতলে ফিরতেই অজস্র আকাশ নুয়ে
নীল হতে থাকে
হতে হতে বিস্তৃত হলো বেদনার বিন্দু বিন্দু স্বর
শরত্ আমার প্রিয় ঋতু একথাও বলেছিলাম তাকে
দুর্ভেদ্য হাসির রেখা টেনে বললেন
কোনো ঋতু আর প্রিয় নয় কারো
কারণ?
কারণ কেউ কারো জায়গায় নেই
না মানুষ না প্রকৃতি না ঋতুর বয়ন
আমার সমস্তটুকু
আমার নয়ন ভরা অশ্রুর ফুলগুলো
ঝরে শিশিরের শরীরময়
কোষমুক্ত হলে আমার সঙ্গী হয়ে সারাটি সকাল
শরতের হাত ধরে বসে থাকি—
কখন ঝরাবে পৃথিবী অভিভূত শিউলিপ্রভাত
কখন প্রজ্বলিত হবে একটি শরত্সন্ধ্যার মুখ
এমন একটি শরত্সন্ধ্যায় কে যেন আমাকে বলেছিল—
দেখো শরত্ ফুটেছে তোমার চোখের দীঘিতে
হৃদয় নদীর পারে দুলছে অজস্র আনন্দ-কাশফুল
এবং অন্তরতলে জেগেছে বেদনার নীলরঙ আকাশ
তার কথায় আমি ভাসলাম চোখের দীঘিতে
দেখলাম দীঘির শরীর জুড়ে শরত্জলের কম্পন
তলদেশে কেঁপে যাচ্ছে শিমুলমেঘের তরী
হৃদয়-নদীর বাঁকে উড়াল কাশফুল ঢেউয়ের বিশ্রদ্ধ দোলানি
অতঃপর অন্তরতলে ফিরতেই অজস্র আকাশ নুয়ে
নীল হতে থাকে
হতে হতে বিস্তৃত হলো বেদনার বিন্দু বিন্দু স্বর
শরত্ আমার প্রিয় ঋতু একথাও বলেছিলাম তাকে
দুর্ভেদ্য হাসির রেখা টেনে বললেন
কোনো ঋতু আর প্রিয় নয় কারো
কারণ?
কারণ কেউ কারো জায়গায় নেই
না মানুষ না প্রকৃতি না ঋতুর বয়ন
Friday, September 16, 2011
শিউলি ফুলের অতল মায়া || হাসান হাফিজ
হবে না হবে না আর এ জন্মে হবে না
কবে হবে
যদি বা সম্ভবপর না হয় নিশ্চিন্তমত তবে
পাওনাটুকু জীবনের
বুঝে পাব কবে?
নিরুত্তর থেকে থেকে উড়ে যায় শরতের মেঘ
নেই তার প্রচ্ছন্ন আবেগ
সংশয় বা দোলাচল ঢেউ
তোমরা জেনেছ কিছু কেউ
জানো না জানারও চেষ্টা
করোনি কস্মিনকালে
দিক চক্রবালে
প্রশান্তি-চাদর দ্যাখো বিছিয়েছে ছায়া
শিউলি ফুল ঢেলে দিচ্ছে মায়া
এই মায়া কখনও কী ছল?
নাকি এক বিভ্রম অতল
এই মতো রহস্যের মানে
শরত্ ঋতুই শুধু জানে
সবজান্তা হয়ে দেখি হাসছে মিটিমিটি
আসে মৃত্যু, তারপরও জীবনই আরাধ্য
পরম্পরাক্রমে বিস্তারিত হয়
ভালোবাসা দুঃখ খিটিমিটি ...
সূত্র: আমার দেশ
কবে হবে
যদি বা সম্ভবপর না হয় নিশ্চিন্তমত তবে
পাওনাটুকু জীবনের
বুঝে পাব কবে?
নিরুত্তর থেকে থেকে উড়ে যায় শরতের মেঘ
নেই তার প্রচ্ছন্ন আবেগ
সংশয় বা দোলাচল ঢেউ
তোমরা জেনেছ কিছু কেউ
জানো না জানারও চেষ্টা
করোনি কস্মিনকালে
দিক চক্রবালে
প্রশান্তি-চাদর দ্যাখো বিছিয়েছে ছায়া
শিউলি ফুল ঢেলে দিচ্ছে মায়া
এই মায়া কখনও কী ছল?
নাকি এক বিভ্রম অতল
এই মতো রহস্যের মানে
শরত্ ঋতুই শুধু জানে
সবজান্তা হয়ে দেখি হাসছে মিটিমিটি
আসে মৃত্যু, তারপরও জীবনই আরাধ্য
পরম্পরাক্রমে বিস্তারিত হয়
ভালোবাসা দুঃখ খিটিমিটি ...
সূত্র: আমার দেশ
Subscribe to:
Posts (Atom)

