প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label আজমান আন্দালিব. Show all posts
Showing posts with label আজমান আন্দালিব. Show all posts

Saturday, January 1, 2011

মাথা মুন্ডু by আজমান আন্দালিব

এটি একটি এলে বেলে টাইপের লেখা। লেখাটি পাঠে কেউ গভীর তাৎপর্যময় কিছু খুঁজতে যাবেন না। আর গেলেও নিজ দায়িত্বে। এটি একটি হ-য-ব-র-ল লেখা। লেখাটি পাঠে কেউ নিজকে হেয় মনে করলে করতে পারেন, তবে দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ তার নিজের। উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে ভেসে কিংবা শত দুঃখ কষ্টের মধ্যে বেঁচে থেকেও আমরা যারা প্রাণ খুলে হাসতে চেষ্টা করি, তাদের জন্যই এই লেখা। প্রতিটি মুহূর্ত আতঙ্কিত থেকে থেকে আমরা যারা প্রাণ খুলে হাসতে ভুলে গেছি, তাদের জন্যই এই লেখা।
লেখাটি পাঠে কেউ যদি হাসির কোন উপাদান পেয়ে যান তবে প্রাণ খুলে হাসুন। আর ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বাঁচুন।

১. “তোমার কথার মাথা-মুণ্ডু কিছুই বুঝছি না।” “তোমার মাথা আর আমার মুণ্ডু’- কথায় কথায় কিংবা কাউকে মৃদু অপমান করার ছলে অথবা কারও প্রতি ঈষৎ রুষ্ট হয়ে আমরা কথা ক’টি প্রায়ই ব্যবহার করি। মাথা আর মুণ্ডু দিয়ে ব্যবহৃত বাক্য দুটোর মর্মার্থ অনেকটা এরকম- ‘বোঝার অসামর্থ্যতা এবং বোঝানোর অপারগতা।’ বুঝতে না পারলে- ‘তোমার কথার মাথা-মুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারলাম না’ অথবা, কাউকে কোন কিছু বুঝাতে না পেরে বিরক্ত হয়ে ‘তোমার মাথা আর আমার মুণ্ডু’ বলে বিদ্রুপ করা আমাদের “কথন শিল্পকে” অধিকতর সমৃদ্ধ করেছে।

আমরা অনেক কিছুই আজকাল বুঝি না কিংবা বলা যায় বুঝে উঠতে পারি না। রাজনীতিবিদরা বলেন একটা আর করেন আরেকটা। আমরা বলি মাথা-মুণ্ডু কিছুই বুঝলাম না। মন্ত্রী-এমপি’রা করেন একটা আর বলেন আরেকটা। আমরা আম জনতা বলি ‘মাথা-মুণ্ডু কিছুই বুঝলাম না।’ আর আমলারা কিছু বলেনও না, করেনও না। বললে সাধারণ বিষয়টিকে এমন ‘অসাধারণ জটিল’ করে বলেন যে, আমাদের মাথা লাটিমের ন্যায় ঘুরতে থাকে। আমাদের এই মাথা-মুণ্ডু’ কিছুই না বুঝার কারণে ক্ষমতাবানরা বিরক্ত হয়ে যদি আমাদের ‘মুণ্ডুপাত’ করতে থাকেন তাহলে তাদেরকে তো দোষ দেওয়া যায় না। কারণ আমাদের আম জনতার ‘সাধারণ’ মাথা এবং ক্ষমতাবানদের ‘ক্ষমতাসম্পন্ন’ মাথার মধ্যে বিস্তর ফারাক।

আমাদের আমজনতার কথা যেমন- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা এগুলো যে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা, এই কথাগুলো স্বাধীনতার এতো বছর পরেও তাবৎ তাবৎ জ্ঞানী মন্ত্রী, এমপি, রাজনীতিবিদদের বুঝাতে পারি নাই। কি করেই বা পারবো! স্বাধীনতার পর থেকে রাজনীতিবিদরা চর দখলের ন্যায় ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে এরকমই ব্যস্ত ছিলেন যে, তাদের বোঝানোর সুযোগও পাইনি। এই করে করে ৪০ বছর পার হয়ে গেল। আমজনতার সাধারণ কথাকে রাজনীতিবিদরা আমলে না এনে ক্ষমতার কামড়া কামড়িতে এমনই ব্যস্ত ছিলেন যে, আমজনতার আম-ছালা দুটোই যেতে বসেছিল। এই আম কিংবা ছালার যে কোন একটা রক্ষার প্রচেষ্টায় ওয়ান ইলেভেনের সূত্রপাত। সেই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা শেষে হাল আমলে নতুন ধরনের ক্ষমতাবানরা ক্ষমতায় আসীন।

বর্তমান সময়ের ক্ষমতাবানরাও আমাদের আমজনতার সাধারণ কথাগুলো বুঝতে চাচ্ছেন না। অথবা বুঝলেও নিজেদের মতো করেই বুঝে চলেছেন। সাধারণ আমজনতার কেউই রাজভোগ চায় না। চায় পেট পুরে দুটো অন্ন খেতে। কিন্তু এই অন্ন যোগাড় করতে গিয়ে যে অন্যান্য জিনিস কেনার ক্ষমতা হারাতে বসেছে, তা ক্ষমতাবানরা কতটুকু টের পাচ্ছেন? চালের কেজি ৪০ টাকা অতিক্রম করে হাফ সেঞ্চুরির দিকে এগুচ্ছে। এ হারে চলতে থাকলে এক কেজি চালের দাম অচিরেই সেঞ্চুরিতে গিয়ে ঠেকবে। চালের দামের এই সেঞ্চুরি ঠেকানোর উপায় কি-তা আমরা মাথা-মুণ্ডু কিছুই বুঝছি না। ক্ষমতাবানরা আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছেন, আন্তর্জাতিকভাবে চালের দাম বেড়ে গেছে। তাই আলু, কচু-ঘেঁচু খেয়ে দিন গুজরান করতে হবে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ এগুলো তো পয়সাওয়ালাদের খাবার। ‘মারি গণ্ডার তো লুটি ভাণ্ডার’ করে যারা পয়সা কামাতে পারবেন- তাদের জন্য।

দেশের প্রায় ষোল কোটি মানুষের সাধারণ এই চাহিদার ততোধিক সাধারণ এই বিষয়গুলো ক্ষমতাবানদের না বুঝার কী আছে তা অবশ্য আমাদের এই সাধারণ মাথায়ও ঢুকে না। আমরা মুণ্ডুপাত করি আমাদের দুর্ভাগ্যের। জ্বালানী তেলের দাম কি কারণে এক বৎসরে এতবার বাড়ে, মন্ত্রীরা-উপদেষ্টারা (চারিদিকে তাদেরকে তৈল মর্দনের পেছনেই সিংহভাগ ব্যয় হলে, না বেড়ে উপায় আছে?) অনেক তথ্য-তত্ত্ব কপচিয়ে আমাদের বুঝান। আমরা মাথা-মুণ্ডু কিছুই বুঝি না। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে কি কারণে বেড়ে চলেছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-আমলা-উপদেষ্টারা (ক্ষমতার সুবিধা নিয়ে লুটপাট করলে দাম না বেড়ে উপায় আছে?) আমাদের জোর করে বুঝিয়ে দেন। আমরা মাথা-মুণ্ডু কিছুই বুঝিনা। বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং (কলকারখানার উৎপাদন বৃদ্ধি আর কোটি কোটি মোবাইল চার্জের কারণে হয় বলে ২০০৬ সালে জনৈক মন্ত্রী কর্তৃক আবিস্কৃত তথ্য) কি কারণে হয়, তৎকালীন মন্ত্রী এমপি’রা আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন। তবুও আমরা মাথা-মুণ্ডু কিছুই বুঝতে চাই না। শেষমেষ ক্ষমতাবানরা বিরক্ত হয়ে যদি বলেই বসেন, এরকম সহজ-সাধারণ বিষয় তোমরা না বোঝো তাহলে তোমাদের মুণ্ডুপাত করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। ‘আমাদের মাথা, তোমাদের মুণ্ডু’ আর এই বলে আমাদের এই অ-দামী মুণ্ডুতে কষে দু’চার ঘা লাঠির বাড়ি বসিয়ে যদি আমাদেরকে বুঝাতে চান তাহলে তো ক্ষমতাবানদের দোষ দেওয়া যায় না।
(চলবে)

Tuesday, December 14, 2010

এখনই থামাও!!! নয়তো তা নেবে চরম প্রতিশোধ by আজমান আন্দালিব


তোমরা আমায় চেন সবে, আমি তোমাদের খুব আপন,
নেশার মাঝেই দিন যে কাটে, বোহেমিয়ান জীবন যাপন।
রঙিন নেশায় বিভোর থেকে, কাটাই দিবস কাটাই রাত,

আঁকড়ে ধরে আছি নেশায়, গডফাদারের কালো হাত।

কারও আমি ভাই-বন্ধু, হয়তো প্রেমিক আপনজন,
ভ্রমের রাজ্যে ঘুরি আমি, হারিয়ে সব বন্ধু স্বজন।
সমাজে আজ একলা আমি, সমাজের বোঝা ভাবছ তায়,
দেশজুড়ে যে নেশার তাণ্ডব, কে নেবেই বা তাদের দায়?

দেশ-জাতি আজ থমকে আছে, মাদকের করাল গ্রাসে,
পরিবার থেকে ব্যক্তি জীবন কাঁপছে মাদক ত্রাসে।
হাত বাড়ালেই নেশার উপাদান ছড়িয়ে চারিধার,
মাদক ছোবলে কত ঘর-সংসার হয়ে যায় ছারখার।

নেশার জগতে পা দেই যখন, তা ছিল স্রেফ কৌতুহল,
এখন আমায় নেশা ছাড়েনা, হারিয়েছি সব মনোবল।
পড়াশুনার পাট চুকিয়ে- এখন আমি পথের রাজ,
চুরি-ছিনতাই করে শুধু বেড়াই, পাড়ার মস্ত রকবাজ।

‘'বাপে খেদানো মায়ে তাড়ানো' কুলাঙ্গার এক আমি,
বাঁচার তাগিদে ছিনতাই আর চাঁদাবাজি পেশায় নামি।
হয়তো আমায় ঘৃণা কর সবে, গালাগাল কর আড়ে,
গণপিটুনি খেয়ে পড়ে থাকি পথে, কখনোবা ক্রসফায়ারে।

কেউ কি কখনো ভেবে দেখেছ, কেনই বা এমন হয়?
পথে-ঘাটে আজ মাদকের বিস্তার, সমাজটাই মাদকময়।
মাদকের তোড়ে ভেসে যায় সব, বিবেক-বুদ্ধি-বোধ,
এখনই থামাও!!! নয়তো তা নেবে চরম প্রতিশোধ।

Thursday, December 9, 2010

ছিবলে খেয়ে যাব তোমার সোনার বাংলাদেশ : আজমান আন্দালিব

আমি এক সরকারি চাকুরে, ধরেছি রক্ষকের বেশ,
ছিবলে খেয়ে যাব তোমার সোনার বাংলাদেশ।

প্রজাতন্ত্রের চাকর আমি, চাকরি দিয়েছে সরকারে,
পা ধরে নেতার বসে থাকি, কখন লাগি দরকারে।
নেতার হাতেই পুতুল নাচি, সচিব হই বা পিয়ন,
যেথায় যে পদেই থাকি, কামাই মিলিয়ন।

সরকারি চাকরি করি, বেতনটা নয় আসল,
উপরি কামাই যেটুকু পাই, সেটাই চাকরির ফসল।
স্বভাব আমার নয়কো এমন, ঘুষখোর আমি নই,
বাম হাত শুধু বাড়িয়ে রাখি, উপরি পাওনা লই।

ফাইলের প্যাঁচে ফেলে রেখে, কষে আটকাই গেরো,
কাজটি তোমার কঠিন হবে-নগদ যদি না ছাড়।
'ফেল কড়ি মাখ তেল' এই নীতিতেই চলি,
নীতিবোধটা ফেলে রেখে পা দিয়ে তা দলি।

লাল ফিতার গেরো খুলতে নগদ নারায়ণ,
দিলেই গিট্টু খুলবে তবে, রাখবে তা স্মরণ।
পার্সেন্ট ধরে ছাড়ো কিছু, উপহারের ছলে,
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছুটবে মন্ত্রবলে।

কখনো বা 'নাইকো' হয়ে কখনো বা 'শেল'
আন্তর্জাতিক ঘুষের রাজ্যেও চলে মোদের খেল।
ঘুষ দেয় নেতা, ঘুষ দেয় মন্ত্রী, ঘুষ দেয় রাষ্ট্রদূত,
উপর থেকেই ঘাড়ে চাপে সিন্দাবাদের ভূত।

আমরা থাকি মাঝ সারিতে, ঘুষের মিডিয়া'য়
ঘুষের সংজ্ঞাই বদলে দেব বাংলা পিডিয়ায়।
বিল্ডিং খাব, রাস্তা খাব, খাব ওভারব্রীজ,
বিদ্যুৎ-গ্যাসের সাথে খাব, ক্রিকেট মাঠ ও ক্রিজ।

দেশটা হবে দেউলিয়া তো, কিবা যায় আর আসে,
দেশ বিরোধী চেতনা প্রাণে মিটমিটিয়ে হাসে।
দেশ ছেড়ে না হয় যাব চলে, এক্কেবারে বিদেশ,
ছিবলে খেয়ে যাব তোমার সোনার বাংলাদেশ।

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ