প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label সৈয়দ আলমগীর. Show all posts
Showing posts with label সৈয়দ আলমগীর. Show all posts

Tuesday, June 14, 2011

বাজেটময় এ জীবন ।। সৈয়দ আলমগীর

সরকারি বাজেট বছরে একবার ঘোষণা করা হলেও আমাদের পারিবারিক বাজেট বছরে গুনে গুনে বার বার ঘোষণা করা হয়। বিশেষ করে আমাদের পরিবারের বড় কর্তারাই প্রত্যেক মাসে বেতন পেয়ে এ বাজেট ঘোষণা করে থাকেন। তেমনি একটি পরিবারের বড় কর্তা আবুল হোসেন তার পরিবারের জন্য বাজেট ঘোষণা করলেন।
জুন মাসের বাজেটে তিনি সিগারেট ও বাস ভাড়ার ওপর বরাদ্দ বাড়িয়েছেন, আর বাসার ডিশ লাইনের ওপর কোনো বরাদ্দ না রাখায় ওনার বেগম সাহেবা এ বাজেট প্রত্যাখ্যান করেছেন।
—অসম্ভব, এ বাজেট আমি মানি না। বাসায় ডিশ লাইন না রাখলে কি সময় কাটানো যায়?
—অবশ্যই যায়। বাসায় বড় বড় বই রাখা আছে, ওগুলো পড়েও সময় কাটাতে পারবে।
—এত মাস কাটিয়ে দিলাম কিন্তু হঠাত্ এ মাসে ডিশ লাইনের ওপর বরাদ্দ রাখনি কেন?
—এ মাসে বাস ভাড়া ও সিগারেটের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। তাই ডিশ লাইনের ওপর বরাদ্দ রাখলে আমাকে হিমশিম খেতে হবে।
—কি! তোমার এতবড় সাহস। তুমি কলিজা পোড়া সিগারেটের জন্য ডিশ লাইনে বরাদ্দ রাখনি?
—আরে রাখ তোমার ডিশ লাইন, তেলের দাম যে বাড়ছে সেদিকে নজর আছে?
—তেলের দামের সঙ্গে ডিশ লাইনের সম্পর্ক কি?
—শুনো, ডিশ সংযোগ ছাড়া টিভিতে যে চ্যানেলটি দেখা যায় সে চ্যানেলে প্রচুর পরিমাণে তেল দেয়া হয়। তাই ওখান থেকে তেলের ঘাটতি কমাতে পারবা। তাছাড়া তোমার এমনিতেই ভালো ঘুম হয় না, ওই চ্যানেল দেখলে ঘুমও ভালো হবে।
—আমাকে পাম দিবা না, যে সিগারেট কলিজা পোড়ায় সে সিগারেট খাবা কেন?
—ওটা তুমি বুঝবা না, টেনশন তাড়াতেই সিগারেট খাই।
—দাম যখন বেড়েছে সিগারেট না খাইয়া বিড়ি খাইলেই তো পারো।
—আচ্ছা তোমার শপিংয়ের জন্য যে বাজেট বরাদ্দ থাকে, তার থেকে কিছু মাইনাস করে ডিশ সংযোগের খাতে বরাদ্দ রাখতে পারো।
—অসম্ভব। এত ভয়ঙ্কর কথা তোমার মুখ দিয়ে বেরুলো কীভাবে? কলিজা পোড়ার যখন এতই ইচ্ছা, তখন টাকা দিয়ে সিগারেট কেনার কি দরকার, আমাকে বললে আমিই তো ব্যবস্থা করতে পারি।
—তাই নাকি, তা তোমাদের বংশের কেউ বিড়ি-সিগারেটের ব্যবসা করে নাকি?
—এই খুন্তি দেখছ, এইডা গরম কইরা যহন কলিজা বরাবর পেটের মধ্যে চাইপা ধরুম, তহন দেখবা কলিজা পুইড়া ছাই হইয়া যাইব।
—ছি: ছি: এসব অলক্ষুণে কথা বলছ কেন, দেখা যাক ডিশ সংযোগের বাজেট করা যায় কিনা।

বউয়ের সঙ্গে বাজেট আলাপ সেরে মন খারাপ করে ড্রইং রুমে বসে আছেন আবুল হোসেন। এবার কলেজ পড়ুয়া ছেলে তার বাজেট সম্পর্কে জানতে চাইল।
—আব্বা আমার জন্য যে বাজেট বরাদ্দ রেখেছো তাতে আমার এ মাস চলা যাবে না।
—কেন, চলা যাবে না কেন?
—আমি এখন থেকে আনলিমিটেড নেট ব্যবহার করব, তাই বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে।
—তা তিন হাজার টাকায় হবে না?
—শুধু নেট নিলেই তো হবে না। একটা প্যান্ট, একটা শু কিনতে হবে। তাছাড়া আমি এখন কলেজে পড়ি, অতএব আগের মতো পকেট খরচে কি আর চলে?
—শুন, তোমার পকেট খরচ ও মোবাইল খরচের ওপর কর বসিয়েছি। অতএব, ওসব খাতে বরাদ্দ রাখিনি।
—কেন রাখনি বাবা?
—তোমার মতো বয়সে আমি এ খাতে গুরুত্ব দিয়ে বাবার অনেক টাকা নষ্ট করেছি ফলাফলে কিছুই পাইনি।

এবারের বাজেটে আবুল হোসেন তার মেয়ের জন্য পাঁচ হাজার টাকা বরাদ্দ রেখেছেন। মেয়ের এই বাজেট পছন্দ হয়নি।
—আব্বু, মাত্র পাঁচ হাজার টাকা কীভাবে আমার জন্য বরাদ্দ রাখলে? সবকিছু মিলিয়ে ৮ হাজার টাকা দাও, আমার খরচ আছে।
—এত টাকা দিয়ে করবি কি?
—ড্রেস কিনতে হবে, পার্লারে যাবার খরচ লাগবে, এছাড়া কোচিংয়ের খরচসহ হাত খরচ তো আছেই।
—ঠিক আছে তোর জন্য বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে, তবে গায়ের জামাটা একটু বড়সড় দেখে কিনিস। ছোটখাটো জামা গায়ে দিয়ে চলাফেরা করলে মানুষ মনে করে আমাদের জামা কেনার টাকাটাও নাই।
—হি: হি: হি:, আব্বু এখন হলো ডিজিটাল যুগ। ওই ছোট ড্রেসই আমাকে অনেক টাকা দিয়ে কিনতে হয়।

মাথায় এক বোঝা টেনশন নিয়ে অফিসে গেলেন আবুল হোসেন। তিনি যে বাজেট ঘোষণা করেছেন, তাতে পরিবারের কেউই সন্তুষ্ট নয়। এমন সময় এলেন এক ভদ্রলোক ফাইল ছাড়াতে।
—স্যার আমার ফাইলটা কি হয়েছে?
—জ্বি না এখনও হয়নি, ডেলিভারি অবস্থায় আছে।
—স্যার আর ক’দিন আসব, ফাইলটা এবার দিয়ে দেন।
—আমি তো দিতেই চাচ্ছি, কিন্তু আপনি আপনারটা দিলেই তো ফাইলটা হয়ে যায়।
—স্যার দেব, তবে আপনি যা বলেছেন তা পারব না।
—তাহলে তো হবে না, এমনিতেই পরিবারের বাজেট ঘোষণা করে বেকায়দায় আছি।
—আপনারা আবার বেকায়দায় থাকেন নাকি?
—আপনার সঙ্গে ফাজলামো করছি নাকি? বাজেটে যে টাকা বরাদ্দ রেখেছি তাতে বউ, ছেলে-মেয়ে কারোই মন ভরাতে পারিনি। তাই আগের রেট বাদ এখন থেকে নতুন রেট না দিলে ফাইল ছাড়ব না।
—স্যার, বরাদ্দটা একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না? তাছাড়া—
—আমার ছেলেমেয়ে আমার ওপর যে টাকা দাবি করছে সেটাও বেশি হয়ে যাচ্ছে।
—তার মানে আপনি আমাদের টাকা দিয়েই সংসারের বাজেট করবেন?
—অবশ্যই, তা না হলে বেতন পাই মাত্র পনের হাজার টাকা। অতএব এত টাকা পাব কই?
—বুঝছি, আপনি কইয়ের তেলে কই ভাজতাছেন।

সূত্র : আমার দেশ

Wednesday, February 9, 2011

বিল নিয়ে টানাটানি :: সৈয়দ আলমগীর

স্কুলে যখন পড়তাম তখন প্রত্যেক বছরই বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান মন ভরে উপভোগ করতাম। সবচেয়ে মজা লাগত শিক্ষকদের দড়ি টানাটানি খেলাটা। দড়ি টানাটানি খেলায় শুধু শিক্ষকরাই নয়, স্কুল কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত থাকতেন। প্রথমে শিক্ষক ও কমিটির লোকজনকে দুই ভাগে ভাগ করা হতো, তারপর শুরু হতো দড়ি টানাটানি। দল ভাগ করা নিয়ে ঘটে যেত অনেক কাণ্ড। বিপত্তিটা লাগত আমাদের প্রধান শিক্ষককে নিয়ে, কারণ ওনার ভুঁড়ি বড় হওয়ায় সবাই দড়ি টানাটানির আগে ওনাকে নিয়েই টানাটানি করত। ওনাকে যে দলে রাখা হতো, সব সময় সে দলই দড়ি টানাটানিতে জিতে যেত। খেলা শুরু হলে দু’পক্ষ থেকেই টানাটানি শুরু হতো। একপর্যায়ে হেড স্যারের পক্ষ কষে টান মারলে বিপক্ষ দলের সদস্যরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। ফলাফল, হেড স্যারের দলই জয়ী।
কোনো এক বাংলা সিনেমায় দেখেছি স্বামী নিয়ে দুই নায়িকা অর্থাত্ দুই বউকে টানাটানি করতে, যদিও শেষে প্রমাণিত হয় স্বামীর আসল বউ কে, তবুও টানাটানি নিয়ে তুলকালাম ঘটে যায়।
পাঠক, এতক্ষণ দড়ি টানাটানি ও স্বামী টানাটানির কথা বলছি, এবার আসি বিল টানাটানি প্রসঙ্গে। কিছুদিন থেকেই শুরু হয়েছে আড়িয়ল বিল নিয়ে টানাটানি। রক্তের বিনিময়ে হলেও সেখানকার মানুষ রক্ষা করতে চায় তাদের প্রাণের বিল। অন্যদিকে সরকার সেখানে বিমান উড়াতে চাচ্ছে অর্থাত্ এয়ারপোর্ট বানাতে চাচ্ছে। আমাদের হেড স্যারের ভুঁড়ির কারণে দড়ি টানাটানিতে ওনার দলই জিতে যেত, কিন্তু আড়িয়ল বিল নিয়ে যেভাবে টানাটানি চলছে তাতে শেষতক কারা জেতে, বলা যাচ্ছে না। আড়িয়লবাসী আন্দোলন করছে আর পুলিশ রুখে দিচ্ছে, আন্দোলন রুখতে গিয়ে ঘটছে নিহত আহত হওয়ার মত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।
অবশ্য কারও কারও রক্ত ঝরাতে আবার কারও কারো খুব মজা লাগে। এই ধরুন মশা ও আমাদের মধ্যে এত তিক্ত সম্পর্ক যে, আমরা কেউই কাউকে ছাড় দিতে রাজি না। আমাদের রক্ত চুষে পেট ভরাতে পারলে মশা বাহিনীর আনন্দের শেষ থাকে না। আবার মশাদের কষে থাপ্পড় মেরে রক্ত ঝরাতে পারলে আমরা খিলখিলিয়ে দাঁত বের করে হাসি। সোজা কথায় বলা যায় কারও পৌষ মাস কারও সর্বনাশ। এবার বলছি মশাবিষয়ক একটা গল্প—
এক লোক মশারি টাঙানোর পর মশারির ভেতরে বসে বসে মশা খুঁজছে, বাইরে মশক দলের এক সদস্য উত্তেজিত হয়ে উঠল।
—মশারির ভেতর তো খুঁজবাই, সাহস থাকলে মশারি ছাড়া ঘুমাও দেখি!
—ক্যান চান্দু রক্ত চুষতে বুঝি খুব টেস্ট লাগে?
—চুপ করো মিয়া, তোমরা ভীতু নাম্বার ওয়ান। সামান্য আমাদের ভয়ে মশারি টাঙাও অথচ গরু-ছাগল পর্যন্ত রাতে মশারি ছাড়া ঘুমায়।
—ভীতু কইলি ক্যান, বের হলে কিন্তু এক থাপ্পড়ে সাইজ কইরা দিমু?
—মশারির ভেতর লাফাস ক্যান, সাহস থাকলে বাইরে আয়। বাইরে এসে আমাকে আঘাত করতে চাইলেই আমাদের গোয়েন্দা টিম ভেতরে ঢুকে পড়বে।
—হ আমি বের হমু আর তোমরা চুপিচুপি আমার মশারির জায়গা দখল করবা, প্রয়োজনে রক্ত দেব তবুও মশারির ভেতর থেকে বের হব না।
পাঠক, যুগে যুগে মশা ও আমাদের মধ্যে যে তিক্ত সম্পর্ক, এ সম্পর্ক আজীবনই নিম পাতার মতো তিতা থাকবে। কারণ, আমরা মশারি টাঙিয়ে একটু নাকে তেল দিয়ে ঘুমাব এটা মশার সহ্য হয় না। তারা মশারির ভেতর জবরদখল করার অপচেষ্টা চালায়। আবার মশা একটু খেয়ে-দেয়ে বাঁচুক এটা আমরা চাই না। যদি চাইতাম তবে থাপ্পড় মেরে রক্তাক্ত করে তাদের আহত কিংবা নিহত করতাম না। এই তিক্ত সম্পর্কের মতো এখন তিক্ত হয়ে উঠেছে আড়িয়লবাসী ও সরকারের সম্পর্ক। আন্দোলন-বিক্ষোভের মধ্যে কাটছে তাদের জীবন। রক্ত দেবে তবুও তারা আড়িয়ল বিলকে এয়ারপোর্ট বানাতে দেবে না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এত আন্দোলনের পরও যেহেতু এ বিল টানাটানির শেষ হচ্ছে না সেহেতু পুলিশ ও আড়িয়লবাসীর রক্ত কি ঝরতেই থাকবে ?
এ তিক্ত সম্পর্ক মশা ও আমাদের সম্পর্কের মতো দীর্ঘস্থায়ী না হোক, এটাই আমাদের কাম্য। দড়ি টানাটানি যেমন কিছুক্ষণ চলে থেমে যায় আবার স্বামী টানাটানিও যেমন এক পর্যায়ে স্থির হয়ে থেমে যায়, তেমন আড়িয়ল বিল টানাটানিও থেমে যাক।

সূত্র : আমার দেশ

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ