প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label গাজী গিয়াস উদ্দিন. Show all posts
Showing posts with label গাজী গিয়াস উদ্দিন. Show all posts

Friday, December 16, 2011

স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি কোথায়! কেন ওদের মাথায় খুনের নেশা আসে? || অধ্যাপক গাজী গিয়াস উদ্দিন

তরুণ-যুবকদের মাথায় শুধু মাত্র খুনের নেশা আসে কেন? মানুষে মানুষে এত দূরত্ব কেন? একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে খুনের চিন্তা শুধু মাত্র তখনই করতে পারে যখনি জিঘাংশা বৃদ্ধি চরমে পৌঁছে। একজন আরেকজনকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করলেও তাতে তার মধ্যে সংুব্ধতা জেগে উঠতে পারে। শুধু আর্থিকভাবে বঞ্চনা নয়, সে বঞ্চনা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পরামর্শ মায়া মমতা থেকে বঞ্চিত করলেও। মানবিক পারিবারিক ও সামাজিক ব্যবস্থায় এসবের গুরুত্বকে অবহেলা করা চলে না।
আমাদের চার পাশে বড় হওয়া আমাদেরই সন্তান যখন বখাটে হয়ে বড় হয়। নানা নেশায় আসক্ত হয়। খুনের মত ঘটনা ঘটায়-তাতে আজকের কলুষিত পরিবেশের পাশাপাশি অভিভাবক শ্রেণীরও দায় আছে।
সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ দম্পতি হত্যাকান্ড। ফরহাদ খাঁর আপন ভাগ্নে মামা-মামিকে নৃশংস ও পাষন্ড কায়দায় হত্যা করলো। পুলিশের কাছে খুনির জবানবন্দি মতে, বিষয়টি আর্থিক এবং আপন আত্মীয় থেকে প্রবঞ্চিত হওয়ার পুঞ্জীভূত ােভের বহিঃ প্রকাশ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, একজন তরুণ যতই বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত হোক- সে কেন নেশা করবে? তার মাথায় কেন খুনের পরিকল্পনা আসবে? আমাদের দেশে অর্থ উপার্জনের নানা উপায়- অবলম্বন আছে। সেদিকে তারা না গিয়ে তারা বখাটে হয়, তারা নেশা গ্রস্ত হয়- এর জন্য দায়ী কারা?
কিছুদিন আগে ঢাকা ইন্দিরা রোডে খৃস্টান মা-ছেলেকে যে গাড়ীর ওয়ার্কশপের তরুণ কর্মচারী খুন করলো- তাও আর্থিক লেন-দেনের বিষয়কে কেন্দ্র করে বলে শুনা গেছে। কেউ কাউকে আর্থিকভাবে লেন-দেনে বঞ্চিত করলে অথবা পতারণা করলে তার জন্যে কোর্ট-কাচারী অথবা সামাজিক সংস্থা আছে। যে সব কতটুকু ফলদায়ক ভূক্তভোগীরাই জানেন। বছরের পর বছর কোর্ট-কাচারীতে ঘুরো, আর অর্থ দন্ড দাও- এ হচ্ছে আমাদের দেশের বৃটিশ প্রণীত মান্ধাতা আমলের অবয়মান য়িষ্ণু বিচার ব্যবস্থা। আর সামাজিক সালিশ বিচারে চাঁদাবাজ, ঘুশ খোর, বিচারের নামে প্রহশনের বড়-ছোট গডফাদাররা বসে আছে সালিশ বাণিজ্য নিয়ে। সেখানেও নানা প্রতারণার বিচিত্র জাল।
কিন্তু আমি ভাবছিলাম, খুনের দায় কাঁধে নিয়ে কারো পাওনা পরিশোধের সম্ভাবনা দূরের কথা। খুন না করে কৌশলে অর্থ সম্পদ লুট করে নিয়ে গেলেতো (যদিও আমি অন্যায় লুটের পে নয়) অপরাধীরা পাওনার চাইতেও বেশী লাভবান হয়। তার পরও কেন ওদের মাথায় খুনের নেশা আসে। চিন্তার এ জঘন্য ব্যভিচার কেন? যুগের এ জঘন্য প্রবণতা কেন? সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ দম্পতি হত্যা এবং ইন্দিরা রোডের মা-পুত্র হত্যার ঘটনার বেলায় এ প্রশ্নগুলো আসে।
এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে এক বিজ্ঞানীর সাথে এক যুবকের কাহিনী। এক যুবক বিজ্ঞানীর কাছে গিয়েছিল তাকে কাজ দেওয়ার জন্য। বিনিময়ে সে যুবক সারা জীবন বিজ্ঞানীর চাকর হিসেবে গোলামী করবে। বিজ্ঞানী জানতেন, যুবকদের সুপ্ত সম্ভাবনার কথা। তিনি যুবকের চেতনা জাগ্রত করার মানসে প্রস্তাব করলেন। হে যুবক, তুমি সারা জীবন আমার গোলামী করা লাগবো না। তোমার একটি হাত আমাকে দাও, তার বিনিময়ে আমি তোমাকে অনেক অর্থ দেব। সে যুবক রাজী হয়নি। (কাহিনীটি সংেেপ বলা হল) বিজ্ঞানী যুবকটিকে বোঝাতে চাইলেন- তোমার মহা মূল্যবান হাত-পা-মাথা এরকম বহু মহামূল্যবান উপার্জনের হাতিয়ার জন্মগতভাবে অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তুমি কেন অপরের গোলামীর বিনিময়ে দু’মুঠো ভাত যোগাড়ের চিন্তায় অস্থির? এই যে মানুষের সামর্থ, যোগ্যতা, সম্ভাবনা ও শ্রেষ্ঠত্ব। মানুষ মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে কি না করতে পারে? বিজ্ঞানী যুবকের মর্মমূলে সেদিন প্রচন্ড আঘাত হানলেন, তোমারও দু’টো অলস হাত হতে পারে মহা কর্মের হাত- ভিার হাত নয়।
ভিা বৃত্তিকে নিন্দা করতে উৎসাহিত করা হয়, কিন্তু আজ যে তরুণদের খুন বৃত্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে? এর প্রতিকার কি? এত অসাম্য-অসংগতি, প্রবঞ্চনা, প্রতারণা, অবিচার ও বিচারহীনতা এবং অধিকার দলন, এতটা দায়িত্বহীনতা ও নিষ্ঠুর ভোগবাদিতা এ সমাজকে এতটা নিষ্ঠুর নিয়তির পথে নিয়ে যাচ্ছে। যার উপসর্গ হচ্ছে তরুণদের মাঝে আজ খুনের গরল নেশা উম্মাদিত হয়ে উঠছে। যার করুণ পরিনতি নিদ্রার যে স্বাভাবিক নিরাপত্তা, তারই মাঝে বেঘোরে প্রাণ দিতে হয়; একান্ত স্বজনদের হাতে আমাদের সমাজের শিক, সাংবাদিক, উকিল, বৃদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী, প্রবীণ গৃহবধুদের পর্যন্ত। এ সমাজে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি কোথায়?

Tuesday, September 27, 2011

গাজী গিয়াস উদ্দিন

জন্ম : ৩০ অক্টোবর ১৯৬০, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার গন্ধর্বপুর গ্রামে। পিতা : মরহুম হারিছ উদ্দিন আহমেদ (ইউপি চেয়ারম্যান), মা মরহুমা সায়েরা খাতুন। বড় ভাই মোঃ সিরাজুল ইসলাম (তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন অতিরিক্ত সচিব)। লেখাপড়া এম এম, বি এ অনার্স (বাংলা) এম এ (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়)। সহকারী অধ্যাপক  (বাংলা) রায়পুর কামিল মাদ্রাসা। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, বর্তমানে স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য এবং প্রাক্তন নির্বাচিত সহ- সভাপতি; দৈনিক জনতার স্টাফ রিপোর্টার এবং মাসিক “বাংলা আওয়াজ” সম্পাদক।  সচেতন নাগরিক কমিটি (টিআইবি) লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সদস্য। প্রকাশিত গ্রন্থ হরিৎ পান্ডুলিপি (কাব্য), স্ক্যান্ডাল (গল্প), গোপনে লুকানো (কাব্য), অকথিত (কাব্য), নান্দনিক পৃথিবী (কাব্য- প্রকাশক মিজান পাবলিশার্স, ঢাকা), ব্যভিচার (মিনি উপন্যাস) এবং লক্ষ্মীপুরের স্মরণীয় বরণীয় (জীবনীগ্রন্থ)। এ সব্যসাচী লেখক কবিতার মধ্য দিয়ে মানবতা প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে কাজ করে যাচ্ছেন।

মন ছবি ।। গাজী গিয়াস উদ্দিন

লম্বা পাতলা একাহারা গড়নের যুবতী মহিলা সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আকর্ষণীয় দুটো আধুনিক গান গাইলেন। প্রথমটি প্রেমের পরেরটি বিরহের। গায়িকার রমণীয়তা আর সঙ্গীত মূর্ছনা একাকার হয়ে ভিন্ন রোমান্টিকতায় ছেয়ে গেছে পুরো অনুষ্ঠান মিলনায়তন। ক্ষনিকের পরিচয়ে জানলাম তিনি বরিশালের একটি কলেজের বাংলার অধ্যাপিকা। এতদিন পরে পড়ার টেবিলে বসে তাকে মনে পড়লো। মনে হলো তাঁর কাছে যদি সেদিন জানতে চাইতাম ; আপনার গান শুনে দর্শক শ্রোতাদের কতজন আপনাকে নিয়ে কি ভেবেছে জানেন ? হয়তো ভেবেছে আপনার মতো এতো সুকন্ঠী গুণী অধ্যাপিকা যদি তার ঘরণী......। বিবেকের জিহবায় কামড় পড়ে গেল। ছিঃ এমন প্রশ্ন কি কেউ কাউকে করে ?
    শিল্পী অধ্যাপিকার বা কি আসে যায় তাকে নিয়ে কে কি ভাবলো আর না ভাবলো ? তিনিতো মিসেস। মিসেস হলেই তো আর ভাবের রাজ্যে তিনি বিতর্কের উর্ধ্বে নন। ভাবলাম- ভাবনাটা হয়তো নিতান্ত কবিসূলভ। অবশ্য হিন্দু অধ্যাপিকার দু’দিনের অনুষ্ঠানে পরিহিত দুটো ড্রেসই তাকে ভিন্ন ভিন্ন সৌন্দর্য্যে বিভূষিতা করেছে। চোখে সানগ্লাস ছিল বেশ মানানসই। মর্নিং ব্রেকফাস্ট সেরে ডাইনিং হল থেকে বেরিয়ে অধ্যাপিকাকে সামনে পেলাম। তাকে দেখেই মনে পড়লো আগের সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমার উপস্থাপিত স্বরচিত গীতি কবিতার খন্ড চিত্র।
জীবন সঙ্গীতে বাজাও বাঁশি-
দেখতে চাই সবুজ হাসি
মনের মুকুরে ঝরণা কন্ঠে বলো- যে ভালোবাসি,
মনের সবুজে হৃদয় আয়নায়- স্বপ্ন ভাটিয়ালী গায়।
অনুষ্ঠানে আরো কজন সুন্দরী ভদ্র যুবতী মহিলা উপস্থিত ছিলেন। প্রথম দিকে অধ্যাপিকার দিকে আমার চোখই পড়েনি। তার সঙ্গীতে তাকে এমনি উজ্জ্বলতা দিলো যে, এরপর থেকেই তার প্রতি আমার দৃষ্টি আকৃষ্ট হলো। সঙ্গীতের মহিমা মানুষকে কতটুকু মহীয়ান করে তুলতে পারে। পাশে বসা এক বন্ধুকে অভিজ্ঞতাটি শেয়ার করতেই তিনি বল্লেন, মেয়েরা গাইলে একটু এমনি লাগে। তার কাছে এর বিশেষত্বের স্বীকৃতি না পেয়ে হতাশ হইনি।
    ডাইনিং হল থেকে আমাদের সবার মিলনায়তে পরের অনুষ্ঠানে মিলিত হবার কথা ছিল। কিন্তু হতাশ হলাম। পরে জানতে পারলাম বরিশালের বরগুনায় অধ্যাপিকা তাঁর জেলা প্রতিনিধি দলের সাথে আগেভাগেই কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে বিদায় নিয়েছেন। তার সাথে ক্ষনিক পরিচয় এবং কুশল বিনিময় এ তার সঙ্গীত পরিবেশনের জন্য প্রশাংসা করার মূহুর্তটি ছিল বিদায়ী সাক্ষাৎ। জানলাম। ভাবলাম ভালোই হলো। মিসেসদের সাথে পরিচয় খুব সীমিত হওয়াই ভালো। যেকোন বিষয়েই আমি সীমার মধ্যে থাকতে পছন্দ করি। ঝুট ঝামেলা পোহাতে চাইনা। অবশ্য মিসদের সাথে আমার পরিচয় বা কৌতুহল মোটেই কাংখিত নয়। ব্যতিক্রম যে নেই তা হলফ করে বলবোনা। কারণ কাউকে সঙ্গীত ছাড়া অন্যকোন শিল্পগুণতো উজ্জ্বলতা দিয়ে বসতে পারে। তখন আমি কি করবো ? আমার অজান্তেই আলো আমাকে আলোকিত করে ফেলতে পারে। কারণ সংক্রামক স্বাস্থ্য নয় ব্যাধি।
    অবশ্য আগের রাতে রুম মেট বন্ধুর রাতব্যাপি নানা রকমের মোবাইল আলাপচারিতা ঘুমের যথেষ্ট ব্যাঘাত ঘটালো। কিছু নতুন অভিজ্ঞতাও দিলো। সুন্দরীদের সাথে মোবাইলে সময় কাটানোর প্রাকটিস তার আছে। এসব নাকি মোবাইল ফ্রেন্ডশিপ। আমার অবশ্য এসবের সময় হয়না। স্বভাবেও নেই। অনেকটা নিরামিষ স্বভাবের। রোমাঞ্চটাই আমার সবকিছু, ফ্যান্টাসিও বলতে পারেন। একটু আগে যে সুন্দরী বল্লাম। মোবাইল ফ্রেন্ডকে না দেখে কি করে সুন্দরী বিশেষণ দিলাম। তাইতো প্রশ্ন ? বন্ধু থেকেই জানলাম। তাছাড়া সুন্দরী ছাড়া মূল্যবান সময় অপচয় করার পাত্র তিনি নন। তবে যার দৃষ্টিতে যে সন্দুরী। যার যার মনছবি। বরিশালের যে অধ্যাপিকা কার মনছবি ? বলতে পারেন ?

ভুলে বসতি || গাজী গিয়াস উদ্দিন

জন্মমৃত্যুর লীলা ডোরে আমাকে বেঁধেছ
খেলছ নিয়ে কান্নাহাসি,
নশ্বরে দুর্নীতি মোহে সভ্যতা-সংস্কৃতি
বাজাই দিবানিশি ভুলের বাঁশি।
যা’ বুঝি ভুলে থাকি, যা’করি স্বেচ্ছাচার
পাপপূণ্যে মেতে থাকি,
মায়ায়- ভালোবাসায় আচ্ছন্ন পৃথিবী
পরম সত্যে বিস্মৃত থাকি।
সকাল সন্ধ্যা আত্ম- আত্মীয়ে
রঙীন স্বপ্নের জাল বুনি,
এ জীবন সীমা- এ স্বপ্ন সীমা
অসীম ভেবে কাল গুণি।
মানুষের অধিকার বিধাতার বিধান
ভুলে গিয়ে নফছের ভোগবাদী,
ভাঙেনা ঘুম সুখ সম্ভোগে
হঠাৎ জেগে দেখি মৃত্যুদূত।
বৃষ্টিস্নাত অবিরাম বর্ষণে
সিক্ত রহমতে ভুলে যাই,
প্রচন্ড খরায় চৌচির জীবন
শুকাবে নিষ্ঠুর ভুল নাই।
১/৯/১১

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ