প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label রুপকথার গল্প. Show all posts
Showing posts with label রুপকথার গল্প. Show all posts

Tuesday, October 18, 2011

বন্ধুত্বের পরখ || আহমেদ রিয়াজ অনূদিত

অনেক অনেক বছর আগের কথা। এক গ্রামে বাস করতো দুই বন্ধু। একজন ওলেলে, অন্যজন ওমোটেই। মুখোমুখি বাড়ি দু'জনের। তাদের বন্ধুত্বের কথা জানতো গ্রামের সবাই। আর তাদের প্রতিবেশী ছিলো এক বুড়ো। বুড়ো হলে কী হবে_ অনেক বিষয়ে বেশ জ্ঞান ছিলো তার। একবার ওলেলে আর ওমোটেইয়ের বন্ধুত্ব পরখ করে দেখতে চাইলেন তিনি।
দুই বাড়ির মাঝে পায়ে হাঁটা পথ। এক সকালে ওই পথ দিয়ে হাঁটছিলেন বুড়ো। মাথায় একটা নতুন টুপি। টুপিটার একপাশ লাল, অন্যপাশ সবুজ।
প্রথমেই দেখা হলো ওমোটেইয়ের সঙ্গে। নিজেদের জমিতে লতানো গাছের পরিচর্যা করছিলো সে।
বুড়ো বললেন, 'শুভ সকাল, ওমোটেই।'
ওমোটেই বললো, 'শুভ সকাল। খুব সুন্দর লালটুপি পরেছেন দেখছি।'
বুড়ো বললেন, 'ধন্যবাদ। টুপিটা সুন্দর হয়েছে জেনে খুশি হলাম।'
ওমোটেই বললো, 'সত্যিই খুব সুন্দর টুপিটা।'
টুপিটা ধরে একটু ঠিকঠাক করে আবার হাঁটতে শুরু করলেন বুড়ো। কিছুক্ষণ পর দেখা হয়ে গেলো ওলেলের সঙ্গে। ওলেলে তখন জমির আগাছা পরিষ্কার করছিলো।
জ্ঞানী মানুষ হাঁক দিলেন, 'শুভ সকাল, ওলেলে।'
ওলেলে ঘুরে তাকালো জ্ঞানী মানুষের দিকে। নতুন টুপিটা তারও চোখ এড়ায়নি। বললো, 'ওহ্! কী সুন্দর সবুজ রঙের টুপি পরেছেন। নতুন নাকি?'
মুচকি হেসে বুড়ো বললেন, 'এই আর কি। এমন একটা সুন্দর টুপির শখ অনেকদিন থেকেই ছিলো। সে যাই হোক। তারপর বলো, কেমন আছো তুমি?'
ওলেলের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে চলে গেলেন বুড়ো।
একসময় সূর্যটা চলে এলো একেবারে মাথার ওপর। দুপুরের খাবারের সময় হয়ে গেছে। কাজ বন্ধ করে ওলেলেই চললো প্রিয় বন্ধু ওমোটেইয়ের কাছে। প্রতিদিন দু'জন একসঙ্গে দুপুরের খাবার খায়। খেতে খেতেই ওমোটেই জানতে চাইলো, 'আমাদের প্রতিবেশী বুড়োর নতুন লাল টুপিটা দেখেছো? খুব সুন্দর, তাই না?'
অবাক হয়ে ওলেলে বললো, 'লাল! সবুজ টুপিটাকে তুমি লাল বলছো? টুপিটা তোমার কাছে হয়তো লাল মনে হয়েছে। আসলে সূর্যের ঝকমকে আলো তোমার চোখে ধাঁধা লাগিয়ে দিয়েছে।'
ওমোটেই বললো, 'মানে! তুমি কী বলতে চাইছো?'
বন্ধুর বোকামোতে একটা ব্যঙ্গ হাসি দিলো ওলেলে। বললো, 'আমাদের প্রতিবেশী বুড়োর মাথায় লাল টুপি দেখিনি বন্ধু। সবুজ টুপি দেখেছি।'
ওমোটেই বললো, 'সবুজ টুপি! ওহ্, বন্ধু আমার, উল্টাপাল্টা কী বলছো বুঝতে পারছি না! ওটা সবুজ টুপি ছিলো না। লালই ছিলো। আমি ভালোমতো দেখেছি।'
গলা চড়িয়ে ওলেলে বললো, 'উঁহু। আমিই ঠিক বলছি। ওটা সবুজ ছিলো।'
বন্ধুর চড়া গলা শুনে বিরক্ত হলো ওমোটেই। গলা চড়ালো সে-ও, 'আমিই ঠিক দেখেছি। টুপিটা লালই ছিলো'
এবার রেগে গেলো ওলেলেও। চেঁচিয়ে বললো, 'টুপিটা সবুজই ছিলো।'
তারপর টুপির রঙ নিয়ে শুরু হলো দু'জনের মধ্যে চিৎকার আর চেঁচামেচি। খানিকপর ঝগড়া। আরও খানিকপর বিষয়টা আর ঝগড়াতেই আটকে রইলো না, হাতাহাতিতে গিয়ে ঠেকলো। ওদের হাতাহাতি আর চিৎকার শুনে জড়ো হতে লাগলো অন্য প্রতিবেশীরা। একটু পর ওদের প্রতিবেশী সেই বুড়ো ভিড় ঠেলে এগিয়ে এলেন দু'জনের সামনে। জানতে চাইলেন, 'এসব কী হচ্ছে? দুই বন্ধু মারামারি করছো? আমি তো ভেবেছিলাম তোমরা খুব ভালো বন্ধু। তোমাদের বন্ধুত্বের নমুনা এই? ছিঃ ছিঃ ছিঃ!'
মাঝপথে বাধা পেয়ে থেমে গেলো ওলেলে আর ওমোটেই। চোখ বড় বড় করে তাকালো বুড়োর দিকে। ঠিক তখনই টুপিটার সবুজ দিকটা ওমোটেইয়ের আর লাল দিকটা ওলেলের চোখে পড়লো।
সঙ্গে সঙ্গে ওলেলে বললো, 'বন্ধু ওমোটেই, আমি আসলেই দুঃখিত। তুমি ঠিক কথাই বলেছিলে তখন। আমাদের প্রতিবেশীর টুপিটা সত্যিই লাল।'
সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে উঠলো ওমোটেই, 'না, না, তুমি ভুল বলোনি। না জেনে ভুল কথা আমিই বলেছি। সূর্যের চিকচিকে আলোয় আমার চোখে সত্যিই তখন ধাঁধা লেগেছিলো। সে জন্যই আমাদের প্রতিবেশীর সবুজ টুপিটাকে লাল দেখেছিলাম।'
ওলেলে বললো, 'উঁহু। তুমিই ঠিক বলেছিলে। টুপিটা আসলেই লাল।'
ওমোটেই বললো, 'না। তুমিই ঠিক বলেছিলে, সত্যি সত্যি টুপিটা সবুজ।'
তারপর আবার শুরু হলো দু'জনের চেঁচামেচি, হৈচৈ, ঝগড়া। দু'জনের ঝগড়া দেখে না হেসে পারলেন না বুড়ো। হাসতে হাসতেই মাথা থেকে টুপিটা খুলে দেখালেন, 'দেখো এটা। টুপির ব্যাপারে কারোরই ভুল ছিলো না। কিন্তু বন্ধুত্বের ব্যাপারে তোমরা কেউই ঠিক নও। আসলে এখনও তোমরা কেউ কারও সেরা বন্ধু হতে পারোনি। টুপির রঙ নিয়ে দু'জনই হৈচৈ করেছো, চেঁচামেচি করেছো, রাগারাগি করেছো, এমনকি মারামারিও করেছো। তোমরা কেউ ঠাণ্ডা মাথায় যাচাই করে দেখোনি, কার কথাটা ঠিক। নিজের দেখাটাকেই সঠিক হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছো। টুপি, টুপির রঙ এসব কিছুই তোমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো না। গুরুত্বপূর্ণ ছিলো নিজের কথা।'
ওলেলে বললো, 'আপনি ঠিকই বলেছেন। আসলে যাচাই ছাড়া কেউই বুঝতে পারে না, কার বন্ধুত্ব কতোখানি। টুপিটা লাল নাকি সবুজ, সেটা এখন আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়_ ওমোটেইয়ের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব কতোখানি_ সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।'
সঙ্গে সঙ্গে ওমোটেইও সমর্থন জানালো বন্ধু ওলেলের কথায়, 'আমার কাছেও।'
এরপর থেকে তাদের বন্ধুত্ব হয়েছে আরও গভীর।
সূত্র : সমকাল

ইঁদুর দিল ভোঁ-দৌড় || সহীদ সরকার অনূদিত

বিড়াল আর ইঁদুরে বড়ই ভাব। সিদ্ধান্ত নিলো তারা একসঙ্গে এক চালের নিচে বাস করবে। যেই বলা সেই কাজ। শুরু হলো একই বাড়িতে বসবাস। শীতকালে খাবার-দাবারের খুবই অভাব। শীতের জন্য তারা কিনলো একটি চর্বির পাত্র। লুকিয়ে রাখলো দূরের একটি গির্জার পেছনে। যখন খাবারে টান পড়বে তখন এই পাত্রের খাবার খাবে তারা।
একদিন বিড়ালটি বলল, শোনো পুচ্চি ইঁদুর, আমার চাচাতো বোনের চাঁদের মতো ফুটফুটে একটি ছেলে হয়েছে। তার ছেলেটির উৎসর্গের দিনে আমার সেখানে নিমন্ত্রণ। তাই তোমাকে একাকী এখানে রেখে আমাকে যেতে হবে।
ঠিক আছে, যাও। তবে ভালো খাবার পেলে আমার কথাও একটু ভেবো। কতদিন আমি লাল তেঁতুলের শরবত খাই না, বলল ইঁদুরটি।
বিড়ালটি সোজা চলে গেল গির্জার পেছনে। লুকিয়ে রাখা চর্বির পাত্রের ওপর থেকে খানিকটা চর্বি হাপুস হুপুস করে খেয়ে নিল। তারপর ধীর পায়ে চলে গেল শহরে। বাড়ি ফিরলো সন্ধ্যার পরে।
নিশ্চয়ই বেশ ভালোই কেটেছে তোমার সময়টা। তা কী নাম রাখলে ভাগ্নের? ইঁদুর জিজ্ঞাসা করলো। টফ-অফ, টফ-অফ নাম রেখেছি ভাগ্নের।
টফ-অফ, ভারি মজার নাম তো! এমন নাম তো আগে কখনো শুনিনি।
কিছুক্ষণ পর আর একটি ফন্দি আঁটলো বিড়ালটি।
সে ইঁদুরটিকে ডেকে বলল, আমাকে আবার দ্বিতীয় ভাগ্নেটির কাছে যেতে হবে। আজ তার হাতে সাদা আংটি পরাতে যেতে হবে। আমি বোনটাকে না বলতে পারিনি। তোমাকে এবারও আমাকে সাহায্য করতে হবে। বাড়িটির দিকে একটু নজর রেখো ভাই।
মাথা নেড়ে সায় দিল ইঁদুরটি। চতুর বিড়াল গির্জার পেছনে গিয়ে চর্বির অর্ধেকটা খেয়ে কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরে এলো।
আচ্ছা, তোমার বোনটির নাম তো জানা হলো না। কী নাম তার? ইঁদুর জিজ্ঞাসা করলো।
হাফ-গন!
হাফ-গন! কী বলছো তুমি! এমন নামতো আমি জীবনেও শুনিনি! নামের বইয়েও তো এ রকম নাম খুঁজে পাওয়া যাবে না।
বিড়ালটির মাথায় তখনো চর্বির কৌটার চিন্তা।
তৃতীয়বারের মতো আমাকে তারা দাওয়াত করেছে। এবারের ভাগ্নেটা কালো। কিন্তু তার পা দুটো সাদা। সারা শরীরে আর কোথাও সাদা রঙ নেই। এমন ঘটনা খুব কমই দেখতে পাওয়া যায়। যাই হোক তুমি আমাকে যাওয়ার জন্য অনুমতি দাও। বিড়ালটি হাসতে হাসতে বলল।
টফ-অফ, হাফ-গন! নামগুলো বেশ রহস্যের মধ্যে ফেলছে আমাকে। ঠিক আছে, যাও_ ইঁদুর বলল। ইঁদুরটি ছিল হাবাগোবা। বাড়ি, ঘরদোর সে সুন্দরভাবে পরিষ্কার করে রাখে। আর এর মধ্যে চর্বির কৌটা থেকে সবটুকু চর্বি খেয়ে সাবাড় করে ফেলেছে ধূর্ত বিড়াল। রাতে বেশ চনমনে হয়ে বাড়ি ফিরলো বিড়ালটি।
তৃতীয় ভাগ্নেটির নাম কী রাখলে বল্পুব্দ?
অল-গান!
অল-গন! বেশ ভয়ঙ্কর নাম তো! এ নামের অর্থ কী? কোনো বইপত্রে এমন নাম দেখিনি! মাথা নাড়তে নাড়তে ঘুমোতে গেল বেচারা ইঁদুর।
চতুর্থবারের মতো কেউ আর বিড়ালটিকে দাওয়াত করলো না। অবশেষে শীতকাল চলে এলো। খাবার-দাবারের খুবই অভাব।
ইঁদুর বিড়ালকে বলল, চলো গির্জার পেছন থেকে লুকিয়ে রাখা চর্বির কৌটাটি নিয়ে আসি।
দু'জন সেখানে গিয়ে খুঁজে পেল খালি কৌটাটি।
বুঝতে পারলাম তোমার চালাকি। তুমি তাহলে এখানেই এসেছ দাওয়াত খেতে। প্রথমবার টফ-অফ, দ্বিতীয় বার হাফ-গন, আর তৃতীয়বার অল-গন?
চুপ করো। বেশি হম্বিতম্বি করলে আমি তোমাকেই খেয়ে ফেলবো।
ধমক শুনে থমকে গেল বেচারা ইঁদুর।
তৃতীয় ভাগ্নের নাম তাহলে অল-গান। বলেই বিড়াল তাকে ধরে ফেলার পূর্বেই মাথা নিচু করে দিল ভোঁ-দৌড়। পেছনে তার বল্পুব্দরূপী চতুর বিড়াল।
সূত্র : সমকাল

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ