প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label টিপস. Show all posts
Showing posts with label টিপস. Show all posts

Thursday, December 8, 2011

সংসার সুখের হয় দু’জনের গুণে || আরিফুন নেছা সুখী

প্রচলিত একটা কথা ‘সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে’; কিন্তু রমণীদের কেন সংসার সুখের করার সব দায়ভার! তাই ইদানীং আরও একটা লাইন যুক্ত হয়েছে—‘গুণবাণপতি যদি থাকে তার সাথে।’ সত্যিই তো সংসার যদি দু’জনের হয় তাহলে দায়িত্ব তো দু’জনেরই হওয়া উচিত। কিংবা দু’জন কেন, সংসারে উপস্থিত সব সদস্যেরই উচিত সংসারটাকে সুখী করে তোলা।
কথা হলো সদ্যবিবাহিত লাবণী আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, সবই ভালো, কিন্তু শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে নিজের মেয়ে ভাবতে পারেন না, সবকিছুতেই মনে করিয়ে দেন আমি এই বাড়ির বৌ। আমি কিন্তু তাদের নিজের মা-বাবার মতোই মনে করি। তবে আমার স্বামী আমাকে যথেষ্ট বোঝে।
আবার অন্য এক সদ্যবিবাহিত সাথী রহমান। তিনি বলেন, মা-বাবা, ভাই-বোনকে ছেড়ে নতুন জায়গাতে এসেছি, এখানে খাপ খাওয়াতে তো একটু সময় লাগবেই। কিন্তু আমার স্বামী আমাকে একটুও বোঝে না, বরং শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে মানিয়ে নিতে বেশ সাহায্য করেন।
এই দুই নববিবাহিত মহিলার সমস্যা দুই রকম। একজনের স্বামী তাকে বোঝে না, আরেকজনের শ্বশুর-শাশুড়ি বোঝে না। আবার কারও বেলায় কেউই বোঝে না। কিন্তু কথা হলো আপনি নিজে কতটা বোঝেন। তাই নিজেকে জিজ্ঞেস করুন তো আপনি কী নিজেকে উজাড় করে দেন আপনার সংসারের জন্য। নিজেকে আদর্শ করে তোলার জন্য নিজের আন্তরিকতার শতভাগ দেয়ার চেষ্টা করুন।
স্বামী-স্ত্রী দু’জনেরই উচিত নিজেকে বোঝা। তাই তাদের নিজেদের বোঝার জন্য, সম্পর্কটা আরও মধুর করার জন্য মেনে চলুন কয়েকটি সহজ উপায়—
* একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করুন।
* ব্যস্ততা তো থাকবেই, তার মধ্য থেকে একটু হলেও সময় বের করে খোঁজখবর নিন।
* জন্মদিনটা ভুলেও ভুলে যাবেন না, তাহলে কিন্তু বিপদ। তাই জন্মদিনটা মোবাইলে সেভ করে রাখুন। তেমন বিবাহবার্ষিকী বা বিশেষ দিনগুলো।
* পরিবারের অন্যদের একে অপরের ভাললাগা মন্দ লাগা সম্পর্কে জানিয়ে দিন। তার ভাল লাগা মন্দ লাগাকে প্রাধান্য দিন।
* কোনো কিছু গোপন করবেন না। নিজেরা না বলে অন্যরা কেউ বললে তাতে সমস্যা বাড়বে, বৈ কমবে না! তাই নিজেদের সমস্যা নিজেরা মিটিয়ে নিন।
* কোনো ভুল করলে স্বীকার করে নিন। একে অপরের ভুল ভাঙাতে সাহায্য করুন।
* কোনো ভালো কাজ করলে তার জন্য অবশ্যই প্রশংসা করবেন।
* নিজের পরিবারকে প্রাধান্য না দিয়ে একে অন্যের পরিবারের মানুষের সঙ্গে সদ্ভাব করুন। ফোনে কথা বলুন। খোঁজখবর নিন।
* খেয়াল রাখুন সে কাকে বেশি পছন্দ করে, তাকে আপনিও প্রাধান্য দিন। দু’জনই এ পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।
* দু’জন এক সঙ্গে না বলে, এক জন বললে আরেক জন শুনুন। মাথা ঠাণ্ডা হয়ে এলে পরে বুঝিয়ে বলুন। তখন ভুলগুলো বুঝতে সহজ হবে।
পদ্ধতিগুলো একটু চেষ্টা করলেই মেনে চলা যায়। আর মেনে চললে দেখবেন সংসার কতটা সুখময় হয়ে ওঠ। তাই একে অপরকে বুঝুন, সর্বোপরি একে অন্যকে শ্রদ্ধা করুন আর ভালোবাসুন নির্ভেজাল ভাবে।
সূত্র : আমার দেশ

Monday, December 5, 2011

আত্মহত্যা কি? ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে আত্মহত্যার পরিনাম ও মুক্তির উপায় || মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন

আত্মহত্যা কি?
আত্মহত্যা মানে নিজকে নিজে ধ্বংস করা। নিজ আত্মাকে চরম যন্ত্রণা ও কষ্ট দেয়া। নিজ হাতে নিজের জীবনের সকল কর্মকাণ্ডের পরিসমাপ্তি ঘটানো।

মানুষ কেন আত্মহত্যা করে?
মানুষ কেন আত্মহত্যা করে সে বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া যাক। আত্মহত্যার অনেক কারণ আছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ
১. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য, যৌতুকের কারনে ঝগড়া বিবাদ
২. পিতা-মাতা ও ছেলে-মেয়ের মধ্যে মনোমালিন্য,
৩. পরীক্ষায় ব্যর্থতা,
৪. দীর্ঘস্থায়ী রোগ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া,
৫. প্রেম-বিরহ, মিথ্যা অভিনয়ের ফাঁদে পড়ে
৬. ব্যবসায়ে বারে বারে ব্যর্থ হওয়া,
৭. শক্রর কাছে ধরা না দেয়া ইত্যাদি।

যখন জ্ঞান-বুদ্ধি-উপলব্ধি-অনুধাবন শক্তি লোপ পায়, নিজকে অসহায়-ভরসাহীন মনে হয়, তখনই মানুষ আত্মহত্যা করে বসে।

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে আত্মহত্যার পরিনামঃ
ইসলামী দৃষ্টিকোণে বিষয়টি আলোচনা করা যায়। আল্লাহ মানুষকে মরণশীল করে সৃষ্টি করেছেন। তিনিই মৃত্যু ঘটান। কিন্তু আত্মহত্যার ক্ষেত্রে বান্দা স্বাভাবিক মৃত্যুকে উপেক্ষা করে মৃত্যুকে নিজের হাতে নিয়ে নিজেই নিজকে হত্যা করে ফেলে। এ কারণে এটি একটি গর্হিত কাজ। তাই আলাহ তা মোটেই পছন্দ করেন না। এ কারণে যদিও শরিয়তে আত্মহত্যাকারীর জানাযা হয় তবু রাসূল (সাঃ) তা নিজে পড়াননি। সাহাবী দ্বারা তা পড়ানো হয়। এ সূত্র ধরে আমাদের সমাজেও উচ্চ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন আলেমের স্থলে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন আলেম দ্বারা আত্মহত্যা কারীর জানাযার নামায পড়ানো হয়।

কোরআনের বানীঃ
আত্মহত্যা মহাপাপ। এ কাজ থেকে বিরত থাকতে মহান আল্লাহ্‌ তা’আলা বিশেষভাবে নির্দেশ দান করেছেন এবং এর পরিনামের কথা ভাববার জন্য কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির বর্ণনা দিয়ে মহা পবিত্র আল কুরআনে আয়াত অবতীর্ণ করেছেন।

মহান আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেন, “আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু। এবং যে কেউ জুলুম করে, অন্যায়ভাবে উহা (আত্মহত্যা) করবে, অবশ্য আমি তাকে অগ্নিদগ্ধ করবো, আল্লাহর পক্ষে উহা সহজসাধ্য।” (সূরা-নিসা-২৯-৩০)

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর বানীঃ

ক) সাহাবা আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ঐভাবে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে।

খ) যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে সেও জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ঐভাবে নিজ হাতে বিষপান করতে থাকবে।

গ) যে কোন ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করেছে তার কাছে জাহান্নামে সে ধারালো অস্ত্র থাকবে যার দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেটকে ফুঁড়তে থাকবে।

ঘ) রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সে দোজখে অনুরূপভাবে নিজ হাতে ফাঁসির শাস্তি ভোগ করতে থাকবে। আর যে বর্শা ইত্যাদির আঘাত দ্বারা আত্মহত্যা করে- দোজখেও সে সেভাবে নিজেকে শাস্তি দেবে।

ঙ) হযরত জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের পূর্বেকার এক লোক আহত হয়ে সে ব্যথা সহ্য করতে পারেনি। তাই সে একখানা চাকু দিয়ে নিজের হাত নিজেই কেটে ফেলে। এর পর রক্তক্ষরণে সে মারা যায়। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে বড় তাড়াহুড়া করে ফেলেছে। তাই আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।

আত্মহত্যা থেকে মুক্তির উপায়ঃ
১. পিতা-মাতার কাজ হবে ছেলে-মেয়েদের অযথা ধমক না দেয়া, ভৎসনা না করা।
২. এমন মানসিক কষ্ট না দেয়া যাতে তাদেরকে আত্মহত্যার মতো চরম পদক্ষেপ দিতে বাধ্য করে।
৩. মারাত্মক ও কষ্টদায়ক অসুখে পড়লে নামাযে দাঁড়িয়ে যাওয়া। দাঁড়াতে না পারলে বসে পড়া, তা না পারলে শুয়ে ইশারায় পড়া এবং সেজদায় এ দোওয়া করা। হে আমার রব। আমাকে রোগে কষ্ট দিচ্ছে। আপনি তো দয়ালুদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। আমাকে রোগ-মুক্ত করুন। আইয়ুব (আঃ) তাঁর ভীষণ অসুখে এ দোওয়া পড়েছিলেন (সূরা আম্বিয়া আয়াত ৮৩ “রাব্বি আন্নি মাস্যানিয়াত দুররু ও আনাতা আরহাদুর রাহেমিন”। এ দোওয়া পড়ে রোগমুক্ত হন।
৪. ব্যবসায় ক্রমাগত ক্ষতি হলে মাঝে মাঝে নফল নামাযে সেজদায় গিয়ে এ দোওয়া পড়াঃ আল্লাহুম্মার জুকনা রিযকান হাসানা। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবুকা মিনাল ফাকরি অলকিল্লাতি অজজিল্লা”। অর্থ হলোঃ হে আল্লাহ। আমাকে মঙ্গলকর জীবিকা দান করুন। আমি আপনার নিকট গরিবী স্বল্পতা ও হীনতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আপনিই তো একমাত্র রিজিকের মালিক এবং দাতা। আপনি সূরা জুমার ৫৩ আয়াতে বলেছেন “ আমার দয়া থেকে নিরাশ হয়ো না”। তাই আমার রুজি বাড়িয়ে দিন।
৫. পরীক্ষা এসে গেলে আগে থেকে ছাত্রদের মাঝে মাঝে নফল নামাযে সেজদায় গিয়ে এ দোওয়া করা। হে আল্লাহ। আপনিই তো জ্ঞান-প্রতিভা-মেধা ও ফল দেয়ার মালিক। এগুলো দিয়ে আমাকে অনুগ্রহ করুন যাতে আমি পরীক্ষায় ভাল ফল করতে পারি। কোরআনের ভাষায় এ দোওয়া হলো “রাব্বি জিদনি এলমা।” অর্থ হলো। হে প্রভু। আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।
৬. আত্ম-হত্যার কথা মনে, আসলে এ বিপদ থেকে রক্ষাকল্পে নফল নামাযে দাঁড়িয়ে যাওয়া এবং সিজদায় গিয়ে বিনীতভাবে আল্লাহর আগ্রহ-দয়া-সাহায্য কামনা করা প্রয়োজন। প্রতি মুহূর্তে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।
৭. এ ঘাত-সংঘাতময় জীবনে মাঝে মাঝে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হবে- এটা তো স্বাভাবিক। আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পরিচ্ছদ। একে অপরের শান্তিদাতা ও শান্তিদাত্রী। দোষ-গুণ নিয়েই মানুষ। কারও মাঝে সব গুণের একত্র সমাহার বিরল। স্বামীর যেমন কিছু গুণ থাকে তেমনি কিছু দোষও থাকে। স্ত্রীর ব্যাপারেও একথা সমভাবে প্রযোজ্য। তাই উভয়কে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিতে হবে। নিজেদের মধ্যে সংলাপ-সহযোগিতা-সমঝোতা-সহমর্মিতা থাকতে হবে। উভয়কে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। আল্লাহ সূরা ফুরকান আয়াত ৭৪ এ ব্যাপারে দোওয়া শিখিয়ে দিয়েছেন যা হলো “রাব্বানা হাবলানা মিন আগওগানা ও জুর রিয়্যাতেনা কুররাতা আ’য়ুনু অজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমাম।” অর্থ হলোঃ হে আমাদের প্রতিপালক। আমাদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদেরকে নয়ন তৃপ্তিকর করে দিন এবং মোত্তাকীদের আমাদের জন্য আদর্শ স্বরূপ করে দিন।

পরিশেষেঃ
মোট কথা যখনই নিজেকে অসহায় ও আশাহত মনে হয় এবং আত্মহত্যার চিন্তা আসে তখনই মনে করতে হবে এখন শয়তান এসেছে। ইসলামে আত্মহত্যা নাজায়েয এবং তার পরিণতি জাহান্নাম। তাই এ থেকে দূরে থাকা ব্যাঞ্ছ্যনীয়। সাথে সাথে মনে করতে হবে আল্লাহই আমার সহায় এবং আশার আলো। তাই পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামায পড়ার সাথে নফল নামাযের মাধ্যমে আল্লাহর দয়া ও সাহায্য কামনা করতে হবে। প্রতি মুহূর্তে সবর অর্থাৎ ধৈর্য ধারণ করতে হবে। এতে ইনশাআল্লাহ মন ও হ্নদয় প্রশান্ত থাকবে এবং বিপদ দূরীভূত হবে।
হে মহান আল্লাহ। সকল স্তরের নর-নারী ও সন্তান-সন্তুতিকে আত্মহত্যার মত পাপ থেকে বেঁচে থাকার মত জ্ঞান বুদ্ধি ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মত সুচিন্তা ও চেতনা দান করুন। আমীন
মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন, দুবাই, ইউ এ ই

ইন্টারভিউ বোর্ডে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ কেমন হওয়া উচিত || মুহাম্মদ আবু নাসের

ইন্টারভিউয়ে সব প্রশ্নের উত্তর সঠিক এবং টু দ্য পয়েন্টে দেয়ার পাশাপাশি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়েও কিন্তু আপনাকে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে। তা না হলে ছোটখাটো বদাভ্যাসের জন্য আসন্ন চাকরির লিস্ট থেকে আপনার নাম বাদ পড়ে যেতে পারে। তাই ইন্টারভিউ বোর্ডে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কে খেয়াল রাখুন।

ইন্টারভিউয়ের আগের দিন রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়াই ভালো। তাহলে পরের দিন সকালে উঠলে আপনার মধ্যে রিফ্লেশিং গ্লো কাজ করবে, যা বোর্ডে আপনাকে ইমপ্রেশন তৈরি করতে সাহায্য করবে।

ইন্টারভিউয়ের দিন প্রয়োজনের থেকে অনেকটা বেশি সময় হাতে নিয়ে বেরনোই ভালো। বোর্ডে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগেই আপনার মুভমেন্ট দেখে আপনার প্রতি সবার একটা ধারণা জন্ম হয়। তাই ইন্টারভিউ রুমে দাঁড়ানো এবং বসার ভঙ্গিমা নিয়েও আপনাকে খুব সচেতন থাকতে হবে।

১. আপনাকে বসতে না বলা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।

২. বসার সময় শব্দ করে চেয়ার টেনে বসবেন না।

৩. সিটে বসার সময় স্ট্রেট হয়ে বসবেন এবং হাত দুটোকে চেয়ারের হাতলের ওপর রাখুন। টেবিলের ওপর না রাখাই ভালো। তাহলে কোন কিছু বোঝাতে হাত দুটোকে চট করে ব্যবহার করতে পারবেন।

৪. বোর্ডের কোন কথার সঙ্গে আপনি একমত হলে অবশ্যই মাথা নেড়ে সমর্থন করবেন এবং সেই সঙ্গে সোজা হয়ে বসে বিষয়টিতে আপনার উৎসাহ ও আগ্রহের প্রকাশ করতে পারেন।

৫. যিনি প্রশ্ন করছেন, সব সময় তার চোখের দিকে তাকিয়ে সোজা উত্তর দেবেন। এতে আপনার আগ্রহ ও তার প্রতি সম্মান প্রকাশ পাবে। কিন্তু অন্য সময় এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবেন না।

৬. কলম কিংবা জামার বোতাম নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন না।

৭. কোন প্রশ্নের উত্তর না দিতে পারলে মাথা চুলকাবেন না বা মুখে হাত দেবেন না।

৮. অনেকের পা নাড়ানোর অভ্যাস আছে, নার্ভাস হলে এটা আরো বেড়ে যায়।

৯. বোর্ডে ঢুকে একেবারে নীরব থাকতে হবে তা কিন্তু নয়। কথা বলতে বলতে অল্প বিস্তর হাসলে গম্ভীর পরিবেশ অনেক সহজ ও স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার প্রতি একটা পজিটিভ ধারণা তৈরি হবে।
 সূত্র : দৈনিক পূর্বকোণ

Wednesday, October 19, 2011

ভাইরাসের উপস্থিতি বোঝার উপায়

নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারী মাত্রই কম্পিউটার ভাইরাসের ব্যাপারে অভিজ্ঞ হন না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তারা বুঝতে পারেন না কম্পিউটার তার অজান্তে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে কি-না। সে ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো একটু লক্ষ্য করলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে কম্পিউটারে ভাইরাস আছে কি-না :
— কম্পিউটারের গতি ধীর হয়ে যাবে।
— সফটওয়্যার, গেমস এমনকি অডিও-ভিডিও ফাইল চালু হতেও সময় নেবে বেশি।
— ডিস্কে ব্যাড সেক্টর বারবার দেখাবে।
— ওয়ার্ড, নোটপ্যাড ফাইলের ফন্ট নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
— র্যাম, এজিপি কম দেখাতে পারে।
— ডিস্কের ভলিউম লেবেল পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।
— কোনো কিছু সেভ হতে বা লোড হতে বেশি সময় নেবে।
— সিডি, ডিভিডি কপি হতে বেশি সময় নেবে।
— হার্ডডিস্কে জায়গা কমে যেতে পারে।
— অজানা এক্সটেনশনযুক্ত ফাইল দেখা যাবে।
— স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন প্রোগ্রাম রান করবে বা বন্ধ হবে।
— ফোল্ডার অপশন মুছে যাবে।
— ওয়ার্ডে বা নোটপ্যাডে কিছু লিখলে তা অনেক ক্ষেত্রেই সেভ করা যাবে না।
— কিবোর্ড ও মাউস ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে।
— যে গেম আগে ঠিকভাবে চলত সেগুলো কোনো কারণ ছাড়াই চলার সময় বারবার আটকে যাবে।
— পিসি হ্যাং করতে পারে।
— টাস্ক ম্যানেজার কাজ করবে না।
— অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ফোল্ডারের আইকন পরিবর্তন করা যায় না।
সূত্র : আমার দেশ

ইন্টারনেট আসক্তি থেকে মুক্তির কৌশল || বেলাল হোসাইন

ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তি অনেককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যখন আপনার পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গেই আনন্দিত থাকতে পারেন, তখন কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের স্ক্রিনের সামনে সময় নষ্ট করছেন? এই আর্টিকেলটি আপনাকে ইন্টারনেট আসক্তি থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করবে।
১. যখনই আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন : একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যবহার করুন, কখনোই আজ ২ ঘণ্টা কাল ৩ ঘণ্টা আর পরশু ১ ঘণ্টা করলে চলবে না। অন্যভাবে বলতে গেলে, এমনটি বলবেন না যে, আজকে আমি কেবল ১ ঘণ্টা ইন্টারনেটে কাটাব। তারপর একটানা ৪-৫ ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে মনে মনে বলবেন, আমি আজকে মোটামুটি ভালো করেছি। প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য ১ ঘণ্টা যথেষ্ট, খুব প্রয়োজনে ২ ঘণ্টা ব্যবহার করা যেতে পারে। মনে রাখবেন, এই বিষয়ে সতর্ক না হলে আবারও ইন্টারনেট আসক্তির দাসে পরিণত হতে পারেন।
২. যদি ঘড়ি আপনাকে সময়ের মাঝে বেঁধে রাখতে না পারে : তবে একটি Parental control সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে পারেন, কিছু সফটওয়্যার সময় বেঁধে দেয়া (time lock) সমর্থন করে। আপনার বাসার অন্য কাউকে পাসওয়ার্ডটি সেট করতে বলুন যাতে করে শুধু জরুরি ক্ষেত্রেই আপনি এটিকে আনলক করতে পারেন, যখন ইচ্ছা তখন নয়।
৩. অপ্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্টগুলো মুছে ফেলুন : কতগুলো এমন ওয়েবসাইট আছে যাতে আপনার অ্যাকাউন্ট রাখার কোনো দরকারই নেই? ফেসবুক, মাইস্পেস, টুইটার, ইউটিউব কখনও কখনও ফেসবুক বা টুইটার অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হতে পারে এমন বন্ধু বা আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে যারা আমাদের কাছে নেই। তবে ইউটিউব, মাইস্পেস, গুগল প্লাস ইত্যাদি অ্যাকাউন্ট কেবল সময়ের অপচয়ই নয় বরং আসক্তিকরও বটে। এই অ্যাকাউন্টগুলোতে অনেক আলাপ হয়ে থাকে অপরিচিত লোকজনের সঙ্গে। তারপরও যদি অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে না চান তবে পেজগুলো ব্লক করে দিন।
৪. আপনার পেজগুলোও মুছে ফেলুন : শুধু সেই পেজগুলোই রাখুন যা আপনার কাজের জন্য দরকার (hgbÑhomework, office work েইত্যাদি)। যদি ইউটিউব বা অন্যান্য অ্যাকাউন্ট এগুলোর জন্য নিতান্তই প্রয়োজনীয় না হয় তবে মুছে ফেলতে দ্বিধা বোধ করবেন না।
৫. অনলাইন কাজ ছাগা অনেকগুলো অফলাইন কাজ রাখতে ভুলবেন না : আপনি যাতে আনন্দ পান এমন অনেক কাজ করুন। যদি আপনার কোনো শখ না থাকে তাহলে আজই খুঁজতে শুরু করুন। এছাড়া অন্যকে সাহায্য করা বা সমস্যার সমাধান দেয়া একটা অন্যতম উপায়। এটা আপনার মানসিক ও শারীরিক উভয় দিকের খেয়াল রাখে।
৬. অনলাইন বা অফলাইনে থাকা সম্পর্কে সচেতন থাকুন : আপনি কি বুঝতে পারেন না যে কখন আপনি অতিরিক্ত অনলাইনে সময় কাটাচ্ছেন? যদি তাই হয়, আপনার সমস্যা আছে!
৭. আপনি জানেন যে ইন্টারনেট আসক্তি আপনার বাস্তবিক জীবনে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে : আপনাকে আপনার জীবনযাপন করতে হবে পুরোপুরিভাবে, কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে থেকে নয়। বিশ্বাস করতে পারেন যে প্রতিদিন ১,০০০,০০০,০০০ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তথ্যটি অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। আর গবেষক এবং ডাক্তাররা দেখিয়েছেন, কীভাবে প্রতিদিন মানুষ এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে।
৮. তাই ইন্টারনেটকে আপনার জীবনে হস্তক্ষেপ করতে দেয়া বন্ধ করুন : এমন নয় যে আপনি পুরোপুরিভাবে একে ত্যাগ করবেন বা আর কোনোদিন ব্যবহার করবেন না, আপনাকে শুধু দেখতে হবে সঠিক সময়টি। জীবনের পূর্ণতাকে অনুভব করুন। বাইরে যান, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন, আশপাশে ঘুরতে যান এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যকে উপভোগ করুন। যা আপনার দৈহিক ও মানসিক উভয় দিক দিয়ে সাহায্য করবে।
৯. আপনি এখন তৈরি! আপনার নিত্যদিনের কাজ করুন সতেজতার সঙ্গে। তবে অবশ্যই ইলেকট্রনিক ডিভাইস তথা ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকবেন।
সূত্র : আমার দেশ

Saturday, October 8, 2011

যেসব কারণে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যান হতে পারে || আহসান হাবিব

আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার অধিকারী ফেসবুক ব্যবহার করছেন প্রতিদিন। শত শত বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। একদিন ফেসবুকে না ঢুকলে ভালো লাগে না। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, ফেসবুক যে কোনো সময় বিনা নোটিশে আপনার এই শখের অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিতে পারে।
আর তাই আমাদের সবারই সতর্ক থাকা উচিত এবং জানা থাকা উচিত যেসব কারণে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যান হতে পারে।

পর্নোগ্রাফি
এটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যান হওয়ার একটি অন্যতম প্রধান কারণ। আপনার ফেসবুক প্রোফাইল বা অন্য কোথাও আপনি যদি এ ধরনের কোনো ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করেন, তাহলে ফেসবুক আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যান করে দিতে পারে কোনো অ্যাবিউজ রিপোর্ট অথবা নোটিশ ছাড়াই।

ভাষার অপব্যবহার
স্ট্যাটাস আপডেট অথবা মেসেজ আদান-প্রদানের সময় আপনার ভাষার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। বাজে ভাষা ব্যবহার করলে আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা কেউ আপনার নামে রিপোর্ট করতে পারে এবং ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ভূয়া প্রোফাইল
আপনি যদি আপনার নিজের নামের বদলে কোনো সেলিব্রেটি অথবা অন্য কারও নাম ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হবে খুব তাড়াতাড়ি। তবে এজন্য কাউকে অভিযোগ পাঠাতে হয়।

ভয়-ভীতি বা হুমকি প্রদর্শন
কাউকে হুমকি দেয়ার জন্য কখনোই আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করবেন না। এমনকি মজা করার জন্য হলেও না। ফেসবুক এ বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং খুব দ্রুত অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করে দেয়।
স্প্যামিং করা
শুধু ফেসবুক নয়, পুরো ইন্টারনেট জগত এটিকে ঘৃণা করে। আপনার পণ্য বা ওয়েব সাইট প্রমোট করার জন্য ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করাই ভালো। তবে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত এটি করা যেতে পারে যেটি স্প্যামিংয়ের পর্যায়ে পড়ে না।

অতিরিক্ত বন্ধু রিকোয়েস্ট
প্রতিদিন ২০টির বেশি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবেন না। যত কম হয় ততই ভালো। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার এটি আরেকটি অন্যতম কারণ।

অনেক গ্রুপে জয়েন করা
খুব বেশি গ্রুুপে জয়েন না করাই ভালো। ফেসবুক এটি ভালো চোখে দেখে না। আর গ্রুপগুলো থেকে মেসেজ এসে আপনার ইনবক্স ভর্তি হয়ে যেতে পারে প্রতিদিন।

অতিরিক্ত মেসেজ
আপনি যদি আপনার বন্ধুদের ওয়াল অথবা ইনবক্সে প্রতিদিন অনেক বেশি সংবাদ বা মেসেজ পোস্ট করেন, তাহলে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর একই মেসেজ বার বার দিতে চাইলে সেখানে কিছুটা পরিবর্তন করে দিন। নাহলে ফেসবুক এটি স্প্যাম হিসেবে ধরবে হয়তো। মূলত ফেসবুক ব্যবহারের সময় এই বিষয়গুলোর দিকে একটু খেয়াল রাখলে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়ার তেমন কোনো আশঙ্কা থাকবে না। আর ফেসবুক ব্যবহারও হয়ে উঠবে মজার ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।

Monday, October 3, 2011

ধূমপান ছাড়তে

ধূমপানে বিষপান। কিন্তু তার পরও জেনেশুনে এই বিষপান করি অনেকেই। আমরা আমাদের অভ্যেসের বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারি না। মনে হয়, আজ থাক, কাল থেকে ছাড়ব। ভাবি, না থাক, পরশু। পরশু এলে ভাবি, পরের দিন ছেড়ে দেব। তারপর সেই দিন আসে। মনে হয়, যাক না আর কয়েক দিন। এভাবে সেই দিন আর কোনো দিনই আসে না। কিন্তু শুরুটা করতে হবে আজ থেকেই। ধূমপান নামক বিষপানের বদভ্যাসটিও যায় না যতক্ষণ না কোনো জটিল রোগ বাসা বাঁধে। যারা ধূমপান ছাড়তে চান তাদের জন্য—
++ আজই ছাড়ুন। এখনি ছাড়ুন। নিজ সংকল্পে অটল থাকুন। মনে রাখবেন, ধূমপান ছাড়া আর না-ছাড়ার মধ্যে ব্যবধান সিগারেটে শুধু একটিমাত্র টান।
++ সবার সহযোগিতা নিন। পরিবার, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন—সবাইকে পরিষ্কার জানিয়ে দিন, আপনি ধূমপান ছেড়েছেন। কেউ যেন আপনাকে সিগারেট অফার না করে।
++ সবসময় সচল থাকুন। কর্মব্যস্ত থাকুন। অলস বসে থাকবেন না। কারণ, অলস সময়টাতেই ধূমপান করতে বেশি মন চাইবে।
++ ধূমপান ছাড়ার প্রথম কয়েক দিন আপনার কিছুটা শরীর খারাপ লাগতে পারে। খাবার হজম হচ্ছে না বা কোষ্ঠকাঠিন্য হচ্ছে। এটাকে বলা হয় উইথড্রল সিম্পটম। আপনি এসব ব্যাপারে পুরোপুরি ইতিবাচক থাকুন। এসব সাময়িক সমস্যাকে একদম পাত্তা না দিয়ে নিজ সংকল্পে অটল থাকুন।
++ মানসিক চাপ বা স্ট্রেস এড়িয়ে চলুন। বেশির ভাগ লোককেই দেখেছি, তারা মানসিক চাপ থেকে বাঁচতে ধূমপানের আশ্রয় নেন। মানসিক চাপ যখন আসবে তখন চোখ বন্ধ করে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করুন। মেডিটেশন করতে পারেন।
++ ধীরে ধীরে গভীরভাবে কিছুক্ষণ দম নেওয়া ও ছাড়ার অভ্যেস করুন।
++ আপনার নিজস্ব খরচের দিকে তাকান। ভাবুন, ধূমপান ত্যাগের ফলে প্রতিদিন কতগুলো টাকা বেঁচে যাচ্ছে। সেই টাকাগুলো গুনুন। ভাবুন, এভাবে প্রতিদিন এই পরিমাণ টাকা বেঁচে গেলে মাসে কত টাকা বাঁচছে। মাস শেষে সেই পরিমাণ টাকা দিয়ে নিজের জন্য কোনো শৌখিন জিনিস কিনুন অথবা প্রিয়জনকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আসুন। ধরে নিন, ধূমপান ত্যাগের জন্য এটা আপনার পুরস্কার।
++ মনে রাখবেন, ধূমপানমুক্ত প্রতিটি দিন আপনার স্বাস্থ্য, পরিবার ও আপনার পকেটের জন্য নিয়ে আসবে সুখবর।
সূত্র : ইত্তেফাক

পথে হাঁটার আদব-কায়দা || প্রাঞ্জল সেলিম

আমরা অনেকসময়ই অনেক শিক্ষিত হয়েও আচরণটা করি একেবারে মূর্খের মতো। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি কিছু ম্যানার্স বা আদব-কায়দা জানা জরুরি। কারণ এসবের মাধ্যমে ব্যক্তিত্ব ও রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটে। অনেক যোগ্য ও অভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও অনেকে এসব ম্যানার্স বা আদাব-কায়দা না জানায় পিছিয়ে পড়ে ক্যারিয়ারের দৌড়ে। পথে হাঁটার আদব-কায়দা নিয়ে রইল কিছু পরামর্শ—
যা করবেন
ওয়ান ওয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হলে যেদিক থেকে গাড়ি আসছে সেদিকে মুখ করে হাঁটুন। সবসময় ফুটপাত ব্যবহার করুন। রাস্তা পার হওয়ার সময় সচেতন থাকুন। এলোমেলোভাবে রাস্তা পার হবেন না। রাস্তা পার হওয়ার সময় ডান দিক, বাঁ দিক ও আবার ডান দিক দেখে রাস্তা পার হোন। ফুট ওভার ব্রিজ বা আন্ডার গ্রাউন্ড পাস থাকলে তা ব্যবহার করুন। ছাতা নিয়ে হাঁটলে যাতে রাস্তা দেখতে পান সেদিকে খেয়াল রাখুন। রাস্তা পার হওয়ার সময় কারও ওপর নির্ভর করবেন না। নিজের দায়িত্ব নিজে নিন। কোনো বাঁকের মুখে সাবধান থাকুন। গাড়ির হর্ন শুনে বুঝে নিন গাড়ি কত দূরে। রাস্তা পার হওয়ার প্রয়োজন হলে অযথা দাঁড়িয়ে থাকবেন না। কোনো সময় দৌড়ে রাস্তা পার হবেন না। সিগন্যাল দেখে পার হবেন। বয়স্ক কোনো ব্যক্তি রাস্তা পার হতে বা পথে চলতে গিয়ে আপনার সাহায্য চাইলে সাহায্য করুন। জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। অনেক ব্যাগ বা জিনিস নিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটলে নিজের জিনিসপত্রের প্রতি সচেতন থাকবেন।
যা করবেন না
রাস্তা পার হওয়ার সময় মুঠোফোনে কথা বলবেন না। চলার সময় পরিচিত কাউকে দেখলে উচ্ছ্বাসে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে যাবেন না। আপনি যদি খুব দ্রুত হাঁটতে অভ্যস্ত হন তাহলে ভিড়ের জায়গায় দ্রুত হাঁটবেন না। গাড়ির সিগন্যাল ছেড়ে দিলে দৌড়ে পার হতে যাবেন না। অফিস টাইমে ছোটদের নিয়ে গাড়ির সিগন্যাল খোলা থাকলে কখনো রাস্তা পার হবেন না। বন্ধুদের সঙ্গে হৈচৈ করে রাস্তা পার হবেন না।
যা ঘটে
লাল আলো জ্বলা থাকলেও ‘ধুর, কিস্সু হবে না’ এই মানসিকতায় এক দৌড়ে রাস্তা পার হওয়া স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ওভার ব্রিজ বা আন্ডার গ্রাউন্ড ব্যবস্থা থাকলেও কষ্ট করে রাস্তায় হাঁটা বা পার হওয়া যায় নাকি? তারচেয়ে হেঁটে পার হওয়ায়ই ভালো! বেশির ভাগ লোকের মানসিকতা এরকম। ব্যস্ত রাস্তায় বন্ধুরা মিলে হাঁটছেন। অন্যের গতির সঙ্গে আপনাদের গতি ‘ম্যাচ’ করবেন না। ফলে একটা ধাক্কাধাক্কি চলছেই। ভিড় রাস্তায় আপনার খুব তাড়া। অন্যকে ধাক্কা মেরে, ঠেলা দিয়ে দ্রুত হেঁটে যেতে হবে। অন্যরা ধাক্কা খাচ্ছে তাতে কি! যে রাস্তায় হাঁটতে নিষেধ সেই রাস্তায়, আর ফুটপাত থাকলেও মেইন রোডে হাঁটা একটা সাধারণ ব্যাপার। এতে কোনো ভুল আছে বলে মনেই হয় না। লজেন্স বা চিপস খেয়ে কাগজটা অবলীলায় রাস্তায় ফেললেন। রাস্তা নোংরা হচ্ছে তো হোক না! অনেকেরই অভ্যেস আছে রাস্তায় থুতু ফেলা। দেখতেও খারাপ লাগে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপরোক্ত বিষয়গুলো ঘটে থাকে।
যা করা উচিত 
অনেকে মিলে হাঁটলেও ব্যস্ত রাস্তায় সবসময় সচেতন থাকা উচিত। ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে রাস্তা পার হতে হবে। মনে রাখবেন আপনার পরিবার আপনার জন্য অপেক্ষায় আছে। একটি ভুল সারা জীবনের কান্না হয়ে দাঁড়াতে পারে। আপনি বা আপনারা কয়েকজন গল্পের মুডে থাকতে পারেন। তাই বলে অন্যদের দিকটাও খেয়াল রাখা উচিত।

Tuesday, September 20, 2011

থানকুনির উপকারিতা

আয়ু অর্থ জীবন, বেদ অর্থ বিজ্ঞান। সুতরাং আয়ুর্বেদ_ যার অর্থ জীবনের বিজ্ঞান_ ঝপরবহপব ড়ভ খরভব.
জীবনকালকে নিরোগ বা সুস্থ রাখাটাই এর আলোচ্য বিষয়। এ নীরোগ অবস্থাই আয়ুকে দীর্ঘায়িত করবে।
এ উদ্দেশ্যেই আয়ুর্বেদ গড়ে উঠেছে রোগ প্রতিরোধ বিজ্ঞান হিসেবে।
থানকুনি গাছ আমরা কমবেশি সবাই চিনি বা নাম শুনেছি। থানকুনি দুই রকম হয়। বড় থানকুনি_ যার বোটানিক্যাল নাম ঈবহঃবষষধ ধংরধঃরপধ (খরহহ) টৎনধহ এবং ছোট থানকুনি_ যার বোটানিক্যাল নাম ঈবহঃবষষধ লধৎড়হরপধ.
থানকুনির গুণ ও ব্যবহার
লাবণ্যতা : যদি মুখ মলিন হয়, লাবণ্যতা কমে যায় তবে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস দুধ দিয়ে খেতে হবে। নিয়মিত করলে উপকার পাবেন।
দূষিত ক্ষত : মূলসহ সমগ্র গাছ নিয়ে সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে দূষিত ক্ষত ধুতে হবে।
জ্বর ও আমাশয় : আমাশয়ের সঙ্গে জ্বর হলে থানকুনি পাতার রস গরম করে ছেঁকে খাওয়াতে হবে।
মুখে ঘা : থানকুনি পাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে গারগিল করতে হবে।
আঘাত : কোথাও থেঁতলে গেলে থানকুনি গাছ বেটে অল্প গরম করে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে প্রলেপ দিলে উপকার পাবেন।
সাধারণ ক্ষত : থানকুনি পাতা বেটে ঘিয়ের সঙ্গে জ্বাল দিয়ে ঠাণ্ডা করে তা ক্ষত স্থানে লাগাতে হবে।
চুল পড়া : অপুষ্টির অভাবে, ভিটামিনের অভাবে চুল পড়লে পুষ্টিকর ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে।
পেটের দোষ : মলের সঙ্গে শ্লেষ্ণা গেলে, মল পরিষ্কারভাবে না হলে, পেটে গ্যাস হলে, কোনো কোনো সময় মাথা ধরা_ এসব ক্ষেত্রে ৩-৪ চা চামচ থানকুনি পাতার গরম রস ও সমপরিমাণ গরুর কাঁচা দুধ মিশিয়ে খেতে হবে। নিয়মিত খেলে উপকার পাবেন।
স্মরণশক্তি : মনে না থাকলে আধা কাপ দুধ, ২-৩ তোলা থানকুনি পাতার রস ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেতে হবে।
বাক স্টম্ফুরণ : বাচ্চার দেরিতে কথা বললে অথবা পরিষ্কার কথা না বললে এক চামচ থানকুনি পাতার রস গরম করে ঠাণ্ডা হলে ২০-২৫ ফোঁটা মধু, ঠাণ্ডা দুধ এক সঙ্গে মিশিয়ে বাচ্চাকে খাওয়াতে হবে।
নাক বন্ধ : ঠাণ্ডায় নাক বন্ধ হলে, সর্দি হলে থানকুনির শিকড় ও ডাঁটার মিহি গুঁড়ার নস্যি নিলে উপকার পাওয়া যায়।

বীথি চৌধুরী
ডিএএমএস, স্কিন থেরাপিস্ট
বীথিস হারবাল
রোড-৪, বাসা-৭, মমতাজ প্লাজা, ধানমণ্ডি, লেকচারার নূর মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজ

শিশুর মানসিক বিকাশ

রোহানদের বাসায় অতিথি এসেছে, ওর খালঅ-খালু। ড্রইংরুমে বসে ওর মা-বাবা আর অতিথিরা গল্প করছেন। ছয় বছর বয়সী রোহান ওর সমবয়সী খালাতো ভাই রাফির সঙ্গে খেলছে। হঠাৎই রোহানের ঘর থেকে কান্না আর চিৎকার। ওর মা-বাবা, খালা-খালু সবাই ওর ঘরে গিয়ে হতবাক। রোহান রীতিমতো রাফির চুল ধরে টানছে আর বাজে ভাষায় গালাগালি করে ওর সঙ্গে কথা বলছে। এই দৃশ্য রোহানের মা-বাবার জন্য নতুন নয়। তবে অনেক বকাঝকা করে বাঘ মামা আর ডাইনিবুড়ির ভয় দেখিয়ে বদলাতে পারেননি ছেলের এই অভ্যাস। এরকম পরিস্থিতিতে হয়তো আপনিও পড়েছেন আপনার সন্তানকে নিয়ে। ঐ মুহূর্তের জন্য না হয় ধমক দিয়ে বা চড় দিয়ে থামিয়ে দিলেন ছোট বাচ্চাটিকে। কিন্তু এর কারণ জানার চেষ্টা করেছেন কি কখনও?
এ বিষয়ে কথা হয় সাইকোলজিস্ট শুভাশীষ বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'যেহেতু শিশুরা তার আশপাশের সবকিছুই খুব দ্রুত রপ্ত করে নেয় এবং তাদের মধ্যে ভুল-সঠিক বোঝার সামর্থ্য থাকে না, তাই তাদের যে কোনো ভুলের জন্য পিতা-মাতার উচিত তাদের মধ্যে কোনো প্রকার ভীতির সৃষ্টি না করে আন্তরিকভাবে বোঝানো। নতুবা ভুল শাসন তাদের মানসিক বিকাশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।' তিনি আরও বলেন, 'আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, বর্তমানে অধিকাংশ পিতা-মাতাই এ বিষয়ে যথাযথভাবে সচেতন নয়, যা আমাদের সন্তানদের জন্য শুধু দুর্ভোগই বয়ে আনছে।'
শিশুরা তার আশপাশ থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। সাধারণত বাসায় বাবা-মায়ের ঝগড়া, বাড়ির পার্শ্ববর্তী পরিবেশ অথবা শিশুর স্কুলের পরিবেশও তাদের ভুল শিক্ষার জন্য দায়ী। সর্বপরি বাবা-মায়ের সচেতনতার অভাব শিশুদের ভুল শিক্ষার দিকে ঠেলে দেয়। বর্তমানে আকাশ সংস্কৃতির মাত্রাতিরিক্ত প্রসার এবং সেখানে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের অনুপস্থিতিও শিশুদের নৈতিকতার শিক্ষা থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে বলে সাইকোলজিস্ট শঙ্কা প্রকাশ করেন।
সাইকোলজিস্ট শুভাশীষ বিশ্বাস বলেন, 'শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য বাবা-মাকে বাসায় অবশ্যই সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের ভুল-ত্রুটির জন্য কড়া শাসনে না রেখে সময় নিয়ে স্বাভাবিক ব্যবহার বজায় রেখে তাদের ভুল-ত্রুটিগুলো বুঝিয়ে দিতে হবে। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কড়া শাসনে শিশুদের মনে বড়দের প্রতি মান্যতা ও শ্রদ্ধা লোপ পায়।' এ ছাড়া শিশুরা কাদের সঙ্গে মেশে, স্কুলে কাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে, টিভিতে কী দেখছে সে বিষয়ে খেয়াল রাখাও পিতা-মাতারই দায়িত্ব। তবে 'শিশুকে কোনো কিছু করতে বারণ করে নয়, বরং বিশ্বস্ত বল্পুব্দর মতো পাশে থেকে তাদের ভুল-ত্রুটিগুলো চিনে নিতে সহায়তা করাই বাবা-মার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা হওয়া উচিত।
আপনার সন্তানটির মানসিক বিকাশে যথার্থ পদক্ষেপ নেওয়া, বেড়ে ওঠায় সবসময় তাদের পাশে থাকা এবং বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো পাশে থেকে তাদের নৈতিকতার
দীক্ষায় গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। কারণ কিছুটা সময়, সচেতনতা, একটু আদর আর ভালোবাসাই পারে শিশুর মানসিক বিকাশের পথ মসৃণ করতে।

লেখা :কমরুল চৌধুরী
ছবি : আরমান হোসেন বাপ্পি
সূত্র : সমকাল

Monday, September 19, 2011

 অনেক পানি কেন পান করবেন

আমরা জানি, পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া আমরা একদিনও চলতে পারি না। প্রতিদিন প্রায় সব ধরনের কাজে আমাদের পানি লাগবেই। সারাদিন আমরা যত ধরনের খাবার খাই, তার মধ্যে একমাত্র পানিই হচ্ছে ক্যালরি, ফ্যাট, শর্করা ও চিনিমুক্ত। তাই যত খুশি পানি পান করুন, কোনো সমস্যা নেই। আমাদের শরীরের ৬০-৭০ ভাগ ওজনই হচ্ছে পানি। তার মানে শরীরের প্রধান উপাদান হচ্ছে পানি। কিন্তু আমরা প্রতিদিন বিভিন্নভাবে (যেমন—ইউরিন, ঘাম, শ্বাস-প্রশ্বাস ইত্যাদি) শরীর থেকে পানি হারাই। তাছাড়া শরীরকে সচল রাখতেও পানি দরকার। তাই আমাদের শরীরে দৈনিক পানির চাহিদা অনেক। শারীরিক ফিটনেস অর্জন করতে হলে খাদ্য তালিকায় প্রচুর পানি থাকতেই হবে। প্রতিদিন আমাদের প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে, না হলে অনেক রকম সমস্যা যেমন—পানিশূন্যতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, কিডনির সমস্যা, শরীরের টক্সিন জমা ইত্যাদি হতে পারে।
পানি পান করার প্রয়োজনীয়তা
— পানি মেটাবলিজম বাড়ায়, পেট ভরায়/ক্ষুধা কমায়; তাই ওজন কমাতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
— বরফশীতল পানি পান করলে, শরীর তা হজম করার জন্য গরম হয়, ফলে কিছু ক্যালরি খরচ হয়।
— পিপাসার্ত অবস্থায় পানি খেলে তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে। ফলে শারীরিক ক্লান্তি দূর হয় ও শক্তি ফিরে আসে। কারণ পানি রক্তে ও কোষে অক্সিজেন এবং অনান্য পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। এছাড়া সারা শরীরের রক্ত সরবরাহ ও সঞ্চালন বাড়ে পানি পান করার ফলে।
— পানির অভাবে মাসলের দুর্বলতা, অস্বস্তি বোধ হওয়া, মাথা ঘুরানো ও অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।
— পানি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। পানির অভাবে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে হিট স্ট্রোক হতে পারে।
— পানির অভাবে সারা শরীরের ও সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমন্বয় ঠিকমত হয় না।
— পানি ইউরিন, নড়বিষ সড়াবসবহঃ ও ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে দূষিত/বর্জ্য পদার্থ ও ফ্যাট বের করতে সাহায্য করে।
— পানি হজম শক্তি বাড়ায়, হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখে। কারণ আমাদের শরীরে ঠিকভাবে খাবার হজম করার জন্য প্রচুর পানি দরকার হয়। তাই প্রচুর আঁশ জাতীয় খাবারের পাশাপাশি, প্রচুর পানিও পান করতে হবে
— পানি কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। পানি ঠিকমত পান না করলে শরীর সব পানি শুষে নেয়, ফলে কোলন শুষ্ক হয়ে যায়, তাই শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ ঠিকমত বের হতে চায় না বা নড়বিষ সড়াবসবহঃ ঠিকমত হয় না।
— পানি কিডনির পাথর হওয়া থেকে বাঁচায়। কারণ, পানি ইউরিনের লবণ ও মিনারেল ভেঙে দেয়, ফলে কিডনিতে পাথর হয় না।
— ব্রেইনের ৮৫ ভাগ হচ্ছে পানি। তাই পানির অভাবে আমরা মানসিক/শারীরিক চাপে ভুগি। একটু পরপর পানি পান করলে এই মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকা যায় এবং শারীরিক শক্তি বাড়ে।
— ব্যায়াম করার সময় একটু পরপর পানি পান করতে হবে। পানি শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখে, মাসলের ক্র্যাম্প থেকে রক্ষা করে, শরীরের শক্তি ঠিক রাখে। তাই অনেক সময় ধরে সঠিকভাবে ব্যায়াম করা যায়। শুধু কার্ডিও ব্যায়াম নয়, ওয়েট ট্রেনিং করার সময়ও একটু পরপর পানি খেতে হবে । তাহলে মাসলে পানিশূন্যতা হবে না ও ব্যায়াম ভালো কাজ করবে।
পানি হচ্ছে প্রাকৃতিক ক্রিম, যা ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়। পানিশূন্যতা আমাদের ত্বকে বলিরেখা ফেলে। তাই প্রচুর পানি পান করলে বলিরেখা থেকে মুক্ত থাকা যায়। কারণ পানি কোষের পানি বাড়ায়, ফলে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়বে ও বয়স কম মনে হয়। তাছাড়া পানি শরীর থেকে সব দূষিত পদার্থ বের করে দেয়, রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, তাই ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়। তাই হেলদি, উজ্জ্বল, মোলায়েম/কোমল ত্বক পেতে প্রচুর পানি পান করতে হবে।
— ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এক সপ্তাহ প্রচুর পানি পান করুন এবং এক সপ্তাহ পর লক্ষ্য করুন উজ্জ্বল ত্বক।
— পানি রোগমুক্ত রেখে ও ত্বক সজীব রেখে তারুণ্য ধরে রাখে।
— প্রচুর পানি পান করলে কিছু ক্যান্সার, যেমন—কোলন, ব্লাডার ও ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
— জয়েন্টের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। কারণ জয়েন্টের মেইন লুব্রিকেন্ট হচ্ছে পানি।
জয়েন্ট (Arthritis) ও ব্যাক পেইনের রোগীরা তাই প্রচুর পানি পান করলে উপকার পান।
— পানি মাথাব্যথা দূর করে ও প্রতিরোধ করে।
— পানি হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। কারণ পানি হার্ট ও ব্রেইনের জয়েন্টের ব্যথা প্রতিরোধ করে।
— পানি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
— মস্তিষ্কের/ব্রেইনের ক্ষমতা বাড়ায়, স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধ করে।
— গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমায়, হজমের সমস্যা ও জ্বালাপোড়া কমায়।
— রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, তাই উচ্চ রক্তচাপ কমায়।
প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করবেন?
প্রতিদিন কত গ্লাস পানি পান করবেন তা নির্ভর করে আপনার স্বাস্থ্য, ওজন, কোথায় বাস করেন—গরম না ঠাণ্ডা আবহাওয়ায়, আপনি কত কর্মঠ ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম কেমন করেন ইত্যাদির ওপর। তাছাড়া আপনি আর অন্য কী পানীয় যেমন—চা, লাচ্ছি, জুস, ডাবের পানি ইত্যাদি খান, তার ওপরও নির্ভর করবে দৈনিক কত গ্লাস পানি পান করবেন।
সাধারণত পুষ্টিবিদেরা বলেন, দৈনিক অন্তত ৮ গ্লাস পানীয় পান করতে। তার মানে, সব ধরনের পানীয় ও পানিসহ দৈনিক অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে।
ঞযব ওহংঃরঃঁঃব ড়ভ গবফরপরহব-এর মতে পুরুষদের জন্য দৈনিক অন্তত ৩ লিটার বা ১২ গ্লাস এবং মহিলাদের জন্য অন্তত ২ লিটার বা ৮ গ্লাস পানি পান করা দরকার।
ঞযব ওহংঃরঃঁঃব ড়ভ গবফরপরহব’ং ঋড়ড়ফ ধহফ ঘঁঃত্রঃরড়হ ইড়ধত্ফ ১৯৯৪ সালে আরেকটি তথ্য প্রকাশ করেছে যে, মহিলাদের জন্য ৯১ আউন্স এবং পুরুষদের জন্য ১২৫ আউন্স পানি পান করতে হবে।
আরেকটি নিয়ম হচ্ছে—আপনার ওজন যত পাউন্ড, ঠিক তার অর্ধেক আউন্স পানি খেতে হবে। যেমন—আপনার ওজন যদি হয় ১৬০ পাউন্ড, তবে আপনাকে ৮০ আউন্স পানি পান করতে হবে। এই পানি সব রকম পানীয়ের হিসাব। তবে ৮০ আউন্সের ৮০ ভাগ বা ৬৪ আউন্স, শুধু পানি খেলে ভালো। মনে রাখবেন, ৮ আউন্স = এক গ্লাস পানি।
তবে আপনি যদি সুস্থ-সবল হন, তবে পানি খাওয়ার হিসাব নিয়ে খুব বেশি চিন্তার কারণ নেই। পিপাসা পেলে, স্বাভাবিকভাবে পানি পান করলেই চলবে। কিন্তু আপনি যদি খেলোয়াড় হন, ব্যায়াম করেন বা অনেক ঘামেন, তাহলে আরও বেশি পানি পান করতে হবে।
অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় শরীর থেকে অনেক পানি বের হয়, তাই অনেক বেশি পানি পান করতে হবে। অসুস্থ হলে যেমন : জ্বর, ডায়রিয়া, বমি হওয়ার পর অনেক বেশি পানি পান করতে হবে।
কীভাবে বুঝবেন যে আপনি সঠিক পরিমাণে পানি পান করছেন?
আপনি যদি সব সময় তৃষ্ণার্ত বোধ না করেন।
আপনার যদি দৈনিক ১.৫ লিটার ইউরিন হয়।
যদি ইউরিনের রং সাদা বা হালকা হলুদ হয়।
ইউরিনের রং হলুদ হলে আপনি সঠিক পরিমাণে পানি পান করছেন না। আপনার নড়বিষ সড়াবসবহঃ যদি ঠিকমত হয় এবং আপনার যদি কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়।
পানি পান করার প্রয়োজনীয়তা কত তা অনুধাবন করে, আপনার সঙ্গে তাই সব সময় বিশুদ্ধ খাবার পানি রাখুন ও বেশি বেশি পানি পান করুন। গরমের দিনে অনেক বেশি পানি পান করে শরীর ঠিক রাখুন। হেলদি লাইফ স্টাইল মেনে চলার খুব সহজ একটি উপায় হচ্ছে প্রতিদিন অনেক বেশি পানি পান করা। তাহলে আপনাকে সুস্থ, সুন্দর ও সবল দেখাবে।
সূত্র: আমার দেশ

ওষুধ যখন বিপদের কারণ || ডা. দিদারুল আহসান

রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আমরা ওষুধ খাই; কিন্তু সেই ওষুধই আবার কখনও কখনও রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষ করে চর্মরোগে। বেশ কিছু চর্মরোগ আছে যার নেপথ্যে মূল ভূমিকায় রয়েছে কোনো না কোনো ওষুধ। অসংখ্য রোগ রয়েছে যা ওষুধের কারণে হয়, যার মধ্যে একটি হচ্ছে ফলিয়েটিভ ইরাইথ্রোডার্মা। এই রোগের অন্তত ১১ শতাংশের কারণ হচ্ছে কোনো না কোনো ওষুধ। যে ওষুধগুলোর ব্যবহার থেকে এ রোগ হতে দেখা যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সালফার, যা কিন্তু অহরহই ব্যবহার করা হচ্ছে। আরও আছে অ্যালুপুরিনল, ফেনিটমেন, ফেনোবারবিটাল, আইসোনায়েড, আয়োডিন ইত্যাদি। এ রোগের ক্ষেত্রে শরীরজুড়ে আঁশ হতে দেখা যায়, যা ঘষা দিলে ঝরে পড়তে থাকে। শুরুতে লাল লাল দাগ দিয়ে ত্বকে শুরু হলেও ক্রমান্বয়ে তার বিস্তার ঘটতে থাকে ও পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু দিনের মধ্যেই ত্বকে আঁশ আকারে উঠে আসতে থাকে। পরবর্তী সময়ে রোগীর অবস্থা খারাপ হয় এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন দেখা দেয়। সঠিক চিকিত্সা না হলে তার জীবনে শঙ্কা তৈরি হয়। এমন আরেকটি রোগ হচ্ছে ড্রাগ ইরাপশন। নাম থেকেই বোঝা যায় ড্রাগ বা ওষুধের কারণেই এ রোগটি হয়। এক্ষেত্রে ত্বকের গায়ে র্যাশ বা চাকা ওঠে, যা দেখলেই মনে হয় যেন হাম উঠেছে কিংবা অ্যালার্জি উঠেছে।

ওষুধের কারণে যা হতে পারে
ওষুধের কারণে সাধারণভাবে দুই ধরনের র্যাশ হয় যেমন—আর্টিকেরিয়া, যাতে চাকা হয় এবং চুলকানি থাকে। আর এক ধরনের র্যাশ হলো : রবিফিলিফর্ম। শেষেরটা বেশি পাওয়া যায় এবং শরীরজুড়ে লাল লাল দাগ অথবা ছোট ছোট দানা বা গোটার আকারে লালচে রঙের হতে দেখা যায়। যেহেতু ওষুধের কারণেই এই রোগটি হয় তাই এ ধরনের র্যাশ দেখা দেয়া মাত্র ওষুধ বন্ধ করে দিতে হবে। সাধারণত যেসব ওষুধের কারণে এ রোগ হয় তা হলো অ্যামোক্সাসিলিন, কোট্রামাইসোল, অ্যামপিসিলিন, পেনিসিলিন, সেফালোসেপারিন, ইরাইথ্রোমাইসিন, সিমেটাডিন ইত্যাদি।
ফিঙ ড্রাগ ইরাপশন নামের আরেকটি রোগে ওষুধ খেলে বারবারই এরকম উপসর্গ নিয়ে রোগটি দেখা দেয়। যতবার ওষুধটি খাবেন ততবারই ত্বকে এ রোগটি একইভাবে দেখা যাবে। দেখতে গোলাকার ডিম্বাকৃতির লালচে চুলকানিযুক্ত, উঁচু অথবা ফোসকাযুক্ত যে কোনোভাবে দৃশ্যমান হতে পারে, যা সেরে যাওয়ার পর স্থানটি কালো রঙের হয়ে থাকে অনেক দিন পর্যন্ত। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ওষুধ যার কারণে রোগটি হয় যেমন— টেপ্রাসাইক্লিন, সালফোনামাইড, বারবিচুরেট, স্যালিসাইলেটস ইত্যাদি।
স্টেভাসন জনসনস সিনড্রম নামের আরেকটি রোগও ওষুধের কারণেই হয়। রোগটি অত্যন্ত জটিল এবং এর থেকে জীবননাশও ঘটতে পারে। প্রথমে ফোসকা আকারে দেখা দেয় যা ঠোঁট, জিহ্বা, মুখের ভেতরে ঘা হয়ে দেখা দেয়। চোখে আক্রমণ ঘটলে অন্ধত্ব বরণ করতে হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মুখ, হাত ও পায়ের তালুতে ফোসকা নিয়ে উঠতে দেখা যায়। ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে। এছাড়া গিরায় ব্যথা, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, যকৃত্ বড় হওয়া এবং রক্তের মধ্যেও ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ হয় যা চামড়ার ওপর দিয়ে লাল লাল ছোট অথবা বড় দাগ নিয়ে দেখা দেয়, যেটা কখনও কখনও খুবই মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, যদি ঠিক সময় ওষুধ খাওয়া শুরু করা না হয়। রোগটির জন্য দায়ী কয়েকটি ওষুধ হলো বারবিচুরেট, কুইনিডিন, ফিনাইলবুটাজোন ইত্যাদি।
একটি কথা মনে রাখতে হবে, ওষুধ কিন্তু এক ধরনের বিষ। সাধারণত তা জীবাণুর জন্য বিষ হিসেবে কাজ করে। তবে কখনও কখনও শরীরেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে। তাই ওষুধ থেকে দূরে নয়, ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

লেখক : চর্ম, অ্যালার্জি ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
আল-রাজী হাসপাতাল
ফার্মগেট, ঢাকা।

স্বাস্থ্য রক্ষায় পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতা প্রাচীনকাল থেকেই বেশ জনপ্রিয় ওষুধ হিসেবে পরিচিত। বহু রোগের আরোগ্যে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পুদিনা পাতা এক ধরনের সুগন্ধি গাছ। এই গাছের পাতা তরি-তরকারির সঙ্গে সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশেই পুদিনার গাছ জন্মে। এর পাতা সুগন্ধি হিসেবে রান্নায় ব্যবহার করা হয়। অন্যান্য স্থানীয় নাম—গরহঃ, হধহধ। এর বৈজ্ঞানিক নাম গবহঃযধ ংঢ়রপধঃধ। এটি খধসরধপবধব পরিবারের অন্তর্গত।
পেটের পীড়ায় : এটি ইরেটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (আইবিএস) এবং দীর্ঘস্থায়ী বদহজমের বিরুদ্ধে খুবই কার্যকর। এছাড়াও পুদিনা কোলনের পেশি সঙ্কোচন নিয়ন্ত্রণ করে।
অ্যাজমা : পুদিনায় রোজমেরিক এসিড নামের এক ধরনের উপাদান থাকে। এটি প্রাকপ্রদাহী পদার্থ তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে অ্যাজমা হয় না। এছাড়াও এ ঔষধি প্রোস্টসাইক্লিন তৈরিতে বাধা দেয়। তাতে শাসনালী পরিষ্কার থাকে।
এন্টিক্যান্সার : পুদিনায় আছে মনোটারপিন নামক উপাদান। যা স্তন, লিভার এবং প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। নিয়মিত খেলে ফুসফুস, কোলন এবং ত্বকের ক্যান্সার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

পুদিনার ভেষজগুণ
পুদিনা খুবই উপকারী একটি উদ্ভিদ। আমাদের শরীরের নানা রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। মুখের স্বাদ বাড়াতেও এটি খুব কার্যকর। আরও যেসব ক্ষেত্রে পুদিনার পাতা ব্যবহার করা যায়, তা হলো :
১. পুদিনার তাজা পাতা পিষে মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর যদি তা ধুয়ে ফেলা যায়, তাহলে মুখের তৈলাক্ত ভাব দূর হয়ে যায়। ব্রণ ওঠাও বন্ধ হয়।
২. পুদিনার পাতা পিষে রস করে তার ভেতর দু’তিন ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে তা পান করলে ক্লান্তিভাবও দূর হয়।
৩. কোনো কারণে কোনো ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার নাকের কাছে কিছু তাজা পুদিনা পাতা ধরুন। দেখবেন, লোকটি জ্ঞান ফিরে পেয়েছে।
৪. পুদিনার পাতা ভালো করে পিষে তার রস ভালো করে মাথায় ব্যবহার করুন। যাদের চুলে উকুন আছে তারা খুব উপকার পাবেন।
৫. শরীরের ব্যথা দূর করতে পুদিনা পাতার চা খুব কাজে দেয়।
৬. মাথা ও পেট ব্যথা নিরাময়েও পুদিনার পাতা খুব উপকারী।
৭. যাদের মাঝে মধ্যে হেঁচকি ওঠে, তারা পুদিনা পাতার সঙ্গে গোল মরিচ পিষে তা ছেঁকে নিয়ে রসটুকু পান করুন। দেখবেন হেঁচকি বন্ধ হয়ে গেছে।
সূত্র : আমার দেশ

Sunday, September 4, 2011

ব্যাক পেইনের সমস্যায়

ব্যাক পেইনের সমস্যায় আজকাল বেশিরভাগ মানুষই কষ্ট পান। শোয়া-বসা সবকিছুই তখন অসহ্য লাগে। চলুন এ যন্ত্রণা থেকে কী করে মুক্তি পাবেন তার কিছু উপায় জেনে নিই। চিকিত্সকদের মতে, রাতে শোয়ার সময় একভাবে শুয়ে থাকবেন না। মাঝে মাঝে ডান দিকে মুখ করে ঘুমান। তো কখনও বাঁ দিকে মুখ করে শুতে পারেন। বিছানাতে গদি রাখবেন না। শুধু মাদুরের ওপর শুয়ে থাকুন। বিছানায় শুয়ে কখনও টিভি দেখবেন না। খবরের কাগজ পড়বেন না। যদি শুয়ে শুয়ে টিভি দেখার চেষ্টা করেন তাহলে আপনার ব্যথাটা বেড়ে যাবে। কখনও একভাবে বসে থাকবেন না। একভাবে বসে থাকার ফলে আপনার মাংসপেশির ওপর চাপ পড়বে। তাই মাঝে মাঝে নিজের বসার অবস্থাটা পরিবর্তন করুন। চিকিত্সকরা বলেন, যদি আপনি একনাগাড়ে কোথাও বসে থাকেন, যেমন—সিনেমা হলে মুভি দেখতে গেছেন, তখন একনাগাড়ে বসে থাকতে হয়। তখন পায়ের ওপর পা দিয়ে বসুন। এতে আপনার মাংসপেশির ওপর চাপ পড়বে না। বাড়িতে যে কোনো কাজের জিনিস হাতের কাছে রাখুন। সেগুলো নিতে গিয়ে আপনাকে যেন ঝুঁকতে না হয়। ওয়ালেট রাখার বিষয়ে সতর্ক হয়ে যান। পুরুষরা বিশেষ করে পেছনের পকেটে কখনও ওয়ালেট রাখবেন না। ভারি জিনিস কখনও তুলবেন না। মহিলাদের ক্ষেত্রে সন্তান হওয়ার পর ওজন যাতে না বেড়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।

Friday, July 15, 2011

লেখাপড়ার পাশাপাশি পার্টটাইম জব ।। শামছুল হক রাসেল

সময়ের সঙ্গে বদলে যায় সবকিছুই। পরিবর্তন হয় মানুষের চিন্তাধারা, সেই সঙ্গে পরিবর্তন হয় কর্মকাণ্ডের। তেমনিভাবে বদলে গেছে বাংলাদেশের বিপণি বিতানগুলোর ক্রয়-বিক্রয়ের ধরন। মানুষের চাহিদার কথা ভেবে বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য সুপার স্টোর। সুপার স্টোরের ভিন্নতা শুধু কেনাবেচায় নয়_ বরং ক্রেতা, সরবরাহকারী এবং পরিবেশও সম্পূর্ণ আলাদা। আর এসব সুপার স্টোরের কাস্টমার ভিন্ন হওয়ার কারণে সেখানে গ্রাহক সেবার জন্য নিয়োগ করা হয় তরুণ এবং শিক্ষিত শ্রেণীকে। আর এদের বেশিরভাগই হয়ে থাকে পার্টটাইম জব। এ জন্য শিক্ষিত বেকারদের ঘরে বসে না থেকে এসব সুপার স্টোরে খণ্ডকালীন চাকরি করার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। নব্বইয়ের দশকে উন্নয়নশীল দেশে সুপার স্টোরের কর্মকাণ্ড শুরু হয়। এর আগে আমেরিকায় ১৯১৬ সালে প্রথম সুপারশপের যাত্রা শুরু হয়। শুরু থেকেই সুপার স্টোরের কনসেপ্ট হলো_ এক জায়গায় সব ধরনের পণ্য কেনাবেচার সুযোগ। যেখানে একটি নির্ধারিত গ্রাহকশ্রেণী পণ্য কিনতে আসছে। আমাদের দেশে প্রথম শ্রেণীর কাস্টমারই এসব দোকানে বেশি এসে থাকেন। নগরজীবনে অনেকেই আছেন যারা বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করতে আগ্রহী নন। আধুনিক এসব উচ্চভিলাষী ক্রেতা সুন্দর পরিবেশে বাজার করতে আসেন। যে কারণে ঢাকার মধ্যেই প্রায় ৫০টিরও বেশি ব্র্যান্ডের সুপার স্টোর কাজ করছে এবং ক্রমান্বয়ে চাহিদার কারণে নতুন নতুন কোম্পানি সম্পৃক্ত হচ্ছে। আর এখানে ক্রেতাদের সেবার জন্য স্মার্ট-শিক্ষিত তরুণ ও তরুণীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সুপার স্টোরগুলোতে দু'ধরনের কাজ থাকে। প্রথমত পণ্য বহন করা, দ্বিতীয়ত গ্রাহক বা কাস্টমার কেয়ার। কাস্টমার কেয়ারদের মূল কাজ প্রডাক্ট সম্পর্কে গ্রাহকদের বুঝানো এবং পণ্য নির্ধারিত জায়গায় গুছিয়ে রাখা। এসব দোকানে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা কাজ করার সময় নির্ধারিত থাকে। তবে শিক্ষিত বেকার ও শিক্ষার্থীদের অনেকেই পার্টটাইম চাকরি করে থাকে এবং সময় ভাগ করে এদের সম্পৃক্ত করা হয়। সুপার স্টোরে দুইভাবে চাকরির নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। প্রথমত সরাসরি, দ্বিতীয়ত পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে। বছরের প্রায় সব সময়ই সুপার স্টোরে চাকরি করার সুযোগ রয়েছে। তবে এসব সুপার স্টোরে চাকরি পেতে প্রয়োজন পড়ে বেশ কয়েকটি যোগ্যতা। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শিক্ষাগত যোগ্যতা। এছাড়া আকর্ষণীয় বডি ল্যাংগুয়েজ, কথা বলার সুন্দর বাচনভঙ্গি, ভালো পোশাক-পরিচ্ছদ, পণ্য সম্পর্কে ভালো ধরণা এবং গ্রাহকদের সঙ্গে বৈচিত্র্যপূর্ণ কথা বলার উপযোগী ধৈর্যও এক্ষেত্রে দরকার। সুপার স্টোরগুলোতে পার্টটাইম, ফুলটাইম সব ধরনের চাকরির সুযোগ রয়েছে। কাজ ও দায়িত্বের ধরন অনুযায়ী এখানে চাকরিজীবীদের আয় নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সুতরাং লেখাপড়ার পাশাপাশি পার্টটাইম জবে নিয়োজিত হয়ে আত্মকর্মসংস্থানের দিকে ধাবিত হওয়া যায়। 

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

হাতের লেখা মানুষ চেনায় !! শামছুল হক রাসেল

স্ত্রিয়াশচরিত্রম দেবা না জানন্তি'_বাক্যটি একটি সংস্কৃত প্রবাদ। বাংলায় যার অর্থ নারী অর্থাৎ মহিলাদের মন দেবতাদের পক্ষেও বোঝা অসম্ভব। বস্তুত এমন প্রবাদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মহিলাদের জড়িয়ে ফেলায় স্বাভাবিকভাবেই পুরুষ জাতির ওপর মহিলারা অনেকটাই ক্ষুণ্ন। কিন্তু একটু ভাবলেই বোঝা যাবে, মন বোঝার ক্ষেত্রে একমাত্র মহিলারাই নিজেদের অন্ধকারে রাখেন, তা মোটেই ঠিক নয়। কম যান না পুরুষরাও। আসলে পুরুষ বা মহিলা যেই হোক না কেন, আসলে মানুষের মনের গভীরতা মাপতে বসলে এর পরিধি মাপা সম্ভব নয় বললেই চলে। মানবমস্তিষ্ক সবচেয়ে জটিল। ফলে তার ভাবনাচিন্তা প্রকাশের ভঙ্গিও পশু-পাখিদের মতো নিতান্ত সাদামাঠা বা সহজ সরল নয়। আর বিশেষ এই গুণপ্রাপ্ত হওয়ার জন্যই মানবজাতি আজ সমগ্র বিশ্ব শাসন করছে। যাই হোক, সে প্রসঙ্গ ভিন্ন। মানুষের মনে কী আছে আর কী নেই, তা অন্যের পক্ষে তো বটেই, অনেক সময় নিজের মনের খবরও অজানাই থেকে যায় সেই মানুষটির কাছে। অর্থাৎ অনেক চেষ্টা করেও নিজেদেরকে পুরোপুরি চিনতে পারা যায় না। নিজেদের শক্তি বা দুর্বলতা সম্বন্ধে আমরা অন্ধকারে থাকি। অপরাধীকে জেরা করার সময় পুলিশ তাকে হাজারও প্রশ্ন করে। প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়ে অবশেষে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে অপরাধী ব্যক্তিটি। তার মুখ থেকেই বেরিয়ে আসে সব সত্যি কথা। কথায় বলে, মানুষের মুখই হলো তার মনের আয়না। অর্থাৎ একটি মানুষ ভালো না খারাপ, বোকা না চালক, সে কেমন মনের মানুষ ইত্যাদি বিষয় সেই মানুষটির মুখ দেখলেই বোঝা যায়। কথাটা একেবারে ভুল নয়। তবে মানুষের মুখ দেখে সেই মানুষটি সম্পর্কে সবকিছু গড় গড় করে বলে দেওয়া যায়, এটাও ঠিক নয়। তাহলে একটি মানুষকে প্রকৃতভাবে চেনার উপায় কি? উপায় আছে, একজন মানুষকে শতকরা নব্বই ভাগেরও বেশি চেনা সম্ভব মানুষটির হাতের লেখা দেখে। যারা লিখতে পারেন না তাদের কথা এখানে ধরা হচ্ছে না। যারা হাতের লেখা, নকশা, ছবি প্রভৃতি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেন তাদের বলা হয় গ্রাফোলজিস্ট। সম্প্রতি গ্রাফোলজিস্টরা জানিয়েছেন, একজন মানুষকে না দেখেও তার চরিত্র বা মনের নানা দিক, এমনকি সেই মানুষটি সাম্প্রতিক- অতীতে কী কী করেছেন তা প্রায় নির্ভুলভাবে বলা সম্ভব। শুধু হাতের লেখা দেখে যে কোনো মানুষের নানা তথ্য জানা যেতে পারে। গ্রাফোলজিস্টদের বক্তব্য, একজন মানুষের হাতের লেখা থেকে জানা যায় না এমন কোনো বিষয় নেই বললেই চলে। হাতের লেখাই চিনিয়ে দেবে মানুষটি সৎ না অসৎ, তিনি রাশভারী লোক নাকি আমুদে প্রকৃতির, রক্ষণশীল নাকি উদার প্রকৃতির, স্মার্ট নাকি বোকা ধরনের। এমনকি তার জীবনযাপনের অন্যান্য দিক সম্পর্কেও সবকিছু জানা সম্ভব শুধু হাতের লেখা থেকে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, হাতের লেখা বিশ্লেষণ করে যা উঠে আসে তা নির্ভুল। হাতের লেখা কোনো মিথ্যা বলে না। যা বলবে তাই-ই সত্যি। হাতের লেখায় নিজের মনের ছবিটা স্পষ্ট ধরা দেয়। বোঝা যায় নিজের শক্তি বা দুর্বল দিকগুলো। ত্রুটিগুলো শুধরে নিলেই আমরা হয়ে উঠতে পারি একজন সফল ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ। আর এভাবেই গ্রাফোলজি হয়ে উঠে আমাদের সাফল্যের চাবিকাঠি।

Tuesday, July 5, 2011

মাতৃদুগ্ধই সেরা

কথায় আছে 'ব্রেস্ট মিল্ক ইজ দ্য বেস্ট মিল্ক'। অর্থাৎ নবজাতকের প্রধান খাদ্যই হলো তার মায়ের দুধ। আর আজকের দিনে অনেক মা-ই তাদের সদ্যজাত শিশুটিকে এই অমূল্য রতন থেকে বঞ্চিত রাখেন। ফল হিসেবে বর্তমানে মা এবং শিশু দু'জনেই নানান অসুখে ভোগেন। একজন শিশুর জন্য যেমন মায়ের দুধ প্রয়োজনীয়, তেমনি একজন মায়ের পক্ষেও এই কাজটি সমানভাবেই প্রয়োজনীয়। মায়ের দুধে প্রোটিন, সুগার, ফ্যাট এবং ভিটামিন থাকে, যা শিশুর জন্য ভীষণ প্রয়োজনীয়। ওষুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়াতে পারে না, কিন্তু মায়ের দুধ শিশুর মধ্যে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। যে কোনো প্রি-ম্যাচিউর শিশু খুব সহজেই এই খাদ্য হজম করতে পারে। শুধু তাই নয়, অনেক সময় বোতল ভালোভাবে পরিষ্কার করা না হলে শিশুর নানারকম রোগ হতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ ছাড়াও এই খাদ্য ব্যয়সাপেক্ষ নয়। অনেক শিশুই এই সুষম খাদ্য খেয়ে তার বাল্যকাল কাটিয়ে দেয়। শুধু শিশুর জন্য নয়, তার মায়ের জন্যও এটি উপকারী। কারণ সন্তান জন্মানোর পরেই মায়ের কোলেস্টেরল বাড়তে থাকে শরীরে। এমনকি তারা আস্তে আস্তে মোটা হয়; কিন্তু যেসব মা নিয়ম করে সন্তানকে নিজের দুধ খাওয়ায় তাদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই কম হতে দেখা যায়। এছাড়াও সঠিক পদ্ধতিতে এ প্রক্রিয়া কোনো মা না করে থাকলে তাদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে ব্রেস্ট ক্যানসারের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাছাড়া আরও নানান মেয়েলি রোগের লক্ষণ একে একে দেখা দিতে থাকে। চিকিৎসকরা বলে থাকেন, সন্তান জন্ম নেওয়ার পরই মায়ের উচিত সন্তানকে ব্রেস্ট মিল্ক খাওয়ানো। কারণ, ওই সময় দুধের মধ্যে এক ধরনের হলুদ রংয়ের তরল পদার্থ নিঃসৃত হয়ে থাকে। সেই তরল পদার্থ একজন শিশুর পক্ষে খুবই প্রয়োজনীয় এবং পুষ্টিকর খাদ্য ও রোগ প্রতিরোধক।

Monday, July 4, 2011

সেলফোনের ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে ।। আহসান হাবিব

মোবাইল ফোনের ব্যাটারি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইল চালু রাখার জন্য সবচেয়ে জরুরি তার ব্যাটারি। প্রায় প্রতিটি মোবাইল ফোনেই রিচার্জেবল ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। ফোনের ব্যাটারির ধরন অনুযায়ী একদিন বা দুদিন পরপর তাতে চার্জ দিতে হয়। তবে সাধারণভাবে ব্যাটারিতে যতবার চার্জ দেয়া হয়, তার আয়ু তত কমতে থাকে। সব সময় দেখা উচিত যাতে মোবাইলের ব্যাটারি কম খরচ হয়। এতে ব্যাটারির সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ফোনও ভালো থাকে। ব্যাটারি যাতে কম খরচ হয় সেজন্য কতগুলো জিনিস মনে রাখা দরকার :
— সবচেয়ে বেশি ব্যাটারি খরচ হয় ব্লুটুথ ব্যবহারের জন্য। তাই যখন ব্লুটুথ ব্যবহার করা হয় না তখন তা অফ করে রাখতে হবে।
— মোবাইল যখন রিংগিং মোডে তখন ভাইব্রেশন অফ করে রাখতে পারেন। তবে ক্লাসে, মিটিংয়ে বা হাসপাতালে ফোন বন্ধ করা সম্ভব না হলে ভাইব্রেশন দিয়ে রাখতে পারেন।
— মোবাইল ফোনের ব্রাইটনেস কমানো থাকলে ব্যাটারি কম খরচ হয়। তবে কখনোই ব্রাইটনেস এতটা কমানো উচিত নয় যাতে চোখের ওপর চাপ পড়ে।
— ডিসপ্লে সেটিংসে পাওয়ার সেভার টাইম-আউট আর লাইট-আউট অপশনে গিয়ে সময় কমিয়ে রাখলে মোবাইল ফোনে কথা না বললে বা অন্য কোনো কাজ না করলে তাড়াতাড়ি ফোনটি পাওয়ার সেভ মোডে চলে যায়। এতে ফোনের ব্যাটারি বাঁচে।
— ব্লুটুথের মতোই মোবাইল ফোনে গেম খেললে প্রচুর ব্যাটারি খরচ হয়। এর থেকে কম্পিউটারে গেম লোড করে খেলাই ভালো।
— সবসময় কি-প্যাড লক টাইমিং দিয়ে রাখুন, যাতে কখনও হাতের চাপে বা ব্যাগে থাকলে কোনো কিছুতে চাপ লেগে কল চলে না যায়।
— ব্যাটারি চার্জ দেয়ার সময় যেমন অতিরিক্ত চার্জ ব্যাটারির জন্য খারাপ, তেমনি কম সময় ধরে বারবার চার্জ দেয়াও একদম উচিত নয়।
— ব্যাটারিতে চার্জ নেই বলে ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়াও ঠিক নয়। তাই ব্যাটারি লো মেসেজটি দেখালেই বা ব্যাটারি লো হয়ে যাওয়ার অন্য কোনো ইনডিকেশন দিলেই সঙ্গে সঙ্গে চার্জ দেয়া উচিত।
— বেশ কিছুদিনের জন্য যদি মোবাইল ব্যবহার করা না হয়, তাহলে মোবাইল ফোন থেকে ব্যাটারি খুলে রাখা উচিত। ব্যাটারি সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো জায়গায় রাখা উচিত। কখনোই ধাতব কোনো কিছুর সঙ্গে রাখা উচিত নয়। ব্যাটারি ব্যবহার না করে খুলে রাখলে তার চার্জ পুরোপুরি চলে যায়। তাই পরের বার ব্যবহার করার আগে অবশ্যই চার্জ দিয়ে নিতে হবে।
— মাঝে-মাঝেই ব্যাটারি খুলে সুতির কাপড় বা তুলো দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত। এতে ব্যাটারির সঙ্গে মোবাইল ফোনের কানেকশন হতে সুবিধা হয়।
— খুব গরম কোনো জায়গায় ব্যাটারি রাখা উচিত নয়। যেমন, গাড়ির ড্যাশ বোর্ডের ওপর মোবাইল ফোন রাখা খুব ক্ষতিকর।
— নতুন বা পুরনো ব্যাটারি চার্জে বসানোর দু-তিন মিনিট পরই যদি পুরো চার্জ দেখায়, তবে ব্যাটারি ফোন থেকে খুলে নিয়ে আবার ঢুকিয়ে চার্জে বসাতে হবে।
সূত্র : আমার দেশ

Sunday, June 26, 2011

ড্রামে ফলের গাছ লাগান

অনেকের বাড়িতে ফুল-ফলের বাগান করার মতো বাড়তি জায়গা পাওয়া যায় না। তাই বলে তো বাগান করার শখ থাকবে না এমন হতে পারে না। বাড়ির ছাদ ও বারান্দায় ফুল ও ফলের চাষ করা যায়। এ উদ্যোগটি আপনিও নিতে পারেন। ড্রাম, টব বা স্থায়ী কাঠামোতে লাগানো ফল গাছে জমির মতোই পরিচর্যা প্রয়োজন। নিয়মিত জৈবসার ও পরিমিত সেচ নিশ্চিত করা হলে এসব কাঠামোতে আশানুরূপ ফল পাওয়া যেতে পারে। যেসব কলমের চারায় ডালপালা কম ও দ্রুত ফল দেয় সে সব ফলের চারা ড্রাম বা টবে লাগানোর ব্যবস্থা নিন। আজকাল আপনার নিকটস্থ যে কোনো নার্সারিতে কাজী পেয়ারা, আম্লপলি, আম, জামরুল, পেঁপে, লেবু, লিচু, কামরাঙা, আপেল, কুল, আমড়া, আঙ্গুর ফলের কলম পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো কিনে ড্রাম বা টবে রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে ফল পেতে পারেন। যা আপনার পারিবারিক চাহিদা মেটাবে।

জামের পোকা দমন

বিছা পোকা জামের অন্যতম প্রধান শত্রু। এ পোকার কীড়া গাছের পাতা খেয়ে গাছের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। বিছা পোকা দমনের জন্য আক্রান্ত পাতার ডালপালা ভেঙে পোকার গাছসহ ধ্বংস করতে হবে। এছাড়া সুমিথিয়ন অথবা লিবাসিড ৫০ ইসি তরল ওষুধ ৫ লিটার পানিতে ২ চা চামচ হারে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করেও পোকা দমন করা যায়।

লেবুর ডাইব্যাক

ডাইব্যাক রোগে আক্রান্ত লেবু গাছের পাতা ঝরে যায় এবং কচি ডাল আগা থেকে শুকিয়ে মরে যেতে থাকে। ডাইব্যাক রোগ প্রতিকারের জন্য আক্রান্ত ডাল কেটে ফেলতে হবে এবং কাটা অংশে বর্দোপেস্ট লাগাতে হবে। আক্রান্ত গাছে ডাইথেন এম-৪৫ অথবা বর্দো মিশ্রণ (১%) স্প্রে করতে হবে।

আপনার সম্ভ্রম রক্ষা করুন ট্রায়াল রুমের হিডেন ক্যামেরা থেকে ।। রাশেদ

আজ আমি আপনাদের কাছে একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপুর্ন টিপস দিবো।এই টিপস টি আমার আপনার বোন দের বাচাবে তাদের স্পম্ভ্রম রক্ষায় সতর্ক করতে।
আজকাল আমরা জামা-কাপড় কিনতে গেলে সেটি যদি পছন্দ হয় তবে ট্রায়াল রুম এ গিয়ে চেঞ্জ করে দেখি ঠিক মত লাগে কিনা !! কিন্ত আমরা কি জানি সেই ট্রায়াল রুম এর মধ্যে গপন ক্যামেরা আছে কিনা ????

কি ভয় পেয়ে গেলেন??? না। ভয়ের কিছুই নেই ।একটু যদি আমরা সাবধান হই তবে এর থেকে রক্ষা করতে পারি নিজেকে ।কিভাবে??? তবে জানুন-
যেখানে আপনি আপনার পোশাক টি পরিবর্তন করবেন তার সামনে গিয়ে আপনার মোবাইল ফোন থেকে যে কোন জায়গায় একটি কল করুন। যদি কল টি কেটে যায় অথবা না করা যায় তাহলে বুঝতে হবে সেখানে গোপন ক্যামেরা রয়েছে.

কারন এটি হয় FIBER OPTIC er মাধ্যমে SIGNAL TRANSFER বাধা গ্রস্ত হলে । " cell phone jammer " এর মাধ্যমে এটিপরীক্ষা করা যায়।অনেক সময় এটি কাজ নাও করতে পারে। তাই এ ব্যাপারে নিজের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
তাই দেরী না করে সবাই কে এই মেসেজ টুকু কষ্ট করে জানিয়ে দিন । 



সূত্র : ওপেষ্ট

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ