প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label বাবুল হোসেইন. Show all posts
Showing posts with label বাবুল হোসেইন. Show all posts

Saturday, March 26, 2011

ছেলেবেলা- ০৪ ।। বাবুল হোসেইন

হরিৎ আকাশ দেখে দেখে সময় কেটে যায়

মেঘের ভেলায় বৃষ্টি কেন উড়ে উড়ে যায়।

হাজার রকম প্রশ্ন মনে কাকে বলি খুলে

গোলাপ কেন লাল হল কি আছে এর মূলে।পাহাড় কেন এমন উঁচু বংশ কি তার বলো

নদীর এমন খরস্রোতা মন কোথায় হারালো?

আকাশ কেন এত উঁচু তারাগুলো দূরে

হাট বাজারে রোজ কেন এত্ত মানুষ ঘুরে।

বাবা কেন এমন বড় আমার মত নয়

মামা কেন এমন বেকুব চুপচাপ রয়।

ফড়িংগুলো কেন উড়ে নীল আকাশের নীলে

শাপলা কেন ফুটে থাকে নদী এবং ঝিলে।

কিসের টানে এত্ত মানুষ ছুটছে দিগ্বিদিক

এত্ত বড় পৃথিবীটার কে দেয় রিযিক।

ছেলেবেলা- ০৩ ।। বাবুল হোসেইন

তিন একে তিন নাচি দ্রিম দ্রিম

চার একে চারি চলছি মামার বাড়ী

এসব তখন মনের ভিতর করছে বাড়াবাড়ী

বুকের ভিতর তখন ছিল কষ্ট এবং হিম।
এক একে এক একটু ফিরে দেখ

দুই একে দুই বসতে পারিস তুই

বসবি নাকি বাবুসোনা কিংবা বাগান জুঁই

মনে মনে ছড়াগুলো শেখ।

ছেলেবেলা- ০২ ।। বাবুল হোসেইন

তখন আমি স্কুলে যাই শ্লেট পেন্সিল ছাড়া

ছেলেবেলার দিনগুলো তাই ভীষণ ছন্নছাড়া।

স্কুল মানে অন্ধকারে টিনের ঘরে ইচ্ছে মতন বসা

কানের ভিতর বাজায় বাঁশী কালো কালো মশা।
ক্লাশের চেয়ে বেশী ছিল খেলার দিকে মন

মাঠটা তাই ছিল বুঝি ভীষণ রকম আপন।

মাঠের ভিতর হল্লা ছুটে সারা সময় জুড়ে

ছেলেবেলা এখন বুঝি অনেক অনেক দূরে!

ছেলেবেলা- ০১ ।। বাবুল হোসেইন

রাতের বেলা ঘুমের খেলা স্বপ্ন দেখা সারাবেলা

হাজার হাজার রঙের মাঝে ভীষন নাজুক ছেলেবেলা।

মাঝপুকুরে শাপলা ফুটে ভীষন রকম বায়না বুকে

শাপলা আমায় দিতেই হবে কান্নাকাটির হল্লা চুকে।
বিকেল বেলার রাস্তাঘাট দস্যি ছেলে মাতায় মাঠ

কানামাছি, গোল্লাছোট আর বউছি খেলার বসে হাট।

চাচা মামার ভীষন শাষন মারামারি এবং ভাষন

এক কানেতে ঢুকতে দিতাম অন্য কানে সঞ্চালন।

পাশের বাড়ীর আম বাগানে মাঝে মাঝে ফুলবাগানে

দস্যিপনার মেলা হত রাত্রি এবং দিন যাপনে।

পুকুর ধারে নেবুর তলে জ্বোনাকগুলো নেভে জ্বলে

হাত বাড়ালেই ধরতে পারি ছেলেবেলা এলেবেলে।

Friday, March 25, 2011

মহান মানুষ ।। বাবুল হোসেইন

আসমান থেকে খসে পড়া চাঁদের কণা

পৃথিবী রাঙ্গানো হয় তার স্পর্শে

বহুদিন ভুলিনি সেই রূপের বাহার

যেদিন সেজেছিলে তুমি অপূর্ব দৃশ্যে।

তোমার উদারতা, তোমার দেওয়া-মন

চারপাশে বিলায় পরমানন্দের ঝড়

গ্রহ-নক্ষত্রের বাগান তুমি দাও না বলেই

ইতিহাস হয়ে রয় চির-অমর।



সূর্যের লাল আভা দাও এনে তুমি

আমাদের হতভাগ্য পোড়া কপালে

মানুষের সকল মানবিকতা, মহানুভবতা

লিখে রাখো ইতিহাসে দেয়ালে।



তুমি মহান, মহানুভব তুমি জীবনে

স্পর্শের কাছে ঋনী জনমভর

এমন স্পর্শের তরে উৎসর্গ হোক জীবন

ভুলে যাই কে আপন কে পর। 


উৎসর্গ : নেজা মিয়া স্যারকে। সফাত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। যিনি আমার জীবনে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, প্রিয় শিক্ষক। এখনো যিনি দক্ষ হাতে চালাচ্ছেন স্কুলের সকল কার্যক্রম। আল্লাহ তাকে আরো দীর্ঘায়ু করুন।

Friday, December 24, 2010

দূরতমা by বাবুল হোসেইন

তোমার শাড়ির ভাঁজে ছিল বিস্ময় আকাশ
না পড়া অভিব্যক্তির আজন্ম কাঙালপনা ;
সেই যে তুমি ডানা মেলতে শিখলে; উড়তে শিখলে;
একদা পান্থজন ভুলে গেলো পথের হদিস।

পথের আবর্তে হারালো পথ, ইতিহাস হয়ে গেলো প্রাক্-ইতিহাস।
গোলক ধাঁধায় আটকানো চোখে দিগন্তের হেলে পড়া আকাশ
কেবলই দূরে, আরো দূরে, দূরতম দ্বীপের মতন।

প্রাচ্যে আর পশ্চিমে :
ঢের ঘোরা হলো, দেখা হলো কত সভ্যতার নাড়ী-নক্ষত্র
তবু জানা হলো না কোন সভ্যতা লুকিয়ে থাকে
তোমার আটপৌরে শাড়ির ভাঁজে !

Thursday, December 23, 2010

অদ্ভুত আঁধারে হেঁটে যায় একাকী যুবক by বাবুল হোসেইন

আষাঢ়ের আকাশ। পরিষ্কার এবং মেঘলা। পেঁজা মেঘগুলো উড়ে যায় এদিক সেদিক। সে এক দেখার মত দৃশ্য ! বারান্দায় বসে অহম দেখে বর্ষার বাড়ন্ত আকাশ। চাঁদটা মেঘের আড়ালে একবার লুকোয় পরক্ষণে আবার খলখলিয়ে হেসে উঠে আপন মহিমায়। চাঁদের মধ্যে বিষণ্ন এক পথিকের হেটে যাওয়া দেখে অহম। কেবল দৌড়াচ্ছে, শাদা শার্ট আর নীল জামা। অহম দেখে আর বিস্ময়ে অভিভূত হয়। সে বিশ্বাসই করতে পারে না। সে মাকে ডেকে আনে বারান্দায়। মাও দেখে বিস্মিত হন। একি! এ যে সত্যি সত্যি চাঁদের বুকে যুবকের হেঁটে যাওয়া। অহম ডিবে থাকে চাঁদের মগ্নতায়। বিষণ্ন পথিকের মত ক্লান্ত শ্রান্ত অহমও আবিষ্কার করে সেও কেবল হেঁটে যাচ্ছে। জনমভর। সারাটা জনম ধরে।......
বিষণ্ন দুপুরগুলোয় অহমরা আড্ডা দিত কোন এক শিমুলতলায়। আর সেই শিমুলের উড়াউড়ি দেখে অহম আবিষ্কার করত এক ধরনের সুখ সুখ ভাব। কি পবিত্র আর স্নিগ্ধ শিমুল তুলা। স্পর্শ করলেই যেনো নরম পরশ দেয়। আর কি শফেদ আর অপরূপ রূপ। অহমের বন্ধুরা বিশেষত সবুজ ওকে ক্ষেপাত খুব। বলত প্রকৃতি প্রেমিক। আর হবেই বা না কেন? জন্মের একটা ধারাতো অস্বীকার করা যায় না। তার পূর্ব-পুরুষের হাত ধরে তার জিনেও ঢুকেছে প্রকৃতিপ্রেম, লেখালেখি আরো কত কি। তার আগের প্রজন্মের অনেকেই নামকরা লেখক এবং গীতিকার ছিলেন। সেও পেয়েছে কিছুটা হলেও। তাই অহমও একদিন সিদ্ধান্ত নেয় পূর্বপুরুষের মত সেও লেখালেখিতে মনযোগ দিবে এবং তার ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিবে এই লেখালেখিকেই।

চাঁদের আলোয় অহম একধরনের বেদনাবোধ টের পায়। তার কেবলই মনে হয় এটা কি সে সত্যি সত্যি দেখেছে নাকি বিভ্রম। কেবলই বিভ্রম। সে ভাবতে থাকে, ক্রমশই ভাবতে থাকে। চাঁদের মধ্যে এক বুড়ি আছে, এরকম একটা মিথ সে শুনেছিল কোন এক শৈশবের দিনে, বিষণ্ন দুপুরে হয়তো নানী কিংবা দাদীর বিছানার পাশে বসে, সুপাড়ির লাল রসে ফাঁকা দাঁতের হাসিতে নানী কিংবা দাদী তাকে শুনিয়েছিলো সেইসব পুরোনো দিনের মিথ, তার মনে নেই। শুধু মনে আছে এইটুকু সে শুনেছিলো কারও কাছ থেকে।

অহম নিজেই হেঁটে যায় বিষণ্ন রাস্তায়। চারপাশের মেঘকণা তাকে সঙ্গ দেয়। তুমুল আড্ডা হয় মেঘেদের সঙ্গে। মেঘ তাকে আমন্ত্রন দেয় ওদের রাজ্যে বেড়াতে যাওয়ার। মেঘেদের বাড়ীতে কি শুভ্র বিছানা আছে কিংবা ওদের এমন অমায়িক আচরণ দারুন মুগ্ধ করে। অহম কথা দেয় মেঘেদের বাড়ীতে বেড়াতে কোন এক মেঘলা দিনে। তারপর শুনবে কি করে সারা আকাশ জুড়ে মেঘেদের দাপট, সেইসব কাহিনী কিংবা মিথগুলো।

তার মনে পড়ে কোন সুদূরের দিনে তার এক বন্ধু তাকে কথা দিয়েছিলো আসার। সে বেড়াতে গিয়েছিলো জঙ্গলে। সুন্দরবনে। অহমকে নিয়ে যাবার কথা ছিলো, কিন্তু যাওয়ার আগে অহম অসুস্থ্য হয়ে গেলে আর যেতে পারেনি তার বন্ধুর সঙ্গে। তারপর সেই বন্ধু একাই চলে গিয়েছিলো। আর ফির আসেনি। কথা ছিলো এসেই অহমকে দেখতে আসবে, কিন্তু আর আসতে পারেনি সেই বন্ধু। তারপর থেকে অহম একটু অন্যরকম হয়ে যায়। বিশাল একটা পরিবর্তন আসতে থাকে অহমের জীবনে। কেমন ঘোর লাগা একটা সময় আসে অহমের জীবনে। সবাই জানতো ব্যাপারটা, তাই শান্তনার বদলে সবাই অহমকে সঙ্গ দিয়েছে। ভালোবেসে কাছাকাছি থেকেছে। কিন্তু অহমের মনের ভিতরে যে পরিবর্তন হয়ে গেছে সেটা আটকাতে পারেনি কেউই। অহম কেবল স্বপ্ন দেখে বিষণ্ন শহর ছেড়ে পালাচ্ছে একাকী যুবক। তার স্বপ্নের মাঝে বারবার আসে একাকী যুবক। বারবারই সে শুধু যুবকের অবয়ব চিনে, যুবককে চিনে না। কিংবা ঐন্দ্রজালিক এক ধরণের ধাঁধাঁ তাকে চিনতে দেয়না, কে জানে? অহম কেবলই শুন্যতা অনুভব করে তখন। মাকে সে বলেছে এরকম সময়ে তার কি রকম লাগে। মা তাকে ভালো সাইকি দেখিয়েছেন। সেরকম কোন সমস্যাই নেই অহমের, ডাক্তার জানিয়েছে মাকে। অহম দিন দিন কেমন অদ্ভুদ আর বিষন্নতায় ডুবে যাচ্ছে। মা চিন্তিত হন ভীষণ রকম।

দিন যেতে যেতে এক সময় অহমের মা টের পান ছেলে তার শান্ত সুবোধ বালক। হৈহুল্লোড় আর আড্ডা ছেড়ে অহম কেমন চুপচাপ বসে থাকে পড়ার রাজ্যে। ডুবে থাকে দিনমান এবং রাত্তিরের সবটুকু সময়। মা শান্তনা দেন অহমকে। অহম মাকে আশ্বাস দেয়, বলে আমি ঠিক আছি মা। তুমি আমাকে নিয়ে একদম কোন চিন্তাই করো না, আমি পুরোপুরি ভালো আছি। সুস্থ্য আছি।

সেই যে বন্ধুটি চলে গিয়েছিলো অহমের জীবন থেকে, তারপর থেকে অহম কেবলই খুঁজতে থাকে তাকে। কঁচি মনে বারবার সেই বন্ধুটিকে চেয়েছে সে, বুঝতে পারেনি। তাই সে এরকম অদ্ভুদ আচরণ করেছে সবার সাথে। অথচ অহম নিজে ভিতরে ভিতরে কি শান্ত সুবোধ বালক। বন্ধুদের আড্ডার মধ্যমণি অহম নিজেকে সরিয়ে ফেলে সেসব থেকে। গুটাতে থাকে আপন আধারে। সেই থেকে অহমের পথ চলা কেবলই বিষণ্ন যুবকের সনে। একাকী নির্জনে। কোন এক সুদূরের পানে। পরিপূর্ণ যুবক অহম এখনো ভাবে আনমনে সেইসব দিনের কথা, স্মৃতি। তার বন্ধু তাকে দেখতে আসবে...অথবা সেও তো চলে যেতে পারতো তার বন্ধুর সাথে। সে কেবলই ভাবে কেন সে অসুস্থ্য হলো, কেন সে যেতে পারেনি তার বন্ধুর সঙ্গে। অথবা নিয়তিই কি তাকে বাঁচিয়েছিলো দূর থেকে। কিন্তু সে তো চায়নি তার বন্ধুর এরকম হারিয়ে যাওয়া। আর ফিরে আসবে না তার বন্ধু এরকম তো সে কখনো চায়নি। সে কল্পনাও করেনি তার বন্ধু আর ফিরে আসবে না। সে অপেক্ষায় ছিল, তার বন্ধুর ফিরে আসার। ফিরে এলে গল্প শুনবে সুন্দরবনের। ছবি দেখবে। দেখে মুগ্ধতায় হারাবে অহম। নিজেকে খুব গর্বিত ভাবে অহম, সে এবং তার বন্ধু সুন্দরবন দেখতে পেরেছে এই জন্য। বন্ধুদের মাঝে বলবে তারও কথা ছিলো যাওয়ার কিন্তু যেতে পারেনি অসুস্থতার জন্য। সে ছবি দেখে চিনে রাখবে সবগুলো স্পট যাতে আরেকবার গেলে সে সহজেই চিনে ফেলতে পারে।

অহম কান্নার মত গুমরে গুমরে উঠে মাঝরাতে। তার চেতনে অবচেতনে হেঁটে বেড়ানো বালক। তার জগৎ কেবলই গোলক ধাঁধাঁয় ঘুর পাক খায়। বিষণ্নতা বিছানো পথে সে কেবলই হারায় নিজেকে। আর প্রতিনিয়ত আবিষ্কার করে অদ্ভুদ আঁধারে একাকী হেঁটে যায় বিষণ্ন যুবক। আর তাকে সঙ্গ দিচ্ছে অদ্ভুদ মেঘেরা, মেঘলা আকাশের চাঁদ আর শৈশবের দাদী কিংবা নানীর মুখে শুনা মিথ...যা তার পুরোপুরি মনে পড়ে না।

এখান থেকে

Tuesday, December 21, 2010

ফেরা অথবা ফেরানো by বাবুল হোসেইন

ফেরাতে না পেরে, নিজেকেই ফিরিয়ে নিলাম
কাউকে না কাউকে তো ফিরতেই হয়
একটা সম্পর্কের ভগ্নদশা অথবা ভগ্নাংশের জন্য
কেউ না কেউ তো দায়ী হয়ই,
কারো মাথায় দোষের খড়গ নিতেই হয়
যেমন ঘন কালো রাতের জন্য চাঁদ দায়ী
অথবা মেঘলা আকাশের জন্য সূর্যটা।

শীতল অবগাহনের পর তুমি জানলে না
কে বেশী তৃষ্ণার্ত ছিল
কার বেশী দরকার ছিল তৃষ্ণার জল।

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ