প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Showing posts with label হারানো ঐতিহ্য. Show all posts
Showing posts with label হারানো ঐতিহ্য. Show all posts

Wednesday, June 27, 2012

হারানো ঐতিহ্য : পালকি | জহির রহমান


চিরায়ত গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের ধারক পালকি আর চোখে পড়ছে না। পালকিও কোন কোন খানদানি বাড়িতে অচল হয়ে পড়ে আছে। কিংবা মিউজিয়াম পিস হয়ে কালের স্থানু সাক্ষী হয়ে আছে জাদুঘরে। বেহারাদের সুর করে সেই কিনু গোয়ালার গলি ঘুরে মাঠ প্রান্তর পেরিয়ে গন্তব্যের কাছে দূর থেকে সেই ছয় বেহারাদের আর দেখা যাচ্ছে না। তাদের ছন্দিত লয়ে হাঁটার সাথে সাথে এ গাঁও থেকে ওগাঁয়ে নাইয়র, বিয়ের কনে-বর কিংবা মান্যগণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়ার এ চক্রবিহীন যান সম্ভবত তার অন্তিম প্রহর গুনছে। 
ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্র নাথ দত্তের ভাষায়, রবীন্দ্রনাথের কবিতায়, হেমন্তের গানে কিংবা ভূপেন হাজারিকার মাদল মাদক তানে চলা পালকি এখন ঐতিহ্যের খাতায় নাম লেখাচ্ছে। সেই ন্যাংটা পুঁটো ছেলেটা আর বলে না পালকি চলে, পালকি চলে ঃ আদুল গায়ে যাচ্ছে কারা — যাচ্ছে কারা হনহনিয়ে।
রবি ঠাকুরের ’বীরপুরুষ’ কবিতার খোকা তার মাকে পালকিতে নিয়ে যাওয়ার সময় লড়ে না ডাকাতের সাথে যখন ওরা আসে তেড়ে ‘হারে রে রে’ বলে। সেই ভীষণ যুদ্ধের বর্ণনাও দিতে পারে না মাকে। মাও বলতে পারেন না , ভাগ্যে খোকা ছিল তাঁর সাথে। দাদা তার সদ্য বিয়ে হওয়া দিদিটিকে আর বলে না, এ কটা দিন থাক না দিদি , কেঁদে কেটে কঁকিয়ে, দুদিন বাদে তো নিয়েই যাবে পালকি করে সাজিয়ে। ‘মৈমনসিং গীতিকার’ দেওয়ানা মদিনাও ছুটবে না পালকিতে আবের পাংখা নিয়ে আর।
পালকি বহরের আর সেই পরিচিত দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না। আধুনিক যোগাযোগের গোগ্রাসে পালকি হারিয়ে যাচ্ছে বিস্মৃতির অতল তলে প্রাচীন বাংলার এ বাহনটি। আসলে পালকি নামটির উৎপত্তি ফারসি ও সংস্কৃত – উভয় ইন্দোভারতীয় ভাষা থেকে আর সেই সাথে ফরাসি থেকেও। সংস্কৃতে পলাঙ্কিকা।
পল্লীকবি জসিমউদ্দীন তাঁর স্মৃতিকথায় এ গাঁও থেকে ওগাঁওয়ে যাওয়া বেহারাদের পালকি নিয়ে চলার যে বিবরণ দিয়েছেন তা আমাদের আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের অংশ। বিলুপ্ত প্রায় এ পালকি এখন নানা জাদুঘরে শোভা পাচ্ছে।
এককালে নদীনালা কম এরকম কিছু জেলা যেমন যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুর, মাদারিপুরসহ বিভিন্ন জেলায় ৫০’ -৬০’-এ দশকেও অনেক পালকি চোখে পড়তো। বিশেষ করে বিয়ে বাড়িতে নব বরবধূ আনা নেয়ায় পালকি ব্যবহার করা হতো। চক্রযানের বিপ্লবে পালকির জায়গা করে নেয় ছৈওয়াল নকশী গরু গাড়ি। আর আধুনিকোত্তর এই যুগে জায়াগা দখল করে নিয়েছে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস। হালে লাঙ্গল যেমন গ্রামেও অচল তেমনি ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলে নানা অনুষ্ঠানে ব্যবহার করছে কার আর মাইক্রোবাস। এ যানের রমরমা ব্যবসাও একই কারণে জমে উঠেছে।
ছড়ায় বলা হয়েছে বউ সাজবে কালকি, চড়বে সোনার পালকি! না সোনার বরনীকন্যা এখন আর পালকির বদ্ধ পরিবেশে যাবে না, উঠবে আসল বা নকল ফুলে সাজানো ফুলেল এয়ারকন্ডিশন্ড কারে।

Friday, January 13, 2012

দেশের ক্ষুদ্রতম মসজিদ || নাজমুল ইমন

আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর আগের ঘটনা। এমন একটি মসজিদ তৈরি হবে যেখানে হাতেগোনা কয়েকজন মানুষ দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে পারবে। জানালা থাকবে না, দরজা থাকবে তবে ছোট আকৃতির। দেশের সবচেয়ে ছোট মসজিদ হবে সেটি।
বগুড়া জেলার প্রাচীনতম শহর সান্তাহার। সেই সান্তাহার থেকে ৩ কিলোমিটার ভেতরে একটি গ্রাম, তারাপুর। সকাল সকাল আমরা বের হলাম সেই গ্রামের উদ্দেশে। আঁকাবাঁকা রাস্তার দুই ধারে প্রচুর গাছ। গ্রামে ঢুকতেই কেমন জানি মনটা ভরে গেল। মাটির বাড়ি সারিসারি এক তলা, দুই তলা। বেশ কয়েকটা বাড়ি পেরিয়ে পেঁৗছে গেলাম একটা প্রাইমারি স্কুলে। সেখানে সবাইকে এ মসজিদের কথা বলতেই আমাদের এর ঠিকানা বলে দিলেন। শুরু হলো মাটির রাস্তা। গ্রামের যে এত সৌন্দর্য তা তারাপুর গ্রাম দেখলেই বোঝা যাবে। আমরা কয়েক মিনিটের মধ্যে পেঁৗছে গেলাম আমাদের লক্ষ্যস্থান সেই ক্ষুদ্র মসজিদের কাছে।
সুনসান জায়গা। দেড়শ' বছরের অধিক সময় ধরে এই মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ হয়ে আছে। কারা, কেন এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন এ নিয়ে বর্তমান গ্রামবাসীর মধ্যে অনেক মতবিরোধ আছে। আমরা সবার কথার গুরুত্ব দেই। সেখানে যেহেতু এই মসজিদের কোনো ইতিহাস নেই, সেহেতু এ মসজিদটির যে দুই-চারটে কথিত ইতিহাস আছে হয়তো এর মধ্যেই একটি ইতিহাস আছে যেটি সত্য। তাই আমরা আশপাশে থাকা বয়স্ক, যুবক, তরুণ সব ধরনের মানুষের কাছ থেকেই মসজিদ সম্পর্কে জানতে চাই।
তরুণ আরিফুল ইসলাম জনি বললেন, সান্তাহারের ছাতিয়ান গ্রাম ইউনিয়নের রানী ভবানীর বাবার বাড়ি। সান্তাহারের আশপাশসহ আমাদের তারাপুরও রানী ভবানীর বাবার রাজ্যত্ব ছিল। তারই অংশ হিসেবে রানী ভবানীর আসা-যাওয়া ছিল এ গ্রামে। একজন মুসলমান মহিলা এই গ্রামে ছিলেন, যিনি পরহেজগার। হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা হওয়ার কারণে ওই মহিলার নামাজ পড়ার অনেক অসুবিধা হতো। রানী ভবানী এমন কথা জানতে পেরে তিনি নিজেই এই গ্রামে চলে আসেন আর সেই মহিলাকে যেন কেউ তার নামাজ পড়াতে অসুবিধা না করতে পারে, সে জন্য তার পেয়াদারদের হুকুম দেন_ তার জন্য রাজকীয় নকশায় একটি মসজিদ তৈরি করে দেওয়া হোক। এভাবেই এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। তবে এটাও তার দাদার মুখ থেকে শোনা। দাদা আবার শুনেছেন তার দাদার কাছে।
এক পর্যায়ে আমরা এ মসজিদটি মেপে দেখি। লম্বায় এই মসজিদের উচ্চতা ১৫ ফুট আর প্রস্থ ৮ ফুট, দৈর্ঘ্য ৮ ফুট। মসজিদের দরজার উচ্চতা ৪ ফুট আর চওড়া দেড় ফুট। একটি মানুষ অনায়াসে সেখানে ঢুকতে বা বের হতে পারবে। একটি গম্বুজ আছে যেটা অনেকটাই উঁচুতে। আর দেয়ালের পুরুত্ব দেড় ফুট। এ ছাড়া দেয়ালটি ইটের তৈরি। যে ইটগুলো মসজিদের দেয়ালে ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর সবটার অর্ধেক ভাঙা। মসজিদের দরজায় দুটি রাজকীয় নির্দেশনার আদলে নির্মিত খিলান আছে। মুসলিম স্থাপত্যের নিদর্শন সংবলিত মিনার, দরজার খিলান এবং মেহরাবই মসজিদটির প্রাচীন ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে আছে।
আসলে এটি এত পুরনো আর সংস্করণের অভাবে এটির যে অবস্থা, মসজিদটি দেখার পরও তেমনভাবে বিশেষ চিহ্ন বা নিদর্শন চোখে পড়ে না। এমন একটি নিদর্শন আমাদের সংরক্ষণ করা এখনই দরকার।

সূত্র : সমকাল

Friday, June 24, 2011

ক্ষতুপাড়া জমিদার বাড়ি

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ঐতিহাসিক ক্ষেতুপাড়া জমিদার বাড়িটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ভেঙে লতাপাতায় ছেয়ে গেছে। বর্তমানে বাড়িটি ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। অথচ ১০ বিঘা জমির ওপর তৈরি এ বাড়িটি সংস্কার করলে এখানে গড়ে উঠতে পারে পর্যটন কেন্দ্র ।

জনশ্রুতি রয়েছে আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে ভারত থেকে নব কুমার নামে এক জমিদার এসে সাঁথিয়া উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামে অবস্থান নেন। সেখানে তিনি একটি বাড়ি নির্মাণ করে ১৫৪টি তৌজি নিয়ে তার জমিদারি পরিচালনা করতে থাকেন। জমিদার নব কুমার রায় মারা যাওয়ার পর তার একমাত্র ছেলে পার্বতী চরণ রায় ৬০ বছর এখানে জমিদারি করেন। জমিদার নব কুমার সম্বন্ধে তেমন কিছু জানা না গেলেও তার ছেলে পার্বতী চরণ রায় সম্বন্ধে জানা যায়, তিনি ভারতের কাশীতে বিয়ে করেন। বিবাহিত জীবনে চার পুত্রসন্তানের জনক ছিলেন তিনি। পুত্ররা হলেন হেমন্ত রায়, রামাচরণ রায়, শ্যামা চরণ রায় এবং বামা চরণ রায়। বাবা পার্বতী চরণ রায় মারা যাওয়ার পর তিন পুত্র ভারতে চলে গেলেও এক পুত্র শ্যামা চরণ রায় সাঁথিয়ায় থেকে যান। শ্যামা চরণ রায় মারা যাওয়ার পর তার একমাত্র ছেলে দীপক কুমার রায় সংসারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এক পর্যায়ে দীপক কুমার রায় জমিদার বাড়িটি বিক্রয় করার ঘোষণা দিলে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরের সন্ধ্যা রানী বাড়িটি ক্রয় করেন। বর্তমানে বাড়িটিতে সন্ধ্যারানী ও তার স্বামী জ্ঞানেন্দ্র নাথ তালুকদারের চার ছেলে উত্তম কুমার তালুকদার, গৌতম কুমার তালুকদার, অরুণ কুমার তালুকদার এবং অলক কুমার তালুকদার বসবাস করছেন। জানা যায়, সন্ধ্যারানী বাড়িটি ক্রয় করার পর ১৯৩৮ সালে একবার বাড়িটি সংস্কার করা হয়েছিল। বর্তমানে বাড়ির বাসিন্দারা অর্থাভাবে সংস্কার করতে পারছেন না। বাড়িটি সংস্কার করা না হলে অচিরেই হারিয়ে যাবে ঐতিহাসিক এই জমিদার বাড়ির শেষ চিহ্নটুকু এবং হারিয়ে যাবে সম্ভাবনাময় এই পর্যটন কেন্দ্রটি। উল্লেখ্য, এ জমিদার বংশের অন্যতম প্রাণপুরুষ শ্যামা চরণ রায় একজন বিদ্যানুরাগী ও সমাজসেবক ছিলেন। তিনি বর্তমান সাঁথিয়া উপজেলা সদরের সাঁথিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, সাঁথিয়া কামিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জায়গা দানসহ অনেক সেবামূলক কাজ করে গেছেন। 

আশিক ইকবাল, পাবনা 
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

Friday, June 17, 2011

হারিয়ে যাচ্ছে কদম গাছ

কদম না ফুটলে যেন বৃষ্টি ঝরে না। গাছে কদম ফুটেছে, রিমঝিম বৃষ্টিতে থৈ থৈ চারিধার, আষাঢ় এসেছে। জ্যৈষ্ঠের তীব্র তাপদাহে তপ্ত দেহ-মনে স্বস্তির ছোঁয়া নিয়ে আবারও আষাঢ় এসেছে। বাংলা সনের এ মাসটির সঙ্গে প্রকৃতির যেন নিবিড় সম্পর্ক। কদম ছাড়া আষাঢ় যেন কল্পনাই করা যায় না। আষাঢ়কে বরণ করতে কদমফুল ছাড়া না চললেও এমন একদিন হয়তো আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে যেদিন কদম ছাড়াই আমাদের মধ্যে আষাঢ় আসবে।
কদম এখন একটি দুর্লভ ফুলের নাম। যে কদমকে নিয়ে এতকিছু আষাঢ়ের বার্তাবাহক সেই প্রিয় কদমফুলের কদমগাছ হারিয়ে যেতে বসেছে। কোথাও এখন আর আগের মতো কদমগাছ চোখে পড়ে না। এক সময় আষাঢ়ের পুরো সময়টা কদমগাছ ফুলে ফুলে ভরে থাকত। সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ তা দেখে তৃপ্ত হতেন। বাড়ির আঙিনায়, রাস্তার দু’পাশে কদমগাছ ছিল চোখে পড়ার মতো।
গ্রামের শিশু-কিশোররা কদমতলায় কদমফুল নিয়ে খেলা করত। মানুষ প্রিয়জনকে কদমফুল উপহার দিত। আজ ধীরে ধীরে তা একেবারেই হারিয়ে যেতে বসেছে।
লাভের অঙ্কের হিসাব মেলাতে মানুষ আর বাড়ির আঙিনায় কদমফুলের গাছ লাগাতে চাইছে না। কদমগাছের জায়গায় মেহগনিসহ দামি কাঠের গাছ রোপণে ঝুঁকছে তারা। তবে প্রকৃতির মাঝ থেকে কদমগাছ আস্তে আস্তে কমে গেলেও বাংলা সাহিত্যে রিমঝিম আষাঢ় কদমকে চিরসঙ্গী করে রেখেছে এবং রাখবে।

গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য : গরুর গাড়ি ।। জহির রহমান

ওকি গাড়িয়াল ভাই
কত রব আমি পন্থের দিকে চাহিয়ারে...
যে দিন গাড়িয়াল উজান যায়,
নারীর মন মোর ঝুরিয়া রয় রে।
ওকি গাড়িয়াল ভাই
হাকা গাড়ি চিলমারীর বন্দরে রে...

দূর থেকে বাতাসে ভেসে আসছে গান। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে কে গাচ্ছে এ গান! কে আবার? গাড়োয়ান ভাই। গাড়োয়ান ভাই গরুর গাড়ি চালায়। ছুটে চলে দূর-দূরান্তে, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। মাল নিয়ে ছুটে চলে বন্দর থেকে বন্দরে, এক গঞ্জ থেকে আরেক গঞ্জে। দূরের যাত্রাপথে সুরেলা কণ্ঠে ভাওয়াইয়া গান ধরে গাড়োয়ান ভাই।



বাতাসে গাড়ি চলার কোঁ-ওঁ-ওঁ-ওঁ শব্দ ভেসে আসছে। বেড়ার ফাঁকে দাঁড়িয়ে দেখে বাড়ির বউ। তাই তো গরুর গাড়িই যাচ্ছে! পর্দার ফাঁকে দেখা যাচ্ছে বড় বাড়ির বউ। নিশ্চয়ই নাইওর যাচ্ছে বাপের বাড়ি। ছোট ছোট ছেলেপুলেরা গরুর গাড়ির পেছন পেছন ছুটে চলছে। গরুর গাড়ি বাতাসে ছড়িয়ে দিচ্ছে কোঁ-ওঁ-ওঁ-ওঁ আওয়াজ।


পল্লী বধূরা মাথার গোমটা পরিয়ে মিষ্টি হেসে ঘরের জানালায় দাঁড়িয়ে মনে নানা পরিকল্পনার চিত্র আঁকে। এখন সবকিছু স্মৃতি। বাস্তবের সলিল সমাধি হয়ে গেছে সেই বহুকাল আগে থেকে।


শত বছর আগের এমনই ছিল গ্রাম বাংলার অবস্থা। যেখানে নৌকা চলত না, গরুর গাড়িই ছিল সেখানকার একমাত্র যানবাহন। গঞ্জ, নদী-বন্দর, ছোট শহর, হাট-বাজার সব জায়গায় সচল ছিল গরুর গাড়ি। মালপত্র আনা নেওয়া হতো গরুর গাড়িতে। অভিজাত পরিবারের সদস্যরা যাতায়াত করতো গরুর গাড়িতে। আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে যেত গরুর গাড়ি চড়েই। বাড়ির বাইরে গরুর গাড়ির আওয়াজ শুনেই বোঝা যেত অতিথি এসেছে। গরুর গাড়ি এসেছে যখন তখন নিশ্চয়ই এসেছে কোনো বিশেষ অতিথি!

গরুর গাড়ি সম্পূর্ণরূপে আমাদের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। আমাদের দেশের বাঁশ, কাঠ ব্যবহার করা হয় গরুর গাড়ি তৈরিতে। গরুর গাড়িতে খুব বড় বড় দুইটি চাকা থাকে। চাকা দুইটি কাঠের তৈরি। কাঠের চাকায় পুরানো থাকে লোহার রিং। তার উপর আবার রবারের টায়ারও পরনো হয়। কাঠের চাকায় খোদাই করে নানান নকশা করা হয়।

কাঠমিস্ত্রি ও কামারের যৌথ চেষ্টায় গরুর গাড়ির চাকা তৈরি হয়। গরুর গাড়িও পল্লীবাংলার এক ধরনের লোকশিল্প; কুটির শিল্পও বটে। গরুর গাড়ির চাকা তৈরি করে এক বিশেষ শ্রেণীর কারিগর। চাকা কিনে নিয়ে মূলত গায়ের মিস্ত্রি বা লোকেরা নিজেরাই গরুর গাড়ি তৈরি করেন। গরুর গাড়ি মূলত বাঁশের তৈরি। তবে কোনো কোনো অংশ যেমন- চাকা তৈরি হয় বাবলা কাঠ দিয়ে। চাকার কেন্দ্রস্থলে বিয়ারিং থাকে। দুটি চাকা একটা দণ্ড দিয়ে যুক্ত করা হয়। এর উপরেই থাকে গরুর গাড়ির সব ভার। চালির মতো বাঁশের তৈরি অংশকে বলে চালি। চালির পেছন দিক চওড়া, সামনের দিক চাপা। পুরো চালির দু'পাশে থাকে মজবুত দুটি বাঁশের দণ্ড। সামনে এ দুটি দণ্ড একটি চণ্ডি কাঠ দিয়ে যুক্ত থাকে, যাকে জোয়াল বলে। চণ্ডি কাঠের সামনে থাকে  বিষখিলি, জোয়াল ও কানখিল। জোয়াল গরুর কাঁধে তুলে দেওয়া হয়। দু'পাশে দুটি গরু জোয়াল কাঁধে গাড়ি টেনে চলে। যাত্রীবহনের গাড়িতে নৌকার মতো ছই থাকে। ছইয়ের ভেতরে চালির ওপর পাটি বা বিছানা পেতে যাত্রীরা বসে থাকে।

গাড়িতে ব্যবহৃত গরুর পায়ের খুরে দেয়া হয় এক ধরনের লোহার পাট্টা। পাট্টা লাগিয়ে দেয়ার দুইটি কারণ রয়েছে। এক-গরুর পায়ের খুরে লোহার পাট্টা লাগিয়ে দেয়ার কারণে গরু রাস্তায় চলাচলে গায়ে শক্তি পায়। এ পাট্টার কারণে পা রাস্তায় তেমন একটা সিলিপ করে না। দুই, পায়ে পাট্টা লাগানোর কারণে গরুর পায়ের খুর ক্ষয় হয় না। স্থায়ীভাবে পাট্টা লাগানোর ব্যবস্থা নেই বলে ৪/৫ দিন পর পর গরুর পায়ের খুরে পাট্টা লাগিয়ে দিতে হয়। একটি গরুর গাড়িতে পায় দুই টন মালামাল বহন করা যায়।

এখন যন্ত্রচালিত যানবাহনের যুগ। মালামাল বহনের জন্য রয়েছে ট্রাক, লরি, মালগাড়ি। মানুষের যাতায়াতের জন্য রয়েছে মোটরগাড়ি, রেলগাড়ি, বেবী ট্যাক্সি, রিকশা ইত্যাদি। মানুষ এখন খুব একটা প্রয়োজন না হলে গরুর গাড়ি ব্যবহার করে না। আধুনিক যানবাহনের ভিড়ে গরুর গাড়ি অনেকটা হারিয়ে গেছে। তারপরও মিটিমিটি করে এর অস্তিত্ব টিকে আছে।
গরুর গাড়ির একটি সুবিধা হলো এতে কোনো জ্বালানি লাগে না। ধোঁয়া হয় না। পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না। এটি খুবই পরিবেশ সহায়ক একটি যানবাহন।
রহিম মিয়া একজন সৌখিন গরুর গাড়ির মালিক। গ্রামীণ আবহে সে গরুর গাড়ি চালাতো। মনের অদম্য সাহস এবং উপস্থিত বুদ্ধিমত্তার জোরে রহিম মিয়া তার গাড়ির গরুগুলোকে আগলে রাখতো। গরুর ঘাড়ে যখন গাড়ির জোয়াল চাপিয়ে রহিম মিয়া তার গরুর গাড়ি নিয়ে ছুটে চলতেন তড়িৎ গতিতে। নানা ধরণের মালামাল বহনে তার গাড়ির তুলনা ছিলো না। স্থানীয় মানুষজন তাকে রহিম মিয়াকে আগেই বলে রাখতো মাল বহনের জন্য। সততা এবং সাহসের জোরে রহিম মিয়া সবার কাছে ছিল প্রিয় ব্যক্তি। চিরন্তন সত্য মৃত্যু তাকেও একদিন নিয়ে যায় না ফেরার দেশে। আজ রহিম মিয়া নেই, নেই তার বাহারি গরুর গাড়িও।

ঐতিহ্যের ধারকবাহক এই গরুর গাড়ি একদিন বইয়ের পাতায় জায়গা করে নেবে। বর্তমান প্রজন্মের কেউ গরুর গাড়ি চিনবে না।

গরুর গাড়ি ঐতিহ্যেরই একটা অংশ। গ্রামীণ পরিবেশে গরুর গাড়ির প্রচলন থাকলেও বর্তমানে তেমন একটা চোখে পড়ে না। ইতিহাস-ঐতিহ্যের অনেক কিছু আমরা ক্রমান্বয়ে হারাচ্ছি। কালের গতিধারায় উন্নয়নের গতি থেমে নেই। আমাদের জীবন থেকে হারাচ্ছে এরকম নানা ঐতিহ্য। পরিকল্পনা অনুসারে মোকাবেলা করা গেলে কিছুটা হয়তো রক্ষা পেতো। এজন্য দরকার সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সফল উদ্যোগ গ্রহণ এবং  তা বাস্তবায়ন। এভাবে করা গেলে গণ-হারে ঐতিহ্য ধ্বংস না-ও হতে পারতো।
 
মাসিক কিশোর সাহিত্যে প্রকাশিত

Thursday, February 3, 2011

ঘুড়ি নিয়ে ঘোরাঘুরি by শুভ অংকুর

আকাশে যখন ঘুড়ি ওড়ে তখন তার সঙ্গে মনটাও যেন উড়ে উড়ে যায়। মনে হয় ঘুড়ির সঙ্গে গিয়ে যদি আকাশটা ছুঁতে পারতাম! ওইভাবে যদি আকাশের কানে কানে কথা বলা যেতো ঘুড়ির মতো! ঘুড়ি দেখে আমাদের মন তাই আনমনা হতে বাধ্য। আর নিজে ঘুড়ি ওড়ানো? সে তো আরেক মজার ব্যাপার। এই টান টান, গেলো গেলো। ওই ঘুড়িটা কাটতেই হবে। দেখি, কার ঘুড়ি কত উপরে ওড়ে। মজার মজার সব কাণ্ড ঘটে সে সময়। চলো তো দেখি, আজ বরং আমরা কিছুক্ষণ ঘুড়ি উড়িয়েই আসি।
ঘুড়ির ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যীশু খ্রীস্টের জন্মের প্রায় ২৮০০ বছর আগে চীনে প্রথম ঘুড়ি ওড়ানো হয়। সেসময় বাঁশের কাঠামোর সঙ্গে সিল্ক কাপড় দিয়ে ঘুড়ি বানানো হতো। এরপর তো কাগজ দিয়ে বানানো হলো ঘুড়ি। এই সময় আবার এই কাগজে বিভিন্ন তথ্যও লেখা হতো। কেন? কারণ কোনো কোনো সময় যুদ্ধক্ষেত্রে ঘুড়ি দিয়ে শত্রুপক্ষের চোখ এড়িয়ে নিজের লোকদের কাছে সংবাদ পাঠানো হতো। এছাড়াও আরো কিছু কাজে ঘুড়ি ওড়ানো হতো। যেমন দূরত্ব মাপা, বাতাসের গতিবিধি দেখা থেকে শুরু করে সংকেত পাঠানোর কাজেও ব্যবহার করা হতো ঘুড়ি। এরপর ১৩ শতকের শেষের দিকে পরিব্রাজক মার্কো পোলোর মাধ্যমে ঘুড়ির কথা ইউরোপের মানুষ জানতে পারে। তবে ঘুড়ির স্বর্ণযুগ বলা হয় ১৮৬০ সাল থেকে ১৯১০ পর্যন্ত সময়কে। কারণ এই সময় ঘুড়ি দিয়ে অনেক বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা হতো।
undefinedআমাদের দেশে অবশ্য ঘুড়ি এক বিশেষ সংস্কৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মোঘল সাম্রাজ্যের সময় থেকে আমাদের উপমহাদেশে ঘুড়ি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এখানে ঘুড়ি ওড়ানো এক উৎসব হিসেবেই দেখে সবাই। একসঙ্গে অনেক ঘুড়ি আকাশে ওড়ে। এর মধ্যে আবার চলে ঘুড়ি কাটাকাটি খেলা। সত্যিই, সে এক উৎসবই বটে।

আমাদের উপমহাদেশে যে ঘুড়িগুলো সাধারণত আগে থেকে ওড়ানো হতো তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো গুড্ডি বা পাতাঙ ঘুড়ি। এর সঙ্গে আবার লেজ লাগিয়ে সাপ ঘুড়িও বানানো হতো। এছাড়াও রয়েছে চাঙ গুড্ডি, চিল ঘুড়ি- আরো কতো কি! মূলত আনন্দ করাই হলো ঘুড়ি ওড়ানোর আসল কথা।
undefined
আমাদের দেশে গ্রাম বাংলাতে ঘুড়ি ওড়ানোর দলে আছে মূলত শিশুরা। বিভিন্ন ধরনের ঘুড়ি বানিয়ে সারাদিন আকাশে উড়িয়ে বেড়ানোর যে কি মজা, সে নিজে না ওড়ালে বোঝানো সম্ভব নয়। আর ঘুড়ি ওড়াবার সময়টাও যে এখনই। মাঠ থেকে ধান কাটা হয়ে গেলে শুরু হয় ঘুড়ি ওড়ানো। কোনো কোনো সময় সে ঘুড়ি আবার হয় ভো-কাট্টা। ভো-কাট্টা মানে বোঝো নি? যখন কোনো ঘুড়ি কেটে যায়, তখন সে ঘুড়িকে বলা হয় ভো-কাট্টা। সেই ভো-কাট্টা ঘুড়ির পিছন পিছন সারাদিন ছুটে বেড়িয়েই অনেক সময় কেটে যায়। শুধু নজর রাখতে হয় ঘুড়িটা কোথায় গিয়ে পড়ে! কখনো কখনো এই কাটা ঘুড়ি গিয়ে পড়ে মস্ত কোনো গাছের মাথায়। কি হবে এবার! কিভাবে নামাবে সে ঘুড়ি? দস্যি ছেলের দলের কাছে কি আর মস্ত গাছ বলে কিছু আছে? ঠিক ঠিক তারা চড়ে বসে সে গাছের মাথায়। বিজয়ীর বেশে হাসতে হাসতে নামিয়ে আনে কেটে যাওয়া ঘুড়ি।
undefined
কখনো কখনো তো এমনও হয় যে এক এলাকার ভো-কাট্টা ঘুড়ি গিয়ে পড়ে অন্য এলাকায়। সেই এলাকার ছেলেদের তো মহা আনন্দ। মুফতে একটা ঘুড়ি তো পাওয়া গেলো। কিন্তু যদি সেই ঘুড়ি খুঁজতে খুঁজতে চলে আসে আসল মালিক, তবেই বাঁধে গণ্ডগোল। কে পাবে এবারে সে ঘুড়ি? যাই হোক, সে অনেক বাকবিতণ্ডার পরে হয়তো আসল মালিককেই দিয়ে দেয়া হয় সেই ঘুড়ি।

ভাবছো হয়তো, একটা কাটা যাওয়া ঘুড়ির পিছনে কেন মিছে এতো দৌড়াদৌড়ি, একটা নতুন বানিয়ে নিলেই তো হয়! তা হয়তো হয়। কিন্তু যে ঘুড়িটা বহু যত্ন করে বানানো হয়, তার জন্য তো একটু হলেও মায়া থাকে আসল মালিকের। সেজন্যই সে ছুটতে ছুটতে চলে যায় ঐ ঘুড়ির পিছে। আরো একটা কারণ অবশ্য আছে। কি সেটা? কাটা যাওয়া ঘুড়িটার সঙ্গে তো থাকে অনেকটুকু সুতো। এই সুতোর জন্যও অবশ্য ছেলেদের এত ছোটাছুটি। এই যাঃ! তোমাদের তো বলাই হয়নি। ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য তো বিশেষ সুতো লাগে। মানে সাধারণ সুতো বাজার থেকে কিনে নিয়ে সেটাকেই ‘বিশেষ’ বানানো হয়।
undefined
দাঁড়াও দাঁড়াও, বলছি কেন সুতোকে বিশেষ বানানো হয়। ধরো তোমার ঘুড়ি উড়িয়েছো, আর অন্যদিকে তোমার আরেক বন্ধুও ঘুড়ি উড়িয়েছে। এখন তো খেলা হবে কে কার ঘুড়ি কাটতে পারে! মানে তুমি ঘুড়ি উড়িয়ে যদি তোমার বন্ধুটির ঘুড়ির সুতো কেটে দিতে পারো তবে তো ওর ঘুড়িটা হবে ভো-কাট্টা। সেই সঙ্গে তুমি জিতে যাবে। তবে এমনি এমনি তো আর তোমার ঘুড়ির সুতো গিয়ে অন্যের ঘুড়ির সুতো কেটে দেবে না। সেজন্য তোমার সুতোটি হতে হবে বিশেষ ধরনের। অর্থাৎ তোমার সুতোয় ধার থাকতে হবে । আর এর জন্য বাজার থেকে ঘুড়ির সুতো কেনার পর তাতে দিতে হয় মাঞ্জা। মানে মাঞ্জা দিয়ে সুতোকে বানাতে হয় ধারালো। তবেই তো তোমার সুতো অন্যের সুতো কাটার জন্য প্রস্তুত হবে। আর এই সুতোতে মাঞ্জা দেয়াও কিন্তু খুব সহজ কাজ নয়। কারণ, মাঞ্জা দিতে হয় কাচের গুড়ো আর আঠা দিয়ে। এই কাজ করতে হয় খুবই সাবধানে। নাহলে হাত টাত কেটেকুটে একাকার হয়ে যাবে। বাজারে অবশ্য মাঞ্জা দেয়া সুতোও কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু নিজের ঘুড়ির সুতোয় নিজে মাঞ্জা দেয়ার মজাই আলাদা। সুতোয় মাঞ্জা দেয়ার পরে রোদে শুকোতে হয় সেই সুতো। ভালোভাবে শুকোনোর পরে তবেই তৈরি হবে তোমার ঘুড়ির সুতো।
undefined
ঘুড়ি কিনতে পাওয়া গেলেও নিজে বানানোই ভালো। কারণ তোমার যেমন খুশি তেমন ঘুড়ি বানাতে পারবে তখন। ইচ্ছে হলে বানালে একটা সাপ। আবার যদি তা ভালো না লাগে তবে বানালে একটা পরী। এরকম যেমন খুশি ঘুড়ি বানাতে পারবে তখন। যেহেতু শখ করেই ওড়ানো, তবে তা কেন নিজের মতো করেই বানাবে না তুমি?
undefined
ঘুড়ি বানিয়ে, সুতোয় মাঞ্জা দিয়ে এবারে তুমি সতি সত্যি তৈরি ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য। তোমার নিজের হাতে মাঞ্জা দেয়া সেই সুতো দিয়ে এবারে আকাশে ঘুড়ি ওড়ালে তুমি। আশে পাশে সবার ঘুড়ির সুতো কেটে তাদের বানিয়ে দেবে ভো-কাট্টা। তখন আকাশে থাকবে শুধুই তুমি, মানে তোমার ঘুড়ির সঙ্গে তুমি। যতক্ষণ খুশি ভেসে বেড়াও আকাশে। কেউ না করবে না তখন। কোন দিক দিয়ে সময় কেটে যাবে বলতেই পারবে না তুমি।




বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/এসএ/সাগর/ডিসেম্বর ০২/১০

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ