প্রিয় পাঠক লক্ষ্য করুন

Tuesday, June 14, 2011

চাপাবাজি কোচিং সেন্টার ।। শাহ আলম

কোচিং সেন্টারের অভাব নেই ঢাকা শহরে। কিন্তু চাপাবাজি কোচিং সেন্টারের নাম একবারও শোনেননি পল্টু মামা। ভাগনে লাল্টুর কাছে প্রথম শুনলেন এই নাম। বললেন, ভাগনে, সত্যি বলছিস তো? নাকি গুল মারছিস?
লাল্টু পোকা খাওয়া দাঁত বের করে হাসতে হাসতে বলল, কী বলছ মামা, মিথ্যে বলব কেন? আমাদের নাখালপাড়ার সবাই তো চাপাবাজি কোচিং সেন্টারের নাম জানে।
পল্টু মামা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ভাগনে, লেকচার থামা। আগে তো কথাই বলতে পারতি না। এখন দেখি মুখে খই ফুটছে। তুইও কি ওই চাপাবাজি কোচিং সেন্টারে পড়িস নাকি?
লাল্টু লজ্জা পেয়ে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল, মামা, কী যে বলো না!
পল্টু মামা বললেন, আমাকে একটু বলতে পারবি ওই কোচিং সেন্টার সম্পর্কে। লাল্টু বলল, শুরু থেকে বলি। আমাদের নাখালপাড়ার সবচেয়ে মহা-চাপাবাজ হচ্ছেন চান্দু মামা। তাঁর কাজই এর সঙ্গে ওর সঙ্গে চাপাবাজি করে সবকিছুতে বীরত্ব ফলানো। পড়ালেখায় রীতিমতো বড়সড় একটা গোল আলু। তিনবারেও বিএ পাস করতে পারেননি। কোথাও কিছু করতে না পেরে দুই সাগরেদ ঝন্টু ও ফন্টুকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন চাপাবাজি কোচিং সেন্টার।
পল্টু মামা লাল্টুর কথায় মন খারাপ করলেন, কিন্তু ভাগনেকে তা বুঝতে দিলেন না। বললেন, ভাগনে, তোকে তো ইতিহাস বলতে বলিনি, ওখানে কী পড়ানো হয় তা-ই বল?
লাল্টু বলল, চান্দু মামার মতো যারা চাপাবাজি করতে চায়, তাদের ক্লাস করানো হয়। নগদ টাকা দিয়ে ভর্তি হওয়ার নিয়ম। তিন মাসের কোর্স। কোর্স শেষে দেওয়া হয় চাপাবাজি কোচিং সেন্টার কর্তৃক বিশেষ সার্টিফিকেট।
কৌতূহল বাড়তে থাকে পল্টু মামার। কৌতূহল থেকেই বললেন, ছাত্র আছে কেমন রে?
লাল্টু একটু ভেবে বলল, মন্দ না, ভালোই। তুমি ভর্তি হবে নাকি মামা?
ফাজলামি করিস আমার সঙ্গে? আমি ভর্তি হব কোন দুঃখে? আমার কি চাপা কম আছে? তুই জানিস না, গ্রামে সবাই আমাকে চাপাবাজ বলে ডাকে। তোর ওই চান্দু-ফান্দুর কাছে আমাকে ট্রেনিং নিতে হবে না। বিএ তিনবার ফেল করা ওই ফেল্টুকে বলিস আমার কাছে কোর্স করতে। মেজাজ খারাপ করে বাইরে বেরিয়ে গেলেন পল্টু মামা।
কিছুদিন পরের কথা। পল্টু মামা আবার ঢাকায় এসেছেন। কিন্তু লাল্টুদের নাখালপাড়ার বাসা থেকে যাওয়ার নাম নেই। অন্যবার আসার এক সপ্তাহের মধ্যে তড়িঘড়ি করে মোহাম্মদপুর চলে যান। ওখানে লাল্টুর খালাতো ভাই বল্টু থাকে।
কয়েক দিন পরের ঘটনা। লাল্টু তার কয়েক বন্ধুকে নিয়ে চাপাবাজি কোচিং সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিল। বন্ধুরা চলে যাওয়ার পর লাল্টু কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। মনে মনে ভাবল, যাব নাকি চান্দু মামার সঙ্গে দেখা করতে?
হঠাৎ চাপাবাজি কোচিং সেন্টার থেকে বেরিয়ে এলেন পল্টু মামা। লাল্টুকে দেখে ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলেন।
লাল্টুর হাত ধরে পল্টু মামা বললেন, প্লিজ ভাগনে, কাউকে বলিস না। আমিও চাপাবাজি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছি। জানিস তো, এবার আমি মেম্বারি ইলেকশন করব। কাজেই চাপাবাজিটাকে একটু ঝালিয়ে নিই।
হা হা করে হাসতে লাগল লাল্টু। 

No comments:

Post a Comment

নির্বাচিত বিষয়গুলো দেখুন

Labels

মাসের পঠিত শীর্ষ দশ

 

জোনাকী | অনলাইন লাইব্রেরী © ২০১১ || টেমপ্লেট তৈরি করেছেন জোনাকী টিম || ডিজাইন ও অনলাইন সম্পাদক জহির রহমান || জোনাকী সম্পর্কে পড়ুন || জোনাকীতে বেড়াতে আসার জন্য ধন্যবাদ